20.08.2025 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - শ্রীমৎ অনুসারে চলে সবাইকে মুক্তি-জীবনমুক্তি পাওয়ার রাস্তা বলে দাও, সারাদিন কেবল এই কাজ-ই (ধান্দা) করতে থাকো”

প্রশ্নঃ -
বাবা এমন কোন্ সূক্ষ্ম বিষয়ের জ্ঞান শুনিয়েছেন যেটা ভালোভাবে বুঝতে হবে?

উত্তরঃ  
১) সত্যযুগ হলো অমরপুরী, ওখানে আত্মা একটা শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে কিন্তু মৃত্যুর নামও সেখানে থাকবে না। তাই ওই দুনিয়াকে মৃত্যুপুরী বলা হয় না। ২) শিববাবার রচনা সীমাহীন। বর্তমান সময়ে কেবল তোমরা ব্রাহ্মণরাই হলে ব্রহ্মার রচনা। ত্রিমূর্তি শিব বলা হয় কিন্তু ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলা হয় না। বাবা এইসব সূক্ষ্ম বিষয়ের জ্ঞান শুনিয়েছেন। এইসব বিষয়ের ওপর চিন্তন করে নিজেকেই বুদ্ধির জন্য আহার প্রস্তুত করতে হবে।

ওম্ শান্তি ।
ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ। কিন্তু দুনিয়ার মানুষ ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলে দেয়। বাবা বলছেন - ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ। ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা ভগবানুবাচ তো বলে না। তোমরাও ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ বলতে পারো। ওরা শিব-শঙ্করকে মিলিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টা তো একেবারে স্পষ্ট। ত্রিমূর্তি ব্রহ্মার পরিবর্তে ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ বলতে হবে। দুনিয়ায় মানুষ বলে যে শঙ্কর চোখ খুললেই বিনাশ হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে হবে। তিনজনের ভূমিকাই প্রধান। ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর তো ৮৪ জন্মের অনেক বড় ভূমিকা আছে। বিষ্ণু এবং প্রজাপিতা ব্রহ্মার অর্থও তোমরা বুঝেছ। এই তিনজনেরই মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। ব্রহ্মা জন্য গায়ন আছে আদম বা আদিদেব। প্রজাপিতার মন্দিরও আছে। এটা হলো বিষ্ণুর অথবা কৃষ্ণের অন্তিম ৮৪ তম জন্ম। এই জন্মে নাম রাখা হয়েছে ব্রহ্মা। প্ৰমাণ করে দেখাতে হবে - ব্রহ্মা থেকেই বিষ্ণু। ব্রহ্মা হলেন শিববাবার দত্তক নেওয়া সন্তান। এরা দুজনে হলেন শিববাবার সন্তান। প্রকৃতপক্ষে সন্তান তো একজনই। আসলে ব্রহ্মাই হলো শিববাবার সন্তান। বাবা এবং ঠাকুরদাদা। এখানে বিষ্ণুর নামই আসে না। প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা শিববাবা স্থাপন করছেন। বিষ্ণুর দ্বারা তো স্থাপন করছেন না। শিববাবার যেমন সন্তান রয়েছে, সেইরকম ব্রহ্মাবাবারও সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিষ্ণুর ক্ষেত্রে সন্তান বলা যাবে না। লক্ষ্মী-নারায়ণের তো এত সন্তান হওয়া সম্ভব নয়। এগুলো হলো বুদ্ধির খাদ্য। নিজেকেই খাবার বানাতে হবে। সবথেকে বেশি পার্ট রয়েছে বিষ্ণুর। তাই ৮৪ জন্মের বিরাট রূপ বিষ্ণুর ক্ষেত্রেই দেখানো হয়, ব্রহ্মার নয়। তবে বিরাট রূপের চিত্র বিষ্ণুর ক্ষেত্রে দেখানো হলেও আগে ব্রহ্মার নাম উচ্চারণ করা হয়। ব্রহ্মার খুব অল্প সময়ের ভূমিকা আছে। তাই বিরাট রূপের চিত্রতে বিষ্ণুকে দেখানো হয়। বিষ্ণুরই চারটে হাত দেখানো হয়। বাস্তবে ওইসব অলংকার তো তোমাদের জন্যই। এগুলো সব ভালোভাবে বোঝার বিষয়। কোনো মানুষ এগুলো বোঝাতে পারবে না। বাবা নুতন নুতন পদ্ধতিতে বোঝাচ্ছেন। বাবা বলছেন - ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ কথাটাই তো ঠিক, তাই না? বিষ্ণু, ব্রহ্মা এবং শিব। এদের মধ্যে প্রজাপিতা ব্রহ্মাকেই সন্তান বলা যাবে। বিষ্ণুকে সন্তান বলা যাবে না। হয়তো বিষ্ণুকেও রচনা বলা হয়, কিন্তু প্রথমে তো ব্রহ্মার রচনা হবে। তারপর তিনি ভিন্ন নাম, রূপ ধারণ করেন। বিষ্ণুই মুখ্য পার্ট প্লে করেন। ব্রহ্মার পার্ট তো বর্তমানে অতি সামান্য সময়ের জন্য। বিষ্ণুর অনেক সময় ধরে রাজত্ব চলে। আর শিববাবা হলেন গোটা বৃক্ষের বীজরূপ। তাঁর রচনাদেরকে শালগ্রাম বলা হয়। ব্রহ্মার রচনাকে ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণী বলা হয়। শিববাবার যত রচনা, ব্রহ্মার তো অত রচনা নয়। শিববাবার অনেক রচনা। সকল আত্মাই তাঁর সন্তান। আর ব্রহ্মার রচনা কেবল তোমরা ব্রাহ্মণরা। তাই সংখ্যায় সীমিত। শিববাবার রচনা অসীম, সকল আত্মা। তিনি অসীম জগতের আত্মাদের কল্যাণ করেন। ব্রহ্মার দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা করেন। তোমরা ব্রাহ্মণরাই স্বর্গবাসী হও। এছাড়া আর কাউকে স্বর্গবাসী বলা যাবে না। তবে সকলেই নির্বাণধাম অথবা শান্তিধামের নিবাসী। সবথেকে শ্রেষ্ঠ সেবা তো শিববাবা করেন। সকল আত্মাকে নিয়ে যান। সকলের পার্ট আলাদা আলাদা। শিববাবা বলছেন- আমার পার্ট একেবারে আলাদা। সকলের হিসাব সমাপ্ত করে তোমাদেরকে পবিত্র বানিয়ে নিয়ে যাই। তোমরা এখন এখানে পবিত্র হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছ। অন্যরা সবাই বিনাশের সময়ে হিসাব মিটিয়ে ফেরত যাবে। সৃষ্টিচক্র তো আবর্তিত হবেই।

তোমরা বাচ্চারা ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ হও এবং তারপর দেবতা হয়ে যাও। তোমরা ব্রাহ্মণরা শ্রীমৎ অনুসারে সেবা করছ। দুনিয়ার মানুষকে রাস্তা দেখাচ্ছো - মুক্তি এবং জীবনমুক্তি পেতে চাইলে এইভাবে পেতে পারো। দুটো চাবিই হাতে আছে। তোমরা এটাও জানো যে কারা মুক্তিলাভ করবে আর কারা জীবনমুক্তি পাবে। সারাদিন তোমাদের এই একটাই কাজ। কেউ যদি সবজি বিক্রি করে তাহলে তার বুদ্ধিতে সারাদিন সেটাই থাকে। তোমাদের কাজ হলো এই রচনার আদি, মধ্য এবং অন্তিমকালকে জানা এবং অন্যকে মুক্তি, জীবনমুক্তির রাস্তা দেখানো। যারা এই ধর্মের হবে, তারা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। এমন অনেক ধর্ম আছে যারা তাদের নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে না। প্রাথমিকভাবে হয়তো মেনে নেবে কিন্তু এমন নয় যে তাদের চেহারাই পাল্টে যাবে। কেবল ধর্মটাকে মেনে নেবে। অনেকে এইরকম বৌদ্ধধর্মকে মেনে চলে কারণ দেবীদেবতা ধর্ম তো এখন প্রায় লুপ্ত। এমন একজন ব্যক্তিও নেই যে নিজেকে দেবী-দেবতা ধর্মের বলবে। কেবল দেবতাদের ছবিগুলোই কাজে আসে। আত্মা তো অবিনাশী, কখনো মৃত্যু হয় না। একটা শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর নিয়ে পার্ট প্লে করে। ওই দুনিয়াটাকে মৃত্যুপুরী বলা হয় না। ওটা হলো অমরপুরী। কেবল শরীর পরিবর্তন করে। এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে। এগুলো কোনো স্থূল বিষয় নয়। বিয়ের সময়ে কাউকে অল্প কিছু দেওয়া হয়, আবার কাউকে অনেক কিছু দেওয়া হয়। কেউ সবাইকে দেখিয়ে উপহার দেয়, আবার কেউ বন্ধ বাক্সের মধ্যে দেয়। কত রকমের মানুষ আছে। তোমরা অনেক উত্তরাধিকার লাভ করো। কারন তোমরা হলে কনে। বাবা হলেন বর। তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে সাজিয়ে তিনি অসীম বিশ্বের রাজত্ব দিয়ে দেন। তোমরাই বিশ্বের মালিক হও। মুখ্য বিষয় হলো - স্মরণ। জ্ঞান তো খুবই সহজ। স্মরণের ক্ষেত্রে কেবল বাবাকে স্মরণ করতে হয়। কিন্তু দেখা যায় যে স্মরণ করতেই ভুলে যায়। অনেকেই বলে - বাবা, স্মরণ করতে ভুলে যাই। তোমরা যখন কাউকে বোঝাবে, সর্বদা 'স্মরণ' শব্দটা ব্যবহার করো। 'যোগ' শব্দটা ঠিক নয়। স্টুডেন্টদের কথা তো টিচারের মনে থাকে। বাবা হলেন সুপ্রীম সোল । তোমরা আত্মারা সুপ্রীম নয়। তোমরা পতিত হয়ে গেছ। তাই এখন বাবাকে স্মরণ করো। টিচার, বাবা এবং গুরুকে স্মরণ করতে হয়। দুনিয়ায় তো গুরুরা বসে বসে শাস্ত্র পাঠ করে, মন্ত্র দেয়। বাবা এখানে একটাই মন্ত্র দিচ্ছেন - "মন্মনা ভব" । তারপর ক ? মধ্যাজী ভব। তোমরা বিষ্ণুপুরীতে চলে যাবে। তোমরা সবাই তো রাজা রানী হবে না। রাজা রানীর সাথে প্রজাও থাকবে। মুখ্য হলো ত্রিমূর্তি। শিববাবার পরেই আছেন ব্রহ্মাবাবা, যিনি মনুষ্য সৃষ্টি অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের রচনা করেন। তারপর নিজে বসে থেকে ব্রাহ্মনদেরকে শিক্ষা দেন। এগুলো সব নতুন কথা। তোমরা ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণীরা হলে পরস্পরের ভাই-বোন। বৃদ্ধ ব্যক্তিও বলবে আমরা ভাই-বোন। এই বিষয়টা আন্তরিক ভাবে বুঝতে হবে। সবাইকে অযথা বলে বেড়ানো উচিত নয়। স্বয়ং ভগবান প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা রচনা করেছেন। সুতরাং প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান হওয়ার জন্য পরস্পরের ভাই-বোন হয়ে গেলাম। এটাই বোঝার বিষয়। বাচ্চারা, তোমাদের তো খুবই খুশি হতে হবে। আমাদের কে পড়াচ্ছেন ? শিববাবা। ত্রিমূর্তি শিব। ব্রহ্মার ভূমিকা খুবই অল্প সময়ের জন্য। বিষ্ণুর তো সত্যযুগের রাজধানীতে ৮ জন্ম ধরে ভূমিকা থাকবে। ব্রহ্মার পার্ট কেবল এক জন্মের জন্য। বিষ্ণুর পার্ট অনেক বড়। ত্রিমূর্তি শিববাবার পার্টই হলো মুখ্য। তারপর হলো ব্রহ্মার পার্ট, যিনি বাচ্চারা তোমাদেরকে বিষ্ণুপুরীর মালিক বানাচ্ছেন। ব্রহ্মার দ্বারা ব্রাহ্মণ রচনা হয়, তারপর ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হয়। তাই ইনি হলেন অলৌকিক পিতা। বর্তমান সময়ে খুব অল্প সময়ের জন্য ইনি পিতা থাকেন। আদিদেব বা আদম এবং বিবি। এনাদের ছাড়া সৃষ্টি কিভাবে রচিত হবে? এনারা হলেন আদিদেব এবং আদিদেবী। কেবল এই সঙ্গমযুগেই ব্রহ্মার ভূমিকা রয়েছে। দেবতাদের পার্ট অনেক সময় ধরে থাকে। তবে কেবল সত্যযুগেই দেবতাদের পার্ট থাকে। ত্রেতাযুগে তো ক্ষত্রিয় বলা হবে। এখানে এইরকম খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পয়েন্টস শুনতে পাওয়া যায়। সবকিছু তো একসঙ্গে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। দুনিয়ার মানুষ ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলে দেয়। শিববাবাকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা ত্রিমূর্তি শিব বলি। এইসব ছবি তো ভক্তিমার্গের। ব্রহ্মার দ্বারা প্রজাদের রচনা হয়। তারপর তোমরা দেবতা হয়ে যাও। বিনাশের সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসবে। বিনাশ তো হবেই। কলিযুগের পরে আবার সত্যযুগ আসবে। এত শরীরের বিনাশ তো অবশ্যই হবে। সবকিছুই প্র্যাকটিক্যালে হবে। কেবল চোখ খুললেই কি এইসব হওয়া সম্ভব? যখন স্বর্গ হারিয়ে যায়, তখনও ভূমিকম্প ইত্যাদি হবে। তাহলে কি সেই সময়েও শঙ্কর এইরকম চোখ খুলবে? গায়ন আছে, দ্বারকা বা লঙ্কা জলের নীচে চলে গেছে। বাবা এখন বোঝাচ্ছেন, আমি পাথরের মতো বুদ্ধিকে পরশসম বানানোর জন্য এসেছি। মানুষ চিৎকার করে ডাকছে - হে পতিত-পাবন তুমি এসো, এসে এই দুনিয়াকে পবিত্র করে দাও। কিন্তু মানুষ এটা বোঝে না যে এখন কলিযুগ চলছে এবং এরপরে সত্যযুগ আসবে। বাচ্চারা, তোমাদের তো খুশিতে নৃত্য করা উচিত । ব্যারিস্টাররা যখন পরীক্ষায় পাস করে, তখন তারা ভাবে যে এরপর আমি অনেক উপার্জন করবো, তারপর বাড়ি বানাব, আরো কত কিছু। তোমরা এখন সত্যিকারের উপার্জন করছো। স্বর্গে তোমরা সবকিছু নতুন পাবে। ভেবে দেখ, সোমনাথ মন্দিরে কত কিছু ছিল। এইরকম কেবল একটা মন্দির তো থাকবে না। ওই মন্দির স্থাপনের পর ২৫০০ বছর হয়ে গেছে। বানানোর জন্য সময়ও লেগেছে। তারপর নিশ্চয়ই পূজাও হয়েছে। তারপরে সেই মন্দির এসে লুঠ করে নিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তো লুঠ করতে আসবে না। এইরকম অনেক মন্দির ছিল। পূজা করার জন্য মন্দির বানানো হতো। তোমরা এখন জানো যে আমরা বাবাকে স্মরণ করতে করতে স্বর্ণযুগে চলে যাব। আত্মা পবিত্র হয়ে যাবে। পরিশ্রম তো করতেই হবে। পরিশ্রম না করলে চলবে না। এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তির গায়ন রয়েছে। কিন্তু এইভাবে কি পাওয়া যায়? এটা বোঝা যায় যে বাচ্চা হলে অবশ্যই পাওয়া যায়। তোমরা এখন মুক্তিধামে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো। বাবাকে স্মরণ করতে হয়। দিনে দিনে বাবা তোমাদের মতো বাচ্চাদের বুদ্ধিকে পরিশ্রুত করছেন। বাবা বলছেন, আমি তোমাদেরকে খুব গুহ্য বিষয়ের জ্ঞান শোনাই। আগে এইরকম বলিনি যে আত্মাও বিন্দু আর পরমাত্মাও বিন্দু। তোমরা হয়তো বলবে যে আগে কেন বলোনি। এটা তো ড্রামাতে ছিল না। যদি আগেই তোমাদেরকে এটা বলে দিতাম তাহলে তোমরা বুঝতেই পারতে না। ধীরে ধীরে বাবা বোঝাচ্ছেন। এটা হলো রাবণের রাজত্ব। রাবণের রাজত্বে সবাই দেহ-অভিমানী হয়ে যায়। সত্যযুগে আত্ম-অভিমানী থাকবে, নিজেকে আত্মা বলে জানবে। আমার শরীরের অনেক বয়স হয়েছে, এবার এটা ত্যাগ করে ছোট শরীর নেব। আত্মার শরীর প্রথমে ছোট থাকে, পরে বৃদ্ধি হয়। এখানে তো সকলের আয়ু সমান নয়। অনেকের অকালে মৃত্যু হয়ে যায়। কারোর আবার ১২৫ বছর পর্যন্ত আয়ু হয়। বাবা বোঝাচ্ছেন, তোমরা বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছো, তাই খুব খুশি হওয়া উচিত। গন্ধর্ব মতে বিয়ে করা কোনো খুশির ব্যাপার নয়, এটা তো দুর্বলতা। কোনো কুমারী যদি বলে যে আমি পবিত্র থাকতে চাই, তাহলে কি কেউ তাকে মেরে ফেলবে? কিন্তু জ্ঞান কম থাকার জন্য ভয় পেয়ে যায়। একজন ছোট কুমারীকেও যদি কেউ আঘাত করে রক্ত বের করে দেয়, তাহলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কোনো জন্তু-জানোয়ারকেও যদি কেউ মারে তাহলে সেটার জন্যও মামলা হয়, শাস্তি পেতে হয়। তাই বাচ্চারা, তোমাদেরকেও কেউ মারতে পারবে না। কুমারদেরকেও কেউ মারতে পারবে না। ওরা তো নিজেরাই উপার্জন করতে পারবে। নিজের শরীর নির্বাহ করতে পারবে। পেট তো খুব বেশি খাবার খায় না। একজন মানুষের খাওয়ার জন্য ৪-৫ টাকা খরচ হয়, আবার একজনের ৪০০-৫০০ টাকা প্রয়োজন হয়। অনেক টাকা থাকলেই লোভ বেড়ে যাবে। গরিবের টাকা নেই, তাই লোভও নেই। ওরা শুকনো রুটিতেই খুশি। বাচ্চাদেরকে খুব বেশি খাওয়া-দাওয়ার ঝামেলায় যাওয়া উচিত নয়। খাওয়ার বিষয়ে শৌখিন হওয়া উচিত নয়। তোমরা তো জানো যে ওখানে আমরা সবকিছুই পাবো। সীমাহীন রাজত্ব আর সীমাহীন সুখ পাওয়া যায়। ওখানে কোনো রোগ-জ্বালা হবে না। সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি, সুখ সবকিছুই থাকবে। বার্ধক্য অবস্থাতেও ওখানে খুব সুন্দর থাকবে, খুশিতে থাকবে। কোনো রকম সমস্যা হবে না। প্রজারাও এইরকম হবে। কিন্তু তাই বলে এটা ভাবা উচিত নয় যে আচ্ছা, তাহলে তো প্রজা হলেই চলবে। এইরকম ভাবলে এই দুনিয়ার ভীল-দের (একটি বিশেষ জাত) মতো হয়ে যাবে। সূর্য বংশের লক্ষ্মী-নারায়ণ হওয়ার জন্য তো সেইরকম পুরুষার্থও করতে হবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) খুব বেশি খাওয়া-দাওয়ার ঝামেলায় যাওয়া উচিত নয়। লোভ ত্যাগ করে সীমাহীন উত্তরাধিকারের সুখকে স্মরণ করতে হবে।

২ ) আমরা হলাম ব্রহ্মার নুতন রচনা অর্থাৎ পরস্পরের ভাই-বোন। এই বিষয়টা আন্তরিক ভাবে বুঝতে হবে, কাউকে বলার প্রয়োজন নেই। শিববাবা আমাদেরকে পড়াচ্ছেন - এটা স্মরণে রেখে সর্বদা খুশিতে থাকতে হবে।

বরদান:-
অনেক প্রকারের প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত হয়ে নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ ভব

নিজের প্রবৃত্তি, দৈবী পরিবারের প্রবৃত্তি, সেবার প্রবৃত্তি, লৌকিকের প্রাপ্তিগুলির প্রবৃত্তি - এই সবকিছু থেকে নষ্টমোহ অর্থাৎ পৃথক হওয়ার জন্য বাপদাদার স্নেহ রূপকে সামনে রেখে স্মৃতি স্বরূপ হও। স্মৃতি স্বরূপ হলে নষ্টমোহ স্বতঃ হয়ে যাবে। প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত হওয়া অর্থাৎ আমিত্বকে সমাপ্ত করে নষ্টমোহ হওয়া। এই নষ্টমোহ হওয়া বাচ্চারাই দীর্ঘ সময়ের পুরুষার্থ দ্বারা দীর্ঘ সময়ের প্রালব্ধের প্রাপ্তির অধিকারী হয়।

স্লোগান:-
কমল পুষ্পের মতো পৃথক থাকো তাহলে প্রভুর প্রেম প্রাপ্ত হতে থাকবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

যারা নম্বর ওয়ান বহ্নি পতঙ্গ, তারা নিজের অর্থাৎ এই দেহভানের, দিন-রাতের, ক্ষুধা আর তৃষ্ণার, নিজের সুখের সাধনের, আরামের, কোনও কিছুর আধারে থাকে না। তারা সকল প্রকারের দেহের স্মৃতি থেকে ঊর্ধ্বে থাকে অর্থাৎ নিরন্তর জ্যোতির্বিন্দু শিব বাবার লভে লভলীন থাকে। যেরকম শিববাবা হলেন জ্যোতি-স্বরূপ, লাইট মাইট রূপ, সেইরকম শিববাবার সমান নিজেরাও লাইট মাইট রূপ হয়ে যায়।