18.08.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - শোনা কথার (গসিপ) ওপরে বিশ্বাস ক'রো না । কেউ যদি উল্টো পাল্টা কথা বলতে থাকে, তবে এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দাও"

প্রশ্নঃ -
যে বাচ্চারা জ্ঞানের আনন্দে থাকে, তাদের লক্ষণ কেমন হবে?

উত্তরঃ  
তারা পুরানো কর্মভোগের হিসাব-পত্র সেই আনন্দের মধ্যে মার্জ করে যেতে থাকবে। জ্ঞানের খুশীতে দুঃখ কষ্ট, বেদনার দুনিয়াকেই ভুলে যায়। বুদ্ধিতে থাকে এখন তো আমি আনন্দের দুনিয়াতে যাচ্ছি । রাবণ অভিশম্পাত দিয়ে দুঃখী করেছে, এখন বাবা এসেছেন সেই দুঃখের, বেদনার দুনিয়ার থেকে বের করে আনন্দের দুনিয়াতে নিয়ে যেতে।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে মোরা পেয়ে গেছি সারা জগৎ....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গীত শুনলো। অবশ্যই বাচ্চাদের রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠা উচিত, কারণ বলাও হয় যে, খুশীর মতো পুষ্টিকর আহার আর কিছু নেই । এখন বাচ্চাদের তোমরা অসীম জগতের পিতাকে পেয়েছ। অসীমের পিতা তো একজনই হন আর বাচ্চারা জানে যে, যখন আরও অনেকে তাঁর বাচ্চা হবে তখন তারাও রোমাঞ্চিত হয়ে উঠবে। তোমরা জানো যে, আমাদের রাজত্ব ছিল, আমরা তাকে হারিয়ে ফেলেছি, আবার পুনরায় তাকে ফিরে পেতে হবে। ভারতবাসীর জন্য এটা খুশীর খবর, তাই না ? কিন্তু যদি তারা ভালো ভাবে শোনে আর বোঝে। অবশ্যই এটা আনন্দের সংবাদ, তাই না? প্রতি কল্পে বাবা আসেন। বাবার জন্মও এখানে, এটাও বলা হয়ে থাকে। যে যে উৎসব পালিত হয়, সে সবই হল এখনকার। বাবা এসে তোমাদেরকে অত্যন্ত সহজ রাস্তা বলে দিয়েছেন। মানুষের তো বেদনার শেষ নেই। এখানে জ্ঞানের খুশীতে সেই সব বেদনা, দুঃখ কষ্ট সব মার্জ হয়ে যায়। যেমন অসুস্থ মানুষ সুস্থতার দিকে গেলে সকলের চেহারায় খুশী ফুটে ওঠে, অসুখ বিসুখের দুঃখের কথা যেন তখন ভুলেই যায়। শ্বশুরবাড়ির, বাপের বাড়ির, আত্মীয় বন্ধু সবার মনে তখন খুশীর ঝলক লাগে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে, আমরা সবাই বিশ্বের মালিক ছিলাম, তারপর রাবণ অভিশপ্ত করল। এটা হল বিষাদের দুনিয়া, দুঃখের দুনিয়া। এরপর কাল হবে খুশীর দুনিয়া। খুশীর দুনিয়ার কথা মনে আসলে বিষাদ, দুঃখ সব কিছু ভুলে যাওয়ার কথা। এটা হল তমোপ্রধান দুনিয়া। এখানে নানান প্রকারের কর্মভোগ । অবলাদের ওপরে কতো অত্যাচার হতো। অনেক প্রকারের বিঘ্ন আসে। এই বিঘ্নের, কর্মভোগের দিন আর অল্প সময়ের। বাবা ধৈর্য ধরতে বলেন, আর কিছু দিনেরই তো । কল্প পূর্বেও তো হয়েছিল। কর্ম ভোগের হিসাবপত্র মিটে যাওয়ারই। খুশী মনে এই সব মার্জ করে যেতে থাকবে । কেবল বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে যেতে থাকো। উল্টোপাল্টা কোনো কাজ ক'রো না। নইলে আরও দন্ড পড়ে যায়, পদ ভ্রষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চাদের কাজ হল এক বাবাকে স্মরণ করা। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ যদি করো, তবে বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে । হিসাব-পত্র মিটে যাবে। আর বাকি আছে কিছু সময়। হিসাব-পত্র মিটিয়ে যেতে থাকো, কারণ তোমরা হলে অন্ধের যষ্ঠী। তোমরাও স্মরণ করো, অন্যদেরকেও রাস্তা বলে দাও। বিঘ্ন তো অনেক আসবে। যতখানি সম্ভব সবাইকে এটা বোঝাতে থাকো যে, বাবাকে স্মরণ করো। শব্দও খুবই প্রসিদ্ধ - মন্মনাভব অর্থাৎ হে আত্মারা মামেকম্ স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের পাস্টের বিকর্ম ভস্ম হবে। এতে মনমরা হওয়ার তো কোনো কারণই নেই। কেবল বাবাকে স্মরণ করো, তবে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। তোমরা জানো যে, আমরা ৮৪ র চক্র পরিক্রমা করেছি, চক্র আবর্তিত করে এসেছি, আবর্তিত করতে থাকবোও। এটা হল পুরানো দুনিয়া, পুরানো বস্ত্র... একে ভুলে যেতে হবে। এ হল আত্মাদের বেহদের সন্ন্যাস। ওদের হল সীমিত সন্ন্যাস, তারা ঘর সংসারকে ত্যাগ করে চলে যায়। তাদেরও ড্রামাতে পার্ট রয়েছে। তবুও এই রকমই হবে। সেকেন্ডে সেকেন্ডে যেটা পাস হয়ে যাচ্ছে, সেটাই হল ড্রামা। সেই ড্রামাই আবার রিপিট হবে। শাস্ত্র ইত্যাদি হল ভক্তি মার্গের পুস্তক। ভক্তির পরে হল জ্ঞান। এই সিঁড়ির চিত্রের ওপরে কাউকে বোঝানো খুব সহজ। মুখ্য যে চিত্র গুলি আছে, সেগুলি তোমরা নিজেদের গৃহে রাখতে পারো। ত্রিমূর্তির চিত্রও একেবারে ক্লিয়ার রয়েছে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরও আছে, সূক্ষ্ম লোকের অধিবাসী, তারপর হলেন উচ্চ থেকেও উচ্চ ভগবান । বাচ্চারাও বুঝতে পারে যে, যেখানে বাবা থাকেন, সেটা হল আমরা আত্মাদের থাকার স্থান, যাকে নির্বাণধাম বলো কিম্বা শান্তিধাম বলো - একই কথা। শান্তিধাম নামটি ঠিক অথবা নির্বাণধাম অর্থাৎ বাণীর ঊর্ধ্বে সেই স্থান, সেটা শান্তিধামই হয়ে গেল। সেটা হল শান্তিধাম, তারপরে হল সুখ আর শান্তির সম্পত্তির ধাম। তারপর হল দুঃখ আর অশান্তিধাম। সুখধামে তো কুবেরের (কারুনের খাজানা) ধন থাকে, অগাধ সেই সম্পদ। আজ কি আছে, কাল কি হবে ! আজ কলিযুগের অন্ত, কাল হবে সত্যযুগের আদি। রাত দিনের তফাৎ, তাই না? বলাও হয় - ব্রহ্মা আর ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণদের দিন আর তারপরে হল রাত। দিনে হলেন দেবতারা। রাতে হল শূদ্ররা। মাঝে তোমরা হলে ব্রাহ্মণ। এই সঙ্গম যুগের বিষয়ে কারো জানা নেই। মানুষ তো একেবারেই ঘোর অন্ধকারে রয়েছে। তাদেরকে ঝলমলে উজ্জ্বল আলোতে নিয়ে আসা তোমাদেরই কর্তব্য। এখন সামনে হল সেই মহাভারতের যুদ্ধ। গাওয়াও হয়ে থাকে - বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি বিনশন্তি। বিনাশ কালে প্রীত বুদ্ধি বিজয়ন্তী। তোমরা বাচ্চারা জানো যে, বাবা আমাদেরকে পুনরায় রাজত্ব দিচ্ছেন । আমাদের সেই রাজত্ব কেউই ছিনিয়ে নিতে পারে না। রাবণের প্রবেশ তো ঘটবে দ্বাপরে। রাবণ আমাদের রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে। তাকে শত্রুই মনে করো। কেননা শত্রুরই তো কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পোড়ানো হয়। এ হল অনেক পুরানো শত্রু। বলাও হয় - রাবণ রাজ্য, কিন্তু কারো বুদ্ধিতে আসে না। তবে তাকে ঘোর তমসা বলা হবেনা কি? অসীম জগতের পিতা হলেন নলেজফুল । তাঁকে জ্ঞানের প্রদাতা, দিব্য চক্ষু বিধাতা বলা হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছো। আগে তো কিছুই জানতে না। এখন সব কিছু জেনে গেছো। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, তাহলে অবশ্যই তিনি জ্ঞানই শোনাবেন, তাই না? জ্ঞান না শোনালে সে'কথা সিদ্ধ কীভাবে হবে? তোমরা দেখো যে, বাবা জ্ঞান শোনান, যে জ্ঞানের দ্বারা অর্ধ কল্প সদ্গতি হয়ে থাকে ভক্তিকেই অর্ধ কল্প চলতে হবে। জ্ঞানের দ্বারা সদ্গতি সঙ্গমযুগেই হয়ে থাকে। বাচ্চাদের কোনো কথা কখনোই বাবার কাছে লুকানো থাকতে পারে না । বাবা বলেন - তোমাদের দ্বারা যদি কোনো খারাপ কাজ হয়ে যায়, তাহলে বাবাকে বলে দাও। বাবা জানেন, কারো কারোর দ্বারা খারাপ কর্ম হয়ে থাকে। রাবণ রাজ্য যে। মায়া চড় কষিয়ে দেয়, কিন্তু বাচ্চারা লুকিয়ে যায় । বাবা বলেন, যে ভুলি করে থাকো সাথে সাথে বলে দিলে সমাধানের জন্য তোমাদেরকে যুক্তি বলে দেওয়া যেতে পারে। নইলে বাড়তেই থাকবে। কাম হল মহাশত্রু। বাবাকে লেখে - বাবা, মায়ার খুব অপজিশন হয়। সর্বদা তো কারো যোগ থাকে না যে, মায়ার হাত থেকে বাঁচতে পারবে ! দেহ-অভিমান ভীষণই আসে। এমন অনেকেই আছে, যারা মায়ার থাপ্পড় খেয়ে থাকে। বাবার কাছে সব দিকের সমাচার আসতে থাকে না? সংবাদপত্র গুলোতে তো উল্টো পাল্টা কত কিছু ছাপার জন্য দিয়ে দেয়। এখনকার মানুষ তো কতো রকমের কথা বানাতে থাকে, তমোপ্রধান যে। ব্যাসদেবের যখন রজঃ বুদ্ধি ছিল তখন বসে কতো কতো কিছু লিখেই গেছে। বাবা বাচ্চাদেরকে বসে বোঝান যে, শোনা কথার ওপরে কখনো বিশ্বাস করে বিগড়ে যেও না। অমুকে এই বলেছে, সেই বলেছে, এই করে... মাথা খারাপ করে ফেলে। বোঝে না যে এটা হল তমোপ্রধান দুনিয়া। মায়া ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কেউ যদি মিথ্যা আবোলতাবোল কথা বলে তখন এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দাও। অন্যদেরকেও এই পয়গাম দিতে থাকো । বাবা বলেন - আমি পয়গাম (বার্তা) নিয়ে আসি। এখন হে আত্মারা শ্রীমৎ অনুসারে চলো। আমার বার্তা শোনো। কেবল মামেকম্ স্মরণ করো। যে স্মরণ করবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে। আত্মারা স্মরণ করবে। ভুলে আত্মারাই গেছিল। এখন বাবার শ্রীমৎ পাচ্ছো তোমরা। এতে আশীর্বাদ বা দয়া কোনো কিছুরই প্রার্থনা করতে হয় না । কেবল বাবাকে স্মরণ করতে হয় আর কোনো কিছুই জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। সৃষ্টি চক্র কীভাবে আবর্তিত হয় - তা তো তোমরা শুনেছো। এতে তর্কে বিতর্কের কোনো ব্যাপার নেই। সৃষ্টি যখন ঘোর তমসাচ্ছন্ন হয়ে যায়, তখনই বাবা আসেন । সেইজন্য শিবরাত্রি পালন করা হয়। কৃষ্ণের জন্মও রাত্রে পালন করে। ক্ষীর, পুরী (লুচি) ইত্যাদি মন্দিরে তৈরী হয় রাতে। তাহলে শিবের জন্য কী তৈরী করবে? তিনি তো হলেন নিরাকার। কারো জানা নেই যে, বাবা কোন্ সময়কালে আসেন আর কোন্ সময়কালে চলে যান। অনেক সময় তো সওয়ারীও নেন না। আসেন আর চলে যান। এখন তোমরা জানো যে, আমরা হলাম শিব বাবার পৌত্র। উত্তরাধিকার ওনার থেকেই পাওয়া যায়। ব্রহ্মারও সম্পদের উত্তরাধিকার ওনার থেকেই প্রাপ্ত হয় । ইনি তো হলেন মানব। সদ্গতিতে প্রথম নম্বরে হল শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ সকলের কাছে প্রিয়, কারণ তার হল সতোপ্রধান বাল অবস্থা। একটু বড় হলে তখন তাকে সতো অবস্থা বলা হয়। তারপরে হল রজঃ তমঃ। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধাই তারপর লক্ষ্মী-নারায়ণ হন। যাদেরকে বাবা জ্ঞান প্রদান করেছেন তাদেরকেই আবার দেবেন। ভারতেই দেবী দেবতারা ছিলেন। সেই কারণেই ভারতে মন্দিরও অনেক। খ্রীষ্টানদের চার্চে খ্রাইস্টই খ্রাইস্ট দেখতে পায় । দেবতাদের তো কতো কতো মন্দির। বাবা এসেছেন আমাদেরকে মানব থেকে দেবতা বানাতে বা ভারতকে স্বর্গ বানাতে। আমরা বাবাকে স্মরণ করে পবিত্র হচ্ছি। বাবার সাথে সাথে আমরাও ভারতকে স্বর্গ বানাচ্ছি। আমরাও বাবার সাথে এসেছি। ভক্তি মার্গে দেবতাদের মন্দির, মূর্তি ইত্যাদি কতো খরচা করে বানায়। সম্পত্তি বানিয়ে, সাজিয়ে গুছিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করে তারপর নষ্ট করে দেয়। ৯ দিনের মধ্যেই ভাসান দিয়ে দেয়। সে'সবের প্রতি কতো ভালোবাসা থাকে। নবরাত্রি কলকাতাতে খুব পালন করা হয়। এই সব জিনিস দেখে এখন ওয়ান্ডার লাগে। আগে তো আমরাও এই সব করেছি। কোটি কোটি টাকা এর পিছনে খরচ করেছি। কতখানি অন্ধশ্রদ্ধা ! রামায়ণের প্রতি মানুষের কতো ভালোবাসা। কাহিনী শুনে দু' চোখ দিয়ে জলধারা বয়। এ সব হল ভক্তি মার্গ, এতে লাভ কিছুই নেই। বাবা তুমি আমাদেরকে কতো সুবুদ্ধিসম্পন্ন বানিয়ে তুলছো ! তাই এখানকার কথা শুনে এখানেই ভুলে যেও না, সব কথা স্মরণে রেখো। একেবারে রিফ্রেশ হয়ে যাও। নিজেকে আত্মা মনে করে যা কিছু দেখছো, সব ভুলে যাও। এ সব হল কবরখানা। দিল্লিতে বিড়লা মন্দিরে লেখা আছে - ভারত পরিস্তান ছিল, ধর্মরাজ তার স্থাপনা করেছিলেন। এখন বাচ্চারা তোমরা জানো যে, এই দুনিয়া কবরখানায় পরিণত হবে।

বাবা বলেন - সবই কাম চিতাতে বসে একেবারে পুড়ে মরেছে। ক্রোধ চিতা বলা হয় না, কাম চিতা বলা হয়। তাতেও হাল্কা নেশা, সেমি নেশা হয়ে থাকে। বাচ্চাদেরকে বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। বাড়িতে যদি কুপুত্র থাকে, তাকে বলা হয় না বাবার সব সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিলি? বাবার সম্মানহানি হয়। অসীম জগতের বাবাও বলেন, তোমরা তোমাদের মুখে কালি দিলে, যিনি ব্রাহ্মণ কুলভূষণকে দেবতা বানান, তাঁর বদনাম করে ফেলো। বাচ্চারা তোমরা জানো - আমরা পবিত্রতার শক্তিতেই ভারতকে পুনরায় শ্রেষ্ঠাচারী দেবতা বানাই। তোমাদের জন্য যেন কমন ব্যাপার। তোমরা দেখতে পাচ্ছো যে মহাভারতের যুদ্ধও সামনে, এর দ্বারাই স্বর্গের গেট খোলে। শাস্ত্রে মহাভারতের যুদ্ধ তো দেখিয়েছে, কিন্তু এর পরে কি হল সে'সব দেখায়নি। বলে দেয় প্রলয় হয়ে গেল। এদিকে একদিকে তো কৃষ্ণের জন্য মায়ের গর্ভে দেখিয়েছে আবার অন্যদিকে বলে অশ্বত্থ পাতার ওপরে আঙুল চুষতে চুষতে সে এসেছিল। কিছুই বোঝে না। সেখানে তো গর্ভ মহলে খুবই আরামে থাকে। আর সাগরে পাতা ভেসে যাওয়া কী সম্ভব? ইম্পসিবল। এই সব ড্রামা আসলে বানানো হয়েছে, তা তোমরা জানো। কল্প কল্প ধরে এই রকমই হয়। এখন বাচ্চাদের নিজেদের কল্যাণ করতে হবে আর অন্যদেরও কল্যাণ করতে হবে । মূল কথা হলো এটাই। বাবা তো হলেন স্বর্গের রচয়িতা । ওনারকে বলাই হয় হেভেনলি গড ফাদার। তাহলে আমরা বাচ্চারা স্বর্গের মালিক হওয়া উচিত। শিব জয়ন্তীও ভারতেই পালন করা হয়। অতএব নিশ্চিতই তিনি ভারতকে কিছু দিয়েছিলেন ! এখন তোমাদেরকে স্বর্গের বাদশাহী দিচ্ছেন । বাবাই হলেন সদ্গতি দাতা। জ্ঞানের সাগর তিনি, নলেজ বাবা'ই এসে প্রদান করেন। এখন বাবা তোমাদেরকে নলেজ প্রদান করছেন। ৫ হাজার বছর পরে আবারও এখানেই আসবেন। বাচ্চাদের নিশ্চয় আছে, যারা যারা এই ব্রাহ্মণ কুলের হবে, তারা আসতেই থাকবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মিক পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) শ্রীমৎ অনুসারে নিজের এবং অন্যদের কল্যাণ করতে হবে । কেউ কোনো অসত্য কথা বললে, শুনেও না শোনার চেষ্টা করো। সেসব শুনে বিগড়ে যাবে না।

২ ) কখনোই যেন দেবতা হতে যাওয়া ব্রাহ্মণ কুলভূষণদের নাম বদনাম না হয় - এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোনোরূপ উল্টো কর্ম কখনোই করবে না। পুরানো হিসাব-পত্র মিটিয়ে ফেলতে হবে।

বরদান:-
নেশা আর নিশানা-র স্মৃতির দ্বারা সকল কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে অর্ডার অনুসারে চালনাকারী মুকুট ও সিংহাসনধারী ভব

সঙ্গম যুগে বাপদাদার দ্বারা সকল বাচ্চাদের মুকুট আর সিংহাসন প্রাপ্ত হয়েছে। পিওরিটিরও মুকুট আছে আবার দায়িত্বেরও মুকুট আছে, অকাল তখ্তেও যেমন অধিষ্ঠিত আছো তেমনই বাপদাদার দিলতখ্তেও অধিষ্ঠিত আছো। যখন এইরকম ডবল মুকুট আর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত আছো তখন নেশা আর নিশানা স্বতঃ স্মরণে থাকে। তখন এই কর্মেন্দ্রিয়গুলিও জি হুজুর করবে। যে মুকুট আর সিংহাসন ছেড়ে দেয় তার আদেশ কোনও কর্মেন্দ্রিয় মান্য করে না।

স্লোগান:-
দুর্বল সংকল্পই প্রসন্নচিত্তের পরিবর্তে প্রশ্নচিত্ত বানিয়ে দেয়।

অব্যক্ত ঈশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) ভব

ঈশ্বরীয় সেবার সবথেকে বড় পূণ্যের কাজ হলো - পবিত্রতা দান করা। পবিত্র হওয়া আর পবিত্র বানানোই হল পূণ্যাত্মা হওয়া কেননা কোনও আত্মাকে আত্মঘাত মহাপাপ থেকে মুক্ত করছো। অপবিত্রতা হল আত্মঘাত। পবিত্রতা হলো জীবনদান।