21.08.2025
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা আসুরিক মতে চলে ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিলে, এখন ঈশ্বরীয় মতে চলো তাহলে সুখধামে
চলে যাবে”
প্রশ্নঃ -
বাবার কাছে
বাচ্চারা কোন্ আশা রাখবে এবং কোন্ আশা করবে না?
উত্তরঃ
বাবার থেকে এই
আশা রাখতে হবে যে, আমরা বাবার দ্বারা পবিত্র হয়ে নিজেদের ঘর (শান্তিধাম) এবং
রাজধানীতে (সুখধামে) যাবো। বাবা বলছেন - বাচ্চারা ! আমার কাছ থেকে এই আশা ক'রো না
যে, অমুক ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয়েছে, তাকে আশীর্বাদ করতে হবে। এখানে কৃপা বা
আশীর্বাদের কথাই নেই। বাচ্চারা, আমি তো আসি তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র বানাতে। এখন
আমি তোমাদেরকে এমন কর্ম শেখাচ্ছি যে কর্ম, বিকর্ম হয় না।
গীতঃ-
আজ নয়তো কাল
ঝরবে এই বাদল, সকাল হলো হে পথিক ! চল্ এবার ঘর চল্...
ওম্ শান্তি ।
আত্মিক
বাচ্চারা এই গান শুনেছে। বাচ্চারা জানে যে, এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। বাবা এসেছেন বাড়ি
ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই কথাটি তখনই মনে থাকবে, যখন আত্ম-অভিমানী হয়ে থাকবে।
দেহ-অভিমানে থাকলে তো, মনেও পড়বে না। বাচ্চারা জানে যে, বাবা পর্যটক হয়ে এসেছেন।
তোমরাও পর্যটক হয়ে এসেছিলে। এখন নিজেদের বাড়িকে ভুলে গেছো। পুনরায় বাবা বাড়ির
কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন আর প্রতিদিন বোঝাচ্ছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত সতোপ্রধান হচ্ছো,
ততক্ষণ তোমরা ফিরে যেতে পারবে না। বাচ্চারা মনে করে যে, বাবা তো সঠিক কথাই বলছেন।
বাবাও বাচ্চাদেরকে যে শ্রীমৎ দিচ্ছেন, যারা সুপুত্র হবে, তারা সেই মতে চলবে। এই সময়
আর তো অন্য কোনো বাবা নেই, যিনি এই রকম শ্রীমত দেবেন, এইজন্যই তোমরা ছন্নছাড়া হয়ে
গেছো। শ্রীমৎ দাতা হলেন এক বাবা-ই। তবুও অনেক বাচ্চা-ই সেই মতে চলতে পারেনা।
ওয়ান্ডার তাই না । লৌকিক বাবার মতে চলতে থাকে। সেটা তো হলো আসুরিক মত। এটাও তো হলো
ড্রামা। তবুও বাচ্চাদেরকে বোঝানো হচ্ছে যে, তোমরা আসুরিক মতে চলে এই দুর্গতি
প্রাপ্ত করেছ। এখন ঈশ্বরীয় মতে চলো তো তোমরা সুখধামে যেতে পারবে। এটা হলো অসীম
জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকার। বাবা প্রতিদিন বোঝাচ্ছেন। তাই বাচ্চাদেরকে অনেক খুশিতে
থাকতে হবে। সবাইকে তো এখানে (মধুবনে) রাখা যাবে না। নিজেদের ঘরে থেকেই বাবাকে স্মরণ
করতে হবে। এখন তো পার্ট সম্পূর্ণ হতে চলেছে, এখন পুনরায় বাড়ি ফিরে যেতে হবে।
মানুষ তো সবকিছুই ভুলে গেছে। বলা হয় যে, এরা তো নিজেদের ঘর-বাড়ি সবই ভুলে গেছে।
এখন বাবা বলছেন যে, নিজেদের ঘরকে মনে করো। নিজেদের রাজধানীকে মনে করো। এখন তোমাদের
পার্ট সম্পূর্ণ হতে চলেছে, এখন তোমাদের পুনরায় ঘরে ফিরে যেতে হবে। তোমরা কি
সবকিছুই ভুলে গেছো?
বাচ্চারা, তোমরা বলতে
পারো যে, বাবা ড্রামা অনুসারে আমাদের পার্ট-ই এইরকম রয়েছে, আমরা আমাদের ঘর
শান্তিধামকে ভুলে গিয়ে একদম উদভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। ভারতবাসীরাই নিজেদের
শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কর্মকে ভুলে দৈবীধর্ম ভ্রষ্ট, দৈবীকর্ম ভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে। এখন বাবা
সাবধান করছেন যে, তোমাদের ধর্ম-কর্ম তো এইরকম (সতোপ্রধান) ছিল। সেখানে তোমরা যা কিছু
কর্ম করতে সেসবই অকর্ম হয়ে যেত। কর্ম, অকর্ম, বিকর্ম -এর গতি বাবা-ই তোমাদেরকে
বোঝাচ্ছেন। সত্যযুগে কর্ম, অকর্ম হয়ে যায়। আর রাবন রাজ্যে কর্ম, বিকর্ম হয়ে যায়।
এখন বাবা এসেছেন, ধর্ম শ্রেষ্ঠ - কর্ম শ্রেষ্ঠ বানাতে। তাই এখন শ্রীমতে চলে নিজেদের
কর্ম শ্রেষ্ঠ করতে হবে। কোনও ভ্রষ্ট কর্ম করে কাউকে দুঃখ দিও না। ঈশ্বরীয়
বাচ্চাদের এটা কাজ নয়। যা কিছু নির্দেশ প্রাপ্ত হচ্ছে সেই অনুসারে চলতে হবে,
দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে। ভোজনও শুদ্ধ গ্রহণ করতে হবে। যদি বিপরীত পরিস্থিতিতে শুদ্ধ
খাবার না পাওয়া যায়, তখন বাবার থেকে রায় নিতে হবে। বাবা বোঝেন যে, চাকরি আদিতে
কোথাও অল্প একটু খেতেও হয়। যখন যোগবলের দ্বারা তোমরা নতুন রাজত্ব স্থাপন করতে পারো,
পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানাতে পারো, তবে ভোজনকেও শুদ্ধ বানানো, এ আর কি এমন বড় কথা
! চাকরি তো করতেই হবে, তাই না! এমন তো নয় যে, বাবার হয়ে গেছো তো সবকিছু ছেড়ে
এখানে এসে বসে যেতে হবে। কত অসংখ্য বাবার বাচ্চা আছে, এত সবাই তো আর এখানে একসাথে
থাকতে পারবে না। সবাইকে তো নিজের-নিজের গৃহস্থ ব্যবহারেই থাকতে হবে। শুধু এটা মনে
রাখতে হবে যে - আমি হলাম আত্মা, বাবা এসেছেন, আমাদেরকে পবিত্র বানিয়ে ঘরে নিয়ে
যেতে, পুনরায় আমরা নতুন রাজধানীতে আসবো। এটা তো হলো রাবণের নোংরা রাজধানী। তোমরা
একদম পতিত হয়ে গেছো, ড্রামার প্ল্যান অনুসারে। বাবা বলছেন যে, এখন আমি তোমাদেরকে
সজাগ করতে এসেছি। তাই তোমরা আমার শ্রীমতে চলো। যত শ্রীমতে চলবে, ততই শ্রেষ্ঠ হবে।
এখন তোমরা বুঝতে
পেরেছো যে, আমরা সেই বাবাকে ভুলে গেছি, যিনি আমাদেরকে স্বর্গের মালিক বানিয়ে ছিলেন।
এখন বাবা সংশোধন করতে এসেছেন তাই ভালো ভাবে সংশোধিত হতে হবে, তাই না! খুশিতে থাকতে
হবে। অসীম জগতের বাবা আমাদের কাছে এসেছেন, বাবা বাচ্চাদের সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলেন,
যেন মনে হয়, তোমরা নিজেদের মধ্যে বার্তালাপ করছো। তিনিও তো আত্মা, তিনি হলেন পরম
আত্মা। তারও এই ড্রামাতে পার্ট রয়েছে । আত্মারা, তোমরাও হলে পার্টধারী। উঁচুর
থেকেও উঁচু আবার নীচুর থেকে নীচু পার্ট, তোমাদেরকেই অভিনয় করতে হয়। ভক্তি মার্গে
মানুষ এই গান করে যে, ঈশ্বরই সবকিছু করেন। বাবা বলছেন যে, আমার কি এইরকম পার্ট আছে
যে আমি কোনও রোগাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করে দিতে পারি? আমার পার্ট হল সবাইকে রাস্তা
বলে দেওয়া, যে তোমরা কিভাবে পবিত্র হতে পারবে? পবিত্র হলেই তোমরা ঘরেও যেতে পারবে।
রাজধানীতেও যেতে পারবে। আর কোনো আশা রেখো না। অমুক ব্যক্তির অসুখ হয়েছে, তাঁকে
আশীর্বাদ করতে হবে। না, আশীর্বাদ, কৃপা আদির কোনও কথা আমার কাছে নেই। তার জন্য তো
সাধু-সন্ত আদিদের কাছে যাও। তোমরা আমাকে ডেকেছিলে এই কারণে যে, হে পতিত-পাবন এসো,
এসে আমাদেরকে পবিত্র বানাও। পবিত্র দুনিয়াতে নিয়ে চলো। তাই বাবা জিজ্ঞাসা করছেন
যে, আমি তোমাদেরকে বিষয় সাগর থেকে বের করে, ওই পারে নিয়ে যাচ্ছি, পুনরায় তোমরা
বিষয় সাগরে কেন ফেঁসে যাচ্ছ? ভক্তি মার্গে তোমাদের এই অবস্থা হয়েছে। জ্ঞান, ভক্তি
হল তোমাদের জন্যই। সন্ন্যাসীরাও বলে যে, জ্ঞান, ভক্তি আর বৈরাগ্য। কিন্তু এর অর্থ
তারা জানেই না। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে - জ্ঞান, ভক্তি তারপর হল বৈরাগ্য। তাই
অসীম জগতের বৈরাগ্যবৃত্তি শেখানোর জন্য কাউকে চাই। বাবা বলেছিলেন যে - এটা হলো
কবরস্থান, এর পরেই আসবে পরিদের স্থান। সেখানে প্রত্যেক কর্ম, অকর্ম হয়ে যায়। এখন
বাবা তোমাদেরকে এমন কর্ম শেখাচ্ছেন যে কর্ম, বিকর্ম হবে না। কাউকে দুঃখ দিও না।
পতিতের হাতের তৈরি অন্ন খেওনা। বিকারে যেওনা। অবলাদের উপর অত্যাচারও এই কারনে হয়।
দেখতে থাকো যে মায়ার বিঘ্ন কীভাবে পড়ে। এই সবকিছুই হল গুপ্ত। বলে যে, দেবতা আর
অসুরদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল, আবার বলে যে পান্ডব আর কৌরবদের যুদ্ধ লেগেছিল। এখন
লড়াই তো একবারই হবে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে, আমি তোমাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি ভবিষ্যতের
২১ জন্মের জন্য। এটা হলো মৃত্যুলোক। মানুষ সত্যনারায়ণের কথা শুনে এসেছে, কিন্তু
তাতে লাভ কিছুই হয়নি। এখন তোমরা সত্যিকারের গীতা শোনাচ্ছো। রামায়ণও তোমরা সঠিক
অর্থ করে শোনাচ্ছো। এক রাম-সীতার কথা ছিল না। এই সময় তো সমগ্র দুনিয়াই হলো লঙ্কা।
চারিদিকে শুধু জল আর জল, তাই না ! এটা হলো অসীম জগতের লঙ্কা। যেখানে রাবণের রাজ্য
রয়েছে । এক বাবা-ই হলেন বর, বাকি সবাই হলো কনে। তোমাদেরকে এখন রাবণ রাজ্য থেকে বাবা
মুক্ত করছেন। এটা হল শোক-বাটিকা। সত্যযুগকে বলা যায় অশোক-বাটিকা। সেখানে কোনও শোক
থাকে না। এই সময় হলো শোক আর শোক। অশোক একজনও থাকেনা। নাম তো রেখে দেয় - অশোকা
হোটেল। বাবা বলেন যে - সমগ্র দুনিয়াকে এই সময় অসীমের হোটেলই মনে করো। এটা হলো
শোকের হোটেল। এখানের মানুষদের খাদ্য-পানীয় হল জানোয়ারের মত। দেখো, বাবা তোমাদেরকে
কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। সত্যিকারের অশোক-বাটিকা আছে সত্যযুগে। লৌকিক আর অলৌকিকের এই
পার্থক্য বাবা-ই বলে দিচ্ছেন। বাচ্চারা, তোমাদেরকে অনেক খুশিতে থাকতে হবে। তোমরা
এখন জানো যে, বাবা আমাদেরকে পড়াচ্ছেন। আমাদেরও হলো সেই একটিই ধান্ধা - সবাইকে
রাস্তা বলে দিতে হবে, অন্ধের লাঠি হতে হবে। তোমাদের কাছে অনেক চিত্র আছে। স্কুলে
যেরকম চিত্র দেখিয়ে বোঝায়, এটা হলো অমুক দেশ...। তোমরাও তো বোঝাতে থাকো যে, তোমরা
হলে আত্মা, শরীর নও। আত্মা-ই ভাই-ভাই হয়। কত সহজ কথা শোনাতে থাকো। তারাও বলে আমরা
সবাই হলাম ভাই-ভাই। বাবা বলেন যে, তোমরা সকল আত্মারা হলে ভাই-ভাই, তাইনা! আমাকে
গড-ফাদার বলে ডাকো, তাই না! তাই কখনও নিজেদের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া আদি ক'রো না।
শরীরধারী হওয়ার জন্য তো আবার ভাই-বোন হয়ে যাও। আমরা হলাম শিব বাবার সন্তান
ভাই-ভাই। প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান ভাই-বোন, অবিনাশী উত্তরাধিকার দাদাঠাকুরের কাছ
থেকেই আমাদেরকে নিতে হবে, এইজন্য দাদাঠাকুর অর্থাৎ শিব বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। এই
বাচ্চা অর্থাৎ ব্রহ্মা বাবাকেও আমি নিজের বানিয়েছি অথবা এনার মধ্যে প্রবেশ করেছি।
এই সকল কথাগুলিকে তোমরা এখন বুঝতে পেরেছো। বাবা বলছেন - বাচ্চারা, এখন নতুন দৈবী
প্রবৃত্তি মার্গ স্থাপন হচ্ছে। তোমরা সমস্ত বিকে-রা শিব বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলছো।
ব্রহ্মাও তাঁর (শিব বাবার) মতে চলেন। বাবা বলছেন নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ
করো আর অন্ সকল সম্বন্ধকে হালকা করতে থাকো। আট ঘন্টা স্মরণে থাকো বাকি ১৬ ঘন্টাতে
আরাম বা ধান্ধা আদি যা কিছু করার আছে সেগুলো করো। ‘আমি হলাম শিব বাবার সন্তান’- এটা
ভুলে যেও না। এমনও নয় যে এখানে এসে হোস্টেলে থেকে যেতে হবে। না, গৃহস্থ ব্যবহারে
বাচ্চাদের সাথেই থাকতে হবে। বাবার কাছে আসো রিফ্রেশ হওয়ার জন্য। মথুরা-বৃন্দাবনে
যায় মধুবনকে এক ঝলক দেখার জন্য। সেখানে ছোট মডেল রূপে সবকিছু সাজানো আছে। এখন তো
এই অসীম জগতের কথা বুঝতে হবে। শিব বাবা ব্রহ্মার দ্বারা নতুন সৃষ্টি রচনা করছেন।
আমরা হলাম প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান বি. কে। এখানে বিকারের কথা হতেই পারে না।
সন্ন্যাসীদের শিষ্য হয়। সেই সন্ন্যাসীর বস্ত্র পরিবর্তন করে নিলে, তখন নাম
পরিবর্তন হয়ে যায়। এখানেও তোমরা বাবার হয়ে গেছ, তাই বাবাও তোমাদের নাম রেখে
দিয়েছেন, তাই না! কতদিন ভাট্টিতে ছিলে ! এই ভাট্টির কথা কেউ জানেই না। শাস্ত্রতে
তো কত কি সব লিখে দিয়েছে। পুনরায় এই রকমই হবে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে সৃষ্টি চক্রের
পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বাবাও তো হলেন স্ব-দর্শন চক্রধারী, তাইনা! সৃষ্টির আদি, মধ্য,
অন্তকে জানেন। বাবার তো শরীরও নেই। তোমাদের তো স্থুল শরীর আছে। তিনি হলেনই পরমাত্মা।
আত্মাই হল স্ব-দর্শন চক্রধারী, তাইনা! এখন আত্মাকে অলংকার কিভাবে দেওয়া যাবে?
বোঝার বিষয়, তাই না! এই সমস্ত হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম কথা। বাবা বলছেন যে - বাস্তবে
আমি হলাম স্ব-দর্শন চক্রধারী। তোমরা জানো যে, আত্মার মধ্যে সমগ্র সৃষ্টি চক্রের
জ্ঞান ভরা আছে। বাবাও হলেন পরমধামের বাসিন্দা, আমরাও সেখানে এক সাথে ছিলাম। বাবা এসে
নিজের পরিচয় দিচ্ছেন - বাচ্চারা, আমিও হলাম স্ব-দর্শন চক্রধারী। আমি পতিত-পাবন,
তোমাদের কাছে এসেছি। আমাকে আহ্বান করা হয়েছে এই কারণে যে, এসে পতিত থেকে পবিত্র করো,
মুক্ত করো। কিন্তু তাঁর তো কোনও শরীর নেই। তিনি হলেন অজন্মা। যদিও জন্ম নেন তবে সেটা
হল দিব্য জন্ম। শিব জয়ন্তী অথবা শিবরাত্রী পালন করা হয়। বাবা বলেন - আমি তখনই আসি
যখন রাত পুরো হয়ে যায়, তখন দিন বানাতে আসি। দিনে ২১ জন্ম, আবার রাতে ৬৩ জন্ম,
আত্মাই ভিন্ন-ভিন্ন জন্ম নেয়। এখন তোমরা দিন থেকে রাতে এসেছো, পুনরায় দিনে যেতে হবে।
স্ব-দর্শন চক্রধারী তোমাদেরকেই বানিয়ে ছিলাম। এই সময় আমার পার্ট রয়েছে ।
তোমাদেরকেও স্ব-দর্শন চক্রধারী বানাই। তোমরা আবার অন্যদেরকেও সেইরকম তৈরী করো। ৮৪
জন্ম কিভাবে নিয়েছো, সেই ৮৪ জন্মের চক্র তো বুঝে গেছো। পূর্বে কি তোমাদের এই জ্ঞান
ছিল? একেবারেই না। অজ্ঞানী ছিলে। বাবা মুখ্য কথা এটাই বোঝাচ্ছেন যে, বাবা হলেন
স্ব-দর্শন চক্রধারী, তাঁকে জ্ঞানের সাগরও বলা হয়। তিনি হলেন সত্য এবং চৈতন্য
স্বরূপ। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন। বাবা
বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন যে, নিজেদের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া করো না। লবণাক্ত জল হয়ো না।
সর্বদা হাসি-খুশিতে থাকো আর সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে থাকো। বাবাকেই সবাই ভুলে গেছে।
এখন বাবা বলছেন যে - মামেকম্ স্মরণ করো। নিরাকার ভগবানুবাচ - নিরাকার আত্মাদের প্রতি।
তোমাদের প্রকৃত স্বরূপ হলো নিরাকার, পুনরায় তোমরা সাকারী হও। সাকার ছাড়া তো আত্মা
কিছুই করতে পারে না। আত্মা শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে, তখন শরীরের নড়া-চড়া কিছুই হয়
না। আত্মা অতি দ্রুত গিয়ে দ্বিতীয় কোনও শরীরে নিজের পার্ট প্লে করতে থাকে। এই
কথাগুলিকে ভালোভাবে বোঝো, মনে মনে চিন্তন করতে থাকো। আমি আত্মা বাবার থেকে অবিনাশী
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। সত্যযুগের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। অবশ্যই বাবা-ই
ভারতকে এই অবিনাশী উত্তরাধিকার দিয়েছিলেন। কবে এই উত্তরাধিকার প্রদান করেছিলেন এবং
তারপর কি হয়েছিল? এসমস্ত কথা সাধারণ মানুষ কিছুই জানে না। এখন বাবা সবকিছু
বোঝাচ্ছেন। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকেই স্ব-দর্শন চক্রধারী বানিয়েছিলেন, পুনরায়
তোমরা ৮৪ জন্ম ভোগ করেছো। এখন আমি পুনরায় এসেছি, কতো সহজ ভাবে বাবা বোঝাচ্ছেন।
বাবাকেই স্মরণ করো আর মিষ্টি স্বভাবী হও। লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য তো সামনে দাঁড়িয়ে
আছে। বাবা হলেন উকিলদের থেকেও বড় উকিল, সমস্ত ঝগড়া থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দেন।
বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যে আন্তরিক খুশি অনেক হওয়া চাই। আমরা বাবার বাচ্চা হয়েছি।
বাবা আমাদেরকে অ্যাডপ্ট করেছেন, অবিনাশী উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য। এখানে তোমরা আসো
এই অবিনাশী উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য। বাবা বলছেন, বাচ্চা পরিবারাদিকে দেখাশোনা করেও
বুদ্ধিতে যেন বাবা আর রাজধানীই স্মরণে থাকে। পড়াশোনা তো খুবই সহজ। বাবা, যিনি
তোমাদেরকে বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন, তাঁকে তোমরা ভুলে যাও? প্রথমে নিজেকে আত্মা
অবশ্যই মনে করো। এই জ্ঞান বাবা সঙ্গমেই প্রদান করেন, কেননা সঙ্গমেই তোমাদেরকে পতিত
থেকে পবিত্র হতে হয়। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক
ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ কুলভুষণ, এটা হলো দেবতাদের থেকেও উঁচু কুল । তোমরা
ভারতের অনেক শ্রেষ্ঠ সেবা করছো। এখন তোমরা পুনরায় পুজ্য হয়ে যাবে। এখন তোমরা
পূজারীকে পূজ্য, কড়ি থেকে হিরের মতো বানাচ্ছো। এইরকম আত্মিক বাচ্চাদের প্রতি
মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী
বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
শ্রীমতে চলে, এখন প্রতিটি কর্ম শ্রেষ্ঠ করতে হবে, কাউকে দুঃখ দিও না, দৈবীগুণ ধারণ
করতে হবে। বাবার শ্রীমতেই চলতে হবে।
২ ) সর্বদা হাসি
খুশিতে থাকার জন্য স্ব-দর্শন চক্রধারী হতে হবে, কখনো নিজেদের মধ্যে লবণাক্ত জল হয়ো
না। সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে। খুব খুব মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে।
বরদান:-
সম্মান
চাওয়ার পরিবর্তে সবাইকে সম্মান দিতে থাকা, সদা নিষ্কাম যোগী ভব
তোমাদেরকে কেউ সম্মান
দিক, মান্যতা দিক বা না দিক কিন্তু তোমরা সবাইকে মিষ্টি ভাই, মিষ্টি বোনের মান্যতা
দিয়ে সদা স্বমানে থাকো, স্নেহী দৃষ্টি দিয়ে, স্নেহের বৃত্তি দিয়ে আত্মিক সম্মান দিতে
থাকো। এই আত্মা সম্মান দিলে তবে আমি তাকে সম্মান দেবো - এটাও হল এক প্রকারের রয়্যাল
ভিখারী অবস্থা, এক্ষেত্রে নিষ্কাম যোগী হও। আত্মিক স্নেহ বর্ষণ করে শত্রুকে বন্ধু
বানিয়ে নাও। তোমাদের সামনে কেউ যদি পাথরও ফেলে (অর্থাৎ কষ্টদায়ী কথা বলে) তো তোমরা
তাকে (জ্ঞান) রত্ন দাও, কেননা তোমরা হলে রত্নাকর বাবার বাচ্চা।
স্লোগান:-
বিশ্বের নব নির্মাণ করার জন্য দুটি শব্দ স্মরণে রাখো - নিমিত্ত আর নির্মান।
অব্যক্ত ঈশারা :-
সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও
সেবাতে সফলতার মুখ্য
সাধন হলো - ত্যাগ আর তপস্যা। এইরকম ত্যাগী আর তপস্বী অর্থাৎ সদা বাবার লগনে লভলীন,
প্রেমের সাগরে সমাহিত হয়ে থাকা, জ্ঞান, আনন্দ, সুখ, শান্তির সাগরে সমাহিত হয়ে
থাকাকেই বলে তপস্বী। এইরকম ত্যাগী তপস্বীরাই হলো সত্যিকারের সেবাধারী।