22.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
পড়াশোনা আর দৈবী ক্যারেক্টারের রেজিস্টার রাখো, রোজ চেক করো, আমার দ্বারা কোনো ভুল
হয়নি তো"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা,
তোমরা কোন্ পুরুষার্থের দ্বারা রাজত্বের তিলক প্রাপ্ত করতে পারো?
উত্তরঃ
১) সদা
আজ্ঞাকারী হওয়ার পুরুষার্থ করো । এই সঙ্গম যুগে আদেশ পালনের (ফরমানবরদার) টীকা (কপালে)
দাও, তাহলেই রাজত্বের তিলক প্রাপ্ত করবে । যারা আজ্ঞাকারী নয়, তারা রাজত্বের তিলক
প্রাপ্ত করতে পারে না । ২) কোনো অসুস্থতা সার্জনের কাছে লুকিও না । যদি লুকাও তাহলে
পদ কম হয়ে যাবে । তোমরা বাবার মতো প্রেমের সাগর হও, তাহলে রাজত্বের তিলক প্রাপ্ত
করবে ।
ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা
তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন - পড়াশোনা অর্থাৎ বোধোদয় । বাচ্চারা, তোমরা
বুঝতে পারো যে, এই পড়াশোনা খুবই সহজ এবং অনেক উচ্চ আর এই পড়া অনেক উচ্চ পদ প্রাপ্ত
করায় । বাচ্চারা, এ কেবল তোমরাই জানো যে, আমরা এই পড়া বিশ্বের মালিক হওয়ার জন্য পড়ছি
। তাই যারা এই পাঠ গ্রহণ করে, তাদের অনেক খুশী হওয়া উচিত । কতো উঁচু পড়া । এ হলো
সেই গীতার এপিসোডও । সঙ্গম যুগও আছে । বাচ্চারা, তোমরা এখন জাগ্রত, বাকি সবাই ঘুমিয়ে
আছে । এমন গায়নও আছে যে - মায়ার নিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে । বাবা এসে তোমাদের জাগিয়েছেন
। তিনি কেবল একটি কথাই বোঝান -- মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা স্মরণের যাত্রার বলে
সম্পূর্ণ বিশ্বের উপর রাজত্ব করো, যেমন তোমরা পূর্ব কল্পে করেছিলে । বাবাই এই স্মৃতি
মনে করিয়ে দেন । বাচ্চারাও মনে করে যে, আমাদের স্মৃতি ফিরে এসেছে - কল্পে - কল্পে
আমরা এই যোগবলের দ্বারা বিশ্বের মালিক হই, এবং সেইসঙ্গে দৈবী গুণও ধারণ করেছি ।
যোগের উপরেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে । বাচ্চারা, এই যোগবলের দ্বারা তোমাদের মধ্যে
স্বাভাবিকভাবেই দৈবী গুণ এসে যায় । বরাবর এ হলো মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার পরীক্ষা ।
তোমরা এখানে যোগবলের দ্বারা মানুষ থেকে দেবতা হতে এসেছো । তোমরা এও জানো যে, আমাদের
যোগবলের দ্বারাই সম্পূর্ণ বিশ্বকে পবিত্র হতে হবে । আগে পবিত্র ছিলো, এখন অপবিত্র
হয়ে গেছে । বাচ্চারা, এই সম্পূর্ণ চক্রের রহস্য তোমরাই বুঝেছো, আর এ তোমাদের মনের
মধ্যেও আছে । যদিও কেউ নতুন আসে, তাও একথা বোঝানোর জন্য খুবই সহজ । তোমরা দেবতা রূপে
পূজ্য ছিলে, তারপর পূজারী তমোপ্রধান হয়েছো, আর কেউই এমন কথা তোমাদের বলে দিতেও পারে
না । বাবা পরিস্কার করে বলেন যে, ও হলো ভক্তি মার্গ, আর এ হলো জ্ঞান মার্গ । ভক্তি
অতীত হয়ে গেছে । অতীতের কথা চিত্তে রেখো না । সে হলো নেমে যাওয়ার কথা । বাবা এখন
উপরে ওঠার কথা শোনাচ্ছেন । বাচ্চারাও জানে যে - আমাদের অবশ্যই দৈবী গুণ ধারণ করতে
হবে । রোজ চার্ট লেখা উচিত যে - আমরা কতো সময় স্মরণে থাকি? আমাদের দ্বারা কি কি
ভুল হয়ে গেছে? ভুলের জন্য ভারী চোটও লাগে, ওই পড়াতেও চরিত্র দেখা হয় । বাবা তো
তোমাদের কল্যাণের জন্যই বলেন । ওখানেও রেজিস্টার রাখা হয় - পড়া আর চরিত্রের ।
এখানেও বাচ্চাদের দৈবী চরিত্র তৈরী করতে হবে । ভুল যাতে না হয় সেই সাবধানতা
অবলম্বন করতে হবে । আমার দ্বারা কোনো ভুল হয় নি তো? এরজন্য কাছারিও করা হয় । আর
কোনো স্কুল ইত্যাদিতে কাছারি হয় না । তোমাদের নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে । বাবা
বুঝিয়েছেন যে - মায়ার কারণে কিছু না কিছু অবজ্ঞা হতেই থাকে । শুরুতে কাছারি হতো ।
বাচ্চারা সত্যি কথা বলতো । বাবা বোঝাতে থাকেন - তোমরা যদি সত্য কথা না বলো, তাহলে
ওই ভুল বৃদ্ধি পেতে থাকবে । উল্টো কাজ আর ভুলের দণ্ড পেতে হয় । ভুল স্বীকার না করলে
আজ্ঞা পালনকারী না হওয়ার টীকা লেগে যায় । তখন রাজত্বের তিলক পাওয়া যায় না । আজ্ঞা
পালন না করলে, অবিশ্বাসী হয়ে গেলে রাজত্ব পেতে পারবে না । সার্জন ভিন্ন - ভিন্ন
প্রকারে বুঝিয়ে বলেন । সার্জনের কাছে যদি অসুস্থতা লুকিয়ে যাও, তাহলে পদ কম হয়ে
যাবে । সার্জনকে বলে দিলে মার তো খেতে হয় না, তাই না । বাবা কেবল বলবেন - সাবধান ।
এরপর যদি এমন ভুল করো, তাহলে ক্ষতি হয়ে যাবে । তখন পদ অনেক কম হয়ে যাবে । ওখানে
তো স্বাভাবিকভাবে দৈবী চলন থাকবে । এখানে পুরুষার্থ করতে হয় । প্রতি মুহূর্তে তোমরা
ফেল করে যেও না । বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা বেশী ভুল করো না । বাবা অনেক প্রেমের
সাগর । বাচ্চাদেরও এমনই হতে হবে । যথা বাবা তথা বাচ্চা । যথা রাজা - রানী, তথা প্রজা
। বাবা তো রাজা নন । তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের নিজের সমান তৈরী করেন । বাবার যে
মহিমা করা হয়, তা তোমাদেরও হওয়া উচিত । তোমাদের বাবার সমান হতে হবে । মায়া খুবই
প্রবল, তোমাদের রেজিস্টার রাখতেই দেয় না । তোমরা তো মায়ার ফাঁদে সম্পূর্ণ আটকে আছো
। মায়ার জেল থেকে তোমরা মুক্ত হতে পারো না । তোমরা সত্য কথা বলো না । বাবা তাই বলেন
যে - তোমরা সঠিকভাবে স্মরণের চার্ট রাখো । ভোরে উঠে বাবাকে স্মরণ করো । বাবারই মহিমা
করো। বাবা, তুমি আমাদেরকে বিশ্বের মালিক বানিয়ে থাকো, তো আমরা তোমার মহিমা করবো।
ভক্তি মার্গে কত মহিমা গায়, তাদের তো কিছুই জানা নেই। দেবতাদের মহিমা নেই। মহিমা
হল তোমরা ব্রাহ্মণদের। সবাইকে সদ্গতি একমাত্র বাবাই দিতে পারেন। তিনি তো ক্রিয়েটরও,
ডায়রেক্টরও। সার্ভিসও করেন আর বাচ্চাদেরকে বোঝান। প্র্যাকটিক্যালে বলেন। তারা তো
কেবল ভগবানুবাচ শুনতে থাকে শাস্ত্র থেকে। গীতা পাঠ করতে আসে তো তার থেকে কী প্রাপ্ত
করে ? কতখানি ভালোবেসে বসে পড়তে থাকে, ভক্তি করে, বোঝে না যে এর থেকে কী প্রাপ্তি
হবে। এটা তারা জানে না যে, আমরা সিঁড়ি দিয়ে নীচেই নেমে আসছি। দিন দিন তমোপ্রধান
হতেই হবে। ড্রামাতে এই রকমই নিহিত রয়েছে। এই সিঁড়ির রহস্য বাবা ছাড়া অন্য আর কেউই
বোঝাতে পারবে না। ইনিও (ব্রহ্মা বাবা) শিব বাবার থেকে শুনে তারপর তোমাদেরকে শোনান।
মূল বড় টিচার, সার্জেন তো হলেন বাবা-ই। তাঁকেই স্মরণ করতে হবে। এমন বলা হয় না যে
ব্রাহ্মণদেরকে স্মরণ করো।স্মরণে তো এই এক'কেই রাখতে হবে। কখনোই কারো প্রতিই মোহ
রাখবে না। এক বাবার কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। নির্মোহীও হতে হবে। এতে অনেক অনেক
পরিশ্রম প্রয়োজন। সমগ্র পুরানো দুনিয়ার থেকে বৈরাগ্য । এই দুনিয়া তো খতম হয়েই আছে।
এর প্রতি লভ বা আসক্তি কোনোটাই নয়। কত বড় বড় অট্টালিকা ইত্যাদি বানিয়েই যেতে থাকে।
তাদের এটাও জানা নেই যে, এই পুরানো দুনিয়ার বাকি আর কত সময় রয়েছে। তোমরা বাচ্চারা
এখন জেগেছো, অন্যদেরকেও তোমরা জাগাচ্ছো । বাবা আত্মাদেরকেই কেবল জাগান, বারে বারে
বলতে থাকেন - নিজেকে আত্মা মনে করো। নিজেকে শরীর মনে করা মানেই হল যেন ঘুমিয়ে রয়েছো।
নিজেকে আত্মা মনে করো আর বাবাকে স্মরণ করো। আত্মা পতিত, তাই পতিত শরীরই প্রাপ্ত হয়
। আত্মা পবিত্র তো পবিত্র শরীরই প্রাপ্ত হয় ।
বাবা বোঝান, তোমরাও
এই দেবী দেবতা কুলের (ঘরানার) ছিলে। পুনরায় তোমরাই হয়ে যাবে। কতখানি সহজ! এমন
বেহদের (অসীম জগতের) বাবাকে আমরা স্মরণ করবো না কেন ! সকালে উঠেও বাবাকে স্মরণ করো।
বাবা তোমার কতখানি চমৎকারীত্ব ! তুমি আমাদেরকে কতখানি উচ্চ দেবী দেবতা বানিয়ে তারপর
নিজে নির্বাণধামে গিয়ে বসে যাও ! এতখানি উচ্চ তো আর কেউই বানাতে পারে না। বাবা তুমি
কতো সহজ করে আমাদেরকে বলে থাকো ! বাবা বলেন - যতক্ষণ টাইম পাবে, কাজকর্ম করতে করতেও
বাবাকে স্মরণ করতে পারো। স্মরণই তোমাদের তরীকে পারে লাগাবে। অর্থাৎ কলিযুগ থেকে ওই
পারে শিবালয়ে নিয়ে যাবে। শিবালয়কেও (সত্যযুগ) স্মরণ করতে হবে। শিববাবার স্থাপন করা
স্বর্গ - তাই দুটোরই স্মরণ আসে। শিববাবাকে স্মরণ করলে আমরা স্বর্গের মালিক হবো। এই
পড়াশোনা হলোই নতুন দুনিয়ার জন্য। বাবাও নতুন দুনিয়া স্থাপন করবার জন্যই আসেন।
অবশ্যই বাবা এসে কোনো কর্তব্য তো নিশ্চয়ই করবেন, তাই না ! তোমরা তো দেখছো, আমি আমার
ভূমিকা পালন করছি ড্রামার প্ল্যান অনুযায়ী। বাচ্চারা, তোমাদেরকে আমি ৫ হাজার বছর
পূর্বের স্মরণের যাত্রা করাই আর আদি মধ্য অন্তের রহস্য তোমাদেরকে বলে থাকি। তোমরা
জানো যে, প্রতি ৫ হাজার বছর পরে বাবা আমাদের সম্মুখে আসেন। আত্মাই বলে, শরীর বলবে
না। বাবা বাচ্চাদেরকে শিক্ষা প্রদান করেন - আত্মাকেই পিওর বানাতে হবে। আত্মাকে
একবারই পিওর হতে হয়। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে অনেক অনেক বার পড়িয়েছি, তবুও আবার
ও পড়াবো। এই রকম কোনও সন্ন্যাসীই বলতে পারে না। বাবাই বলেন - বাচ্চারা, আমি
ড্রামার প্ল্যান অনুসারেই তোমাদেরকে পড়াবো, কল্প পূর্বে যেমন তোমাদেরকে পড়িয়ে
রাজধানী স্থাপন করেছিলাম। এ কতখানি আশ্চর্যজনক কথা বাবা বুঝিয়ে থাকেন ! শ্রীমৎ
কতখানি শ্রেষ্ঠ ! শ্রীমতের দ্বারাই আমরা বিশ্বের মালিক হই। অনেক অনেক বড় উঁচু
লক্ষ্য প্রাপ্তি ! কেউ অনেক বড় লটারী পেয়ে গেলে, তার মাথা খারাপ হয়ে যায়। কেউ কেউ
চলতে চলতে নিরাশ হয়ে যায় - আমার দ্বারা মনে হয় পড়াশোনা হবে না, আমি কিভাবে
বিশ্বের রাজত্ব পাবো। বাচ্চারা তোমাদের অনেক খুশি হওয়া উচিত। বাবা বলছেন
অতীন্দ্রিয় সুখ এবং খুশির বিষয়ে জানার জন্য আমার বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞেস করো। তোমরা
সবাইকে খুশির খবর শোনাচ্ছো। তোমরাই বিশ্বের মালিক ছিলে, তারপর ৮৪ বার জন্ম নেওয়ার
পর গোলাম হয়ে গেছো। গান করে - আমি তোমার গোলাম। ওরা ভাবে - নিজেকে নীচ বলা কিংবা
নিচু হয়ে চলা ভালো। দেখো তো, বাবা কতো মহান। কিন্তু তাঁকে কেউ জানেই না। কেবল
তোমরাই তাঁকে জেনেছো। কিভাবে বাবা স্বয়ং এসে সবাইকে বাচ্চা-বাচ্চা বলে সম্বোধন
করছেন। এটাই হলো আত্মার এবং পরমাত্মার মিলন। আমরা তাঁর কাছ থেকে স্বর্গের রাজত্ব
পেয়ে যাই। বাকি ওইরকম গঙ্গাস্নান ইত্যাদি করলে স্বর্গের রাজত্ব পাওয়া যায় না।
গঙ্গাস্নান তো অনেকবার করেছি। এমনিতে তো সমুদ্র থেকেই জল পাওয়া যায়। তবে কিভাবে
এইরকম বৃষ্টি হয়, সেটাকে তো প্রাকৃতিক ঘটনা বলতে হবে। বাবা এখন তোমাদেরকে সবকিছুই
বোঝাচ্ছেন। আত্মাই ধারণ করছে, শরীর নয়। তোমরাও অনুভব করছো যে বরাবরের মতো বাবা
আমাদেরকে কি থেকে কি বানিয়ে দিয়েছেন। বাবা বলছেন - বাচ্চারা, নিজের ওপর দয়া করো।
কোনো কিছুকে অবজ্ঞা করো না। দেহের অভিমান রেখো না। অহেতুক নিজের পদমর্যাদা কমে যাবে।
টিচার তো অবশ্যই বোঝাবেন। তোমরা জানো যে বাবা হলেন অসীম জগতের শিক্ষক। দুনিয়ায় তো
অনেক রকমের ভাষা আছে। কোনো কিছু ছাপানো হলে, সব ভাষাতেই ছাপানো উচিত। কোনো বই ছাপানো
হলে, সবাইকে একটা করে কপি দিতে হবে। লাইব্রেরিতেও একটা কপি পাঠিয়ে দিতে হবে। কোনো
খরচের ব্যাপার নেই। বাবার ভান্ডার ভরপুর হয়ে যাবে। নিজের কাছে টাকা পয়সা রেখে কি
করবে ? ঘরে তো নিয়ে যেতে পারবে না। যদি কিছু ঘরে নিয়ে যাও, তবে পরমাত্মার যজ্ঞ থেকে
চুরি করা হবে। এটা খুব বড় ভুল। কারোর যেন এইরকম বুদ্ধিতেও না আসে। পরমাত্মার যজ্ঞ
থেকে চুরি ! এর থেকে বড় পাপী আর কেউ নেই। অনেক দুর্গতি হয়ে যায়। বাবা বলছেন -
ড্রামাতে ঐরকম ভূমিকা রয়েছে। তোমরা রাজত্ব করবে, আর ওরা তোমাদের দাস-দাসী হবে।
দাস-দাসী ছাড়া রাজত্ব চলবে কিভাবে ? প্রতি কল্পে এভাবেই স্থাপন হয়েছিল। বাবা এখন
বলছেন - নিজের কল্যাণ করতে চাইলে, শ্রীমৎ অনুসারে চলো। দিব্যগুণ ধারণ করো। রেগে
যাওয়া তো কোনো দিব্যগুণ নয়। ওটা আসুরিক গুণ। কেউ রেগে গেলে তাকে শান্ত করে দিতে হবে।
মুখে মুখে উত্তর দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকের চাল-চলন থেকেই বোঝা যায় যে সকলের মধ্যেই
খারাপ গুণ আছে। যখন কেউ রেগে যায়, তখন তার মুখ গরম তাওয়ার মতো হয়ে যায়। মুখের দ্বারা-ই
বোমা নিক্ষেপ করে। এতে নিজেরই ক্ষতি করে। পদমর্যাদা কমে যায়। এগুলো বোঝার ব্যপার।
বাবা বলেন, যেসব পাপ কর্ম করেছ, সেগুলো বাবাকে লিখে দাও। বাবাকে বলে দিলে ক্ষমা করে
দেওয়া হবে, বোঝা হাল্কা হয়ে যাবে। অনেক জন্ম ধরে তোমরা বিকারগ্রস্থ জীবনযাপন করছো।
কিন্তু এখন তোমরা কোনো পাপ কর্ম করলে সেটা ১০০ গুণ হয়ে যায়। বাবার সম্মুখে কোনো ভুল
করলে তার শাস্তি ১০০ গুণ হয়ে যায়। কোনো ভুল করে যদি সেটা বলে না দাও, তবে সেই ভুল
আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই বাবা বোঝাচ্ছেন যে এভাবে নিজের ক্ষতি করো না। বাবা এসেছেন
বাচ্চাদের শুভ বুদ্ধির উদয় করতে। তিনি জানেন যে এই বাচ্চা কেমন পদ পাবে। ২১ জন্মের
কথা। সেবাধারী বাচ্চাদের স্বভাব খুব মিষ্টি হতে হবে। কেউ কেউ তো সঙ্গে সঙ্গেই বাবাকে
বলে দেয় যে বাবা, এই ভুল হয়েছে। বাবা তাতে খুশি হন। ভগবান খুশি হলে আর কি চাই ! ইনি
তো একাধারে বাবা, টিচার এবং সদগুরু। নাহলে এই তিনজনই একসাথে নারাজ হয়ে যাবে। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১)
শ্রীমৎ অনুসারে চলে নিজের শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটাতে হবে। কোনো কিছুকে অবজ্ঞা করা যাবে
না। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মুখ থেকে বোমা নিক্ষেপ না করে চুপ থাকতে হবে।
২) আন্তরিক ভাবে কেবল
বাবার গুণগান করতে হবে। এই পুরাতন দুনিয়ার সঙ্গে কোনো আসক্তি বা ভালোবাসা রাখা যাবে
না। সীমাহীন বৈরাগী এবং নির্মোহী হতে হবে।
বরদান:-
স্মরণের আধারের দ্বারা মায়ার আবর্জনা থেকে দূরে থাকা সদা চিয়ারফুল (আনন্দিত) ভব
যেরকমই পরিস্থিতি
সামনে আসুক, কেবল বাবার উপর ছেড়ে দাও। অন্তর থেকে বলো - “বাবা”। তাহলেই পরিস্থিতি
সমাপ্ত হয়ে যাবে। এই বাবা শব্দ হৃদয় থেকে বলাই হল জাদু। মায়া সর্ব প্রথমে বাবাকেই
ভুলিয়ে দেয় এইজন্য কেবল এই কথার উপর অ্যাটেনশান দাও তাহলে কমল পুষ্পের সমান নিজেকে
অনুভব করবে। স্মরণের আধারে মায়ার আবর্জনা থেকে সদা দূরে থাকবে। কখনও কোনও কথাতে
দোলাচলে আসবে না, সদা একই মুড থাকবে চিয়ারফুল।
স্লোগান:-
পবিত্রতার ধারণা বা ধর্মকে জীবনে ধারণকারীই হলো মহান আত্মা।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
নিজেকে সর্ব বন্ধনগুলি
থেকে মুক্ত করার জন্য নিজের চলনকে আর যেসব কড়া সংস্কার আছে সেগুলিকে চেঞ্জ করো। যারা
বন্ধনে আবদ্ধ করে তারা নিজের কাজ করুক, আর তোমরা নিজের কাজ করো। তাদের কাজকে দেখে
ঘাবড়ে যাবে না। যতটা তারা নিজের কাজ ফোর্স দিয়ে করছে, তোমরাও নিজেদের কাজ ফোর্স দিয়ে
করো। তাদের গুণকে দেখো যে তারা কিভাবে নিজের কর্তব্য করছে, তোমরাও করো। নিজেকে
বন্ধন থেকে মুক্ত করার যুক্তি রচনা করো।