20.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
অসীম জগতের বাবাকে স্মরণ করতে হবে, এ হলো গুপ্ত কথা - স্মরণের দ্বারাই স্মরণ
প্রাপ্ত হয়, যারা স্মরণ করে না বাবা তাদের স্মরণই বা করবেন কীভাবে"
প্রশ্নঃ -
সঙ্গমযুগে
তোমরা বাচ্চারা কোন্ পড়াশোনা করো যা সমগ্র কল্পে পড়ানো হয় না?
উত্তরঃ
জীবিত থেকেও
শরীর থেকে ডিট্যাচ অর্থাৎ মৃতবৎ হওয়ার পাঠ এখন পড়ে থাকো, কারণ তোমাদের কর্মাতীত হতে
হবে। এছাড়া যতক্ষণ শরীরে আছো ততক্ষণ কর্ম তো করতেই হবে। মনও ততক্ষণ শান্ত হবে না
যতক্ষণ শরীর আছে। সেইজন্য মনকে জয় করে জগৎজিত নয়, বরং মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করে
জগৎজিত।
ওম্ শান্তি ।
বাবা বসে
বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন, কারণ বাচ্চারা এটা তো বুঝতে পারে যে অবুঝদেরই পড়ানো হয়। এখন
অসীম জগতের পিতা উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ ভগবান ধরায় এলে তখন কাদের পড়াবেন? অবশ্যই
যারা উচ্চ থেকে উচ্চ একদম অবুঝ । সেইজন্য বলাই হয়ে থাকে বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি।
বিপরীত বুদ্ধি কীভাবে হয়ে গেছে? ৮৪ লক্ষ যোনির লিখেছে না ! বাবাকেও তো ৮৪ লক্ষ
জন্মের মধ্যে নিয়ে এসেছে। বলে দেয় পরমাত্মা কুকুর, বিড়াল, জীব - জন্তু সব কিছুর
মধ্যে আছেন । বাচ্চাদের বোঝানো হয়, এটা তো সেকেন্ড নম্বর পয়েন্ট হিসেবে বোঝাতে হবে
। বাবা বুঝিয়েছেন যখন কেউ নতুন আসে তো সর্বপ্রথমে তাকে পার্থিব জগতের আর অসীম
জগতের পিতার পরিচয় দিতে হয়। উনি অসীম জগতের বড় বাবা(শিববাবা) আর উনি(ব্রহ্মা)
পার্থিব জগতের ছোটো বাবা। অসীম জগতের বাবা মানেই অসীম জগতের আত্মাদের বাবা। উনি
পার্থিব জগতের বাবা জীব আত্মার বাবা হয়ে গেলেন। তিনি হলেন সব আত্মাদের পিতা। এই
নলেজও সবাই একভাবে ধারণ করতে পারে না। কেউ ১ পারসেন্ট ধারণ করে তো কেউ ৯৫ পারসেন্ট
ধারণ করে। এটা তো বোঝার ব্যাপার আছে। সূর্যবংশী ঘরানার আছে না! রাজা-রাণী তেমনই
প্রজা। এটা বুদ্ধিতে আসে তো। প্রজাতে সব রকমের মানুষ হয়। প্রজা মানে প্রজা। বাবা
বোঝান এটা হলো পড়াশোনা । প্রত্যেকে নিজের বুদ্ধি অনুযায়ী পড়ে। প্রত্যেকের নিজের
নিজের পার্ট প্রাপ্ত হয়েছে। পূর্ব কল্পে কেউ যতটা পড়াশুনা ধারণ করেছিল, ততটাই এখনো
ধারণ করছে। অধ্যয়ণ কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। অধ্যয়ণের মান অনুসারেই পদ প্রাপ্ত হয়।
বাবা বুঝিয়েছেন- সময় ক্রমশ এগোলে পরীক্ষা তো আসবেই। পরীক্ষা না দিয়ে তো
ট্র্যান্সফার হতে পারবে না। শেষের দিকে সব বুঝতে পারা যাবে। যদিও এখনো পর্যন্ত বুঝতে
পারো যে আমি কোন পদের যোগ্য। যদিও চক্ষু লজ্জায় সকলের সাথে সাথে হাত উঠিয়ে দেয়।
মনে-মনে বুঝতে পারে যে আমি এটা কি করে হতে পারি ! তবুও হাত উঠিয়ে দেয়। বুঝতে পেরে
তবুও হাত উঠিয়ে দেওয়া এইটাকেও অজ্ঞানতা বলা হবে। কতটা অজ্ঞান কেউ সেইটা তো বাবা
সেকেন্ডে বুঝতে পেরে যান। এর থেকে তো ঐ স্টুডেন্টদের মধ্যে বেশী বুদ্ধি, যারা মনে
করে আমরা স্কলারশিপ নেওয়ার যোগ্য নই, পাশ করবো না। এর থেকে তো সেই অজ্ঞানী ভালো যারা
বুঝতে পারে-- টিচার যা পড়ান তার মধ্যে আমরা কত মার্কস পেতে পারি ! এইরকম কি আর বলবে
আমি পাশ উইথ অনার হবো ! তাই এটাই প্রমাণ হয় যে এই ক্ষেত্রে এতটুকুও বুদ্ধি নেই।
দেহ-অভিমান খুবই আছে। তোমরা যখন এইরকম লক্ষ্মী-নারায়ণ হতে এসেছো তো চলন খুবই ভালো
হওয়া উচিত। বাবা বলেন কেউ তো আবার বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি সম্পন্ন হয়। কারণ
তাদের বাবার সাথে প্রীতি নেই, তবে কি অবস্থা হবে তাদের ! উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে
না।
বাচ্চারা, বাবা বসে
তোমাদের বোঝান- বিনাশের সময় বিপরীত বুদ্ধির অর্থ কি হবে - বাচ্চারাই সম্পূর্ণ ভাবে
বুঝতে পারে না তো আবার অন্যেরা কি বুঝবে ! যে বাচ্চারা মনে করে আমরা হলাম শিববাবার
বাচ্চা, তারাও সম্পূর্ণ অর্থ বোঝে না। বাবাকে স্মরণ করা- এটা তো হলো গুপ্ত ব্যাপার।
পড়াশোনা তো গুপ্ত হয় না। পড়াশোনাতেই বাচ্চাদের নম্বর অনুক্রম হয়। সবাই কি আর
একরকম অধ্যয়ণ করবে! বাবা তো মনে করেন এরা এখনো বেবি (শিশু)। এইরকম অসীম জগতের
বাবাকে তিন-তিন, চার-চার মাস স্মরণও করে না। বোঝা যাবে কি করে যে স্মরণ করে? যখন
তাদের চিঠি আসে। সেই চিঠিতে আবার সার্ভিস সংবাদও থাকে যে এই সব আত্মিক সার্ভিস করেছি।
প্রমাণ তো চাই, তাই না ! এইরকম দেহ-অভিমানী হয় যারা তারা না কখনো স্মরণ করে, না
সার্ভিসের প্রমাণ দেখায়। কেউ আবার সংবাদ লেখে- বাবা অমুকে-অমুকে এসেছিলো, তাদের
এইসব বুঝিয়েছি , তখন বাবাও বুঝতে পারেন বাচ্চা বেঁচে আছে। সার্ভিস সমাচার সঠিক ভাবে
দিচ্ছে। কেউ তো ৩--৪ মাস চিঠি লেখে না। কোনো সংবাদ না থাকলে তখন মনে হয় মরে গেছে (বাবাকে
ছেড়ে চলে গেছে) নয়তো অসুখে পড়েছে। অসুস্থ মানুষ লিখতে পারে না। এটাও কেউ লেখে যে
আমার শরীর ঠিক ছিলো না সেইজন্য পত্র লিখিনি। কেউ তো সংবাদই দেয় না, অসুস্থও নয়।
দেহ-অভিমান আছে। তবে বাবাও কাকে স্মরণ করবেন ! স্মরণের দ্বারাই স্মরণ প্রাপ্ত হয়,
কিন্তু দেহ-অভিমান থাকে। বাবা এসে বোঝান- আমাকে সর্বব্যাপী বলে ৮৪ লাখেরও বেশী
যোনীতে নিয়ে যায়। মানুষকে বলা হয় তাদের হল পাথরবুদ্ধি । ভগবানের ক্ষেত্রে তো বলে
দেয় পাথর, নুড়ির মধ্যে বিরাজমান। তো এটা তো বিরাট বড় গালি হয়ে গেল তাই না!
এইজন্য বাবা বলেন, আমার কতো গ্লানি করে। এখন তোমরা তো নম্বর অনুযায়ী বুঝতে পেরে গেছো।
ভক্ত মার্গে তোমরা গাইতেও..... তুমি এলে আমি নিজেকে সমর্পণ করবো। তোমাকে
উত্তরাধিকারী করবো। এই উত্তরাধিকার দেয় যে তুমি পাথরে নুড়িতে বিরাজমান ! কতো
গ্লানি করে। তখন বাবা বলেন- "যদা যদাহি..." এখন বাচ্চারা তোমরা বাবাকে জানো বলে
বাবার কতো মহিমা করো। কেউবা মহিমা তো দূর, কখনো স্মরণ করে দুটো শব্দও লেখে না।
দেহ-অভিমানী হয়ে ওঠে। বাচ্চারা, তোমরা বুঝতে পারো যে আমরা বাবাকে পেয়েছি, আমাদের
বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। ভগবানুবাচ যে। আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছি। বিশ্বের রাজত্ব
কীভাবে প্রাপ্ত হবে তারজন্য রাজযোগ শেখাই। আমরা বিশ্বের বাদশাহী গ্রহণ করার জন্য
অসীম জগতের বাবার কাছে পড়াশোনা করি-..... এই নেশা থাকলে তো অপার খুশী এসে যাবে।
যদিও গীতাও পড়েও, কিন্তু যেন অর্ডিনারি বই পড়ার মতো করে পড়ে । কৃষ্ণ ভগবানুবাচ -
রাজযোগ শেখাই, ব্যাস্। এতখানি বুদ্ধির যোগ বা খুশী থাকে না। গীতা যারা পড়ে আর যারা
শোনে তাদের মধ্যে এতো খুশী থাকে না। গীতা সম্পূর্ণ পড়ে নিল তারপর কাজে চলে গেল !
কিন্তু এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। আর কারোর বুদ্ধিতে আসবে
না যে ভগবান আমাদের পড়াচ্ছেন। তাই প্রথমেই কেউ এলে তাকে দুই বাবা কে, সেই বিষয়ে
কিছুটা বোঝাতে হবে। বলো ভারত তো স্বর্গ ছিলো, এখন তো নরক। এইরকম তো কেউ বলতে পারবে
না যে আমি সত্যযুগেও আছি, কলিযুগেও আছি। কেউ দুঃখ পেলো তো সে নরকে থাকে, কারোর সুখ
প্রাপ্ত হলো তো স্বর্গে থাকে ! এইরকম অনেকে বলে- দুঃখী মানুষ নরকে আছে, আমি তো অনেক
সুখে বসে আছি, মহল অট্টালিকা ইত্যাদি সব কিছু আছে। বাইরের অনেক সুখ দেখে যে । এটাও
তোমরা এখন বুঝতে পারো সত্যযুগী সুখ তো এখানে হতে পারে না। এইরকমও নয় যে গোল্ডেন
এজ্কে আয়রণ এজ্ বলো অথবা আয়রণ এজ্কে গোল্ডেন এজ্ বলো- একই ব্যাপার হলো। এইরকম বোধ
যাদের তাদেরকেও অজ্ঞানী বলা হবে। তাই সর্বপ্রথমে বাবার থিওরি বোঝাতে হবে । বাবা
নিজেই তাঁর পরিচয় দেন। আর তো কেউ জানে না। বলে দেয় যে পরমাত্মা সর্বব্যাপী। এখন
তোমরা চিত্রতে দেখাও - আত্মা আর পরমাত্মার রূপ তো হলো একই রকম। তিনিও হলেন আত্মা
কিন্তু তাঁকে পরমাত্মা বলা হয়ে থাকে। বাবা বসে বোঝান - আমি কীভাবে আসি! সকল আত্মারা
সেখানে অর্থাৎ পরমধামে থাকে। এই কথা তো বাইরের কেউ বুঝতে পারবে না। ভাষাও হলো খুব
সহজ। গীতাতে শ্রীকৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। এখন কৃষ্ণ তো গীতা শোনান না। তিনি তো
সবাইকে বলতে পারেন না, মামেকম্ স্মরণ করো। দেহধারীকে স্মরণ করলে তো পাপ-খন্ডন হয়
না। কৃষ্ণ ভগবানুবাচ- দেহের সকল সম্বন্ধ ত্যাগ করে এক আমাকেই স্মরণ করো কিন্তু
দেহের সম্বন্ধ তো কৃষ্ণেরও আছে আর সে তো আবার ছোটো বাচ্চা ! এটাও কতো বড় ভুল । কতো
পার্থক্য এসে যায় একটা ভুলের জন্য। পরমাত্মা তো সর্বব্যাপী হতে পারে না। যার
ক্ষেত্রে বলা হয় সকলের সদ্গতি দাতা যিনি, তবে তিনিও কি দুর্গতি পেতে পারেন !
পরমাত্মা কি আর কখনো দুর্গতির সম্মুখীন হতে পারেন? এই সবকিছু হলো বিচার সাগর মন্থন
করার ব্যাপার। টাইম ওয়েস্ট করার ব্যাপার নয় । মানুষ তো বলে দেয় যে আমার সময় নেই।
তোমরা মনে করো যে এসে কোর্স করবে তো বলে একমুহূর্তও সময় নেই। দুই দিন এলো তো চারদিন
আসলো না। পড়াশুনা না করলে তবে লক্ষ্মী-নারায়ণ হবে কি করে? মায়ার ফোর্স কতো। বাবা
বোঝান যে সেকেন্ড, যে মিনিট পাস্ হয় সেটা অবিকল রিপিট হয়। অগণিত বার রিপিট হতে থাকবে।
এখন তো বাবার দ্বারা শুনছো। বাবা তো জন্ম - মরণে আসেন না। সাক্ষাৎ হয় সম্পূর্ণ
জন্ম-মরণে কে আসে আর কে আসতে পারে না? শুধুমাত্র এই এক বাবা জন্ম-মরণে আসেন না।
এছাড়া তো সবাই আসে, এইজন্য তো চিত্রও দেখানো হয়েছে। ব্রহ্মা আর বিষ্ণু দুই জনই
জন্ম-মরণে আসে। যিনি ব্রহ্মা তিনিই বিষ্ণু, যিনি বিষ্ণু তিনিই ব্রহ্মা এইরকম পার্টে
আসা-যাওয়া করে। এন্ড হতে পারে না। এই চিত্র তবুও সবাই এসে দেখবে আর বুঝবে। খুবই সহজ
বোঝার ব্যাপার। বুদ্ধিতে আসা চাই আমরা হলাম সেই ব্রাহ্মণ, আবার আমরাই সেই ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য, শূদ্র হবো। আবার বাবা এলে সেই আমরাই আবার ব্রাহ্মণ হয়ে যাবো। এইটা স্মরণ করলে
তবুও চক্রধারী হবে। এই নলেজ, যে চক্র কি করে আবর্তিত হয়, এই নলেজ প্রাপ্তির ফলে তারা
এই দেবতা হয়েছে। বাস্তবে কোনো মানুষই স্বদর্শন চক্রধারী বলার যোগ্য নয়। মানুষের
সৃষ্টি মৃত্যুলোকই হলো আলাদা। ভারতবাসীদের যেমন আচার-নিয়ম আলাদা, সবারই আলাদা-আলাদা
হয়। দেবতাদের আচার-নিয়ম হলো আলাদা। মৃত্যুলোকের মানুষের আচার-নিয়ম আলাদা।
রাত-দিনের পার্থক্য আছে, এইজন্য সবাই বলে - আমি হলাম পতিত। হে ভগবান, আমাদের সকলকে
- যারা পতিত দুনিয়ায় আছি তাদের পবিত্র করো। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে আজ থেকে ৫
হাজার বছর পূর্বে পবিত্র দুনিয়া ছিলো, যাকে সত্যযুগ বলা হয়। ত্রেতাকে বলা হবে না।
বাবা বুঝিয়েছেন - সেটা হলো ফার্স্টক্লাস, এটা হলো সেকেন্ড ক্লাস। তাই এক একটা কথা
ভালো করে ধারণ করা উচিত। যে কেউই আসলে তখন শুনে ওয়ান্ডার হবে। কেউ তো ওয়ান্ডার হয়।
কিন্তু তবুও ওদের এক মূহুর্তও সময় নেই, যে পুরুষার্থ করবে। আবার শোনে যে পবিত্র
অবশ্যই থাকতে হবে। এই কাম বিকারই আছে যা মানুষকে পতিত করে তোলে। এইটি জিতলেই তোমরা
জগৎজীত হবে। বাবা বলেছেনও - কাম বিকারকে জীতে জগতজীত হও। মানুষ আবার বলে দেয় মনজীতে
জগতজীত হও। মনকে বশীভূত করো। এখন মন তো তখনই কার্যকরী হবে যখন শরীর থাকবে না। এছাড়া
মন তো কখনো হয়ই না। দেহের প্রাপ্তি হয়ই কার্য করার জন্য, তো আবার কর্মাতীত অবস্থাতে
থাকবে কি করে? কর্মাতীত অবস্থা বলা হয়ে থাকে মৃতকে। জীবন্মৃত, শরীর থেকে পৃথক-
স্বতন্ত্র। তোমাদেরও শরীর থেকে পৃথক হওয়ার পাঠ পড়ানো হয়। শরীরের থেকে আত্মা হলো
পৃথক। আত্মা পরমধামে বসবাসকারী। আত্মা শরীরে এলে তাকে মানুষ বলা হয়। শরীর প্রাপ্ত
হয়ই কর্ম করার জন্য। এক শরীর ছেড়ে গেলে আত্মাকে আবার অন্য শরীর ধারণ করতে হয় কর্ম
করার জন্য। শান্ত তো তখন থাকবে যখন কর্ম করতে হবে না। মূলবতনে কর্ম হয় না। সৃষ্টির
চক্র এখানে আবর্তিত হয়। বাবাকে আর সৃষ্টি চক্রকে জানতে হবে, একেই নলেজ বলা হয়। এই
চোখ যতক্ষণ পতিত ক্রিমিনাল থাকে, তো এই চোখের দ্বারা পবিত্র জিনিস দেখতে পারা যায়
না, এইজন্য জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র চাই। যখন তোমরা কর্মাতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত করবে
অর্থাৎ দেবতা হবে, তারপর তো এই চোখ দিয়ে দেবতাদের দেখতে থাকবে। তাছাড়া এই শরীরে এই
চোখ দিয়ে কৃষ্ণকে দেখতে পারবে না। এছাড়া সাক্ষাৎকার করলে কি আর কিছু পাওয়া যায় !
অল্প সময়ের জন্য খুশী থাকে, কামনা পূরণ হয়। ড্রামাতে সাক্ষাৎকার হওয়াও ফিক্সড রয়েছে,
এর থেকে কিছুই প্রাপ্তি হয় না। আচ্ছা !
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
শরীর থেকে ডিট্যাচ আত্মা আমি, জীবিত থেকেও এই শরীরে যেন মৃত, এই স্থিতির অভ্যাসের
দ্বারা কর্মাতীত অবস্থা বানাতে হবে ।
২ ) সার্ভিসের প্রমাণ
দিতে হবে । দেহভাবকে ত্যাগ করে নিজের সত্য সত্য সমাচার দিতে হয়। পাশ উইথ অনার হওয়ার
পুরুষার্থ করতে হবে।
বরদান:-
নিজের
শান্ত স্বরূপ স্টেজের দ্বারা শান্তির কিরণ ছড়িয়ে দেওয়া মাস্টার শান্তির সাগর ভব
বর্তমান সময়ে বিশ্বের
মেজরিটি আত্মাদের সবথেকে বেশী প্রয়োজন হল - সত্যিকারের শান্তি। অশান্তির অনেক কারণ
দিন-প্রতিদিন বৃদ্ধি হচ্ছে এবং আরও বৃদ্ধি হতে থাকবে। যদি নিজে অশান্ত না-ও হও,
তথাপি অন্যদের অশান্তির বায়ুমন্ডল, বাতাবরণ শান্ত অবস্থাতে বসতে দেবে না। অশান্তির
দুশ্চিন্তার অনুভব বৃদ্ধি পাবে। এইরকম সময়ে তোমরা মাস্টার শান্তির সাগর বাচ্চারা
অশান্তির সংকল্পগুলিকে মার্জ করে বিশেষ শান্তির ভায়ব্রেশন ছড়িয়ে দাও।
স্লোগান:-
বাবার
সর্বগুণের অনুভব করার জন্য সদা জ্ঞান সূর্যের সম্মুখে থাকো।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
এখন সময়, সংকল্প আর
শক্তিকে ব্যর্থ অপচয় না করার যোজনা বানিয়ে বিন্দু রূপের স্থিতিকে বাড়াও। যত
বিন্দুরূপের স্থিতি হবে ততই কোনও ইভিল স্পিরিট বা ইভিল সংস্কারের ফোর্স তোমাদের উপর
আক্রমণ করতে পারবে না, তোমরাও তার থেকে মুক্ত থাকবে আর তোমাদের শক্তি স্বরূপ
তাদেরকেও মুক্ত করবে।