19-07-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
18-01-2011 মধুবন
‘‘ব্রহ্মা বাবা সমান জীবনে থেকে জীবনমুক্ত স্থিতির
অধ্যাত্ম আনন্দ নাও, মনজিৎ জগতজিৎ হয়ে স্নেহের উপহার দাও"
আজকের দিন ব্রহ্মা বাবার অব্যক্ত হওয়ার বিশেষ স্মৃতির দিন। সব বাচ্চার নয়নে ব্রহ্মা
বাবার স্নেহ সমাহিত হয়ে আছে। আজ চারটে বাজার আগেই বাচ্চাদের স্নেহ বতনে পৌঁছে গেছে
ব্রহ্মা বাবার সাথে মিলন উদযাপন করতে। স্নেহের প্রতীক, নিজের হৃদয়ের স্নেহের
নিদর্শন হিসেবে মাথা পৌঁছে গেছে ব্রহ্মা বাবার কাছে। প্রতিটা মালার সুগন্ধিতে
বাচ্চাদের স্নেহ সমাহিত হয়েছিল। প্রত্যেক বাচ্চার নয়ন আর সুন্দর স্মিত হাসি হৃদয়ের
কথা বলছিল। ব্রহ্মা বাবাও তোমাদের প্রত্যেককে স্নেহের রিটার্ন দিচ্ছিলেন। বাবা
দেখছেন যে এখনও সব বাচ্চা নয়নের ভাষাতে নিজের হৃদয়ের স্নেহ দিচ্ছে, কেননা এই
পরমাত্ম স্নেহ সব বাচ্চাকে সহজে বাবার বানায়। এই অলৌকিক স্নেহ তাঁকে তোমাদের বানায়
আমার বাবা-র অনুভব দ্বারা। এই স্নেহ বাবার ভাণ্ডারের মালিক বানায়। কেননা, বাচ্চারা
বলেছে আমার বাবা তো আমার বাবা বলার সাথে সাথে সর্ব ভাণ্ডারের মালিক হওয়া - এই স্নেহ
দেহের বোধ সেকেন্ডে ভুলিয়ে দেহী অভিমানী বানিয়ে দেয়। বাবা ব্যতীত অন্য কিছুই আত্মাকে
আকর্ষণ করে না। এই দিনের অনেক বড় মহত্ত্ব আছে। শুধু স্মৃতি দিবস নয় বরং সমর্থী দিবস।
কেননা, এই দিন বাবা বাচ্চাদের বিশ্ব সেবার জন্য স্বয়ং করাবনহার হয়ে বাচ্চাদের
করণহার বানানোর তিলক দিয়েছেন। সন শোজ ফাদার এর করণহার হওয়ার নিমিত্ত বানিয়েছেন।
সেবাতে সফলতার সাধন স্বয়ং করাবনহার হয়েছেন আর বাচ্চাদের করণহার বানিয়েছেন। কেননা,
সেবাতে সফলতার সাধনে আমি করণহার, করাবনহার করাচ্ছেন। এই স্মৃতি বা এই স্থিতি অতি
আবশ্যক। কেননা, ৬৩ জন্মের স্মৃতি আমিত্ব বোধ অভিমানে নিয়ে আসে। করাবনহার করাচ্ছেন
আমি নিমিত্ত করণহার, এই স্মৃতি দ্বারাই নিজেকে নিমিত্ত মনে করায় দেহ অভিমান সমাপ্ত
হয়ে যায়। তো বাচ্চাদের সেইজন্য তিনি করণহার বানিয়েছেন, স্বয়ং করাবনহার হয়েছেন।
করণহার হওয়াতে আপনা থেকেই তোমরা নিমিত্ত অবধারক (নির্মাণ) হয়ে যাও। বাপদাদা
বাচ্চাদের সেবায় নিমিত্ত হয়ে করার কারণ হিসেবে বাবা দেখেছেন যে, যারা সেবাধারী
তাদের ললাটভাগে সেবার ফলরূপ নক্ষত্র ঝলমল করছে। মেজরিটি বাচ্চার সেবা দেখে বাপদাদা
খুশি, সেইজন্য এমন বাচ্চাদের ব্রহ্মাবাবা বিশেষভাবে বাঃ বাচ্চারা বাঃ ব'লে অভিনন্দন
জ্ঞাপন করছেন!
ব্রহ্মাবাবা বিশেষভাবে খুশিও হচ্ছেন আর ভবিষ্যতেও নিমিত্ত হয়ে সেবা এগিয়ে নিয়ে
যাওয়ার জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। এখনও ব্রহ্মাবাবা বাচ্চাদের নিজ সমান ফরিস্তা
স্থিতিতে থাকার জন্য ইশারা দিচ্ছেন। বাপদাদা দেখেছেন যে বাচ্চাদের অ্যাটেনশন আছে,
ব্রহ্মাবাবা যেমন জীবনে থেকে জীবনমুক্ত ছিলেন, এত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এত বড়
পরিবার সামলেছেন, সবার যোগী জীবন বানানো, সেবার এত দায়িত্ব পালন করা, সেবাতে সদা
বাচ্চাদের অগ্রচালিত করা এত সব কিছু দায়িত্ব সত্ত্বেও জীবনমুক্ত হওয়ার আধ্যাত্মিক
আনন্দে ছিলেন, সেইজন্য ভক্তি মার্গে ব্রহ্মার আসন রূপে কমল আসন দেখানো হয়।
জীবনমুক্ত হয়ে এখন জীবনমুক্তির অধ্যাত্ম আনন্দ নিয়েছেন এবং তোমরা সব বাচ্চাকেও এমনই
বানিয়েছেন। এখনও তোমরা সব বাচ্চাকে ফরিস্তা হওয়ার ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি ব'লে নিজ সমান
বানাতে চান।
বাপদাদা দেখেছেন সব বাচ্চার লক্ষ্য খুব ভালো, তোমাদের যে কোনো কাউকে যদি জিজ্ঞাসা
করা হয় তোমাদের লক্ষ্য কী তবে তোমরা কী বলো? স্মরণে আছে তোমরা কী বলো? বাবা সমান
হতেই হবে। তো বাবা সমান কী হবে? এই জীবনে জীবনমুক্ত জীবনের স্যাম্পল হবে। বাপদাদা
দেখেছেন যারা হোমওয়ার্ক দেয় তা'তে অ্যাটেনশন তো দেয়, অনুভবও করে কিন্তু সদা করে না।
এখনও পর্যন্ত যে কাজ তোমাদের দেওয়া হয়েছিল তার রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু বাচ্চা
পুরুষার্থ করতে একেক মাস অ্যাটেনশন দিয়েছে। রিপোর্টে কিছু জোনের এক মাসের রেজাল্ট
খুব ভালো এসেছে। যে জোন থেকে যারা তাদের রিপোর্ট পাঠিয়েছে বাপদাদা তাদেরকে বাহ্
বাচ্চারা! বাহ্! ব'লে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। কিন্তু বাপদাদা এখন কী চান? এখন
বাপদাদা সব বাচ্চার থেকে এটাই চান যে এখন তোমরা কখনো কখনো ঠিক থাকো কিন্তু বাবা চান
সদা হোক। তোমরা ভালো যোগী হয়েছে, কিন্তু বাবা তোমাদের সদা যোগী বানাতে চান। আজকাল
বাপদাদা বাচ্চাদের কাজও দেন, সদা থাকার জন্য প্রতি ঘণ্টায় নিজের ক্ষেত্রে কোনো না
কোনো যুক্তি রাখো যা কখনো কখনো শব্দের বদলে সদা শব্দ এসে যায়। এখন বাপদাদা এটাই চান
- যেমন প্রবাদ আছে, যে মন জিততে পারে সেই জগৎ জিত, মনকে যে সঙ্কল্পই দাও সে সেটাই
করে। কেন? যেমন অন্য কর্মেন্দ্রিয়গুলো যখন যেভাবে চাও তেমনই করে তো না! সেরকমভাবে
মনকে যে অর্ডার করবে যেন সেটাই করে। তোমরা অভ্যাস করো কিন্তু কখনো সেটা আবার করও
না। বাপদাদা এখন এটাই চান যে, মনের শক্তির লাগাম দ্বারা যেভাবে চালাতে চাও সেভাবে
চালাও। যে গায়ন আছে মন জিতলে জগতজিত, এটা কার গায়ন? তোমরা সব বাচ্চারই তো গায়ন! সব
কল্প করেছ তবেই গায়ন হয়েছে। কেননা, যেরকম অন্যান্য কর্মেন্দ্রিয়কে আমার বলো সেরকমই
মনকেও আমার বলে থাকো তোমরা। আমার বলা অর্থাৎ মালিক হওয়া। মনে যে সঙ্কল্প করতে চাও
যত সময় সঙ্কল্প করতে চাও তা' আবদ্ধ হয়ে আছে। কেননা, আমিত্ব রয়েছে। তো বাপদাদা এই
স্নেহের দিনে এই হোমওয়ার্ক দিতে চান যে সঙ্কল্প করতে চাও সেই সঙ্কল্পই উৎপন্ন হোক,
যদি তোমরা শুদ্ধ সঙ্কল্প করতে চাও তবে সেই শুদ্ধ সঙ্কল্প যেন ব্যর্থকে সমাপ্ত করে
দেয়। চাইছ যোগ লাগাতে আর সংস্কারের কারণে ব্যর্থ সঙ্কল্প চলছে কিংবা যোগের সিদ্ধি
প্রাপ্ত হচ্ছে না তাহলে এই কন্ট্রোল তো থাকা উচিত! যদি এক ঘণ্টা যোগ লাগাতে চাও তো
মন যেন ডিস্টার্ব না করে! আত্মা মালিক, মন মালিক নয়। মন তো আত্মার সাথি। তো সাথিকে
ভালোবেসে অর্ডার করো মনজিত হও। কেননা, বাপদাদার কাছে অনেক বাচ্চার সমাচার আসে - সময়
সময়তে ব্যর্থ সঙ্কল্প আসে। চাই না তবুও আসে। তো এটা কি মালিক হওয়া বলবে! তোমাদের
ব্রহ্মা বাবার প্রতি স্নেহ আছে তো না! তো বাবা আজ স্নেহতে নিজের হৃদয়ের দাবি
জানাচ্ছেন, এখন মনজিত জগৎজিত হতেই হবে। তো ব্রহ্মা বাবাকে স্নেহের এই উপহার দেবে?
স্নেহতে কী দেওয়া হয়? গিফ্ট দেওয়া হয় তো না! তো আজ ব্রহ্মা বাবা বাচ্চাদের এই উপহার
দেওয়ার জন্য বলছেন। তোমরা প্রস্তুত? প্রস্তুত তোমরা? হাত তোলো। তো এখন, যখন অর্ডার
করছো তখন আজকের দিন থেকে ব্যর্থ সঙ্কল্প আসতে দিও না। করতে পারবে? আজ দু'-চার ঘণ্টা
যোগের স্টেজে থেকে কর্মই করো বা যোগ লাগাও করতে পারবে? পারবে করতে? করবে? ঠিক আছে,
যা অতীত তা' অতীত হতে দাও কিন্তু আজকের দিনে মনকে অর্ডার করো, হবে। এখন থেকে ব্যর্থ
সঙ্কল্পে ফুল স্টপ দিতে হবে, হবে তো না!
আজ যোগে এটাই লক্ষ্য রাখো এই অনুসারে সারাদিনের পুরুষার্থ করতে হবে। বাবার প্রতি
স্নেহতে সেটাই করতে হবে যা বাবা বলবেন। ব্যর্থ সঙ্কল্প বনধ্ - এর যুক্তি হলো
ব্রহ্মাবাবার স্নেহ অন্তর্মনে স্মরণ করো। হতে পারে তাঁকে সাকারে দেখেছ অথবা দেখনি
কিন্তু বুদ্ধিবল দ্বারা তো সবাই দেখেছ তো না! দেখেছ, নাকি দেখনি? যারা বলে আমি
বাবার ভালোবাসা দেখেছি, ব্রহ্মাবাবার পালনা দেখেছি তো সেরকম অনুযায়ী চলছি, তারা হাত
তোলো। আচ্ছা। হাত তুলে তো খুশি ক'রে দিয়েছো। বাপদাদা খুশি, তবুও তো তোমরা সাহস
রেখেছো না! কিন্তু যখনই তোমাদের মানসিক বল কম হয়ে যায় তখন বাবার সাথে সদা কত
সম্বন্ধ আছে তা' স্মরণ করো। কখনো বাবা কখনো বাচ্চাও হয়ে যান। কখনো বাচ্চা তো কখনো
সখাও হয়ে যান। সেইজন্য হয় সম্বন্ধ স্মরণ করো অথবা প্রাপ্তি স্মরণ করো। প্রাপ্তি আর
সম্বন্ধ আজ যেমন অন্তর্মনে স্মরণ করছনা, তেমনই স্মরণ করায় স্নেহ- ভালোবাসা বিকশিত
হবে। আজও সবার হৃদয়ে ব্রহ্মাবাবার ভালোবাসার বিকাশ ঘটছে তো না! সুতরাং যখনই কিছু
উপর নিচে হবে তখন সম্বন্ধ আর সমূহ প্রাপ্তি স্মরণ করো। তো বুঝেছো আজ কী করতে হবে?
মনজিত জগৎজিত-এর যে গায়ন আছে সেই স্বরূপ ধারণ করতে হবে। অর্ডারে চালাও। এখন তোমরা
একটু ফ্রী ছেড়ে দিয়েছ তো না! তাইতো সে নিজের কাজ করছে। এখন অ্যাটেনশন দাও। মন আমার
অর্ডারে চলবে, নাকি মনের অর্ডারে তুমি চলবে! চাইছ জ্ঞানের বিষয় রোমন্থন করতে আর এসে
যায় তুচ্ছ বিষয়। সুতরাং কী হলো? মন মালিক হয়েছে, নাকি তুমি মালিক হয়েছো? তো সবাই
তোমরা হোমওয়ার্ক বুঝেছো? মনজিত হতে হবে। যা অর্ডার করবে সেটা মানবে, অবশ্যই মানবে।
অ্যাটেনশন দিতে হবে ব্যস্! মাতারা এবং টিচার্স হতে পারে? হতে পারে? টিচার্স হাত তোলো।
টিচার্স হাত তুলছে। যদি মনে করো হতে পারে তবে হাত নাড়াও। প্রথম লাইনের তোমরা অন্ততঃ
হাত তো নাড়াও। ভাই হাত নাড়াও। বাঃ! তাহলে তো ব্রহ্মাবাবাকে স্নেহের উপহার দিয়েছ, এর
জন্য অভিনন্দন, অভিনন্দন।
এটা ভালো, বাপদাদার প্রতি স্নেহপ্রেম অনেক সহযোগ দেয়। হৃদয় থেকে বলেছ আমার বাবা, তো
আমার বাবা বলেছ তাহলে আমি কে? বাবার হারানিধি বাচ্চা। সবাই কত বার বলো আমার বাবা
আমার বাবা, কতবার বলো? বাবা শোনেন তো না! সব নোট করেন। ডবল ফরেনার্সও শুনছে, তাই
না! বাপদাদা দেখেছেন যে ফুল সিজনে ডবল ফরেনার্স পূর্ণ উপস্থিতি রেখেছে। মধুবনে সব
টাইমে উপস্থিত থেকেছে। এখনও ৩৫০ রয়েছে। নিজের টার্নেও আসে কিন্তু সব টার্নেও অল্প
অল্প কোথাও না কোথাও থেকে আসে। তো এখন এই রেজাল্ট বাপদাদাও দেখতে থাকবেন আর তোমরাও
সবাই সাক্ষী হয়ে নিজের রেজাল্ট নিজে দেখতে থাকো। এটা স্মরণে রেখো যে, বাপদাদার কাছে
তোমরা মালিক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছো। বাপদাদা এখন বাচ্চাদের কমপক্ষে একটা জোনকে তো
এই কার্য দিতে পারেন যে এই জোন এই সপ্তাহে কিংবা ১৫ দিনে রেজাল্ট দেবে! ব্যর্থ
সঙ্কল্প নয় বরং যে বিষয় মনকে দিয়েছে সে করেছে, নাকি করেনি? টিচার্স এটা মঞ্জুর?
মঞ্জুর? জোনকে কার্য দেবেন বাবা? হাত তোলো। টিচার্স!
মহারাষ্ট্র আছে তো না! তো মহারাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেবেন তো না! বাপদাদার
প্রতিটা জোনের প্রতি ভালোবাসা আছে আর সদা এই নিশ্চয় বজায় রাখ যে এই বাচ্চারা বাবা
বলার সাথে সাথে সেটা করেছে, এমনটা কি? বাবা যা বলেছেন মহারাষ্ট্র করেছে, তাই কি?
যারা মহারাষ্ট্রের তারা হাত তোলো। অনেক আছে! ক্লাসের তিন চতুর্থাংশ। তো প্রতিটা জোন
বাবার আজ্ঞাকারী। কাঁধ নাড়াচ্ছে সবাই। বাবারও নিশ্চয় আছে যে আমার এই বাচ্চারা
অবশ্যই নিশ্চয়বুদ্ধি।
বাপদাদা এটাই চান প্রতিদিনের যে মহাবাক্য তা' হোমওয়ার্ক হিসেবে তোমরা শোনো।
প্রতিদিনের মুরলীতে বাবা যা বলেছেন যদি তোমরা বাচ্চারা তা' করছো তবে সেটা বলা হয়ে
থাকে বাবার হারানিধি বাচ্চা আজ্ঞাকারী বাচ্চা হিসেবে করছ। কী করতে হবে তোমাদের?
রোজের মুরলী পড়ো।। কেননা, বাপদাদা দেখেছেন মেজরিটি বাচ্চারা মুরলী ভালোবাসে। এমনকি
যদি কেউ নাও ভালোবাসে, যদি কোনো বাচ্চা বাপদাদাকে বলে, বাবা, আপনার জন্য আমার অনেক
ভালোবাসা আছে - কিন্তু বাবার ভালোবাসা কা'র প্রতি? তিনি মুরলী ভালোবাসেন। মুরলী
শোনাতে তিনি কত দূর থেকে আসেন! কোনো টিচার এমন হবে যে এত দূর থেকে পড়াতে আসবে! তো
বাবার ভালোবাসা যখন মুরলীর প্রতি তখন যারা আমার বাবা বলে তাদের প্রথম ভালোবাসা
বাবার সাথে বাবার মুরলির প্রতি হওয়া উচিত । দেখো, ব্রহ্মাবাবা একদিনও মুরলী মিস
করেননি। এমনকি যখন তিনি কারণে অকারণে বম্বে যেতেন তখনও তিনি মুরলী লিখতেন আর
মাতেশ্বরী সেই মুরলী শোনাতো। লাস্ট ডে-তে যখন শরীর তেমন ভালো ছিল না, তিনি সকালের
ক্লাস করাননি কিন্তু সন্ধ্যায় ক্লাস করানোর পরে অব্যক্ত হয়েছেন। তো ব্রহ্মাবাবার
ভালোবাসা কিসের প্রতি ছিল? মুরলির প্রতি। যারা মনে করে আমার ভালোবাসা বাবার জন্য তো
বাবার যার প্রতি ভালোবাসা ছিল বাচ্চাদেরও থাকা উচিত তো না! সেইজন্য বাবা মনে করেন
যে মুরলি পড়া উচিত বা ক্লাসে অধ্যয়ন করা উচিত, যদি কেউ নিরুপায় হয় এবং কোনো
অজুহাত দিচ্ছে না, একটা যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে, তাহলে অন্য কারও থেকে শোনো। যারা
উপলব্ধি করতে পারছ যে মুরলির এত গুরুত্ব বজায় রাখব তারা হাত তোলো। আচ্ছা, এখানে তো
সব দেখা যাচ্ছে, যারা পিছনে ব'সে আছো তোমাদেরও বাবা দেখছেন। আচ্ছা, খুব ভালো। বাবা
মাঝে মাঝে পেপার নেবেন। আজ যারা মুরলি শোনেনি টিচার তাদের নাম লিখে পাঠাও। পছন্দ তো
না! আচ্ছা। আজ ব্রহ্মাবাবা সব বাচ্চার সাথে মিলিত হয়ে সস্নেহে সব বাচ্চাকে নয়ন
দ্বারা অনেক অনেক স্নেহ দিচ্ছেন। আচ্ছা।
ডবল বিদেশি ভাই বোনেদের সাথে - ডবল বিদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ভালো। বাপদাদা এটাই
বলেন যে খুব সেবা করো। যে কোনো মুহূর্তে সময় বদলে যেতে পারে। চাইবে সেবা করতে কিন্তু
করতে পারবে না, এমন সময়ও আসবে। সেইজন্য যা করতে হবে তা' এখন করো। পরে নয় এখন।
বাপদাদা প্রায়শঃ বলে থাকেন পরে কখনো-এর ওপরে ছেড়ো না। আজ-এর ওপরেও নয়, এখন। কেননা,
সময় পাঁচ তত্ত্ব বাবার কাছে আসে - আমাদের বলো কত কাল যাবৎ দুঃখ চলবে! নিজেরাই দুঃখী
হচ্ছে তো কী করবে? মনুষ্যাত্মাদের দুঃখী করবে তো না! সুতরাং তোমরা যারা এসেছো তাদের
সঙ্কল্প করতে হবে, যেমন ব্রাহ্মণ জীবন আবশ্যক তেমনই এখনের সময় অনুসারে প্রত্যেককে
সেবা দেওয়াও আবশ্যক। করো বা করাও। আর তো বাপদাদা হোমওয়ার্ক দিয়েছেন, তোমাদের মনজিত
জগৎজিত হতেই হবে। তোমাদেরই গায়ন আছে, সেটা রিপিট করতে হবে। আচ্ছা।
চতুর্দিক থেকে বাচ্চাদের মারফৎ বার্তা এসেছে। চতুর্দিক থেকে ভালোবাসার মিষ্টি মিষ্টি
ভাবের কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শব্দের স্মরণের ভিন্ন ভিন্ন পত্র এসেছে। বাপদাদা সবাইকে
রেসপন্ড করছেন, সব বাচ্চা স্নেহের সাথে সদা বাবার হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছে আর বাবার এবং
বাচ্চাদের এই অবিনাশী স্নেহ সদা অনাদি, অবিনাশী। সমগ্র সঙ্গমযুগে বাবা আর বাচ্চাদের
এই মিলন স্থিরীকৃত। আচ্ছা।
এখন যে বাচ্চারা সমুখে বসে কিংবা দূরে বসেও দেখছে, বাপদাদা শুনেছেন যে এখন চতুর্দিকে
এই চেষ্টা করছে যে প্রতিটা দেশে সেন্টারেও গিয়ে দেখে শোনে, রাত যতই হোক না কেন তবুও
দেখে, এটাও সায়েন্সের সাধন তোমাদের জন্যই বেরিয়েছে আর তোমাদেরই লাভ হচ্ছে। যদি
সায়েন্স দ্বারা বিনাশ হয় তবুও তোমাদের রাজ্যের জন্য করছে। তো চতুর্দিকের স্নেহী
বাচ্চারা ব্রহ্মাবাবার বিশেষ স্মরণের স্নেহ-সুমন, হৃদয়ের স্নেহ-প্রীতি, হৃদয়ের
প্রেম স্বীকার করো।
বরদান:-
সত্যতা ও স্বচ্ছতার ধারণার দ্বারা নৈকট্যের অনুভব
ক'রে সম্পূর্ণমূর্ত ভব
সমগ্র ধারণার মধ্যে মুখ্য ধারণা হলো সত্যতা আর
স্বচ্ছতা, পরস্পরের প্রতি সম্পূর্ণভাবে হৃদয়ের স্বচ্ছতা থাকবে। স্বচ্ছ জিনিসে যেমন
সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়, তেমনই পরস্পরের ভাবনা, ভাব-স্বভাব যেন স্পষ্টরূপে দৃশ্যমান
হয়। যেখানে সত্যতা স্বচ্ছতা সেখানে নৈকট্য আছে। যেভাবে বাপদাদার নিকটে আছ সেভাবে
নিজেদের মধ্যেও হৃদয়ের নৈকট্য যেন বজায় থাকে। স্বভাবের ভিন্নতা যেন সমাপ্ত হয়ে যায়।
এর জন্য মনের ভাব আর স্বভাব মেলাতে হবে। যখন স্বভাবে পার্থক্য দেখা যাবে না তখন বলা
হবে সম্পূর্ণ মূর্ত।
স্লোগান:-
যা কিছু নষ্ট হয়ে গেছে তা' শুধরে দেওয়াই সবথেকে বড়
সেবা।
অব্যক্ত ইশারা :- জ্বালাস্বরূপ স্থিতিতে থেকে
শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো যোগকে জ্বালাস্বরূপ বানানোর জন্য সেকেন্ডে বিন্দু
স্বরূপ হয়ে মন-বুদ্ধিকে একাগ্র করার অভ্যাস বারবার করো। স্টপ বলার সাথে সাথে
সেকেন্ডে ব্যর্থ দেহ- বোধ থেকে যেন মন-বুদ্ধি একাগ্র হয়ে যায়। সারাদিন এমন কন্ট্রোলিং
পাওয়ার ইউজ করো। পাওয়ারফুল ব্রেক দ্বারা মন-বুদ্ধিকে কন্ট্রোল করো, মন-বুদ্ধিকে
যেখানে লাগাতে চাও সেখানে যেন সেকেন্ডে যুক্ত হয়ে যায়। বিশেষ সূচনা - মাসের তৃতীয়
রবিবারের যোগ অভ্যাস আজ মাসের তৃতীয় রবিবার, সব ভাইবোন সংগঠিতরূপে একত্রিত হয়ে
সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট থেকে ৭:৩০ মিনিট পর্যন্ত নিজের ফরিস্তা স্বরূপ দ্বারা লক্ষ্যহীন
হয়ে ঘুরে বেড়ানো দুঃখী অশান্ত আত্মাদের সুখ শান্তির পবিত্র কিরণ দিয়ে তাদেরকে
সহায়দাতা পরমাত্মা বাবার স্মৃতি জাগিয়ে তোলার সেবা করুন।