20.08.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন তোমাদের পাপের দুনিয়া থেকে বের করে আরাম ও শান্তির দুনিয়ায় নিয়ে যেতে, বাবার কাছ থেকে তোমরা সুখ - শান্তির দুটি সওগাত (উপহার) পাও"

প্রশ্নঃ -
সম্পূর্ণ দুনিয়ায় প্রকৃত নান্স হলে তোমরাই, প্রকৃত নান কাদের বলা হবে?

উত্তরঃ  
প্রকৃত নান তারাই যাদের বুদ্ধিতে এক এরই স্মরণ থাকবে, অর্থাৎ নন বাট ওয়ান । ওরা যদিও নিজেদের নান্স বলে, কিন্তু তাদের বুদ্ধিতে কেবল খ্রাইস্টের স্মরণ থাকে না, খ্রাইস্টকেও তারা গড এর পুত্র বলে । তাই তাদের বুদ্ধিতে থাকে দু'জন আর তোমাদের বুদ্ধিতে একমাত্র বাবাই থাকেন, তাই তোমরাই হলে প্রকৃত নান । তোমাদের প্রতি বাবার নির্দেশ (ফরমান) হলো, তোমাদের পবিত্র থাকতে হবে ।

গীতঃ-
এই পাপের দুনিয়া থেকে দূরে নিয়ে চলো....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি আত্মারূপী বাচ্চারা এই গান শুনেছে । কারা শুনেছে? আত্মারা । আত্মাকে পরমাত্মা বলা যাবে না । মনুষ্যকে ভগবান বলা যাবে না । আচ্ছা, এখন তোমরা হলে ব্রাহ্মণ । তোমাদের এখন দেবতা বলা হয় না । ব্রহ্মাকেও দেবতা বলা যাবে না । যদিও মানুষ বলে থাকে - ব্রহ্মা দেবতায় নমঃ, বিষ্ণু দেবতায় নমঃ... কিন্তু ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর মধ্যে তো অনেক তফাৎ । বিষ্ণুকে দেবতা বলা হয়, ব্রহ্মাকে দেবতা বলা যাবে না, কেননা ব্রহ্মা হলেন ব্রাহ্মণদের বাবা । ব্রাহ্মণদের দেবতা বলা যায় না । এখন এইসব কথা কোনো মানুষ, মানুষকে বোঝাতে পারে না, ভগবানই একথা বোঝান । মনুষ্য তো অন্ধ শ্রদ্ধায় যা মনে আসে, তাই বলে দেয় । তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পারো - আধ্যাত্মিক পিতা আমাদের মতো বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন । তোমাদের নিজেকে আত্মা মনে করা উচিত । অহম্ আত্মা এই শরীর ধারণ করি । অহম আত্মা এই ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছি । আত্মা যেমন যেমন কর্ম করে, তেমন তেমন শরীর প্রাপ্ত হয় । শরীর থেকে আত্মা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন শরীরের প্রতি আর ভালোবাসা থাকে না । তখন আত্মার প্রতি প্রেম থাকে । আত্মার মধ্যেও প্রেম ততক্ষণই থাকে, যতক্ষণ আত্মা শরীরে থাকে । মানুষ পূর্বপুরুষদের ডাকে, তাদের শরীর তো শেষ হয়ে গেছে, তবুও তাদের আত্মাকে স্মরণ করে, তাই ব্রাহ্মণদের ডাকে । তারা বলে - অমুকের আত্মা এসো, এসে এই ভোজন গ্রহণ করো । এর অর্থ আত্মার প্রতি মোহ থাকে, কিন্তু প্রথমে শরীরের প্রতি মোহ ছিলো, সেই শরীর স্মরণে আসতো । এমন মনেই করে না যে, আমরা আত্মাকে ডাকছি । আত্মাই সবকিছু করে । আত্মার মধ্যেই ভালো বা মন্দ সংস্কার থাকে । প্রথম - প্রথম আসে দেহ বোধ, তারপর আরো বিকার আসতে থাকে । সবকিছু মিলিয়েই বলা হয় বিকারী । যার মধ্যে এই বিকার নেই, তাকে বলা হয় নির্বিকারী । এ তো তোমরা বুঝতে পারো যে, বরাবর ভারতে যখন দেবী - দেবতারা ছিলেন, তখন তাঁদের মধ্যে দৈবী গুণ ছিলো । এই লক্ষ্মী - নারায়ণের হলো দেবী - দেবতা ধর্ম । খ্রীস্টান ধর্মে যেন মেল আর ফিমেল সবাই খৃস্টান । এখানেও তেমন বলা হয় দেবী - দেবতা । রাজা - রানী, প্রজা সবাই দেবী - দেবতা ধর্মের । এ হলো খুবই উঁচু সুখ প্রদানকারী ধর্ম বাচ্চারা গীতও শুনেছে, একথা আত্মা বলছে যে, বাবা এমন জায়গায় নিয়ে চলো যেখানে আমি শান্তি - স্বস্তি পাই । সে তো হলো সুখধাম আর শান্তিধাম । এখানে অনেক অশান্তি আর অস্থিরতা । সত্যযুগে কোনো অস্থিরতা থাকে না । আত্মা জানে যে, বাবা ছাড়া অন্য কেউই স্বস্তির দুনিয়াতে নিয়ে যেতে পারবে না । বাবা বলেন - মুক্তি আর জীবনমুক্তি আমি কল্প - কল্প এই উপহার নিয়ে আসি, কিন্তু তোমরা ভুলে যাও, ড্রামাতে এই ভুলে যেতেই হবে । সব ভুলে গেলে তবেই তো আমি আসবো । এখন তোমরা ব্রাহ্মণ হয়েছো, তোমাদের এই নিশ্চয়তা আছে যে, আমরা ৮৪ জন্ম নিয়েছি । যারা সম্পূর্ণ জ্ঞান ধারণ করতে পারবে না, তারা প্রথমে নতুন দুনিয়াতেও আসতে পারবে না । ত্রেতাতে বা ত্রেতার অন্তিমে এসে যাবে । সবকিছুই এই পুরুষার্থের উপরে নির্ভর করে । সত্যযুগে সুখ ছিল, সেখানে এই লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজ্য ছিলো । আচ্ছা, এর পূর্ব জন্মে এরা কে ছিলেন, কেউই জানে না । পূর্বজন্মে এরা ব্রাহ্মণ ছিলেন । তার পূর্বে শূদ্র ছিলেন । এই বর্ণের উপর তোমরা খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারো ।

তোমরা এখন বুঝতে পারো, আমরা ২১ জন্মের জন্য শান্তি এবং স্বস্তি পাবো । বাবা আমাদের সেই পথ বলে দিচ্ছেন । আমরা এখনো পতিত, তাই অশান্তিতে আছি, দুঃখে আছি । যেখানে স্বস্তি থাকবে, সেখানে সুখ - শান্তি আছে বলা হবে । বাচ্চা তোমাদের বুদ্ধিতে এখন এই সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান আছে । তোমরা বুঝতে পারো যে, অবশ্যই সত্যযুগে ভারত কতো সুখী ছিল । দুঃখ বা অশান্তির নামমাত্র ছিল না । তোমরা এখন স্বর্গে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো । তোমরা এখন ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের হয়েছো, আর ওরা হলো আসুরী সম্প্রদায়ের । বলাও হয় - পাপ আত্মা । আত্মা অনেক আছে আর পরমাত্মা একজন । সবাই হলো ভাই - ভাই, সবাই পরমাত্মা হতে পারে না । এই সামান্য কথাও মানুষের বুদ্ধিতে নেই । বাবা বুঝিয়েছেন যে, এই সম্পূর্ণ দুনিয়া এক বড় অসীম জগতের দ্বীপ, ওইসব ছোটো - ছোটো দ্বীপ হয় । এই অসীম জগতের দ্বীপে এখন রাবণের রাজ্য । এইসব কথাকে মানুষ বুঝতেই পারে না । ওরা তো কেবল কাহিনী শোনাতে থাকে । কাহিনী বা গল্পকে জ্ঞান বলা হয় না । এর দ্বারা মানুষ সদগতি লাভ করে না । জ্ঞানের দ্বারাই সদগতি লাভ হয় । আর এই জ্ঞান প্রদানকারী হলেন একমাত্র বাবা, দ্বিতীয় আর কেউই নয় । ভক্তদের ভগবান এসেই রক্ষা করেন । মানুষ, মানুষকে রক্ষা করতে পারে না । শিব বাবা সমস্ত বাচ্চাদের উত্তরাধিকার প্রদান করেন । তিনি বাবাও, সদগুরুও আবার টিচারও । তিনি উকিল এবং ব্যারিস্টারও, কেননা তিনি পাপের সাজা থেকেও মুক্ত করেন । সত্যযুগে কেউই জেলে যাবে না । বাবা সবাইকে জেল থেকে মুক্ত করেন । বাচ্চাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সব মনোকামনা পূরণ হয় । আবার রাবণের দ্বারা অশুদ্ধ মনোকামনা পূরণ হয় । বাবার দ্বারা শুদ্ধ মনোকামনা পূরণ হয় । শুদ্ধ মনোকামনা পূরণ হলে তোমরা সর্বদার জন্য সুখী হও । অশুদ্ধ কামনা হলো - পতিত - বিকারী হওয়া । পবিত্র যারা থাকে তাদের ব্রহ্মচারী বলা হয় । তোমাদেরও পবিত্র থাকতে হবে । পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে হবে । পতিত থেকে পবিত্র একমাত্র বাবাই তৈরী করেন । সাধু - সন্ত ইত্যাদিদের জন্ম তো বিকারের দ্বারাই হয়, দেবতাদের জন্য এমন বলাই যায় না । ওখানে বিকার থাকেই না । সে হলোই পবিত্র দুনিয়া । লক্ষ্মী - নারায়ণ সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিলেন, সেইসময় ভারত পবিত্র ছিলো । একথা এখনই তোমরা বুঝতে পারো । সত্যযুগে যখন পবিত্রতা ছিল, তখন শান্তি এবং সম্পদ ছিলো, সবাই সেখানে সুখী ছিলো, রাবণ রাজ্য যখন থেকে শুরু হয়েছে, তখন থেকে নেমেই এসেছে । এখন তো কেউই কাজের নয় । একদম কড়ি তুল্য হয়ে গেছে । এখন তোমরা আবার বাবার দ্বারা হীরে তুল্য হও । ভারতে যখন সত্যযুগ ছিলো, তখন সবাই হীরে তুল্য ছিলো । এখন তো কড়ি তুল্যও নেই । নিজের ধর্মকেই কেউ জানে না । মানুষ পাপ করতে থাকে । ওখানে তো পাপের নামই নেই । তোমরা দেবী - দেবতা ধর্মের নামিদামী, দেবতাদের অনেক চিত্র আছে । অন্য ধর্মে দেখবে একটাই চিত্র থাকে, খ্রীস্টানদের কাছে খ্রাইস্টের চিত্র থাকবে । বৌদ্ধদের কাছে এক বুদ্ধের চিত্র থাকে । খ্রীস্টানরা এক খ্রাইস্টকেই স্মরণ করে, তাদের সন্ন্যাসী বলা হয় । নান্স বা সন্ন্যাসীর অর্থ এক ক্রাইস্ট ছাড়া তারা আর কাউকেই স্মরণ করে না, এইজন্য বলা হয় একমাত্র খ্রাইস্ট, ওরা ব্রহ্মচারী থাকে । তোমরাও হলে সন্ন্যাসিনী । তোমরা তোমাদের গৃহস্থ জীবনে থেকেও সন্ন্যাসিনী হয়ে থাকো । তোমরা এক বাবাকেই স্মরণ করো । একমাত্র এই একজন, এক শিব বাবা, দ্বিতীয় আর কেউই নয় । ওদের বুদ্ধিতে তবুও দুজন এসে যায় । খ্রাইস্টের জন্যও বুঝবে যে, তিনি ভগবানের সন্তান ছিলেন, কিন্তু তাঁর ঈশ্বরীয় জ্ঞান ছিল না । বাচ্চারা, তোমাদের জ্ঞান আছে, সম্পূর্ণ দুনিয়াতে এমন কেউই নেই যার পরমাত্মার জ্ঞান আছে । পরমাত্মা কোথায় থাকেন, তিনি কখন আসেন, তাঁর পার্ট কি - সেটা কেউই জানে না । ভগবানকে সর্বজ্ঞ বলা হয় । মানুষ মনে করে, তিনি আমাদের মনের কথা জানেন । বাবা বলেন - আমি জানি না, আমার কি দরকার যে, প্রত্যেকের হৃদয়ে বসে তাদের মনের কথা পড়বো, আমি এসেছি পতিতকে পবিত্র করতে । কেউ যদি পবিত্র না থাকে, মিথ্যা কথা বলে, তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি করে ফেলবে । এমন গায়ন আছে যে - দেবতাদের সভাতে অসুর গিয়ে বসতো । এখানে অমৃতের বণ্টন হয় কেউ যদি বিকারে গিয়ে আবার লুকিয়ে এখানে বসে, তাহলে তো অসুর হলো, তাই না । তারা নিজেরাই নিজেদের পদ ভ্রষ্ট করে দেবে । প্রত্যেককেই তাদের নিজেদের পুরুষার্থ করতে হবে । না হলে নিজেদেরই সর্বনাশ করে দেয় । এমন অনেকেই আছে যারা লুকিয়ে এসে বসে যায় । তারা বলে, আমরা বিকারে যাই-ই না, কিন্তু তারা বিকারে যেতে থাকে । এ তো নিজেদের ঠকানোই হলো । নিজেদেরই সর্বনাশ করে । পরমপিতা পরমাত্মা, যার রাইট হ্যান্ড ধর্মরাজ, তাঁর সামনে মিথ্যা কথা বললে নিজেরাই দণ্ডের ভাগীদার হয়ে যায় । অনেক সেন্টারেই এমন হয় বাবা যখন প্রথম বার দিল্লীতে গিয়েছিলেন, তখন রোজ একজন আসতো আর সে বিকারে যেত । তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো - যখন পবিত্র থাকতে পারো না, তখন এখানে আসো কেন? সে বলতো - না এলে কিভাবে নির্বিকারী হবো ! পবিত্রতা ভালো লাগে কিন্তু থাকতেও পারি না । অবশেষে তো একদিন শুধরে যাবো । না এলে তো আমার তরী ডুবেই যাবে । আর কোনো পথই নেই, তাই আমাকে এখানে আসতে হয় ।

বাবা বোঝান, তুমি পরিবেশ খারাপ করছো, কতদিন পর্যন্ত এভাবে আসতে থাকবে যারা পবিত্র হয়, পতিতদের প্রতি তাদের যেন ঘৃণা আসে । তারা বলে - বাবা, এর হাতের খাবারও ভালো লাগে না । বাবা উপায় বলে দিয়েছেন, খাওয়াদাওয়ার সমস্যা হলে, এমন তো নয় যে, তোমরা চাকরী ছেড়ে দেবে, তোমাদের যুক্তির দ্বারা চলতে হবে । কাউকে বোঝালে সে বিগড়ে যায় যে, পবিত্র কিভাবে থাকবে । এ তো কখনো শুনিনি । সন্ন্যাসীরাও থাকতে পারে না । যখন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যায়, তখন পবিত্র থাকে, কিন্তু একথা কেউই জানে না যে, এখানে পতিত পাবন পরমপিতা পরমাত্মা পড়ান । তারা মানে না তাই বিরোধ করে । তারা বলে, শিব বাবা যে ব্রহ্মা তনে আসেন, কোনো শাস্ত্র দেখাও । এ তো গীতাতে লেখা আছে যে, আমি সাধারণ বৃদ্ধ শরীরে আসি । সে তাঁর নিজের জন্মকে জানে না । এ তো লেখাই আছে, তাহলে তোমরা কিভাবে বলো যে, পরমাত্মা কিভাবে মনুষ্য তনে আসবেন? তিনি তো পতিত তনে এসেই পথ বলে দেবেন, তাই না । এর আগেও এসেছিলেন এবং বলেছিলেন - মামেকম্ স্মরণ করো । তিনিই পরমধামে থাকেন আর বলেন, মামেকম্ স্মরণ করো । কৃষ্ণের শরীর তো আর মূল বতনে থাকবে না, যে বলবেন - মামেকম্ স্মরণ করো । এক পরমপিতা পরমাত্মাই সাধারণ তনে প্রবেশ করে বাচ্চারা তোমাদের বলেন - মামেকম্ স্মরণ করো, তাহলে এই যোগ অগ্নির দ্বারা তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে, তাই আমাকেই পতিত পাবন বলা হয় পতিত পাবন অবশ্যই আত্মাদের হবে, তাই না । পতিতও তো আত্মাই হয় ।

বাবা বলেন - তোমরা পবিত্র আত্মারা ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিলে । এখন তো শূন্য কলা, সম্পূর্ণ পতিত হয়ে গেছো আমি কল্পে - কল্পে এসে তোমাদের বোঝাই । তোমরা যে কাম চিতাতে বসে পতিত হয়ে যাও, আমি তোমাদের আবার জ্ঞান চিতাতে বসিয়ে পবিত্র করি । ভারতে পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল, এখন হলো অপবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ । এখানে কারোরই শান্তি নেই । বাবা এখন বলেন - দু'জনেই জ্ঞান চিতাতে বসো । প্রত্যেক আত্মা নিজের নিজের কর্ম অনুসারে শরীর প্রাপ্ত করে । এমন নয় যে, পরের জন্মে ওই একই পতি - পত্নী নিজেদের মধ্যে মিলিত হবে । তা নয়, এত রেস করতে পারে না । এ তো পড়ার কথা, তাই না । অজ্ঞান কালে হতে পারে - নিজেদের মধ্যে অনেক প্রেম, তখন তাদের মনোকামনাও পূরণ হতে পারে, সে তো হলো পতিত বিকারী মার্গ । পতির সঙ্গে সঙ্গে পত্নীও সহমরণে যায় । অন্য জন্মে গিয়েও তার সঙ্গে মিলিত হয়, কিন্তু অন্য জন্মে তো জানতেই পারবে না । তোমরাও বাবার সঙ্গে জ্ঞান চিতাতে বসো । তোমরা এই ছিঃ - ছিঃ শরীর ত্যাগ করে চলে যাবে । তোমরা একথা এখন জেনেছো, ওরা তো জানে না যে, আমরা আগের জন্মে এমন সাথী ছিলাম । তোমাদেরও পরে ওখানে এই কথা স্মরণে থাকবে না । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন এইম অবজেক্ট আছে । মাম্মা - বাবা লক্ষ্মী - নারায়ণ হবেন । বিষ্ণু হলেন দেবতা । প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে দেবতা বলা যাবে না । ব্রহ্মা থেকে দেবতা হন । ব্রহ্মা থেকে বিষ্ণু আর বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা কিভাবে হন - একথা এখন তোমরা বুঝে গেছো । তোমরা এখন জানো যে - শান্তি কেবল একমাত্র স্বর্গেই হয় কেউ মারা গেলে বলে, স্বর্গে গেলো অর্থাৎ শান্তিতে গেলো । পতিত অবস্থায় অশান্তিতে থাকে । বাবা তবুও বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো, তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে । বাকি সব হলো ডিটেলে বোঝার মতো কথা । বাবা যেহেতু নলেজফুল, তাই তিনি তোমাদেরও তাঁর মতো নলেজফুল বানাবেন । বাবার স্মরণে তোমরা সতোপ্রধান হবে, এ হলো আত্মাদের রেস । যে বেশী স্মরণ করবে, সে শীঘ্র হবে । এ হলো যোগ আর পড়ার রেস । স্কুলেও তো রেস হয়, তাই না । ওখানে অনেক ছাত্র থাকে, তাদের মধ্যে যে এক নম্বর হয়, সে স্কলারশিপ পায় । একই পড়া লাখ, কোটি আত্মাদের জন্য হয়, তাই এত স্কুলও তো থাকবে, তাই না । তোমাদের এখন এই পড়া পড়তে হবে । সবাইকে পথ বলে দাও, অন্ধের লাঠি হও । তোমাদের ঘরে - ঘরে খবর পৌঁছে দিতে হবে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এখন অশুদ্ধ কামনার ত্যাগ করে শুদ্ধ কামনা রাখতে হবে। সবথেকে শুদ্ধ কামনা হলো পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হওয়া । কখনোই নিজের ভুলকে লুকিয়ে নিজেকে ঠকিও না । ধর্মরাজ বাবার প্রতি সদা সত্য থাকতে হবে ।

২ ) জ্ঞান চিতাতে বসে এই পড়াতে রেস করে ভবিষ্যতে নতুন দুনিয়ার উচ্চ পদ পেতে হবে । যোগ অগ্নির দ্বারা বিকর্মের খাতাকে দগ্ধ করতে হবে ।

বরদান:-
বুদ্ধির প্রীতি এক প্রীতমের প্রতি যুক্ত করে সদা সম্মুখের অনুভব করে বিজয়ী রত্ন ভব

প্রীত বুদ্ধি অর্থাৎ বুদ্ধির একাগ্রতা যেন এক প্রীতমের প্রতি থাকে । যার একের প্রতি প্রেম থাকে, তার অন্য কোনো ব্যক্তি বা বৈভবের প্রতি প্রেম থাকতে পারে না । সে সদা বাপদাদাকে নিজের সম্মুখে অনুভব করবে । তার মনেও শ্রীমতের বিপরীত ব্যর্থ সঙ্কল্প বা বিকল্প আসতে পারে না । তার মুখে বা হৃদয় থেকে এই বোলই নির্গত হবে - তোমার থেকেই গ্রহণ করবো, তোমার সাথেই বসবো, তোমার সাথেই সর্ব সম্বন্ধ পালন করবো.... এমন সদা প্রীত বুদ্ধি যারা রাখে তারাই বিজয়ী রত্ন হয় ।

স্লোগান:-
'চাই - চাই' সঙ্কল্প আসাও রয়্যাল রূপে চাহিদা ।

অব্যক্ত ইশারা :- অপবিত্রতার বীজকে সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ( পবিত্র ) হও

সঙ্গম যুগে বাপদাদা সমস্ত বাচ্চাদের এই ব্রত দিয়েছেন - "সম্পূর্ণ পবিত্র ভব" । পবিত্রতার এই ব্রত কেবল ব্রহ্মচর্যের ব্রত নয়, ব্রহ্মা বাবার সমান প্রতি বাণীতে পবিত্রতার ভাইব্রেশন যেন নিহিত থাকে । প্রতিটি সঙ্কল্পে যেন পবিত্রতার গুরুত্ব থাকে । প্রতি কর্মে যেন কর্মযোগী জীবনের অনুভব হয় - একেই বলা হয় ব্রহ্মচারী থেকে ব্রহ্মাচারী ।