16.02.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - প্রাণেশ্বর বাবা এসেছেন বাচ্চারা তোমাদেরকে প্রাণ দান করতে, প্রাণদান প্রাপ্ত হওয়া অর্থাৎ তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হওয়া”

প্রশ্নঃ -
ড্রামার প্রতটি রহস্যকে জানার কারণে কোন্ দৃশ্য তোমাদের জন্য নতুন নয়?

উত্তরঃ  
এই সময়ে সারা দুনিয়ার মধ্যে যে হাঙ্গামা হচ্ছে, বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি হয়ে নিজেরই কুলকে খুন করার জন্যে অনেক সাধন তৈরি করে চলেছে। এটা কোনো নতুন কথা নয়। কেননা তোমরা জানো যে এই দুনিয়া তো পরিবর্তন হবেই। মহাভারতের যুদ্ধের পরেই আমাদের নতুন দুনিয়া আসবে।

গীতঃ-
কে এসেছে আজ আমার মনের দুয়ারে...

ওম্ শান্তি ।
সকাল সকাল কে এসে মুরলী বাজাচ্ছেন? দুনিয়া তো একদমই ঘোর অন্ধকারে আছে। তোমরা এখন মুরলী শুনছো। জ্ঞান সাগর, পতিতপাবন প্রাণেশ্বর বাবার থেকে। তিনি হলেন প্রাণের রক্ষা কর্তা ঈশ্বর। বলা হয় না, যে - হে ঈশ্বর এই দুঃখ থেকে বাঁচাও। তারা লৌকিকের সহায়তা প্রার্থনা করে। এখন বাচ্চারা, তোমাদের অসীমের জগতের সহায়তা প্রাপ্ত হচ্ছে, কেননা তিনি হলেন অসীম জগতের বাবা, তাই না! তোমরা জানো যে - আত্মাও হলো গুপ্ত। বাচ্চাদের শরীর প্রত্যক্ষ । তাই বাবার শ্রীমৎ হলো বাচ্চাদের প্রতি। সকল শাস্ত্রের শিরোমণী গীতা গাওয়া হয়ে থাকে। কেবলমাত্র সেখানে শ্রীকৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। এখন তোমরা জানো যে শ্রীমৎ ভগবানুবাচ। এটাও বুঝে গেছে যে ভ্রষ্টাচারীকে শ্রেষ্ঠাচারী তৈরী করতে পারেন এক বাবা-ই। তিনি নর থেকে নারায়ণ তৈরি করেন। সত্যনারায়ণের কথাও আছে। গাওয়াও হয়ে থাকে অমরকথা। অমরপুরীর মালিক অথবা নর থেকে নারায়ণ বানানোর কথা হল একই। এটা হল মৃত্যুলোক। ভারতই অমরপুরী ছিল। এটা কারোরই জানা নেই। এখানেই অমর বাবা পার্বতীদেরকে শুনিয়েছেন। একজন পার্বতী বা একজন দ্রৌপদী ছিলেন না। এসব তো অনেক বাচ্চারা শুনছে। শিব বাবা ব্রহ্মা দ্বারা শোনাচ্ছেন। বাবা বলছেন যে, আমি ব্রহ্মার দ্বারা মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছি।

বাবা বুঝিয়েছেন, বাচ্চাদেরকে আত্ম অভিমানী অবশ্যই হতে হবে। বাবা-ই তৈরি করতে পারেন। দুনিয়াতে একটি মানুষও নেই যার মধ্যে আত্মার জ্ঞান আছে। আত্মারই জ্ঞান নেই তো পরমাত্মার জ্ঞান কিভাবে হতে পারে। বলে দেয় যে আমিই আত্মা তথা পরমাত্মা। কত বড় ভুলে সমগ্র দুনিয়া ফেঁসে আছে। একদমই পাথরসম বুদ্ধি হয়ে গেছে। বিদেশীদেরও পাথরসম বুদ্ধি কম নয়, এটা বুদ্ধিতে আসেনা যে আমরা এই যে বম্বস্ ইত্যাদি তৈরি করছি, এটা তো নিজেরও খুন, সমগ্র দুনিয়াকে খুন করার জন্য তৈরি করছি। তাই এই সময় বুদ্ধি কোনো কাজেরই নয়। নিজেরই বিনাশের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি করছে। বাচ্চারা, তোমাদের জন্য এসব কোনও নতুন কথা নয়। তোমরা জানো যে ড্রামা অনুসারে তাদেরও পার্ট আছে। ড্রামার বন্ধনে বাঁধা আছে। পাথরসম বুদ্ধি না হলে এরকম কাজ করতে পারে কি? সমগ্র কুলের বিনাশ করছে। আশ্চর্যের বিষয়, তাইনা - কি করছে! বসে বসে আজ ঠিক চলছে, কাল মিলিটারি বুদ্ধিভ্রষ্ট হলে তো প্রেসিডেন্টকেও মেরে দেয়। এইরকম-এইরকম ঘটনা প্রায়শই ঘটে চলেছে। কাউকেই সহ্য করতে পারেনা। শক্তিশালী তাই না! আজকালের দুনিয়াতে হাঙ্গামা অনেক হচ্ছে, পাথরসম বুদ্ধিও অনেক আছে। এখন বাচ্চারা তোমরা জানো যে বিনাশ কালে যারা বাবার থেকে বিপরীত বুদ্ধি হয়ে যায়, তাদের জন্য বিনশন্তী গাওয়া হয়ে থাকে। এখন এই দুনিয়ার পরিবর্তন হবে। এটাও তোমরা জানো যে বরাবর মহাভারতের লড়াই লেগেছিল। বাবা এসে রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। শাস্ত্রতে তো টোটাল বিনাশ দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু টোটাল বিনাশ তো হয় না, তাহলে তো প্রলয় হয়ে যাবে। মানুষ কেউই থাকবেনা, কেবল মাত্র পাঁচ তত্ত্ব থেকে যাবে। এরকম তো হতে পারে না। প্রলয় হয়ে গেলে তো মানুষ কোথা থেকে আসবে। দেখায় যে শ্রীকৃষ্ণ আঙ্গুল চুষতে চুষতে পিপুল গাছের পাতার উপর সাগরে ভেসে আসছেন। বালক কি করে এইরকম আসতে পারে? শাস্ত্রে এইরকম-এইরকম কথা লিখে দিয়েছে যেটার কথা জিজ্ঞাসা ক'রো না। এখন তোমাদের অর্থাৎ কুমারীদের দ্বারা এই বিদ্বানদের, ভীষ্ম পিতামহ ইত্যাদিদেরও জ্ঞান-বাণ লাগাবে। তারাও পরবর্তীকালে আসবে। যত যত তোমরা সেবার প্রতি শক্তি ভরবে, বাবার পরিচয় সবাইকে দিতে থাকবে ততই তোমাদের প্রভাব বৃদ্ধি হবে। হ্যাঁ, বিঘ্নও আসবে। এটাও গাওয়া হয়েছে, আসুরিক সম্প্রদায় কর্তৃক এই জ্ঞান যজ্ঞে অনেক বিঘ্ন পরবে। বেচারা পাথরসম বুদ্ধিযুক্ত মানুষ কিছুই জানে না যে এটা কি? বলে যে এদের জ্ঞানই হল সবকিছু থেকে আলাদা। এটাও তোমরা বুঝে গেছো যে এ হল নতুন দুনিয়ার জন্য নতুন কথা। বাবা বলছেন যে - এই রাজযোগ তোমাদেরকে আর কেউ শেখাতে পারবেন না। জ্ঞান আর যোগ বাবা-ই শেখাচ্ছেন। সদ্গতি দাতা এক বাবা-ই, তিনি-ই হলেন পতিতপাবন, তো অবশ্যই পতিতদেরকে এই জ্ঞান দেবেন তাই না! বাচ্চারা তোমরা বুঝে গেছ যে আমরা পরশ বুদ্ধি হয়ে পরশনাথ হচ্ছি। মানুষ তো মন্দির অনেক বানিয়েছে। কিন্তু তাঁরা কে, কি করে গেছেন, অর্থ কিছুই বোঝেনা। পরশনাথেরও মন্দির আছে, কিন্তু কারো জানা নেই। ভারত পারশপুরী ছিল, সোনা হিরে জহরত-এর মহল ছিল। কালকের কথা। তারা তো কেবল এক সত্য যুগের আয়ু-ই লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। আর বাবা বলছেন যে - সমগ্র ড্রামা-ই হল ৫ হাজার বছরের, এইজন্য বলা যায় যে - আজকের ভারত কি হয়ে গেছে! কালকের ভারত কি ছিল! লক্ষ বছরের কথা তো কারো স্মৃতিতে থাকতে পারে না। বাচ্চারা, তোমাদের এখন এই স্মৃতি প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা জানো যে, বাবা প্রত্যেক ৫ হাজার বছর পর এসে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন। বাচ্চারা তোমরা স্বর্গের মালিক ছিলে। ৫ হাজার বছরের কথা। কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা যায়, এই লক্ষ্মী নারায়ণের রাজ্য কবে ছিল? কত বছর হয়েছে? তো লক্ষ বছর বলে দেবে। তোমরা বোঝাতে পারো যে এটা তো হলো ৫ হাজার বছরের কথা। বলা হয় যে যীশু খ্রীস্টের থেকে এত সময় পূর্বে এই ভারত স্বর্গ ছিল। বাবা আসেনই ভারতে। এটাও বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে - বাবার জয়ন্তী পালন করা হয় তো অবশ্যই কিছু করার জন্য এসেছেন। তিনি হলেন পতিতপাবন, তাই অবশ্যই তাঁকে এসে পবিত্র করতে হয়। তিনি জ্ঞানের সাগর তো অবশ্যই জ্ঞান প্রদান করবেন, তাই না। যোগে বস, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো, এটাই হলো জ্ঞান তাই না। তারা তো হল হঠযোগী। পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকে। আরো কি-কি সব করতে থাকে। মাতারা তোমরা তো এইরকম করতে পারবে না। বসতেও পরবে না। বাবা বলেন যে - মিষ্টি বাচ্চারা, এসব কিছুই তোমাদের করার দরকার নেই। স্কুলে ছাত্ররা নিয়ম-শৃঙ্খলা অনুসারে বসে তাই না। বাবা তো সেটাও করতে বলছেন না। যেরকম ইচ্ছা সেরকমই বসো। বসে বসে ক্লান্ত হয়ে যাও, তো আচ্ছা শুয়ে পড়ো। বাবা কোনও কথাতে মানা করেন না। এসব তো একদমই সহজ বোঝার বিষয়, এতে কোনো পরিশ্রমের কথা নেই। যদি শরীর অসুস্থ হয়ে থাকে। জানা নেই শুনতে শুনতে শিব বাবার স্মরণে থাকাকালীন প্রাণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বলা হয় না যে, গঙ্গার তীর হবে, গঙ্গার জল মুখে থাকবে, তখন যেন শরীর থেকে প্রাণ বেরিয়ে যায়। সেসব তো হল ভক্তি মার্গের কথা। বাস্তবে এটি হল জ্ঞান অমৃতের কথা। তোমরা জানো যে, সত্যি-সত্যিই এইরকম ভাবে প্রাণ বেরিয়ে যাবে। বাচ্চারা, তোমরা পরমধাম থেকে এখানে এসেছ। আমাকে ছেড়ে চলে এসেছ। বাবা বলেন যে, আমি তো বাচ্চাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাব। আমি এসেছি বাচ্চারা তোমাদেরকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তোমাদের এখন না নিজের ঘরের কথা জানা আছে, না আত্মার বিষয়ে জানা আছে। মায়া একদমই তোমাদের ডানা কেটে দিয়েছে, এই জন্য আত্মা উড়তে পারে না কেননা তমোপ্রধান হয়ে গেছে। যতক্ষণ সতোপ্রধান না হয় ততক্ষণ শান্তিধামে কিভাবে যেতে পারে! এটাও জানে যে ড্রামার প্ল্যান অনুসার সবাইকে তমোপ্রধান হতেই হয়। এই সময় সমস্ত বৃক্ষ একদমই তমোপ্রধান ক্ষনভঙ্গুর হয়ে গেছে। বাচ্চারা জানে যে সকল আত্মারা এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। নতুন দুনিয়া হয়ই সতোপ্রধান। এখানে কারো সতোপ্রধান অবস্থা হতে পারে না। এখানে আত্মা পবিত্র হয়ে গেলে তো এখানে থাকতেই পারবে না, একদম পালিয়ে যাবে। সবাই ভক্তি করেই মুক্তিতে যাওয়ার জন্য অথবা শান্তিধামের যাওয়ার জন্য। কিন্তু কেউই ফিরে যেতে পারে না। নিয়ম তা বলেনা। বাবা এই সব রহস্য বসে বোঝাচ্ছেন ধারণ করার জন্য, তবুও মুখ্য কথা হলো বাবাকে স্মরণ করা, সদর্শন চক্রধারী হওয়া। বীজকে স্মরণ করার সাথে সাথে সমস্ত বৃক্ষ বুদ্ধিতে এসে যায়। বৃক্ষ প্রথমে ছোট হয় তারপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। অনেক ধর্ম আছে তাই না। তোমরা এক সেকেন্ডে জেনে যাও। দুনিয়াতে কারোরই এসব বিষয় জানা নেই। মানুষ সৃষ্টির বীজরূপ হলেন সকলের এক বাবা। বাবা কখনো সর্বব্যাপী হতে পারেন নাকি ! বড় থেকেও বড় ভুল হলো এটা। তোমরা বোঝাতেও থাকো, মানুষকে কখনো ভগবান বলা যায়না। বাবা বাচ্চাদেরকে সমস্ত কথা সহজ করে বোঝাচ্ছেন তবুও যাদের ভাগ্যে আছে, নিশ্চয় আছে তো তারা অবশ্যই বাবার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই না হলে তো কখনোই বুঝতে পারবে না। ভাগ্যতেই নেই তো পুরুষার্থ কি করবে। ভাগ্যতে নেই তো তারা বসেই এমন ভাবে যে কিছুই বুঝতে পারেনা। এতটাও নিশ্চয়ই নেই যে বাবা এসেছেন অসীম জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য। যেরকম কোনও নতুন ব্যক্তি মেডিকেল কলেজে গিয়ে বসে তো কী বুঝবে? কিছুই না। এখানেও এইরকম এসে বসে। এই অবিনাশী জ্ঞানের বিনাশ হয় না। এটাও বাবা বুঝিয়েছেন - রাজধানী স্থাপন হচ্ছে তাই না! তাই চাকর-বাকর, প্রজা সব চাই। প্রজাদেরও চাকর-বাকর সবকিছুই চাই তাই না। তো এইরকমও আসবে। কারো কারো তো খুব ভালো ভাবে বোধগম্য হয়ে যায়। নিজেদের মতামতও লিখতে থাকে, তাই না। পরবর্তীকালে কিছু উন্নতি করার প্রচেষ্টা করবে। কিন্তু এই সময় অসম্ভব হবে, কেননা ওই সময় তো অনেক হাঙ্গামা হবে। দিন দিন ঝড় তুফান (ঝামেলা) বৃদ্ধি হতে থাকবে। এত সেন্টার আছে। অনেকে ভালো ভাবে বুঝবেও। এটাও লেখা আছে যে - ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা। বিনাশও সামনে দেখতে থাকবে। বিনাশ তো হবেই। সরকার থেকে বলা হয় যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা হোক কিন্তু এর দ্বারা কি-ই বা করা যাবে? বৃক্ষের বৃদ্ধি তো হবেই। যতক্ষণ বাবা আছেন ততক্ষণ সকল ধর্মের আত্মাদেরকে এখানে থাকতেই হবে। যখন যাওয়ার সময় হবে তখন আত্মাদের আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন তো সকলকে এখানে আসতেই হবে। কিন্তু এই কথা কেউই বুঝবে না। বাপুজীও বলতেন যে এটা হলো রাবণ রাজ্য, আমাদের রামরাজ্য চাই। বলে যে অমুক ব্যক্তি স্বর্গবাসী হয়েছেন এর মানে হল যে এটা এখন নরক তাই না। মানুষ এতটাও বোঝেনা। স্বর্গবাসী হয়েছে তো ভালোই হয়েছে তাই না। অবশ্যই নরকবাসী ছিল। বাবা বোঝাচ্ছেন মানুষের চেহারা মানুষের মতই কিন্তু চরিত্র বাঁদরের মতো। সবাই গাইতে থাকে যে পতিত-পাবন সীতারাম। আমরা হলাম পতিত, পবিত্র করেন বাবা। তারা সবাই হলো ভক্তি মার্গের সীতা। বাবা হলেন রাম। কাউকে সোজাভাবে বলো তো মানবে না। রামকে আহ্বান করে। এখন বাচ্চারা তোমাদেরকে বাবা তৃতীয় নেত্র দিয়েছেন। তোমরা যেন অন্য এক দুনিয়ার হয়ে গেছো। পুরানো দুনিয়াতে কি সব করতে থাকতে। এখন তোমরা বুঝে গেছো। বাচ্চারা তোমরা অবুঝ থেকে বুঝদার হয়েছো। রাবণ তোমাদেরকে কতোই অবুঝ বানিয়ে দিয়েছে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে, এই সময় সকল মানুষ তমোপ্রধান হয়ে গেছে, তবেই তো বাবা এসে সতোপ্রধান বানাচ্ছেন। বাবা বলছেন যে যদিও বাচ্চারা তোমরা নিজেদের সেবা করতেও থাকো, কেবল একটা কথা স্মরণে রাখো - বাবাকে স্মরণ করো। তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হওয়ার রাস্তা আর কেউ বলে দিতে পারবে না। সকলকে আধ্যাত্মিক ডাক্তার হলেন একজনই। তিনি এসে আত্মাদেরকে ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন কেননা আত্মাই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। বাবাকে অবিনাশী ডাক্তার বলা যায়। এখন আত্মা সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়েছে, এর ইঞ্জেকশন চাই। বাবা বলছেন যে, বাচ্চারা নিজেকে আত্মা নিশ্চিত করো আর নিজের বাবাকে স্মরণ করো। বুদ্ধির যোগ উপরের দিকে যুক্ত করো। বেঁচে থেকেও ফাঁসির মতো ঝুলতে থাকো অর্থাৎ বুদ্ধির যোগ সুইট হোমে যুক্ত করো। আমাকে সুইট সাইলেন্স হোমে যেতে হবে। নির্বাণ ধামকে সুইট হোম বলা যায়। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই পুরানো দুনিয়া বিনাশ হয়েই পড়ে আছে, এইজন্য এর থেকে নিজেকে আলাদা মনে করতে হবে। বৃক্ষের বৃদ্ধির সাথে সাথে যে বিঘ্ন বা তুফান আসে, তাকে ভয় পেও না, পার হতে হবে।

২ ) আত্মাকে সতোপ্রধান বানানোর জন্য নিজেকে জ্ঞান যোগ এর ইঞ্জেকশন দিতে হবে। নিজের বুদ্ধির যোগ সুইট হোমে যুক্ত রাখতে হবে।

বরদান:-
“প্রথমে আপনি” এই পাঠের দ্বারা মুকুটধারী হওয়া চতুরসুজান ভব

যেরকম বাপদাদা নিজেকে ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট বলে থাকেন, সার্ভেন্ট বলাতে মুকুট ধারী স্বতঃ হয়ে যান, এইরকম তোমরা বাচ্চারাও স্বয়ং নম্রচিত্ত হয়ে অন্যদেরকে শ্রেষ্ঠ সীট দিয়ে দাও, অন্যদেরকে সীটে বসালে তো তারা নেমে গিয়ে তোমাদেরকে স্বতঃই বসিয়ে দেবে। যদি তোমরা বসার চেষ্টা করো তাহলে তারা বসতে দেবে না, সেইজন্য অন্যকে বসানোই হলো নিজের বসা। তো “আগে আপনি” র পাঠ পাক্কা করো তাহলে সংস্কারও সহজেই মিলে যাবে, মুকুটধারীও হয়ে যাবে, এটাই হলো চতুরসুজান হওয়ার উপায়, এতে পরিশ্রমও নেই আর প্রাপ্তিও বেশী।

স্লোগান:-
অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য অন্তর্মুখী, একান্তবাসী হও।

অব্যক্ত ঈশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও

এখনও পর্যন্ত আলাদা আলাদা ফুল নিজ নিজ রঙের বাহার দেখাচ্ছে কিন্তু যখন ফুলদানীতে একগুচ্ছ ফুলের রূপে নিজেদের সুগন্ধী ছড়িয়ে দেবে, শক্তিদল প্রত্যক্ষ হবে তখন এই সংগঠনের শক্তি পরমাত্ম প্রত্যক্ষতার নিমিত্ত হবে। এখন আলাদা আলাদা থাকার কারণে পরিশ্রম বেশী করতে হয় কিন্তু যখন সংগঠন একমত হবে তখন পরিশ্রম কম সফলতা বেশী হবে।