24-08-2025 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 30-11-2006 মধুবন


“জ্বালামুখী তপস্যার দ্বারা আমিত্ব ভাবের পুচ্ছ জ্বালিয়ে বাপদাদা সমান হও তবেই সমাপ্তি সমীপে আসবে”


আজ, অক্ষয় অবিনাশী ভাণ্ডারের মালিক বাপদাদার চতুর্দিকে নিজের সম্পন্ন বাচ্চাদের জমার খাতা দেখছেন। তিন রকমের খাতা দেখছেন - এক) নিজের পুরুষার্থের দ্বারা শ্রেষ্ঠ প্রালব্ধ জমা করার খাতা। দুই) সদা সন্তুষ্ট থাকা এবং সন্তুষ্ট করা, এই সন্তুষ্টির দ্বারা আশীর্বাদ জমা হওয়ার খাতা। তিন) মন্সা, বাচা, কর্মণা, সম্বন্ধ সম্পর্কের দ্বারা অসীম দুনিয়ার নিঃস্বার্থ সেবার দ্বারা পুণ্যের খাতা। তোমরাও সবাই নিজের এই তিন খাতা চেক করেই থাকো। এই তিন খাতা কত জমা হয়েছে, হয়েছে কি হয়নি তার লক্ষণ হলো - সদা সকলের প্রতি, নিজের প্রতি সন্তুষ্টতা স্বরূপ, সকলের প্রতি শুভ ভাবনা, শুভ কামনা আর সদা নিজেকে প্রসন্নচিত্ত, সৌভাগ্যবান স্থিতিতে অনুভব করা। তো চেক করো দুটো খাতার লক্ষণগুলো নিজের মধ্যে অনুভূত হয়? এই সমুদয় ভাণ্ডার জমা করার চাবি হলো - নিমিত্ত ভাব, নিরহংকার ভাব, নিঃস্বার্থ ভাব। নিরন্তর চেক করো। আর চাবির নম্বর জানা আছে তোমাদের! চাবির নম্বর - তিন বিন্দু। থ্রি ডটস্। এক- আত্মা বিন্দু, দুই- বাবা বিন্দু, তিন- ড্রামার ফুল স্টপ বিন্দু, চাবি আছে তো না সবার কাছে? ভাণ্ডার খুলে নিরন্তর দেখ তোমরা, তাই না! এই সমুদয় ভাণ্ডারের বৃদ্ধির বিধি হলো - দৃঢ়তা। দৃঢ়তা থাকলে কোনও কার্যে এই সংকল্প চলবে না যে হবে কি হবে না! দৃঢ়তার স্থিতি হলো - হয়েই আছে, এটা স্থিরীকৃত। হবে, জমা হবে, হবে না - না। করছি তো, হওয়া তো উচিত, তো তো এটাও না। যাদের দৃঢ়তা আছে তারা নিশ্চয়বুদ্ধি, তারা নিশ্চিন্ত আর নিশ্চিত অনুভব করবে।

বাপদাদা আগেও তোমাদের বলেছেন - যদি সমুদয় ভাণ্ডার অধিক থেকে অধিক জমা করতে চাও তবে মন্মনাভব-র মন্ত্রকে যন্ত্র বানাও। যার দ্বারা আপনা থেকেই সদা বাবার সাথে আর পাশে থাকার অনুভব হবে। পাস হতেই হবে, তিন রকমের পাস - এক পাশে থাকা, দুই যা অতীত তাকে পাস করা আর তিন পাস উইথ অনার হওয়া। যদি এই তিনটে পাস হও তবে তোমাদের সবার জন্য রাজ্য অধিকারী হওয়ার ফুল পাস (প্রবেশ পত্র) আছে। তো ফুল পাস নিয়ে নিয়েছ, নাকি নিতে হবে? প্রথম লাইনের যারা তারা হাত ওঠায়নি। নিতে হবে তোমাদের? ভাবে এখনো সম্পূর্ণ হইনি, সেইজন্য। কিন্তু নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী হয়েই আছ, নাকি হতে হবে? এখন তো সময়ের আহ্বান, ভক্তদের আর্তি, নিজের মনের আওয়াজ কী আসছে? এই মুহূর্তে সম্পন্ন আর সমান হতেই হবে। নাকি এটা ভাবছ হবো, ভাববো, করবো...! এখন সময়ানুসারে সব সময় এভাররেডি হওয়ার পাঠ পাক্কা থাকতেই হবে। যখন বলেছ আমার বাবা, প্রিয় বাবা, মিষ্টি বাবা মেনেই নিয়েছ, তখন তো যে প্রিয় হয় তার সমান হওয়া কঠিন হয় না। বাপদাদা দেখেছেন, সময় সময়তে সমান হওয়ার ক্ষেত্রে যে বিঘ্ন ঘটে তার প্রসিদ্ধ শব্দ সবার কাছে আছে, সবাই জানে, অনুভাবী। সেটা হলো "আমি", আমিত্ব ভাব। সেইজন্য বাপদাদা আগেও বলেছেন যখনই আমি শব্দ বলো তখন শুধু 'আমি' ব'লো না, আমি আত্মা। জোড়া শব্দ বলো। আমি শব্দ কখনো অভিমান নিয়ে আসে, বডি কন্সাসের আমি, আত্মা আমি নয়। কখনো অভিমানও নিয়ে আসে, কখনো অপমানও নিয়ে আসে। কখনো হতাশও বানায়। সেইজন্য এই বডি কন্সাসের আমিত্ব ভাবকে স্বপ্নেও আসতে দিও না।

বাপদাদা দেখেছেন, স্নেহের সাব্জেক্টে মেজরিটি পাশ করেছে। তোমাদের সবাইকে এখানে কে নিয়ে এসেছে? হতে পারে সবাই তোমরা প্লেনে এসেছো, অথবা ট্রেনে এসেছ, কিংবা বাসে এসেছ, কিন্তু বাস্তবে বাপদাদার স্নেহের বিমানে ক'রে এখানে পৌঁছেছো। তো যেমন স্নেহের সাব্জেক্টে তোমরা পাশ করেছ, এখন সমান হওয়ার সাব্জেক্টেও এই চমৎকার করো - পাস উইথ অনার হয়ে দেখাও। পছন্দ তোমাদের? সমান হওয়া পছন্দ হয়? পছন্দ হয় কিন্তু হওয়ার ব্যাপারে একটু মুস্কিল! সমান হয়ে যাও তবে সমাপ্তি সামনে আসবে। কিন্তু কখনো কখনো হৃদয়ে যে প্রতিজ্ঞা করছ হতেই হবে সেই প্রতিজ্ঞা দুর্বল হয়ে যায় আর পরীক্ষা কঠিন হয়ে যায়। হ'তে সবাই চায় কিন্তু চাওয়া প্রথম হয় আর প্র্যাকটিক্যাল দ্বিতীয় হয়ে যায়। কেননা, তোমরা প্রতিজ্ঞা তো করো কিন্তু দৃঢ়তায় খামতি থেকে যায়। সমত্ব দূরে হয়ে যায়, সমস্যা প্রবল হয়। তাহলে এখন কী করবে? বাপদাদার একটা বিষয়ে খুব হাসি আসছে। কোন বিষয়? তোমরা হও তো মহাবীর কিন্তু শাস্ত্রে যেমন হনুমানকে মহাবীরও বলেছে আবার পুচ্ছও দেখিয়েছে। এই পুচ্ছ দেখিয়েছে আমিত্ব বোধের। যতক্ষণ মহাবীর এই পুচ্ছ না জ্বালাবে ততক্ষণ লঙ্কা অর্থাৎ পুরানো দুনিয়াও সমাপ্ত হবে না। তো এখন এই আমি আমি-র পুচ্ছ জ্বালাও, তবেই সমাপ্তি সমীপে আসবে। জ্বালানোর জন্য জ্বালামুখী তপস্যা প্রয়োজন, সাধারণ স্মরণ নয়। জ্বালামুখী স্মরণের আবশ্যকতা রয়েছে। সেইজন্য জ্বালা দেবীরও স্মরণিক আছে। শক্তিশালী স্মরণ, তো শুনেছ কী করতে হবে? এখন মনে এই সুর অব্যাহত রাখতে হবে - সমান হতেই হবে, সমাপ্তি সমীপে আনতেই হবে। তোমরা বলবে সঙ্গমযুগ তো খুব ভালো তবে কেন সমাপ্তি হবে? কিন্তু তোমরা বাবা সমান দয়ালু, কৃপালু, হৃদয়বান আত্মা, তো আজকের দুঃখী আত্মা এবং ভক্ত আত্মাদের প্রতি 'হে হৃদয়বান আত্মারা দয়া করো।' মার্সিফুল হও। দুঃখ বেড়ে চলেছে, দুঃখীদের প্রতি দয়া করে তাদেরকে মুক্তিধামে তো পাঠাও। শুধু বাণীর সেবা নয় বরং এখন আবশ্যকতা রয়েছে মন্সা আর বাণী সেবা সাথে সাথে হওয়ার। একই সময়ে দু'টোই একসাথে হতে হবে। সেবার চান্স পাওয়ার ব্যাপারে শুধু ভেবো না, চলতে ফিরতে নিজের মুখ আর আচরণ দ্বারা বাবার পরিচয় দিতে দিতে অগ্রচালিত হও। তোমাদের মুখমণ্ডল যেন বাবার পরিচয় দেয়। তোমাদের আচরণ যেন বাবাকে প্রত্যক্ষ করিয়ে এগিয়ে চলে। অতএব, সদা এমন সেবাধারী ভব! আচ্ছা।

বাপদাদার সামনে স্থূলরূপে তো সবাই তোমরা ব'সে আছো কিন্তু চতুর্দিকের বাচ্চারা সূক্ষ্ম স্বরূপে হৃদয়ে আছে। দেখছেও, শুনছেও। দেশ বিদেশের অনেক বাচ্চা ই-মেল দ্বারা, পত্র দ্বারা, সমাচার দ্বারা স্মরণ স্নেহ পাঠিয়েছে। নামসহ সকলের স্মরণ বাপদাদা পেয়েছেন এবং বাপদাদা অন্তর্মনে সব বাচ্চাকে সামনে দেখে গীত গাইছেন - বাহ্ বাচ্চারা বাহ্! প্রত্যেকে এই সময় ইমার্জ রূপে স্মরণে থাকে। সব সন্দেশিকে আলাদা আলাদা ভাবে বলেন অমুকে স্মরণ পাঠিয়েছে, অমুকে স্মরণ পাঠিয়েছে। বাবা বলেন, বাবার কাছে তো যখন সংকল্প করো তখন তা' সাধন দ্বারা পরে পাওয়া যায়, কিন্তু স্নেহের সংকল্প সাধনের আগে পৌঁছে যায়। ঠিক আছে তো না! তোমরা অনেকে স্মরণ প্রাপ্ত করেছ, তাই না! আচ্ছা।

আচ্ছা - প্রথমে হাত তোলো যারা প্রথমবার এসেছো। এরা সেবাতেও প্রথমবার এসেছে। আচ্ছা, বাপদাদা বলেন, স্বাগত! তোমরা পদার্পণ করেছ, তোমাদের আসার মরশুম এটা। আচ্ছা।

ইন্দোর জোনের সেবাধারী (আরতি বোন) এসেছে - ( সবার হাতে হৃদয়ের শেপে সিম্বল রয়েছে, লেখা "আমার বাবা।") তোমরা হাত তো খুব ভালো নাড়াচ্ছ, কিন্তু হৃদয়কেও নাড়াতে হবে। শুধু সদা স্মরণে রেখো, ভুলে যেয়ো না 'আমার।' তোমরা ভালো চান্স নিয়েছ, বাপদাদা সদা বলে থাকেন, যারা সাহস রাখে তাদেরকে বাপদাদা পদ্ম-গুন সহায়তা প্রদান করেন। তোমরা সাহস রেখেছ তো না! তোমরা ভালো করেছ। এটাই ইন্দোর জোন। ইন্দোর জোন ভালো, সাকার বাবার স্মৃতির লাস্ট স্থান। ভালো, সবাই খুব খুশি হচ্ছ, তাই না! গোল্ডেন লটারি পেয়েছ তোমরা। যখন একটা জোন সেবার টার্ন লাভ করে তখন সব সেবাধারী আসার অনুমতি পেয়ে যায়, নতুবা, তোমাদেরকে সংখ্যা দেওয়া হয় এত নিয়ে এসো, আর এখন দেখ কত আছে! প্রতিটা জোনের জন্য এটাও একটা ভালো চান্স তো না! যত চাও তোমরা নিয়ে এসো। তো তোমাদের সকলের অল্প সময়ে পুণ্যের খাতা একত্রিত হয়ে কত বড় হয়ে গেছে। যজ্ঞ সেবা হৃদয় থেকে করো অর্থাৎ নিজের পুণ্যের খাতা তীব্রগতিতে বাড়াও। কেননা, সংকল্প, সময় আর শরীর এই তিনই তোমরা সময়োপযোগী বানিয়েছ। তোমাদের সঙ্কল্পও চলে তো সেটা যজ্ঞ সেবার, সময়ও যজ্ঞ সেবাতে ব্যয় হয়েছে এবং শরীরও যজ্ঞ সেবাতে অর্পণ করেছ। তাহলে এটা সেবা নাকি মেওয়া? প্রত্যক্ষ ফল - যজ্ঞ সেবা করতে করতে কারও কাছে কোনও ব্যর্থ সংকল্প এসেছে? এসেছে কারও কাছে? খুশি থেকেছ আর খুশি বিতরণ করেছো। তো এখানে যে এই গোল্ডেন অনুভব করেছ, এই অনুভব ফিরে গিয়ে ওখানেও ইমার্জ করে বাড়িয়ে যেও। যদি কখনও মায়ার কোনো সংকল্পও আসে তবে মনের বিমানে শান্তিবনে পৌঁছে যেও। মনের বিমান আছে তো না! সবার কাছে মনের বিমান আছে। বাপদাদা সব ব্রাহ্মণকে জন্মের উপহার রূপে শ্রেষ্ঠ মন-বিমান দিয়ে দিয়েছেন। এই বিমানে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। যখনই স্টার্ট করো তখনই শুধু আমার বাবা। বিমান চালাতে জানো তো না! সুতরাং যখনই কিছু হবে মধুবনে পৌঁছে যাও। ভক্তিমার্গে যারা চারধাম ঘুরে আসে তারা নিজেদের খুব ভাগ্যবান মনে করে আর মধুবনেও চারধাম আছে, তো চারধাম ঘুরেছো? পাণ্ডব ভবনে দেখ চারধাম আছে। তোমরা যারাই এসে থাকো পাণ্ডব ভবনে যাও তো না! এক) শান্তিস্তম্ভ মহাধাম। দুই) বাপদাদার কামরা, এটা স্নেহের ধাম। আর তিন হলো ঝুপড়ি, এটা স্নেহ মিলনের ধাম এবং চার, হিস্ট্রি হল, তো তোমরা সবাই চার ধাম ঘুরেছ? সুতরাং মহান ভাগ্যবান তো হয়েই গেছ। এখন যে কোনও ধাম স্মরণ করে নাও, কখনো যদি উদাস হয়ে যাও তবে ঝুপড়িতে আত্মিক বার্তালাপ করতে চলে এসো। শক্তিশালী হওয়ার আবশ্যকতা থাকলে তখন শান্তি স্তম্ভে পৌঁছে যাও আর ওয়েস্ট থটস যদি খুব তেজিয়ান হয়, খুব ফাস্ট হয় তবে হিস্ট্রি হলে পৌছে যাও। সমান হওয়ার দৃঢ় সংকল্প উৎপন্ন হলে তখন বাপদাদার কামরায় এসে যাও। এটা ভালো, সবাই গোল্ডেন চান্স নিয়েছে কিন্তু সদা ওখানে থাকাকালীন গোল্ডেন চান্স নিতে থাকো। আচ্ছা। তোমরা সাহসী, এটা ভালো।

ক্যাড গ্রুপ - (সহৃদয় সকলে বসে আছে, সবাই মিলে খুব ভালো কনফারেন্স করেছে):- তোমরা ভালো করেছো, নিজেদের মধ্যে মিটিংও করেছ, তাছাড়া যিনি প্রেসিডেন্ট তারও ইচ্ছা এই কার্য হওয়া দরকার। তো যেমন তারও ইচ্ছা রয়েছে, তাকেও সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকো এবং সেইসঙ্গে ব্রাহ্মণদের যে মিটিং আছে, তাতেও নিজেদের প্রোগ্রামের সমাচার শুনিয়ে পরামর্শ করে নাও, তাহলে সর্ব ব্রাহ্মণের পরামর্শে আরও শক্তিপূর্ণ হয়ে যায়। আর কার্য ভালো, করতে থাকো, সম্প্রসারণ করো এবং ভারতের বিশেষত্ব দৃশ্যমানরূপে প্রকাশ করে এগিয়ে চলো। অনেক পরিশ্রম করছ তোমরা। প্রোগ্রামও ভালো করেছ, আর সহৃদয় যারা তারা উদারতা দেখিয়েছ, তার জন্য অভিনন্দন। আচ্ছা।

ডবল বিদেশি ভাই-বোনেরা - এটা ভালো, সব টার্নে ডবল বিদেশিদের আসা এই সংগঠনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ডবল বিদেশিদের দেখে সকলের আগ্রহও উৎপন্ন হয়, সব ডবল বিদেশি ডবল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সামনে উড়ছে, চলছে না, উড়ছে, এরকমই তারা। তোমরা ওড়ো নাকি চলো? যারা সদা ওড়ে, চলে না তারা হাত উঠাও। আচ্ছা।বাস্তবত:, তোমরা দেখ বিমানে করে উড়েই আসতে হয়। সুতরাং ওড়ার অভ্যাস তো তোমাদের আছেই। ওটা শরীরের সাথে ওড়ার, এটা মনের সাথে ওড়ার, উপযুক্ত মনোবলও বজায় রেখেছ। বাপদাদাকে দেখ, কোথায় কোথায় প্রতিটা কোন থেকে নিজের বাচ্চাদের খুঁজে নিয়েছেন তো না! খুব ভালো, বলার জন্য ডবল বিদেশি, বাস্তবে তো অরিজিনালি ভারতের। আর রাজত্বই বা কোথায় করতে হবে? ভারতে করতে হবে তো না! কিন্তু সেবার্থে পাঁচ খণ্ডেই তোমরা পৌঁছে গেছ। আর পাঁচ খণ্ডেই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে উত্তমরূপে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে উত্তমরূপে সেবাও করছ। তোমরা বিঘ্ন বিনাশক তো না! যদি কোনো বিঘ্ন আসেও তোমরা তো ঘাবড়ে যাও না, তাই না! এটা কেন হচ্ছে, এটা কেন হচ্ছে, না। যা কিছু হয় তা' আমাদের আরও উৎসাহ বাড়ানোর সাধন। এরকম পাক্কা তোমরা, তাই তো না! পাক্কা? নাকি একটু একটু কাঁচা? না, কাঁচা শব্দ ভালো লাগে না। পাক্কা আছ, পাক্কা থাকবে, পাক্কা হয়ে সাথে যাবে। আচ্ছা।

দাদি জানকি অস্ট্রেলিয়া চক্রভ্রমণ করে এসেছেন, তিনি অনেক স্মরণ দিয়েছেন – বাপদাদার কাছে ই- মেলেও সন্দেশ এসেছে। আর, বাপদাদা দেখেন যে বড়-বড়ো প্রোগ্রামও আজকাল এমন হয়েছে যেন হয়েই রয়েছে। সবাই শিখে গেছে। সেবার সাধনকে কার্যে প্রয়োগ করার ভালো অভ্যাস হয়ে গেছে। বাপদাদা অস্ট্রেলিয়াকে নম্বর ওয়ান হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এখন, প্রথম নম্বর নিয়েছে ইউ. কে., নম্বরে তারা একটু এগিয়ে যাচ্ছে। যতই হোক, অস্ট্রেলিয়াকে নম্বর ওয়ান হতেই হবে। ইউ. কে. দু' নম্বর হবে না, সেও নম্বর ওয়ানই হবে। অস্ট্রেলিয়ার পুরানো পুরানো বাচ্চারা বাপদাদার স্মরণে আছে। আর বাপদাদার আদরের নির্মল আশ্রম, তোমরা তো বলো নির্মলা দিদি, দিদি বলো তো না, কিন্তু বাপদাদা প্রথম থেকেই তাঁকে টাইটেল দিয়েছেন নির্মল আশ্রম, যে আশ্রমে অনেক আত্মা আশ্রয় নিয়েছে এবং বাবার হয়েছে, আরও হচ্ছে, হতেও থাকবে। তো অস্ট্রেলিয়া নিবাসী প্রত্যেক বাচ্চাকে বিশেষ স্মরণ, এরা সামনে বসে আছে! অস্ট্রেলিয়ার তো না! যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে তারা ওঠো। খুব ভালো। এদের কত উৎসাহ- উদ্দীপনা আসছে, বিশ্বের সেবার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাপদাদার সহায়তা আছে এবং সফলতাও আছেই।

আচ্ছা - এখন কী দৃঢ় সংকল্প করছো? এখন এই সংকল্পে ব'সো - সফলতা আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার। বিজয় আমার গলার মালা। এই নিশ্চয় আর অধ্যাত্ম নেশায় অনুভাবী স্বরূপ হয়ে ব'সো।

আচ্ছা। চতুর্দিকে, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত নিশ্চিন্ত বাদশাহদের, বেগমপুরের বাদশাহ স্বরূপে স্থিত এমন বাচ্চাদের, যারা সর্ব ভাণ্ডারে সম্পন্ন, রিচেস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড সেই সকল বাচ্চাকে, যারা সদা উৎসাহ উদ্দীপনার পাখায় উড়তি কলায় ওড়ে এমন বাচ্চাদের, সদা সমাপ্তিকে সমীপে নিয়ে আসা বাপদাদা সমান বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ স্নেহ, হৃদয়ের আশীর্বাদ, বরদাতার বরদান আর নমস্কার।

বরদান:-
নিজের সর্বপ্রকারের দুর্বলতা দানের বিধির দ্বারা সমাপ্ত করে দাতা, বিধাতা ভব

ভক্তিতে এই নিয়ম থাকে যখন কোনো বস্তুর অভাব হয় তখন বলা হয় দান করো। দান করলে দেওয়াটাই নেওয়া হয়ে যায়। তো যে কোনো দুর্বলতা সমাপ্ত করার জন্য দাতা আর বিধাতা হও। যদি অন্যদের বাবার ভাণ্ডার দেওয়ার নিমিত্ত সহায়ক হও তবে দুর্বলতা আপনা থেকেই সরে যাবে। নিজের দাতা বিধাতাভাবের শক্তিশালী সংস্কার যদি ইমার্জ করো তবে দুর্বল সংস্কার স্বতোই সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
নিজের শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের গুণ গাইতে থাকো - দুর্বলতার নয়।

অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও যার প্রতি ভালবাসা থাকে তার যা ভালো লাগে সেটাই করা হয়ে থাকে। সুতরাং বাচ্চাদের আপসেট হওয়া বাবার ভালো লাগে না। সেইজন্য কখনও এটা ব'লো না যে কী করবো পরিস্থিতিই এমন ছিল যার জন্য আপসেট হয়ে গেছি ... যদি আপসেট হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসেও তাহলেও তোমরা আপসেট স্থিতিতে এসো না। হৃদয় থেকে বলো 'বাবা' আর সেই ভালবাসায় সমাহিত হয়ে যাও।