24-05-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
28-02-2010 মধুবন
‘‘দেহ বোধের আমি-আমি'র হোলি জ্বালিয়ে পরমাত্ম সঙ্গের
রঙের হোলি উদযাপন করো"
আজ হোলিয়েস্ট বাবা নিজের হোলি বাচ্চাদের সাথে হোলি উদযাপন করতে এসেছেন। চতুর্দিকে
বাচ্চারা সস্নেহে হৃদয়ে সমাহিত হচ্ছে। বাপদাদা দেখছেন, চতুর্দিকের বাচ্চাদের মস্তকে
ভাগ্যের নক্ষত্র ঝলমল করছে। সমগ্র কল্পে এত বড় ভাগ্য আর কারও হয় না। এই সঙ্গম যুগের
প্রাপ্তির আধারে তোমরা বাচ্চারাই এত শ্রেষ্ঠ পবিত্র হও এবং ভবিষ্যতে তোমরা ডবল
পবিত্র হয়ে থাকো। আত্মাও পবিত্র আর শরীরও পবিত্র। সমগ্র কল্পে চক্কর লাগিয়ে দেখ কোনো
ধর্মাত্মাও ডবল পবিত্র হয়নি। তোমরা বাচ্চারা ডবল পবিত্রও হও আর ডবল পবিত্রতার লক্ষণ
রূপ ডবল মুকুটধারী হও।
আজ হোলি সবাই উদযাপন করে কিন্তু তোমরা এই সময় যে ডবল হোলি হও তার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে
উৎসব রূপে তারা হোলি উদযাপন করে। তোমাদেরই কদম কদমের জীবনের মহত্ত্ব উৎসব রূপে
উদযাপন করে। তোমরা এই সঙ্গমে প্রতিদিন, প্রতি কদম উৎসাহ- উদ্দীপনায় থাকো, তাইতো
তোমাদের উৎসাহ- উদ্দীপনার স্মরণিক এই উৎসবের রূপে তারা উদযাপন করে। উৎসাহ-উদ্দীপনা
কেন থাকে? কারণ তোমরা পরমাত্ম সঙ্গের রঙের হোলি উদযাপন করো। তো তোমাদের প্রতি কদম
উৎসব রূপে উদযাপন করে। এখন হোলিতে প্রথমে জ্বালায় পরে উদযাপন করে। তোমরাও সঙ্গমে
এখন নিজের পুরানো সংস্কার স্বভাব যোগ অগ্নিতে জ্বালিয়েছে, তারপর পরমাত্ম সঙ্গের রঙে
রঞ্জিত হয়েছে। তো আজকাল জ্বালায়ও আর রঙও লাগায়। কিন্তু তোমাদের আধ্যাত্মিক রূপকে
তারা স্থূল রূপ দিয়ে দিয়েছে। তারা স্থূল আগুন জ্বালায়, স্থূল রঙ লাগায় কেননা, এখনের
বৃত্তি বডি কন্সাসনেসের। তোমরা হোলি হও আর তারা হোলি উদযাপন করে। সমগ্র কল্পে কেউই
আধ্যাত্মিক হোলি উদযাপন ক'রে ডবল হোলি হয়নি। তোমরা সবাই যে যেখান থেকেই এসেছ
পরমাত্ম সঙ্গের হোলিতে এসেছ। পরমাত্ম সঙ্গের হোলি উদযাপন করতে এসেছ। তোমরা হোলির
ব্যাপারে বলে থাকো হোলি অর্থাৎ অপ্রীতিকর যে বিষয় চুকে গেছে তা' হোলি। তো ড্রামা
অনুসারে যা কিছুর অবসান হয়েছে তাকে বলা হয় হো লি, যা অতীত তা' অতীত। শুদ্ধ চেতনায়
কোনও ব্যর্থ বিষয় আনা উচিৎ নয়, চুকে গেছে - এমন হোলি উদযাপন করো তো না! তোমরা সবাই
হোলি অর্থাৎ পবিত্র হওয়ার পূর্ণ পুরুষার্থ ক'রে পবিত্রতা ধারণ করেছো তবেই ভবিষ্যতে
তোমাদের ডবল পবিত্রতার নিদর্শন রূপে ডবল মুকুট দেখানো হয়।
তো আজকের দিনে তোমরা প্রত্যেক বাচ্চা কী জ্বালিয়ে যাবে? বাপদাদা দেখেছেন যে জন্মদিনে
বাবা যে হোমওয়ার্ক দিয়েছিলেন - জন্মদিনের গিফ্ট হিসেবে ক্রোধ জন্মদিনে দিয়ে দাও,
তোর কিছু বাচ্চার এর রেজাল্ট বাপদাদার কাছে পৌঁছেছে। বাপদাদা দেখেছেন কোথাও কোথাও
বাচ্চারা অ্যাটেনশন দিয়েছে। তোমরাও সবাই নিজের রেজাল্ট বের ক'রে থাকবে, তো যারাই আজ
বসে আছে তারা নিজের রেজাল্ট বের করেছে, যারা নিজেদের রেজাল্টে কান্ট্রোল করেছে এবং
সফলতার অনুভব করেছে তারা হাত উঠাও। সফলতা প্রাপ্ত করেছ! লম্বা ক'রে হাত উঠাও।
টিচার্স হাত তোলো, ফরেনার্স হাত তোলো (সবাই তুলেছে) আচ্ছা। অভিনন্দন। এক্ষেত্রে,
তোমরা সবাই নিজের মধ্যে মনোবল বজায় রেখেছ আর মনোবলের ফল প্রাপ্ত হতে পারে, এটা
অনুভব করেছো। তো এই অনুভব যদি লক্ষ্য রেখে ভবিষ্যতেও বারবার চেকিং করতে এবং বাড়াতে
চাও তবে কি এটা সম্ভব বলে মনে করো? সম্ভব? ভবিষ্যতেও এটা করতে পারো? যারা করতে পারবে
তারা হাত তোলো। আচ্ছা হতে পারে? টিচার্স হতে পারে? পাণ্ডব হতে পারে? আচ্ছা। এখনো তো
বেশিদিন হয়নি কিন্তু এখন প্রতি তিন মাস পরে, আজ থেকে তিনমাস অ্যাটেনশন রেখে ক্রোধের
টেনশন বিনাশ করতে পারো? পারো করতে? যারা পারবে হাত তোলো। আচ্ছা। এটা তো খুশির খবর,
খুব ভালো, কেন? ক্রোধের কারণ কী? ক্রোধের বীজ কী? তোমরা সদা নিজের ভবিষ্যৎ স্বরূপ
সামনে রাখো, তোমাদের ভবিষ্যৎ স্বরূপ কত সুসজ্জিত, প্রসন্নময় মুখমণ্ডল! আর বাপদাদাকে
দেখ! এক্ষেত্রেও ব্রহ্মা বাবাকে সামনে আনো। কেন? শিব বাবা তো হনই নিরাকার। কিন্তু
ব্রহ্মা বাবা তোমাদের সদৃশ সাকার রূপধারী, তোমাদের সদৃশ দায়িত্বের মুকুটধারী। তবুও
সদা সুস্মিত, প্রসন্নময় মুখমণ্ডল। কেননা, এই বিকারের উপরে বিজয় প্রাপ্ত ক'রে শরীরে
থেকে তোমাদের সামনে এক্সামপল ছিলেন। ব্রহ্মা বাবার থেকে তোমাদের দায়িত্ব বেশি?
ব্রহ্মা বাবার দায়িত্বের সামনে তোমাদের দায়িত্ব কিছুই না। আর লাস্ট পর্যন্ত তোমরা
দেখেছ কর্মাতীত হওয়ার ভাইব্রেশনে অব্যক্ত ফরিস্তা হয়ে গেছ। তো এখন বাপদাদাকে দেওয়া
উপহার ফিরিয়ে নেবে না তো না! বাপদাদা মনে করেন যে তোমরা যখন কাজেকর্মে থাকো তখন
কোথাও কোথাও তেমন সরকমস্ট্যান্স তৈরি হয়, অনেকে রেজাল্টেও লিখেছে যে তাদের আওয়াজ
প্রবল হয়ে যায়। মুডের ক্ষেত্রে সামান্য উগ্রতা এসে যায়। কিন্তু যখন এরকম পরিস্থিতি
সামনে আসে তখনই তো বিজয়ী হওয়ার চান্স থাকে। পরিস্থিতির কাজ হলো আসা কিন্তু তোমাদের
নলেজ আছে পরিস্থিতিকে পার করে বিজয়ী হওয়ার। তো পছন্দ হয়েছে? ক্রোধকে সদাসর্বদার
জন্য বিদায় দেবে, নাকি তিন মাসের জন্য? কত সময়ের জন্য মনোবল থাকবে? যারা মনে করো
সদাসর্বদার জন্য ক্রোধজিত হওয়া মুশকিল নয়, হতেই হবে তারা হাত উঠাও। হতেই হবে। আচ্ছা।
বাপদাদা খুশি, কেন? তোমাদের লাস্ট জন্মেও তোমাদের কী মহিমা গাওয়া হয়? তোমাদের দেবতা
রূপের সামনে তোমরা সর্বগুণ সম্পন্ন, সম্পূর্ণ নির্বিকারী এই মহিমা গেয়ে থাকে। তো
তোমাদের এরকম হওয়ার পার্ট এখন সঙ্গম যুগেরই গায়ন।বাপদাদার হৃদয়ের বিশেষ আশা
তোমাদেরকে বলবেন? কাঁধ নাড়াও, বলবেন? বাপদাদা এখন থেকে; এখন থেকে প্রত্যেক বাচ্চাকে
সদা প্রস্ফুটিত গোলাপ পুষ্প রূপে দেখতে চান। সৌভাগ্যবান, প্রসন্নময়। অবাঞ্ছিত
বিষয়ের কাজ হলো আসা, এটাও বুঝে নাও। পরিস্থিতি আসবে কিন্তু তোমাদের নিজেদের লক্ষ্য
লক্ষণ রূপে আনতে হবে। ঘাবড়ে যেও না। তো এখন যেরকম বলে যে ব্রহ্মাকুমারীরা পবিত্রতার
অনেক পাঠ পড়ায়, তো সেরকম প্রসিদ্ধ হোক যে ব্রহ্মা- কুমারীরা ক্রোধমুক্তও বানায়।
কারণ ক্রোধ থেকে মুক্ত হতে চায় সবাই। মানসিক চাপ হয় তো না! তো মানসিক চাপ তৈরি হয়
সেইজন্য সবাই চায় কিন্তু তারা বিধি জানে না। যেমন পবিত্র হওয়া অসম্ভব মনে করতো
কিন্তু এখন তোমাদের অনুভবের আধারে তারা মনে করে যে হতে পারে। তেমনই এখন এই বছরে এই
তরঙ্গ ছড়িয়ে দাও যে ক্রোধজিত হওয়া সম্ভব, কোনো কঠিন কিছু নয়। এমন এক্সাম্পল এর
অনুভব প্র্যাকটিক্যাল স্টেজে নিয়ে এসো। বাপদাদা দেখেছেন যে অনেক বাচ্চা কার্য করতে
করতেও ক্রোধজিত হয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত তোমাদের পরিবারে, ব্রাহ্মণ পরিবারে হয়েছে। তো
এই বছর কী করবে? হোলি উদযাপন করতে এসেছ তো না! তো হোলিতে কী করে? কিছু জ্বালায়, তাই
না! তো আজকের হোলিতে তোমরা কী জ্বালাবে? ক্রোধের বিষয়টা তো ইতিমধ্যে তোমরা ক'রে
নিয়েছ, এটা পাক্কা করো। কিন্তু বাপদাদা দেখেছেন মানসিক অবসাদে আসার কারণ হলো দেহ
অভিমানের 'আমি' শব্দ। দেহবোধের 'আমি'। এক হলো আমি আত্মা - এই আমি সত্য, কিন্তু
দেহবোধের আমি শব্দ অভিমানেরও হয়, অপমানেরও হয় আর হতাশারও, আমি আমি অধঃপাতে নিয়ে যায়।
তো এগিয়ে যাওয়ার জন্য আজ বডি কন্সাসনেসের আমি-কে যোগ অগ্নিতে জ্বালাও। অনেক আমি
আমিকে জ্বালাও আরেক আমি আত্মা - এই 'আমি' শব্দকে পাক্কা করো আর বাকি 'আমি' একে যোগ
অগ্নিতে জ্বালিয়ে যাও। অনেক আমি আছে, তাই না! তো আজ জ্বালানোর হোলি উদযাপন করো তোমরা।
কেননা, ক্রোধের কারণে খুবই অবসাদ হয়। তো এই আমিকে সমাপ্ত করার জন্য আজ নিজের ভিতরে
সঙ্কল্প করো। জ্বালাতে হবে কেননা, এটাও বোঝা তো না! তো ট্রেনে যাও, প্লেনে যাও এই
বোঝা এখানে জ্বালিয়ে যাও। জ্বালাতে পারো তোমরা? যারা মনে করো সাহসী বাচ্চা, তাদের
সহায় বাবা; সাথে আছেনই। তো বিজয়ও সাথে আছে, যারা এটা ভাবো যে আমাকে বিজয়ী হতেই হবে,
তারা হাত তোলো। হতেই হবে, আচ্ছা। আজ ভি.আই.পি. যারা এসেছে তারা হাত তুলছে। ভি.আই.পি
যারা এসেছ তারা উঠে দাঁড়াও। হাত তুলছে। তালি তো বাজাও। বিজয়ী হবে তোমরা? দেখো,
যারাই বিজয়ী হবে, তাদের প্রত্যেককে মালা পরানো হচ্ছে। অভিনন্দন, অভিনন্দন। আচ্ছা।
এখন যে ভি.আই.পি এসেছে তারা সাহসী। সেইজন্য বাপদাদা বরদান দিচ্ছেন। এই সময় তোমরা
যারা ভি.আই.পি, তারা কোনো কার্যে এক জন্মের জন্য হয়েছো, কিন্তু বাপদাদা তোমরা সব
সাহসী বাচ্চাকে এখন ভি আই পি বলবেন না, বাচ্চা বলবেন। বাপদাদা এই বরদান দেন,
গ্যারান্টি দেন যে তোমরা সবাই ২১ জন্ম ভি.আই.পি হবে। এই ইলেকশন, সিলেকশন চলবে না।
তো সবাই একটা ব্যাপার শুধু ছেড়ো না। যেমন এখন তোমরা সম্বন্ধে সম্পর্কে এসেছ তেমন এই
ব্রাহ্মণ পরিবারের কানেকশন, এটা ছেড়ো না। যত কানেকশন রাখবে ততো রিলেশন পাক্কা হবে
এবং বাবার বরদান প্রাপ্ত করেই নেবে। তো মঞ্জুর? কানেকশন রাখা মঞ্জুর? হাত উঠাও।
আচ্ছা। (বাপদাদা ফুলের মালা উঠিয়ে সামনে বাড়িয়ে দিয়েছেন) এই মালা তোমরা সবাই পরবে।
এছাড়া, তোমরা নতুন বাচ্চারা বা রিয়েল গোল্ড বাচ্চারা সবাই সদা বাবার আজ্ঞাকারী তো
না! তো আজ এই আমিকে জ্বালিয়েই যেও। যারা প্রথমবার এসেছ তারা উঠে দাঁড়াও। আচ্ছা।
প্রথমবারে আগত বাচ্চাদের প্রথমবার আসার পদম গুন অভিনন্দন জানাচ্ছেন বাপদাদা। কিন্তু
যারা এখন প্রথমবার এসেছ তেমনই প্রথম নম্বর ফার্স্ট ডিভিশন, প্রথম নম্বরে তো ফিক্স
আছে, কিন্তু প্রথম নম্বর ফার্স্ট ডিভিশনে আসবে, এই মনোবল আছে তোমাদের? হাত তোলো যার
সাহস আছে? দেখো, ভেবে হাত তোলো। আচ্ছা। তো লক্ষ্য রাখো যে আমরা লাস্টে এসেছি কিন্তু
ফাস্ট যাবো। কেননা, সময়ের কোনো ভরসা নেই। এখন যা করতে হবে তা' তীব্র পুরুষার্থী হয়ে
ক'রে নাও। কেননা, বহু সময়ের পুরুষার্থ তোমাদের সবাইকে অল্প সময়ে সম্পূর্ণ করতে হবে।
তো মনোবল আছে? আছে মানসিক শক্তি? হাত তোলো। দেখ ফটো তোলা হচ্ছে তোমাদের। যারা এমন
নির্ভীক বাপদাদা তাদের অভিনন্দন দিয়ে থাকেন। নির্ভীকতা তোমাদের, সহায়তা বাবার।
কিন্তু অটল মনোবল হারিও না। নিজেদের ভাগ্যের নক্ষত্র সদা ঝলমলে হ'তে দাও। কেননা, এই
জন্মের তীব্র পুরুষার্থ, পুরুষার্থ নয় তীব্র পুরুষার্থ অনেক জন্মের ভাগ্য বানায়।
সেইজন্য নির্ভীকতা কখনো হারিও না। পরিস্থিতি আসবে কিন্তু পরিস্থিতি তো মহাবীর নয়,
তোমরা সর্বশক্তিমানের বাচ্চা, তোমাদের সামনে পরিস্থিতি কি! পরিস্থিতি আসে আর চলে
যায়। যে চলে যায় তার পিছনে নিজের ভাগ্য নষ্ট ক'রো না। আচ্ছা বসো। তো সবাইকে বাপদাদা
সস্নেহে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কোন বিষয়ে? নির্ভীকতা বজায় রেখেছ আর বাপদাদা প্রত্যেক
বাচ্চার মনোবলের সঙ্কল্পে খুশি। তো হোলি উদযাপন করেছো? জ্বালানোর হোলি তো উদযাপন
করেছ। আর পরমাত্ম সঙ্গের রঙের হোলিও উদযাপন করেছ। জ্বালিয়েছও, উদযাপনও করেছো।
এখন বাপদাদা সব বাচ্চাকে একটা ড্রিল করাতে চান। সেই ড্রিল হলো - চতুর্দিকে পরিস্থিতি
বিদ্যমান। কোথাও একরকম তো কোথাও আরেক রকম। চতুর্দিকের এরকম পরিস্থিতির মধ্যে তোমরা
এক সেকেন্ডে একাগ্র হতে পারো? এমন প্র্যাকটিস নিজের মধ্যে অনুভব করো? কিংবা মনে করো
যে সময় তোমাদের কারণে অকারণে কোনো ব্যাপারে ব্যর্থ সঙ্কল্পের তুফান আসলো, সে'সময়
তোমরা নিজের মন- বুদ্ধিকে একাগ্র করতে পারবে? এই একাগ্রতার শক্তির ড্রিল সময়মতো ক'রে
দেখেছ? যদি এমন সময়ে এক সেকেন্ডে একাগ্রতার শক্তি কার্যে না আসে তবে ভবিষ্যতে এরকম
পরিস্থিতি বারবার আসবে। তো আজ বাপদাদা সেকেন্ডে ফুলস্টপ অর্থাৎ একাগ্র স্থিতির
অভ্যাসে অ্যাটেনশন টানতে চান। কেননা, প্রকৃতি নিজের ভিন্ন ভিন্ন রঙ দেখাতে শুরু ক'রে
দিয়েছে। চতুর্দিকে কী কী হচ্ছে সেটা তোমরা অনেক বেশি জানো। তো এভাবে মন-বুদ্ধিকে
বিভ্রান্ত করে এমন পরিস্থিতি আসারই আছে। তো এখন এই প্র্যাকটিস করো যাতে মনকে
বুদ্ধিকে তোমরা এক সেকেন্ডে পরম ধামে টিকিয়ে রাখতে পারো। এখন নিজেকে ফরিস্তা রূপে
স্থির করো। এখন নিজেকে আমি ব্রাহ্মণ মাস্টার সর্বশক্তিমান স্থিতিতে আছি, এই মাস্টার
সর্বশক্তিমান স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাও। (বাপদাদা ড্রিল করালেন) এরকম প্র্যাকটিস
সারাদিনে যখনই সময় পাবে, বারবার মনকে একাগ্র ক'রে দেখো - যেখানে চাও, যা চাও সেখানে
যেন মন একাগ্র হতে পারে। পুরুষার্থ করতে তোমাদের হয়তো মিনিট খানেক সময় লাগতে পারে,
কিন্তু এক সেকেন্ডে ফুল স্টপ লাগাও কারণ সময় এখন অস্থিরতা তৈরি করছে। সেইজন্য
মাইন্ড কন্ট্রোল করতে হবে - মন আমার, আমি মন নই, আমার মন যখন তাহলে 'আমার' উপরে 'আমি'র
কন্ট্রোল আছে? এই ড্রিল অতি আবশ্যক।
তোমরা সবাই, যারাই এসেছ বাপদাদার প্রত্যেক বাচ্চা প্রিয়। কেন? যেমনই আত্মা হোক
বাপদাদা কিন্তু সব বাচ্চাকে কোটি কোটির মধ্যে অতি বিরল আত্মা হিসেবেই দেখেন। হতে
পারে, পুরুষার্থে দুর্বল কিন্তু বাবার কাছে অনন্য, প্রিয়। হৃদয় থেকে তোমরা বলছ আমার
বাবা, সেইজন্য তোমরা বাবারও অতি প্রিয়। শুধু বাপদাদা একটা বিষয় আবারও স্মরণ করিয়ে
দিচ্ছেন, তোমাদের নিজেদের মুখমণ্ডল যেন সদা প্রসন্নতায়, খুশিতে ঝলমল করে। পরিস্থিতি
চলে যাবে, কিন্তু খুশি যেন না যায়। সঙ্গম যুগের খুশি পরমাত্ম গিফ্ট। তো হোলি অর্থাৎ
তেমন কোনো পরিস্থিতি যদি আসে তো স্মরণ ক'রো যে হোলি উদযাপন ক'রে এসেছি। হোলি মানে
হো লি - হয়ে গেছে, তোমার খুশি কখনো যেতে দিও না। খুশি তোমাদের পরমাত্ম উপহার,
ভাণ্ডার।
বাপদাদা সদা বলেন, এই স্লোগান সবসময় যেন স্মরণে থাকে - খুশি থাকতে হবে আর বিতরণ করতে
হবে। যত বিলিয়ে দেবে ততই বাড়বে এবং প্রসন্নময় মুখমণ্ডল চলতে ফিরতে অটোমেটিক্যালি
সেবা করতে থাকবে। যে দেখবে সে এটাই ভাববে যে তোমাদের কী লাভ হয়েছে! তো আজ হোলির
দিলখুশ মিষ্টি হলো খুশি। সবাই খেয়েছ? নিরন্তর খেয়ে যাও। এতে কোনো অসুস্থতা হবে না।
আচ্ছা।
বাপদাদা আবারও স্ব পুরুষার্থের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, স্ব পুরুষার্থ দ্বারা স্ব
উন্নতি আর সেবার উন্নতি দু'দিকে অ্যাটেনশন দিতে থাকো, নিরন্তর এগিয়ে চলো আর সদা উড়তে
থাকো, উড়াতে থাকো। আচ্ছা।
চতুর্দিকে, যারা বাপদাদার স্নেহে সমাহিত হয়ে স্মরণ আর সেবায় সবচাইতে সামনে এগিয়ে
যায় আর অন্যকে এগিয়ে নিয়ে চলে, অমৃতবেলা সবচাইতে ভালো এবং পাওয়ারফুল বানায়, আর মন্সা
সেবা দ্বারা সহৃদয়, দয়ালু, কৃপালু হয়ে আত্মাদের কিছু না কিছু ফোঁটায় ফোঁটায় দিয়ে
চলে তারা এই বিধি অগ্রচালিত করো। বাপদাদা দেখেন যে প্রত্যেক বাচ্চা উৎসাহ উদ্দীপনায়
থাকে, কিন্তু এখন কী অ্যাডিশন করবে? 'সদা' শব্দ অ্যাড করো। 'কখনো কখনো' শব্দ
ডিকশেনারি থেকে বের ক'রে দাও। তো চতুর্দিকে বাচ্চারা হোলিও উদযাপন করেছে,
জ্বালিয়েছেও, আর সঙ্গের রঙও লাগিয়েছে, যা হয়ে গেছে তা' অতীত -এর হোলিও উদযাপন করেছে,
সেইজন্য বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের তাঁর সমুখে দেখছেন, হৃদয়ে দেখছেন। বাপদাদার
পদম পদম গুন স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার।
বরদান:-
সদা আজ্ঞার তিলক ধারণ ক'রে ফার্স্ট প্রাইজ নিয়ে
আজ্ঞাকারী ভব
যে বাচ্চাদের মস্তকে আজ্ঞাকারীর স্মৃতির তিলক লেগেছে,
আজ্ঞা বিনা একটাও সঙ্কল্প করে না, তাদের ফার্স্ট প্রাইজ প্রাপ্ত হয়। যেমন, রেখার
ভিতরে সীতার অবস্থান করার আজ্ঞা ছিল, তেমন প্রতিটা পদক্ষেপের সময়, সঙ্কল্প করার সময়
বাবার আজ্ঞার রেখার মধ্যে যদি থাকো তবে সদা সেফ থাকবে। রাবনের কোনোরকম সংস্কার
তোমাদের আঘাত করতে পারবে না আর সময়ও ব্যর্থ যাবে না।
স্লোগান:-
যদি কারও প্রতি আকর্ষণ থাকে তবে সেই আকর্ষণ তোমাকে
অমনোযোগী বানাবে।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা অবিচল অটল একরস স্থিতির অনুভব
করো সদা একের স্মরণে থেকে একরস অবস্থা বানাও, তাহলে এক-এক-এক এ এসে যাবে। বাইরে
থেকেও এই পাঠ পাক্কা করো - সী ফাদার, ফলো ফাদার। তাহলে কখনো কোনো পরিস্থিতিতে
টলোমোলো হবে না। ব্রহ্মা বাবার সামনে কতই পরিস্থিতি এসেছে কিন্তু পরিস্থিতি না দেখে
এক বাবাকেই দেখেছেন, সেইজন্য নম্বর ওয়ান হয়েছেন। তো ফলো ফাদার।