15-02-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
22-02-2009 মধুবন
"বার্থ ডে-তে ফাস্ট তথা ফার্স্ট ডিভিশনে আসার গিফ্ট
নেওয়ার জন্য প্রতিটা শ্বাস সঙ্কল্প সমর্থ হবে, হৃদয় উদার আর খাঁটি হবে, তবে সব
প্রয়োজন পূর্ণ হবে"
আজ জিরো বাবা নিজের হিরো বাচ্চাদের সাথে মিলনের জন্য এসেছেন। আজকের দিনে তোমরাও
সবাই বাবার এবং বাবার সাথে নিজেদেরও বার্থডে উদযাপন করতে এসেছ। তো বাপদাদা সকল
বাচ্চাকে, হয় তারা সমুখে বসে আছে, অথবা দূরে বসেও হৃদয়ের কাছে বসে আছে, চতুর্দিকের
বাচ্চাদের সর্ব সম্বন্ধের দ্বারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও, বিশেষ তিন রূপে
বাবা, শিক্ষক আর সদ্গুরু রূপে তিন রকমে চতুর্দিকের বাচ্চাদের পালন, পঠন-পাঠন এবং
বরদানের কল্যাণকারী বিশেষ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন। সব বাচ্চাকে অভিনন্দন, অভিনন্দন,
অভিনন্দন।
আজ এই বিশেষ জন্ম ভক্তরাও উদযাপন করে, কিন্তু তোমরা বাচ্চারা জানো যে এই বার্থ ডে
বাবা আর বাচ্চাদের অবিনাশী স্নেহের জন্মদিন। আদি থেকে বাবা আর বাচ্চারা সাথে আছে,
সাথে বিশ্ব পরিবর্তনের কার্যেও বাবা বাচ্চাদের সাথে আছেন, কেননা বাবা আর বাচ্চাদের
অনেক অনেক স্নেহ রয়েছে। এখনও সাথে আছেন এবং নিজ গৃহে ফিরে যেতে হলে তখনও সাথে যেতে
হবে। বাচ্চাদের ছাড়া বাবা যেতে পারেন না। কেননা, হৃদয়ের স্নেহ সাথে আছে। গৃহে ফিরে
যাওয়ার পরে যখন রাজ্যে আসবে তখনও ব্রহ্মা বাবার সাথে সাথে রাজত্ব করবে। তো সমগ্র
জন্ম থেকে এই জন্ম সবথেকে অনুপম আর স্বতন্ত্র। এই জন্মের যা ভ্যাল্যু আছে তা' সমগ্র
কল্পের ৮৪ জন্মে নেই। কত স্নেহি জন্ম যেখানে তোমাদের সাথি আছেন, তোমাদের বিশেষ এই
জন্ম হিরেতুল্য। তো তোমরা সবাই নিজেদের জন্মদিন উদযাপন করতে এসেছ, নাকি বাবার
জন্মদিন উদযাপন করতে এসেছ! নাকি বাবা বাচ্চাদেরটা উদযাপন করতে এসেছেন আর বাচ্চারা
বাবার? চতুর্দিকের ভক্তরাও শিব জয়ন্তী বা শিবরাত্রি হিসেবে উদযাপন করে, খুব
ভালোবাসার সাথে উদযাপন করে। বাপদাদা ভক্তদের দেখে ভক্তদেরও ভক্তির ফল দেন। কিন্তু
তোমাদের উদযাপন করা আর ভক্তদের উদযাপনের মধ্যে প্রভেদ আছে। তারা রাত্রি উদযাপন করে
আর তোমরা অমৃতবেলা উদযাপন করো, অমৃতবেলা শ্রেষ্ঠ বেলা। অমৃতবেলাতেই বাপদাদা
প্রত্যেক বাচ্চাকে বরদানে ঝুলি ভ'রে দেন। সবার ঝুলি বরদানে পূর্ণ হয়েছে তো না!
প্রতিদিন বরদাতা বাবার থেকে তোমাদের বরদান প্রাপ্ত হয়েই থাকে। কত বরদান তোমাদের
প্রত্যেক বাচ্চার বাপদাদা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছে, সেই বরদানে ঝুলি পরিপূর্ণ হয়ে আছে
তো না! তাইতো সবাই বড়ই উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এখানে পৌঁছে গেছ। বাপদাদাও বাচ্চাদের
দেখে অনেক অনেক খুশি হচ্ছেন আর গীত গেয়ে চলেছেন বাহ্ বাচ্চারা বাহ! বাচ্চারা বলে
বাহ্ বাবা বাহ! আর বাবা বলেন বাহ্ বাচ্চারা বাহ! কেননা, যারাই বাবার বাচ্চা হয়েছে
তারা সবাই কোটি কোটির মধ্যে কিছু আত্মা। বিশ্বে কত কোটি আত্মা আছে, কিন্তু তাদের
মধ্যে থেকে তোমরা বাচ্চারা যারা বাবা বলো তারা লাকি আর লভলি বাচ্চা, কোটি কোটির
মধ্যে থেকে সেই কিছু বাচ্চা তোমরা। নেশা আছে! আমরা বাচ্চারা কল্প কল্পের কোটি কোটির
মধ্যে কিছু বাচ্চা! বর্তমান সময়েও কত বড় বড়ো পদের আত্মারা রয়েছে, কিন্তু বাবাকে
চিনে যারা বাবার বার্থডে উদযাপন করে, চতুর্দিকে সেই চিরপরিচিত বাচ্চারা কোটি কোটির
মধ্যে কিছু। তো এই খুশি আছে যে কোটির মধ্যেও আমরা কিছু। নেশা আছে! হাত উঠাও। অবিনাশী
নেশা আছে তো না! কখনো কখনোর তো নও? সদা আছে আর সদা থাকবে। মায়া পেপার তো নেয়, অনুভব
আছেনা! মায়ারও পরমাত্ম বাচ্চাদের প্রতি বেশি ভালোবাসা আছে। কিন্তু বাচ্চারা জানে যে
পরমাত্ম বাচ্চাদের সাথে মায়ার সম্বন্ধ আছে, আদি থেকে এখনও পর্যন্ত। মায়া আর পরমাত্ম
বাচ্চা উভয়ের নিজেদের মধ্যে কানেকশন থাকে, মায়ার কাজ হলো আসা আর তোমরা সব বাচ্চার
কাজ কী? দূর থেকে মায়াকে বিতাড়ন করা। আসতে না দেওয়া, নাকি আসতে দাও তোমরা? না। দূর
থেকেই বিতাড়ন করো। আসতে দিলে তার আবার অভ্যাস হয়ে যাবে আসার। সেও বুঝতে পারে তাকে
আসতে দেওয়া হয় তো না! ঠিক আছে। কিন্তু বাবা দেখেন যে কিছু কিছু বাচ্চা মায়াকে আসতে
তো দেয়ই উপরন্তু খাতিরও করে, চা জলও খাওয়ায়, জানো কোন ধরণের খাতির করে? মায়ার
প্রভাবে এসে এটাই ভাবে যে এখন তো টু লেট এর বোর্ড লাগেনি। এখনো তো সময় পড়ে আছে।
পুরুষার্থ করছি, পৌঁছে যাবো। তো মায়াও বোঝে এক তো আসতে দিচ্ছে, আরেক আমাকে সাথ
দিচ্ছে, খাতির করছে। তো মায়াকে কিছু বাচ্চা চিনে নিতে পারে। কিছু বাচ্চা চিনে নিতে
ভুল ক'রে ফেলে, সেটা মায়ার মত, নাকি বাবার মত! না চেনার কারণে মায়ার প্রভাবে তারা
বশীভূত হয়। কিন্তু বাপদাদা তাঁর নিজের লাকি মহাবীর বিজয়ী বাচ্চাদের বলেন, আসতে দিও
না, এখন আসবে আর পরে তাড়াবে, এতে সময় ব্যয় ক'রো না। কেননা, সময় কম আর তোমাদের যে
প্রতিজ্ঞা আছে বিশ্ব পরিবর্তক হয়ে বিশ্ব সেবক হয়ে বিশ্বের আত্মাদের বাবার পরিচয় দিয়ে
মুক্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করাবে, সেই কার্য এখনো সমাপ্ত হয়নি। সেই কার্য সমাপ্ত
করতে সময় লাগাও, যদি মায়াকে তাড়াতে সময় ব্যয় করবে তবে বিশ্ব পরিবর্তকের যে প্রতিজ্ঞা
রয়েছে তা' কবে পূরণ করবে! তোমরা বাবার সাথি তো না! জন্ম থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছ, সাথে
থাকবে - এখনও, সাথে ফিরবে ... সেইজন্য বাবার থেকে এখন যে শক্তি প্রাপ্ত হয়েছে সেই
শক্তির আধারে মায়াকে দূর থেকে তাড়াও। এতে টাইম লাগিও না। দেখ, ৭০ বছর ধরে পুরুষার্থ
ক'রে যাচ্ছ, এখন মায়ার আসা আর তাড়ানো, এখন এটার সময় নেই। কেননা, তোমরা জানো,
নলেজফুল তো না! সমগ্র ড্রামার নলেজ আছে, সুতরাং নলেজফুল বাচ্চারা, এখন কোথায়
তোমাদের সময় ব্যয় করতে হবে? তোমাদের দু'টো ভাণ্ডার অনেক জমা করতে হবে। কোন দুটো
ভাণ্ডার? এক সঙ্কল্প আরেক সময়। দুটো ভাণ্ডারই মহান আর তোমরা সবাই জানো। কেননা,
নলেজফুল বাবার নলেজফুল বাচ্চা তোমরা। তোমরা মাস্টার নলেজফুল তো না! ফুল? পুল নয়,
কেউ কেউ নলেজপুল, নলেজফুল নয়। তোমরা কে? তোমরা নলেজফুল, হাত উঠাও। নলেজফুল, নাকি
নলেজপুল, সবাই নলেজফুল হয়েছে? হাত তুলেছো, আচ্ছা। বাঃ! ফুল নলেজ এসে গেছে। মায়াকে
তাড়ানোর নলেজ আছে? পিছনে যারা আছ তাদের আছে? আচ্ছা। ঝাণ্ডা তো নাড়াচ্ছ। মাতাদের আছে?
মাতারা নলেজফুল? ডবল ফরেনার্স, ডবল ফরেনার্সও ঝাণ্ডা নাড়াচ্ছে। আচ্ছা, দেখ কত
সুন্দর দৃশ্য! ঝাণ্ডা তো ভাল লাগছে। তো নলেজফুল অর্থাৎ মায়াকে যে দূর থেকে তাড়ায়।
তোমরা এরকম হয়েছে? কেননা, বাপদাদা আগেই বলে দিয়েছেন যে ভাণ্ডার জমা করার ব্যাঙ্ক
পাওয়া যাবে না। যা এখন জমা করেছি, সেটা কাজে লাগতে থাকবে। কিন্তু জমা করার ব্যাঙ্ক
এখন সঙ্গমযুগে খোলে। সেইজন্য তোমরা কী বলে থাকো, সবাইকে সমাচারে শুনাও তো না! এখন
নয় তো কখনো নয়। সদা স্মরণে থাকে সেটা? কেননা, সঙ্গমযুগের জন্ম সবথেকে ছোট, কিন্তু
অমূল্য জন্ম। এই জন্মের মূল্য সমগ্র কল্প চলে। তো চেক করো তোমরা, আমার জমার খাতা কত
আছে? যত চাও ততটা জমা হয়? কেননা, বাপদাদা আগেই বলে দিয়েছেন যে চলার সময় সমাপ্ত হয়েছে।
এখন ওড়ার সময়। পুরুষার্থের সময় সম্পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু এখন তীব্র পুরুষার্থের সময়।
সেইজন্য বাপদাদা ডবল বিদেশিদের টাইটেল দিয়েছেন - ডবল তীব্র পুরুষার্থী। বলো, তোমরা
ডবল তীব্র পুরুষার্থী হয়েছ, হাত উঠাও। ডবল তীব্র পুরুষার্থী, পাস। আচ্ছা। বাপদাদা
তো জন্মের অভিনন্দনের সাথে তোমাদেরও কল্যাণকারী শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন। পদম্ পদম্
গুন অভিনন্দন অভিনন্দন অভিনন্দন।
বাপদাদা দেখেছেন তিনি যে হোম ওয়ার্ক দিয়েছিলেন, ও.কে.-র তা'তে অনেক বাচ্চা
অ্যাটেনশন দিয়েছে। কিন্তু ১০০ মার্কস অনেক কম সংখ্যকের, ৫০ পার্সেন্টের বেশি। কিন্তু
বাপদাদা এটাই চান, বাবা বলবেন তোমাদের তিনি কী চান? বাপদাদার আশার দীপক প্রত্যেকের
কাছে, আশা সম্পন্নকারী মহাবীর বাচ্চাদের কাছে এটাই বাবার আশা যে সময় অনুসারে যদি
এখন থেকে বহুকালের তীব্র পুরুষার্থের চার্ট জমা না করেছ তবে বাপদাদা তিন শব্দ সময়
সময়তে স্মরণ করিয়ে দেন ১) অকস্মাৎ, ২) এভাররেডি আর ৩)বহু সময়ের সঞ্চয়ের খাতা। কেননা,
বাপদাদা চান যে নিজের রাজ্য সমাগত প্রায়। যেমন, এখন তোমরা সমাচার দিয়ে থাকো বাবা
এসেছেন, তেমনই এই খুশির খবরও শুনিয়ে থাকো যে আমাদের দৈবি রাজ্য সুখশান্তিময় রাজ্য
প্রায় এসেই গেছে। যখন সবাইকে এই বার্তা দাও তখন নিজের পুরুষার্থও তীব্র হয়। যারা বহু
সময়ের সঞ্চয়কারী তারা নিজের রাজ্যে শেষ পর্যন্ত, ফার্স্ট জন্ম থেকে ২১ জন্ম ফুল
রাজ্য ভাগ্যের অধিকারী হয়। এই হিসেব বহুকাল ধরে স্মৃতিতে রাখো। কেননা, মজা নতুন গৃহে
হয়। যদি দু' তিন জন্মের পরে আসো, ঘরবাড়ির যদি দু' তিন মাস হয়ে যায় তবে কী বলবে,
নতুন নাকি তিন মাস হয়ে গেছে। তো বাপদাদা চান যে বাপদাদার অতি প্রিয় প্রত্যেক বাচ্চা
বাহ্ বাহ্ বাচ্চা, বাবার হৃদয় সিংহাসনাসীন বাচ্চা প্রথম জন্মে ব্রহ্মা বাবার সাথি
হয়ে আসুক। পছন্দ! পছন্দ হয়! হয় পছন্দ! আচ্ছা। তাহলে কী করতে হবে তোমাদের? করতেও তো
হবে, তাই না! পছন্দ তো হয়েছে, বাবারও পছন্দ কিন্তু কী করতে হবে? এখন থেকে বার্থ
ডে-তে বাবাকে কী উপহার দেবে? কিছু উপহার তো দেবে বাবাকে, তাই না! বাবার জন্মদিন
উদযাপন করতে এসেছ, তো বাবাকে কী উপহার দেবে? প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি বাবার আশা আছে,
লাস্টে ফাস্ট হতে পারে। যারা প্রথমবার এসেছো তারা হাত তোলো। আচ্ছা।
তো বাপদাদা লাস্টে আসা সব বাচ্চাকে প্রথমবার আসার পদম্ গুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
কিন্তু ভাগ্যেরও একটা ব্যাপারে বাবা বলছেন, ভাগ্য বানানোর মার্জিন আছে, কেননা, টু
লেট এর বোর্ড লাগেনি। যদি লাস্টেরও কেউ ফাস্ট পুরুষার্থ ক'রে লাস্ট সো ফাস্ট আর
ফাস্ট সো ফার্স্ট ডিভিশনে আসতে পারে। পছন্দ হয়? আগত নতুন বাচ্চাদের পছন্দ হয়? চান্স
আছে, বাপদাদা সিট দিয়ে দেবেন, কিন্তু কিছু করতেও তো হবে। একেক শ্বাস, একেক সঙ্কল্প,
অ্যাটেনশন, সব শ্বাস, সব সঙ্কল্প যেন সমর্থ হয়। ব্যর্থ যেন না হয়। কেননা, তোমাদের
সকলের, তা' তোমরা প্রথমের হও বা শেষের, তোমাদের টাইটেল কী? তোমরা শক্তিশালী বাচ্চা,
দুর্বল বাচ্চা নও। বাপদাদা স্মরণে কোন স্নেহ দেন? প্রতিদিনের স্মরণ-স্নেহ হলো - অতি
প্রিয়, হারানিধি, হৃদয় সিংহাসনাসীন বাচ্চা। সেইজন্য বাবা এই গোল্ডেন চান্স দিচ্ছেন,
যারা চাও তারা নিয়ে নাও। বাবা দেবেন, তিনি নিয়মবদ্ধ। আছে কোনো তীব্র পুরুষার্থী?
চান্স আছে। টু লেট এর বোর্ড লেগে গেছে, তারপর ফিনিশ। কিন্তু বাপদাদাকে জন্মের উপহার
কী দেবে? জন্মোৎসব উদযাপন করতে এসেছ তো না! বাপদাদা তোমরা সব বাচ্চার জন্মদিনে তোমরা
সব বাচ্চাকে বিশেষ উপহার দিয়েছেন - ৯০ পার্সেন্ট তোমাদের তীব্র পুরুষার্থ আজ থেকে
শেষ পর্যন্ত যদি থাকে তবে ১০ পার্সেন্ট বাপদাদা বাড়িয়ে দেবেন। মঞ্জুর? এখন ব্যর্থ
শেষ। যেমন, দেখ সত্যযুগের দেবতারা আসেন তো না! তো তাঁদের জানা নেই এখানে কী ভাষা বলা
হয়। তোমরা পুরুষার্থ শব্দ যদি বলো তো তাঁরা বলবেন পুরুষার্থ কী! কেননা, তাঁরা তো
প্রালব্ধ প্রাপ্ত, তাই না! তোমরা তীব্র পুরুষার্থীদের স্বপ্নে বা সঙ্কল্পে বা
প্র্যাকটিক্যাল কর্মে ব্যর্থ কী হয়! তার সমাপ্তি করতে হবে। আছে সাহস? ১০ পার্সেন্ট
বাবা গ্রেস হিসেবে দেবেন। আছে মঞ্জুরি? হাত উঠাও। কত পার্সেন্ট নিশ্চিত? ১০০
পার্সেন্ট নয় ১০১ পার্সেন্ট, কেননা, বাপদাদার বাচ্চাদের ছাড়া, বাচ্চাদের সাথ ছাড়া
ভালো লাগে না। বাবা বোঝেন, যখন 'আমার বাবা' বলে দিয়েছ, বাবা বলে দিয়েছেন 'আমার
বাচ্চা', তো বাবা সমান তো হতে হবে। এখন দৃঢ় সঙ্কল্পের আবশ্যকতা আছে। তোমরা পুস্তক
ছাপিয়েছ তো না! সাফল্যের চাবি হলো দৃঢ় সঙ্কল্প। তো সঙ্কল্পকে কমন হ'তে দিও না। তোমরা
কে? যদি এখানের প্রেসিডেন্ট সাধারণ ব্যবহার করে তবে কী ভালো লাগবে? তাছাড়া তোমরা
কে? তোমরা তিন সিংহাসনের নিবাসী। সবচাইতে বড় সিংহাসন বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন। সুুতরাং
যারা হৃদয় সিংহাসনাসীন তারা প্রথম জন্মের সাথি তো হবে। যদিও বা সিংহাসনে একজনই বসবে,
কিন্তু রয়্যাল ফ্যামিলির রাজ্য অধিকারী তো হতে পারো। যারা সাথে থাকার কর্তব্য পালন
করবে তারা তো অন্ততঃ গৃহ পর্যন্ত একসাথে যাবে তো না। যেভাবেই হোক বাপদাদা নিয়ে
যাবেন। ভায়া নিয়ে যাবেন কি ডায়রেক্ট নিয়ে যাবেন কিন্তু নিয়ে তো যাবেন। নয়তো কি
বাসায় থেকে যাবে, ব্রহ্মা বাবা চলে যাবেন, ভালো লাগবে? তোমরা রাজযোগী তো না! নিজেকে
কী টাইটেল দাও তোমরা আর অন্যদেরও কী শেখাও? রাজযোগ নাকি প্রজা যোগ? হতে পারে
রয়্যাল প্রজা, কিন্তু প্রজা যোগী তো নও। রাজযোগী তোমরা। তোমরা সব বাচ্চার প্রতি
দেওয়া উপহার তোমাদের সবার স্মরণে থাকবে? কত সময় পর্যন্ত? শেষ পর্যন্ত। বাপদাদা
দেখেছেন, অনেক পুরুষার্থ করো তোমরা, বাপদাদা যখন দেখেন বাচ্চারা অনেক পরিশ্রম করছে
তখন বাচ্চাদের পরিশ্রম দেখে বাবার ভালো লাগে না। সেইজন্য ভালোবাসায় থাকো তবে
পরিশ্রম সমাপ্ত হয়ে যাবে। যখন তোমরা বলো আমার বাবা, তখন আর সব 'আমার' সমাপ্ত। যখন 'আমার
বাবা' বলোনা, তখন অনেক 'আমার' তা'তে শেষ হয়ে যায় তো না! তোমরা একটা খেলনা আনোনা,
একটার মধ্যে একটা, তার মধ্যে আরেকটা! একের মধ্যে দশ-বারোটা সমাহিত হয়ে যায়। খেলনা
বলো তোমরা, তো এক আমার বাবা, তোমরা 'আমার বাবা' বলো তো না! আমার বাবা, তাই না!
মহারথীদের বাবা তো নয়। আমার বাবা। যখন বাবা তখন সীমাবদ্ধ দুনিয়ার 'আমার' তোমাতে
সমাহিত ক'রে নাও। আমার-এর পরিবর্তে তোমার বলো, কত প্রভেদ! আমার আর তোমার - এতে কতটা
ফারাক হয়? আ (মেরা) এবং তো (তেরা), এক শব্দের প্রভেদ। তাহলে এটা পাক্কা তো না, আমার
বাবা? এটা পাক্কা? কত পার্সেন্ট? ১০০ পার্সেন্ট, ১০০ এক? এভাবে এক আঙুল উঠাও। যে বলো
১০১, সে হাত উঠাও। বাপদাদা দেখছেন। টিভিতেও দেখছেন।
বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন চতুর্দিকের বাচ্চাদের, চতুর্দিকের তীব্র পুরুষার্থী
বাচ্চাদের, বাপদাদা যে গিফ্ট দিয়েছেন সেই গিফ্ট যারা স্বীকার করে এবং যে বাচ্চারা
সঙ্কল্প দ্বারা বাপদাদাকে গিফ্ট দিয়েছে সেই সঙ্কল্পকে সদা দৃঢ় করে, চতুর্দিকের দৃঢ়
পুরুষার্থী প্রতিজ্ঞা ক'রে প্রত্যক্ষ করায়, এমন সব বাচ্চাদের বাপদাদার হৃদয়ের অনেক
অনেক স্নেহাদর এবং হৃদয়ের স্মরণ-স্নেহ স্বীকৃত হোক এবং সব বাচ্চাকে বারবার
কল্যাণকারী শুভেচ্ছা, শুভেচ্ছা, শুভেচ্ছা।
বরদান:-
আতিথি ভাবের বৃত্তি দ্বারা প্রবৃত্তিকে শ্রেষ্ঠ,
স্টেজকে উঁচু (মহান) বানিয়ে সদা উপরম ভব
যারা নিজেকে অতিথি মনে ক'রে চলে তারা নিজের দেহরূপী
ঘরের থেকেও নির্মোহ হয়ে যায়। অতিথির কিছু থাকে না, কার্যে সব বস্তু নিয়ে আসবে কিন্তু
আমিত্বের ভাব থাকবে না। তারা সব সাধন আপন করলেও যতটা স্বতন্ত্র ততটাই বাবার প্রিয়
থাকে। দেহ, দেহের সম্বন্ধ আর বৈভব থেকে সহজে উপরম হয়ে যায়। যত অতিথি বোধের বৃত্তি
থাকে ততই প্রবৃত্তি শ্রেষ্ঠ আর স্টেজ উঁচু থাকে।
স্লোগান:-
নিজের স্বভাব নির্মল বানালে, তবে প্রতি কদমে সাফল্য
সমাহিত হয়ে থাকে।
অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের
দ্বারা সফলতা সম্পন্ন ভব দুনিয়ার সামনে এখন এই বাস্তবিকতা দেখাতে হবে - আমরা সবাই
এক, একের, একরস স্থিতির। একের নিষ্ঠায় মগ্ন থেকে একের নাম প্রত্যক্ষ করাই, এখন এই
স্বতন্ত্র ও অনুপম গোল্ডেন স্থিতির পতাকা আন্দোলিত করো। বড় হও বা ছোট হও, সুস্থ হও
বা অসুস্থ, মহারথী হও বা ঘোড়সওয়ার, সবাই একমত হয়ে সহযোগী হও তবে সহজে সফলতা মূর্ত
হয়ে যাবে।