14-06-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 24-10-2010 মধুবন


‘‘সময়ের গতি অনুসারে এখন বিশেষভাবে স্বভাব-সংস্কার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তীব্রতা আনো, মন্সা দ্বারা আত্মাদের ভিন্ন ভিন্ন কিরণ দাও"


আজকাল বাপদাদা চতুর্দিকের পরমাত্ম সিংহাসনাসীন ভ্রুকুটি সিংহাসনাসীন আর বিশ্বের সিংহাসনাসীন বাচ্চাদের দেখে আনন্দিত হচ্ছেন। এই পরমাত্ম হৃদয় সিংহাসন শুধু তোমরা সব ব্রাহ্মণের জন্যই। ভ্রুকুটির সিংহাসন তো সবার কাছে আছে কিন্তু পরমাত্ম সিংহাসন শুধু ব্রাহ্মণ আত্মাদেরই ভাগ্যে আছে। এই পরমাত্ম সিংহাসন বিশ্বের সিংহাসন প্রাপ্ত করায়। তো তিন সিংহাসনের অধিকারী আত্মারা তোমরা ব্রাহ্মণরাই। এই পরমাত্ম সিংহাসন কত শ্রেষ্ঠ! আর কোনও যুগে পরমাত্ম সিংহাসন প্রাপ্ত হয় না। এই পরমাত্ম সিংহাসন সম্বন্ধে গাওয়াও হয়ে থাকে। পরমাত্ম সিংহাসনের অধিকারী ভক্তি মার্গেও মালার দানা রূপে গাওয়া হয় এবং পূজনও হয়। কোটির মধ্যে কেউ - এই রূপে গাওয়া হয়ে থাকে। বৃহৎ ভাবনা থেকে একেক দানাকে কত উঁচু দৃষ্টিতে দেখতে থাকেন। তো তোমাদের সকলের নেশা আছে তো না! আছে নেশা? - আমরা ছাড়া এই সিংহাসনের অনুভব কেউই করতে পারে না! কিন্তু এই সিংহাসন তোমরা সব ব্রাহ্মণের জন্মসিদ্ধ অধিকার। তোমাদের জন্য এই সিংহাসন গলার হার। তো এত নেশা, ভগবানের হৃদয় সিংহাসনের অধিকারী হওয়ার এই নেশা আর খুশি তোমাদের সকলের স্মৃতিতে থাকে? আমি কে! এর নিশ্চয় আর নেশা থাকে?

বাপদাদা তো এমন তিন সিংহাসনের অধিকারী বাচ্চাদের দেখে খুশি হন, বাঃ! শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী আমার বাচ্চারা বাঃ! বাচ্চারা বলে, বাঃ বাবা বঃ! আর বাবা বলেন বাঃ বাচ্চারা বাঃ! স্বয়ং বাবাও এমন বাচ্চাদের মহিমা গেয়ে থাকেন। তো নেশা আছে আমি কে? নিশ্চয় যত হবে ততই নেশা হবে। আর নিশ্চয়ের নেশা তোমাদের মুখ আর আচরণ দ্বারা দৃশ্যমান হচ্ছে। যার নিশ্চয় আছে তার অবশ্যই নেশা হয়। বাপদাদাও এখন সব বাচ্চার মুখ আর আচরণ দ্বারা আত্মাদের অনুভব করাতে চান, বাণী দ্বারা তো অনুভব করতে শুরু করেছে, এখন অনুভব করার কার্য শুরু হয়ে গেছে। আগে শুনত, ভাবতো, তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মার স্থিতির প্রভাব তারা এখন অনুভব করতে শুরু করেছে। তো নিজেকে নিজে চেক করো যে আমি সারাদিনে কত সময় পরমাত্ম হৃদয় সিংহাসনে থাকি? কেননা, এই হৃদয় সিংহাসন বিশ্বের রাজ্য প্রাপ্ত করানোর আধার। কেননা, এই হৃদয় সিংহাসনের আধার দ্বারা যত সময় তুমি হৃদয় সিংহাসনের অধিকারী থাকো ততো বেশি সময় ভবিষ্যতে রাজ্য ঘরানার অধিকারী হবে। চেক করেছ কখনো? হৃদয় সিংহাসন থেকে নেমে যাও না তো? নিজের হিসেব বের করো, কেননা, এর আধারে তোমরা সদা রাজ ঘরানায় আসবে। চেক করতে হবে যে সিংহাসন ছেড়ে কখনো মাটিতে পা রাখো না তো! ৬৩ জন্মের সংস্কার দেহবোধ রূপী মাটিতে পা রেখেছ। এক হ'লো দেহবোধ আরেক হ'লো দেহ-অভিমান। দেহ-অভিমানের মাটি গভীর কিন্তু দেহবোধ এটাও মাটি। যখন মানুষ চলে যায় তারপর জ্বালিয়ে দেয় তখন লোকে বলেও মাটি মাটির সাথে মিশে গেছে। তো চেক করো মাটিতে পা যায় না তো! দেহবোধে আসা অর্থাৎ মাটিতে পা রাখা।

বাপদাদা তোমরা সব শ্রেষ্ঠ আত্মার জন্য তিন সিংহাসন দিয়েছেন। কেননা, তোমরা আদরের তো না! হারানিধিও তোমরা আদরণীয়ও তোমরা। তো যে বাচ্চারা আদরণীয় তাদেরকে দোলায় কিংবা কোলে রাখা হয়। মাটিতে পা রাখতে দেওয়া হয় না। তো যারা তিন সিংহাসনের অধিকারী তাদের জন্য বাপদাদা কত বিভিন্ন রকমের দোলনা দিয়েছেন! কখনো শান্তির দোলায়, কখনো প্রেমের দোলায় দোলো। সিংহাসন আর দোলনা এতেই পা রাখতে হবে। অনেক বাচ্চা জিজ্ঞাসা করে আমরা ভবিষ্যতে কোথায় যাবো? কী হবো? তো বাবা বলেন যত সময় থেকে এসেছো চেক করো যে আমার পা তত সময় দোলায় কিংবা সিংহাসনে ছিল? ভবিষ্যতেও ততটা সময়ই রয়্যাল ঘরানাতে থাকবে। রয়্যাল প্রজাতে আসবে না, রয়্যাল ঘরানাতেই আসবে। তো প্রত্যেকে নিজেই নিজের এই হিসেব বের করো। প্রত্যেকে তোমরা কী চাও? রয়্যাল ঘরানায় থাকা রাজ ঘরানাতেই থাকা। তো এখনো যত সময় তোমাদের কাছে আছে - কেননা, সমাপ্তি হঠাৎ হওয়ার আছে। তো যতক্ষণে সমাপ্তি হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ' যাবৎ চেক করবে, তো যত বেশি সময় বাবার কোলে সিংহাসনে দোলনায় দুলতে থাকবে তত সময় রয়্যাল ফ্যামিলিতে রয়্যাল ঘরানাতেই ভাগ্য প্রাপ্ত করবে।

বাপদাদা তো সব বাচ্চাকে ২১জন্মই রয়্যাল ঘরানাতে, হয় সূর্যবংশী নাহয় চন্দ্রবংশী দুই যুগে রয়্যাল ফ্যামিলিতে থাকার অধিকার দিচ্ছেন। অধিকার আছে, কিন্তু অধিকার নেওয়া এটা বাচ্চাদের সবার ওপরে নির্ভর করছে। ব্রহ্মা বাবার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা আছে তো ব্রহ্মা বাবারও তোমরা সব বাচ্চার প্রতি ভালোবাসা আছে। ব্রহ্মা বাবা তাঁর সাথে তোমরা সব বাচ্চাকে রয়্যাল ঘরানায় দেখতে চান। তোমরা কী ভাবছ - ব্রহ্মা বাবার আশপাশের রয়্যাল ঘরানার তোমরা, নাকি অল্প সময় থাকবে? তাহলে তো দূর পর্যন্ত যেতে চাও না! তোমাদের বলা হয়েছিল আধার হ'লো সঙ্গম যুগের। বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার এত ভালোবাসা আছে, যেমন এখন তোমরা বলো সাথে থাকবে, সাথে যাবে! এখন ব্রহ্মা বাবা আর ব্রাহ্মণ সাথে আছেন, হতে পারে অব্যক্ত রূপে কিন্তু সাথে আছেন।

এখন বাপদাদা দেখেছেন যে, বাচ্চাদের এখনও পর্যন্ত মায়া ছাড়ে না, তারও ভালোবাসা আছে। আর আজকাল বিশেষ দুই রূপে মায়াও চান্স নেয়। দু' রূপে আসে - এক ব্যর্থ সঙ্কল্প আরেক হ'লো কোথাও কোথাও মাঝে মাঝে এই তরঙ্গও ওঠে - আমি করেছি কিংবা ভেবেছ আমিই রাইট, আমি কম নই - এই তরঙ্গ ছড়িয়ে আছে - আমিই রাইট কিন্তু যারা তোমাদের কানেকশনে আসে কিংবা নিমিত্ত হয়েছে তারাও তোমাদের যুক্তি-বিচারে সাথ দেয়। অন্যের ভেরিফিকেশনও পাওয়া দরকার। এই ব্যর্থ সঙ্কল্প টাইম ওয়েস্ট করে। সেইজন্য বাপদাদা রোজের মুরলি মনন করার জন্য সেবা করার জন্য রোজ হোমওয়ার্ক হিসেবে দিয়ে থাকেন। যদি মনন করো কিংবা মনন করতে করতে মগ্ন হয়ে যাও তবে রোজের এই হোমওয়ার্ক মনকে বিজি রাখার সাধন। সেইজন্য বাপদাদা শোনার আর মনন করার এবং মগ্ন হয়ে যাওয়ার জন্য রোজের এই হোমওয়ার্ক দিয়ে থাকেন। যেমন, বাচ্চাদের বেশি হোমওয়ার্ক দিয়ে দেন যাতে তাদের বুদ্ধি বিজি থাকে। তেমনই রোজের মুরলীতে চার সাবজেক্টেরই হোমওয়ার্ক হয়। মন্সারও বাণীরও কর্মেরও, অ্যাটেনশন এবং দিব্যতার দিকে ইশারা - হোমওয়ার্ক। তো হোমওয়ার্কে তোমরা যদি বিজি থাকবে তবে ব্যর্থ সঙ্কল্পের আসার মার্জিন থাকবে না। এই বিধি যদি নিজের ক'রে নিতে থাকো তবে ব্যর্থ সঙ্কল্প আপনা থেকেই তোমাদের থেকে বিদায় নিয়ে যাবে। কেননা, বাপদাদা দেখেছেন স্মরণের যাত্রায় সবার নম্বরক্রম অ্যাটেনশন আছে, বাচা সেবাতেও আছে। কিন্তু এখন নিজের সংস্কার বা অন্যের সংস্কারকে পরিবর্তন করো, এই স্বভাব-সংস্কার যাকে তোমরা রয়্যাল রূপে বলে থাকো আমার নেচার, ভাব নয় নেচার এই ধারণার সাবজেক্ট এখনও রয়্যাল রূপে আসতে থাকে। তো বাপদাদা আজকাল এই ইশারা দেন যে, যে ধারণাতেই খামতি আছে তা'তে এখন বিশেষ অ্যাটেনশন দাও।

বাপদাদা আগেও বলেছেন যে এখন ধারণার বিষয়ে এই মুখ্য ধারণায় অ্যাটেনশন দাও, কোনও ব্যাপার ঘটে গেছে তো চেক করো সেকেন্ডে ফুলস্টপ দিতে পারো। কিনা! নাকি চাও ফুলস্টপ কিন্তু হয়ে যায় কোশ্চেন মার্ক? ফুলস্টপ নয় অর্ধেক ফুলস্টপ লাগে আর মাত্রা হয়ে যায়। ভবিষ্যতে এমন সরকমস্ট্যান্স আসবে যখন সেকেন্ডে তোমাদের ফুলস্টপ লাগাতে হবে। সেই সময় কোশ্চেন মার্ক আশ্চর্য মার্ক যদি ঠিক করতে শুরু করো অত সময় পাবে না। সেকেন্ডে ফুলস্টপের আবশ্যকতা হবে, যথেষ্ট সময়ের আগে থেকেই এর অভ্যাস প্রয়োজন, তবেই সময়মতো বিজয়ী হতে পারবে। তো অস্থিরতার সময় যখন সংস্কার স্বভাবের পেপার হবে তার জন্য এখন থেকে সময়ে অভ্যাস যদি করো তবে বহু সময়ের অভ্যাস ভবিষ্যতে তোমাদের খুব সহযোগী হবে।

তো বাপদাদা অমৃত বেলায় যখন চক্রভ্রমণ করেন তখন প্রত্যেকের পুরুষার্থ চেক করেন। চার সাবজেক্টেই পুরুষার্থ তীব্র নাকি সাধারণ! তো কী দেখেছেন তিনি? সময়ের গতি অনুসারে এখন পুরুষার্থে সদা তীব্র পুরুষার্থের আবশ্যকতা আছে। তো বাপদাদা ইশারা দিচ্ছেন সময় তীব্রগতি থেকে নৈকট্যের কাছাকাছি আসছে। সেই হিসেবে এখন বিশেষভাবে স্বভাব আর সংস্কারের পরিবর্তনে তীব্রগতি প্রয়োজন।

এখন বাপদাদা সব বাচ্চাকে সমান বানাতে চান। তোমাদের লক্ষ্যও রয়েছে বাবা সমান হতেই হবে। তার জন্য সবচাইতে সহজ সাধন হলো ব্রহ্মা বাবাকে ফলো করো। ট্যালি করো, যে কর্মই করো, আগে ট্যালি করো, সামঞ্জস্য রাখো। ব্রহ্মা বাবার এই কর্ম কিংবা বোল অথবা সঙ্কল্প আছে? যেখানেই যাও আগে ভাবো তারপরে করো। যে কোনো কথা আগে বিচার বিবেচনা করো, তারপরে বলো। তো শুনেছো তোমরা বাপদাদা এখন কী চান? তোমরাও তো চাও, যখন তোমরা আত্মিক বার্তালাপ করো তখন বাপদাদা খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার কথা তো খুব ভালো ক'রে করো - এটা ক'রে দেখাবো, এটা করতেই হবে, এটা হওয়াই উচিত ! অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্কল্প হয়ে থাকে কিন্তু কর্ম পর্যন্ত আসতে কিছু বদলে যায়, কিছু হয়। বাকি তো বাপদাদা তোমরা যে বিভিন্ন ধরণের প্ল্যান বানাও সে'সব পছন্দ করেন। যেখানে সেখানে প্রোগ্রামসও ভালো চলছে, কিন্তু এখন যতটা বাচা দ্বারা কিংবা ভিন্ন ভিন্ন বিধি দ্বারা করছো তা'তে সাফল্য আছে, বাপদাদাও খুশি, এখন একই সাথে শুধু মন্সা দ্বারা অনেক আত্মাদের সুখের কিরণ, শান্তির কিরণ, খুশির কিরণ, প্রেমের কিরণ পৌঁছানোর এই সেবাও করো। নিজেরই সংস্কার পরিবর্তন কিংবা অন্যের সংস্কারকে সহযোগ দেওয়া এতে অনেক টাইম বেশি ব্যয় হয়। তো মন্সা সেবা দ্বারা আত্মাদের ভিন্ন ভিন্ন কিরণ দেওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে অ্যাটেনশন রাখার খুবই আবশ্যকতা হবে। এর প্রতিও খেয়াল রাখতে থাকো। যে বাচ্চারা মনে করে যে এই সেবা আমি করে যাচ্ছি তারা হাত তোলো। আচ্ছা। করছো, তোমাদের অভিনন্দন আর যারা করছো না তাদের করা উচিত । কেননা, ভবিষ্যতে সারকমস্ট্যান্স এমন হবে যাতে যারা শুনবে আর যারা শোনাবে উভয়ের সংযোগ হওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। সেইজন্য দুটো সেবা এখন থেকে যতটা সম্ভব ততটাই অভ্যাস গড়ে তোলো। মন বিজিও থাকবে, তো মন্মনাভব হওয়া সহজ হয়ে যাবে। মন বিজি থাকার কারণে সংস্কার স্বভাব সহজে পরিবর্তন করার ব্যাপারে সহযোগ প্রাপ্ত হবে।

আজ বিশেষভাবে ডবল ফরেনারদের মিলনের দিন। বাপদাদা খুশি, বাঃ ডবল ফরেনার্স বাঃ! বাপদাদা খুশি যে বিশ্বের কোনে কোনে পূর্ব কল্পের বাবার যে বাচ্চারা অদৃশ্য হয়ে আছে, ডবল ফরেনার্স যারা বিশ্ব সেবার নিমিত্ত হয়েছে, বাপদাদা শুনেছেন তারা প্রত্যেকে নিজের নিজের এরিয়াতে, গ্রামে গ্রামে, শহরগুলোতে যারা রয়ে গেছে তাদের কাছে পৌঁছানোর প্ল্যান বানাতে থাকে। এর জন্য তোমাদের অভিনন্দন, অভিনন্দন। তা' নয়তো যখন সমাপ্তি হতে হবে তখন অবস্থা বদলে যাবে, তো ভারতেই হোক বা বিদেশে তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক অনেক অভিযোগ শুনতে হবে যে আমাদের বাবা এসেছেন আর তোমরা আমাদের বলনি! তোমাদের তো অন্ততঃ আমাদেরকে বার্তাটা দেওয়া উচিত ছিল, অনেক অভিযোগ পাবে। সেইজন্য তোমরা এটা এখন করছ আর কোনো কোনা যেন রয়ে না যায় তার জন্য অধিক প্রচেষ্টা করো। ডবল ফরেনার্স বাচ্চারা এবং এই দেশের বাচ্চারা যারা চতুর্দিকে নিজেদের পুরুষার্থ করছে, তাদের দেখে বাপদাদা খুশি হন, তিনি অনেক অনেক খুশি। কেন? তিনি কেন খুশি? এখন দেশে বিদেশে তোমরা প্ল্যান বানাচ্ছ, বাপদাদার পছন্দ হয়েছে। যে কোনও সাধন দ্বারা প্রত্যেকের কাছে বার্তা পৌঁছে যাওয়া উচিত । বাস্তবে, এই সময়ে এই সায়েন্স তোমাদের জন্য খুব কাজের হয়। সাধন দিন দিন নতুন নতুন বের হতে থাকে, নির্বিঘ্ন হয়ে তাকে নিরন্তর কার্যে লাগাও। সার্ভিস বাড়ানোর জন্য যেখানেই মিটিং করো তোমরা, বাপদাদা সেটা শোনেন আর খুশি হন যে সাধনসমূহ সেবাতে লাগানোর জন্য বাচ্চাদের বুদ্ধি এখন অলরাউন্ড যাচ্ছে। সেইজন্য তোমরা যে প্ল্যান বানাও তা' বাপদাদা শোনেন, চক্রভ্রমণ করেন তো না! তোমরা যেখানেই মিটিং করো তা' দিল্লিতে করো বা দেশের যে কোনও শহরে কিংবা বিদেশের কোথাও করো বাপদাদা সব শুনতে থাকেন। বাপদাদার কাছেও সাধন আছে। তার জন্য ফরেনের একেকটা দেশ থেকে যারাই এসেছে বাপদাদা তাদের প্রত্যেককে কী দেন? অনেক অনেক প্রীতি ভালোবাসা দিচ্ছেন।এখন শুধু তীব্রতা আনো। প্ল্যানে নতুন নতুন বিষয় প্র্যাকটিক্যালি আনতে থাকো। দেখো, তোমাদের এই যজ্ঞ আরম্ভ হওয়ার কিছু বছর আগেই এই সব ইনভেনশন শুরু হয়েছে। সায়েন্সও তোমাদের সেবার সহায়ক। এর থেকে খুব লাভ ওঠাও, তোমাদের জন্যই বের হয়েছে। দিনদিন দেখ কত নতুন নতুন বিষয় এখন বের হচ্ছে। এই ড্রামা তোমাদের সহযোগ দিচ্ছে। সাধন তোমাদের সহযোগ দিচ্ছে।

সদা সবাই খুশি হয়েছ, তাই না! সদা খুশি আছো? যে সদা খুশি থাকে সে হাত তোলো। সদা খুশি। যদি কোনো পরিস্থিতি হয় তখনও খুশি থাকো? পরিস্থিতি তো আসে তাই না! তাও খুশি থাকো? থাকো? বড় ক'রে হাত তোলো। ওয়েলকাম করো তো না! তোমরা ঘাবড়ে যাও না, ওয়েলকাম করে থাকো। তোমাদের অনুভাবী বানায়। এই বিঘ্ন অনুভবের অথরিটি বাড়ায়।মায়া এসে গেছে মায়া এসে গেছে এটা ব'লো না, এটা পেপার; মায়া মায়া ব'লে মায়াকে সামনে এগিয়ে দাও। এটা পেপার। মায়াকে তো তোমরা জেনে গেছ, কত বছর থেকে তোমরা জেনে গেছ, মায়া কী! সেইজন্য মায়াতে ঘাবড়ে যেও না। পেপার মনে ক'রে খুশির সাথে পেপার দাও আর অনুভবের ক্লাসে সামনে এগোও। এই ক্লাস লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে হবে, বিভ্রান্ত হয়ো না - কী করবো! কীভাবে করবো! কী কেন এটা ভাববার কাজ ব্রাহ্মণের নয়। ত্রিকালদর্শী তোমরা, কী কেন কীভাবে এটা উদ্ভূত হওয়াই উচিত নয়। পেপার এসেছে, অনুভবের ক্লাসে লক্ষ্যের দিকে এগোও। খুশি তোমরা। এখন তো অনুভাবী হয়ে গেছো আর হতেও থাকবে। আচ্ছা।

যে সমস্ত পত্র ও ফোন মারফৎ যাদেরই স্মরণ-স্নেহ বা বার্তা বাপদাদার জন্য এসেছে, যে বাচ্চারা স্মরণ-স্নেহ কিংবা সার্ভিস সমাচার কিংবা মনের পুরুষার্থের সমাচার দিয়েছে সেই সব বাচ্চাকে বাপদাদা নিজের নয়নে সমাহিত ক'রে তাদের সবাইকে বাপদাদা মন্সা দ্বারা ইমার্জ ক'রে সুখ, শান্তি, খুশির কিরণ দিচ্ছেন। হতে পারে কেউ কেউ এখানে পাঠায়নি কিন্তু হৃদয়ে সঙ্কল্প করেছে, সেই সঙ্কল্পও বাবার কাছে পৌঁছে গেছে।

চতুর্দিকের সাহস বজায় রেখে বাবার সহায়তা গ্রহণকারী তোমরা সব মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদের বাপদাদা স্মরণে স্নেহ-সুমন দিচ্ছেন। আর এই বছর নিজের জন্য কিংবা সেবকেন্দ্রের জন্য কিংবা বিশ্বের আত্মাদের জন্য কোনো না কোনো এমন প্ল্যান বানাও যাতে সেবার বল আর ফল সকল আত্মার প্রাপ্ত হয়। চতুর্দিকের বাচ্চারা বাপদাদার হৃদয়ের বিশেষ স্মরণ আর স্নেহ-ভালোবাসা স্বীকার করো। ওম্ শান্তি।

বরদান:-
সাধারণ হওয়ার দ্বারা মহানতাকে প্রসিদ্ধ ক'রে সিম্পল আর স্যাম্পল ভব

যেমন কোনো সিম্পল জিনিসে স্বচ্ছতা থাকে, তো সেটা নিজের দিকে আকর্ষণ করে। তেমনই মন্সা-সঙ্কল্পে, সম্বন্ধে, ব্যবহারে, জীবন যাপনের ধরনে যে সিম্পল আর স্বচ্ছ থাকে সে স্যাম্পল হয়ে সবাইকে নিজের দিকে আপনা থেকেই আকর্ষণ করে। সিম্পল অর্থাৎ সাধারণ। সাধারণ হওয়ার দ্বারাই মহানতা প্রসিদ্ধ হয়। যে সাধারণ অর্থাৎ সিম্পল নয় সে প্রবলেম রূপ হয়ে যায়।

স্লোগান:-
অন্তর্মন থেকে বলো আমার বাবা, তাহলে মায়ার দ্বারা বেহুঁশ হওয়া বন্ধ চোখ খুলে যাবে।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচার সরল বানাও, সহনশীল হও। এই মুহূর্তে আওয়াজে, পর মুহূর্তে আওয়াজের ঊর্ধ্বে - এই অভ্যাস যত সরল আর সহজ হয়ে যাবে ততো সম্পূর্ণতা সমীপে দৃশ্যমান হবে। সম্পূর্ণ স্টেজের লক্ষণ হলো - তার পুরুষার্থ সরল হবে, স্মরণের যাত্রা, সার্ভিস দুইই সহজ পুরুষার্থে এসে যায়। যখন উভয়তঃ সরল, সহজ অনুভব হবে তখন বুঝবে সম্পূর্ণতার অবস্থা প্রাপ্ত হচ্ছে।