16-08-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
16-03-2011 মধুবন
"মন্সা দ্বারা প্রকৃতিকে সতোগুণী বানানোর সেবা করো।
শুভ ভাবনা ও শুভ কামনা রেখে সংস্কার মিলনের রাস করো এবং নিজের পুরনো সংস্কারকে
পুড়িয়ে প্রভুর সঙ্গের রঙ লাগিয়ে সত্যিকারের হোলি উদযাপন করো।
"আজ হোলিয়েস্ট বাবা তাঁর বাচ্চাদের সাথে হোলি উদযাপন করতে এসেছেন। তোমরা সবাই হোলি
উদযাপন করতে এসেছো এবং চারদিকের দূরে বসে থাকা বাচ্চারাও দূর থেকেই এই হোলি
উদযাপনের জন্য তৈরি হয়ে বসে আছে। তোমরা সবাই কোন রঙের হোলি খেলতে এসেছো? তোমরা জানো,
সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রঙ হলো পরমাত্ম সঙ্গের রঙ। এই রঙ সর্বদা আত্মাকে শ্রেষ্ঠ থেকে
শ্রেষ্ঠতর ক'রে তোলে। যেমন বাবা হলেন উঁচু হতে উঁচু, তেমনই এই পরমাত্ম-সঙ্গের রঙও
আত্মাকে উঁচু হ'তে উঁচু বানায়। বাবা প্রতিটি বাচ্চার মস্তকে ভাগ্যের দীপ্তিমান
নক্ষত্র দেখছেন। সমগ্র কল্পে তোমরা ভাগ্যবান বাচ্চারা ছাড়া ভাগ্যের এই নক্ষত্র আর
কেউ প্রাপ্ত করতে পারে না। তোমাদের সেই শ্রেষ্ঠ ভাগ্য হলো - তোমরা বাচ্চারাই ডবল
পবিত্র অর্থাৎ হোলি হয়ে ওঠো। এমনিতে দুনিয়াতে ধর্মাত্মা বা সাধু-সন্ন্যাসীরা আছে,
কিন্তু তারা শরীরের দিক থেকে পবিত্র হতে পারে না। তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মার ভবিষ্যৎ
আত্মাও পবিত্র হয় এবং শরীরও পবিত্র হয়। এর প্রতীক হিসেবে তোমরা ডবল পবিত্রতার জন্য
ডবল মুকুট লাভ করো। সমগ্র কল্পের মধ্যে এই সঙ্গমযুগেই তোমরা বাবার সঙ্গের রঙের
দ্বারা ডবল পবিত্র হও। সঙ্গমযুগের পরমাত্ম-সঙ্গ ডবল পবিত্র বানায়। তাই তোমাদের হোলি
হলো বাবার সাথে থাকা, বাবাকে নিজের সাথে 'কম্বাইন্ড' করে রাখা, এতে তোমরা ডবল
পবিত্র হয়ে যাও। হৃদয়ে সদা বাবার সঙ্গ থাকে। এই রঙ কত শ্রেষ্ঠ যে তোমাদের এত
শ্রেষ্ঠ বানায়! লোকে তো স্থূল রঙ দিয়ে হোলি খেলে, কিন্তু তোমরা বাবার সঙ্গের রঙে
স্বয়ং পবিত্র হোলি হয়ে ওঠো। তাও আবার ডবল হোলি! তাই তোমাদের হোলি এই দুনিয়া থেকে
সম্পূর্ণ আলাদা এবং পরমাত্মার অত্যন্ত প্রিয়। তো তোমাদের এই নেশা থাকে তো না যে,
প্রভুর সঙ্গের রঙের কারণে তোমরা অর্ধেক কল্প এমন পবিত্র থাকো যে, আজও পর্যন্ত
তোমাদের চিত্র নিয়ম মেনে পুজো করা হয়। অন্য কারও চিত্র এত প্রেম ও বিধি অনুসারে পুজো
করা হয় না। তোমরা নিজেরাই নিজেদের সেই চিত্রগুলো দেখছ। অন্যান্যদেরও পূজন হয়, কিন্তু
এত সময় আর এমন বিধিপূর্বক পূজা হয় না। তোমরা সদা উৎসাহ আর উদ্দীপনায় থাকো। থাকো তো
না? কখনো কখনো থাকো, নাকি সদা? যারা বলো, আমরা সর্বদা উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাকি এবং
অন্যকেও উৎসাহ-উদ্দীপনার অনুপ্রেরণা দিই, তারা হাত তোলো। কখনো কখনো নয়, সদা। 'সদা'
শব্দকে আন্ডারলাইন করো তো না! তোমাদের অলৌকিক স্থিতি যেরকমই ছিল, ভক্তরা তারই
স্মারকচিহ্ন উৎসব হিসেবে পালন করে। তোমরা প্রভুর সঙ্গের রঙ লাগিয়েছো, তাই তারাও রঙ
লাগায়; কিন্তু যেহেতু তারা বডি কনশাস তাই স্থূল রঙ লাগায়। যে রঙে খরচও অনেক এবং
রেজাল্টও কখনো ভালো বা কখনো মন্দ ভাবেই পালন করে। কিন্তু তোমাদের উৎসাহের স্মারক
রূপে তা' উৎসব হিসেবে অবশ্যই পালিত হয়। তোমরা পরমাত্মার হওয়ার জন্য প্রথমে নিজেদের
পুরনো সংস্কারকে পুড়িয়ে দাও এবং তারপর প্রভুর সঙ্গের রঙে রঙিন হয়ে সদা উৎসব উদযাপন
করতে থাকো। তারাও প্রথমে দহন করে, তারপর হোলি উৎসব পালন করে, কিন্তু তোমাদের উদযাপন
করা আর তাদের পালন করার মধ্যে দিন-রাতের তফাৎ আছে। তারা বডি কন্সাস, আর তোমরা
আত্ম-অভিমানী। তারা দেহবোধে, তোমরা আত্মিক বোধে।
তোমাদের প্রতি বাপদাদার নির্দেশ হ'লো - হোলি অর্থাৎ যা অতীত তা অতীত। লোকেরা মুখে
বলে 'হো লি' (যা হওয়ার ছিল তা হয়ে গেছে), কিন্তু এর বাস্তব অর্থ প্র্যাকটিক্যালি
প্রয়োগ করতে পারে না। তোমরা সবাই হো লি অর্থাৎ অতীতকে অতীত ক'রে দাও। করো তো না!
নাকি কখনো কখনো করো? কেননা, অতীতকে মনে রাখলে মনে অনেক ব্যর্থ সংকল্প চলতে থাকে।
সময়ও ব্যর্থ চলে যায়। যে পুরনো সংস্কারগুলো রয়েছে, সেগুলো না চাইতেও যখন চলতে থাকে,
তখন এই সঙ্গমযুগের এক-একটি মিনিট - যা এক জন্মে আগামী ২১ জন্মের প্রালব্ধ তৈরি করে,
সেই এক-একটি সংকল্প এবং এক-একটি মিনিট কত ভ্যাল্যুয়েবল! এক সেকেন্ড নষ্ট হওয়া মানে
অনেক জন্মের প্রালব্ধে তফাৎ হয়ে যাওয়া। বাপদাদা আগেও বলেছেন, সঙ্গমযুগের সময় এবং
সংকল্প কখনো ব্যর্থ হতে দিও না। যদি সদা প্রভুর রঙে রঙিন থাকো অর্থাৎ বাবাকে সর্বদা
নিজের সাথী বানিয়ে রাখো, তবে সঙ্গমযুগের প্রতিটি মিনিট ও সংকল্পকে সফল করতে পারবে।
তো নিজেকে চেক করো - প্রতিটি মিনিট ও সংকল্প সফল হচ্ছে কিনা! নাকি ব্যর্থও হয়ে যায়?
কেননা, এক মিনিট নয়, ২১ জন্মের কানেকশন প্রতিটি মিনিট এবং প্রতিটি সঙ্কল্পের। এতই
ভ্যাল্যু রয়েছে। তো নিজের হৃদয় দিয়ে ভাবো এত ভ্যাল্যু সর্বদা মনে থাকে! এই সঙ্গমের
সময়ের জন্য বলা হয়েছে - এখন নয়তো কখনো নয়। এত ভ্যাল্যু যেন সদা স্মৃতিতে থাকে। তো
তোমরা সবাই আজ হোলি উদাযাপন করেছ অর্থাৎ সদা বাবার সঙ্গের রঙ লাগিয়েছ। তো সারাদিন
চেক করেছো বাবার রঙ লাগানো ছিল কি না? পরমাত্ম সঙ্গে থেকেছ, নাকি সময় বা সঙ্কল্প
অন্য কোথাও গেছে? চেক করেছো? কাঁধ নাড়াও, হাত নয়, এরকম করো।
বাপদাদা সর্বদা ইশারা দিয়ে থাকেন যে, নিজের মনের শুভ সতোগুণী সঙ্কল্প দ্বারা
প্রকৃতিকেও সতোগুণী বানাতে থাকো। তো সেই মন্সা সেবা কি স্মরণে থাকে? কারণ এখন
প্রকৃতি বড় আকারে নিজের কার্য করতে চলেছে। এখন তো এগুলো ছোটখাটো ব্যাপার, কিন্তু
মনুষ্যাত্মা যখন প্রকৃতিকে কষ্ট দেয়, সেও তখন মানুষকে কষ্ট দিতে শুরু করে। তাইতো
বাবা বলেন, যেমন মায়াজিত হওয়ার জন্য অ্যাটেনশন রাখো তোমরা, রাখো তো তাই না! তো তেমন
প্রকৃতিজিতও হতে হবে। মায়ার কাছে তোমাদের প্রতিজ্ঞা আছে তোমার কাজ হলো আসা আর
আমাদের কাজ হলো বিজয় প্রাপ্ত করা। সবাই করেছনা প্রতিজ্ঞা? করেছো? মায়াজিৎ হতে হবে
তো না! এরকমই প্রকৃতিজিতও হতে হবে। কেননা, তোমাদের রাজত্ব করতে হবে, তাইনা! তোমাদের
রাজত্ব আসছে, এই নেশা আছে তো না! লোকে তো অসহায়, ভাবে কী হবে! ভয় পায়।
কিন্তু তোমরা জানো যে এখন সঙ্গমযুগের অমৃতবেলা চলছে। তো অমৃতবেলার পর কী আসে? নতুন
সকাল। সেই সকালেই আমাদের রাজ্য আসবে। নেশা আছে তো না! আমাদের রাজ্য কি শুধু
মহারথীদের জন্য? তোমাদের সবার রাজ্য। তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই, যা হবে খুব ভালো
হবে। তোমাদের রাজ্যে প্রকৃতিও সতোপ্রধান হবে। তাহলে এই প্রকৃতিকে তমোগুণী থেকে
সতোগুণী কে বানাবে? নাকি প্রকৃতি যেমনই হোক চলবে? তোমাদের রাজত্বে চলবে? চলবে? হ্যাঁ
বলো অথবা না বলো। চলবে না? তাহলে প্রকৃতিকে সতোগুণী কে বানাবে? তোমরা নিজেরাই বানাবে
তো না! হঠাৎ হওয়ার প্রথম দৃশ্য ছোট, এটা এখন শুরু হয়েছে। সামনে আরও বড় বড়ো পরিস্থিতি
আসবে, হঠাৎ করেই আসবে। যা কেউ ভাবেনি, তাই ঘটবে।
বাপদাদা অনেক আগে থেকেই আকস্মিকতার পাঠ পড়িয়েছেন। এখন তার প্রত্যক্ষ রূপ দেখে নিজের
কাজ শুরু করো। ঘাবড়ে যেও না। কাহিনী শোনানো হয় যে, চারদিকে আগুন লেগেছে কিন্তু
পরমাত্মার বাচ্চারা সেফ ছিল। তো এখনো তোমরা বাচ্চারা সেফ আছ তো না! পেপার তো আসবেই,
কিন্তু তোমাদের ডবল কাজ করতে হবে - এক, নির্ভীক হয়ে মোকাবিলা করা এবং দুই, নিজের
ভক্ত ও দুঃখী ভাই-বোনেদের সেবা, এটাও কে করবে? তোমাদের সকলের প্রভুর সঙ্গের রঙ
লেগেছে, তো পরমাত্মার সঙ্গের রঙে যা কিছু প্রাপ্ত করেছো তা' নিজের দুঃখী
ভাই-বোনেদের এবং ভক্তদের খুব ভালোবেসে মন থেকে বিলিয়ে দাও। দুঃখের সময়ে কে স্মরণে
আসে? তারা পরমাত্মাকে বুঝুক বা না বুঝুক তবুও নিরুপায় হয়ে হলেও তারা বলবে - 'হে বাবা,
হে পরমাত্মা'। তো তোমরা সব পরমাত্ম-বাচ্চাকে এখন দুঃখীদের অবলম্বন হতে হবে। শুভ
ভাবনা ও শুভ কামনার দ্বারা বাবার থেকে প্রাপ্ত হওয়া কিরণ দ্বারা তাদের ভরসা হয়ে
দাঁড়াও। তবুও তোমাদের পরিবার তো আছেই, তাই না! তো পরিবারে একে অপরকে সহযোগিতা করো
তো না! তাই নামই হলো সহ-যোগ শ্রেষ্ঠ যোগ। ভরসা দেওয়ার এটাই মাধ্যম। সন্দেশও (বার্তা)
পাঠানো হয়েছিল সময় ফিক্স করার জন্য। এমনিই হয়ে যাবে না - যেমন ট্রাফিক কন্ট্রোল বা
অমৃতবেলা নির্দিষ্ট আছে, সেইজন্য তোমরা করো তো না। তেমনই নিজের কর্মের পাশাপাশি এই
মন্সা সেবাও বর্তমান সময়ের নিরিখে অত্যন্ত আবশ্যক। তাই সময় বের করো, হৃদয়বান হও।
কল্যাণকারী হও। তোমাদের স্বমান কী? বিশ্ব কল্যাণকারী। তাহলে কি দয়া বা করুণা আসে?
নাকি ভাবছ হয়ে যাবে? এ' ব্যাপারে আসাবধান হয়ো না, কারণ যাদের তোমরা সকাশ দেবে,
তারাই তোমাদের ভক্ত হবে। তাই কী করতে হবে? অ্যাটেনশন থাকে কি? যারা মনে করো আমাদের
অ্যাটেনশন আছে এবং আরও বাড়বে, তারা হাত তোলো। তোমাদের হাত নিচে-ওপরে হচ্ছে, এখানে
দেখা যাচ্ছে (টিভি-তে)। যদি তোমরা সকলে নিজের এই স্বমানকে প্র্যাক্টিক্যালে নিয়ে আসো,
তবে আত্মারা এখনও এই সঙ্গমযুগেই তোমাদের উদ্দেশ্যে হৃদয়ের গান গাইবে - বাহ্ পরমাত্ম
বাচ্চারা বাহ্! আমাদের আশ্রয় দিয়েছ। তোমাদের এই মুহূর্তের আশ্রয়ের জন্য তারা অর্ধেক
কল্প ধরে তোমাদের মহিমার গান গাইতে থাকবে। তোমরা তাদের পূর্বজ হয়ে যাবে। তোমরা
পূর্বজ। বৃক্ষের কোথায় বসে আছে ব্রাহ্মণ? নিচে বসে আছ তো না! সুতরাং পূর্বজ তো হলেই!
ভক্তদের ডাক শুনতে পাও তোমরা? নিজেদের একটু সচেতন করো; দুঃখীদের অবলম্বন হতেই হবে,
তাহলেই তাদের আকুল ডাক শুনতে পাবে।
তাহলে তো সবাই হোলি উদযাপন করেছো। তোমাদের জন্য তো সমগ্র সঙ্গমযুগই হোলি। পরমাত্মার
সঙ্গের রঙেই তোমরা সদা মগ্ন থাকো। তারা তো স্মারক হিসেবে এক-দু'দিন পালন করে, কিন্তু
তোমরা তো পুরো সঙ্গমযুগ প্রভুর সঙ্গে থাকো। এই নেশা আছে তো না! সাধারণ মানুষ তো
বেচারা কেবল চাইতেই থাকে - হে প্রভু এটা করে দাও, ওটা করে দাও। কিন্তু তোমরা ২১
জন্মের গ্যারান্টি পেয়েছ; স্বপ্নেও কখনো কোনও দুঃখের দৃশ্য আসবে না। সংকল্পেও
দুঃখের তরঙ্গ আসবে না। সুতরাং, সদা প্রত্যেকে যদি রাজ্যভার নিতে চাও, তবে এখনই
নিজের পরিবার, সত্যযুগের সঙ্গী, রাজকীয় প্রজা ও সাধারণ প্রজা - সব এখনই তৈরি করে
নিতে পারো। ২১ জন্মের গ্যারান্টি রয়েছে। সামান্য সেবা করো, সময় বের করো, কারণ
তোমাদের কাছে সংকল্প শক্তি তো আছেই। শুধু বাবার থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছে, তা' নিজের
ভাই- বোনেদেরও দাও।
বাপদাদা আগেও বলেছিলেন, সদা নিজের এটা চেক করো ব্রাহ্মণ পরিবারের মধ্যে সংস্কার
মিলনের রাস কীভাবে করতে হয় জানো কিনা! বাপদাদা বলেছিলেন, রাসের ডেটও ফিক্স করতে,
সেই রাস কবে করবে? ডেট ফিক্স হতে পারে? প্রথম লাইনের তোমরা বলো। হাত তোলো। হতে পারে?
পাণ্ডবও তোলো। পাণ্ডব ব্যতীত গতি নেই। আচ্ছা। তো এখন লাস্ট টার্ন, একটা টার্ন রয়ে
গেছে। আগামী টার্নে প্রত্যেকে নিজের জন্য কী দৃঢ় সঙ্কল্প আছে তা' ফিক্স ক'রে লিখে
জানাবে। কত সময় লাগবে যাতে ব্রাহ্মণ পরিবারে কোথাও কখনো কোনো পুরানো সংস্কার নিজের
কার্য না করে!
তা' আমার নিজের সংস্কার হোক বা অন্যের সংস্কার কোনো কিছুই যেন আমার ওপর প্রভাব না
ফেলে। এই ডেট ফিক্স করা সম্ভব? হতে পারে? হাত তোলো। আচ্ছা সবার ফটো তোলা হয়েছে।
কেননা, যেমন এই আকস্মিকতার সীন দেখেছোনা (জাপানে ভূমিকম্প এবং সুনামি হয়েছিল যাতে
অনেক ক্ষতি হয়েছে) তেমনই সব আকস্মিকই হওয়ার আছে। সেইজন্য বাপদাদা প্রস্তুতি দেখবেন
তো না! যখন অন্যদের প্রতি শুভ ভাবনা ও শুভ কামনা ব্যক্ত করছ, বাপদাদা দেখেছেন যে
তোমরা অন্যদের সেবা করার এই প্রোগ্রামটিও তৈরি করেছিলে; যদি প্রতিটি আত্মার প্রতি
সর্বদা শুভ ভাবনা এবং শুভ কামনা রাখো - তাহলে নম্বর ক্রমে তো হতেই হবে। তোমাদের
স্মরণিক মালায় সবাই কি এক নম্বরে আছো? নম্বরক্রমে রয়েছ, কিন্তু মালায় তো গাঁথা আছো
না! নম্বর কেন পেলে? ভিন্ন ভিন্ন সংস্কার রয়েছে কিন্তু সংস্কার দেখার পরিবর্তে
আমাদের শুভ ভাবনা ও শুভ কামনা বজায় রাখতে হবে। সবকিছুর শেষেও ব্রাহ্মণ পরিবার তো
না! যেমনই হোক, পরিবার তো আমারইনা! যেমন আমার বাবা বলো, তেমনই আমার পরিবার। তো ভালো,
মেজরিটি হাত তুলেছে। সকলের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে বলেই তো হাত তুলেছেনা! সুতরাং
একে অপরের সহযোগী হয়ে শুভ ভাবনা ও শুভ কামনার দৃষ্টি, বৃত্তি এবং স্মৃতি বজায় রাখলে
এই রাস হওয়া কোনো বড় ব্যাপার নয়। এক্ষেত্রে যে খুব ভালো নম্বর নেবে এবং ডেটে (নির্দিষ্ট
সময়ে) প্র্যাক্টিক্যাল করে দেখাবে, সে একটি স্বতন্ত্র এবং সুন্দর উপহার পাবে। উপহার
এখন বলব না। কিন্তু বাপদাদা উপহার দেবেন। কেন? সেবা করার জন্য সময় বের করতে হবে তো
না! সংস্কারের এই খিটখিটানি সময়কে নিজের দিকে টেনে নেয়, সেইজন্য এখন সময়ের প্রয়োজন
রয়েছে। ঠিক আছে তো না!
এরা সবাই মধুবনবাসী, তাইনা!(প্রথম সারিতে যারা বসে আছে তাদের দেখে বাবা বলছেন)
পছন্দ হয়েছে তো না? কারণ মধুবনবাসীরা বিশেষ। বাপদাদারও মধুবনবাসীদের প্রতি অন্তরের
ভালোবাসা রয়েছে। আর মধুবনবাসীদেরও আছে। বাবা এটাও বলেন যে বাবার প্রতি ভালোবাসা আছে
এবং থাকবে। এটা মুছে যেতে পারে না। এর মধ্যে অমরত্ব রয়েছে। তবেই তো মধুবনবাসী হয়েছনা!
মধুবনবাসী যেখানেই যাক না কেন, তাদের কোন রিগার্ডের সাথে দেখে? এরা মধুবনের, এরা
মধুবনের। সুতরাং এই অ্যাটেনশন রাখতে হবে, লাস্ট টার্নের আগে সবাই যেন মধুবনে নিজের
জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থান বা আসন নিশ্চিত করতে পারো, যেখানে নিজের নাম লেখা
চিরকুট জমা দিতে পারো। কিন্তু লাস্ট টার্নের আগে।
সবাই হোলি উদযাপন করেছো? তোমাদের তো রোজই হোলি। এখনও তোমাদের বাইরে কিছুটা পালন করতে
হয়। কোথায় উদযাপন করতে যাবে? এখানেই তো উদযাপন করবে। কিন্তু ওটা হলো রীতিনীতি ও
প্রথা। সুতরাং চারদিকের বাপদাদার অত্যন্ত স্নেহী, অত্যন্ত প্রিয়, আদরের, হারানিধি
এবং স্বমানধারী সব বাচ্চাকে বাপদাদা পদ্মগুণ স্মরণের স্নেহ-সুমনও দিচ্ছেন এবং
হৃদয়ের স্নেহাদরও দিচ্ছেন। বাপদাদা দেখছেন চতুর্দিকে সবাই শুনে দেখে আনন্দিত হচ্ছে।
আচ্ছা। আজ প্রথমবার কারা এসেছো? ওঠো। এরা সবাই প্রথমবার এসেছে। আচ্ছা। প্রথমবার
মধুবন নিবাসী হওয়ার ভাগ্য প্রাপ্ত হয়েছে। তোমাদের সমস্ত ভাই-বোন এবং বাপাদাদাও
তোমাদের সবাইকে প্রথমবার আসার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এখন বাপদাদা দেখবেন, কেননা
এখনও চান্স আছে, কিছুটা দেরিতে এসেছো কিন্তু যে চাও সে এখনও লাস্ট সো ফাস্ট গিয়ে
ফার্স্ট নম্বর নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে আসতে পারো। আজ যারা এসেছ, সেইসব বাচ্চার জন্য
এটি বাপদাদার বরদান। বাবার যে মহাবাক্য রয়েছে, শুধু সেই শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকলে
শ্রীমৎ তোমাদের শ্রেষ্ঠ ডিভিশনে নিয়ে আসতে পারে এবং নিয়ে আসবে। এত বড় পরিবারের
দ্বারা তোমাদের সবার জন্য বরদান তো বাবারই, কিন্তু শুভ ভাবনা ও শুভ কামনা রয়েছে যে
তোমরা যতটা এগিয়ে যেতে চাও, ততটা এগিয়ে যেতে পারো। সবাই তোমাদের মন থেকে আশীর্বাদ
দেবে। যেখানেই যাবে, সেখানে তোমরা আশীর্বাদ পেতে থাকবে এবং সেই আশীর্বাদ তোমাদের
তীব্র পুরুষার্থী বানিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এই নিশ্চয় রাখো। আচ্ছা।
বরদান:-
সব সঙ্কল্প এবং কর্মে সিদ্ধি অর্থাৎ সফলতা প্রাপ্ত
ক'রে সম্পূর্ণ মূর্ত ভব
সঙ্কল্পের সিদ্ধি তখন প্রাপ্ত হবে যখন শক্তিশালী
সঙ্কল্পের রচনা করবে। যারা অধিক সঙ্কল্পের রচনা করে তারা সেগুলো পালন ক'রে উঠতে পারে
না। সেইজন্য যত বেশি রচনা হয় ততো শক্তিহীন হয়। তো আগে ব্যর্থ রচনা বন্ধ করো, তবেই
সফলতা প্রাপ্ত হবে আর কর্মে সফলতা প্রাপ্ত করার যুক্তি হ'লো - কর্ম করার আগে আদি
মধ্য অন্তকে জেনে তারপরে কর্ম করো। এর দ্বারাই সম্পূর্ণ মূর্ত হয়ে যাবে।
স্লোগান:-
সময়কালে দুঃখ আর প্রবঞ্চনা থেকে রক্ষা পেয়ে যে সফল
হয় সেই জ্ঞানী (সমঝদার)।
অব্যক্ত ইশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত ক'রে
সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও তোমরা সব হোলিহংস বাচ্চার আহারও শুদ্ধ ব্যবহারও শুদ্ধ
হবে, অশুদ্ধির লেশমাত্র থাকা উচিত নয়। কেননা, তোমরা শুদ্ধ দুনিয়ায় যেতে চলেছ, যেখানে
অপবিত্রতা বা অশুদ্ধির লেশমাত্র নেই। যখন এমন হোলিহংস হবে তখন ভবিষ্যতে হিজ হোলিনেস
বলা হবে। বিশেষ সূচনাঃ-মাসের তৃতীয় রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সব
ভাইবোন সংগঠিতরূপে একত্রিত হয়ে সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত নিজের পরম পবিত্র
স্বরূপে স্থিত হয়ে পবিত্রতার দিব্য কিরণ ছড়িয়ে দিয়ে সকল আত্মাকে 'পবিত্র হও যোগী হও'
- এর কল্যাণকারী প্রেরণা সকাশ রূপে দেওয়ার সেবা করুন।