15.06.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
অমর বাবা এসেছেন তোমাদেরকে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রদান করতে, এখন তোমরা তিন কাল আর
তিন লোক-কে জেনে গেছো”
প্রশ্নঃ -
আত্মিক বাবা
আত্মাদেরকে কিসের আধারে উত্তরাধিকার প্রদান করেন?
উত্তরঃ
পড়াশোনার
আধারে। যে বাচ্চারা ভালোভাবে পড়াশোনা করে, দেহ-অভিমানকে ত্যাগ করে দেহী-অভিমানী
থাকার পুরুষার্থ করে, তারাই বাবার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে। লৌকিক বাবা কেবল
বাচ্চাদেরকে উত্তরাধিকার প্রদান করেন কিন্তু পারলৌকিক বাবার সম্বন্ধ আত্মার সাথে,
সেইজন্য আত্মাদেরকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন ।
গীতঃ-
ভোলানাথের থেকে
অনুপম আর কেউ নেই...
ওম্ শান্তি ।
আত্মিক
বাচ্চারা আত্মিক বাবার থেকে অমর কথা শুনছে - এই মৃত্যুলোক থেকে অমর লোকে যাওয়ার
জন্য। নির্বাণধামকে অমর লোক বলা যায়না। অমরলোক - যেখানে তোমাদের অকালে মৃত্যু হবে
না, সেইজন্য তাকে অমরলোক বলা হয়। আত্মিক বাবা যাকে অমরনাথ বলা হয়। অবশ্যই অমরলোকে
নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই মৃত্যুলোকে এসে কথা (অমর কথা/জ্ঞান) শোনাচ্ছেন। তিন কথা
ভারতেই প্রখ্যাত আছে। অমরকথা, সত্যনারায়ণের কথা, তীজরীর কথা (তৃতীয় নয়ন
প্রাপ্তির কথা)। ভক্তি মার্গে তো তীজরীর অর্থ কেউই বুঝতেই পারেনা। জ্ঞান সাগর অমর
বাবা ব্যতীত জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র কেউ দিতে পারে না। এটাও মিথ্যা গল্প শোনায়।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা এখন জেনে গেছে যে, আমাদেরকে এখন জ্ঞানে তৃতীয় নেত্র
প্রাপ্ত হয়েছে, যে তৃতীয় নেত্রের দ্বারা তিন কাল, তিন লোককে তোমরা জেনে গেছো। মূল
লোক, সূক্ষ্ম লোক, স্থুল লোকের আদি-মধ্য-অন্তকেও জেনে গেছ, এইজন্য বাচ্চারা
নিজেদেরকে ত্রিকালদর্শীও মনে করে। সৃষ্টিতে তোমাদের মত মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা ছাড়া
অন্য কেউ ত্রিকালদর্শী হতে পারেনা। তিনকাল অর্থাৎ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে জানে না।
মূল বতন, সূক্ষ্ম বতন, স্থুল বতনকে অনেকেই জানতে পারে, কিন্তু তিন কালের
আদি-মধ্য-অন্তকে কেউ জানে না। এখন মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা আত্মিক বাবার থেকে
শুনছে। আমরা তাঁর সন্তান হয়েছি। একবারই তোমাদের অর্থাৎ আত্মিক বাচ্চাদের আত্মিক
বাবার সাথে মিলন হয়। তিনি আত্মাদেরকে পড়ান আর অন্যেরা দেহ-অভিমানী হওয়ার কারণে
বলে যে, আমি এটা পড়ছি। আমি এটা করছি। দেহ অভিমান এসে যায়। এখন এই সঙ্গম যুগে
আত্মিক বাবা এসে আত্মিক বাচ্চাদেরকে বলছেন যে, তোমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করো। বাবার
থেকে প্রত্যেক বাচ্চার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার অধিকার আছে কেননা সবাই হলে আত্মিক
বাচ্চা, তাই না! লৌকিক সম্বন্ধে কেবল বাচ্চারাই উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়। এই
পারলৌকিক সম্বন্ধে সকল বাচ্চাদের অর্থাৎ আত্মাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়।
অমরনাথের কথা শোনায়। বলে যে পার্বতীকে পাহাড়ের উপর গুহার মধ্যে গিয়ে অমরকথা
শুনিয়েছিলেন। এটা তো হলো মিথ্যা, তাই না। বাচ্চারা, এখন তো তোমরা জানো যে মিথ্যা
কোনটি, আর সত্য কোনটি। সত্য তো অবশ্যই সত্য বাবা-ই শোনাবেন। বাবা একবারই সত্য কথা
শুনিয়ে সত্য খন্ডের মালিক বানিয়ে দেন। তোমরা জানো যে এই মিথ্যা খন্ডতে আগুন লেগে
যাবে। এই যা কিছু দেখা যাচ্ছে, এসব কিছুই থাকবে না। সময় আর অল্পই অবশিষ্ট আছে। এটা
হল শিব বাবার জ্ঞান যজ্ঞ। যেরকম লৌকিক সম্বন্ধেও বাবা যজ্ঞ রচনা করেন। কেউ রুদ্র
যজ্ঞ রচনা করে, কেউ আবার গীতা যজ্ঞ। কেউ রামায়ণ যজ্ঞ রচনা করে। এটা হল শিববাবা বা
রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ। এটাই হল অন্তিম যজ্ঞ।
তোমরা জানো যে, আমরা
এখন অমর পুরীতে যাচ্ছি। এখন আর কয়েক মিনিটের রাস্তা বাকি আছে। কোনও মানুষেরই এটা
জানা নেই। তারা তো বলে দেয় যে - মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে যাওয়ার জন্য এখনও ৪০
হাজার বছর পড়ে আছে। অমর লোক সত্যযুগকে বলা যায়। বাচ্চারা তোমাদেরকে এখন বাবা
সম্মুখে বসে অমর কথা, তীজরীর কথা, সত্যনারায়ণের কথা শোনাচ্ছেন। ভক্তি মার্গে কি কি
হয়, সেসব তো দেখেছো। ভক্তি মার্গে কত বিস্তার হয়। যেরকম বৃক্ষের অনেক বিস্তার হয়,
সেই রকমই ভক্তিমার্গেরও অনেক বড় কর্মকাণ্ডের বৃক্ষ বা ঝাড় আছে। যজ্ঞ, ব্রত, নেম,
জপ, তপ ইত্যাদি কতকিছু করে। এই জন্মের ভক্তরা তো অনেকেই বসে আছে। মানুষের বৃদ্ধি
হতেই থাকে। যখন থেকে তোমরা ভক্তি মার্গে এসেছো তখন থেকে অন্যান্য ধর্ম স্থাপন করা
শুরু হয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজের ধর্মের সাথে যোগসূত্র আছে। প্রত্যেকেরই
রীতি-রেওয়াজ আলাদা আলাদা। ভারত অমরপুরী ছিল, ভারত এখন মৃত্যু লোক হয়ে গেছে। তোমরা
আদি সনাতন দেবতা ধর্মের ছিলে। কিন্তু এখন পতিত হওয়ার কারণে এখন তোমরা নিজেদেরকে
দেবতা বলতে পারো না। এটা তোমরা ভুলে গেছো যে আমরাই দেবতা ছিলাম। যেরকম বলে যে
যীশুখ্রীষ্ট আমাদের ধর্ম স্থাপন করেছিলেন, তখন থেকে আমাদের খ্রিস্টান ধর্ম চলে আসছে।
এরকম নয় যে, ইউরোপীয়ান ধর্মের ছিল। সেরকমই তোমরা হিন্দুস্তানীরা বা ভারতের
অধিবাসীরা হলে দেবী-দেবতা ধর্মের আত্মা। কিন্তু নিজেদেরকে দেবতা বলতে পারো না। মনে
করো যে - আমরা তো হলাম পাপী, নীচ, কাঙ্গাল, বিকারী। ভক্তি মার্গে মানুষ দুঃখী হয়ে
যায় তাই বাবাকে আহ্বান করে। এটা কেবল তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারাই জানো যে, যে বাবাকে
আহ্বান করে এসেছি, তিনি এখন আমাদেরকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রদান করার জন্য অমর
কথা শোনাচ্ছেন। আমরা অমরপুরীর মালিক হতে চলেছি। অমরপুরীকে স্বর্গ বলা যায়। তোমরা
বলবে যে আমরা স্বর্গবাসী হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছি। কলিযুগে মানুষ মারা গেলে তখন
বলা হয় যে স্বর্গবাসী হয়েছে। এখন সে স্বর্গে যাওয়ার জন্য কোনও পুরুষার্থ থোড়াই
করেছে? তোমরা তো পুরুষার্থ করছো অমরপুরী বৈকুণ্ঠে যাওয়ার জন্য। কে পুরুষার্থ
করাচ্ছেন? অমর বাবা, যাঁকে অমরনাথও বলা যায়। এই যজ্ঞকে পাঠশালাও বলা যায়। অন্য
কোনো পাঠশালাকে যজ্ঞ বলা যায় না। যজ্ঞ আলাদাভাবে রচনা করা হয়, যেখানে ব্রাহ্মণেরা
বসে মন্ত্র পাঠ করেন। বাবা বলছেন যে - এটা তোমাদের কলেজও আবার যজ্ঞও, দুটো একত্রিত
আছে। তোমরা জানো যে এই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা বিনাশ জ্বালা প্রজ্বলিত হয়েছে, এতে
সমগ্র দুনিয়া স্বাহা হয়ে যাবে। পুনরায় নতুন দুনিয়া হবে, এর নামই হল মহাভারী
মহাভারত লড়াই। এই রকম লড়াই আর কোথাও হয়না। বলা হয় যে যুদ্ধ ক্ষেত্রে মিসাইল নিয়ে
যুদ্ধ হয়েছিল। তোমাদের সাথে লড়াই তো হয়না। একে মহাভারতের লড়াই কেন বলা হয়?
ভারতে তো একটাই ধর্ম হয় তাইনা! মৃত্যু তো বাইরে আছে। এখানে লড়াইয়ের তো কোনও কথাই
নেই। বাবা বোঝাচ্ছেন যে - তোমাদের জন্য নতুন দুনিয়া চাই তাে অবশ্যই পুরানো
দুনিয়ার বিনাশ হবে।
বাচ্চারা তোমাদের
বুদ্ধিতে বিরাট রূপেরও সমগ্র জ্ঞান আছে। এটা বুঝতে পারো যে, যারা কল্প পূর্বে
এসেছিল তারাই আসবে দেবতা হওয়ার জন্য। বুদ্ধির কাজ। আমরা যতজন ব্রাহ্মণ হয়েছি, সেই
আমরাই এখন পুনরায় দেবতা হতে চলেছি। প্রজাপিতা ব্রহ্মারও নাম গাওয়া হয়ে থাকে।
পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মার দ্বারা মনুষ্যসৃষ্টি রচনা করেন এইজন্য ব্রহ্মাকে
প্রজাপিতা বলা হয়। কিন্তু কিভাবে, কখন রচনা করেন? এটা কেউ জানে না। শুরুতে কি
মানুষ ছিল না, যাদের রচনা করেন? আহ্বানও করে, হে পতিত-পাবন এসো। তো যখন মানুষ পতিত
হয়ে যায়, তখন তো বাবা আসেন দুনিয়াকে পরিবর্তন করার জন্য। তোমাদেরকে বাবা নতুন
দুনিয়ার উপযুক্ত তৈরি করছেন। এখন সবাই তমোপ্রধান পুরানো দুনিয়াতে আছো, পুনরায়
সতোপ্রধান হতে হবে। বাবা বুঝিয়েছেন - প্রত্যেক মানুষ মাত্রই, প্রত্যেকটি জিনিসকে
সতঃ-রজঃ-তমঃতে আসতেই হয়। দুনিয়া নতুন থেকে পুরানো অবশ্যই হয়। কাপড় জামাও নতুন
পরিধান করে, সেটাই আবার পুরানো হয়ে যায়। তোমাদের এখন জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছে। এখন
তোমরা সত্যিকারের সত্যনারায়ন কথা শুনছো। গীতা হলো সকল শাস্ত্রের শিরোমণি। বাকি
সবকিছুই হল তার বাচ্চা। যেরকম ব্রহ্মার বংশাবলী হয়, সেরকমই গীতা হল মুখ্য। উচ্চ
থেকে উচ্চতর হলেন মা-বাবা, বাকি সব হলো বাচ্চা। এখন মা-বাবার থেকে উত্তরাধিকার
প্রাপ্ত হচ্ছে। এছাড়া যে যতই শাস্ত্র পড়ুক, যা কিছু করুক, উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে
পারবে না। যারা শাস্ত্র পড়ে, তাদের অনেক উপার্জন হয়। সেসব তো হয়ে গেল অল্পকালের
জন্য। এখানে তোমরা বাচ্চারা শুনছো, তো কতই না উপার্জন করছো - ২১ জন্মের জন্য, বিচার
করো! তারা একটা কিছু শোনাবে, আর সবাই তাকে টাকা দেবে। বাচ্চারা এখানে বাবা তোমাদেরকে
জ্ঞান শোনাচ্ছেন - তোমরা ২১ জন্মের জন্য অনেক ধনী হয়ে যাও। সেখানে যারা শোনায়,
তাদের ব্যাগ ভর্তি থাকে। ভক্তি ইত্যাদি করা প্রবৃত্তি মার্গের কাজ। তোমরা হলে
প্রবৃত্তি মার্গের। তোমরা জানো যে - স্বর্গলোকে আমরা পূজ্য ছিলাম। না হলে তো ৮৪
জন্মের হিসাব কোথা থেকে আসবে? এটাই হল আধ্যাত্মিক জ্ঞান, যেটা সুপ্রিম আত্মা
জ্ঞানের সাগরের থেকে প্রাপ্ত হয়। পতিত-পাবন বাবা-ই হলেন সকলের সদ্গতি দাতা।
আমাদেরকে অর্থাৎ তাঁর বাচ্চাদেরকে অমর কথা শোনাচ্ছেন। জন্ম-জন্মান্তর ধরে মিথ্যা
কাহিনি শুনে এসেছ। এখন সত্যি কথা শুনে তোমরা ষোলোকলা সম্পূর্ণ হচ্ছ। চন্দ্রমাকে ষোলো
কলা সম্পূর্ণ বলা যায়। সূর্যের জন্য বলা যায়না।
তোমরা জানো যে আমরা
আত্মারা ভবিষ্যতে সর্বগুণসম্পন্ন, ষোলোকলা সম্পূর্ণ হব। পুনরায় অর্ধেক কল্পের পর
তাদের মধ্যে খাদ পড়ে যায়। এখন তোমরা বুঝতে পারছ যে আমরা পুনরায় সর্ব্বগুণসম্পন্ন,
ষোলো কলা সম্পূর্ণ... তথা দেবতা পুনরায় তৈরী হচ্ছি। আমরা আত্মারা সর্বপ্রথম নিজের
ঘরে যাব পুনরায় আমরা শরীর ধারণ করে দেবতা হব তারপর চন্দ্র বংশী পরিবারে আসবো। ৮৪
জন্মের হিসেব-নিকেশ চাই। কোন যুগে, কোন বর্ষে কত জন্ম হয়েছে, বাবা ৮৪ জন্মের পরম
সত্য কথা এখন শোনাচ্ছেন। বাচ্চারা, তোমাদেরকে বাবা বলছেন - তোমরা ভারতবাসীরা ৮৪
জন্ম নিয়েছো। এক তো নিজেকে ব্রাহ্মণ মনে করতে হবে। মাম্মা-বাবা বলে ডাকো তাইনা।
উত্তরাধিকার শিব বাবার থেকে নিচ্ছো, ব্রহ্মা বাবার দ্বারা। ব্রহ্মাও তাঁর হয়ে গেছে।
ব্রহ্মার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হতে পারে না। ইনিও (ব্রহ্মা) সম্পর্কে ভাই হয়ে
গেলেন। ইনি হলেন শরীরধারী তাই না। তোমরা সকল বাচ্চারা তাঁর থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছ।
এঁনার (ব্রহ্মার) থেকে নয়। যাঁর থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায় না, তাকে স্মরণ করো
না। এক শিব বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। তাঁকেই উদ্দেশ্য করে বলা হয় - তুমি মাতা-পিতা
আমরা বালক তোমার। তোমরা এঁনার কাছে এসেছ তাই বুদ্ধিতে থাকে আমরা শিব বাবার কাছে
এসেছি। স্মরণ শিববাবাকেই করতে হবে। আত্মা হল বিন্দু, তার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট
রেকর্ড আছে। আত্মা ভ্রূকুটির মাঝে থাকে। সেকেন্ডের মধ্যে উড়ে যায়, আমি আত্মা এক
শরীর ছেড়ে অন্য শরীর গ্রহণ করি। ভ্রুকুটির মাঝে গিয়ে বিরাজমান হই। বুদ্ধিতে
বোধগম্যতা আছে - আমার আত্মা হলো এইরকম। সত্যযুগে তো এইরকম কোনও জিনিস দেখার আশা থাকে
না। আত্মাকে দেখা যায় দিব্যদৃষ্টির দ্বারা। এই চোখের দ্বারা দেখার কোনো কথাই নেই।
ভক্তি মার্গেই সাক্ষাৎকার করে। যেরকম রামকৃষ্ণের শিষ্য বিবেকানন্দ ছিলেন, তিনি
বলেছিলেন যে, আমি সামনে বসে ছিলাম তখন তাঁর আত্মা বেরিয়ে আমার মধ্যে প্রবেশ হয়ে
গেল। এইরকম কখনও হয় না। আত্মা কিভাবে এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীরে প্রবেশ করে, এইসব কথা
বাচ্চারা তোমাদেরকেই বোঝানো যায়। এখন তোমরা বুঝেছ যে আমরা অমরলোকে যাওয়ার জন্য
পুরুষার্থ করছি, অমরলোকে আমরা জন্ম নেব। সেখানে আমরা গর্ভ মহলে থাকব। এখানে তো গর্ভ
জেলে অত্যন্ত ত্রাহি-ত্রাহি করতে থাকে। এখন অর্ধেক কল্পের জন্য বাবা তোমাদেরকে
সবরকমের দুঃখ থেকে মুক্ত করছেন। তাই কত ভালোবাসা দিয়ে এইরকম বাবাকে স্মরণ করতে হবে।
আচ্ছা।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজেকে আত্মা মনে করে আত্মিক বাবার কাছে পড়াশোনা করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার গ্রহণ
করতে হবে। সত্য খন্ডের মালিক হওয়ার জন্য সত্য কথা শুনতেও হবে এবং অন্যদেরকেও শোনাতে
হবে।
২ ) যে বাবার থেকে
অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, তাঁকেই স্মরণ করতে হবে। কোনও দেহধারীকে নয়।
এই পুরানো দুনিয়াতে আগুন লেগে যাবে এই জন্য একে দেখেও দেখো না।
বরদান:-
সাইলেন্সের শক্তির দ্বারা নিজের রেজিস্টারকে স্বচ্ছ রেখে লোকপ্রিয়, প্রভুপ্রিয় ভব
যেরকম সায়েন্স এমন
ইন্ভেনশন (আবিষ্কার) করেছে যে যাকিছু অপ্রয়োজনীয় লেখা আছে, সেগুলিকে মোছা যাবে, কেউ
বুঝতেই পারবে না। এইরকম তোমরা সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা নিজের রেজিস্টারকে প্রতিদিন
সাফ করো তাহলে প্রভুপ্রিয় বা দৈবী লোকপ্রিয় হয়ে যাবে। পরিষ্কার পরিছন্নকে সবাই
পছন্দ করে এইজন্য একদিনের করা ব্যর্থ সংকল্প বা ব্যর্থ কর্মের পরেরদিন যেন কোনও
চিহ্ন মাত্র না থাকে, অতীতকে বিন্দু লাগিয়ে দাও তাহলে রেজিস্টার সাফ থাকবে আর
সাহেবও রাজী হয়ে যাবেন।
স্লোগান:-
ব্যর্থ
সংকল্প করা বা অন্যদেরকে ব্যর্থ সংকল্প চালানোর নিমিত্ত হওয়া - এটাও হলো অপবিত্রতা।
অব্যক্ত ঈশারা :- সদা
হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও।
মন, বাণী, কর্মে সরলতা
আর সহনশীলতা এই দুটিই হল আবশ্যক। যদি সরলতা থাকে, সহনশীলতা না থাকে, তাহলেও শ্রেষ্ঠ
নয়। সরলতার সাথে সহনশীলতা থাকলে তখন শক্তি স্বরূপ বলা হবে। শক্তিদের চিত্রতে সরলতা
আর সহনশীলতা দুটোই গুণ দেখা যায়। এখনকার রেজাল্টে কোথাও সহনশীলতা অধিক তো কোথাও
সরলতা অধিক আছে। এখন এই দুটোকে সমান বানাও।