17.06.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
সূর্যবংশী রাজ্য পদ নেওয়ার জন্য নিজের সব কিছু বাবার কাছে সমর্পণ করো, সূর্যবংশী
রাজ্য পদ অর্থাৎ এয়ারকন্ডিশন টিকিট”
প্রশ্নঃ -
এই দুনিয়ায়
বাচ্চারা তোমাদের চেয়ে ভাগ্যবান আর কেউ নয় - কীভাবে?
উত্তরঃ
বাচ্চারা
তোমাদের সম্মুখে বাবা আছেন। তাঁর কাছ থেকে তোমরা অসীম জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকার
প্রাপ্ত করছো। তোমরা এই সময় অসীম জগতের বাবা, টিচার ও সদ্গুরুর নিজ হয়ে তাঁর কাছ
থেকে অসীম জাগতিক প্রাপ্তি করছো। দুনিয়ার মানুষ তো তাঁকে জানেনা তাহলে তোমাদের মতন
ভাগ্যবান হবে কীভাবে!
গীতঃ-
কতো না
ভাগ্যবান....
ওম্ শান্তি ।
ব্রাহ্মণ
কুলভূষণ বাচ্চারা জানে যে এখন আমরা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়েছি পরে দৈবী
সম্প্রদায়ের হবো। বাচ্চাদের বাবা বসে বোঝান - যখন অসীম জগতের বাবা সম্মুখে রয়েছেন
এবং তাঁর কাছে থেকে অসীম জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে, বাকি আর কি চাই।
ভক্তি মার্গ কবে আরম্ভ হয়েছে সে কথা কেউ জানেনা। ভক্তিমার্গের ভক্তরা ভগবানকে কিম্বা
ব্রাইডসরা ব্রাইডগ্রুমকে স্মরণ করে। কিন্তু আশ্চর্য যে তাঁকে জানেনা। এমন কখনও কেউ
দেখেনি যে সজনী নিজের সাজনকে জানেনা। তা নাহলে স্মরণ করে কীভাবে। ভগবান তো হলেন
সকলের পিতা। বাচ্চারা নিজের পিতাকে স্মরণ করে। কিন্তু পরিচয় না থাকার দরুন স্মরণ
ব্যর্থ হয়ে যায় তাই স্মরণ করলে কোনো লাভ হয় না। স্মরণ করতে করতে কেউ সেই এইম
অব্জেক্টকে প্রাপ্ত করে না। ভগবান কে, তাঁর কাছ থেকে কি প্রাপ্ত হবে। কিছুই জানেনা।
এতগুলি ধর্ম খ্রীষ্ট, বৌদ্ধ ইত্যাদি ধর্ম স্থাপকদের তাদের ফলোয়ার্সরা স্মরণ করে
কিন্তু স্মরণ করলে কি প্রাপ্ত হবে, সে কথা জানেনা। এর চেয়ে তো জাগতিক জগতের পড়াশোনা
করা ভালো। এইম অবজেক্ট তো বুদ্ধিতে থাকে। বাবার কাছ থেকে কি প্রাপ্ত হয়? টিচারের
কাছ থেকে কি প্রাপ্ত হয়? এবং গুরুর কাছ থেকে কি প্রাপ্ত হয়? এইসব কথা অন্য কেউ বুঝতে
পারেনা। তোমরা এখানে বাবা, টিচার ও সদ্গুরুর নিজের হও। বাবা ও টিচারের চেয়ে গুরুর
স্থান উচ্চে । বাচ্চারা, এখন তোমাদের নিশ্চয় হয়েছে যে আমরা বাবার হয়েছি। বাবা
আমাদের ৫ হাজার বছর পূর্বের মতন এসে স্বর্গের মালিক করছেন অথবা শান্তিধামের মালিক
করছেন। বাবা বলেন - প্রিয় বাচ্চারা, তোমরা আমার কাছে স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত করবে
তাইনা ! সবাই বলে, হ্যাঁ বাবা নিশ্চয়ই নেবো। আচ্ছা - চন্দ্রবংশী রাম পদ প্রাপ্ত করতে
রাজি আছো তোমরা? তোমরা কি চাও? বাবা সওগাত নিয়ে এসেছেন। তোমরা সূর্য্যবংশী লক্ষ্মীকে
বরণ করবে নাকি চন্দ্রবংশী সীতাকে? তোমরা নিজের চেহারা তো দেখো। শ্রী নারায়ণকে বা
শ্রী লক্ষ্মীকে বরণ করার উপযুক্ত হয়েছো? যোগ্যতা না থাকলে বরণ করবে কীভাবে? এখন বাবা
বসে বোঝাচ্ছেন - হুবহু যেমন কল্প পূর্বে বোঝানো হয়েছিল পুনরায় তেমনই বোঝাচ্ছেন ।
তোমরা আবার এসে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো। তোমাদের এইম অব্জেক্ট হলো অসীম জগতের
বাবার কাছ থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা। প্রথম হলো সূর্যবংশী পদমর্যাদা,
দ্বিতীয় নম্বরে হলো চন্দ্রবংশী। যেমন এয়ারকন্ডিশন, ফার্স্টক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস থাকে
। অতএব এখন বাবা বলছেন - তোমরা এয়ার কন্ডিশনের সূর্যবংশী রাজ্য পদ নেবে বা
চন্দ্রবংশী ফার্স্টক্লাসের রাজ্য? তার চেয়েও কম তো সেকেন্ড ক্লাসে নম্বর অনুসারে
উত্তরাধিকারী হও তো তোমরা পরে এসে রাজ্য পদ পাবে। তা নাহলে থার্ড ক্লাস প্রজা তখন
সেখানেও টিকিট রিজার্ভ থাকে। ফার্স্টক্লাস রিজার্ভ, সেকেন্ড ক্লাস রিজার্ভ, নম্বর
অনুসারে পদ মর্যাদা থাকে। যদিও সুখ সেখানে থাকেই। আলাদা কম্পার্টমেন্ট আছে । ধনী
মানুষ টিকিট নেবে এয়ারকন্ডিশনের। তোমাদের মধ্যে ধনী মানুষ কে? যারা বাবাকে সর্বস্ব
সমর্পণ করে। বাবা এইসব কিছু তোমার। ভারতেই মহিমা কীর্তিত হয়। সওদাগর, রত্নাকর,
জাদুকর এইসব মহিমা হলো বাবার, কৃষ্ণের নয়। কৃষ্ণ তো ঈশ্বর পিতার থেকে অসীম জগতের
উত্তরাধিকার নিয়েছেন, সত্যযুগের প্রালব্ধ পেয়েছেন। এখন তোমরা বাচ্চারা ভালো রীতি
জানো, নিশ্চয়ই উনি পাস্টে এইরূপ প্রালব্ধ বানিয়েছেন। নেহরুর প্রালব্ধ ভালো ছিল।
নিশ্চয়ই সুকর্ম করেছিল। মুকুট বিহীন ভারতের বাদশাহ ছিল। ভারতের মহিমা অনেক। ভারতের
মতন উঁচু দেশ অন্যটি নেই। ভারত হলো পরমপিতা পরমাত্মার জন্মস্থল। এই রহস্যটি কারো
বুদ্ধিতে নেই। পরমাত্মাই সবাইকে সুখ-শান্তি প্রদান করেন, অর্ধকল্পের জন্য। ভারতই হলো
এক নম্বর তীর্থ স্থান। কিন্তু ড্রামা অনুসারে এক বাবাকে ভুলে সৃষ্টির অবস্থা এমন
হয়েছে তাই শিববাবা পুনরায় এসেছেন। নিমিত্ত তো কেউ হবেই তাইনা।
এখন বাবা বলেন - "অশরীরী
ভব", নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। আমি আত্মা কার সন্তান, সে কথা কেউ জানেনা। ওয়ান্ডার
তাই না। যদিও তারা বলে, ও গড ফাদার দয়া করো। শিব জয়ন্তীও পালন করে, কিন্তু তিনি কবে
এসেছিলেন, সে কথা কেউ জানেনা। আর এই হল ৫ হাজার বছরের কথা। বাবা এসে নতুন দুনিয়া
সত্যযুগ স্থাপন করেন। সত্যযুগের আয়ু লক্ষ বছর তো নয়। অর্থাৎ ঘোর অন্ধকার তাইনা।
গীতার উপদেশ অনেকে এসে শোনে। কিন্তু যে পড়াচ্ছে আর যে পড়ছে, দু'জনেই বুঝছে না। বাবা
কত সহজ করে বোঝান, শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করো। গৃহস্থে থেকে পদ্ম ফুলের মতন হও।
বিষ্ণুকে সব অলঙ্কার দেওয়া হয়েছে। শঙ্খও দিয়েছে, পদ্মও দিয়েছে। বাস্তবে দেবতাদের তো
দেওয়া হয় না। এই কথাটি কতখানি গুহ্য ও গম্ভীর। এই অলঙ্কার গুলি সব ব্রাহ্মণদের।
কিন্তু ব্রাহ্মণদের কীভাবে দেওয়া হবে, আজ ব্রাহ্মণ কাল শূদ্র হয়ে যায়। ব্রহ্মাকুমার-ই
শূদ্র কুমার হয়ে যায়। মায়া একটুও দেরি করে না। যদি কোনো গাফিলতি করবে, বাবার শ্রীমৎ
উলঙ্ঘন করবে, মায়া ভালো রকম চড় লাগিয়ে মুখ ঘুরিয়ে দেবে। মানুষ ক্রোধের বশে বলে - এক
চড়ে মুখ ঘুরিয়ে দেব। মায়াও ঠিক সেই রকমই। বাবাকে ভুলে গেলেই মায়া এক সেকেন্ডে চড়
মেরে মুখ ঘুরিয়ে দেয়। এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হয়। মায়া সেকেন্ডে জীবনমুক্তি
সমাপ্ত করে দেয়। কত ভালো বাচ্চাদের মায়া ধরে নেয়। মায়া দেখে কোথাও গাফিলতি করছে তো
চড় লাগিয়ে দেয়। বাবা তো এসে পুরানো দুনিয়ার থেকে মুখ ঘুরিয়ে দেন। লৌকিক পিতা কেউ
গরিব, পুরানো ঘরে থাকে যখন নতুন ঘর বানায় তখন বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকে নতুন ঘরে
থাকবো। পুরানো ঘর ভেঙে দেবে। এখন শিববাবা তোমাদের জন্য হাতের মুঠোয় স্বর্গ বা
বৈকুণ্ঠ এনেছেন। বাবা বলেন প্রিয় বাচ্চারা, আত্মাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই চোখ দিয়ে
তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের দেখছেন। বাবা বোঝান - আমিও ড্রামার বশে বশীভূত। এমন নয়
ড্রামা ব্যতীত কিছু করতে পারবো। না, বাচ্চারা রুগী হলে এমন নয় আমি সুস্থ করে দেবো।
অপারেশন থেকে মুক্তি দেবো। না, কর্মভোগ তো সবাইকে ভোগ করতে হবে। তোমাদের উপরে তো
অনেক ভার আছে কারণ তোমরা হলে সবচেয়ে পুরানো। সতোপ্রধান থেকে একেবারে তমোপ্রধান হয়েছো।
এখন তোমরা বাচ্চারা বাবাকে পেয়েছো তো বাবার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার অর্থাৎ
স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত করা উচিত। তোমরা জানো কল্প-কল্প ড্রামা অনুসারে আমরা বাবার
কাছে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। যারা সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী কুলের হবে তারা অবশ্যই
আসবে। যারা দেবতা ছিল তারা শূদ্র হয়েছে তারাই আবার ব্রাহ্মণ হয়ে দৈবী সম্প্রদায় হবে।
এইসব কথা বাবা ব্যতীত অন্য কেউ বোঝাতে পারে না।
তোমরা বাচ্চারা বাবার
খুব প্রিয়। বাবা বলেন, তোমরা আমার সেই কল্প পূর্বের সন্তান। আমি কল্পে-কল্পে এসে
তোমাদের পড়াই। কত ওয়ান্ডারফুল এই কথা। নিরাকার ভগবানুবাচ। শরীর দ্বারা তো বলবেন
তাইনা। শরীর আলাদা হয়ে গেলে আত্মা আর বলতে পারে না। আত্মা ডিট্যাচ হয়ে যায়। এখন বাবা
বলেন - অশরীরী ভব। এমন নয় যে প্রাণায়াম করতে হবে। না, বুঝতে হবে আমি আত্মা অবিনাশী।
আমার আত্মায় ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে। বাবা নিজে বলেন - আমার আত্মাও যে অ্যাক্ট প্লে
করে , সেসব পার্ট ভরা আছে। ভক্তিমার্গে সেখানে পার্ট চলে তারপরে জ্ঞান মার্গে এখানে
এসে জ্ঞান প্রদান করি। ভক্তিমার্গের মানুষ জ্ঞানের কথা জানেনা। কেউ মদ্যপান না করে
থাকলে টেস্ট কীভাবে বলবে। জ্ঞান অর্জন করলে জানবে। জ্ঞানের দ্বারা সদগতি হয় অর্থাৎ
একমাত্র জ্ঞান সাগর সদগতি প্রদান করতে পারেন। বাবা বলেন আমি সর্বজনের সদগতি দাতা।
সর্বদয়া লীডার তাই না। বিভিন্ন রকমের আছে। বাস্তবে সর্বের উপরে দয়া করেন একমাত্র
বাবা। বাবাকে বলে - হে ভগবান দয়া করো। সুতরাং বাবা সকলের উপরে দয়া করেন, বাকিরা
সবাই হল দেহের সীমিত জগতের দয়ালু মানুষ। বাবা তো সম্পূর্ণ দুনিয়াকে সতোপ্রধান করেন।
যেখানে তত্ত্ব গুলিও সতোপ্রধান হয়ে যায়। এই কর্তব্য হল একমাত্র পরমাত্মার। অর্থাৎ
সর্বদয়া-র অর্থ হল কতখানি বিশাল। সকলের উপরে দয়া করেন তিনি। স্বর্গের স্থাপনা হলে
কেউ দুঃখী থাকে না। সেখানে এক নম্বর ফার্নিচার, বৈভব ইত্যাদি থাকে। দুঃখদায়ী পশু,
মাছি ইত্যাদি থাকে না। সেখানেও ধনীদের ঘরে স্বচ্ছতা থাকে। কখনও তোমরা মাছি দেখবে
না। মশা ইত্যাদি ঢুকবে না। স্বর্গে প্রবেশ করার শক্তি থাকে না। অশুদ্ধ করার কিছুই
থাকে না। ফুলে ন্যাচারাল সুগন্ধ থাকে। তোমাদেরকে বাবা সূক্ষ্ম বতনে শূবীরস বা সোমরস
পান করিয়েছেন। সূক্ষ্ম বতনে তো কিছুই নেই। এই সব হল সাক্ষাৎকার। বৈকুণ্ঠে অনেক
রকমের ফুল, ফুলের বাগান ইত্যাদি থাকে। সূক্ষ্ম বতনে বাগান নেই। এইসব হল সাক্ষাৎকার।
এখানে বসে তোমরা সাক্ষাৎকার কর।
গানও ফার্স্টক্লাস।
তোমরা জানো - আমরা বাবাকে পেয়েছি, আর কি চাই? অসীম জগতের বাবার কাছে অসীম জগতের
অবিনাশী উত্তরাধিকার (স্বর্গ) প্রাপ্ত করছি অতএব বাবাকে স্মরণ করা উচিত। বাবার
শ্রীমৎ বিখ্যাত। শ্রীমৎ দ্বারা আমরা শ্রেষ্ঠতম হবো। বাকিদের সবার হলো আসুরিক মত,
তাই তারা জানেনা যে সত্যযুগে সর্বদা সুখ ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। শৈশবে
তাঁরা রাধে-কৃষ্ণ ছিল, তাঁদের চরিত্র ইত্যাদি কিছু নেই। স্বর্গে তো সব বাচ্চারা খুব
ফার্স্টক্লাস হয়। চঞ্চলতা একেবারেই থাকে না। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
যখন এই পুরানো দুনিয়ার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছো তখন এমন কোনো গাফিলতি করবে না যে মায়া
নিজের দিকে আকৃষ্ট করে নেয়। শ্রীমতের অবজ্ঞা করবে না। বাবার কাছে পুরোপুরি স্বর্গের
অধিকার নিতে হবে।
২ ) বাবার কাছে নিজের
সর্বস্ব সমর্পণ করে উপযুক্ত উত্তরাধিকারী হয়ে সত্যযুগী এয়ারকন্ডিশনের টিকিট নিতে হবে।
এইম অবজেক্টকে বুদ্ধিতে রেখে পুরুষার্থ করতে হবে।
বরদান:-
স্ব-
স্থিতির দ্বারা সর্ব পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া অব্যক্ত স্থিতির অভ্যাসী ভব
যখন অব্যক্ত স্থিতিতে
থাকার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে, তখন স্ব-স্থিতির দ্বারা প্রতিটি পরিস্থিতির মোকাবিলা
করতে পারবে। আর এই অভ্যাস আদালতে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেবে। তাই এই অভ্যাসকে যখন
ন্যাচারাল এবং নেচার বানিয়ে নেবে, তখনই ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ আসবে। কারণ যখন
মোকাবিলা করার মতো ব্যক্তিরা স্ব-স্থিতির দ্বারা প্রতিটি পরিস্থিতি পার করার শক্তি
ধারণ করবে, তখনই পর্দা খুলবে। এর জন্য পুরানো অভ্যাস, পুরানো সংস্কার এবং পুরানো
কথাবার্তার থেকে পুরোপুরি বৈরাগ্য প্রয়োজন।
স্লোগান:-
নিজেকে
নিমিত্ত করনহার মনে করলে কোনো প্রকারের কর্মেই ক্লান্তি আসতে পারবে না।
মাতেশ্বরী দেবীর
অমূল্য মহাবাক্য - "মনুষ্য লোক, দেব-লোক, ভূত-প্রেতের দুনিয়ার বিস্তার"
অনেক মানুষ প্রশ্ন করে
- এই যে অশুদ্ধ জীবাত্মারা যাদের ঘোস্ট বা ভূত বলা হয়, সেই কথাটি সত্য নাকি কল্পনা
? অথবা ভুল ধারনা ? সেই বিষয়ে আজ স্পষ্ট ভাবে বোঝানো হচ্ছে যে মনুষ্য আত্মা যখন
বিকর্ম করে তখন অনেক প্রকারের সাজা বা দন্ড ভোগ অবশ্যই করতে হয় এবং মনুষ্য জীবনেই
ভোগ করতে হয়, জন্তু বা পশু-পাখির যোনিতে নয়। মনুষ্য, মনুষ্য জন্মই নেয়। মনুষ্য আত্মা
ও পশু পাখির আত্মা আলাদা, মানুষ কখনো পশু হয় না এবং পশু কখনও মানুষ হয় না। তাদের
নিজস্ব দুনিয়া আছে, এই মানুষের নিজস্ব দুনিয়া আছে। দুঃখ সুখ ভোগ করার অনুভূতি
মানুষের বেশী থাকে, পশুদের থাকে না। যখন আমরা শুদ্ধ কর্ম করে সুখ ভোগ করি মনুষ্য
দেহে তো দুঃখ ভোগ মনুষ্য দেহেই এসে ভোগ করতে হবে। আর এই জ্ঞান শোনার বুদ্ধিও মনুষ্য
দেহেই থাকে, পশু দেহে নয়, সুতরাং এই সৃষ্টির খেলায় মুখ্য পার্ট হল মানুষের। এই পশু
পাখি ইত্যাদি তো হল সৃষ্টি ড্রামার শোভা, সম্পূর্ণ কল্পে সত্যযুগ আদি থেকে কলিযুগের
অন্ত পর্যন্ত মনুষ্য আত্মাদের ৮৪ জন্ম হয়, বাকি এই ৮৪ লক্ষ তো পশু পাখি ইত্যাদিদের
ভ্যারাইটি থাকতে পারে। এবারে এই সব রহস্য পরমাত্মা ব্যতীত কেউ বোঝাতে পারে না।
আত্মাদের নিবাস স্থান হল ব্রহ্ম তত্ত্ব অর্থাৎ নিরাকারী দুনিয়া, বাকি এই পশুদের
আত্মারা ব্রহ্ম তত্বে যেতে পারে না, তারা এই আকাশ তত্ত্বের ভিতরেই পার্ট প্লে করে,
তাদেরও মার্জ ইমার্জ, সতো, রজো, তমোতে আসার পার্ট থাকে, তাই আমরা প্রকৃতির বৃহৎ
বিস্তারে না গিয়ে প্রথমে নিজের আত্মার কল্যাণ করি অর্থাৎ মন্মনাভব। এবারে আসি
মনুষ্য আত্মার কথায়, তো যে আত্মারা অশুদ্ধ কর্ম করে বিকর্ম জমা করে তারা নিজের
অশুদ্ধ সংস্কার অনুযায়ী জন্ম-মরণের চক্রে এসে আদি-মধ্য-অন্ত অর্থাৎ মৃত্যুর সময়ে
নিজের বিকর্মের সাক্ষাৎকার করে সূক্ষ্ম দন্ড ভোগ করে। একটু সময়ে অনেক জন্মের দুঃখ
অনুভব হয় তখন শরীর ত্যাগ করে গিয়ে গর্ভ জেলে দুঃখ ভোগ করে এবং পুনরায় সংস্কার
অনুসারে এমন মাতা পিতার কাছে জন্ম গ্রহণ করে সেখানেও নিজের জীবনে সুখ দুঃখ ভোগ ক'রে,
একেই বলা হয় আদি-মধ্য-অন্ত। কিন্তু কোনো আত্মা শরীর না ধারণ করে যদি আকারী রূপে এই
আকাশ তত্বে ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে সেও হল এক রকমের দন্ড অর্থাৎ কর্ম ভোগ। ওই
অশুদ্ধ জীবাত্মারা সঙ্গে কারো কর্মের হিসেব থাকলে তার মধ্যে প্রবেশ করে তাদের দুঃখ
দেয় অর্থাৎ কর্মভোগের হিসেব মিটিয়ে পরে গিয়ে নিজের শরীর ধারণ করে। কোনো জীবাত্মা
যার ভিতরে প্রবেশ করে তাকে খুব মারধর করে, খুব কষ্ট দেয় কিন্তু এইসবই হল কর্মের
হিসেবের খাতায় ভোগের একটি প্রকার, যা সব মানুষ দেহেই সুখ দুঃখের অনুভব হয়। এই কথা
তো তোমাদের বোঝানো হয়েছে, যে আত্মা মুক্তিধাম থেকে এই সাকারী দুনিয়ার খেলায় আসে তারা
মাঝখানে মুক্তিধাম ফিরে যেতে পারে না, কিন্তু নিজের অশুদ্ধ, শুদ্ধ কর্মের অনুসারে
সংস্কার নিয়ে দুঃখ সুখের চক্রে এসে যায়। সব আত্মাদের পুনর্জন্ম হয় শুধুমাত্র এক
পরমাত্মার হয় না। আচ্ছা। ওম্ শান্তি ।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা
হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও
বাপদাদার কাছে সবচেয়ে
প্রিয় হলো স্বচ্ছ হৃদয়ের সন্তানরা। স্বচ্ছ অন্তরের সন্তানরা সদা বাবার হৃদয় সিংহাসনে
থাকে। তাদের বৃত্তিতে, দৃষ্টিতে, কথায় এবং সম্বন্ধ-সম্পর্কে সরলতা ও স্পষ্ট ভাব
সমানভাবে দেখা যায়। সরলতার চিহ্ন হলো - অন্তঃকরণ, মন ও মুখের কথা এক সমান হওয়া।
ভিতরে একরকম আর মুখে অন্যরকম - এটা সরলতার লক্ষণ নয়। সরল স্বভাব যাদের তারা সদা
নির্মাণচিত্ত , নিরহঙ্কারী ও নিঃস্বার্থ হয়। তারা সরল-চিত্ত, সরল-বাণী, সরল-বৃত্তি,
এবং সরল দৃষ্টি সম্পন্ন হয়।