24.09.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
সত্য বাবা সত্য খন্ড স্থাপন করেন, তোমরা বাবার কাছে এসেছো নর থেকে নারায়ণ হওয়ার
জন্য সত্যিকারের নলেজ শুনতে"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা
নিজেদের গৃহস্থ ব্যবহারে তোমাদেরকে অত্যন্ত বুঝে বুঝে চলতে হবে - কেন?
উত্তরঃ
কেননা তোমাদের
গতি এবং মতি সবের থেকে আলাদা। তোমাদের হলো গুপ্ত জ্ঞান, সেইজন্য বিশাল বুদ্ধি হয়ে
সকলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। মনে মনে বুঝতে হবে আমরা সবাই হলাম ভাই - ভাই
বা ভাই - বোন। বাকি এমন নয় যে স্ত্রী তার স্বামীকে বলবে যে, তুমি হলে আমার ভাই। এই
রকম শুনলে লোকে বলবে এর কী হয়েছে ! যুক্তির সাথে চলতে হবে।
ওম্ শান্তি ।
আধ্যাত্মিক
বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝান। রুহানী (আধ্যাত্মিক) শব্দটি না বলে কেবল বাবা বললেও
বুঝতে পারা যাবে যে, ইনি হলেন বাবা। বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝান। সবাই নিজেদেরকে
ভাই ভাই তো বলে, তাই বাবা বসে বোঝান বাচ্চাদেরকে। সবাইকে নিশ্চয়ই বোঝান না।
গীতাতেও লেখা রয়েছে - ভগবানুবাচ। কার উদ্দেশ্যে? সকলে হলো ভগবানের সন্তান । তিনি
হলেন ভগবান পিতা, অতএব ভগবানের সন্তান সকলেই হলো ব্রাদার্স। ভগবানই নিশ্চয়ই বুঝিয়ে
থাকবেন। রাজযোগ শিখিয়ে থাকবেন। এখন তোমাদের বুদ্ধির তালা খুলেছে। তোমরা ছাড়া এই রকম
চিন্তা ভাবনা আর কারোরই চলতে পারে না। যাদের যাদের কাছে বার্তা পৌঁছে যেতে থাকবে,
তারা তারা স্কুলে আসতে থাকবে পড়তে থাকবে। ভাববে প্রদর্শনী তো দেখলাম এখন গিয়ে আআরো
একটু শুনি। সর্ব প্রথমে হল মুখ্য কথা যে, জ্ঞান সাগর পতিত-পাবন, গীতা জ্ঞানদাতা শিব
ভগবানুবাচ । তারা যাতে বুঝতে পারে যে এদেরকে যিনি শেখাচ্ছেন, যিনি বোঝাচ্ছেন, তিনি
কে? তিনি সুপ্রীম সোল, জ্ঞানের সাগর, তিনি নিরাকার । তিনি হলেনই ট্রুথ। তিনি তো
সত্যই বলবেন, ওঁনার বিষয়ে তো কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। তিনি হলেন পতিত পাবন। তিনি
যখন এখানে আসেন তাহলে নিশ্চয়ই তিনি তাঁর টাইম অনুযায়ীই আসবেন। তোমরা দেখছোও যে এ হলো
সেই মহাভারতের যুদ্ধ। বিনাশের পরে ভাইসলেস দুনিয়া হবে। এটা মানুষ জানে না যে, ভারতই
ভাইসলেস ছিল। বুদ্ধি চলে না। গোদরেজের তালা লেগে রয়েছে। তার চাবী একমাত্র বাবার
কাছেই আছে। সেইজন্য এটা কারও জানা নেই যে, তোমাদেরকে কে পড়াচ্ছেন। দাদা বুঝে যান,
তাই তো তিনি ব্যাখ্যা করে দেন (টিকা করেন)। কেউ কিছু বললে সবার আগে তাদেরকে এটা
বোঝাও - এতে লেখা আছে শিব ভগবানুবাচ। সেটা তো হলই ট্রুথ। বাবা হলেনই নলেজফুল।
সৃষ্টির আদি - মধ্য - অন্তের রহস্য বোঝান। এই শিক্ষা এখন তোমাদের সেই বেহদের বাবার
কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়। তিনিই হলেন সৃষ্টির রচয়িতা, পতিত সৃষ্টিকে পবিত্র বানান
তিনিই। তাই সবার আগে বাবার পরিচয় দিতে হবে। সেই পরমপিতা পরমাত্মার সাথে আপনার
সম্পর্ক কী? তিনি নর থেকে নারায়ণ হওয়ার সত্যিকারের নলেজ দেন। বাচ্চারা জানে বাবা
হলেন সত্য, তিনিই সত্য খন্ড বানান। তোমরা এখানে এসেছোই নর থেকে নারায়ণ হতে।
ব্যারিস্টারের কাছে গেলে মনে করে আমরা ব্যারিস্টার হতে এসেছি। এখন তোমাদের নিশ্চয়
হয়েছে যে, আমাদেরকে ভগবান পড়ান। অনেকেই নিশ্চয় করেও সংশয় বুদ্ধি হয়ে যায়। তখন
সবাই তাদেরকে বলে তুমি তো বলতে - আমাদেরকে ভগবান পড়ান। তাহলে ভগবানকে কেন ছেড়ে এলে?
সংশয় আসার ফলেই ভাগন্তি হয়ে যায়। কোনো না কোনো বিকর্ম করে ফেলে। ভগবানুবাচ - কাম
হল মহা শত্রু। তার উপরে জয় লাভ করেই জগৎজিত হবে। যে পবিত্র হবে সে'ই পবিত্র
দুনিয়াতে যাবে । এখানে হলই রাজযোগের বিষয়, তোমরা গিয়ে রাজত্ব করবে। বাকি যে আত্মারা
রয়েছে তারা তাদের হিসাব-পত্র মিটিয়ে দিয়ে ফিরে যাবে। এটা হল কয়ামতের সময়। এখন
এই বুদ্ধি বলে - সত্যযুগের স্থাপনা অবশ্যই হবে।পবিত্র দুনিয়া সত্যযুগকে বলা হয়।
বাকি সবাই মুক্তিধামে চলে যাবে। তাদেরকে আবার নিজেদের পার্ট রিপিট করতে হবে। তোমরাও
নিজেদের পুরুষার্থ করতে থাকে। পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হওয়ার জন্য । মালিক
তো নিজেকে মনে করবে তাই না? প্রজারও হল মালিক । এখন প্রজারও বলে থাকে না যে -
আমাদের ভারত ? তোমার এখন বুঝতে পারো যে, এখন সবাই হল নরকবাসী। এখন আমরা স্বর্গবাসী
হওয়ার জন্য রাজযোগ শিখছি। সবাই তো স্বর্গবাসী হবে না। বাবা বলেন যখন ভক্তি মার্গ
সম্পূর্ণ হবে তখন আমি আসবো। আমাকেই এসে সব ভক্তদেরকে ভক্তির ফল দিতে হবে। মেজরিটি
তো ভক্তদের, তাই না ! সবাই আহ্বান করে হে গড ফাদার ! ভক্তদের মুখ থেকে ও গড ফাদার,
হে ভগবান - এটা অবশ্যই নির্গত হবে। ভক্তি আর জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য আছে। তোমাদের
মুখ থেকে কখনোই হে ঈশ্বর, হে ভগবান নির্গত হবে না। মানুষের তো অর্ধ কল্পের
প্র্যাক্টিস হয়ে রয়েছে । তোমরা জানো যে, তিনি হলেন আত্মাদের বাবা হে বাবা !
তোমাদের বলতে হবে নাকি কখনো ! বাবার কাছ থেকে তো তোমাদের উত্তরাধিকার নিতে হবে। আগে
তো এই নিশ্চয় হোক যে, বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিচ্ছি। বাবা বাচ্চাদেরকে
উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য অধিকারী বানান। ইনি তো সত্যিকারের পিতা, তাই না ! বাবা
জানেন যে, আমি যে বাচ্চাদেরকে জ্ঞান অমৃত পান করিয়েছি, জ্ঞান চিতার উপরে বসিয়ে
বিশ্বের মালিক দেবতা বানিয়েছিলাম, তারাই কাম চিতার উপরে বসে ভষ্মীভূত হয়ে গেছে।
এখন আমি পুনরায় জ্ঞান চিতাতে বসিয়ে ঘোর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে স্বর্গে নিয়ে যাই।
বাবা বুঝিয়েছেন -
তোমরা আত্মারা সেখানে শান্তিধাম আর সুখধামে থাকো। সুখধামকে বলা হয় ভাইসলেস
ওয়ার্ল্ড, সম্পূর্ণ নির্বিকারী । ওখানে দেবতারা থাকে। আর ওটা হল সুইট হোম,
আত্মাদের ঘর। সব অ্যক্টররা সেই শান্তিধাম থেকে আসে এখানে পার্ট প্লে করতে। আমরা
আত্মারা এখানকার বাসিন্দা নই । লৌকিক অ্যক্টররা হল এখানকার বাসিন্দা। কেবল বাড়ি
থেকে এসে ড্রেস পাল্টে নিয়ে পার্ট প্লে করে। তোমরা তো বুঝতে পারো যে আমাদের গৃহ হল
শান্তিধাম, যেখানে আমরা আবার ফিরে যাই। যখন সব অ্যক্টররা স্টেজে চলে আসে, তখন বাবা
এসে সবাইকে নিয়ে যান। সেইজন্য তাঁকে লিবারেটর, গাইডও বলা হয়। তিনি হলেন দুঃখ
হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। এত এত মানুষ কোথায় যাবে? একবার ভেবে দেখো - পতিত-পাবনকে
আহ্বান করে কীসের জন্য? নিজের মৃত্যুর জন্য। দুঃখের দুনিয়াতে থাকতে চায় না।
সেইজন্য বলে ঘরে নিয়ে চলো। এরা সব মুক্তিকেই মানে। ভারতের প্রাচীন যোগ কতো বিখ্যাত।
বিদেশে যায় প্রাচীন রাজযোগ শেখাতে। খ্রীষ্টানদের মধ্যেও অনেকে আছে যারা
সন্ন্যাসীদেরকে খুব মানে। গেরুয়াধারীদের প্রতিপালন তা হল - হঠযোগের। তোমাদেরকে ঘর
পরিবার ছাড়তে হবে না। না কোনো সাদা বস্ত্র এর বন্ধন আছে। যদিও সাদা ভালো। তোমরা
ভাট্টিতে ছিলে তোমাদের পোশাকও এই রকম হয়ে গেছে। আজকাল মানুষ সাদাটাকে পছন্দ করে।
মানুষ মারা গেলে সাদা কাপড় ওপরে দেয়। তো কাউকে প্রথমেই বাবার পরিচয় দেবে। দু'জন
পিতা তোমাদের, এই কথাটা বুঝতে তাদের সময় লাগে। প্রদর্শনীতে এত কিছু বোঝাতে পারবে
না। সত্যযুগে একজন বাবা, এই সময় তোমাদের হল তিন জন পিতা। কেননা ভগবান আসেন
প্রজাপিতা ব্রহ্মার তনে। তিনিও তো বাবা সকলের। আচ্ছা, এই তিনজন বাবার মধ্যে উচ্চ
বর্সা কার? নিরাকার বাবা উত্তরাধিকার কীভাবে দেন? তিনি দেন ব্রহ্মার দ্বারা।
ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা করেন এবং ব্রহ্মার দ্বারা উত্তরাধিকারনো দেন। এই চিত্রের
দ্বারা তোমরা খুব ভালো ভাবে বোঝাতে পারো। শিববাবা রয়েছেন, তারপরে হলেন প্রজাপিতা
ব্রহ্মা আদি দেব, আদি দেবী। ইনি হলেন গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার। বাবা বলেন আমাকে
অর্থাৎ শিবকে গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার বলা হবে না। আমি হলাম সবার বাবা। ইনি
হলেন প্রজাপিতা ব্রহ্মা । তোমরা হলে ভাই - বোন, নিজেদের মধ্যে ক্রিমিনাল অ্যাসল্ট
করতে পারো না। যদি উভয়ের মধ্যে বিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে, তাহলে হোচট খেয়ে
পড়ে, বাবাকে ভুলে যায়। বাবা বলেন, তুমি আমার সন্তান হয়ে নিজের মুখে কালি দিয়ে
থাকো। অসীম জগতের বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন । তোমাদের এই নেশা চড়ে রয়েছে। তোমরা
জানো যে, গৃহস্থ ব্যবহারেও থাকতে হবে। লৌকিক আত্মীয় পরিজনদের প্রতিও কর্তব্য পালন
করতে হবে। লৌকিক বাবাকে তো তোমরা বাবা'ই বলবে, তাই না ! বুদ্ধিতে থাকে যে, ইনি আমার
লৌকিক পিতা। এই জ্ঞান তৈ রয়েছে । এই জ্ঞান বড়ই বিচিত্র। আজকাল তো আবার নামও নিয়ে
থাকে। কিন্তু কোনো ভিসিটর বা বাইরের লোকের সামনে ভাই বলে ডাকে, তবে লোকে বলবে এর
মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যুক্তির সাথে চলতে হবে। তোমাদের হল গুপ্ত জ্ঞান, গুপ্ত
সম্বন্ধ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্ত্রীরা স্বামীর নাম নেয় না। স্বামী, স্ত্রীর নাম
নিতে পারে। এ বিষয়ে অত্যন্ত যুক্তির সাথে চলতে হবে। লৌকিককের সাথে কর্তব্যের জন্য
সম্বন্ধ রেখে চলতে হবে। বুদ্ধি চলে যাওয়া উচিত উপরে। আমরা বাবার থেকে অবিনাশী
উত্তরাধিকার নিচ্ছি। বাকি কাকাকে কাকা, বাবাকে বাবা তো বলতেই হবে। যারা
ব্রহ্মাকুমার-কুমারী নয়, তারা ভাই - বোন বুঝবে না। যারা বি. কে. হয়েছে, তারাই এই
বিষয়টিকে বুঝবে। বাইরের লোকেরা তো আগেই চমকে যাবে। এতে বোঝার জন্য খুব ভালো বুদ্ধি
চাই। বাবা তো বাচ্চাদেরকে বিশালবুদ্ধির বানাচ্ছেন । তোমরা আগে সসীমের বুদ্ধির ছিলে।
এখন বুদ্ধি চলে যায় অসীমের বাবার কাছে। তিনি হলেন আমাদের অসীমের বাবা। এরা সবাই হল
আমার ভাই-বোন। কিন্তু বাড়িতে শাশুড়িকে শাশুড়িই বলবে, দিদি বা বোন বলবে নাকি !
বাড়িতে যারা থাকে তাদের অত্যন্ত যুক্তির সাথে চলতে হবে। নাহলে লোকে বলবে এরা তো
স্বামীকে ভাই, শাশুড়িকে বোন বলে, এটা কী ! এই জ্ঞানের কথা গুলিকে তোমরাই জানো আর
কেউই জানে না । বলে না - প্রভু তোমার গতি আর মতি তুমিই জানো। এখন তোমরা ওনার সন্তান
হচ্ছো, সুতরাং তোমাদের গতি আর মতিও তোমরা জানো। খুবই সতর্কতার সাথে চলতে হয় । কেউ
যেন কোনো ভাবেই হতাশ হয়ে প'ড়ো না। অতএব প্রদর্শনীতে তোমরা বাচ্চারা সবার আগে
বোঝাতে হবে যে, আমাদেরকে পড়াচ্ছেন স্বয়ং ভগবান । এখন তোমরা বলো ভগবান কে? নিরাকার
শিব নাকি দেহধারী শ্রীকৃষ্ণ। গীতাতে যে ভগবানুবাচ রয়েছে, তা শিব পরমাত্মার
উচ্চারিত মহাবাক্য নাকি শ্রীকৃষ্ণের ? কৃষ্ণ তো হলেন স্বর্গের প্রথম প্রিন্স। এমন
বলতে পারবে না যে, কৃষ্ণ জয়ন্তীই শিব জয়ন্তী। শিব জয়ন্তীর পরে গীতা জয়ন্তী,
তারপর সাথে সাথে কৃষ্ণ জয়ন্তী, কারণ বাবা রাজযোগ শেখান। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এসেছে
না ! যতক্ষণ পর্যন্ত না পরমাত্মা আসছেন ততক্ষণ পর্যন্ত শিব জয়ন্তী উদযাপন করতে
পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত শিব এসে কৃষ্ণপুরী স্থাপন করছেন তাহলে কৃষ্ণ জয়ন্তী কীকরে
পালন করা যাবে? কৃষ্ণের জন্ম তো পালন করে, কিন্তু কিছুই বোঝে না। কৃষ্ণ প্রিন্স
ছিলেন, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা সত্যযুগই হবে, তাই না ! দেবী-দেবতাদের রাজধানী অবশ্যই হবে।
শুধুমাত্র এক কৃষ্ণই তো বাদশাহী পাবে না? বলেও থাকে কৃষ্ণপুরী...আর তারপর এটা হল
কংস পুরী । কৃষ্ণপুরী হল নতুন দুনিয়া, কংস পুরী হল পুরানো দুনিয়া....। বলা হয়
দেবতা আর অসুরদের যুদ্ধ হয়েছিল। দেবতারা জিতেছিল। কিন্তু এমন নয়। কংস পুরী শেষ হয়ে
কৃষ্ণপুরী স্থাপন হয়েছিল। কংস পুরী পুরানো দুনিয়াতে হবে। নতুন দুনিয়াতে কি কখনো
কংস দৈত্য ইত্যাদি হবে নাকি ! এখানে তো দেখো কতো কতো মানুষ। সত্যযুগে খুব অল্প থাকে।
এও তোমরা এখন বুঝতে পারো। এখন তোমাদের বুদ্ধি চলে। দেবতারা তো কোনো যুদ্ধ করেনি,
দৈবী সম্প্রদায় সত্যযুগেই হয়ে থাকে। আসুরিক সম্প্রদায় হলো এখানে। বাকি না দেবতা
আর অসুরদের যুদ্ধ হয়েছিল, না কৌরব আর পান্ডবদের হয়েছিল। তোমরা রাবণের ওপরে বিজয়
প্রাপ্ত করে থাকো। বাবা বলেন, এই বিকার গুলির ওপরে বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে, তবেই
জগৎজিত হয়ে যাবে । রাবণের ওপরে বিজয় লাভ করতে হবে, কিন্তু নন-ভায়োলেন্স উপায়ে।
কেবল বাবাকে স্মরণ করলে আমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়। ভারতের প্রাচীন রাজযোগ বিখ্যাত।
বাবা বলেন - আমার সাথে
বুদ্ধির যোগ লাগাও, তাহলে তোমাদের পাপ ভস্ম হবে । বাবা হলেন পতিত-পাবন, তাহলে তোমরা
পতিত থেকে পবিত্র হয়ে যাবে । এখন তোমরা প্র্যাক্টিক্যালে তাঁর সাথে যোগ যুক্ত হচ্ছো,
এতে যুদ্ধের কোনো ব্যাপারই নেই। যারা খুব ভালো ভাবে পড়াশোনা করবে, বাবার সাথে যোগ
যুক্ত থাকবে, তারাই বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাবে - পূর্ব কল্পের মতোই ।
এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশও হবে। সবাই তাদের হিসাব-পত্র মিটিয়েই যাবে । তারপর ক্লাস
ট্রান্সফার হয়ে নম্বর অনুযায়ী বসবে, তাই না? তোমরাও নম্বরানুসারে সেখানে রাজত্ব
করবে। আচ্ছা !
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা - বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই
কয়ামতের সময় যখন কিনা সত্যযুগের স্থাপনা হচ্ছে, তাহলে পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। বাবা
এবং বাবার কার্যে কখনোই সংশয় আনবে না।
২ ) জ্ঞান এবং
সম্বন্ধ হলো গুপ্ত, সেইজন্য লৌকিকে খুবই যুক্তির সাথে বিশালবুদ্ধি হয়ে চলতে হবে।
এমন কোনো কথা বলবে না, যাতে যে শুনছে সে বিরূপ হয়ে যায়।
বরদান:-
নলেজের
লাইট - মাইটের দ্বারা দুর্বল সংস্কারকে সমাপ্ত করে শক্তি সম্পন্ন ভব
নলেজের দ্বারা নিজের
দুর্বল সংস্কারকে তো জানতে পারা যায়, আর যখন সেই দুর্বল সংস্কারকে বুঝতে পারো, তখন
কিছু সময়ের জন্য সেই সংস্কার অন্তরে চাপা পড়ে যায়, কিন্তু এই দুর্বল সংস্কার
সমাপ্ত করার জন্য লাইট আর মাইটের এক্সট্রা ফোর্সের আবশ্যকতা । এরজন্য মাস্টার
সর্বশক্তিমান, মাস্টার নলেজফুলের সঙ্গে সঙ্গে চেকিং মাস্টার হও । নলেজের দ্বারা
নিজেকে শক্তিতে ভরপুর করো, মনন শক্তিকে বৃদ্ধি করো তাহলেই শক্তি সম্পন্ন হয়ে যাবে
।
স্লোগান:-
যেখানে
সর্ব প্রাপ্তি থাকে, সেখানে প্রসন্নতা থাকে ।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন
নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো
দানের পরে যদি এমন
সঙ্কল্প আসে যে, আমি দিয়েছি, এতে আমার কিছু মানসম্মান বা প্রশংসা পাওয়া উচিত,
তাহলে এটাও নেওয়ার ভাবনাই হলো । দাতার সন্তান যদি এমন নেওয়ার সঙ্কল্পও করে তাহলে
দাতা হবে না । এটাও নেওয়াই, যা দাতার শোভা পায় না ।
কয়ামত = ইসলামী মতে
আল্লাহ প্রলয়ের সময় সবাইকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করে বিচার করেন।