14.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
প্রতিদিন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো যে আমি আত্মা কতখানি শুদ্ধ হয়েছি, যত শুদ্ধ হবে
ততই খুশি থাকবে, সেবা করার উৎসাহ আসবে”
প্রশ্নঃ -
হীরের মতো
শ্রেষ্ঠ হওয়ার পুরুষার্থ কি?
উত্তরঃ
দেহী-অভিমানী
হও। শরীরের প্রতি যেন এতটুকুও মোহ না থাকে। চিন্তা মুক্ত হয়ে এক বাবার স্মরণে থাকো
- এই শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ হীরের মতো বানিয়ে দেবে। যদি দেহ অভিমান থাকে তাহলে বুঝবে
যে স্থিতি এখনো কাঁচা রয়েছে, বাবার থেকে দূরে রয়েছো। তোমাদেরকে এই শরীরের দেখাশোনাও
করতে হবে, কেননা এই শরীরে থেকেই কর্মাতীত স্থিতিকে প্রাপ্ত করতে হবে ।
গীতঃ-
নিজের মুখ দেখে
নাও হে প্রাণী...
ওম্ শান্তি ।
বাবা
বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন, যার যোগবলের দ্বারা পাপ কেটে যায়, তার খুশির পারদ
ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। নিজের স্থিতিকে বাচ্চারা নিজেরাই জানতে পারে। যখন স্থিতি ভালো
হয়ে যায় তখন সার্ভিসের আগ্রহ অনেক বেড়ে যায় । যত-যত শুদ্ধ হতে থাকবে ততই
অন্যদেরকেও শুদ্ধ বা যোগী বানানোর উৎসাহ আসবে। কেননা তোমরা হলে রাজযোগী বা রাজঋষি।
হঠযোগী ঋষিরা তত্ত্বকেই ভগবান মনে করে। রাজযোগী ঋষিরা ভগবানকে বাবার রূপে মান্যতা
দেয়। তত্বকে স্মরণ করলে তাদের কোনও কোনো পাপ কাটেনা। তত্ত্বের সাথে যোগ লাগালে কোনও
শক্তি প্রাপ্ত হয় না। কোনও ধর্মের আত্মারা যোগকে জানেই না এইজন্য কেউই সত্যিকারের
যোগী হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে না। এখন বাচ্চারা তোমরা নিজের স্থিতি নিজেরাই জানতে
পারো। আত্মা যত বাবাকে স্মরণ করবে, ততোই খুশিতে থাকবে। নিজেকে পরীক্ষা করতে হবে।
বাচ্চারাও একে অপরের স্থিতিকে, নিজের স্থিতিকে জানতে পারে। দেখতে হবে আমার মধ্যে
কোনো শরীরের ভান নেই তো! দেহ অভিমান যদি থাকে তাহলে বুঝবে যে আমি এখনো অনেক কাঁচা।
বাবার থেকে অনেক দূরে আছি। বাবা আদেশ করছেন যে, বাচ্চারা তোমাদের এখন হীরের মত তৈরী
হতে হবে। বাবা দেহী অভিমানী তৈরি করছেন। বাবার মধ্যে দেহ অভিমান আসে না। দেহ অভিমান
হয়ে থাকে বাচ্চাদের। বাবার স্মরণের দ্বারা তোমরা দেহী-অভিমানী হবে। নিজেকে পরীক্ষা
করতে থাকো, আমি কতটা সময় স্মরণ করছি। যত স্মরণ করবে ততই খুশির পারদ ঊর্ধ্বমুখী হবে
আর নিজেকে উপযুক্ত তৈরি করতে পারবে। এরকমও মনে করো না যে বাচ্চারা কর্মাতীত অবস্থাতে
পৌঁছে গেছে। না, রেস চলছে। রেস যখন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে তখন ফাইনাল রেজাল্ট বেরোবে।
তখন বিনাশও শুরু হয়ে যাবে। ততক্ষণ এই রিহার্সাল হতে থাকবে, যতক্ষণ কর্মাতীত অবস্থা
না আসে। আমরা কারো খারাপ করতে পারিনা। অন্তিম সময়ে সকলেই এ বিষয়ে জানতে পারবে। এখন
তো আর অল্প সময়ে অবশিষ্ট আছে। এই দাদাও বলছেন যে, মিষ্টি বাচ্চারা, এখন অল্প সময়
অবশিষ্ট আছে। এই সময় একজনও কর্মাতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত করতে পারবে না। অসুখ বিসুখ
ইত্যাদি হবে - একেই কর্মভোগ বলা যায়। এই দু্র্ভোগ অন্য কেউ জানতে পারবে না। এটা
অন্তরেই পীড়াদায়ক হবে। এখন একরস অবস্থা কারোরই হয়ে ওঠেনি। যতটাই চেষ্টা করে ততই
বিকল্প, তুফান অনেক এসে যায়। তাই বাচ্চাদেরকে কতইনা খুশিতে থাকতে হবে। বিশ্বের
মালিক হওয়া কোনও কম কি! মানুষ ধনী হলে তাদের কাছে অনেক বড় বড় বাংলো থাকে, তাই
খুশিতে থাকে কেননা অনেক সুখে থাকে। এখনও তোমরা বাবার থেকে অসীম সুখ গ্রহণ করছ। তোমরা
জানো যে বাবার থেকে আমরা রাজত্ব গ্রহণ করছি। শান্তিতে তেমন খুশি থাকে না, যতটা ধন
থাকলে খুশি হয়। সন্ন্যাসীরা ঘরবাড়ি ত্যাগ করে জঙ্গলে গিয়ে থাকে। কখনও টাকা পয়সা
হাতে রাখে না। কেবল রুটি গ্রহণ করে। এখন তো তারা কতই না ধনবান হয়ে গেছে। সকলেরই
টাকা পয়সার জন্য চিন্তা অনেক হয়। বাস্তবে রাজার প্রজাদের প্রতি চিন্তা থাকে, এই
জন্য যুদ্ধের জিনিসপত্র রেখে দেয়। সত্যযুগে লড়াই ইত্যাদির কোনও কথাই নেই। এখন
বাচ্চারা তোমাদের অনেক খুশি হয় - আমরা নিজেদের রাজত্বে যাচ্ছি। সেখানে ভয়ের কোনও
কথাই নেই। ট্যাক্স ইত্যাদিরও ব্যাপার নেই। এই শরীরের চিন্তা এখানেই থাকে। গাওয়া হয়
যে - চিন্তামুক্ত স্বামী.... তোমরা জানো যে চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এখন আমরা
এতটাই পুরুষার্থ করছি। পুনরায় ২১ জন্মের জন্য কোনও চিন্তা থাকবে না। বাবাকে স্মরণ
করলে তোমাদের স্থিতি অটল থাকবে। রামায়ণের কথাও তোমাদেরকেই কেন্দ্র করে তৈরী করেছে।
তোমরাই মহাবীর তৈরি হচ্ছো। আত্মা বলে যে আমাদেরকে রাবণ নড়াতে পারবে না। সেই স্থিতি
অন্তিম সময় আসবে। এখন তো যে কেউ নড়ে যেতে পারে। চিন্তা থাকে। যখন বিশ্বে যুদ্ধ শুরু
হবে, তখন বুঝতে পারবে যে এখন সময় এসে গেছে। যত-যত বাবাকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করবে,
ততই লাভ হবে। পুরুষার্থ করার এখনই হলো শ্রেষ্ঠ সময়। তারপর তো বিনাশের ধুমধাম হবে।
এখন তো শরীরের মধ্যে মোহ থাকে, তাই না! বাবা নিজে বলছেন যে শরীরের দেখাশোনা করো। এই
হলো তোমাদের অন্তিম শরীর, এই শরীরেতেই পুরুষার্থ করে কর্মাতীত অবস্থা পেতে হবে।
সুস্থ থাকবে, বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে। বাবা বলেছেন যে বাচ্চারা সুস্থ থাকো। যত
সুস্থ থাকবে ততই বাবাকে স্মরণ করে উচ্চ পদ নিতে পারবে। এখন তোমাদের উপার্জন হতে থাকে।
শরীরকে সুস্থ নিরোগী রাখ। কোনো ভুল কাজ করো না। খাদ্য-পানীয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকো,
তাহলে কিছুই হবে না। একরস চলনের দ্বারা শরীরও সুস্থ এবং সবল থাকবে। এই শরীর হলো
অমূল্য। এইশরীরেতেই পুরুষার্থ করে দেবী-দেবতা তৈরি হও, তাই এই সময়ই হল শ্রেষ্ঠ সময়।
খুশিতে থাকতে হবে। যত বাবা আর বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করবে ততই নারায়ণী
নেশায় থাকবে। বাবার স্মরণের দ্বারাই তোমরা উচ্চ থেকেও উচ্চতর পদ প্রাপ্ত করবে। দেখতে
হবে যে আমরা কতটা খুশিতে, কতটা চিন্তা মুক্ত হয়ে থাকি। গরিবদের তো আরোই খুশিতে থাকা
উচিত। ধনীদের তো ধনের চিন্তা থাকে। তোমাদের কুমারীদের তো কোনও চিন্তাই নেই। হ্যাঁ,
কারোর আত্মীয় স্বজন যদি গরিব হয় তাহলে তারও দেখাশোনা করতে হয়। তাদেরকে জাগাতেও
হবে। যদি না জাগ্রত হয় তাহলে তোমরা কতদূর পর্যন্ত তাদের সাহায্য করবে! বাবা বলছেন -
তোমরা নিজেরাই সার্ভিসেবেল হও আর স্ত্রীকেও আধ্যাত্মিক সেবাতে অনুপ্রাণিত করো। তোমরা
হলে বাবার সহায়ক। সকলেই সহায়তা চায়, তাইনা । একলা বাবা কি করবেন, কত জনকে মন্ত্র
দেবেন। আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি - তোমাদেরকে আবার অন্যদেরকে দিতে হবে, স্যাপলিং লাগাতে
হবে। বাচ্চাদেরকে বলছেন যে যতদূর সম্ভব বাবার সহায়ক হও, মন্ত্র দিয়ে যেতে থাকো।
তোমাদের শাস্ত্রতেও লেখা আছে যে সবাইকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে বাবা এসে গেছেন,
তাঁর থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে, তাই বাবাকে স্মরণ করো। দেহধারীদেরকে স্মরণ
ক'রো না। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে আর
অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়ে যাবে। গীতা তো অনেকেই শুনতেও থাকে এবং শোনাতেও থাকে।
তার মধ্যে প্রসিদ্ধ শব্দ হলো মন্মনাভব। বাবাকে স্মরণ করলে মুক্তি পাবে।
সন্ন্যাসীরাও এটা পছন্দ করবে। মধ্যাজী ভব অর্থাৎ জীবন্মুক্তি। বাচ্চারা বাবার হয়
তাই বাবা বলছেন যে - বাচ্চারা তোমাদের আত্মা পতিত হয়ে গেছে, পতিত আত্মারা যেতে
পারবে না। এটাই হলো বোঝার বিষয়। তোমরা ভারতবাসীরা সতোপ্রধান ছিলে। এখন তমোপ্রধান
হয়েছো পুনরায় সতোপ্রধান হতে হবে, তাই বাবা বলছেন যে পুরুষার্থ করো তাহলে উঁচু পদ
প্রাপ্ত হবে। ভক্তি তো জন্ম-জন্মান্তর করে এসেছ। তোমরা জানো যে - সর্বপ্রথমে
অব্যভিচারী ভক্তি শুরু হয়েছিল। এখন কতইনা ব্যভিচারী ভক্তি হয়ে গেছে। শরীরকেও পূজা
করতে থাকে, সেটা হল ভূত পূজা। দেবতারা তবু পবিত্র থাকেন। কিন্তু এই সময় তো সবাই
তমোপ্রধান হয়ে গেছে। তাই পূজাও তমোপ্রধান হয়ে গেছে। এখন বাবাকে স্মরণ করতে হবে।
ভক্তির শব্দ কেউ বলবেনা। হায় রাম... এটাও হলো ভক্তিমূলক শব্দ। এ'রকম ভাবে কেউ বাবাকে
ডাকবে না। এখানে কোনও কিছুই উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। ওম শান্তিও সব সময় বলার
দরকার নেই। শান্তি মানে অহম্ আত্মা - শান্ত স্বরূপ। সেটা তো আছেই। এতে কথা বলার
দরকার নেই। অন্য কোনও মানুষকে যদি বল - ওম্ শান্তি, তারা তো এর অর্থ কিছুই বুঝবে
না। তারা তো "ওম্"-এর বড় বড় মহিমা করে দেয়। তোমরা তো এর অর্থ বোঝো, এরপর ওম্
শান্তি বলাটাও প্রয়োজনীয় নয় । হ্যাঁ, একে অপরকে এইরকম জিজ্ঞাসা করতে পারো যে শিব
বাবা স্মরণে আছে? যেরকম আমিও এই কন্যাকে জিজ্ঞাসা করি যে এটা কার শৃঙ্গার করছো? সে
বলে, শিব বাবার রথের। এটা হল শিব বাবার রথ, তাইনা। এরকম হুসেনের রথ হয়, তাই না।
ঘোড়ার শৃঙ্গার করে। ঘোড়ার অর্থ বুঝতে পারেনা। যাঁরা ধর্ম স্থাপন করার জন্য আসেন
তাঁরা আত্মারা পবিত্র হয়। পুরানো পতিত আত্মারা ধর্ম স্থাপন করতে পারে না। তোমরা
ধর্ম স্থাপন করতে পারবে না। শিববাবা তোমাদের দ্বারা করছেন। তোমাদেরকে পবিত্র
বানাচ্ছেন। তারা তো ভক্তি মার্গে অনেক শৃঙ্গার ইত্যাদি করে থাকে। এখানে শৃঙ্গার
পছন্দ করে না। বাবা কতইনা নিরহংকারী। নিজে বলছেন যে আমরা অনেক জন্মের অন্তিমের
অন্তিম জন্মে আসি। সর্বপ্রথম সত্যযুগে হবে শ্রীনারায়ণ। শ্রীলক্ষ্মীর থেকেও পূর্বে
শ্রীনারায়ণ আসবেন। তিনি তো বড় হবেন, তাইনা। এই জন্য কৃষ্ণের নাম গাওয়া হয়ে থাকে।
নারায়ণের থেকেও কৃষ্ণের মহিমা বেশি করে থাকে। কৃষ্ণেরই জন্মাষ্টমী পালনা করা হয়।
নারায়ণের বার্থডে পালন করে না। এটা কেউ জানে না যে কৃষ্ণই হলেন নারায়ণ। নাম তো
শৈশবেরই চলবে তাই না। অমুক ব্যক্তি জন্ম নিয়েছে, তার বার্থডে পালন করে, এই জন্য
কৃষ্ণেরই বার্থ ডে পালন করতে থাকে। নারায়ণের বার্থডে কারোর জানা নেই। সর্বপ্রথম
শিবজয়ন্তী হয়, তারপর হয় কৃষ্ণের জয়ন্তী, তারপর হয় রাম জয়ন্তী... শিবের সাথে-সাথে
গীতারও জন্ম হয়। শিব বাবা আসেনই অনেক জন্মের অন্তিম জন্মে। বৃদ্ধ অনুভবী রথেই আসেন।
কতইনা ভালোভাবে বুঝিয়ে থাকেন, তবুও কারোর বুদ্ধিতে ধারণ হয়না।
বাবা বলেন, এই জ্ঞান
প্রায় লোপ হয়ে যায়। যখন আমি এসে শোনাই তখন তোমরাও শোনাতে পারো। এখন বাচ্চারা
তোমরা জানো যে আমরা ভবিষ্যতে এক্যুরেট এই দেবী-দেবতা হব। বাবা দুই তিন প্রকারের
সাক্ষাৎকার করেছিলেন। এটা হবো, মুকুটধারী হবো, পাগড়ী পড়বো। দুই-চার রাজার জন্মের
সাক্ষাৎকার করেছিলেন। এখন তো তোমরা বুঝতে পেরেছ যে - এই কথা গুলি দুনিয়াতে আর কেউই
বুঝতে পারবে না। হ্যাঁ, এতটা বুঝতে পারে যে, ভাল কর্ম করলে ভালো জন্ম প্রাপ্ত হবে।
এখন তোমরা ভবিষ্যতের জন্য পুরুষার্থ করছ। নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য। তোমরা জানো
যে আমরা এই পদ প্রাপ্ত করবো। এই খুশি অধিক তারই থাকবে যে কর্মতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত
করার জন্য পুরুষার্থ করতে থাকবে। বলে যে, বাবা আমরা তো মাম্মা-বাবাকে ফলো করবো তবেই
তো সিংহাসনের উপর বসতে পারবো। এরও বোধগম্যতা চাই, আমরা কত সেবা করছি আর কতটা খুশিতে
থাকছি। নিজে খুশিতে থাকবে তাহলে অন্যদেরও খুশিতে নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু অন্তরে
যদি কোনো খারাপ চিন্তা চলে তাহলে হৃদয় দুঃখী হয়ে থাকবে। কেউ-কেউ এসে বলে - বাবা
আমার মধ্যে ক্রোধ আছে। এই ভূত আছে আমাদের মধ্যে। চিন্তার কথা হয়ে গেল, তাই না।
ভূতকে রাখা উচিত নয়। ক্রোধ কেন কর! ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হয়। বাবা কারোর প্রতি
থোড়াই ক্রুদ্ধ হবেন। শিব বাবার মহিমা তো আছে তাই না। অনেকে ফালতু মিথ্যা মহিমাও করে
থাকে। আমি কি করি! আমাকে বলে যে এসে পতিত থেকে পবিত্র বানাও। যেরকম ডাক্তারকে বলে
যে আমাদের অসুখ দূর থেকে। তিনি ওষুধ দিয়ে, ইঞ্জেকশন দেয়, সেটা তাে হল তার কাজ। বড়
কথা থোড়াই হল! তারা পড়াশোনা করে এই সেবা করার জন্য। বেশি পড়লে বেশি উপার্জন করবে।
বাবাকে তো কোনো উপার্জন করতে হয় না। তাঁকে তো উপার্জন করাতে হয়। বাবা বলেন যে,
তোমরা আমাকে অবিনাশী সার্জনও বলে থাকো, এটা অধিক মহিমা করে দিয়েছ। পতিত-পাবনকে
কখনও সার্জন বলা যায় না। এটা হলে কেবল মহিমা। বাবা তো কেবল এটাই বলেন যে আমাকে
স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। ব্যাস। আমার পার্টই হল তোমাদেরকে এটা
বোঝানো, যে মামেকম্ স্মরণ করো, যত স্মরণ করবে ততই উচ্চপদ প্রাপ্ত করবে। এটা হলই
রাজযোগের জ্ঞান। গীতা যে পড়েছে, তাকে বোঝানো খুবই সহজ হয়। তোমরা পূজ্য রাজাদেরও
রাজা হও, তারপর আবার পূজারী হবে। তোমাদেরকেই পরিশ্রম করতে হয়। তোমরা বিশ্বকে পবিত্র
বানাচ্ছ। কত শ্রেষ্ঠ কর্ম। তোমরা সবাই অঙ্গুলি দিয়ে সহায়তা করছো - কলিযুগের
পাহাড়কে সরানোর জন্য। এখানে কোনো স্থূল পাহাড় ইত্যাদির কথা বলা হয়নি। এখন তোমরা
জানো যে - নতুন দুনিয়া আসবে, এই জন্য রাজযোগ অবশ্যই শিখতে হবে। বাবা এসে শেখাচ্ছেন।
সতোপ্রধান হতে হবে। যিনি কল্প পূর্বেও হয়েছিলেন তাকে বোঝালে সে বুঝবে। তোমরা তো
ঠিক কথাই বলছ। বরাবর বাবা বলেছেন - মন্মনা ভব। শব্দটা সংস্কৃতে আছে। বাবা তো
হিন্দিতে বলছেন যে আমাকে স্মরণ করো। এখন তোমরা বুঝতে পারো যে আমরা কতই উচ্চ ধর্ম,
উচ্চ কর্ম করেছিলাম, তাই তো গায়ন আছে ১৬ কলা সম্পূর্ণ... এখন পুনরায় এইরকম হতে হবে।
নিজেকে দেখতে হবে যে কতদূর পর্যন্ত আমি সতোপ্রধান হতে পেরেছি, পবিত্র হয়েছি। কতখানি
নরকবাসীদেরকে স্বর্গবাসী বানানোর সেবা করতে পেরেছি। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বাবার সম নিরহংকারী হতে হবে। এই শরীরের দেখাশোনা করে শিব বাবাকে স্মরণ করতে হবে।
আধ্যাত্মিক সেবাতে বাবার সহায়ক হতে হবে।
২ ) নিজের মধ্যে কোনও
ভূতকে রাখবে না। কখনো কারোর প্রতি ক্রোধ করবে না। সবার সাথে খুব ভালোবাসা দিয়ে
থাকতে হবে। মাতা-পিতাকে ফলো করে সিংহাসনাসীন হতে হবে।
বরদান:-
স্বার্থ শব্দের অর্থকে জেনে সদা একরস স্থিতিতে স্থিত হওয়া সহজ পুরুষার্থী ভব
আজকাল পারস্পরিক যে
সম্পর্ক, সেটা স্নেহের কারণে নয়, স্বার্থের কারণে। স্বার্থের কারণে সম্পর্ক তৈরী হয়
আর এই সম্পর্ক পৃথক হতে দেয় না এইজন্য স্বার্থ শব্দের অর্থে স্থিত হয়ে যাও অর্থাৎ
প্রথমে নিজের রথকে স্বাহা করো। এই স্বার্থ চলে গেলে ডিট্যাচ্ড হয়েই যাবে। এই এক
শব্দের অর্থকে জানার কারণে সদা একের থাকবে আর একরস হয়ে যাবে, এটাই হলো সহজ
পুরুষার্থ।
স্লোগান:-
ফরিস্তা
রূপে থাকলে কোনও বিঘ্ন নিজের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
অব্যক্ত ঈশারা :-
অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও
সম্পূর্ণ পবিত্রতা হল
তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের শৃঙ্গার। সদা শৃঙ্গার করে থাকা মূর্তি অর্থাৎ সদা
পবিত্র স্বরূপে স্থিত হয়ে অসীম স্টেজের উপর হীরো পার্ট প্লে করো। সদা ব্রহ্মচারী
অর্থাৎ সংকল্পেও কোনও প্রকারের অপবিত্রতা বৃত্তিকে চঞ্চল যেন না করে। বৃত্তির
চঞ্চলতাও রেজিস্ট্রারকে দাগী বানিয়ে দেয়, সেইজন্য বৃত্তির দ্বারাও সদা ব্রহ্মচারী
হও।