24.03.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের ঘর-পরিবারে থেকেই কমল পুষ্পের মতো পবিত্র হতে হবে, এক বাবার শ্রীমতেই চলতে হবে, কোনো রকম ডিসসার্ভিস করা উচিত নয়"

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চাদের মায়া সজোরে ঘুসি মারে? সবচেয়ে বড় লক্ষ্য কোনটি?

উত্তরঃ  
যে বাচ্চারা দেহ-অভিমানে থাকে তাদেরকে মায়া সজোরে ঘুসি মারে, নাম-রূপেও তারা ফেঁসে যায়। দেহ-অভিমান আসলেই থাপ্পড় পড়ে, এর ফলে পদভ্রষ্টও হয়ে যায়। দেহ-অভিমান ত্যাগ করাই হলো বড় লক্ষ্য। বাবা বলেন বাচ্চারা দেহী-অভিমানী হও। যেমন বাবা ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট, নিরহঙ্কারী, তেমনই নিরহঙ্কারী হও ।

গীতঃ-
না , সে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে....

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা গান শুনেছে। বাচ্চারা বলে আমরা বাবার ছিলাম আর বাবাও আমাদের ছিল, যখন মূলবতনে ছিলাম। বাচ্চারা তোমরা জ্ঞান তো খুব ভালো ভাবেই পেয়েছ । তোমরা জান আমরাই চক্র ঘুরিয়ে আসছি, আবার তাঁর হয়েছি। উনি এসেছেন রাজযোগ শিখিয়ে আমাদের স্বর্গের মালিক করে তুলতে। কল্প পূর্বের মতোই তিনি এসেছেন। এখন বাবা বলছেন বাচ্চারা, আমার বাচ্চা হওয়ার পর মধুবনে বসে থেকো না। তোমরা নিজেদের ঘর-পরিবারে থেকে কমল পুষ্পের মতো পবিত্র থাকো। কমল পুষ্প জলের মধ্যে থেকেও জল থেকে উপরে থাকে। তার মধ্যে জল লাগে না। বাবা বলেন তোমাদের ঘরেই থাকতে হবে শুধু পবিত্র হতে হবে। এটা তোমাদের অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম। সমস্ত মানুষকে আমি পবিত্র করে তুলতে এসেছি। পতিত-পাবন, সদ্গতি দাতা একজনই। উনি ছাড়া আর কেউ পবিত্র করে তুলতে পারে না। তোমরা জান অর্ধকল্প ধরে আমরা সিঁড়ি বেয়ে নিচেই নেমে এসেছি । ৮৪ জন্ম তোমাদের অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে আর এই ৮৪ চক্র সম্পূর্ণ করে যখন তোমরা জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হও তখনই আমাকে আসতে হয়। এর মাঝখানে আর কেউ পতিত থেকে পাবন করে তুলতে পারে না। কেউ-ই না বাবাকে জানে, না রচনাকে জানে। ড্রামা অনুসারে সবাইকেই কলিযুগে পতিত তমোপ্রধান হতেই হবে । বাবাই এসে সবাইকে পবিত্র করে শান্তি ধামে নিয়ে যান। তোমরা বাবার কাছ থেকে সুখধামের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে থাক। সত্যযুগে কোনো দুঃখ নেই। তোমরা এখন বেঁচে থাকতেই বাবার হয়েছ। বাবা বলেন তোমাদের ঘর-পরিবারেই থাকতে হবে। বাবা কখনোই কাউকে বলতে পারেন না যে ঘর-পরিবার ত্যাগ করো। তা নয়। তোমরা ঈশ্বরীয় সেবার্থে নিজেরাই ছেড়ে এসেছো। কিছু বাচ্চা আছে যারা ঘর-পরিবারে থেকেও ঈশ্বরীয় সার্ভিস করে থাকে, কাউকে ছাড়ানো হয় না। বাবা কাউকেই ছাড়ান না। তোমরা তো নিজেরাই সার্ভিস করতে বেড়িয়ে পড়েছ। বাবা কাউকে ছাড়ান না। তোমাদের লৌকিক পিতা বিবাহ করার কথা বলে। তোমরা করো না, কেননা তোমরা জানো যে মৃত্যুলোকের এখন অন্তিম সময়। বিয়ে করলে সব নষ্ট হয়ে যাবে, পবিত্র কিভাবে হবো? বরং আমরা ভারতকে স্বর্গ বানাবার কাজেই লেগে যাই । বাচ্চারা চায় যে রাম রাজ্য হোক। আহ্বান করে তাইনা- হে পতিত-পাবন সীতা রাম । হে রাম তুমি এসে ভারতকে স্বর্গ বানাও। ডাকে কিন্তু কিছুই জানে না। সন্ন্যাসীরা বলে থাকে এই সময়ের সুখ কাক বিষ্ঠার সমান। এখানে কোনো সুখ নেই। বলে কিন্তু কারো বুদ্ধিতেই কোনও ধারণা নেই। বাবা কি দুঃখ দেওয়ার জন্য এই সৃষ্টি রচনা করেন? বাবা বলেন তোমরা কি ভুলে গেছো - স্বর্গে দুঃখের চিহ্ন মাত্র থাকেনা, সেখানে কংস ইত্যাদি কোথা থেকে আসবে।

অসীম জগতের পিতা যা বলেন সেই মতে চলতে হবে। নিজের মতে চললে ধ্বংস ডেকে আনবে। আশ্চর্যবৎ শুনন্তি (অবাক হয়ে শুনবে), কথন্তি (সবাইকে শোনাবে) তারপর ভাগন্তী বা ট্রেটর (বিশ্বাসঘাতক) হয়ে যাবে । কত ডিসসার্ভিস করে থাকে। তারপর তাদের কি হবে? হীরে তুল্য জীবন তৈরী করার পরিবর্তে কড়ি তুল্য জীবন গড়ে তোলে। শেষে গিয়ে তোমাদের সব সাক্ষাত্কার হবে। এমন চাল-চলনের জন্য এই পদ পেতে চলেছি। তোমাদের এখন কোনো পাপ করা উচিত নয় কেননা তোমরা পুণ্য আত্মা হচ্ছ। পাপের জন্য শতগুণ সাজা বৃদ্ধি পাবে। যদিও স্বর্গে যাবে কিন্তু পদ নিম্নমানের হবে। এখানে তোমরা রাজযোগ শিখতে আস তারপর প্রজা হয়ে যাও। পদের কত তফাৎ হয়ে যায় না ! এও বোঝানো হয়েছে - যজ্ঞে কিছু দিয়ে তারপর ফিরিয়ে নিলে চন্ডাল হয়ে জন্ম নিতে হবে। কিছু বাচ্চার চালচলন এমনই হয় যার জন্য পদ কম হয়ে যায়।

বাবা বোঝান, এমন কর্ম ক'রো না যাতে রাজা-রাণীর পরিবর্তে প্রজার মধ্যেও পদ কম পাও । যজ্ঞে স্বাহা করে চলে গেলে কি তৈরী হবে? বাবা এও বোঝান বাচ্চারা, কোনও বিকর্ম ক'রনা, নাহলে শতগুণ সাজা খেতে হবে। তবে কেন ক্ষতি ডেকে আনছ । এখানে (মধুবন) না থেকেও যারা ঘর-পরিবারে থেকেই সার্ভিস করে তারাও উচ্চ পদ প্রাপ্ত করে। এমন অনেক গরিব আছে যারা ৮ আনা বা একটাকা পাঠিয়ে দেয় আর কেউ যদি হাজার টাকাও দিয়ে থাকে তবুও গরিবরাই উচ্চ পদ পাবে, কেননা ওরা কোনও পাপ কর্ম করেনা। পাপ করলে শতগুণ সাজা বৃদ্ধি পাবে। তোমাদের পুণ্য আত্মা হয়ে সবাইকে সুখ দিতে হবে। দুঃখ দিলে ট্রাইব্যুনাল (বিচারসভা) বসবে। সাক্ষাৎকার হবে যে তুমি এই করেছ, এখন সাজা খাও, সেইসাথে পদও ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সব শুনেও কিছু বাচ্চা উল্টো আচরণ করে থাকে। বাবা বলেন, সবসময় ক্ষীরখন্ড হয়ে থাকো। যদি নোনা জলের মতো থাকো তবে প্রচুর ডিসসার্ভিস করবে। কারো নাম-রূপে মোহিত হয়ে পড়া এটাও ঘোরতর পাপ । মায়া ঠিক ইঁদুরের মতো, সে ফুঁ দিয়ে তারপর কামড়ায় এবং রক্তপাত হয় তোমরা বুঝতেও পারনা। মায়া তোমাদের রক্তাক্ত করে তোলে। এমনই কর্ম করিয়ে দেয় যে বোঝাই যায় না। ৫ বিকার মাথা মুড়িয়ে দেয়। বাবা তো সাবধানে করবেন, তাইনা। এমন যেন না হয় বিচারসভার সামনে বললে আমাদের তো সাবধান করা হয়নি। তোমরা জান ঈশ্বর তোমাদের পড়াচ্ছেন। তিনি স্বয়ং কতটা নিরহঙ্কারী, তিনি এটাও বলেন আমি ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট। কিছু-কিছু বাচ্চাদের মধ্যে কত অহঙ্কার থাকে। বাবার হয়েও এমনই সব কর্ম করে যে জিজ্ঞাসা না করাই ভালো। এর চেয়ে যারা গৃহস্থ পরিবারে থাকে তারা অনেক উঁচুতে উঠতে পারে। দেহ-অভিমান এলেই মায়া সজোরে ঘুসি মারে। দেহ-অভিমান ত্যাগ করাই হলো সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। দেহ-অভিমানে এলেই থাপ্পড় এসে পড়বে। সুতরাং কেন দেহ-অভিমানে আসা যেখানে পদ ভ্রষ্ট হয়ে যায়। এমনটা যেন না হয় যে ওখানে গিয়ে ঝাড়ু দিতে হবে। কেউ যদি বাবাকে এখন জিজ্ঞাসা করে তো বাবা বলতে পারবে। নিজেও বুঝতে পারা যায় যে আমি কতখানি সেবা করি । আমি কতজনকে সুখ দিয়েছি। বাবা মাম্মা সবাইকে কত সুখ প্রদান করেন। কত খুশি হয়। বাবা (ব্রহ্মা বাবা) বোম্বেতে জ্ঞানের নৃত্য পরিবেশন করতেন, সেখানে অনেক চাতক ছিল, তাই না ! বাবা বলেন, অনেক চাতকের (আগ্রহী) সামনে জ্ঞানের নৃত্য করতাম আর তাতে খুব ভালো-ভালো পয়েন্টস বেরিয়ে আসত। চাতকরাই নিজেদের আগ্রহে সে'সব টেনে আনত। তোমাদেরও এমন হতে হবে, তবেই তো ফলো করবে। শ্রীমতে চলতে হবে যদি নিজের মতে চলে পিতাকে অপমান করে তবে প্রচুর ক্ষতি হয়ে যাবে। বাবা তোমাদের বিচক্ষণ করে তুলছেন। ভারত স্বর্গ ছিল এটা তো কেউ বোঝেই না। ভারতের মতো পবিত্র কোনো দেশ নেই । ওরা বলে থাকে কিন্তু জানেনা যে আমরা ভারতবাসীরাই স্বর্গে ছিলাম, যেখানে অগাধ সুখ ছিল। গুরু নানক ভগবানের মহিমা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি এসে মধ্যে জমে থাকা পুতিগন্ধময় কাপড় (আত্মা) ধুয়ে দেন। যাঁর মহিমায় বলা হয়েছে এক ওঁঙ্কার....। শিবলিঙ্গের পরিবর্তে অকালতখত নামকরণ করা হয়েছে। বাবা তোমাদের সম্পূর্ণ সৃষ্টির রহস্য বুঝিয়ে বলেন। বাচ্চারা, একটাও পাপ ক'রো না, নয়ত শতগুণ সাজা খেতে হবে। আমার নিন্দা করলে পদ ভ্রষ্ট হবে। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নিজের জীবনকে হীরে তুল্য করে তোল, না হলে অনেক অনুশোচনা হবে। যা কিছু ভুল করেছ তার জন্য অন্তর্মন দগ্ধ হবে। তবে কি কল্পে-কল্পে এমনই কর্ম করবে যার জন্য পদ নিচে নেমে যাবে? বাবা বলেন, মাতা-পিতাকে অনুসরণ করতে হলে সত্যতার সাথে সার্ভিস কর। নয়তো মায়া কোথাও না কোথা থেকে ঢুকে পড়বে। সেন্টারের হেডকেও (প্রধান) সম্পূর্ণ নিরহঙ্কারী হতে হবে। বাবাকে দেখ কেমন নিরহঙ্কারী। কিছু কিছু বাচ্চা অন্যদের কাছ থেকে সার্ভিস নেয়। বাবা নিরহঙ্কারী, কখনও কারো প্রতি রাগ প্রকাশ করেন না। বাচ্চারা যদি অবুঝ হয় বাবা তাদের বুঝিয়ে থাকেন। তোমরা কি করছ অসীম জগতের পিতা জানেন। সব বাচ্চারাই এক সমান বাধ্য হয়না, অবাধ্যও হয়। বাবা বোঝান। অসংখ্য বাচ্চা। বৃদ্ধি পেতে পেতে হাজার হয়ে যাবে। সুতরাং বাবা বাচ্চাদের সাবধান করে থাকেন। কোনো ভুল ক'রো না। এখানে যখন পতিত থেকে পবিত্র হতে এসেছ কোনও পতিত কর্ম ক'রো না। না নাম-রূপে ফাঁসা উচিত, না দেহ-অভিমানে আসা উচিত। দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকো । মায়া ভীষণ প্রবল । বাবা সবকিছুই বুঝিয়ে বলেছেন । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ স্মরণ আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার মতো নিরহঙ্কারী হতে হবে। কারো সেবা নেওয়া উচিত নয়। কাউকে দুঃখ দেবে না। এমন কোনও পাপ কর্ম যেন না হয়, যার জন্য সাজা খেতে হবে। নিজেদের মধ্যে ক্ষীরখন্ড হয়ে থাকতে হবে ।

২ ) একমাত্র বাবার শ্রীমতেই চলতে হবে, নিজের মতে নয়।

বরদান:-
সেকেন্ডে দেহরূপী চোলা থেকে পৃথক হয়ে কর্মভোগের উপর বিজয় প্রাপ্তকারী সর্বশক্তি সম্পন্ন ভব

যখন কর্মভোগের জোর বাড়ে, কর্মেন্দ্রিয়গুলি কর্মভোগের বশে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে থাকে অর্থাৎ যে সময় তীব্র যন্ত্রণা হয়, সেইসময় কর্মভোগকে কর্মযোগে পরিবর্তনকারী, সাক্ষী হয়ে কর্মেন্দ্রিয়গুলির দ্বারা ভোগাতে থাকা আত্মাদেরকেই সর্বশক্তি সম্পন্ন অষ্ট রত্ন বিজয়ী বলা হয়ে থাকে। এরজন্য অনেক সময়ের দেহরূপী চোলার থেকে পৃথক হওয়ার অভ্যাস থাকবে। এই বস্ত্র, দুনিয়ার বা মায়ার আকর্ষণে টাইট অর্থাৎ আকৃষ্ট হবে না, তবেই সহজে খোলা যাবে।

স্লোগান:-
সকলের থেকে সম্মান প্রাপ্ত করার জন্য নির্মাণচিত্ত হও - নির্মাণতাই হলো মহানতার লক্ষণ।

মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য :

১ ) ঈশ্বর যে সর্বব্যাপী নন তার প্রমাণ কী?

শিরোমণি গীতায় ভগবানুবাচ, যেখানে জয় আমিও সেখানে থাকি এটাই পরমাত্মার মহাবাক্য। পর্বত সকলের মধ্যে যে হিমালয় পর্বত, তার মধ্যে আমি আছি আর সাপের মধ্যে কালীয়নাগকে দেখানো হয়েছে, সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে পরমাত্মা যদি সব সাপেদের মধ্যে শুধুমাত্র কালীয়নাগের মধ্যেই অবস্থান করেন, তবে তো তিনি সব সাপেদের মধ্যে বিরাজ করেন না। যদি পরমাত্মা সর্বোচ্চ পর্বতে বিরাজ করেন তবে তো নীচু পর্বতমালায় তিনি থাকেন না। এবং বলা হয় যেখানে বিজয় সেখানেই জন্ম অর্থাৎ তিনি পরাজিত হন না। এর দ্বারাই প্রমাণ হয় যে পরমাত্মা সর্বব্যাপী নন। একদিকে এমন বলা হয় আবার অন্যদিকে বলা হয় পরমাত্মা অনেক রূপে আসেন, যেমন পরমাত্মাকে ২৪ অবতার রূপে দেখানো হয়েছে। বলা হয় কচ্ছপ, কুমির ইত্যাদি সমস্ত রূপে পরমাত্মা বিরাজ করেন। এ হলো তাদের মিথ্যে জ্ঞান, এভাবেই পরমাত্মাকে সর্বত্র আছেন ভেবে বসে আছে, যখন এই সময় কলিযুগে সর্বত্র মায়ার বিস্তার। সুতরাং পরমাত্মা সর্বত্র কীভাবে থাকতে পারেন? গীতাতেও উল্লেখ আছে, আমি মায়ার মধ্যে বিরাজ করিনা। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে ঈশ্বর সর্বব্যাপী নন।

২ ) নিরাকার দুনিয়া :- আত্মা আর পরমাত্মার নিবাস স্থান -

আমরা জানি যখন আমরা নিরাকার দুনিয়া বলে থাকি এর অর্থ এই নয় যে তার কোনো আকার নেই । নিরাকার দুনিয়া বলি যখন, নিশ্চয়ই কোনো দুনিয়া আছে, কিন্তু স্থূল সৃষ্টির মতো তার আকার নয়। যেমন পরমাত্মা নিরাকার কিন্তু তাঁর নিজের সূক্ষ্ম রূপ অবশ্যই আছে। সুতরাং আমরা আত্মা আর পরমাত্মার ধাম (ঘর) নিরাকার দুনিয়া। যখন আমরা দুনিয়া শব্দটি বলি, এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে সেটাও একটা দুনিয়া যেখানে আত্মারা থাকে, তবেই তো দুনিয়া বলা হয়। দুনিয়ার মানুষ মনে করে পরমাত্মার রূপ অখন্ড জ্যোতি তত্ত্ব। ওটা হলো পরমাত্মার থাকার ঠিকানা, যাকে রিটায়ার্ড হোম বলা হয়। সুতরাং আমরা পরমাত্মার ঘরকে পরমাত্মা বলতে পারিনা।

দ্বিতীয় হলো আকারী দুনিয়া, যেখানে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্কর দেবতারা আকার রূপে বিরাজ করেন আর এটা হলো সাকার দুনিয়া, যার দুটি ভাগ আছে - এক হলো নির্বিকারী স্বর্গের দুনিয়া যেখানে অর্ধকল্প সর্বদা সুখ ,পবিত্রতা আর শান্তি বিরাজ করে। দ্বিতীয় হলো বিকারগ্রস্ত কলিযুগের দুঃখ অশান্তির দুনিয়া। এখন এই দুনিয়ার কথা কেন বলা হয়? কেননা মানুষ বলে স্বর্গ আর নরক দুই-ই পরমাত্মার দ্বারা রচিত। এর উদ্দেশ্যে পরমাত্মার মহাবাক্য - বাচ্চারা, আমি কোনো দুঃখের দুনিয়া রচনা করিনি আমি সুখের দুনিয়া রচনা করি। এখন এই যে দুঃখ আর অশান্তির দুনিয়া সেটা মনুষ্য আত্মারা নিজেদের আর পরমাত্মাকে ভুলে যাওয়ার জন্য নিজেদের হিসেব-নিকেশ ভুগে চলেছে। এমনটা নয় যে, যে সময় সুখ আর পুণ্যের দুনিয়া রচিত হয় সেখানে কোনও সৃষ্টি চলেনা । তবে হ্যাঁ, যখন আমরা বলি ওখানে দেবতাদের নিবাস স্থান ছিল, সেখানেও প্রবৃত্তি চলত কিন্তু বিকারগ্রস্ত প্যারাডাইস ছিল না, যার জন্য সেখানে কর্ম বন্ধন ছিল না। ঐ দুনিয়াকে কর্ম বন্ধনহীন স্বর্গের দুনিয়া বলা হয়। সুতরাং এক হলো নিরাকার দুনিয়া, দ্বিতীয় হলো আকারী দুনিয়া, তৃতীয় হলো সাকার দুনিয়া। আচ্ছা - ওম্ শান্তি।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"

সাকারে যদি কোনও নিমিত্ত শ্রেষ্ঠ আত্মা সাথে থাকে তো তার কাছ থেকে কোনও কাজ ভেরিফাই করিয়ে তারপর করলে তবে সেই কাজ নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে করবে। নির্ভয়তা আর নিশ্চয় দুটি গুণ সামনে রেখে করবে। তো যেখানে সদা নিশ্চয় আর নির্ভয়তা আছে সেখানে সর্বদা শ্রেষ্ঠ সংকল্পেরই বিজয় হয়। যাকিছু সংকল্প করো, যদি সদা নিরাকার আর সাকার সাথে বা সম্মুখে থাকে, তাহলে ভেরিফাই করানোর পর নিশ্চয় আর নির্ভয়তার সাথে করো, এরফলে সময়ও ব্যর্থ যাবে না।