25.02.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা ব্রাহ্মণরা-ই দেবতা হও, তোমরাই ভারতকে স্বর্গে পরিণত করো, তাই তোমাদের নিজের
ব্রাহ্মণ জাতির নেশা থাকা উচিত”
প্রশ্নঃ -
প্রকৃত
ব্রাহ্মণদের মুখ্য লক্ষণ কি?
উত্তরঃ
১. প্রকৃত
ব্রাহ্মণদের এই পুরানো দুনিয়া থেকে নোঙর উঠে গিয়ে থাকবে। তাদের এই দুনিয়ার প্রতি
আসক্তি থাকবে না। ২. সে-ই প্রকৃত সত্য ব্রাহ্মণ, যার হাত কাজে ব্যস্ত থাকবে আর
বুদ্ধি সদা বাবার স্মরণে থাকবে অর্থাৎ কর্ম যোগী হবে। ৩. ব্রাহ্মণ অর্থাৎ পদ্ম
ফুলের মতন। ৪. ব্রাহ্মণ অর্থাৎ সদা আত্ম-অভিমানী থাকার পুরুষার্থ করবে। ৫. ব্রাহ্মণ
অর্থাৎ কামবিকার রূপী মহাশত্রুর উপরে বিজয় প্রাপ্ত করবে।
ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা
আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে বোঝান। কোন্ বাচ্চাদের? এই ব্রাহ্মণদের। এই কথা কখনও ভুলে
যেও না আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, দেবতায় পরিণত হবো। বর্ণের কথাও স্মরণ করতে হয়। এখানে
তোমরা নিজেদের মধ্যে সবাই হলে ব্রাহ্মণ। অসীম জগতের পিতা ব্রাহ্মণদের পড়াচ্ছেন।
ব্রহ্মা পড়ান না। শিববাবা পড়ান ব্রহ্মার দ্বারা। ব্রাহ্মণদের-ই পড়ান। শূদ্র থেকে
ব্রাহ্মণ না হলে দেবী-দেবতা হতে পারবে না। অবিনাশী উত্তরাধিকার শিববাবার কাছে
প্রাপ্ত হয়। শিববাবা হলেন সকলের পিতা। এই ব্রহ্মাকে গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার বলা
হয়। লৌকিক পিতা তো সবারই হয়। পারলৌকিক পিতাকে ভক্তি মার্গে স্মরণ করে। এখন তোমরা
বাচ্চারা বুঝেছো ইনি হলেন অলৌকিক পিতা (ব্রহ্মা বাবা) যাকে কেউ জানে না। যদিও
ব্রহ্মা মন্দির আছে, এখানেও প্রজাপিতা আদি দেবের মন্দির আছে। তাকে কেউ মহাবীর বলে,
কেউ দিলওয়ালাও বলে। কিন্তু বাস্তবে হৃদয় নেন শিববাবা, প্রজাপিতা আদি দেব ব্রহ্মা নয়
। সব আত্মাদের সদা সুখী করেন, সদা খুশী প্রদান করেন একমাত্র শিববাবা। এই কথাও
শুধুমাত্র তোমরাই জানো। দুনিয়ায় মানুষ কিছুই জানে না। তুচ্ছ বুদ্ধি সবার। আমরা
ব্রাহ্মণরা শিববাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। তোমরাও এই কথা ক্ষণে
ক্ষণে ভুলে যাও। স্মরণ হলো খুব সহজ। যোগ শব্দটি সন্ন্যাসীরা দিয়েছে। তোমরা তো বাবাকে
স্মরণ কর। যোগ হলো সাধারণ শব্দ। এই স্থানকে যোগ আশ্রমও বলবে না, এখানে সন্তান ও পিতা
বসে আছেন। বাচ্চাদের কর্তব্য হল - অসীম জগতের পিতাকে স্মরণ করা। আমরা হলাম ব্রাহ্মণ,
ঠাকুরদাদার সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি ব্রহ্মার দ্বারা, তাই শিববাবা বলেন -
যতখানি সম্ভব স্মরণ করতে থাকো। চিত্রও সঙ্গে রাখো, তাহলে স্মরণে থাকবে। আমরা
ব্রাহ্মণ, বাবার কাছে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। ব্রাহ্মণ কখনও নিজের জাতি ভুলে যায়
কি? তোমরা শূদ্রদের সঙ্গে গিয়ে ব্রাহ্মণত্ব ভুলে যাও। ব্রাহ্মণ তো দেবতাদের চেয়েও
উঁচুতে, কারণ তোমরা ব্রাহ্মণরা হলে নলেজফুল। ভগবানকে জানিজাননহার (সর্ব জ্ঞানী) বলা
হয়, তাইনা। এই কথার অর্থও কেউ জানে না। এমন নয় সবার মনে কি আছে উনি বসে দেখেন। না,
সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ তাঁর আছে। তিনি হলেন বীজরূপ। বৃক্ষের আদি-মধ্য-অন্তকে
জানেন। অতএব এমন পিতাকে স্মরণ করতে হবে। ব্রহ্মাবাবার আত্মাও শিববাবাকে স্মরণ করে।
শিববাবা বলেন, এই ব্রহ্মাও আমাকে স্মরণ করলে এই পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করবে। তোমরাও
স্মরণ করবে তখন পদ প্রাপ্ত করবে। সর্ব প্রথমে তোমরা অশরীরী এসেছিলে আবার অশরীরী হয়ে
ফিরে যেতে হবে। অন্য সবাই তোমাকে দুঃখ দেবে, তাদেরকে স্মরণ করবে কেন। যখন তোমরা
আমাকে পেয়েছো, আমি তোমাদের নতুন দুনিয়ায় নিয়ে যেতে এসেছি। সেখানে কোনও দুঃখ নেই।
সেখানে হল দৈবী সম্বন্ধ। এখানে সবার আগে দুঃখ হয় স্ত্রী-পুরুষের সম্বন্ধে, কারণ
বিকারগ্রস্ত হয়। তোমাদের আমি নতুন দুনিয়ার উপযুক্ত করি, যেখানে বিকারের কথা থাকে
না। এই কাম বিকার হল মহাশত্রু, গায়ন আছে যে আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয়। ক্রোধের জন্য
এমন বলা হবে না আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয়, না। কাম বিকারকে জয় করতে হবে। এই বিকারই
আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয়। পতিতে পরিণত করে। পতিত শব্দটি বিকারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার
হয়। এই শত্রুকে জয় করতে হবে। তোমরা জানো আমরা স্বর্গের দেবী-দেবতায় পরিণত হই।
যতক্ষণ এই নিশ্চয় নেই ততক্ষণ কিছুই প্রাপ্ত করা সম্ভব হবে না।
বাবা বোঝান
বাচ্চাদেরকে মন-বচন-কর্মে অ্যাকুরেট হতে হবে। পরিশ্রম আছে। দুনিয়ায় এই কথা কেউ
জানেনা যে তোমরা ভারতকে স্বর্গ বানাও। ভবিষ্যতে বুঝবে। সবাই চায় এক বিশ্ব, এক রাজ্য,
এক ধর্ম, এক ভাষা হোক। তোমরা বোঝাতে পারো - সত্য যুগে আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে
এক রাজ্য, এক ধর্ম ছিল যাকে স্বর্গ বলা হয়। রাম রাজ্য এবং রাবণ রাজ্যকে কেউ জানেনা।
১০০ শতাংশ তুচ্ছ বুদ্ধি থেকে এখন তোমরা স্বচ্ছ বুদ্ধিতে পরিণত হচ্ছো নম্বর অনুযায়ী
পুরুষার্থ অনুসারে। বাবা বসে তোমাদের পড়ান। শুধু বাবার মতানুযায়ী চলো। বাবা বলেন
পুরানো দুনিয়ায় থেকে পদ্ম ফুলের মতন পবিত্র থাকো। আমাকে স্মরণ করতে থাকো। বাবা
আত্মাদের বোঝাচ্ছেন। আমি আত্মাদেরকে পড়াতে আসি এই কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা। তোমরা
আত্মারাও কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা শুনছো। বাচ্চাদেরকে আত্ম-অভিমানী হতে হবে। এ হল
পুরানো ছিঃ ছিঃ শরীর। তোমরা ব্রাহ্মণরা পূজনীয় নও। তোমরা হলে গায়ন যোগ্য, পূজনীয়
হলেন দেবতারা। তোমরা শ্রীমৎ অনুযায়ী বিশ্বকে পবিত্র স্বর্গে পরিণত কর, তাই তোমাদের
গায়ন হয়। তোমাদের পূজা হতে পারেনা। মহিমা গায়ন শুধু তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের হয়,
দেবতাদের নয়। বাবা তোমাদের শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণে পরিণত করেন। জগৎ অম্বা বা ব্রহ্মা
ইত্যাদির মন্দির নির্মাণ করে কিন্তু মানুষ জানেনা যে এদের পরিচয় কি। জগৎ পিতা তো
হলেন ব্রহ্মা, তাইনা। ব্রহ্মাকে দেবতা বলা হবে না। দেবতাদের আত্মা ও শরীর দুইই হলো
পবিত্র। এখন তোমাদের আত্মা পবিত্র হচ্ছে। পবিত্র শরীর নয়। এখন তোমরা ঈশ্বরীয়
মতানুসারে ভারতকে স্বর্গে পরিণত করছো। তোমরাও স্বর্গের উপযুক্ত হচ্ছো। সতোপ্রধান
অবশ্যই হতে হবে। শুধুমাত্র তোমাদেরকে, ব্রাহ্মণদেরকেই বাবা বসে পড়ান। ব্রাহ্মণদের
বৃক্ষ বৃদ্ধি প্রাপ্ত করে। ব্রাহ্মণ যারা সুপরিপক্ক হয়ে যাবে, তারা গিয়ে দেবতা হবে।
এটা হলো নতুন বৃক্ষ। মায়ার অনেক ঝড় আসে। সত্যযুগে কোনও ঝড় ইত্যাদি হয় না। এখানে মায়া
বাবার স্মরণে থাকতে দেয় না। আমরা চাই বাবার স্মরণে থাকি। তমো থেকে সতোপ্রধান হই।
সমস্ত কিছু নির্ভর করছে স্মরণের উপরে। ভারতের প্রাচীন যোগ বিখ্যাত। বিদেশীরাও চায়
কেউ এসে তাদেরকে প্রাচীন যোগের শিক্ষা প্রদান করুক। এবারে যোগও হল দুই প্রকারের -
এক হলো হঠযোগী, দ্বিতীয় হল রাজযোগী। তোমরা হলে রাজযোগী। এ হলো ভারতের প্রাচীন
রাজযোগ যা বাবা স্বয়ং শেখান। শুধু গীতায় আমার নাম না দিয়ে কৃষ্ণের নাম লিখে দিয়েছে।
তাতেই অনেক তফাৎ হয়ে গেছে। শিবজয়ন্তী হয় তখন তোমাদের বৈকুণ্ঠের জয়ন্তীও হয়, যেখানে
শ্রীকৃষ্ণের রাজ্য থাকে। তোমরা জানো শিববাবার জয়ন্তী পালন হয় তো গীতা জয়ন্তীও পালন
হয়। বৈকুণ্ঠের জয়ন্তীও হয় যেখানে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। কল্প পূর্বের মতন স্থাপনা
করা হয়। এখন বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো। স্মরণ না করলে মায়া কিছু বিকর্ম করিয়ে দেয়।
স্মরণ না করলে চড় লেগে যায়। স্মরণে থাকলে চড় লাগবে না। এই হলো বক্সিং। তোমরা জানো -
আমাদের শত্রু কোনও মানুষ নয়। রাবণ হল শত্রু।
বাবা বলেন, এইসময়
বিবাহ হল অনর্থ। একে অপরের অনর্থ করে। (পতিত বানিয়ে দেয়) এখন পারলৌকিক পিতা আদেশ
জারি করেন, বাচ্চারা এই কামবিকার হল মহাশত্রু। এই শত্রুকে জয় করো এবং পবিত্রতার
প্রতিজ্ঞা করো। কেউ যেন পতিত না হয়। জন্ম-জন্মান্তর তোমরা পতিত হয়েছো এই বিকারের
দ্বারা, তাই কাম মহাশত্রু বলা হয়। সাধু-সন্ন্যাসী সবাই বলে পতিত-পাবন এসো। সত্যযুগে
কেউ পতিত হয় না। বাবা এসে জ্ঞান দ্বারা সকলের সদ্গতি করেন। এখন সবাই আছে দুর্গতিতে।
জ্ঞান দান করে এমন কেউ নেই। জ্ঞান দান করেন একমাত্র জ্ঞানের সাগর। জ্ঞানের দ্বারা
দিন হয়। দিন হল রামের, রাত হলো রাবণের। এই শব্দ গুলির যথার্থ অর্থও তোমরা বাচ্চারা
বুঝেছো। শুধুমাত্র পুরুষার্থে দুর্বলতা আছে। বাবা তো খুব ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেন।
তোমরা ৮৪ জন্ম পূর্ণ করেছো, এখন পবিত্র হয়ে ফিরে যেতে হবে। তোমাদের তো শুদ্ধ অহংকার
থাকা উচিত। আমরা আত্মারা বাবার মতানুসারে এই ভারতকে স্বর্গে পরিণত করি, যে স্বর্গ
রাজ্যে রাজত্ব করবো। যত পরিশ্রম করবো তত পদ মর্যাদা প্রাপ্ত হবে। রাজা-রানী হও বা
প্রজা হও। রাজা-রানী কীভাবে হবে, তা তো দেখছো। ফলো ফাদার গায়ন আছে, এখনকারই কথা।
লৌকিক সম্বন্ধের উদ্দেশ্যে বলা হয় না। বাবা এই মত প্রদান করেন - "মামেকম্ স্মরণ করো
তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে" । তোমরা বুঝেছো আমরা শ্রীমৎ অনুযায়ী চলি। অনেকের সেবা করি।
বাচ্চারা বাবার কাছে আসে তখন শিববাবা জ্ঞানের দ্বারা খুশী করেন। ইনিও তো শেখেন,
তাইনা। শিববাবা বলেন আমি আসি সকালে। আচ্ছা, যদি কেউ আসে তাহলে কি ইনি (ব্রহ্মাবাবা)
বোঝাবেন না। তখন এমন বলবেন নাকি বাবা এসে বোঝাও, আমি বোঝাবো না। এই কথাটি হল খুবই
গুপ্ত এবং গুহ্য, তাইনা। আমি তো খুব ভালো বোঝাতে পারি। তোমরা এমন কেন ভাবো যে
শিববাবাই বোঝান, ব্রহ্মা বাবা বোঝান না। যদিও এই কথা জানো যে কল্প পূর্বে সর্ব
প্রথমে ইনি বুঝিয়ে ছিলেন, তবে তো এই পদ মর্যাদা প্রাপ্ত হয়েছে। মাম্মাও বোঝাতেন,
তাইনা। তিনিও উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করেন। মাম্মা-বাবাকে সূক্ষ্মবতনে দেখে
বাচ্চাদের ফলো ফাদার করতে হবে। স্যারেন্ডার তো গরিবরা হয়, ধনীরা হতে পারে না। গরিবরা
বলে বাবা এইসব আপনার। শিববাবা তো হলেন দাতা। উনি কখনো নেন না। বাচ্চাদের বলেন - এই
সব কিছু হল তোমাদের। আমি নিজের জন্য মহল এখানে এবং ওখানে কোথাও তৈরি করি না।
তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক করি। এখন এই জ্ঞান রত্ন দিয়ে ঝুলি ভরতে হবে। মন্দিরে গিয়ে
বলে আমার ঝুলি ভরো। কিন্তু কীভাবে, কি দিয়ে ঝুলি ভরে দাও... ঝুলি তো মা লক্ষ্মী ভরে
দেন, উনি অর্থ ধন প্রদান করেন। শিবের কাছে তো যায় না, শঙ্করের কাছে গিয়ে বলে। মানুষ
ভাবে শিব ও শঙ্কর হলেন এক কিন্তু এমন নয়।
বাবা এসে সত্য কথা বলে
দেন। একমাত্র বাবা হলেন দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। বাচ্চারা, তোমাদের গৃহস্থ
ব্যবহারে থাকতে হবে। কাজকর্মও করতে হবে। প্রত্যেকে নিজের জন্য জিজ্ঞাসা করে - বাবা
আমাদের অমুক কথায় মিথ্যা বলতে হয়। বাবা প্রত্যেকের নাড়ি দেখে পরামর্শ দেন, কারণ বাবা
বোঝেন আমি করতে বলবো আর করতে পারবে না এমন পরামর্শ দেব কেন। নাড়ি দেখে এমন পরামর্শ
দেওয়া হয় যাতে সে করতে পারে। করতে বলবো আর করতে না পারলে অবজ্ঞাকারীদের শ্রেণীতে এসে
যাবে। প্রত্যেকের নিজস্ব কর্মের হিসেব-নিকেশ আছে। সার্জেন তো কেবল একমাত্র বাবা,
তাঁর কাছেই আসতে হবে। তিনিই পুরোপুরি বলে দেবেন। সবারই জিজ্ঞাসা করা উচিত - বাবা এই
পরিস্থিতিতে আমাদের কীভাবে চলা উচিত? এখন কি করবো? বাবা স্বর্গে তো নিয়েই যাবেন।
তোমরা তো জানো আমরা স্বর্গবাসী তো হবো। এখন আমরা হলাম সঙ্গমবাসী। তোমরা এখন না নরকে
আছো, না স্বর্গে আছো। যারা ব্রাহ্মণ হয়েছে তাদের নোঙর এই দুনিয়া থেকে উঠে গেছে।
তোমরা কলিযুগী দুনিয়াকে ত্যাগ করেছো। কোনও ব্রাহ্মণ স্মরণের যাত্রায় তীব্র বেগে
এগিয়ে যাচ্ছে, আর কেউ কম। কেউ বাবার সঙ্গ ত্যাগ করে আবার কলিযুগে ফিরে যায়। তোমরা
জানো নাবিক এখন আমাদের তীরে নিয়ে যাচ্ছেন। জগতের যাত্রা তো অনেক রকমের হয়। তোমাদের
এই হলো একমাত্র যাত্রা। এই যাত্রা টি একেবারেই পৃথক। যদিও ঝড় উঠলে স্মরণের যাত্রা
ভঙ্গ হয়ে যায়। এই স্মরণের যাত্রাটি ভালো ভাবে পাকা করো। পরিশ্রম করো। তোমরা হলে
কর্ম যোগী। যত খানি সম্ভব হাতে কাজ করো, মনে স্মরণ করো... অর্ধকল্প তোমরা প্রিয়তমকে
স্মরণ করেছো। বাবা এখানে অনেক দুঃখ, এখন আমাদেরকে সুখধামের মালিক করো। স্মরণের
যাত্রায় থাকলে তোমাদের পাপ বিনষ্ট হবে। তোমরাই স্বর্গের অধিকার পেয়েছিলে, এখন
হারিয়েছ। ভারত স্বর্গ ছিল তখন বলা হত প্রাচীন ভারত। ভারতের সম্মান করা হতো। সবচেয়ে
বিশাল, সবচেয়ে পুরাতন। এখন তো ভারত অনেক গরিব হয়েছে তাই সবাই ভারতকে সাহায্য করে।
তারা ভাবে, আমাদের কাছে অনেক আনাজ হয়ে যাবে। কোনো জায়গা থেকে আনাতে হবে না, কিন্তু
এই কথা তো তোমরা জানো - বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে যারা ভালো ভাবে বোঝে তাদের খুশীর
অনুভব হয়। প্রদর্শনীতে অনেকে আসে। তারা বলে তোমরা সত্য কথা বলছো কিন্তু এই কথা বুঝলে
তো যে বাবার কাছে আমাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে, সেই কথা বুদ্ধিতে
ঢোকে না। এখান থেকে বাইরে গেলে সব শেষ হয়ে যায়। তোমরা জানো বাবা আমাদের স্বর্গে নিয়ে
যান। সেখানে গর্ভ জেলও নেই, সাধারণ জেলও নেই। এখন জেল যাত্রা করাও কত সহজ হয়ে গেছে।
সত্য যুগে কখনও জেল ইত্যাদির দর্শন হবে না। দুটি জেল-ই থাকবে না। এখানে এই সবই হল
মায়ার আড়ম্বর। ভালো ভালো বাচ্চাদের শেষ করে দেয়। আজ যার অনেক সম্মান, কালই তার
সম্মান শেষ হয়ে যায়। আজকাল প্রতিটি কথা কুইক হয়। মৃত্যুও কুইক হতে থাকবে। সত্যযুগে
এমন উপদ্রব হয় না। ভবিষ্যতে দেখবে কি হয়। খুব ভয়ংকর এই দৃশ্য। তোমরা বাচ্চারা
সাক্ষাৎকারও করেছো। বাচ্চাদের মুখ্য হলো স্মরণের যাত্রা। আচ্ছা!
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
মন-বচন-কর্মে খুব অ্যাকুরেট হতে হবে। ব্রাহ্মণ হয়ে কোনও শূদ্র কর্ম করবে না।
২ ) বাবার কাছে যে
পরামর্শ প্রাপ্ত হয় সেসব পালন করে আজ্ঞাকারী হতে হবে। কর্ম যোগী হয়ে সর্ব কার্য
সম্পন্ন করতে হবে। সর্বজনের বুদ্ধি রূপী ঝুলি জ্ঞান রত্ন দিয়ে ভরে দিতে হবে।
বরদান:-
ডবল
লাইট হয়ে কর্মাতীত অবস্থার অনুভবকারী কর্মযোগী ভব
কর্মে আসা যেমন
স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তেমনই কর্মাতীত হওয়াও স্বাভাবিক হয়ে যাবে, তারজন্য ডবল লাইট হও।
ডবল লাইট হওয়ার জন্য কর্ম করার সময় নিজেকে ট্রাস্টী মনে করো আর আত্মিক স্থিতিতে
থাকার অভ্যাস করো, এই দুটি বিষয়ে অ্যাটেনশান থাকলে সেকেন্ডে কর্মাতীত, সেকেন্ডে
কর্মযোগী হয়ে যাবে। কেবলমাত্র নিমিত্ত হয়ে কর্ম করার জন্য কর্মযোগী হও, তারপর
কর্মাতীত অবস্থার অনুভব করো।
স্লোগান:-
হৃদয়
যাদের বড় তাদের কাছে অসম্ভব কাজও সম্ভব হয়ে যায়।
অব্যক্ত ইশারা :- একতা
আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও
নিজের মধ্যে যে
বৈশিষ্ট্যগুলি রয়েছে সেগুলো সামনে রাখো, দুর্বলতাকে নয়। তাহলেই নিজের প্রতি বিশ্বাস
বজায় থাকবে। দুর্বলতার কথা বেশি ভাববে না, তাহলেই খুশিতে এগিয়ে যেতে পারবে।
প্র্যাক্টিক্যালে অনেক দেশ, অনেক ভাষা, রূপ-রঙও অনেক, কিন্তু এই অনেক হওয়া সত্ত্বেও
সকলের হৃদয়ে একতা আছে তাইনা। কারণ সকলের হৃদয়ে এক বাবা আছেন । সবাই একই শ্রীমতে চলে।
অনেক ভাষা থাকা সত্ত্বেও মনের গান এবং মনের ভাষা একটাই।