18-01-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
20-10-2008 মধুবন
"বাপদাদার অমূল্য মহাবাক্য - পিতাশ্রীজীর পুণ্য স্মৃতি দিবসে প্রাতঃ ক্লাসে শোনানোর
জন্য"
"মিষ্টি বাচ্চারা, জ্ঞান রত্নে ঝুলি পরিপূর্ণ ক'রে দানও করতে হবে, যত অন্যকে রাস্তা
বলে দেবে ততো আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে"
ওম্ শান্তি। মিষ্টি বাচ্চাদের এটা নিশ্চিতরূপে স্মরণে রাখতে হবে যে শিববাবা আমাদের
পড়ান। শিববাবা পতিত পাবনও, সদগতি দাতাও। সদগতি অর্থাৎ স্বর্গের রাজত্ব দেন। বাবা কত
মিষ্টি! কত ভালোবাসার সাথে বাচ্চাদের পড়ান! বাবা, দাদা দ্বারা আমাকে পড়ান। বাবা কত
মিষ্টি, কত ভালোবাসেন! কোনো কষ্ট দেন না। শুধু বলেন, আমাকে স্মরণ করো আর চক্রকে
স্মরণ করো। বাবার স্মরণে হৃদয় (বুদ্ধি) পুরোপুরি স্থির হয়ে যাওয়া উচিৎ। (শীতল হয়ে
যাওয়া উচিত) বারবার এক বাবার স্মরণেরই আন্তরিক চাপ তৈরি হওয়া উচিত। কেননা, বাবার
থেকে কত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। নিজেকে দেখা উচিত বাবার প্রতি আমার
কতটা ভালোবাসা আছে! আমার মধ্যে কতটা দৈবী গুণ আছে! কেননা, তোমরা বাচ্চারা এখন কাঁটা
থেকে ফুল হচ্ছ। যেমনভাবে যতটা যোগে থাকবে তেমনভাবে ততটা কাঁটা থেকে ফুল, সতোপ্রধান
হতে থাকবে। তোমরা ফুল হয়ে গেলে এখানে থাকতে পারবে না। ফুলের বাগিচাই স্বর্গ। যে
অনেক কাঁটাকে ফুল বানায় তাকেই প্রকৃতি সুগন্ধি ফুল বলা হবে। সে কখনো কাউকে কাঁটা
লাগাবে না। ক্রোধও বড় কাঁটা, অনেককে দুঃখ দেয়। এখন তোমরা বাচ্চারা কাঁটার দুনিয়া
থেকে কিনারে সরে এসেছ, তোমরা আছ সঙ্গমে। মালি যেমন ফুল তুলে আলাদা করে পটে (পাত্রে)
রাখে, তেমনই তোমরা সব ফুলও এখন সঙ্গমযুগী পটে আলাদা রাখা আছ। তারপরে তোমরা ফুলেরা
স্বর্গে চলে যাবে। কলিযুগী কাঁটা ভস্ম হয়ে যাবে।
মিষ্টি বাচ্চারা জানে পারলৌকিক বাবার থেকে আমাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়।
যারা সত্যিকারের বাচ্চা, যাদের বাপদাদার প্রতি পুরো লাভ্ আছে তাদের অনেক খুশি থাকবে,
আমরা বিশ্বের মালিক হই। হ্যাঁ পুরুষার্থ দ্বারাই বিশ্বের মালিক হওয়া যায়, কেবল কথায়
নয়। যে অনন্য বাচ্চারা আছে তাদের সদা এটা স্মরণে থাকবে যে আমরা আমাদের জন্য পুনরায়
সেই সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী রাজ্য স্থাপন করছি। বাবা বলেন মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা-
যত অনেকের কল্যাণ করবে তোমাদের ততই পুরস্কার প্রাপ্ত হবে। অনেককে রাস্তা বলে দেবে
তো অনেকের আশীর্বাদ লাভ হবে। জ্ঞান রত্নে ঝুলি ভরে আবার তা' দান করতে হবে। জ্ঞান
সাগর তোমাদের রত্নের থলি পরিপূর্ণ করে দেন। যারা সেই রত্নের দান করে তারাই সবার
প্রিয় হয়।বাচ্চাদের ভিতরে কত খুশি থাকা উচিত! যারা সেন্সিবল বাচ্চা হবে তারা তো বলবে
বাবার থেকে আমরা সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেবো। পুরোপুরি দৃঢ়সংলগ্ন হয়ে থাকবে, বাবার
প্রতি অনেক ভালোবাসা থাকবে। কেননা, তারা জানে যে জীবন দাতা বাবাকে তারা খুঁজে পেয়েছে।
নলেজের বরদান এমনভাবে দিয়ে থাকেন যাতে কী থেকে কী হয়ে যাই আমরা! ইনসলভেন্ট থেকে
সল্ভেন্ট হয়ে যাই। ভাণ্ডার এত পরিপূর্ণ ক'রে দেন। বাবাকে যত স্মরণ করবে ততো লাভ
থাকবে, চেষ্টা হবে। সুঁচ যদি পরিষ্কার হয় তবে চুম্বকের টানে চলে যায় তো না! বাবার
স্মরণের দ্বারা জং বের হয়ে যেতে থাকে। এক বাবা ব্যতীত আর কেউ যেন স্মরণে না আসে।
বাবা বোঝান, মিষ্টি বাচ্চারা এখন গাফিলতি ক'রো না। স্ব দর্শন চক্রধারী হও, লাইট
হাউস হও। স্ব দর্শন চক্রধারী হওয়ার প্র্যাকটিস ভালো হয়ে যাবে তখন তোমরা জ্ঞানের
সাগরের মতন হয়ে যাবে। যেমন পড়াশোনা ক'রে স্টুডেন্ট টিচার হয়ে রায়, তাই না! তোমাদের
কারবার এটাই। সবাইকে স্বদর্শন চক্রধারী বানাও তবেই চক্রবর্তী রাজা-রানি হবে।
সেইজন্য বাবা সদা বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে বসেছ? বাবাও
স্বদর্শন চক্রধারী তো না! বাবা এসেছেন তোমরা সব মিষ্টি বাচ্চাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।
তোমরা বাচ্চারা ব্যতীত আমারও যেন অস্বস্তি লাগে। যখন সময় আসে তখন অস্বস্তিকর হয়ে
যায়। ব্যস্ এখন আমি যাবো, বাচ্চারা অনেক আর্ত চিৎকার করে। অনেক দুঃখী তারা। দয়া আসে।
এখন তোমরা সব বাচ্চাকে গৃহে ফিরে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে তোমরা নিজে থেকেই চলে
যাবে সুখধাম। সেখানে আমি তোমাদের সাথী হবো না। নিজের অবস্থা অনুসারে তোমাদের আত্মা
চলে যাবে।
তোমরা বাচ্চারা বাবার স্মরণে যত থাকবে ততই অন্যকে বোঝানোর ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে।
তোমাদের বলা অধিক হওয়া উচিত নয়। তোমরা আত্ম- অভিমানী, সামান্য বোঝাবে তো তির লাগবে।
বাবা বলেন, বাচ্চারা যা অতিবাহিত হয়েছে তা' অতীত। এখন আগে নিজেকে পরিবর্তন করো।
নিজেরা স্মরণ করবে না, অন্যকে বলতে থাকবে, এরকম ঠগ চলতে পারবে না। তোমাদের অন্তরে
অবশ্যই বিবেক দংশন হবে। বাবার প্রতি যদি পুরো লাভ্ না থাকে তো তারা শ্রীমতে চলে না।
অসীম জগতের বাবার মতো শিক্ষা তো আর কেউ দিতে পারবে না। বাবা বলেন, হে মিষ্টি
বাচ্চারা, এই পুরানো দুনিয়াকে এখন ভুলে যাও। ভবিষ্যতে তো এই সব ভুলেই যেতে হবে।
বুদ্ধি জুড়ে যায় নিজের শান্তিধাম আর সুখধামে। বাবাকে স্মরণ করতে করতে বাবার কাছে চলে
যেতে হবে। পতিত আত্মা তো যেতে পারবে না। সেটা হলোই পাবন আত্মাদের ঘর। এই শরীর পাঁচ
তত্ত্বে তৈরি। তো পাঁচ তত্ত্ব এখানে থাকার জন্য টানতে থাকে। কেননা, আত্মা যেন এটা
প্রপার্টি নিয়ে আছে, সেইজন্য শরীরে মমত্ত্ব হয়ে গেছে। এখন এর থেকে মমত্ত্ব বের ক'রে
যেতে হবে ঘরে। সেখানে তো এই পাঁচ তত্ত্ব নেই। সত্যযুগে শরীরও যোগবল দ্বারা তৈরি হয়।
প্রকৃতি সতোপ্রধান হয় সেইজন্য টানে না। দুঃখ থাকে না। বোঝার জন্য এটা খুব সূক্ষ্ম
বিষয়। এখানে পাঁচ তত্ত্বের বল আত্মাকে আকর্ষণ করে সেইজন্য শরীর ছাড়তে মন চায় না।
নয়তো এতে আরও খুশি হওয়া উচিত । পবিত্র হয়ে শরীর এমনভাবে ছাড়বে যেমন মাখন থেকে চুল
বেরিয়ে যায়। সুতরাং শরীর থেকে, সব বিষয় থেকে মমত্ত্ব পুরোপুরি শেষ ক'রে দিতে হবে,
এর সাথে আমাদের কোনো কানেকশন নেই। ব্যস্ আমরা কেবল বাবার কাছে যাচ্ছি। এই দুনিয়া
থেকে নিজেদের ব্যাগ ব্যাগেজ প্রস্তুত করে আগে থেকেই পাঠিয়ে দিই। সাথে তো যেতে পারবে
না। অতঃপর আত্মাদের যেতে হবে। শরীরও এখানে ছেড়ে দিতে হবে। বাবা নতুন শরীরের
সাক্ষাৎকার করিয়ে দিয়েছেন। হিরে জহরতের মহল পেয়ে যাবে। এমন সুখধামে যাওয়ার জন্য কত
পরিশ্রম দরকার! ক্লান্ত হওয়া উচিত নয়। দিনরাত অনেক উপার্জন করতে হবে, সেইজন্য বাবা
বলেন নিদ্রাজিৎ বাচ্চারা আমাকে স্মরণ করো আর বিচার সাগর মন্থন করো। ড্রামার
গুঢ়ার্থ বুদ্ধিতে রাখলে বুদ্ধি সম্পূর্ণভাবে শীতল হয়ে যাবে। যারা মহারথী বাচ্চা হবে
তারা কখনো নড়বে না। শিববাবাকে স্মরণ করবে। তাইতো তারা সামলেও নেবে। বাবা তোমরা সব
বাচ্চাকে দুঃখ থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে শান্তির দান দেন। তোমাদেরও শান্তির দান দিতে হবে।
তোমাদের এই অসীম শান্তি যোগবল অন্যদের একদম শান্ত ক'রে দেবে। তোমরা বাবাকে স্মরণে
রেখে দেখ সেই আত্মা আমাদের কুলের, নাকি না! যদি হয় তবে একদম শান্ত হয়ে যাবে। যারা
এই কুলের হবে তাদের মধ্যেই এই বিষয় থেকে রস বসবে। বাচ্চারা স্মরণ করলে বাবাও
ভালোবাসেন। আত্মাকেই ভালোবাসা যায়। তোমরা এটাও জানো যারা বেশি ভক্তি করেছে তারাই
বেশি পড়াশোনা করবে। তাদের মুখমণ্ডল দ্বারা প্রতীয়মান হতে থাকবে বাবার প্রতি কত লাভ্
রয়েছে! আত্মা বাবাকে দেখে, বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। বাবাও বোঝেন আমি এত ছোট বিন্দু
আত্মাকে পড়াই। ভবিষ্যতে তোমাদের এই অবস্থা হয়ে যাবে। বুঝতে পারবে আমরা ভাই ভাইকে
পড়াই। আকৃতি বোনের হলেও দৃষ্টি যেন আত্মার দিকে যায়। শরীরের দিকে যেন দৃষ্টি না যায়,
এতে অনেক পরিশ্রম আছে। এসব খুব সূক্ষ্ম বিষয়। অনেক উঁচু পড়া। যদি ওজন করো তবে এই
পঠন পাঠনের দিকেই পাল্লা অনেক ভারী হবে। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের
স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন
নমস্কার ।
অব্যক্ত মহাবাক্য -
মহাবীর বাচ্চাদের সংগঠনের বিশেষত্ব - একরস, অবিচল (একটিক) স্থিতি - 9-12-75
মহারথী অর্থাৎ মহাবীরদের সংগঠন। মহাবীর অর্থাৎ বিশেষ-আত্মা। এমন মহাবীর, বিশেষ
আত্মাদের সংগঠনের বিশেষত্ব কী? বর্তমান সময়ে বিশেষ আত্মাদের বিশেষত্ব এটাই হওয়া
দরকার যা একই সময়ে সবার একরস, অবিচল স্থিতি হবে। অর্থাৎ যত সময় যে স্থিতিতে থাকতে
চাও ততটা সময় সেই স্থিতিতে সংগঠিত রূপে স্থিত হবে - সংগঠিতভাবে সবার সঙ্কল্প রূপী
আঙুল এক হবে। যতক্ষণ সংগঠনের এটা প্র্যাকটিস হবে না, ততক্ষণ সিদ্ধি হবে না। সংগঠনে
এখন অর্ডার হওয়া দরকার যে পাঁচ মিনিটের জন্য ব্যর্থ সঙ্কল্প সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত
ক'রে বীজরূপ পাওয়ারফুল একরস স্থিতিতে স্থিতি হয়ে যাও - তো এমন অভ্যাস আছে তোমাদের?
এমন নয়, কেউ মনন করার স্থিতিতে আছো, কেউ আত্মিক বার্তালাপ করছ আর কেউ অব্যক্ত
স্থিতিতে আছ। অর্ডার আছে বীজরূপ হওয়ার আর করছ আত্মিক বার্তালাপ, তাহলে তো অর্ডার
মানলে না, তাই না! এই অভ্যাস তখনই হবে যখন আগে ব্যর্থ সঙ্কল্পের সমাপ্তি করবে!
অস্থিরতা হয়ই ব্যর্থ সঙ্কল্পের। তো এই ব্যর্থ সঙ্কল্পের সমাপ্তির জন্য নিজের সংগঠনকে
শক্তিশালী ও একমত বানানোর জন্য কোন শক্তি প্রয়োজন?
এর জন্য এক তো ফেথ, আরেক অন্তর্লীন করার শক্তি প্রয়োজন। সংগঠনকে জুড়ে রাখার সুতো
হ'লো ফেথ। কেউ কিছু করেছে, মনে করো রং-ই করেছে, কিন্তু সংগঠন অনুযায়ী বা নিজের
সংস্কার অনুযায়ী অথবা সময় অনুসারে সে যা করেছে তারও কিছু ভাবের অর্থ থাকবে অবশ্যই।
সংগঠিতরূপে যেখানে সার্ভিস থাকে সেখানে তার সংস্কারও সহৃদয় দৃষ্টিতে দেখে সেই
সংস্কার নিজেদের সামনে না রাখাতেও কোনো কল্যাণ হবে, এর সাথে মিলিয়ে চলাতেই কল্যাণ
আছে। এমন ফেথ যখন সংগঠনে পরস্পরের প্রতি হবে তখনই সফলতা হতে পারে। আগে থেকেই ব্যর্থ
সঙ্কল্প চালানো উচিৎ নয়। যেমন, কেউ কেউ নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু সেটা কখনই
চাউর করবে না বরং সেটা অন্তর্লীন করে নেবে। অন্যেরা সেটা চাউর করলে তখনও তাদের
খারাপ লাগবে। এই ভাবে অন্যদের ভুলকে নিজের ভুল বলে বিবেচনা করা উচিত এবং সেটা চাউর
করা উচিত নয়। ব্যর্থ সঙ্কল্প চালানো উচিত নয়, বরং সেটাও অন্তর্লীন করে নেওয়া উচিত।
পরস্পরের মধ্যে এতটাই যেন ফেথ থাকে। স্নেহের শক্তি দ্বারা ঠিক করে দেওয়া উচিত। যেমন,
লৌকিক রীতিতেও ঘর-পরিবারের ব্যাপার বাইরে বের করে না, নয়তো এর থেকেই ঘরের লোকসান হয়।
তো সংগঠনে সাথী যা কিছু করেছে তা'তে অবশ্যই গুঢ়ার্থ থাকবে, যদি সে রং করেও তবুও
তাকে পরিবর্তন করে দেওয়া উচিত। এই দু' প্রকারের ফেথ রেখে একে অন্যের সম্পর্কে চললে
সংগঠনের সফলতা হতে পারে। এক্ষেত্রে, অন্তর্লীন করার শক্তি বেশি দরকার। ব্যর্থ
সঙ্কল্প সব অন্তর্লীন করতে হবে। অতীত হয়েছে এমন সংস্কারকে কখনও বর্তমান সময়ের সাথে
ট্যালি ক'রো না। অর্থাৎ পাস্টকে প্রেজেন্ট ক'রো না। যখন পাস্টকে প্রেজেন্টের সাথে
মিলিয়ে দাও, তখন এর থেকেই সঙ্কল্পের ক্যু লম্বা হয়ে যায় আর যতক্ষণ এই ব্যর্থ
সঙ্কল্পের ক্যু আছে, ততক্ষণ সংগঠিতরূপে একরস স্থিতি হতে পারে না।
অন্যের ভুলকে নিজের ভুল বিবেচনা করা - এটাই সংগঠনকে শক্তিশালী করা। এটা তখনই হবে
যখন পরস্পরের প্রতি ফেথ হবে। পরিবর্তন করার ফেথ কিংবা কল্যাণ করার ফেথ। এতে
অন্তর্লীন করার শক্তি অবশ্যই চাই। দেখা আর শোনা - এটা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্লীন ক'রে
সেই আত্মিক দৃষ্টি আর কল্যাণের ভাবনা যেন থাকে। তোমরা অ-জ্ঞানীদের ব্যাপারে বলে থাকো
- অপকারীদের উপকার করতে হবে; তো সংগঠনেও পরস্পরের প্রতি যেন দয়ার ভাবনা থাকে। এখন
দয়ার ভাবনা কম থাকে। কেননা, আত্মিক স্থিতির অভ্যাস কম।
এরকম পাওয়ারফুল সংগঠন হ'লেই সাফল্য হবে। এখন সফলতার আহ্বান করছ, কিন্তু পরে আবার
সাফল্য তোমাদের সামনে নিজে ঝুঁকবে। যেভাবে সত্যযুগে প্রকৃতি দাসী হয়ে যায় সেভাবে
সাফল্য তোমাদের সামনে স্বয়ং ঝুঁকবে। সাফল্য তোমাদের আহ্বান করবে। যখন নলেজ শ্রেষ্ঠ,
স্টেজও পাওয়ারফুল তখন সাফল্য এমন কী বড় ব্যাপার! সদাকাল যারা স্থিতিতে থাকে তাদের
সাফল্য প্রাপ্ত হবে না, এটা হতে পারে না। তো সংগঠনের এই শক্তি প্রয়োজন, একজন কিছু
বললো, অন্যজনে স্বীকার ক'রে নিলো। মোকাবিলা করার শক্তি ব্রাহ্মণ পরিবারের সামনে ইউজ
করা উচিত নয়। পরিবারের সাথে মোকাবিলা করার শক্তি ইউজ করলে সংগঠন পাওয়ারফুল হয় না।
কোনও বিষয় ভালো না লাগলেও আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা উচিত । সেই সময় কারও
সঙ্কল্প বা বোল কাট করা উচিৎ নয়। সেইজন্য এখন অন্তর্লীন করার শক্তি ধারণ করো।
সংগঠিত রূপে তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের নিজেদের সম্পর্কের ভাষাও আব্যক্ত ভাবের হওয়া
দরকার। যেন ফরিস্তারা ফারিস্তাদের সাথে বা আত্মারা আত্মাদের সাথে কথা বলছে! কারও
ভুল সম্পর্কে শুনে সঙ্কল্পেও তা' স্বীকার না করা এবং স্বীকার না করানোই উচিত।এরকম
স্থিতি যখন হবে তখনই বাবার যে শুভ কামনা রয়েছে সংগঠনের, তা' প্র্যাকটিক্যালি হবে।
তার জন্য বিশেষ পুরুষার্থ অথবা নিজেদের মধ্যে বিশেষ অনুভবের লেনদেন করো। সংগঠিত রূপে
বিশেষ যোগের প্রোগ্রাম থাকলে বিনাশ জ্বালাও জ্বলে উঠবে। যোগ অগ্নির দ্বারা বিনাশের
অগ্নি জ্বলবে। আচ্ছা! ওম্ শান্তি।
বরদান:-
ব্যক্ততে থেকে অব্যক্ত ফরিস্তা রূপের সাক্ষাৎকার
করিয়ে শ্বেত বস্ত্রধারী এবং লাইট বস্ত্রধারী ভব
যেভাবে এখন চারদিকে এই আওয়াজ ছড়িয়ে যাচ্ছে যে এই
শ্বেত বস্ত্রধারী কা'রা এবং কোথা থেকে এসেছে! সেভাবে এখন চতুর্দিকে ফরিস্তা রূপের
সাক্ষাৎকার করাও - একেই বলা হয়ে থাকে ডবল সেবার রূপ। মেঘ যেমন চতুর্দিকে ছেয়ে যায়,
ঠিক সেভাবে ফরিস্তা রূপে উদ্ভাসিত হও। তারা যেখানেই দেখবে সেখানে ফরিস্তাই যেন নজরে
আসে। এটা তখনই হবে যখন শরীর থেকে ডিটাচ হয়ে অন্তঃবাহক শরীর দ্বারা চক্র লাগানোর
অভ্যাসী হবে। মন্সা পাওয়ারফুল হবে।
স্লোগান:-
সর্বগুণ এবং সর্বশক্তির অধিকারী হওয়ার জন্য আজ্ঞাকারী
হও।
অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে
জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করো বাবা যেমন সদা স্বতন্ত্র তেমনই বাবা সমান হও। বাপদাদা
এখন বাচ্চাদের পরতন্ত্র দেখতে পারেন না। যদি নিজেকে স্বতন্ত্র না করতে পারো, নিজেই
নিজের দুর্বলতায় ভূপতিত হতে থাকো তবে বিশ্ব পরিবর্তক কীভাবে হবে! এখন এই স্মৃতিকে
বাড়াও - আমি মাস্টার সর্বশক্তিমান, এর দ্বারা সহজে সব খাঁচা (বন্ধন) থেকে মুক্ত
উড়ন্ত বিহঙ্গ হয়ে যাবে।