15.08.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - সবাইকে এই পয়গাম (বার্তা) দাও যে, দেহ সহ দেহের সকল ধর্মকে ভুলে নিজেকে আত্মা মনে করো, তাহলে সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদেরকে কোন্ বিষয়ে ফলো ফাদার করতে হবে?

উত্তরঃ  
যেমন এই ব্রহ্মা তাঁর সব কিছু ঈশ্বরকে অর্পণ করে দিয়েছেন। সম্পূর্ণ ট্রাস্টি হয়ে গেছিলেন, এইরকম ট্রাস্টি হয়ে থাকো। কখনোই উল্টো পাল্টা খরচ করে পাপ আত্মাদেরকে দেবে না। নিজের সব কিছু ঈশ্বরীয় সেবাতে নিয়োজিত করো, সম্পূর্ণ ট্রাস্টি হও। বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকো। বাবা দেখেন কোন্ বাচ্চা কতখানি শ্রীমৎ অনুসারে চলছে ?

গীতঃ-
তুমি প্রেমের সাগর...

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা গীত শুনেছে। বাচ্চারা বলে, বাবা আমরা কোথা থেকে এসেছি, কবে এসেছি আর ফিরে যাওয়ার পথ কীকরে ভুলে গেছিলাম? এই ড্রামাটিকে আমাদেরকে কানে কানে বুঝিয়ে দাও যে, আমি কে, কোথা থেকে এসেছি তারপর কোথায় চলে গেছি? এক ফোটা জ্ঞান প্রদান করো, তুমি যে জ্ঞানের সাগর। এখন বাচ্চারা জানে যে, আমরা আত্মারা কোথাকার বাসিন্দা, তারপর বাবাকে আর আমাদের স্বর্গকে কীভাবে ভুলে গেছিলাম আর কীকরে এখানে এসে দুঃখী হয়েছি। তখন আবার বাবাকে বলবে বাবা আমাদেরকে রাস্তা বলে দাও, যাতে আমরা আমাদের সুখধাম শান্তিধামে যেতে পারি। বাবাই বসে বলে দেন - তোমরা আদিতে কে ছিলে, মধ্যে কী হয়েছিল? ভক্তি মার্গ কীভাবে শুরু হয়েছিল, অন্তিমে কী হলো, এই আদি - মধ্য - অন্তের রহস্য এখন বুদ্ধিতে বসেছে। এটা হলো ড্রামা, তাই না? সকল মানুষের এটা জানা উচিত - কারণ সকলে হলো অ্যাক্টর্স। আত্মা এখন জানে যে, আমরা আত্মারা নিরাকারী শান্তিধাম থেকে আসি, এটা হলো টকি ধাম। মূল লোক, সূক্ষ্ম লোক তারপর এটা হলো স্থূল লোক। তারপরে মূল লোক থেকে আত্মারা আসে টকি ধামে, শরীর ধারণ করে পার্ট প্লে করতে। আত্মার নিবাস স্থান হলো শান্তিধাম। এই সব কথা জগতের কোনো মানুষই জানে না। এই সব জ্ঞান সাগর বাবা এসেই বুঝিয়েছেন। এখন তিনি বোঝাচ্ছেন - জ্ঞান সাগর বলা হয় পারলৌকিক পরমপিতা পরমাত্মাকে। কোনো মানবকেই এরূপ বলা যাবে না। এই মহিমা কেবলমাত্র এক বাবার'ই গাওয়া হয়ে থাকে। যাকে আর কেউই জানে না। এখন হলো বিনাশের সময়। গাওয়া হয় যে, বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি ইউরোপবাসী... এখন বাবা তোমাদের বুদ্ধিযোগকে নিজের সাথে যুক্ত করিয়েছেন - মামেকম্ স্মরণ করো। আমি মুসলমান, আমি হিন্দু, আমি বৌদ্ধ.... এগুলি সবই হলো দেহের ধর্ম। আত্মা তো আত্মাই। বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝান যে, দেহের সকল ধর্মকে ছেড়ে নিজেকে আত্মা মধে করে বাবাকে স্মরণ করলে পতিত থেকে পাবন হয়ে যাবে । বাবা বলেন - এই দেহকে ভুলে যাও। এটাই হলো সকলের জন্য বাবার ঈশ্বরীয় পয়গাম ( বার্তা) । দেহ সহ দেহের যে যে সম্বন্ধ রয়েছে, সব কিছুকে ভুলে যাও। আমি হলাম আত্মা, আমরা সব ব্রাদারদের বাবা হলেন সেই এক। এই ব্রহ্মাও বলবেন আমি হলাম আত্মা, তাহলে সবাই ভাই - ভাই হয়ে গেল। এই সময় সব ভাই - ভাই হল দুঃখী। সবাই কাম চিতাতে চড়ে ভষ্ম হয়ে পড়ে আছে। যখন দ্বাপরের আদিতে রাবণ রাজ্য শুরু হয়, তখন তোমরা আবার বাম মার্গে চলে যাও। তখনই আবার অন্য ধর্মের সূত্রপাত হয়। অর্ধ কাল তোমরা পবিত্র থাকো। তারপর অর্ধ কাল পতিত হয়ে যাও। ২১ জন্মের কথা ভারতেই বলা হয়ে থাকে। কুমারী হলো তারাই যারা ২১ কুলের উদ্ধার করে। কুমারীর অনেক মান। তোমরা কেবল ভারতের কেন সমগ্র বিশ্বের উদ্ধার করছো। তোমরা সবাই জানো যে, আমরা সব আত্মারা হলাম শিব বাবার সন্তান । তাহলে তো কুমার'ই তো হলে, তাই না? ভাই - বোন তখন হবে যখন প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান হয়ে যায় । এই জ্ঞান বাচ্চারা তোমাদের আছে । আমরা আত্মারা সবাই হলাম ভাই - ভাই, সবাই বাবাকে আহ্বান করে - হে পতিত পাবন এসো। এই রাবণ রাজ্যের থেকে, দুঃখের থেকে আমাদেরকে লিবারেট (মুক্ত) করো। তারপর আমাদের গাইড হয়ে আমাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে চলো। আমাদের দুঃখ দূর করো আর সুখ প্রদান করো। এখন তোমরা বুঝতে পারো যে বাবা এসেছেন। আমাদের এই কলিযুগী রাবণরাজ্য থেকে মুক্ত করে সাথে করে নিয়ে চলো। বাবা জানেন যে, সব আত্মারা পতিত, সেইজন্য শরীরও পতিত। আত্মাকেই পবিত্র বানিয়ে নির্বাণধামে নিয়ে যান। পাস্ট থেকে প্রেজেন্ট তারপর ফিউচার হবে। আদি - মধ্য - অন্ত তারপর আদি। সত্যযুগ হল আদি, কলিযুগ হল অন্ত তারপর ফিউচার হবে সত্যযুগ। এটা তো সহজ, তাই না? আচ্ছা তাহলে মাঝে কী হলো? কীভাবে আমাদের পতন হয়েছিল? আমরা পবিত্র দেবতা ছিলাম, তারপর পবিত্র থেকে পতিত কীভাবে হয়েছিলাম। এখন তোমরা বুঝতে পারো, বাবা তোমাদেরকে বোঝান - যখন রাবণ রাজ্য শুরু হয় তখন তোমরা পতিত হয়ে যাও । এখন পুনরায় তোমাদেরকে ভবিষ্যতের দেবতা বানাতে এসেছি। এতে ডিফিকাল্টির কোনো ব্যাপার নেই। বাবা বলেন - তোমাদেরকে এই বিষয় সাগর থেকে পারে নিয়ে যাই। কীর্তনও গায় - আমার জীবন তরী... সবাই আহ্বান করে একমাত্র এই বাবাকেই। আমাদের তরী যে ডুবে রয়েছে, তাকে ক্ষীর সাগরে নিয়ে চলো। ওঁনাকে কান্ডারী, বাগানের মালিকও বলা হয় । এখন আমরা কাঁটার জঙ্গলে পড়ে আছি। আমাদেরকে ফুলের বাগানে নিয়ে চলো। দেবতারা তো ফুল, তাই না ? এখন সবাই হল কাঁটা। একে অপরকে দুঃখই দিতে থাকে । দেবতা কখনোই কাউকে দুঃখ দেয় না। সেখানে তো সুখ'ই সুখ। তারা তো কেবল কীর্তন গায় আর তোমরা এখানে প্র্যাক্টিক্যালে শুনছো। বাচ্চারা বলে না - বাবা আমরা কখন ভুলে গেলাম? এই সৃষ্টিচক্রকে আমরা কীকরে ভুলে গেলাম? সত্যযুগ - ত্রেতাতে আমরা এ' সব জানতাম না, কেননা আমরা সেখানে সুখী ছিলাম, তারপর দুঃখী কখন হলাম? যখন রাবণ রাজ্য শুরু হল। ভারতবাসী রাবণ দহন করতেই থাকে। যতক্ষণ না তার বিনাশ হচ্ছে। তারপর সত্যযুগে প্রতি বছর তখন দহন করবে নাকি? এ হলো ভক্তি মার্গ। এখন রারণ রাজ্যের সমাপ্তি ঘটবে। ভক্তি মার্গে প্রতি বছর রাবণ দহন করে, কিন্তু রাবণ তো তাও মরে না। এখন তোমাদের কাছে রাবণ যেন মরেই গেছে। তোমরা জানো যে রাবণ রাজ্যের এখন সমাপ্তি হতেই হবে। পাঁচ ভূতের শির কাটা যায়। তোমরা সবার প্রথমে কাম এর শির কেটে থাকো। কাম'ই হলো মহাশত্রু । বাবা বলেন - এই পাঁচ ভূতের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করেই তোমরা বিশ্বের উপরে জয়ী হবে। মানুষ তো নিজেকে বলেই পতিত, সেইজন্যই তো আহ্বান করে - পতিতকে পবিত্র বানাতে এসো। আত্মা আহ্বান করে - হে পতিত - পাবন, হে বাবা... কান্ডারী, কৃপাসিন্ধু বাবা এসো। বাবা বলেন - আমি প্রতি কল্পে আসি। কীভাবে আসি এ'কথা কেউই জানে না। গীতাতেও আছে - ভগবান এসে রাজযোগ শিখিয়েছেন। কিন্তু ভগবান কে, কখন এসেছেন এ' কথা কারো জানা নেই। গীতাকে তো খন্ডন করে দিয়েছেন। কৃষ্ণকে দ্বাপরে নিয়ে গেছে। দ্বাপরের পরে তো দুনিয়া আরোই পতিত হয়। তাহলে দ্বাপরে কৃষ্ণ এসে কী করেছে? মানুষ তো কিছুই বোঝে না। একেবারেই আনরাইটিয়াস। তোমরা এখন আনরাইটিয়াস থেকে রাইটিয়াস হয়ে থাকো। বাবা বোঝান যে, তোমরাই সম্পূর্ণ নির্বিকারী পূজ্য ছিলে, তোমরাই এখন বিকারী পূজারী হয়েছো । নিজেই পূজ্য, নিজেই পূজারী... প্রথমে তোমরা পূজ্য ছিলে, ২১ জন্ম পর্যন্ত, তারপর পূজারী হয়েছো। সত্যযুগে ৮ জন্ম তারপর ত্রেতাতে ১২ জন্ম নিয়ে থাকো। বাবাই বাচ্চাদেরকে বলে দেন - তোমরা পতিত কীভাবে হয়েছিলে, কবে থেকে পতন ঘটেছে তোমাদের, এই সৃষ্টির চক্র আবর্তিত হতে থাকে। সমগ্র সৃষ্টির হিস্ট্রি জিওগ্রাফি আদি - মধ্য - অন্তের রহস্য বাচ্চাদেরকে বসে বোঝাতে থাকেন । সবাই তো এক রকম ভাবে বুঝতে পারবে না। নম্বর অনুসারেই বুঝবে।

বাবা বলেন - আমি এসে কিংডম স্থাপন করি। এখন তোমাদেরকে সর্ব গুণ সম্পন্ন হতে হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যযুগে যেতে পারবে না। হতে হবে এখানে, তারপর ভবিষ্যতে গিয়ে তোমরা রাজত্ব করবে। তার মাঝে সব বিনাশ হয়ে যাবে। বিনাশও তোমরা অবশ্যই দেখবে। তোমরা প্র্যাক্টিক্যালে নিজেদের পার্ট প্লে করবে। তোমরা কি জানতে পারবে নাকি যে - এরপর কী হবে? কল্প পূর্বে যা হয়েছিল সেটাই হবে।

তোমাদেরকে টোটাল ভাবে বলা হয় যে - স্থাপনা আর বিনাশ হতে হবে, বিনাশ কীভাবে হবে? সেটা তো যখন হবে দেখা যাবে। দিব্য দৃষ্টির দ্বারা তোমরা বিনাশ তো দেখেছো। পরে প্র্যাক্টিক্যালি আরও দেখতে পাবে। স্থাপনার সাক্ষাৎকারও দিব্য দৃষ্টির দ্বারা তোমরা করেছো আর প্র্যাক্টিক্যালেও দেখবে। বাকি বেশি ধ্যানে (সাক্ষাৎকার করার জন্য) যাওয়াও ঠিক নয় । তখন বৈকুন্ঠে গিয়ে ডান্স করতে শুরু করে দেয়। না জ্ঞান, না যোগ, দুটোর থেকেই বঞ্চিত হয়ে যায়। ধ্যানে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সে ভোগ লাগানোর জন্য ব্রাহ্মণরা সেখানে যায়। দেবতা আর ব্রাহ্মণদের সভা বসে। এখানে তোমরা পিত্রালয়ে বসে আছো, এরপর তোমাদেরকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়, বিষ্ণুপুরীতে যাওয়ার জন্য। কন্যার যখন বিবাহ ঠিক হয়ে যায়, তখন তাকে বোঝানো হয় যে - শ্বশুরবাড়িতে কীভাবে থাকতে হবে, সকলকে ভালবাসা দিয়ে আপন করতে হয়, ঝগড়াঝাটি করতে নেই। এও হুবহু এই রকমই । বাবা বলেন, তোমাদেরকে সর্ব গুণ সম্পন্ন... এখানেই হতে হবে। স্বর্গে এই সব লড়াই ঝগড়া ইত্যাদি হয় না। বৈষ্ণব দেবতারা কী কখনো বিকারে যাবে নাকি? বিকার হল হিংসা। বলা হয় অহিংসা হল পরম দেবী দেবতা ধর্ম। এখন তোমরা জানো যে আমরা পিত্রালয়ে বসে আছি। এখন আমাদেরকে বিষ্ণুপুরীতে যেতে হবে। তোমরা জানো যে সেখানে অনেক অনেক সুখ। বিবাহের পূর্বে কন্যা ছেঁড়া ফাটা পোশাক পড়ে, যাকে বনবাস বলা হয়। তোমাদের কাছেও এখন কী আছে? কিছুই নেই। এ সবই তো হল ভাঙাচোরা জিনিসপত্র । এখানে তোমাদের গয়নাগাটি পরার আবশ্যকতা নেই। কিন্তু বলে গৃহস্থ জীবনে থাকতে হলে, বিয়ে শাদিতে যেতেও তো হয়, তাই সেটুকু পরো। তাতে মানা নেই। নইলে লোকে বলবে বিধবা, গয়নাগাটি পরে না। নাম বদনাম হবে, তাই বাবা বলেন নাম বদনাম যেন না হয়। যেটাই পরিধান করো, কিন্তু অবশ্যই নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। যেখানে যেতে হয় যাও, কিন্তু এই মন্ত্র স্মরণে রাখো। নিজের জন্য এই পরীক্ষা রাখো যে, আমি স্মরণে থাকছি কিনা। অমুক জায়গায় আমি যাচ্ছি বাবার ডাইরেকশনে। তাদের সাথেও সম্পর্ক রেখে চলতে হবে। কিন্তু অবশ্যই হাত কাজ করবে আর হৃদয়ে বাবার স্মরণ চলবে... তখনই বুঝবে যে মজবুত হয়েছ। গয়নাগাটি পরে বিয়ে শাদিতে যাও, সবার সাথে থাকো কিন্তু মহাবীর হতে হবে। সন্ন্যাসীদের ক্ষেত্রেও আছে না - গুরু শিষ্যকে পরীক্ষা করার জন্য দেহ পসারিনীর কাছে পাঠিয়ে দিলো, সাপের দিকে পাঠিয়ে দিলো। যারা সাহসের সাথে পরীক্ষায় পাশ করবে তাকেই মহাবীর বলা হবে। বাবার স্মরণে থাকলে তখন কোনো কর্মেন্দ্রিয়ই চঞ্চল হবে না। বাবাকে ভুলে গেলে তখন কর্মেন্দ্রিয় চঞ্চল হয়ে পড়বে। তোমরা বিশ্বের মালিক হতে চলেছো, এ কী কম কথা নাকি? সন্ন্যাসীদের এ'সব কথা একেবারেই জানা নেই। শাস্ত্রে হয়ত কিছু কিছু কথা আছে, কিন্তু তাকেও খন্ডন করে দিয়েছে। ভগবানুবাচ - আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাই।যতদিন বেঁচে থাকবে - জ্ঞান - অমৃত পান করতে থাকবে, শুনতে থাকবে। রাজধানী স্থাপন হয়ে যাবে। বাচ্চাদেরকে বারংবার এই শিক্ষাই দেওয়া হয় যে - এক বাবাকেই স্মরণ করো, দৈবী লক্ষণ শেখো। কোনো প্রকারের বিকর্ম যেন না হয়। এ'সব তো হল অসুরদের কাজ। এখন তোমরা দেবতা হও, তাই দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে । কাম হল সবচেয়ে বড় কাঁটা । অভ্যাস বশতঃ মাঝে মাঝে পতন হয়, মায়া থাপ্পড় মেরে হতভম্ব বানিয়ে দেয়। তবেই তো বলা হয়েছে - আশ্চর্যবৎ শুনন্তি, কথন্তি... এখন তোমরা এক বাবার'ই হয়েছো। তোমরা তো বলেও থাকো, এ সবই হল ঈশ্বরের দান। তাই তোমরা ট্রাস্টি হয়ে যাও। এ' সবই হলো ওনার, তাঁরই শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। বাবাও দেখেন আমাকে তো সব কিছু অর্পণ করে দিয়েছে, এখন বাচ্চারা আমার শ্রীমৎ অনুসারে চলতে পারে কিনা । কোনো প্রকারের উল্টো পাল্টা খরচা করে কোনো পতিত আত্মাকে দেয়না তো? প্রথমে ইনিও (ব্রহ্মা) তো ট্রাস্টি হয়ে দেখিয়েছেন, তাই না? সব কিছু ঈশ্বরকে অর্পণ করে নিজে ট্রাস্টি হয়ে গেছিলেন । (নিজের লৌকিকের) কাউকেই কিছু দেননি। ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে করেছেন, অতএব ঈশ্বরীয় কার্যেই সে'সব লাগবে। শরীর নির্বাহও করতে হতো, তাই না? যা কিছু ছিল সব সার্ভিসে নিয়োজিত করে দিয়েছিলেন। ওনাকে দেখে তখন অন্যরাও এই রকম করেছিলেন। ভাট্টি তৈরী হয়েছিল। ভাট্টি তৈরী না হলে এত এত বাচ্চারা সুবুদ্ধিসম্পন্ন কীভাবে হয়ে উঠতো সার্ভিসের জন্য? পাকিস্তানে শিখেছিল, তারপর এখানে এসে শিখলো। যখন অন্যদেরকে শেখানোর মতো নিজেরা তৈরী হল, তখন বাইরে বেরোলো। এখন তো দেখো তারা কতো প্রদর্শনী ইত্যাদি করছে। বড় বড় মানুষকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এই জ্ঞান যজ্ঞে বিঘ্নও অনেক পড়বে। বিঘ্নকে ভয় পাবে না। অবলাদের উপরে কত নির্যাতন হতে থাকে । বাবা বলেন - যোগবলে থেকে তাদেরকে বোঝাও । ভগবান বাবার সন্তান হয়ে তারপর সেই বাবাকেই কেন ভুলে যাও ! মায়ার হয়ে যাও? এও হলো হারজিতের কুস্তি। কিন্তু বক্সিং এর মতো। মায়া ঘুষি মেরে দিলে কুপোকাৎ হয়ে যায়। বাবা বলেন - মায়ার কাছে কখনো হার মানবে না। পবিত্র থাকতে পারলে বিশ্বের মালিক হতে পারবে। কতো বড়ো উপার্জন। যদি সম্পূর্ণ পুরুষার্থ না করো তবে ওখানে গিয়ে দাস দাসী হবে। পুরো রাজধানী তো এখানেই স্থাপন হচ্ছে। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) যতদিন বাঁচবে জ্ঞান অমৃত পান করে যেতে হবে। মহাবীর হয়ে মায়ার বক্সিং এ বিজয়ী হতে হবে। সকলের সাথে সম্পর্ক রেখেও হৃদয় বাবার সাথেই যুক্ত রাখতে হবে।

২ ) বিঘ্নকে ভয় পাবে না। সার্ভিসে নিজের সব কিছু সফল করতে হবে। ঈশ্বরকে অর্পণ করে ট্রাস্টি হয়ে থাকতে হবে। কোনো কিছুই উল্টো পাল্টা কার্যে নিয়োজিত করবে না।

বরদান:-
নিজের সম্পূর্ণ স্বরূপের আহ্বানের দ্বারা আবাগমনের চক্র থেকে মুক্ত হওয়া ভাগ্যশালী নক্ষত্র ভব

এখন নিজের সম্পূর্ণ স্থিতি বা সম্পূর্ণ স্বরূপকে আহ্বান করো তাহলে সেই স্বরূপ সদা স্মৃতিতে থাকবে। কখনও উঁচু স্থিতি, কখনও নিচু স্থিতিতে আসা যাওয়ার (আবাগমনের) যে চক্র চলে, বার-বার স্মৃতি আর বিস্মৃতির চক্রে আসতে থাকো, এই চক্রের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হতে চায় আর তোমরা ব্যর্থ কথা থেকে মুক্ত, ঝলমল করতে থাকা ভাগ্যবান নক্ষত্র হয়ে যাচ্ছো।

স্লোগান:-
কোনও বিঘ্নের বশ হওয়া অর্থাৎ ডায়মন্ডের উপরে দাগ লাগানো।

অব্যক্ত ঈশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও

যেরকম তোমাদের আদি স্বরূপ হলো পবিত্র দেবতা, এইরকম এই অন্তিম জন্মও হল পবিত্র ব্রাহ্মণ জীবন, এই স্মৃতির আধারে পবিত্র জীবন অতি সহজ অনুভব করো। পবিত্র হও যোগী হও - এই মহামন্ত্র হলো সর্ব প্রাপ্তির চাবি। যদি পবিত্রতা না থাকে, যোগী জীবন না হয় তাহলে অধিকারী হয়েও অধিকারের অনুভূতি করতে পারবে না। এই মহামন্ত্রই হলো সকল খাজানার অনুভূতির চাবি।