21.03.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - শ্রীমৎ অনুযায়ী কল্যাণকারী হতে হবে, সকলকে সুখের রাস্তা বলে দিতে হবে"

প্রশ্নঃ -
যেকোনো প্রকারের গাফিলতি হওয়ার মুখ্য কারণ কী?

উত্তরঃ  
দেহ-অভিমান। দেহ-অভিমানের কারণেই বাচ্চাদের অনেক ভুল হয়ে যায়। তারা সার্ভিসও করতে পারে না। তার দ্বারা এমন কর্ম হয়ে যায় যার ফলে সকলেই ঘৃণা বোধ করে। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আত্ম-অভিমানী হও। কোনো অকর্তব্য (নিন্দনীয় বা অনুচিত কার্য) ক'রো না। ক্ষীরখন্ড হয়ে সার্ভিসের ভালো ভালো প্ল্যান বানাও। মুরলী শুনে ধারণ করো, এতে বেপরোয়া হয়ো না।

গীতঃ-
ছেড়ে দাও ওই আকাশ সিংহাসন/ধরনীর মাঝে নেমে এসো....

ওম্ শান্তি ।
আত্মা-রূপী বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে আত্মাদের পিতার শ্রীমৎ । এখন আমি সমস্ত সেন্টারের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলছি। এখন যে ত্রিমূর্তি, গোলক, বৃক্ষ, সিঁড়ি, লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র আর কৃষ্ণের চিত্র রয়েছে - এই ৬টি চিত্রই হলো মুখ্য। এ যেন সম্পূর্ণ প্রদর্শনী, এরমধ্যেই সবকিছুর সার চলে আসে। যেমন নাটকের পর্দা তৈরী করা হয়, অ্যাডভার্টাইমেন্টের জন্য (হোর্ডিং তৈরী করা হয়) । তা কখনো বৃষ্টি ইত্যাদিতে নষ্ট হয় না। এইভাবে মুখ্য-মুখ্য এই চিত্রগুলিও তৈরী করা উচিত। বাচ্চারা শ্রীমৎ অনুযায়ী আধ্যাত্মিক সার্ভিস বৃদ্ধি করার জন্য, ভারতের মানুষদের কল্যাণ সাধনের জন্য। তারা গেয়ে থাকে - কল্যাণকারী হলেন অসীম জগতের পিতা, তাহলে অবশ্যই অকল্যাণকারীও কেউ আছে। যে কারণে বাবাকে এসে পুনরায় কল্যাণসাধন করতে হয়। আত্মিক বাচ্চারা অর্থাৎ যাদের কল্যাণ হচ্ছে, তারা এই কথাগুলোকে বুঝতে পারে। যেমন আমাদের কল্যাণ হয়েছে, আমরা তাহলে অন্যদেরও কল্যাণ করবো। যেমন বাবারও চিন্তন চলে যে কিভাবে কল্যাণ করবো। যুক্তি বলে দিতে থাকেন। ৬ বাই ৯ সাইজের (কাগজের) শীটে এই চিত্র তৈরী করা উচিত। দিল্লীর মতন শহরে সর্বদাই বহু মানুষ আসে। যেখানে গভর্নমেন্টের অ্যাসেম্বলী ইত্যাদি হয়ে থাকে । সেক্রেটারিয়েট) দিকে বহু মানুষ আসে, সেখানে এই চিত্র রাখা উচিত। অনেকের কল্যাণার্থে বাবা মত দেন। এইরকম টিনের উপরেও চিত্র তৈরী করা যেতে পারে। দেহী-অভিমানী হয়ে বাবার সার্ভিস করতে হবে। বাবা রায় দেন - এই চিত্র হিন্দী এবং ইংরেজীতে তৈরী করা উচিত। এই ৬টি চিত্র যেন মুখ্য-মুখ্য স্থানে লাগিয়ে দেওয়া হয়। যদি এইরকম মুখ্য-মুখ্য স্থানে লাগিয়ে দেওয়া যায় তবে তোমাদের কাছে শত-শত মানুষ বুঝতে আসবে। কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে দেহ-অভিমানের কারণে অনেক ভুল হয়ে যায়। এ'রকম যেন কেউ মনে না করে যে, আমি পাক্কা(সম্পূর্ণ) দেহী-অভিমানী। ভুল তো অনেক হয়, সত্যি বলে না। বোঝানো হয় যে - এইরকম ভুল কার্য ক' রো না যা কারোর মধ্যে খারাপ, ঘৃণার মনোভাব নিয়ে আসে যে এরমধ্যে দেহ-অভিমান রয়েছে। তোমরা সর্বক্ষণ যুদ্ধের ময়দানে রয়েছো। এখানে তো যুদ্ধ ১০-২০ বছর পর্যন্ত চলে। কিন্তু মায়ার সঙ্গে তোমাদের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। কিন্তু তা গুপ্ত, যা কেউই জানতে পারে না। গীতায় যে মহাভারতের লড়াই রয়েছে, তা শরীরী (লড়াই) দেখানো হয়েছে। কিন্তু এ হলো আত্মিক (লড়াই)। পান্ডবদের আত্মিক যুদ্ধ। সেই জাগতিক যুদ্ধ যা হলো পরমপিতা পরমাত্মার থেকে বিপরীত বুদ্ধির। তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণ কুলভূষণদের হলো প্রীত-বুদ্ধি। তোমরা আর সকল সঙ্গ পরিত্যাগ করে একের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করেছো। অনেকবার দেহ-অভিমানে আসার কারণে ভুলে গিয়ে নিজের পদ ভ্রষ্ট করে ফেলে। পুনরায় অন্তে অনেক অনুতাপ করতে হবে। কিছু করতে পারবে না। এ হলো কল্প কল্পের বাজি। এইসময় কোনো অকর্তব্য ( অনুচিত) কার্য করলে তখন কল্প-কল্পান্তরের জন্য পদ ভ্রষ্ট হয়ে যায়।

অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। বাবা বলেন - পূর্বে তোমরা ১০০ শতাংশ লোকসানের মধ্যে ছিলে। এখন বাবা ১০০ শতাংশ লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যান। তাই শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। প্রত্যেক বাচ্চাকে কল্যাণকারী হতে হবে। সকলকে সুখের পথ বলে দিতে হবে। সুখ তো রয়েছেই স্বর্গে, নরকে রয়েছে দুঃখ। কেন? এটা হলো বিকারী দুনিয়া। ওটা হলো নির্বিকারী, এখন বিকারী হয়ে গেছে। পুনরায় বাবা নির্বিকারী করে দেন। এ'সমস্ত কথা দুনিয়ায় কেউই জানে না। তাহলে প্রধান-প্রধান এই চিত্রগুলি কোনো স্থায়ী জায়গায় লাগানো উচিত। প্রথম মুখ্য স্থান হলো দিল্লী, দ্বিতীয় বোম্বে(মুম্বই) আর কলকাতা। কাউকে অর্ডার দিলে শীটের উপরে বানিয়ে দেবে। আগ্রাতেও অনেকে ভ্রমণ করতে যায়। বাচ্চারা অত্যন্ত ভালো সার্ভিস করছে আরো কিছু কার্য করে দেখাক। এই চিত্র তৈরী করতে কোনো অসুবিধা নেই। শুধু অভিজ্ঞতা (অনুভব) চাই। ভালো বড় চিত্র হোক যাতে কেউ যেন দূর থেকেও পড়তে পারে। গোলকও (ড্রামা হুইল) বড় করে তৈরী হতে পারে। সাবধানে রাখতে হবে, যাতে কেউ নষ্ট করে দিতে না পারে। যজ্ঞে অসুরেরা বিঘ্ন সৃষ্টি করে কারণ এসব হলো নতুন কথা। তারা বলে - তোমরা দোকান (ব্যবসা) খুলে বসেছো। শেষে সকলেই বুঝবে পারবে যে আমরা অধঃপতনে গেছি, তাহলে অবশ্যই কিছু খামতি আছে। বাবা-ই হলেন একমাত্র কল্যাণকারী। তিনিই বলতে পারেন যে ভারতের কল্যাণ কিভাবে আর কবে হয়েছে। ভারতকে তমোপ্রধান কে করে, পুনরায় সতোপ্রধান কে করে। এই চক্র কিভাবে আবর্তিত হয়, কেউ জানে না। সঙ্গমযুগকেও জানে না। মনে করে, ভগবান যুগে-যুগে আসেন। কখনো বলে ভগবান নাম, রূপের ঊর্ধ্বে। ভারত প্রাচীন স্বর্গ ছিল। এও বলে যে খ্রাইস্টের জন্মের ৩ হাজার বছর পূর্বে দেবতাদের রাজ্য ছিল, পরে আবার কল্পের আয়ু দীর্ঘ করে দিয়েছে, তবে তো বাচ্চাদের দেহী-অভিমানী হতে অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হবে। অর্ধেককল্প সত্যযুগ আর ত্রেতায় তোমরা আত্ম-অভিমানী ছিলে কিন্তু পরমাত্ম-অভিমানী ছিলে না। এখানে তো তোমরা পুনরায় দেহ-অভিমানী হয়ে পড়েছো। আবার দেহী-অভিমানী হতে হবে। 'যাত্রা'- শব্দটিও রয়েছে, কিন্তু অর্থ বোঝে না। "মন্মনাভব"-র অর্থ হলো আত্মিক যাত্রায় থাকো। (((হে আত্মণেরা, আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। কৃষ্ণ তো এভাবে বলতে পারে না। তিনি গীতার ভগবান কিভাবে হতে পারেন। ওঁনার উপরে কেউ কলঙ্ক লাগাতে পারে না। এও বাবা বুঝিয়েছেন যে, সিড়িতে যখন নামে তখন অর্ধেককল্প কামচিতায় বসে কালো হয়ে যায়। এখন হলোই আয়রন এজ। তাদের সম্প্রদায় কালোই হবে। কিন্তু সকলের রূপ শ্যামবর্ণের কিভাবে তৈরী করা যেতে পারে। চিত্রাদি যা কিছু তৈরী করেছে তা সবই অবুঝের মতন। ওনাকেই শ্যাম, পরে আবার সুন্দর বলা.... তা কিভাবে হতে পারে। এদের বলা-ই হয় অন্ধশ্রদ্ধায় পুতুল-পূজনকারী। পুতুলের নাম-রূপ, অক্যুপেশন ইত্যাদি থাকতে পারে না। তোমরাও প্রথমে পুতুলের পূজা করতে, তাই না! অর্থ কিছুই বুঝতে না। তাই বাবা বুঝিয়েছেন - প্রদর্শনীর চিত্রই প্রধান হোক। কমিটি গঠিত হোক যারা প্রদর্শনীর পর প্রদর্শনী করতে থাকবে। বন্ধনমুক্ত তো অনেকেই। কন্যারা বন্ধনমুক্ত। বাণপ্রস্থীও বন্ধনমুক্ত। তাহলে বাচ্চাদের (বাবার) ডায়রেক্শনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এরা হলো গুপ্ত পান্ডব। কারোরই চেনা-পরিচিতির মধ্যে আসতে পারে না। বাবাও গুপ্ত, জ্ঞানও গুপ্ত। ওখানে মানুষ মানুষকে জ্ঞানদান করে। এখানে পিতা পরমাত্মা জ্ঞান প্রদান করেন আত্মাদের। কিন্তু এটা বোঝে না যে, আত্মা জ্ঞান গ্রহণ করে কারণ তারা তো আত্মাকে অলিপ্ত(নির্লেপ) বলে দিয়েছে। বাস্তবে আত্মাই সর্বকিছু করে। আত্মা পুনর্জন্ম নেয় কর্ম অনুসারে। বাবা এইসমস্ত পয়েন্টস্ ভালভাবে বুদ্ধিতে ঢেলে দেয়। সব সেন্টারেই নম্বরের অনুক্রমে দেহী-অভিমানী রয়েছে। যারা ভালোভাবে বোঝে এবং পুনরায় বুঝিয়েও দেয়। দেহ-অভিমানী না কিছু বোঝে, না কিছু বোঝাতে পারে। আমি কিছু বুঝি না, এটাও দেহ-অভিমান। আরে! তোমরা তো আত্মা। বাবা তো আত্মাদেরকেই বসে-বসে বোঝান। মাথা (বুদ্ধি) খুলে যাওয়া উচিত। ভাগ্যে না থাকলে তখন খোলে না। বাবা প্রচেষ্টা করান কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে তখন পুরুষার্থও করে না। অতি সহজ, অল্ফ(বাবা) আর বে-কে (উত্তরাধিকার) বুঝতে হবে। অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। তোমরা ভারতবাসীরা সকলেই গড-গডেজ ছিলে। প্রজাও এরকমই ছিল। এইসময় পতিত হয়ে পড়েছে। কত বোঝানো হয়। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের দেবী-দেবতা (গড-গডেজ) করেছিলাম। এখন তোমরা কি হয়ে গেছো। এ হলো কুম্ভীপাক নরক (পুরাণ বর্ণিত ভয়ানক নরক)। বিষয় বৈতরণী নদীতে মানুষ, পশু, পাখী ইত্যাদি সবই একইরকমের দেখতে লাগে। এখানে তো মানুষ আরো খারাপ হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে ক্রোধও কত। লক্ষ-লক্ষ-কে মেরে দেয়। যে ভারত বেশ্যালয় হয়ে গেছে পুনরায় তাকে শিববাবাই শিবালয়ে পরিনত করেন। বাবা কত ভালভাবে বোঝান। ডায়রেক্শন দেন এমন-এমনভাবে করো। চিত্র তৈরী করো। তারপর বড়-বড়(গণ্যমান্য ব্যক্তি) যেসকল মানুষেরা রয়েছে তাদের বোঝাও। এ হলো প্রাচীন যোগ, প্রাচীন জ্ঞান সকলের শোনা উচিত। হল বুক করে প্রদর্শনী করতে হবে। তাদের তো পয়সাদি কিছু নেওয়া উচিত নয়। তবুও যদি সঠিক মনে করো তাহলে ভাড়া নাও। তোমরা চিত্র তো দেখো, চিত্র দেখলে তখন আবার তৎক্ষনাৎ পয়সা ফেরৎ দিয়ে দেবে। কেবল যুক্তি সহকারে বোঝানো উচিত। অথরিটি তো হাতে থাকে, তাই না! চাইলে সবকিছুই করতে পারো। ওরা কি বুঝতে পারে নাকি, না পারে না কারণ বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি তাই বিনাশপ্রাপ্ত হয়। পান্ডবেরা তো ভবিষ্যতে পদ প্রাপ্ত করেছে। তাহলেও রাজ্য পরে ভবিষ্যতে প্রাপ্ত করবে। তা এখনই হবে নাকি! এই ঘর-বাড়ী ইত্যাদি সব শেষ হয়ে যাবে। বাবা এখন বোঝান যে, প্রদর্শনীও করা উচিত। অত্যন্ত ভালভাবে কার্ডের মাধ্যমে নিমন্ত্রণ করতে হবে। প্রথমে তোমরা বড়দের(গণ্যমান্যদের) বোঝাও তাহলে তারা সহায়তাও করবে। কেবল শুয়ে থাকবে না। অনেক বাচ্চারা দেহ-অভিমানের কারণে শুয়ে থাকে। কমিটি তৈরী করে ক্ষীরখন্ড হয়ে অর্থাৎ মিলেমিশে প্ল্যান তৈরী করা উচিত। এছাড়া মুরলী না পড়লে ধারণা হবে কিভাবে? এইরকম অনেক দায়িত্বজ্ঞানহীনও (বেপরোয়া) রয়েছে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) দেহী-অভিমানী হয়ে সার্ভিসের বিভিন্ন রকমের যুক্তি বের করতে হবে। পরস্পর মিলেমিশে সার্ভিস করতে হবে। যেমন বাবা কল্যাণকারী তেমনই কল্যাণকারী হতে হবে।

২ ) প্রীত-বুদ্ধি হয়ে, আর সকল সঙ্গ পরিত্যাগ করে একের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। এমন কোনো অনুচিত কার্য করা উচিত নয় যার ফলস্বরূপ কল্প-কল্পান্তরের জন্য ক্ষতি হয়ে যায়।

বরদান:-
অসীম বৈরাগ্য বৃত্তির দ্বারা নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হয়ে অটল-অনড় ভব

যারা সদা অসীম বৈরাগ্য বৃত্তিতে থাকে তারা কখনও কোনও দৃশ্যকে দেখে ঘাবড়ায় না বা অস্থির হয়ে যায় না, সদা অচল-অনড় থাকে, কেননা অসীম বৈরাগ্য বৃত্তি দ্বারা নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হয়ে যায়। যদি কম বেশী কিছু দেখে অংশমাত্রও দোলাচলে এসে যায় বা মোহ উৎপন্ন হয় তাহলে তাকে অঙ্গদের সমান অটল-অনড় বলা হবে না। অসীম বৈরাগ্য বৃত্তিতে গম্ভীরতার সাথে রমণীয়তাও সমাহিত হয়ে আছে।

স্লোগান:-
রাজ্য অধিকারীর সাথে সাথে অসীম বৈরাগী হয়ে থাকা, এটাই হলো রাজঋষির লক্ষণ।

মাতেশ্বরীজী-র অমূল্য মহাবাক্য -

"আত্মা কখনও পরমাত্মার অংশ হতে পারে না" :-

অনেক মানুষ এই রকম মনে করে, আমরা অর্থাৎ আত্মারা পরমাত্মার অংশ, এখন অংশ তো বলা হয় টুকরোকে। একদিকে বলা হয় পরমাত্মা অনাদি এবং অবিনাশী। তাহলে এমন অবিনাশী পরমাত্মা টুকরো কিভাবে হতে পারে! কিভাবে পরমাত্মাকে ছেদন করা যেতে পারে! আত্মাই অজড়, অমর, তাহলে অবশ্যই আত্মার জন্মদাতাও অমর হবে। এরকম অমর পরমাত্মাকে টুকরো করে দেওয়া অর্থাৎ পরমাত্মাকেও বিনাশ করে দেওয়া কিন্তু আমরা তো জানি যে, আত্মা পরমাত্মার সন্তান। তাহলে আমরা অবশ্যই তাঁর বংশজ অর্থাৎ অবশ্যই সন্তান তিনি তাহলে অংশ বা টুকরো কিভাবে হতে পারেন ? সেইজন্য পরমাত্মার মহাবাক্য হলো যে - বাচ্চারা, আমি তো অবিনাশী, জাগ্রত-জ্যোতি, আমি প্রদীপ, আমি কখনো নিভে যাই না। আর সব মানুষের আত্ম-দীপ জাগরিতও হয় আবার নিভেও যায়। তাদের সকলকে জাগ্রত করি তো আমিই কারণ লাইট এবং মাইট প্রদান করি তো আমিই। এছাড়া আমার অর্থাৎ পরমাত্মার লাইট আর আত্মার লাইটের মধ্যে এতখানি পার্থক্য তো অবশ্যই রয়েছে। যেমন বাল্ব, কোনটা বেশী পাওয়ারের, কোনটা কম পাওয়ারের, তেমনই আত্মাও কোনোটা অধিক শক্তিসম্পন্ন, কোনোটা স্বল্প শক্তিসম্পন্ন হয়। তাছাড়া পরমাত্মার শক্তি কখনও কম-বেশী হয় না। তবেই তো পরমাত্মার উদ্দেশ্যে বলা হয় যে পরমাত্মা সর্বশক্তিমান অর্থাৎ সকল আত্মাদের থেকে ওঁনার মধ্যে শক্তি অধিকমাত্রায় রয়েছে। তিনিই সৃষ্টির অন্তে আসেন, যদি কেউ মনে করে যে তিনি সৃষ্টির মধ্যবর্তী সময়ে আসেন অর্থাৎ যুগে যুগে আসেন তার অর্থ পরমাত্মা (ড্রামার) মাঝেই চলে এসেছেন তাহলে আবার পরমাত্মা সকলের থেকে শ্রেষ্ঠ হলেন কিভাবে ! কেউ যদি বলে পরমাত্মা যুগে যুগে আসেন, তবে কী এটাই মনে করা হবে যে পরমাত্মা প্রতিমুহূর্তে নিজের শক্তি প্রয়োগ করেন। এরকম সর্বশক্তিমানের শক্তি এতখানি পর্যন্তই রয়েছে, যদি মধ্যভাগেই নিজের শক্তির থেকে সকলকে শক্তি বা সদ্গতি দিয়ে দেন তবে তো ওনার সেই শক্তি কায়েম থাকা উচিত তাহলে (মানুষের) দুর্গতি হয় কেন? তাহলে এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, পরমাত্মা যুগে যুগে আসেন না অর্থাৎ মাঝে-মাঝে(প্রতি কল্পের সঙ্গমে) আসেন না। তিনি আসেন কল্পের অন্তিম সময়ে আর একবারেই নিজের শক্তির দ্বারা সকলের সদ্গতি করেন। পরমাত্মা যখন এত বড় সেবা করেছেন তাই তো ওনার স্মৃতি-স্মারকরূপে বড় শিবলিঙ্গ তৈরী করা হয় আর এত পূজা করা হয়, তাহলে অবশ্যই পরমাত্মা সত্যও, চৈতন্যও আর আনন্দস্বরূপও। আচ্ছা -- ওম্ শান্তি।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"

ব্যর্থ সংকল্প বা সংশয়ের মার্জিন থাকা সত্বেও এই সমর্থ সংকল্প চলবে যে সদা বাবা হলেন রক্ষক, কল্যাণকারী। এই নিশ্চয়ের বিজয় অবশ্যই হয়। তো কোশ্চেন মার্কের বাঁকা রাস্তা না নিয়ে সদা কল্যাণের বিন্দু লাগাও। ফুলস্টপ। এই বিধির দ্বারা প্রত্যেক কথা সহজও হবে আর সিদ্ধিও প্রাপ্ত হবে।