21.01.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এক বাবার স্মরণে তোমাদের সুপ্রীম হতে হবে, তাই ভুল করেও অন্য কাউকে স্মরণ করো না"

প্রশ্নঃ -
বাবার কাছে কোন্ ইচ্ছা বা আশা না রেখে, কৃপা পার্থনার পরিবর্তে নিজের পরিশ্রম করতে হবে ?

উত্তরঃ  
পুরানো শরীরের কোনো প্রকারের কর্মভোগ, দেউলিয়া হয়ে গেলে বা অসুস্থ হলে, বাবা বলবেন, এ তোমাদের নিজেদের হিসাব - নিকাশ, এই আশা রেখো না যে, বাবা এতে কোনো কৃপা করবেন, নিজে পরিশ্রম করে যোগবলের দ্বারা এই ভোগ পার করো, স্মরণের দ্বারাই তোমাদের আয়ু বৃদ্ধি পাবে । কর্মভোগ শোধ হবে । বাবা, যিনি প্রাণের অধিক প্রিয়, তাঁর প্রতি যত প্রেম থাকবে, ততই তিনি স্মরণে থাকবেন আর কল্যাণ হতে থাকবে ।

ওম্ শান্তি ।
অসীম জগতের পিতা বসে বাচ্চাদের বোঝান - মিষ্টি বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো আর নিজের ঘরকে স্মরণ করো । তাঁকে বলাই হয় টাওয়ার অফ সাইলেন্স । টাওয়ার অফ সুখ । টাওয়ার অনেক উচ্চ হয় । তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো । উঁচুর থেকেও উঁচু টাওয়ার অফ সাইলেন্সে তোমরা কিভাবে যেতে পারো, এও টাওয়ারে থাকা বাবা বসে বোঝান । বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করো । আমরা আত্মারা হলাম শান্তিধামের নিবাসী । সে হলো বাবার ঘর । চলতে - ফিরতে এই অভ্যাস করতে হবে । নিজেকে আত্মা মনে করো আর শান্তিধাম এবং সুখধামকে স্মরণ করো । বাবা জানেন যে, এতেই পরিশ্রম, যারা আত্ম - অভিমানী হয়ে থাকে, তাদের বলা হয় মহাবীর । স্মরণের দ্বারাই তোমরা মহাবীর আর সুপ্রীম হও । সুপ্রীম অর্থাৎ শক্তিশালী ।

বাচ্চাদের খুশী হওয়া উচিত - স্বর্গের মালিক বানান যে বাবা, বিশ্বের মালিক বানান যে বাবা, সেই বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন । আত্মার বুদ্ধি চলে যায় বাবার প্রতি । এ হলো এক বাবার প্রতি আত্মার প্রেম । তোমরা ভোরবেলা উঠে বাবার সঙ্গে মিষ্টি - মিষ্টি কথা বলো । বাবা, এ তো আপনার ম্যাজিক, স্বপ্নতেও জানতাম না যে m, আপনি আমাদের স্বর্গের মালিক বানাবেন । বাবা, আমরা অবশ্যই আপনার শিক্ষা মতে চলবো । কোনো পাপ কর্ম করবো না । ব্রহ্মা বাবা যেমন পুরুষার্থ করেন, তেমনই বাচ্চাদের শোনান । শিব বাবার এতো অনেক সন্তান, উদ্বেগ তো থাকবেই, তাই না । তিনি কতো বাচ্চাদের দেখভাল করেন । তোমরা এখানে ঈশ্বরীয় পরিবারে বসে আছো । বাবা তোমাদের সম্মুখে বসে আছেন । তোমার থেকেই খাবো, তোমার কাছেই বসবো... তোমরা জানো যে, শিব বাবা এনার মধ্যে প্রবেশ করে বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, মামেকম্ স্মরণ করো । দেহ সহ দেহের সকল সম্বন্ধকে ভুলে যাও । এ হলো তোমাদের অন্তিম জন্ম । এ হলো পুরানো দুনিয়া, এই পুরানো দেহও শেষ হয়ে যাবে । কথিত আছে - তোমার মৃত্যু হলে দুনিয়ারও মৃত্যু হবে । পুরুষার্থের জন্য হলো সঙ্গমের এই অল্প সময় । বাচ্চারা জিজ্ঞেস করে - বাবা, এই পড়া কতো পর্যন্ত চলবে? যতক্ষণ না দৈবী রাজধানী স্থাপন হয়ে যায়, তিনি ততক্ষণ শোনাতে থাকবেন । তারপর তোমরা নতুন দুনিয়াতে ট্রান্সফার হয়ে যাবে । এ হলো তোমাদের পুরানো শরীর, কিছু না কিছু কর্মের ভোগ চলতেই থাকে, এতে বাবা সাহায্য করবেন - এই আশা রেখো না । দেউলিয়া হয়ে গেলে, অসুস্থ হলে - বাবা বলবেন, এ হলো তোমাদের হিসেব - নিকেশ । হ্যাঁ, তবুও যোগের দ্বারা আয়ু বৃদ্ধি হবে । তোমরা নিজের পরিশ্রম করো । কৃপা প্রার্থনা করো না । বাবাকে যতো স্মরণ করবে, তাতেই কল্যাণ, যতো সম্ভব, যোগবলের দ্বারা ভোগ পার করো । এমন তো গেয়েও থাকে - আমাকে চোখের পলকে রাখো... প্রিয় জিনিসকে নূর রত্ন, প্রাণপ্রিয় বলা হয় । এই বাবা তো খুবই প্রিয়, কিন্তু তিনি হলেন গুপ্ত । তাঁর প্রতি প্রেম এমন হওয়া উচিত যে, সেকথা আর জিজ্ঞাসা করো না । বাচ্চাদের তো বাবা চোখের পলকে লুকিয়ে রাখেন । পলক না থাকলে দৃষ্টিও থাকবে না । একথা তো বুদ্ধিতে স্মরণে রাখা উচিত । মোস্ট বিলাভেড (অতি প্রিয়) নিরাকার বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন । তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর, প্রেমের সাগর । এমন অতি প্রিয় বাবার প্রতি কতো প্রেম থাকা উচিত । তিনি বাচ্চাদের কতো নিষ্কাম সেবা করেন । পতিত শরীরে এসে তিনি তোমাদের মতো বাচ্চাদের হীরে তুল্য তৈরী করেন । কতো মিষ্টি বাবা । তাই বাচ্চাদেরও এমন মিষ্টি হতে হবে । কতো নিরহংকারী হয়ে তিনি বাচ্চাদের সেবা করেন, তাই বাচ্চারা, তোমাদেরও এমনভাবে সেবা করা উচিত । তোমাদের শ্রীমতে চলা উচিত । কোথাও নিজের মত প্রদর্শন করলে ভাগ্যে গণ্ডি টানা হয়ে যাবে । তোমরা ব্রাহ্মণরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান । তোমরা ব্রহ্মার সন্তান ভাই - বোন । ঈশ্বরের পৌত্র - পৌত্রী । তোমরা তাঁর থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করছো । তোমরা যতো পুরুষার্থ করবে, তত উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে । এতে সাক্ষী থাকারও খুব অভ্যাসের প্রয়োজন । বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, হে আত্মারা, মামেকম্ স্মরণ করো, ভুল করেও বাবা ব্যতীত অন্য কাউকেও স্মরণ করো না । তোমাদের প্রতিজ্ঞা হলো, বাবা, আমার তো আপনিই আছেন । আমি হলাম আত্মা, আর আপনি পরমাত্মা । আপনার থেকেই উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে । আমরা আপনার কাছ থেকেই রাজযোগ শিখছি, যাতে আমরা রাজ্য - ভাগ্য প্রাপ্ত করি ।

মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, এ হলো অনাদি ড্রামা, এতে হার-জিতের খেলা চলতেই থাকে । যা হচ্ছে, সবই ঠিক । ক্রিয়েটরের তো ড্রামা অবশ্যই পছন্দ হবে, তাই না । তাই ক্রিয়েটরের বাচ্চাদেরও পছন্দ হবে । এই ড্রামাতে বাবা একবারই বাচ্চাদের হৃদয়ের সঙ্গে প্রেমের সঙ্গে সেবা করতে আসেন । বাবার কাছে তো সব বাচ্চারাই প্রিয় । তোমরা জানো যে, সত্যযুগেও সবাই একে অপরকে ভালোবাসে । পশুদের মধ্যেও প্রেম থাকে । এমন কোনো পশু থাকে না, যারা প্রেমের সঙ্গে বাস করে না । তাই বাচ্চারা, তোমাদের এখানে মাস্টার প্রেমের সাগর হতে হবে । এখানে এমন হতে পারলে তোমাদের সেই সংস্কার অবিনাশী হয়ে যাবে । বাবা বলেন যে, আমি পূর্ব কল্পের মতো হুবহু আবার তোমাদের প্রিয় বানাতে এসেছি । কখনো কোনো বাচ্চার ক্রোধের আওয়াজ পেলেই বাবা শিক্ষা দেন যে - বাচ্চারা, ক্রোধ করা ঠিক নয়, এতে তোমরাও দুঃখী হবে, অন্যদেরও দুঃখী করবে । বাবা সদাকালের জন্য সুখদানকারী, তাই বাচ্চাদেরও বাবার সমান হতে হবে । একে অপরকে কখনোই দুঃখ দেবে না ।

বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, শিব বাবা হলেন ভোরের সাঁই, তিনি রাতকে দিন বা আলোয় প্রকাশিত করেন । সাঁই বলা হয় অসীম জগতের পিতাকে । ওই একই সাঁই বাবা, তিনিই ভোলানাথ বা শিববাবা । তাঁর নামই হলো ভোলানাথ । তিনি সহজ সরল কন্যাদের আর মাতাদের উপর জ্ঞানের কলস স্থাপন করেন । তাদেরই তিনি বিশ্বের মালিক বানান । তিনি কতো সহজ উপায় বলে দেন । কতো প্রেমের সঙ্গে তোমাদের জ্ঞানের পালনা করেন । আত্মাকে পাবন বানানোর জন্য তোমরা স্মরণের যাত্রাতে থাকো । তোমাদের যোগ স্নান করতে হবে । জ্ঞান হলো এই পাঠ । যোগ স্নানের দ্বারা এই পাপ ভস্ম হয় । নিজেকে আত্মা মনে করবার অভ্যাস করতে থাকো, তাহলে এই দেহের অহংকার সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যাবে । যোগের দ্বারাই তোমাদের পবিত্র, সতোপ্রধান হয়ে বাবার কাছে যেতে হবে । কোনো - কোনো বাচ্চা এই কথা ভালোভাবে বুঝতেই পারে না । নিজেদের সত্যিকারের চার্ট বলে না । অর্ধেক কল্প মিথ্যার দুনিয়াতে থেকেছে তাই অন্তরে যেন মিথ্যা জমা হয়ে গিয়েছে । নিজেদের সত্য চার্ট বাবাকে বলা উচিত । তোমাদের চেক করতে হবে - আমরা পৌনে ঘণ্টা বসেছি, এতে কতো সময় নিজেকে আত্মা জ্ঞান করে বাবাকে স্মরণ করেছি ! কেউ কেউ সত্য কথা বলতে লজ্জা পায় । এ তো তোমরা চট্ করে শোনাবে যে, এতো সার্ভিস করেছি, এতজনকে বুঝিয়েছি, কিন্তু স্মরণের চার্ট কতো ছিলো, সেই সত্য কথা শোনায় না । স্মরণে না থাকার কারণে তোমাদের কারোর তীর বিদ্ধ হয় না । জ্ঞান তলোয়ারে ধার লাগে না । কেউ কেউ বলে, আমরা তো নিরন্তর স্মরণে থাকি, বাবা বলেন, সেই অবস্থা তৈরী হয় নি । নিরন্তর স্মরণে থাকলে কর্মাতীত অবস্থা তৈরী হয়ে যাবে । জ্ঞানের পরাকাষ্ঠা দেখা যাবে, এতেই অনেক পরিশ্রম । বিশ্বের মালিক তো আর এমনিতে হবে না । এক বাবা ছাড়া আর অন্য কারোর স্মরণ যেন না থাকে । এই দেহও যেন স্মরণে না থাকে । পরের দিকে তোমাদের এমন অবস্থা হবে । স্মরণের যাত্রাতেই তোমাদের উপার্জন হতে থাকবে । শরীর যদি চলে যায় তখন তো আর এই উপার্জন করতে পারবে না । যদিও আত্মা সংস্কার সঙ্গে নিয়ে চলে যাবে, তবুও টিচার তো চাই, যে আবার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেবেন । বাবা প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকেন । এমন অনেক বাচ্চা আছে যারা গৃহস্থ জীবনে থেকে, চাকরী ইত্যাদি করেও উচ্চ পদ প্রাপ্ত করার জন্য শ্রীমতে চলে নিজের ভবিষ্যৎ জমা করতে থাকে । বাবার থেকে রায় গ্রহণ করতে থাকে । অর্থ থাকলে তাকে সফল কিভাবে করবে । বাবা বলেন, সেন্টার খোলো, যাতে অনেকের কল্যাণ হয় । মানুষ দান - পুণ্য ইত্যাদি করে, দ্বিতীয় জন্মে তার ফল প্রাপ্ত হয় । তোমাদেরও ভবিষ্যৎ ২১ জন্মের জন্য রাজ্য - ভাগ্য প্রাপ্ত হয় । তোমাদের এ হলো এক নম্বর ব্যাঙ্ক, এতে চার আনা ঢাললে ভবিষ্যতে তা এক হাজার হয়ে যাবে । পাথর থেকে সোনা হয়ে যাবে । তোমাদের প্রতিটি জিনিসই পারস হয়ে যাবে । বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে হলে মাতা - পিতাকে সম্পূর্ণ ফলো করো আর নিজের কর্মেন্দ্রিয়কে কন্ট্রোল করো । যদি কর্মেন্দ্রিয় বশীভূত না হয়, চলন যদি ঠিক না হয় তাহলে উচ্চ পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে । নিজের চলনকে শুধরাতে হবে । বেশী আশা রেখো না ।

বাবা তোমাদের মতো বাচ্চাদের কতো জ্ঞান শৃঙ্গার করিয়ে সত্যযুগের মহারাজা - মহারানী বানান, এতে সহনশীলতার গুণ খুবই প্রয়োজন । দেহের প্রতি অতি মোহ থাকা ঠিক নয় । যোগবলের দ্বারাই পার করতে হবে । বাবার অনেক কাশি ইত্যাদি হয়, তবুও সর্বদা সার্ভিসে তৎপর থাকেন । জ্ঞান-যোগের দ্বারা শৃঙ্গার করিয়ে বাচ্চাদের উপযুক্ত বানান । তোমরা এখন ঈশ্বরের কোলে, মাতা - পিতার কোলে বসে আছো । বাবা ব্রহ্মা মুখের দ্বারা তোমাদের মতো বাচ্চাদের জন্ম দেন, তাই তিনি তো মা হয়ে গেলেন, তবুও তোমাদের বুদ্ধি শিব বাবার প্রতিই চলে যায় । তুমি আমার মাতা - পিতা... আমি তোমার বালক....। তোমাদের এখানেই সর্বগুণ সম্পন্ন হতে হবে । প্রতি মুহূর্তে তোমরা মায়ার কাছে হেরে যেও না । বাবা বোঝান যে, মিষ্টি বাচ্চারা, নিজেদের আত্মা জ্ঞান করো । নিজেদের এমন অনুভব করলে কতো মিষ্টি লাগে ।

এই ড্রামা কেমন ওয়ান্ডারফুল বানানো আছে, তাও তোমরা এখন বোঝাও । এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগ, এতটুকুও যদি স্মরণে থাকে তাহলে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, আমরা সত্যযুগে যাবো, এখন সঙ্গম যুগে আছি । এরপর নিজের ঘরে ফিরে যেতে হবে তাই পাবন তো অবশ্যই হতে হবে । অন্তরে খুব খুশী হওয়ার প্রয়োজন । অহো ! অসীম জগতের পিতা বলেন, মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা, আমাকে স্মরণ করলে তোমরা সতোপ্রধান হতে পারবে । বিশ্বের মালিক হবে । বাবা বাচ্চাদের কতো ভালোবাসেন । এমন নয় যে, তিনি কেবল টিচারের রূপে পড়িয়ে ঘরে ফিরে যান । তিনি তো বাবাও, আবার টিচারও । তিনি তোমাদের পড়ানও । স্মরণের যাত্রাও শেখান ।

এমন যিনি বিশ্বের মালিক বানান, পতিত থেকে পাবন বানান যে বাবা, তাঁর প্রতি খুবই প্রেম থাকা উচিত । ভোরবেলা উঠেই প্রথমে শিব বাবাকে গুড মর্নিং করা উচিত । গুড মর্নিং অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করলে খুব খুশীতে থাকবে । বাচ্চাদের নিজের মনকে জিজ্ঞেস করা উচিত যে, আমরা ভোরবেলা উঠে অসীম জগতের পিতাকে কতটা স্মরণ করি । মানুষ তো ভক্তিও ভোরবেলাই করে, তাই না । ভক্তি কতো প্রেমের সঙ্গে করে । বাবা কিন্তু জানেন যে, কোনো বাচ্চা হৃদয় থেকে প্রেমের সঙ্গে স্মরণ করে না । ভোরবেলা উঠে বাবাকে গুড মর্নিং করলে, জ্ঞানের চিন্তনে থাকলে খুশীর পারদ চড়তে থাকবে । বাবাকে গুড মর্নিং না করলে পাপের বোঝা কিভাবে দূর হবে । মুখ্য হলো স্মরণ, এতে তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড় উপার্জন হয় । কল্প - কল্পান্তর এই উপার্জন কাজে আসবে । অনেক ধৈর্য, গাম্ভীর্য এবং বুদ্ধির সঙ্গে বাবাকে স্মরণ করতে হয় । মোটামুটিভাবে তো বলেও দেয় যে, আমি বাবাকে খুবই স্মরণ করি কিন্তু এক্যুরেট স্মরণ করাতেই পরিশ্রম । যে বাবাকে খুব বেশী স্মরণ করে, সে বেশী কারেন্ট বা শক্তি প্রাপ্ত করে, কেননা এই স্মরণের দ্বারাই স্মৃতির মিলন হয় । যোগ আর জ্ঞান দুই জিনিস । যোগের সাবজেক্ট আলাদা । খুব গভীর সাবজেক্ট । যোগের দ্বারাই আত্মা সতোপ্রধান হয় । যোগ বিনা সতোপ্রধান হওয়া অসম্ভব । খুব ভালোভাবে প্রেমের সঙ্গে বাবাকে স্মরণ করবে তাহলে অটোমেটিক্যালি কারেন্ট বা শক্তি প্রাপ্ত করবে, হেলদি হয়ে যাবে । কারেন্টে আয়ুও বৃদ্ধি হয় । বাচ্চারা স্মরণ করে, বাবাও তখন সার্চ লাইট দেন । বাবা কতো বড় সম্পদ তোমাদের দান করেন । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি, নয়নের নূর বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার হৃদয় এবং মন থেকে, প্রেমের সঙ্গে স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । রুহানী বাবা তাঁর রুহানী বাচ্চাদের নমস্কার জানাচ্ছেন ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বাবাকে অনেক ধৈর্য এবং পরিণত মনস্কতার সাথে এবং বুদ্ধির দ্বারা স্মরণ করতে হবে । স্মরণ অ্যাক্যুরেট হলে কারেন্ট বা শক্তি প্রাপ্ত করবে, আয়ু বৃদ্ধি পাবে, হেলদি হয়ে যাবে ॥

২ ) উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে হলে নিজের চলনকে শুধরাতে হবে, অধিক আশা রাখবে না । কর্মেন্দ্রিয়কে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল রাখতে হবে, মাতা - পিতাকে সম্পূর্ণ ফলো করতে হবে ।

বরদান:-
ফলো ফাদার আর সী ফাদারের মহামন্ত্রের দ্বারা একরস স্থিতি বানিয়ে শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থী ভব

"সী ফাদার - ফলো ফাদার" এই মন্ত্রকে সদা সামনে রেখে চড়তি কলাতে চলতে থাকো, উড়তে থাকো । কখনোই আত্মাদের দেখো না, কেননা আত্মারা সবাই পুরুষার্থী, পুরুষার্থীদের মধ্যে ভালোও হয় আবার কিছু ঘাটতিও থেকে থাকে, তারা সম্পন্ন নয়, তাই ফলো ফাদার, নাকি ফলো ব্রাদার - সিস্টার? তাই ফাদার যেমন একরস, তেমনই যারা ফলো করে তারাও শীঘ্রই একরস হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
পরচিন্তনের প্রভাবে না এসে শুভচিন্তন করে শুভচিন্তক মণি ভব

অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করো

যেমন অন্য স্থূল বস্তু যখন চাও তখনই গ্রহণ করতে পারো আবার যখন চাও তখন ত্যাগ করতে পারো । তেমনই দেহ বোধকে যখন চাও তখন ত্যাগ করে দেহী অভিমানী হয়ে যাও - এই প্র্যাকটিস যেন এমনই সরল হয়, যেমন কোনো স্থূল বস্তু সহজ হয় । রচয়িতা যখন চায় তখনই যেন রচনার আধার নেয়, আবার যখন চাইবে তখনই রচনার আধার ত্যাগ করবে, যখন চাইবে তখন পৃথক, আবার যখন চাইবে তখনই প্রিয় হয়ে যাবে - এমনই বন্ধনমুক্ত হও ।