17-05-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
11-02-2010 মধুবন
‘‘শিবের জন্ম দিবসে ক্রোধরূপী আকন্দ ফুল বাপদাদাকে
অর্পণ ক'রে দর্পণ হও, পবিত্র প্রবৃত্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা প্রত্যক্ষতা সমীপে
নিয়ে এসো"
আজ, বাচ্চারা সবাই সমুখে ব'সে এবং দেশ বিদেশে ব'সে বাচ্চারা চতুর্দিকে খুব খুশির
সাথে বাবার এবং নিজেদের জন্মদিন উদযাপনের অনেক অনেক কল্যাণময় শুভেচ্ছা, অভিনন্দন
জ্ঞাপন করছে। তোমরা সমুখে বসে আছ আর দূর দূর থেকে সায়েন্সের সাধন দ্বারা সব বাচ্চা
পরম আনন্দে হৃদয়ের অভিনন্দন জানাচ্ছে। তোমরা সবাই যারাই এখানে এসেছ তারা বাবার
জন্মদিন উদযাপন করতে এসেছ, নাকি নিজেদের জন্মদিনও উদযাপন করতে এসেছো? কেননা, এই
জয়ন্তী বিচিত্র জয়ন্তী। কেন বিচিত্র? বাবা আর বাচ্চাদের একসাথে জয়ন্তী। সমগ্র কল্পে
এমন জয়ন্তী হয়ই না, সমগ্র কল্পে চক্কর লাগিয়ে এসো, এটা বিচিত্র জয়ন্তী। তো বাপদাদা
সব বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করছেন, তোমরা সবাই বাবাকে শুভ ভাবনা দিতে এসেছ, নাকি বাবার
থেকে কল্যাণকারী ভাবনা নিতে এসেছো? বাপদাদা একলা কিছু করেন না। কেননা, জন্ম নেওয়ার
সাথে সাথেই তিনি যজ্ঞ রচনা করেছেন। তো যজ্ঞে ব্রাহ্মণ প্রয়োজন, তাইতো তোমাদেরও জন্ম
বাবার সাথে হয়েছে। এর স্মৃতিচিহ্ন রূপে শিবরাত্রি ভক্তিতেও উদযাপন করে, সেইসঙ্গে
শালগ্রাম-এরও পূজা হয়। অনেকানেক শালগ্রামের পূজা করে। তো এই জয়ন্তী ওয়াণ্ডারফুল
জয়ন্তী, সেইজন্য এই জয়ন্তীকে হিরেতুল্য জয়ন্তী বলা হয়ে থাকে। তো বাপদাদা তাঁর পদম
পদম গুন মাল্যভূষিত বাহুর মাঝে অবস্থিত সব সাথি বাচ্চাকে পদম পদম গুন অভিনন্দন
জানাচ্ছেন। এটাও বাবা আর বাচ্চাদের হৃদয়ের অতি ভালোবাসার লক্ষণ। বাপদাদা বাচ্চাদের
কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তিনি তোমাদের সাথে থাকবেন, সাথে যাবেন। তো বলো, তোমরা সব
বাচ্চারও প্রতিজ্ঞা রয়েছে বাবার কাছে, তাই না! নাকি সঙ্গমে তোমরা সাথে আছ! সাথে সাথে
থাকতেও হবে, সেইসঙ্গে বিশ্বসেবাতেও। থাকতেও হবে সাথে, উড়তে হলেও একসাথে। তাহলে বলো,
তোমাদেরও প্রতিজ্ঞা আছে তো না যে সাথে থাকবে, সাথে যাবে আর ব্রহ্মা বাবার সাথে
বিশ্বে রাজত্ব করবে! প্রতিজ্ঞা আছে? পাক্কা প্রতিজ্ঞা আছে? এই বিশেষত্ব এই শিব
জয়ন্তীর।
অমৃতবেলা থেকে বাপদাদা দেখেছেন যে ভিন্ন ভিন্ন স্থানের বাচ্চারা খুবই খুশির সাথে
অভিনন্দন ও কল্যাণময় শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছিল। এখন তো তোমরা সমুখে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনও করছ
আর গ্রহণও করছ। দেওয়া আর নেওয়া একসাথে। ভগবানের কত ভাগ্যবান বাচ্চা তোমরা, যারা
সমুখে বার্থ ডে উদযাপন করছ। সবার মুখ প্রসন্নময়, মনে হচ্ছে খুশিতে উড়ছে। একদিকে
বাপদাদা বাচ্চাদের ভাগ্য দেখছেন, আরেকদিকে ভক্তদেরও দেখছেন। তারা এখনো পর্যন্ত
আর্তস্বরে ডাকছে এসো, আর এখানে তোমরা সাথে থেকে উদযাপন করছ। বাপদাদা দেখেছেন
ভক্তদের অনুভূতিও কিছু কম নয়। তোমরা যা প্র্যাকটিক্যালি করছ, তারই স্মৃতিচিহ্ন রূপে
কত ভালোভাবে বিধিপূর্বক তা' পালন করছে। তোমরা ব্রত ধারণ করেছ, তাইতো তারাও ব্রতের
স্মারকচিহ্ন বানিয়েছে। তারা একদিন অথবা অল্প সময়ের জন্য ব্রত পালন করে। তোমরা কোন
ব্রত ধারণ করেছো? সবাই বাবার সামনে ব্রত ধারণের দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়েছ তো না! তোমরা
বাবার কাছে খুশি খুশি ব্রত নিয়েছ যে বাবা আমরা এই পুরো জন্মের জন্য, ব্রাহ্মণ
জন্মের জন্য ব্রত ধারণ করবো, ব্রত ধারণ করেছ তো না! কোন ব্রত? পবিত্রতার। এক জন্মের
ব্রত নিয়েছ, কিন্তু এক জন্মের পবিত্রতার ব্রত ২১ জন্ম চলবে। তারা অল্প সময়ের জন্য
ভোজনপান আর জাগরণের কাজ করে। কিন্তু তোমরা এখনের এক জন্মেই জাগরণ দ্বারা অর্থাৎ
অন্ধকার থেকে তোমরা আলোতে এসে গেছ আর এই জাগরণও তোমাদের ২১ জন্ম চলবে। সারা বিশ্বে
তোমরা এমন জাগরণ করেছ যে তোমাদের জাগরণ দ্বারা বিশ্ব জাজ্জ্বল্যমান জ্যোতি (জীবন্ত
দেবশক্তি) হবে। কোনও দুঃখ অশান্তির অন্ধকার থাকবে না। তাহলে বলো, তোমরা কে সমগ্র
বিশ্বকে অন্ধকার থেকে আলোতে এনেছ, এই অসীম ব্রত ভালো লাগে? পরিশ্রম লাগে না তো? সহজ,
নাকি কঠিন? সহজ লাগে! যাদের সহজ লাগে তারা হাত তোলো। কখনো কখনো মুস্কিল মনে হয় না?
কখনো হয়? না। কেননা, তোমরা জানো যে পবিত্রতা তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। সেইজন্য
পবিত্রতা শুধু ব্রহ্মচর্য নয়, বরং মন-বচন-কর্ম, সম্বন্ধ-সম্পর্কেও পবিত্রতা।
পবিত্রতার সংস্কার তোমরা সহজভাবে ধারণ ক'রে থাকো। তো পবিত্রতার সঙ্কল্প তো করেছ,
কিন্তু এখন সময় অনুসারে বাপদাদা সময়ের ওয়ার্নিং দিচ্ছেন, তো মনোবল বজায় রেখে তোমরা
পবিত্রতার ব্রত নিজেদের স্বধর্ম মনে ক'রে ধারণ করেছ, অপর যে ভূত রয়েছে সেটা ক্রোধ,
তো বাপদাদা আজ এটা জিজ্ঞাসা করছেন যে এক মহাভূতের ব্রত নিয়ে বৃত্তি বদলেছ, কিন্তু
আরেকটা যে ভূত আছে ক্রোধের, সেই ক্রোধের ভূতের ওপরে বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে, এই
সঙ্কল্পও করেছ কি? নাকি দ্বিতীয় বিকার সেইজন্য সম্মতি আছে? কেননা, ক্রোধ সবার
কানেকশনে আসে। তো আজকের দিনে, যখনই জন্মদিন উদযাপন করছ তখন একে অপরকে গিফ্টও দিয়ে
থাকো তোমরা। তো আজ বাপদাদা এটাই চান যে যেভাবে সাহস আর বাবার সহায়তায় মেজরিটি প্রথম
নম্বরে জিত প্রাপ্ত ক'রে এগিয়ে চলছে, তাহলে কি সেভাবেই ক্রোধের ওপরেও জিত হতে পারে?
কেননা, যে কোনো ভূত হয়রান তো করে আর ক্রোধের ভূত অন্যের কানেকশনে আসে। সম্পর্কে আসে।
নিজের মনেও যখন ক্রোধ আসে তখন নিজেও ক্রোধে দিশেহারা হয়। তো বাবার বার্থ ডে উদযাপন
করতে এসেছ, তো ভারতের হোক বা ফরেনের, আজ বাপদাদা সব বাচ্চার থেকে গিফ্ট হিসেবে
ক্রোধ নিতে চান। হতে পারে এটা? হতে পারে? যে মনে করে আজকের দিনে বাবাকে গিফ্টে দিতে
পারো, মনেও থাকবে না, স্বপ্নেও থাকবে না, এমন সঙ্কল্প নিয়ে সাহসের সাথে নিজেকে এগিয়ে
নিয়ে চলার শক্তি তার আছে! আছে শক্তি? যারা সাহসের সাথে বাবার কাছে সঙ্কল্প করতে পারো
এবং করবে তারা বাবার থেকে গিফ্ট নেবে। গিফ্ট হিসেবে দাও আর বাবার থেকে গিফ্ট নাও।
যদি ক্রোধের উপরে জিতে যাও তবে অন্যদের উপরেও জয়ী হওয়ার সাহস আসবে। তো তোমরা কা'রা
মনে করো যে আমরা এই গিফ্ট দিয়ে বাবার থেকে গিফ্ট নেবো? তারা হাত উঠাও। আচ্ছা, তোমরা
ভালো করেই পতাকা নাড়াচ্ছ। কুমারীরাও সতর্ক থেকো।
বাচ্চাদের সাহস দেখে বাপদাদার খুব ভালো লাগছে। তোমরা সীন দেখছো তো না! ফটো তোলো
তারপরে হাত তোলো। হ্যাঁ ফটো তোলো সকলের। রোজ অমৃতবেলায় যখন তোমরা মিলন উদযাপন করতে
আসো, সাহসের কারণে বাপদাদা সেই সময় তোমাদের সহজভাবে বিশেষ অনুভাবী আত্মা হওয়ার
শুভময় ভাবনা দেবেন। কেননা, এত সবাই একত্রে থাকে! নিজের নিজের স্থানেও তোমরা থাকো,
তো লোকে দেখবে যে তোমরা সবাই এত সংখ্যক একসাথে থাকো, আর পারিবারিক সংসার সামলাও,
ঘর-পরিবার ছেড়ে যাওনি, বরং পবিত্র পরিবার তৈরি করেছ। তাহলে কী হবে? তোমাদের সকলের
মধ্যে শুভ ভাবনা আছে, আত্মাদের যেন ক্যু লেগে যায়, সেই ক্যু-তে তোমরা নজরে আসবে।
ক্রোধ তো প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায়! যখন তারা প্র্যাকটিক্যালি দেখবে, এরা যে শুধু
পবিত্রতার কথা বলে তা' নয়, বরং পবিত্র থেকে সেটা ক'রে দেখায়। তোমরা প্রত্যক্ষতা চাও,
তো এটাই প্রত্যক্ষ প্রমাণ। এর দ্বারা সবাই আকৃষ্ট হয়ে আপনা থেকেই আসবে। বাবা কি
বলবেন তোমাদের 'কিন্তু'র ব্যাপারে? আরও শোনাবেন? ক্রোধ আসার কারণ রূপে দেখা গেছে
মেজরিটির কোথাও না কোথাও ঈর্ষার সাথে সাথে তোমরা যা কিছু দেখছ তার সাথে চলতে চলতে
ওয়েস্ট থটসের বীজ ক্রোধ নিয়ে আসে, কারণ ওয়েস্ট থটসই বীজ। এই বীজ থেকে ক্রোধও উৎপন্ন
হয় আর এর জন্য একটা শব্দ নিমিত্ত হয়, সেই এক শব্দের বীজকে যদি শেষ ক'রে দাও তবে সহজ
হয়ে যাবে। সেই এক শব্দ 'কেন', এটা কেন, এটা কেন হয়েছে? কেন সে এটা করে? এই 'কেন'
শব্দের সাথে বড় ক্যু আছে। আর দেখ, ক্যু অক্ষর যদি ইংলিশে লেখ তবে কত কঠিন লাগে লিখতে।
যদি 'এ' লেখো, কত সহজ! তো বাপদাদা আজ এটাই চান যে এই 'কেন' শব্দের ক্যু শেষ করো। তো
আজ তোমাদের সবার এই আশা - এখন তাড়াতাড়ি বাবার প্রত্যক্ষতা হোক, প্রত্যেকের হৃদয়ে
বাবার স্নেহের ফ্ল্যাগ, ঝাণ্ডা যেন আন্দোলিত হয় এবং হৃদয় গীত গায়। হৃদয় গীত গায়
আমাদের বাবা এসে গেছেন। মিষ্টি বাবা এসে গেছেন। এটাই চাও তো না যে তাড়াতাড়ি
প্রত্যক্ষতার ঝাণ্ডা সবার হৃদয়ে আন্দোলিত হোক! এর কারণ কেন, কি, কীভাবে এই ক-ক এর
ভাষা, এটা শেষ করো, আর যদি তোমরা 'ক' বলতে চাও তাহলে বলো কামাল (চমৎকার)। ক-ক ক'রো
না। যখন বাপদাদা বাচ্চাদের বোর্ডিং খুলেছিলেন, এটা পাকিস্তানের কথা। আদিতে জগৎ অম্বা
বাচ্চাদের এটাই বলতেন, সুতরাং ক-ক এর ভাষা উচ্চারণ ক'রো না। কে বেশি ক- ক করে? সেটা
ভালো লাগে তোমাদের? তো এখন কিউঁ কিউঁ-র (কেন-কেন) ক্যু লাগিও না। হাঁ জী, আচ্ছা জী,
খুব ভালো, আমরা মিলেমিশে করবো, উড়বো এরকম বোল বলো। ভাষা পরিবর্তন করতে পারো? ক-ক নয়,
এই কিউঁ(কেন) ছেড়ে দাও তাহলে ওই ক্যু লেগে যাবে।
দেখ, শিবের ওপরে আকন্দ ফুলই চড়ে। তো আজ তোমরা শিবরাত্রি উদযাপন করছ, শিবের জন্মদিন
উদযাপন করছ, তোর সবাই তোমরা ক্রোধরূপী আকন্দ ফুল বাপদাদাকে অর্পণ ক'রে দাও, তাহলে
তোমরা দর্পণ হয়ে যাবে। পছন্দ হয়েছে তো না! পছন্দ হয়েছে? আচ্ছা। তো বাপদাদা আবার
হোলিতে আসবেন, তখন রেজাল্ট নেবেন। ক্লান্ত হয়ে যেও না। এটা হয়নি। নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে
করো, করতেই হবে। তাছাড়া, হাত উঠিয়েছ, হাত উঠানো অর্থাৎ বাবাকে দিয়ে দিয়েছ। দিয়েছ তো
না! আবার হাত উঠাও। দাদিরা তোমরা দেখছ? তালি বাজাও। কখনো মনোবেল হারিও না। যদি কখনো
সামান্যও কম হয় তবে পরে ছেড়ে দিও না। মনোবল রেখে নিরন্তর এগিয়ে চলো। বাপদাদা
কম্বাইন্ড, তোমরা বলো তো না! সাথে আছেন এটা বলো না, তোমরা বলো কম্বাইন্ড। যদি
কিছুমাত্র হয়, বাপদাদা তো কম্বাইন্ড, সেরকম সময়ে তাঁকে সামনে এনেছ সেই কমতি অর্পণ
ক'রে দাও। কিন্তু বাপদাদা চান যে সব বাচ্চা নম্বর ওয়ান হোক, অর্পিত জিনিস আমানত হয়ে
গেছে। হাত উঠিয়েছ অর্থাৎ দিয়েছো, সুতরাং এখন আর তোমার নেই। আমানত সেটা। তো যদি
সঙ্কল্পে আসেও তবে জানবে আমানতে বিশ্বাসভঙ্গ হওয়া জঘন্য অপরাধ হিসেবে মানা হয়।
অর্পিত জিনিস কখনো ফিরিয়ে নেওয়া যায় না, কেননা সেটা আমার নয়।
তো আজ বাপদাদা চতুর্দিকে দেখছেন যারা ওখানে বসে সবাই খুশি খুশি স্ক্রিনে দেখছে আর
সঙ্কল্পও করছে, তো মধুবন কিংবা সব সেন্টার কী হবে? তারা কী হবে? সব সেন্টার্স
নির্বিঘ্ন ভব-র বরদানী হয়ে যাবে। পছন্দ হয়েছে তো না! পছন্দ? কেননা, বাপদাদা জানেন
যে সরকমস্ট্যান্স এমন হবে যা দুঃখ আর অশান্তির কারণে আত্মাদের জন্য তোমাদের সকলের
দয়ার উদ্রেক হবে, কেননা, তোমরা পূর্বজ, তোমরা পূজ্য। তো পূর্বজ কেউই আত্মার দুঃখ বা
ডিস্টার্বেন্স দেখতে পারে না, যার প্রতি ভালোবাসা থাকে, করুণার উদ্রেক হয় তার দুঃখ
দেখতে পারে না। তো বাবা মনে করেন যে, সময় তোমাদের পরিবর্তন করার আগে তোমরা
পুরুষার্থের প্রাপ্তির প্রালব্ধ এখন থেকে অনুভব করো। কারণ সময় তোমাদের শেখাবে না,
সময় তোমাদের টিচার নয়। তো হোলিতে প্রত্যেকে নিজস্ব রেজাল্ট বেশি লম্বা লিখবে না,
পড়ার ফুরসৎ হয় না। কিন্তু বাপদাদা আগেও তোমাদের বলেছেন যে, তোমরা যেমন বরদানের
চিরকুট পাওনা, কত ছোট হয়! সেরকম ছোটতে শুধু ও.কে. লিখো। ও. কে. শব্দ লিখবে। যদি
তোমাদের পুরুষার্থ করতে করতে তোমাদের কিছু ভুল হয়ে যায় তবে ও.কে.র মাঝখান বরাবর
লাইন টেনে দিও। এটা ইজি তো না! এত কাগজ ওয়েস্ট ক'রো না। যদি এটা বেশিবার হয় তখন একটা
ক'রে লাইন বাড়িয়ে দিও - একবার দু'বার তিনবার। আর হোলির আগে মধুবনে পাঠিয়ে দিও।
একত্র ক'রে পাঠিও, টিচারদের পাঠানো উচিৎ হবে। তারপরে বাপদাদার কাছে পৌঁছে যাবে। এই
ব্যাপারে নম্বর ওয়ান কে? তারপরে বাপদাদা তোমাদেরকে হৃদয়ের পদম পদম গুন স্নেহের
উপহার দেবেন। আচ্ছা।
ডবল ফরেনার্স আছ তো না! হাত উঠাও। নম্বর নেবে তো তোমরা, তাই না! দেখব, ফরেনের তোমরা
নম্বর নেবে নাকি যারা ভারতের! এটা ভালো। বাপদাদা তো সবাইকে প্রার্থী হিসেবে দেখেন
না, বরং বাবার আশা পূরণকারী বাবার আশার দীপক রূপে দেখতে চান। মধুবন কী করবে?
মধুবনের তোমরা হাত উঠাও। নিচে ওপরে সব মধুবন। ওপরের তোমরাও লম্বা ক'রে হাত উঠাও।
নাড়াও। আচ্ছা। মধুবনের তো উচিৎ নম্বর নেওয়া। নেওয়া উচিৎ তো না! উচিৎ নেওয়া? কারণ
মধুবনকে সবাই খুব তাড়াতাড়ি কপি করে। তো সেটা ভালো। আচ্ছা - এইবারে যারা প্রথমবার
এসেছ তারা উঠে দাঁড়াও।
চতুর্দিকে, যারা কম্বাইন্ড থাকে তারা দেখছেও, শুনছেও কিন্তু যারা শুনছে না, তারা
সবাই মুরলীর দ্বারা তো শুনবেই। তো চতুর্দিকে বাবার স্নেহি সহযোগী মিষ্টি মিষ্টি অতি
প্রিয় বাচ্চাদেরকে বাপদাদা পদম পদম গুন কল্যাণময় শুভ ভাবনাও দিচ্ছেন, অভিনন্দনও
জানাচ্ছেন। আর সেইসঙ্গে প্রত্যক্ষতার ঝাণ্ডা শীঘ্রাতিশীঘ্র নাড়ানোর সঙ্কল্পও
দিচ্ছেন। সময়ের ওপরে নির্ভর ক'রো না। সময়কে টিচার বানিও না, বাবা তোমাদের বাবা,
শিক্ষক ও সদ্গুরু, তাইতো তোমাদের জগদম্বা সেভাবেই করেছেন - দুটি শব্দে নম্বর
নিয়েছেন। বাবা বললেন আর জগৎ অম্বা করলেন। এমনই তীব্র পুরুষার্থ করেছেন আর নম্বর
নিয়েছেন। তোমরা সবাই মানো তো না, তো তোমরাও ফলো করো মাদার জগৎ অম্বাকে। আচ্ছা। সবাই
স্মরণ-স্নেহ আর হৃদয়ের আশিস স্বীকার করো। সেইসঙ্গে বাবা বাচ্চাদের মালিকভাব দেখে
নমস্কার করছেন।
বাপদাদা সমস্ত জোনকে বলেছেন উত্তরাধিকারী এবং মাইকের - প্রভাবশালী মাইকের লিস্ট বের
করতে, যাদের অনুভব শুনে যেন প্রেরণা জাগে যে আমরাও এরকম হই, যে কোনো কাউকে তারা যেন
স্যাটিসফাই করতে পারে। সব জোন লিস্ট পাঠাও। তো আজ বাপদাদা দেখেছেন যারা দিল্লির তারা
লিস্ট পাঠিয়েছে। বাপদাদা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তো সব জোন যখন পাঠাবে তখন তোমাদেরও
রেজাল্ট শোনাবেন কত উত্তরাধিকারী তৈরি হয়েছে। চেকিং করাবেন, এমন নয় যে লিস্ট এসেছে
তো তিনি মেনে নেবেন। গুপ্ত চেকিং করাবেন। তো আচ্ছা, আদিতেও অভিনন্দন আর কল্যাণময়
শুভেচ্ছা প্রাপ্ত হয়েছে, এখনও বাপদাদা একেক বাচ্চার নাম নিয়ে হৃদয়ের পদম পদম গুন
অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বাবার কাছে বতনে তো সব বাচ্চার চিত্র ইমার্জ রয়েছে। তো বাপদাদা
বাচ্চাদের বার্থ ডে উদযাপন করেছেন আর বাচ্চারা বাবার বার্থ ডে উদযাপন করেছে, উভয়
পক্ষকে অভিনন্দন। আচ্ছা।
বরদান:-
সবাইকে রিগার্ড দিয়ে নিজের রেকর্ড ঠিক রেখে সকলের
স্নেহী ভব
যে যত সবাইকে রিগার্ড দেয় সে নিজের রেকর্ড ততই ঠিক
রাখতে পারে। অন্যের জন্য রিগার্ড বজায় রাখাই নিজের রেকর্ড বানানো। যেমন যজ্ঞের
সহায়ক হওয়া সহায়তা নেওয়া, তেমনই রিগার্ড দেওয়াই রিগার্ড নেওয়া। একবার দেওয়া মানেই
অনেকবার নেওয়ার অধিকারী হয়ে যাওয়া। সাধারণতঃ, বলা হয়ে থাকে বড়দের রিগার্ড দাও আর
ছোটদের ভালোবাসা। কিন্তু যে সবাইকে বড় মনে ক'রে রিগার্ড দেয়, সে সকলের স্নেহি হয়ে
যায়। সেইজন্য সব বিষয়ে 'আগে তুমি' - এই পাঠ পাক্কা করো।
স্লোগান:-
বাপদাদার থেকে পাওয়া শিক্ষা সময়মতো স্মরণে আসাই
তীব্র পুরুষার্থ।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল অনড় একরস স্থিতির অনুভব
করো যারা অলরাউন্ড সার্ভিস করে তাদের বিশেষভাবে এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে,
পরিস্থিতি যেমনই হোক নিজের স্থিতি যেন একরস থাকে। তবেই সফলতা লাভ হবে। শ্রীমতে যখন
মনমত, দেহ অভিমান বোধের মত, শূদ্রভাবের মত মিক্স করো তখন স্থিতি একরস থাকে না। মন
যদি ভিন্ন ভিন্ন রসে থাকে তবে স্থিতিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। একই রসে যদি থাকো তবে একরস
স্থিতি হবে। বিশেষ সূচনা : মাসের তৃতীয় রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার,
সব ভাইবোন সংগঠিত ভাবে একত্রিত হয়ে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত নিজের
পূর্বজ ও পূজ্য স্বরূপের স্বমান দ্বারা সম্পূর্ণ কল্প বৃক্ষকে নিজের শুভ ভাবনা ও
শুভ কামনার শক্তিশালী কিরণ দেওয়ার সেবা করুন।