15.10.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
আত্মা আর শরীর, যা পতিত এবং কালো হয়ে গেছে, বাবার স্মরণে একে পবিত্র বানাও, কেননা
এখন পবিত্র দুনিয়াতে যেতে হবে"
প্রশ্নঃ -
ভগবান কোন্
বাচ্চাদের সঙ্গে মিলিত হন, তার জন্য বাবা কোন্ হিসাব বলেছেন?
উত্তরঃ
যারা শুরু
থেকেই ভক্তি করেছে, ভগবান তাদের সঙ্গে মিলিত হন । বাবা এই হিসাব বলেছেন যে, সবার
প্রথমে তোমরা ভক্তি করো, তাই তোমরাই প্রথমে ভগবানের দ্বারা জ্ঞান পাও, যাতে তোমরা
আবার নতুন দুনিয়াতে রাজত্ব করো । বাবা বলেন, তোমরা অর্ধেক কল্প আমাকে স্মরণ করেছো,
এখন আমি এসেছি তোমাদের ভক্তির ফল প্রদান করতে ।
গীতঃ-
তোমার পথেই
মরণ...
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা গীত
শুনেছে । কারোর যখন মৃত্যু হয় তখন বাবার কাছে জন্ম নেয় । তোমরা জানো যে, আমরা হলাম
আত্মা । সে হয়ে গেলো শরীরের কথা । এক শরীর ত্যাগ করে আবার অন্য বাবার কাছে গিয়ে
জন্ম নেয় । তোমাদের কতো সাকারী বাবা ছিলো । প্রকৃতপক্ষে তোমরা হলে নিরাকারী বাবার
সন্তান । তোমরা আত্মারা হলে পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান, তোমরা ওখানকারই অধিবাসী, যাকে
নির্বাণধাম বা শান্তিধাম বলা হয় । বাবাও ওখানেই থাকেন । তোমরা এখানে এসে লৌকিক
বাবার সন্তান হও, তখন আবার ওই বাবাকে ভুলে যাও । সত্যযুগে তোমরা সুখী হয়ে যাও, তখন
আবার এই পারলৌকিক বাবাকে ভুলে যাও । সুখে তোমরা এই বাবাকে স্মরণ করো না । দুঃখে
তোমরা স্মরণ করো, আর আত্মাই স্মরণ করে । লৌকিক বাবাকে যখন স্মরণ করে তখন বুদ্ধি
শরীরের প্রতি থাকে । ওই বাবাকে যখন স্মরণ করবে, তখন বলবে - ও বাবা, দুজনেই বাবা হলো
সঠিক অক্ষর হলো 'বাবাই'। উনিও বাবা আর ইনিও বাবা । আত্মা আধ্যাত্মিক বাবাকে যখন
স্মরণ করে, তখন বুদ্ধি ওখানে চলে যায় । এই বাবা বসে বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন । তোমরা
এখন জানো যে, বাবা এসেছেন আর তিনি আমাদের আপন করে নিয়েছেন । বাবা বলেন - আমি
সর্বপ্রথম তোমাদের স্বর্গে পাঠাই । তোমরা সেখানে অনেক বিত্তবান ছিলে তারপর ৮৪ জন্ম
গ্রহণ করে ড্রামা প্ল্যান অনুসারে এখন দুঃখী হয়ে গেছো । ড্রামা অনুসারে এই পুরানো
দুনিয়া শেষ হয়ে যেতে হবে । তোমাদের আত্মা আর শরীর রূপী বস্ত্র সতোপ্রধান ছিলো,
তারপর আত্মা গোল্ডেন যুগ থেকে সিলভার যুগে এলো, তারপর কপার যুগে এলো । এখন তোমরা
তোমাদের আত্মা সম্পূর্ণ পতিত হয়ে গেছে, তাই তোমাদের শরীরও পতিত । ১৪ ক্যারেটের সোনা
যেমন কেউ পছন্দ করে না, কালো হয়ে যায় । তোমরাও এখন কালো আয়রন যুগের হয়ে গেছো ।
এখন আত্মা আর শরীর, যা এমন কালো হয়ে গেছে, তা পবিত্র কিভাবে হবে । আত্মা পবিত্র হলে
শরীরও পবিত্র পাওয়া যাবে । তা কিভাবে হবে? গঙ্গা স্নান করলে কি? তা নয়, মানুষ ডাকতে
থাকে - হে পতিত - পাবন এসো । আত্মা যখন এই কথা বলে, তখন বুদ্ধি পারলৌকিক বাবার দিকে
চলে যায় । হে বাবা, দেখো, বাবা শব্দও কতো মিষ্টি । ভারতেই 'বাবা - বাবা' বলে থাকে ।
তোমরা এখন আত্ম - অভিমানী হয়ে বাবার হয়েছো । বাবা বলেন, আমি তোমাদের স্বর্গে
পাঠিয়েছিলাম, তোমরা নতুন শরীর ধারণ করেছিলে । তোমরা এখন কি হয়ে গেছো । এই কথা
সবসময় মনের মধ্যে থাকা উচিত । তোমাদের বাবাকেই স্মরণ করা উচিত । সবাই তো স্মরণ করে
- হে বাবা, আমরা আত্মারা পতিত হয়ে গেছি, এখন তুমি এসো, এসে আমাদের পবিত্র বানাও ।
ড্রামাতে এই পার্টও আছে, তাই তো ডাকতে থাকে । ড্রামা প্ল্যান অনুসারে তিনি আসবেনই
যখন এই পুরানো দুনিয়া নতুন হওয়ার সময় হয় । তাই অবশ্যই তিনি সঙ্গম যুগেই আসবেন ।
বাচ্চারা, তোমাদের বিশ্বাস আছে যে - বাবা হলেন অতি প্রিয় । বলাও হয় -- মিষ্টি, অতি
মিষ্টি, এখন এই মিষ্টি কে? লৌকিক সম্বন্ধে প্রথমে বাবা, যিনি জন্ম দেন । তারপর হলো
টিচার । টিচারের কাছে পড়ে তোমরা পদ প্রাপ্ত করো । জ্ঞানকে সোর্স অফ ইনকাম বলা হয় ।
জ্ঞান হলো নলেজ, যোগ হলো স্মরণ । তাই এই অসীম জগতের খবর কেউই জানে না । চিত্রে
পরিস্কার ভাবে দেখানো হয়েছে যে, শিব বাবা ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা করান। কৃষ্ণ
কিভাবে রাজযোগ শেখাবেন । রাজযোগ শেখানোই হয় সত্যযুগের জন্য । তাই অবশ্যই সঙ্গম যুগে
বাবাই শিখিয়েছিলেন । সত্যযুগের স্থাপন করান বাবা । তিনি ব্রহ্মার দ্বারা করান,
কারণ তিনি তো করাবনহার, তাই না । ওরা তো ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলে দেয়, কিন্তু উঁচুর
থেকেও উঁচু হলেন শিব, তাই না । উনি হলেন সাকার আর ইনি নিরাকার । সৃষ্টিও এখানেই ।
এই সৃষ্টির চক্রই ঘুরতে থাকে, রিপিট হতে থাকে । সূক্ষবতনকে সৃষ্টিচক্র বলা হয় না ।
এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি রিপিট হয় । এমন গায়নও আছে যে, সত্যযুগ,
ত্রেতাযুগ, দ্বাপরযুগ, কলিযুগ । মাঝে তো সঙ্গমযুগ চাই । না হলে কলিযুগকে সত্যযুগ কে
বানাবে ! নরকবাসীদের স্বর্গবাসী বানাতে বাবা এই সঙ্গম যুগে আসেন । যতো পুরানো দুনিয়া,
তত বেশী দুঃখ । আত্মা যতো তমোপ্রধান হতে থাকে, তত দুঃখী হয় । দেবতারা হলো
সতোপ্রধান । এ হলো হাইয়েস্ট অথরিটি গড ফাদারলী গভর্নমেন্ট । সাথে ধর্মরাজও আছেন ।
বাবা বলেন - তোমরা শিবালয়ে ছিলে, আর এখন হলো বেশ্যালয় । তোমরা পবিত্র ছিলে, এখন
পতিত হয়ে গেছো, তাই বলো যে, আমরা পাপী । আত্মা বলে যে, আমি নির্গুণের মধ্যে কোনো
গুণ নেই৷ কোনো দেবতার মন্দিরে গেলে তাঁর সামনে এমনই বলবে । বলা উচিত বাবার সামনে ।
তাঁকে ছেড়ে ভাইয়েদের ধরে থাকে, এই দেবতারা তো ভাই হলো, তাই না । ভাইয়েদের থেকে তো
কিছুই পাওয়া যায় না । এই ভাইয়েদের পুজো করতে করতে নীচে নেমে এসেছে । বাচ্চারা,
তোমরা এখন জানো যে - বাবা এসেছেন, তাঁর থেকে আমরা উত্তরাধিকার পাই । বাকি মানুষ তো
বাবাকে জানেই না । তারা সর্বব্যাপী বলে দেয় । কেউ আবার বলে থাকে অখণ্ড জ্যোতি
তত্ত্ব । কেউ আবার বলে, তিনি নাম রূপের থেকে পৃথক । আরে, তোমরা বলো, তিনি অখণ্ড
জ্যোতি স্বরূপ, তাহলে নাম - রূপ থেকে পৃথক কিভাবে বলো । বাবাকে না জানার কারণেই
মানুষ পতিত হয়ে গেছে । এই তমোপ্রধানও হতেই হবে । আবার যখন বাবা আসবেন, তখন তোমাদের
সবাইকে পবিত্র বানাবেন । আত্মারা নিরাকারী দুনিয়াতে সবাই বাবার সঙ্গে থাকে । তারপর
এখানে এসে সতঃ, রজঃ এবং তমঃতে পার্ট প্লে করে । আত্মাই বাবাকে স্মরণ করে । বাবা
আসেনও, তিনি এসে বলেন, আমি ব্রহ্মা তনের আধার নিই, এ হলো ভাগ্যশালী রথ । আত্মা ছাড়া
তো রথ হয়ই না । মানুষ বলে, ভাগীরথ গঙ্গাকে নিয়ে এসেছিলো। এখন এমন ব্যাপার তো হতেই
পারে না কিন্তু ওরা কিছুই বুঝতে পারে না যে, আমি কি বলছি !
বাচ্চারা, এখন
তোমাদের বোঝানো হয়েছে যে - এ হলো জ্ঞান বর্ষা । এতে কি হয়? পতিত থেকে পবিত্র হয়
। গঙ্গা - যমুনা তো সত্যযুগেও থাকে । বলা হয় যে, কৃষ্ণ যমুনার উপকূলে খেলাধুলা
করতেন । এমন কোনো কথা নেই৷ তিনি তো হলেন সত্যযুগের প্রিন্স, তাঁকে খুব সাবধানের
সঙ্গে পালনা করা হয়, কেননা তিনি তো ফুল, তাই না । ফুল কতো সুন্দর হয় । সবাই এসে
ফুলের সুগন্ধ নেয় । কাঁটার থেকে তো আর সুগন্ধ নেবে না । এখন তো হলোই কাঁটার দুনিয়া
। বাবা এসে জঙ্গলকে ফুলের বাগান তৈরী করে, তাই তাঁর নাম বাবুলনাথও রেখে দেওয়া হয়েছে
। তিনি কাঁটার থেকে ফুলে পরিণত করেন, তাই তাঁর মহিমা করা হয়, কাঁটার থেকে ফুলে
পরিণত করেন বাবা । তাই এখন তোমাদের বাবার প্রতি কতো ভালোবাসা থাকা উচিত । তোমরা এখন
জানো যে, আমরা এই অসীম জগতের বাবার হয়েছি । তোমাদের সম্বন্ধ এখন তাঁর সঙ্গেও আছে,
আবার লৌকিক বাবার সঙ্গেও আছে । পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে
। আত্মা জানে যে, সে হলো আমাদের লৌকিক বাবা আর ইনি হলেন পারলৌকিক বাবা । ভক্তি
মার্গেও আত্মা জানে যে, এ আমাদের লৌকিক বাবা আর উনি হলেন গড ফাদার । সবাই অবিনাশী
বাবাকে স্মরণ করে । সেই বাবা এসে কখন যে স্বর্গ স্থাপন করেন, এ কেউই জানে না । বাবা
আসেনই পতিতকে পবিত্র করতে । তাহলে অবশ্যই তিনি সঙ্গম যুগেই আসবেন । শাস্ত্রে তো
কল্পের আয়ু লাখ বছর লিখে দিয়ে মানুষকে সম্পূর্ণ ঘোর অন্ধকারে ফেলে দিয়েছে । বলা হয়,
যারা খুব ভক্তি করে, তারা ভগবানকে পায় । তাহলে সবথেকে বেশী ভক্তি যারা করে, তাদেরই
প্রথমে মিলিত হওয়া উচিত । বাবা হিসাবও বলে দিয়েছেন। সবথেকে প্রথমে ভক্তি তোমরা করো,
তাই তোমাদেরই সর্ব প্রথমে ভগবানের কাছে জ্ঞান পাওয়া উচিত, যাতে তোমরাই প্রথমে এসে
নতুন দুনিয়াতে রাজত্ব করতে পারো । বাচ্চারা, অসীম জগতের পিতা এসে তোমাদের জ্ঞান দান
করছেন, এতে সমস্যার কোনো কথা নেই৷ বাবা বলেন, তোমরা অর্ধেক কল্প ধরে স্মরণ করেছো।
সুখে তো কেউ স্মরণ করেই না । অন্তে যখন দুঃখী হয়ে যায়, তখন আমি এসে তোমাদের সুখী
বানাই । তোমরা এক অনেক উচ্চ মানব হও । চিফ মিনিস্টার, প্রাইম মিনিস্টারের বাংলো,
বাড়ি কতো এক নম্বর সুন্দর হয় । সমস্ত আসবাব এমনই এক নম্বর হবে । তোমরা তো কতো উচ্চ
দেবতা তৈরী হও । তোমরা দৈবী গুণ সম্পন্ন দেবতা, স্বর্গের মালিক তৈরী হও । ওখানে
তোমাদের জন্য মহলও হীরে - জহরতের হয় । ওখানে তোমাদের আসবাব সোনায় জড়ানো এক নম্বর
হবে ।
এ হলো রুদ্র জ্ঞান
যজ্ঞ । শিবকে রুদ্রও বলা হয় । ভক্তি যখন সম্পূর্ণ হয়, তখন ভগবান রুদ্র যজ্ঞ রচনা
করেন । সত্যযুগে যজ্ঞ অথবা ভক্তির কোনো কথা থাকে না । এই সময়ই বাবা এই অবিনাশী
রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করেন যার স্মরণে পরে মহিমা চলতে থাকে । ভক্তি তো সর্বদা
থাকবে না । ভক্তি আর জ্ঞান, ভক্তি হলো রাত আর জ্ঞান হলো দিন । বাবা এসে দিন তৈরী
করেন, তাই বাচ্চাদেরও বাবার প্রতি কতো প্রেম থাকা উচিত । বাবা আমাদের এই বিশ্বের
মালিক করেন । তিনি তো আমাদের অতি প্রিয় বাবা, তাই না । তাঁর থেকে প্রিয় বস্তু আর
কিছুই হয় না । তোমরা অর্ধেক কল্প ধরে স্মরণ করে এসেছো । বাবা, তুমি এসে আমাদের
দুঃখ হরণ করো । বাবা এখন এসেছেন, তিনি বোঝান - হে বাচ্চারা, তোমাদের নিজেদের গৃহস্থ
জীবনেই থাকতে হবে । এই বাবার কাছে কতোদিন বসে থাকবে । সাথে তো পরমধামেই থাকতে পারবে
। এখানে তো থাকতে পারবে না । এখানে তো জ্ঞান শিক্ষার জন্য আসে । এই জ্ঞান শিক্ষা
অল্পই ধারণ করে । লাউড স্পিকার দিয়ে কখনো পড়া হয় কি? টিচার কিভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞেস
করবে? লাউড স্পিকারে কিভাবে প্রত্যুত্তর দেবেন? তাই অল্প সংখ্যক ছাত্রকে পড়াতে হয়
। কলেজ তো অনেকই হয়, সেখানে পরীক্ষা হয় । রেজাল্ট বের হয় । এখানে তো এক বাবাই
পড়ান । তোমাদের এও বোঝা উচিত যে, বাবা হলেন দুইজন - লৌকিক আর পারলৌকিক । দুঃখে ওই
পারলৌকিক বাবাকেই স্মরণ করে । এখন সেই বাবা এসেছেন । মহাভারত লড়াইও সামনে উপস্থিত ।
ওরা মনে করে মহাভারত লড়াইয়ে কৃষ্ণ এসেছিলো, কিন্তু তা তো হতে পারে না । বেচারারা
দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে আছে । তবুও তারা কৃষ্ণ - কৃষ্ণ করতে থাকে । এখন অতি প্রিয় যেমন
শিবও, তেমনই কৃষ্ণও, কিন্তু তিনি হলেন নিরাকার আর ইনি সাকার । নিরাকার বাবা হলেন
সর্ব আত্মার বাবা । দুজনেই অতি প্রিয় । কৃষ্ণও তো বিশ্বের মালিক, তাই না । এখন
তোমরা বিচার করতে পারো যে, সবথেকে বেশী প্রিয় কে ? শিব বাবাই তো এমন উপযুক্ত করেন,
তাই না । কৃষ্ণ কি করেন? বাবাই তো তাঁকে এমন বানান, তাই না । তাই মহিমাও বেশী ওই
বাবার হওয়া উচিত । বাবা বুঝিয়েছেন - তোমরা সকলেই হলে পার্বতী । এই অমরনাথ শিব
তোমাদের কথা শোনাচ্ছেন । তোমরাই সব অর্জুন, তোমরাই হলে দ্রৌপদী । এই বিকারী দুনিয়াকে
রাবণ রাজ্য বলা হয় । ও হলো নির্বিকারী দুনিয়া । ওখানে বিকারের কথাই নেই৷ নিরাকার
বাবা কি বিকারী দুনিয়ার রচনা করবেন নাকি? বিকারেই যত দুঃখ । সন্ন্যাসীদের হলো হঠযোগ,
নিবৃত্তি মার্গ । কর্ম সন্ন্যাস তো কখনোই হয় না । এ তখনই হবে যখন আত্মা শরীর থেকে
পৃথক হয়ে যাবে । গর্ভ জেলে আত্মার কর্মের হিসাব শুরু হয়ে যায় । বাকি কর্ম
সন্ন্যাস বলা ভুল, মানুষ হঠযোগ ইত্যাদি অনেক শেখে, তারা গুহাতে গিয়েও বসে । আগুনের
উপর দিয়েও চলে । ঋদ্ধি - সিদ্ধিও অনেক করে । জাদুকরী থেকেও অনেক জিনিস করা যায় ।
ভগবানকে জাদুকর, রত্নাকর, সওদাগর বলা হয় কিন্তু ওই জাদু থেকে কেউ তো গতি - সদগতি
পেতে পারে না । সে তো একই সদগুরু এসে সবাইকে গতি - সদগতি করেন । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করেন এক অতি প্রিয় বাবা, তাঁকে খুব ভালোবেসে স্মরণ করতে হবে
। সুগন্ধী, পবিত্র ফুল হয়ে সবাইকে সুখ দান করতে হবে ।
২ ) এই জ্ঞান হলো
সোর্স অফ ইনকাম, এতে ২১ জন্মের জন্য তোমরা খুব উচ্চ মানুষ হতে পারো, তাই এই জ্ঞান
খুব ভালোভাবে পড়তে আর পড়াতে হবে । আত্ম - অভিমানী হতে হবে ।
বরদান:-
দায়িত্ব - কর্তব্য সামলে আকারী এবং নিরাকারী স্থিতির অভ্যাসের দ্বারা সাক্ষাৎকার
মূর্ত ভব
সাকার রূপে যেমন এতো
বড় দায়িত্ব থাকা সত্বেও আকারী আর নিরাকারী স্থিতির অনুভব করিয়েছিলেন, তেমনই ফলো
ফাদার করো । সাকার স্বরূপে ফরিস্তা ভাবের অনুভব করাও । যে যতই অশান্ত বা অস্থির অথবা
ঘাবড়ে গিয়ে তোমাদের সামনে আসুক না কেন, তোমাদের দৃষ্টি, বৃত্তি আর স্মৃতির শক্তি
তাদের যেন সম্পূর্ণ শান্ত করে দেয় । ব্যক্ত ভাবে আসে আর যেন অব্যক্ত স্থিতির অনুভব
করে, তবেই বলা হবে সাক্ষাৎকার মূর্ত ।
স্লোগান:-
যে
প্রকৃত দয়ালু, তার দেহ বা দেহ বোধের আকর্ষণ থাকতে পারে না ।
অব্যক্ত ইশারা :-
পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে অপকারীর উপরও উপকার করো
জ্ঞানী তুমি আত্মা
সর্বদা প্রত্যেকের প্রতি মাস্টার স্নেহের সাগর হয় । স্নেহ বিনা তার কাছে আর কিছুই
নেই । যে কেউই আসুক, তাকে স্নেহের দানই দেবে । আজকাল সম্পত্তির থেকেও বেশি স্নেহের
আবশ্যকতা । স্নেহের শক্তির দ্বারা শত্রুকেও মিত্র বানাতে পারো । অপকারীর প্রতিও
উপকার করতে পারো ।