24.02.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা নিজের জীবনের ডোর এক বাবার সঙ্গেই বেঁধেছো, তোমাদের সম্পর্ক একের সঙ্গেই,
অন্য সব সম্পর্ক ছিন্ন করে একের সঙ্গেই সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে"
প্রশ্নঃ -
সঙ্গম যুগে
আত্মা নিজের তার (ডোর) এক পরমাত্মার সঙ্গেই জোড়ে, অজ্ঞান অবস্থায় এই নিয়ম কোন্
রীতিতে চলে আসছে?
উত্তরঃ
বিয়ের সময়
স্ত্রীর আঁচল পতির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় । স্ত্রী মনে করে সম্পূর্ণ জীবন তার সাথী
হয়েই থাকতে হবে । তোমরা তো এখন তোমাদের আঁচল বাবার সঙ্গে জুড়েছো । তোমরা জানো যে,
অর্ধেক কল্প ধরে তোমাদের পালন বাবার দ্বারাই হবে ।
গীতঃ-
জীবনের ডোর
তোমার সঙ্গেই বেঁধেছি...
ওম্ শান্তি ।
দেখো, গানে বলা
হয়েছে, জীবন ডোর তোমার সঙ্গে বেঁধেছি । যেমন কোনো কন্যা, সে তার জীবনের ডোর
স্বামীর সঙ্গে বাঁধে । সে মনে করে, সম্পূর্ণ জীবন তার সাথী হয়েই থাকতে হবে । তারই
পালনে থাকতে হবে । এমন নয় যে, কন্যাকে তার স্বামীর পালন করতে হবে । তা নয়,
সম্পূর্ণ জীবন স্বামীর পালনেই থাকতে হবে । বাচ্চারা, তোমরাও জীবন ডোর বেঁধেছো ।
অসীম জগতের বাবাই বলো, টিচার বলো, গুরু বলো, আর যাই বলো - এই আত্মাদের জীবনের ডোর
পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধতে হবে । ওটা হলো জাগতিক স্থূল কথা, আর এ হলো সূক্ষ্ম কথা ।
কন্যার জীবনের সূত্র পতির সাথে বেঁধে দেওয়া হয় । সে তার পথির গৃহে যায় । দেখো,
প্রতিটি কথা বোঝার মতো বুদ্ধি চাই । কলিযুগে সব হলো আসুরী মতের কথা । তোমরা জানো
যে, আমরা জীবনের ডোর এক-এর সঙ্গে বেঁধেছি । তোমাদের সম্পর্ক একের সঙ্গেই । একের
সঙ্গেই সম্বন্ধ রাখতে হবে, কেননা আমরা তাঁর কাছ থেকেই অনেক সুখ পাই । তিনি তো
আমাদের স্বর্গের মালিক বানান । তাই এমন বাবার শ্রীমতে চলতে হবে । এ হলো আত্মিকতার
ডোর । আত্মা রূপী পিতাই শ্রীমৎ দান করেন । আসুরী মত নেওয়াতে তোমরা নীচে নেমে গেছো ।
এখন আত্মা রূপী পিতার শ্রীমতে চলতে হবে ।
তোমরা জানো যে, আমরা
আমাদের আত্মার ডোর পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধি, এতে আমরা ২১ জন্মের জন্য সদা সুখের
উত্তরাধিকার লাভ করি । ওই অল্পকালের জীবন ডোরে তো নীচে নেমে এসেছি । এ হলো ২১
জন্মের জন্য গ্যারেন্টি । তোমাদের কতো জোরদার উপার্জন । এতে কোনো গাফিলতি করা উচিত
নয় । মায়া অনেক গাফিলতি করায় । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ অবশ্যই কারোর সঙ্গে জীবন ডোর
বেঁধেছিলেন, যাতে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন । কল্প - কল্প তোমাদের, অর্থাৎ
আত্মাদের জীবন ডোর পরমাত্মার সঙ্গে বাঁধা হয় । কত কল্প যে তা তো গণনা করা যায় না
। বুদ্ধিতে বসে যে - আমরা শিববাবার হয়েছি, তাঁর সঙ্গে জীবন ডোর বেঁধেছি । বাবা
প্রতিটি কথা বসে বুঝিয়ে বলেন । তোমরা জানো যে, কল্প পূর্বেও আমরা বেঁধেছিলাম ।
মানুষ এখন শিব জয়ন্তী পালন করে, কিন্তু কার পালন করে, তা জানেই না । শিব বাবা, যিনি
পতিত পাবন, তিনি অবশ্যই সঙ্গমে আসবেন । এ কথা তোমরাই জানো, দুনিয়ার মানুষ জানে না,
তাই গায়ন আছে যে, কোটিতে কয়েকজন । আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম প্রায় লোপ হয়ে গেছে,
আর সবই হলো শাস্ত্র - কাহিনী । এই ধর্মই এখন নেই যে, কিভাবে জানবে । এখন তোমরা
জীবনের ডোর বাঁধছো । আত্মার পরমাত্মার সঙ্গে ডোর জুড়েছে, এতে শরীরের কোনো কথা নেই ।
যদিও ঘরে বসে থাকো, তাও বুদ্ধির দ্বারা স্মরণ করতে হবে । তোমাদের আত্মাদের জীবনের
ডোর বাঁধা হয়েছে যেমন আঁচল বাঁধে, তাই না । সেটা হলো স্থূল আঁচল, আর এ হলো আত্মার
পরমাত্মার সঙ্গে যোগ । ভারতে শিব জয়ন্তীও পালন করা হয়, কিন্তু তিনি কবে এসেছিলেন,
তা কেউই জানে না । কৃষ্ণের জয়ন্তী কবে, রামের জয়ন্তী কবে, এও জানে না । বাচ্চারা,
তোমরা ত্রিমূর্তি শিব জয়ন্তী শব্দ লেখো, কিন্তু এই সময় তিন মূর্তি তো নেই । তোমরা
বলবে, শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা সৃষ্টির রচনা করেন, তাহলে ব্রহ্মাকে তো সাকারে
অবশ্যই চাই, তাই না । বাকি বিষ্ণু এবং শঙ্কর এই সময় কই, যাতে তোমরা ত্রিমূর্তি বলো
। এ খুবই বোঝার মতো কথা । ত্রিমূর্তির অর্থই হলো - ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর ।
ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা, সে তো এই সময়ই হয় । বিষ্ণুর দ্বারা সত্যযুগে পালনা হবে
। বিনাশের কার্য অন্তিম সময়ে হবে । এই আদি সনাতন দেবী - দেবতা ধর্ম হলো ভারতেরই ।
ওরা তো সবাই ধর্ম স্থাপনা করতে আসে । প্রত্যেকেই জানে, ইনি ধর্ম স্থাপন করেছেন, এবং
তার সম্বৎ হলো এই । অমুক সময়ে অমুক ধর্ম স্থাপন করেছিলেন । ভারতের কথা কেউই জানে না
। গীতা জয়ন্তী, শিব জয়ন্তী কবে হয়েছিলো, কেউই জানে না । কৃষ্ণ এবং রাধার বয়সে দুই -
তিন বছরের তফাৎ থাকবে । সত্যযুগে অবশ্যই কৃষ্ণ প্রথমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তারপর
রাধা, কিন্তু সেই সত্যযুগ কবে ছিলো, সেকথা কেউই জানে না । তোমাদেরও বুঝতে অনেক বছর
লেগেছে, তাই দু'দিনে কে আর কতটা বুঝবে । বাবা তো অনেক সহজ করে বলেন, তিনি হলেন অসীম
জগতের পিতা, অবশ্যই তাঁর কাছে সকলেরই উত্তরাধিকার লাভ করা চাই, তাই না । ওরা গড
ফাদার বলে স্মরণ করে । লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির আছে । তাঁরা স্বর্গে রাজত্ব করতেন,
কিন্তু তাঁদের এই উত্তরাধিকার কে দিয়েছিলেন? অবশ্যই স্বর্গের রচয়িতাই দিয়েছিলেন,
কিন্তু তিনি কবে এবং কিভাবে দিয়েছিলেন, তা কেউই জানে না । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে,
যখন সত্যযুগ ছিলো, তখন অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না । সত্যযুগে আমরা পবিত্র ছিলাম,
কলিযুগে আমরা পতিত । তাহলে তিনি অবশ্যই সঙ্গমেই জ্ঞান দিয়ে থাকবেন, সত্যযুগে নয় ।
ওখানে তো প্রালব্ধ । অবশ্যই পূর্ব জন্মে জ্ঞান প্রাপ্ত করে থাকবে । তোমরাও এখন তাই
নিচ্ছো । তোমরা জানো যে, আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা বাবাই করবেন । কৃষ্ণ
তো সত্যযুগে ছিলেন, তিনি এই প্রালব্ধ কোথা থেকে পেয়েছিলেন? লক্ষ্মী - নারায়ণই রাধা
- কৃষ্ণ ছিলেন, এ কেউই জানে না । বাবা বলেন যে, যারা পূর্ব কল্পে বুঝেছিলো, তারাই
বুঝবে । এই স্যাপলিং এখন লাগে । সবথেকে মিষ্টি বৃক্ষের স্যাপলিং এখন লাগে । তোমরা
জানো যে, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বাবা এসে মানুষকে দেবতা বানিয়েছিলেন । এখন
তোমরা ট্রান্সফার হচ্ছো । তোমাদের প্রথমে ব্রাহ্মণ হতে হবে । ডিগবাজির খেলা যখন খেলে
তখন টিকি অবশ্যই আসবে । বরাবর আমরা এখনই ব্রাহ্মণ হয়েছি । যজ্ঞতে তো অবশ্যই
ব্রাহ্মণের প্রয়োজন । এ হলো শিব বা রুদ্রের যজ্ঞ । রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞই বলা হয় ।
কৃষ্ণ কখনো যজ্ঞ রচনা করেননি । এই রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞের থেকে বিনাশের অগ্নি (জ্বালা)
প্রজ্জ্বলিত হয় । শিববাবার এই যজ্ঞ হলো পতিতকে পবিত্র করার জন্য । রুদ্র শিববাবা
হলেন নিরাকার, তিনি কিভাবে যজ্ঞ রচনা করবেন, যতক্ষণ তিনি না মনুষ্য শরীরে আসবেন?
মানুষই যজ্ঞ রচনা করে । সূক্ষ্ম বা মূল বতনে এই সব বিষয় থাকে না । বাবা বোঝান যে, এ
হলো সঙ্গম যুগ । লক্ষ্মী - নারায়ণের যখন রাজত্ব ছিলো, তখন ছিলো সত্যযুগ । এখন তোমরা
আবার তেমন তৈরী হচ্ছো । এই জীবনের ডোর আত্মাদের হলো পরমাত্মার সঙ্গে । এই ডোর কেন
বাঁধা হয়েছে? সদা সুখের উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য । তোমরা জানো যে, অসীম জগতের
বাবার দ্বারা আমরা এমন লক্ষ্মী - নারায়ণ হই । বাবা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা এমন দেবী -
দেবতা ধর্মের ছিলে । তোমাদের রাজ্য ছিলো । পরের দিকে তোমরা জন্মগ্রহণ করতে করতে
ক্ষত্রিয় ধর্মে এসেছো । সূর্যবংশী রাজত্বের পর চন্দ্রবংশী রাজত্ব এসেছিলো । তোমরা
জানো যে, আমরা এই চক্র কিভাবে সম্পূর্ণ করি । আমরা এতো - এতো জন্মগ্রহণ করেছি ।
ভগবান উবাচঃ - হে বাচ্চারা, তোমরা নিজেদের জন্মকে জানো না, আমি জানি । এখন এই সময়
এই শরীরে দুটি মূর্তি । ব্রহ্মার আত্মা এবং শিব পরমাত্মা । এই সময় দুই মূর্তি
একত্রিত - ব্রহ্মা আর শিব । শঙ্কর তো কখনো পার্টে আসে না । বাকি বিষ্ণু আসে সত্যযুগে
। এখন তোমরা ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা হবে । আমিই সেই (হাম সো) এর অর্থ বাস্তবে এটাই ।
ওরা বলে দিয়েছে আত্মাই পরমাত্মা । পরমাত্মাই আত্মা । এ কতো তফাৎ । রাবণ আসামাত্রই
রাবণের মত শুরু হয়ে গিয়েছিলো । সত্যযুগে এই জ্ঞান তো প্রায় লোপ হয়ে যাবে । এইসব
হওয়া ড্রামাতেই লিপিবদ্ধ আছে, তাই তো বাবা এসে স্থাপনা করেন । এখন হলো সঙ্গম । বাবা
বলেন যে, আমি কল্প - কল্প, কল্পের সঙ্গম যুগে এসে তোমাদের মনুষ্য থেকে দেবতা বানাই
। আমি জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করি । বাকি যা আছে, সে সবই এই যজ্ঞে স্বাহা হয়ে যাবে । এই
বিনাশ জ্বালা এই যজ্ঞ থেকেই প্রজ্জ্বলিত হতে হবে। পতিত দুনিয়ার তো বিনাশ হতে হবে ।
না হলে পবিত্র দুনিয়া কিভাবে হবে? তোমরা বলেও থাকো, পতিত পাবন এসো, তাহলে পতিত
দুনিয়া, পবিত্র দুনিয়া একসাথে থাকবে কি? পতিত দুনিয়ার তো বিনাশ হবে, এতে তো খুশী
হওয়া চাই । মহাভারতের লড়াই লেগেছিলো, যাতে স্বর্গের গেট খুলেছিলো । বলা হয়, এ হলো
সেই মহাভারতের লড়াই । এ তো ভালোই, পতিত দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে । শান্তির জন্য মাথা
ঠোকার দরকার কি? তোমরা এখন যে তৃতীয় নেত্র পেয়েছো, তা আর কারোরই নেই । বাচ্চারা,
তোমাদের খুশী হওয়া উচিত - আমরা অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে আবার উত্তরাধিকার গ্রহণ
করছি । বাবা, আমরা অনেকবার আপনার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করেছি । রাবণ আবার অভিশাপ
দিয়েছে । এই কথা স্মরণ করা সহজ । বাকি সবই হলো চর্চিত কাহিনী । তোমাদের এতো
বিত্তবান করা হয়েছিলো, তারপর গরীব কিভাবে হয়েছো? এ সবই ড্রামাতে লিপিবদ্ধ । এমন
গায়নও আছে যে - জ্ঞান, ভক্তি এবং বৈরাগ্য । ভক্তির দ্বারা বৈরাগ্য তখনই হবে যখন
জ্ঞান পাবে । তোমরা জ্ঞান পেয়েছো, তখন ভক্তির থেকে বৈরাগ্য হয়েছে । সম্পূর্ণ পুরানো
দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য । এ তো হলো কবরখানা । তোমরা ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ করেছো ।
এখন তোমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে । আমাকে যদি স্মরণ করো, তাহলে তোমরা আমার কাছে চলে
আসবে । তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে, এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই । গঙ্গা স্নানের
দ্বারা নয়, যোগ অগ্নির দ্বারা পাপ ভস্ম হবে ।
বাবা বলেন যে, মায়া
তোমাদের মূর্খ করে দিয়েছে, এপ্রিল ফুল তো বলা হয়, তাই না । এখন আমি তোমাদের লক্ষ্মী
- নারায়ণের মতো বানাতে এসেছি । চিত্র তো খুবই সুন্দর - আজ আমরা কি, কাল আমরা কি হবো?
মায়া কিন্তু কম নয় । মায়া বাবার সঙ্গে ডোর বাঁধতে দেয় না । টানাপোড়েন হতে থাকে ।
আমরা বাবাকে স্মরণ করি, তারপর কি জানি কি হয়ে যায়? সব ভুলে যায় । এতে অনেক
পরিশ্রম আছে, তাই ভারতের প্রাচীন যোগ বিখ্যাত । এঁদের কে উত্তরাধিকার দান করেছেন, এ
কেউই বোঝে না । বাবা বলেন যে - বাচ্চারা, আমি তোমাদের আবার উত্তরাধিকার প্রদান করতে
এসেছি । এ তো বাবার কাজ । এই সময় সকলেই নরকবাসী । তোমরা এখন খুশী হচ্ছো । এখানে যদি
কেউ আসে আর বুঝতে পারে, তাহলে খুশী হয়, বরাবর এ হলো ঠিক । এখানে ৮৪ জন্মের হিসেব ।
বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে । বাবা জানেন যে, অর্ধেক কল্প তোমরা
ভক্তি করে পরিশ্রান্ত হয়ে গেছো । মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা তোমাদের সব ক্লান্তি দূর
করে দেবেন । এখন অন্ধকার ভক্তির মার্গ সমাপ্ত হয়ে এসেছে । কোথায় এই দুঃখধাম, আর
কোথায় ওই সুখধাম । আমি দুঃখধামকে সুখধাম বানাতে কল্পের সঙ্গম যুগে আসি । বাবার
পরিচয় দান করতে হবে । বাবা আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার দান করেন । এই একেরই মহিমা
। শিববাবা না থাকলে তোমাদের পবিত্র কে বানাতেন । ড্রামাতে সকলই লিপিবদ্ধ আছে । কল্প
- কল্প তোমরা ডাকো - হে পতিত পাবন, এসো । শিবের জয়ন্তী হয় । বলা হয় যে, ব্রহ্মা
স্বর্গের স্থাপনা করেছিলেন, তাহলে শিব কি করেছিলেন যে, শিব জয়ন্তী পালন করা হয় ।
মানুষ কিছুই বোঝে না । তোমাদের বুদ্ধিতে একদম জ্ঞান বসে যাওয়া চাই । ডোর যখন একজনের
সঙ্গে বেঁধেছো, তখন অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো না । না হলে তোমরা নেমে যাবে । তোমাদের
পারলৌকিক বাবা অতি সাধারণ । তাঁর কোনো ঠাট - বাট নেই । ওই বাবা তো মোটর আর এরোপ্লেনে
ঘোরেন । অসীম জগতের এই বাবা বলেন - আমি পতিত দুনিয়া, পতিত শরীরে বাচ্চাদের সেবা
করার জন্য এসেছি । তোমরা আমাকে ডেকেছো - হে অবিনাশী সার্জন এসো, এসে আমাদের
ইঞ্জেকশন লাগাও । এখন ইনজেকশন লাগছে । বাবা বলেন যে, তোমরা যোগ লাগাও, তাহলে
তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে । বাবা হলেন ৬৩ জন্মের দুঃখ হর্তা, ২১ জন্মের সুখ কর্তা
। আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজের বুদ্ধির আত্মিকতার ডোর এক বাবার সঙ্গে বাঁধতে হবে । একের শ্রীমতেই চলতে হবে ।
২ ) আমরা অতি মিষ্টি
বৃক্ষের কলম লাগাচ্ছি, তাই প্রথমে নিজেকে খুবই মিষ্টি বানাতে হবে । স্মরণের যাত্রায়
তৎপর হয়ে বিকর্ম বিনাশ করতে হবে ।
বরদান:-
মনন
শক্তির দ্বারা প্রত্যেক পয়েন্টের অনুভবী হওয়া সদা শক্তিশালী, মায়াপ্রুভ, বিঘ্নপ্রুফ
ভব
যেরকম শরীরের শক্তির
জন্য পাচন শক্তি বা হজমের শক্তির প্রয়োজন আছে, এইরকম আত্মাকে শক্তিশালী বানানোর
জন্য মনন শক্তি চাই। মনন শক্তি দ্বারা অনুভব স্বরূপ হয়ে যাওয়া - এটাই হল সবথেকে বড়
শক্তি। এইরকম অনুভবী কখনও ধোঁকা খাবে না। শোনা কথাতে বিচলিত হবে না। অনুভবী সদা
সম্পন্ন থাকবে। তারা সদা শক্তিশালী, মায়াপ্রুফ, বিঘ্ন প্রুফ হয়ে থাকবে।
স্লোগান:-
খুশীর
খাজানা সদা সাথে থাকলে অন্য সকল খাজানা স্বতঃ এসে যাবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- একতা
আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও
সফলতা সম্পন্ন হওয়ার
জন্য - সাধারণ কাজ করেও ফরিস্তার মতো হাল আর চাল হবে, এরকম বলবে না যে কি করবো,
পরিস্থিতিই এমন ছিল, কাজই এরকম ছিল, সারকামস্ট্যান্সই এরকম ছিল, সমস্যাই এইরকম ছিল
এইজন্য সাধারণতা এসে গেছে। যেকোনও সময়ে, যেকোনও পরিস্থিতিতে তোমাদের অলৌকিক স্বরূপ
প্রত্যেকের অনুভব হবে। যেরকম পরিস্থিতি সেইরকম নিজের স্বরূপ বানিও না। পরিস্থিতি
তোমাদেরকে পরিবর্তন করতে পারবে না, তাহলে সকলের নিকটে আসতে পারবে আর একতার সংগঠন
মজবুত হবে।