18-10-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 02-02-2012 মধুবন


‘‘এখন স্মৃতি স্বরূপ অনুভবের অথরিটি হও, জ্বালামুখী যোগের দ্বারা সবাইকে লাইট-মাইটের কিরণ দিয়ে সহযোগ দাও"


আজ বাপদাদা নিজের সামনে বা চারদিকের নিজের ছোট সংসারটিকে দেখে আনন্দিত হচ্ছেন, কারণ এই সংসার ছোট হলেও অত্যন্ত প্রিয়। কারণ এই সংসারের প্রত্যেক আত্মা শ্রেষ্ঠ আত্মা, কোটি কোটির মধ্যে কতিপয় আত্মা। তারা বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী আত্মা। বাপদাদা সব বাচ্চাকে দেখে খুশি হন যে, এই একেক বাচ্চা হলো রাজা বাচ্চা। বাপদাদা সব বাচ্চাকে স্বরাজ্য অধিকারী এবং বিশ্ব রাজ্য অধিকারী বানিয়েছেন। এই সময়ে সকলেই স্বরাজ্য অধিকারী, অর্থাৎ মন-বুদ্ধি, সংস্কার এবং কর্মেন্দ্রিয়ের রাজা। তারা কর্মেন্দ্রিয়ের বশীভূত নয়। মনেরও মালিক। তো, এভাবেই তোমরা প্রত্যেক বাচ্চা নিজেকে মনের মালিক, সংস্কারেরও মালিক মনে করো? এমন তো নয় যে, কখনো তোমরা মনের মালিক হও আর কখনো মন তোমাদের মালিক হয়ে যায়!

কেননা, তোমরা বলেই থাকো আমার মন, আমি মন নই! তো আমিত্বের মালিক তোমরা! চেক করো মন কখনো মালিক হয়ে যায় না তো! কেননা এই সময় বাপদাদা তোমাদের প্রত্যেককে স্বরাজ্য অধিকারীর সিটে বসিয়েছেন। বর্তমানে তোমরা স্বরাজ্য অধিকারী আর ভবিষ্যতের রাজ্য তো তোমাদের আছেই। ডবল রাজ্য অধিকারী তোমরা। বাপদাদা দেখেন সব বাচ্চা স্বরাজ্য অধিকারী হওয়ার সাথে সাথে তারা স্বমানধারীও। তো আমি স্বমানধারী আত্মা, এই স্মৃতিতে যদি বসো তো দেখবে কত স্বমানের লিস্ট তোমাদের সামনে আসে! অনেক স্বমানের মালা সামনে এসে যায় তো না!

বাপদাদা প্রতিটি বাচ্চার গলায় স্বমানের মালা পরিয়ে দিয়েছেন। স্বমান শব্দ শুনতেই তোমাদের সামনেও নিজের স্বমান স্মৃতিতে এসে গেছে! স্মরণ করো, অনাদি স্বরূপে তোমার স্বমান কত বড়! চলে গেছ অনাদি স্বরূপে? প্রত্যেকের স্বমান হ'লো - এক তো বাবার সাথে এক দীপপ্রভ আত্মা, বাবার সাথের কারণে যা বিশেষভাবে দ্যুতিময় দেখাচ্ছে। দেখতে পাচ্ছ তোমরা? যেমন এখানের আকাশে কোনো কোনো তারা বিশেষভাবে জ্বলজ্বল করে, ঠিক তেমনই বাবার সাথে হওয়ার কারণে তোমরা সমুজ্জ্বল আত্মা। স্মরণে এসেছে নিজের অনাদি স্বরূপ? এক সেকেন্ডে নিজের অনাদি স্বরূপে স্থিত হতে পারো? এখন এক সেকেন্ডে সেই অনাদি স্বরূপে স্থিত হয়ে যাও এক সেকেন্ডের জন্য। কত নেশা জাগে! অগ্রচালিত হও, এই সৃষ্টি চক্রের আদিতে চলে এসেছ! এই ড্রিল করো সত্যযুগের আদিতে নিজের স্বরূপ দেখ, কত শ্রেষ্ঠ ও সুখময় স্বরূপ! কত সর্বপ্রাপ্তি স্বরূপ! সেখানে দুঃখের লেশমাত্র নেই! প্রকৃতি কত সুন্দর সতোগুণী! নিজের দেবতা স্বরূপকে অনুভব করো। নিজের স্বরূপ দেখতে পাচ্ছ? কোনো রাজা, মহাত্মা বা কোনো নেতাই হোক না কেন, এমন সর্বপ্রাপ্তি স্বরূপ কেউ দেখেছে! তো এক সেকেন্ডের জন্য নিজের দেবতা স্বরূপে স্থিত হয়ে যাও। নিজের স্বমানে আনন্দ আসে তো না! আমরাই সেই দেবতা... বাপদাদা এই ড্রিল করাচ্ছেন। আবার নিচে এসো, কোন যুগ এসে গেল? দ্বাপরেও তোমাদের স্বমান পূজ্য রূপের। পূজ্য স্বরূপ। নিজের পূজ্য স্বরূপকে দেখতে পাচ্ছ? সবাই কত ভক্তিভরে নিয়ম অনুযায়ী পূজা করে। এমন নিয়ম অনুসারে আর কারও পূজা হয় না। তা' ধর্মপিতাই আসুক না কেন, গুরু হোক, নেতা হোক বা অভিনেতা হোক - এমন নিয়মানুসারে পূজা কারও হয় না। তো নিজের স্বমান দেখলে, অনুভব করেছ? এবার এসো সঙ্গমে, সবাই চক্কর লাগাচ্ছ তো? পিছনের তোমরা চক্কর লাগাচ্ছো! হাত তোলো। দেখো নিজের স্বমান, কেননা তোমরা স্বরাজ্য অধিকারী তো না! তো সঙ্গমে স্বয়ং ভগবান, স্বয়ং মালিক তোমাদের জীবনে তোমরা সব বাচ্চার মধ্যে পবিত্রতার বিশেষত্ব ভরে দেন। যে পবিত্রতা তোমাদের সমস্ত অবিনাশী সুখের খনি। আর যিনি তৈরি করেন তিনি কে? স্বয়ং ভগবান। বাবার থেকে পবিত্রতার সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ সেতো এখনই হয়ে গেছে! এবার চেক করো - পবিত্রতাই হলো সকল প্রাপ্তির আধার - পবিত্রতার দ্বারাই তোমরা সকলে মাস্টার সর্বশক্তিমান হয়ে গেছ। তো চেক করো সর্বশক্তি প্রাপ্ত হয়েছে কিনা! কোনো কোনো বাচ্চা বলে, বাবা তো সর্বশক্তি দিয়েছেন কিন্তু কখনো কখনো যে সময়ে যে শক্তির প্রয়োজন, তা' কিছু টাইমের পরে আসে। পরিস্থিতি পুরোপুরি মিটে যাওয়ার পর আসে। এর কারণ কী? বরদান হিসেবে বাবা তো দিয়েছেন, তবুও সময়ে আসে না, এর কারণ কী? তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমান- এর স্মৃতির সিটে থাকো না। কেউ যখন কারও নির্দেশ মানে, তখন যে সিটে থাকে তার অর্ডারই মানে। তো যখনই তোমরা কোনো শক্তিকে অর্ডার করো, প্রথমে এটা দেখ যে তুমি স্মৃতির সিটে আছো কিনা! স্বমানের সিটে আছো কিনা! স্মৃতির সিটে স্থিত হয়ে যাও, তবেই সর্বশক্তি তোমার কাছে সময়মতো আসার জন্য বাঁধা হয়ে আছে; কেননা, সর্বশক্তিমান বাবা তোমাকে মাস্টার সর্বশক্তিমান বানিয়েছেন। তো এত পাওয়ারফুল স্বমানধারী হয়ে চলছ তো না? নিজের স্বমান দেখেছ? সঙ্গমের পর কোথায় যাবে? রিটার্ন জার্নি করবে তো, তাইনা! সেইজন্য বাপদাদা এটাই চান যে, তোমরা প্রত্যেকে সারাদিনে এই এক্সারসাইজ করতে থাকো। বারবার সময় বের করে এই স্বমানের মালা পরলে, অনুভব করলে, বাপদাদা যে তোমাদের স্বরাজ্য অধিকারী বানিয়েছেন, তা'তে এমন হতেই পারে না যে সেই স্বমান তোমার অর্ডারে চলবে না। শুধু নিজের সিটে সেট থাকো। বাপদাদা দেখেছেন যে সবাই অ্যাটেনশন রাখে, কিন্তু নিয়মিতভাবে তোমরা নিজের দিনচর্যা সেট করো। মাঝে মাঝে নিজের এই স্বমানের স্মৃতিস্বরূপে স্থিত থাকো। যেমন ট্রাফিক কন্ট্রোল করো, তেমনই আদিকাল থেকে রিটার্ন জার্নি পর্যন্ত মাঝে মাঝে স্বমানের স্মৃতির জন্য টাইম ফিক্স করো। ঘুরতে ফিরতে এটা তোমরা করতে পারো, কেননা মনকে সিটে বসাতে হবে।

বাপদাদা দেখেছেন, আগেও বলেছেন যে, যোগ তোমরা সবাই করো, কিন্তু এখন কী প্রয়োজন? সময়ের অবস্থা দেখে আগেও বলা হয়েছে যে, এখন জ্বালামুখী যোগের আবশ্যকতা রয়েছে। যার দ্বারা ডবল কাজ হবে। এক তো নিজের পুরানো সংস্কার পুরোপুরি শুদ্ধিকরণ হবে। এখন তোমরা সংস্কারগুলোকে শুধু মারো কিন্তু পুড়িয়ে ফেলো না। মেরে ফেলার পরও সেগুলো মাঝে মাঝে আবার জেগে ওঠে। যেমন রাবণকে শুধু মারা হয়নি, পোড়ানো হয়েছিল। ঠিক তেমনই, তোমরাও তোমাদের সেই পুরনো সংস্কারগুলো - যা মাঝে মাঝে তীব্র পুরুষার্থে খামতি এনে দেয়, সেগুলোকে শেষ করার জন্য জ্বালামুখী যোগের প্রয়োজন। এক হ'লো নিজের জন্য, আর দ্বিতীয়তঃ, জ্বালামুখী যোগের দ্বারা তোমরা নিজেরা লাইট এবং মাইট রূপ হওয়ার কারণে, অন্যান্য আত্মাদেরও তোমাদের কিরণের মাধ্যমে সহযোগ দিতে পারো। তো এখন সবাই নিজের যোগকে জ্বালামুখী যোগে পরিবর্তন করেছো? সময় অনুসারে এখন অন্য আত্মাদের জন্য তোমাদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। বাকি বাপদাদা তো অমৃতবেলায় সব বাচ্চাকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে থাকেন।

বাপদাদা দেখেন যে, তোমরা লক্ষ্য খুব ভালো রাখো, সাহসও রাখো; কিন্তু সারা দিন সেই অ্যাটেনশনে থাকা - ঠিক যেমন অমৃতবেলায় থাকো, তা' কমে যায়। এর কারণ কী? তোমরা যখন কর্মে যুক্ত হও, তখন কর্মযোগী হয়ে কর্ম করার ব্যাপারে তারতম্য হয়ে যায়। তোমরা শুধু যোগ লাগানোর পাত্র নও, তোমরা যোগী জীবনের রূপকার। জীবন সবসময় থাকে, কখনো কখনো নয়। তো বাপদাদা এখন কী চান? ভালোবাসায় তো অধিকাংশই পাস হয়েছ। ভালোবাসার সাবজেক্টে বাবা দেখেছেন যে, মেজরিটি বাচ্চা বাবার সাথে আমার বাবা, আমার বাবা ব'লে ভালোবাসার অনুভব করে। ভালোবাসায় তো মেজরিটি পাস, কিন্তু এখন কোন বিষয়ে পাস করতে হবে? বাবার সমান হ'তে হবে। সবাই কী চাও? বাবার সমান হতে হবে, নাকি বাবা বাবাই থাকবেন! তোমরা বাচ্চা তো বাবার সমান তো হতেই হবে। ভালোবাসা মানে কী? যিনি ভালোবাসেন তিনি যা বলেন, তা' করতেই হবে। তো সবাই তোমরা বাবার প্রিয়, বাবার ভালোবাসা তোমার প্রতি রয়েছে - এ' বিষয়ে হাত তোলো। ভালোবাসা আছে? আচ্ছা, ভালোবাসা আছে! তো এখন বাপদাদা এটাই চান যে, যেমন ভালোবাসা আছে, তেমনই এই লক্ষ্য রাখো - আমাদের বাবা সমান হতেই হবে, এ বিষয়ে হাত তোলো। তো নিশ্চয় বজায় রাখো তোমরা! হাত তো খুব ভালোই তোলো। বাপদাদা দেখছেন।

বাপদাদা চান যে প্রত্যেক বাচ্চার মুখমণ্ডল ও আচার-আচরণের দ্বারা এমন আনন্দময় ও সৌভাগ্যবান প্রতীয়মান হোক, কেননা সময় অনুসারে এখন তোমাদের মুখমণ্ডল অনেক সেবা করবে। এর প্রয়োজন পড়বে। এর জন্য বাপদাদা চান যে এখন থেকেই লক্ষ্য রাখো, যেমন এখন এই ৭৫ বছরের কারণে সবার মধ্যে সেবা করার উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে, তেমনই মুখমণ্ডল দ্বারা সেবা করার উৎসাহ- উদ্দীপনা যেন থাকে। কারণ দিন দিন সঙ্কটজনক সময় আসতেই থাকবে। আর এমন সময়ে তোমাদের মুখমণ্ডল যেন অন্য আত্মাদের চিয়ারফুল বানায়।

বাপদাদা আজ অমৃতবেলায় পরিভ্রমণ করেছেন, তো তিনি কী দেখলেন? সবাই নিজের ইচ্ছা ও আগ্রহ নিয়ে বসে, কিন্তু সবচেয়ে বড় অথরিটি হ'লো অনুভবের। তো দেখলেন যে সবাই বসে, কিন্তু অনুভবের অথরিটি স্মৃতিতে বসে, তবে তা' যেন স্মৃতিস্বরূপ অনুভব হয়। অনুভবের অথরিটির সেই আনন্দ খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়।

তোমরা ভেবে থাকো যে আমি বাপদাদার সিংহাসনাসীন, কিন্তু স্বরূপের স্মৃতিস্বরূপ অনুভাবী মূর্ত হয়ে অনুভবের গভীরে হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন আরও এগিয়ে যেতে হবে; কারণ অনুভবের অথরিটি সর্বাধিক বড়। স্মৃতি স্বরূপ হয়ে থাকাকেই বলা হয় অনুভব। তো যে স্বরূপের স্মৃতি বজায় রাখছ তার অনুভবে হারিয়ে যাওয়া, স্বরূপের অনুভূতিতে নিমগ্ন থাকার আরও প্রয়োজন রয়েছে; কেননা অনুভব কখনো ভোলা যায় না। অনেক সময়, তোমরা কোনো বিষয়কে অন্য কারো অনুভবের দ্বারা কোনো বিষয় কাউকে শোনানোর চেষ্টা ক'রে থাকো, কেননা অনুভবের প্রভাব থাকে। তো নিজের যে স্বরূপ স্মৃতিতে রাখছো, সেই স্বরূপের অনুভূতিতে হারিয়ে যাও, অনুভব নিজের পুরুষার্থেও খুব সাহায্য করে। তাই বাপদাদা দেখেছেন যে, অনুভবের অথরিটিতে তোমরা নম্বর ক্রমানুসারে আছ। সুতরাং এখন এই অনুভবের অথরিটির অভ্যাসের প্রতি আরও অ্যাটেনশন দাও। অনুভব স্বরূপ হওয়ার স্থিতি সদা সমাহিত থাকে, চেহারা ও আচার-আচরণ সেবা করে।

আজ বাপদাদা বাচ্চাদের রেকর্ড দেখছিলেন। এক তো জ্বালামুখী যোগের প্রতি আরও অ্যাটেনশন দাও, যাতে স্বভাব ও সংস্কার পরিবর্তনে সহযোগ পাবে। সংস্কার যাকে তোমরা স্বভাব বা নেচার বলো, তা' এখনও মাঝে মাঝে নিজের কাজ করে ফেলে। আর তো বাপদাদা খুশি। কোন বিষয়ে? জানো তোমরা, কোন বিষয়ে বাপদাদা খুশি? বাপদাদা দেখেছেন যে ক্রমাগত তোমরা মুরলি শুনতে শুনতে আজকাল তোমাদের নিজেদের দিনচর্যার প্রতি অ্যাটেনশন বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাটেনশন বেড়েছে, সুতরাং তোমাদের সংস্কারের যে টেনশন তা' ক্রমশঃ কমতে থাকবে।

বাপদাদা আগেও বলেছেন, যখনই টেনশন আসবে, তখন 'এ' লাগিয়ে দাও, অ্যাড করে দাও 'এ' অ্যাটেনশন (attention)। সবাইকে তো এগিয়ে চলতেই হবে। এই প্রতিজ্ঞা তো একদম পাক্কা - আমরা একসাথে চলবো, একসাথে রাজত্ব করবো। তাহলে সবাই তোমরা খুশি? নাকি কখনো কখনো খুশি? যারা মনে করো আমরা সব সময় খুশি থাকি, কখনো কখনো নয় - সব সময় খুশি থাকি, তারা ভেবেচিন্তে হাত উঠাও। আচ্ছা! হাতও ভেবেচিন্তে তুলছ! খুশি নিজের জিনিস। নিজের জিনিস কেন হাতছাড়া হবে? তাহলে এখন কী করবে? সামনে তো এগিয়ে চলতেই হবে। তো ভবিষ্যতের জন্য এখন কী করবে? সব সেন্টার নির্বিঘ্ন, ব্যর্থ সঙ্কল্প বিহীন হতে পারে? হতে পারে? নাকি এর জন্য সময় প্রয়োজন? এখনও পর্যন্ত বাপদাদার কাছে কোনো সেন্টার এই রিপোর্ট দেয়নি যে আমাদের সেন্টার সদা নির্বিঘ্ন। সাথীরাও, শুধু নিজে নয়, সাথীরাও নির্বিঘ্ন। সেই সময়ও আসতে চলেছে। হয়ে যাবে, কারণ তৈরি তো বাচ্চাদেরই হতে হবে এবং কেউ কেউ উদাহরণ হিসেবে সামনে আসবে যারা পরে এসেও তীব্র পুরুষার্থ ক'রে এগিয়ে যাবে, কিন্তু মেজরিটি তোমাদেরকেই তো আরও এগিয়ে যেতে হবে। বাপদাদা দেখেছেন যে মুরলির প্রতি ভালোবাসা মেজরিটির রয়েছে, কিন্তু জগদম্বা যেমন তার প্রত্যক্ষ জীবনে দেখিয়েছে যে বাবা যা বলেছেন তা' করতেই হবে, লক্ষ্য রেখেছে এবং পুরুষার্থের দিকে অ্যাটেনশনও দিয়েছে, তেমন তোমাদের দিদি-দাদিরা যারা অ্যাডভান্স পার্টিতে গেছে, তারাও অ্যাটেনশন দিয়েছিল, এখন তারা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা জিজ্ঞাসা করে যে সমাপ্তির গেট কখন খুলবে? এক-দু'জন তো খুলবে না, তাইনা! তো এখন পুরুষার্থ করো যাতে সময়কে, গেট খোলার সময়কে সমীপে নিয়ে আসা যায়। সম্পন্ন হওয়া অর্থাৎ সমীপে নিয়ে আসা।

বাপদাদা চতুর্দিকের সকল বাচ্চাকে অন্তরের স্নেহ দিচ্ছেন। এর সাথে সাথে বাপদাদা যে দু'মাসের কাজ দিয়েছিলেন, তারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, কেন? কেননা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ব্যর্থ সংকল্প পুরুষার্থকে তীব্র করার পরিবর্তে সাধারণ করে দেয়। সেইজন্য চারদিকের বাচ্চাদের বাপদাদা স্মরণ- স্নেহের সাথে সাথে এই স্মৃতিও জাগিয়ে দিচ্ছেন - এখন সঙ্গমযুগ কত শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দর! এই সঙ্গম যুগেই বাবার থেকে সমুদয় ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়। সঙ্গমের এক-একটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ, সেইজন্য সঙ্গমযুগের সময়ের মূল্য সদা নিজের বুদ্ধিতে বজায় রাখো। সঙ্গমের একটি সেকেন্ড কত প্রাপ্তি করায়! কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে যে তোমরা কী পেয়েছো, তাহলে কী জবাব দেবে? আমরা সব ব্রাহ্মণের হৃদয়ে অপ্রাপ্ত কোনো বস্তু নেই। যা পাওয়ার ছিল, তা পেয়ে গেছি। এখন সেসব কার্যে প্রয়োগ ক'রে তীব্র পুরুষার্থী হয়ে সময়কে কাছে নিয়ে এসো। আচ্ছা। বাপদাদা দেখছেন যে সকলের মনেই উৎসাহ-উদ্দীপনা আসছে, আর এই উৎসাহ-উদ্দীপনা সদা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকো। আচ্ছা।

বরদান:-
নিজের স্বরূপের দ্বারা ভক্তদেরকে লাইটের ক্রাউনের সাক্ষাৎকার করানো ইষ্ট দেব ভব

যখন থেকে তোমরা বাবার বাচ্চা হয়েছো, পবিত্রতার প্রতিজ্ঞার রিটার্ণে তো লাইটের মুকুট প্রাপ্ত হয়ে গেছে। এই লাইটের মুকুটের কাছে রত্ন জড়িত মুকুট কিছুই নয়। যত-যত সংকল্প, বাণী আর কর্মে পিওরিটি ধারণ করতে থাকবে ততই এই লাইটের ক্রাউন স্পষ্ট হতে থাকবে আর ইষ্ট দেব রূপে ভক্তদের সামনে প্রত্যক্ষ হতে থাকবে।

স্লোগান:-
সদা বাপদাদার ছত্রছায়ার নিচে থাকো, তাহলে বিঘ্ন বিনাশক হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে অপকারীরও উপকার করো যেরকম বাপদাদা সদা বাচ্চাদের সাথে প্রত্যেক কদমে সহযোগী আছেন আর শেষ পর্যন্ত থাকবেন। বাবা কাউকে ঘৃণা করেন না। সর্বদা অপকারীদেরও শুভ চিন্তক ছিলেন। এইরকম ফলোফাদার করো। প্রত্যেক আত্মার প্রতি সদা শুভ ভাব আর ভাবনা রাখো। এই আত্মা এইরকম কেন করলো, এটা চিন্তা করার পরিবর্তে এই আত্মার কল্যাণ কিভাবে হবে - সেটা চিন্তা করো, তখন বলা হবে শুভ চিন্তক বা বিশ্ব কল্যাণকারী আত্মা। বিশেষ সূচনা :- মাসের তৃতীয় রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সকল ভাই-বোন সংগঠিত রূপে একত্রিত হয়ে সন্ধ্যা ৬.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত নিজের শান্ত স্বরূপ স্থিতিতে স্থিত হয়ে, শান্তির সাগরের গভীরে গিয়ে সেই পরম সুখ বা শীতলতার গভীর অনুভূতি করবে তথা সকল আত্মাদেরকে শান্তি প্রদানের সেবা করবে।