26-07-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
02-02-2011 মধুবন
‘‘নিজের ভাগ্য আর প্রাপ্তিসমূহ স্মৃতিতে রেখে সদা
প্রফুল্ল আর সন্তুষ্ট থাকো, দৃষ্টি বৃত্তি এবং প্রবৃত্তি দ্বারা সন্তুষ্টতার অনুভব
করাও"
আজ বাপদাদা সব বাচ্চাকে দেখে খুশি হচ্ছেন। প্রত্যেক বাচ্চা পরমাত্ম ভালোবাসা। এখানে
পৌঁছে গেছে। তো আজ বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চার ললাটভাগে ভাগ্যের রেখা দেখছেন। এমন
ভাগ্য আর এত বড় ভাগ্য সমগ্র কল্পে কারও প্রাপ্ত হয় না। কেননা, স্বয়ং ভাগ্যদাতা
তোমাদের ভাগ্য দিয়ে থাকেন। প্রথমে তো প্রত্যেকের ললাটভাগে দ্যুতিমান ভাগ্যের
নক্ষত্র ঝলমল করছে, মুখে মধুর বাণীর রেখা জ্বলজ্বল করছে। ওষ্ঠাধরে মধুর হাসির রেখা
দীপ্তিময়। দিলারাম বাবার হৃদয়ে লাভলীন হওয়ার রেখা প্রোজ্জ্বল। হাতে সর্ব ভাণ্ডারের
শ্রেষ্ঠত্বের রেখা আভামন্ডিত। পায়ে প্রতি কদমে পদমের রেখা ঝলমল করছে। এখন ভাবো এমন
ভাগ্য আর কা'র হয়েছে! সেইজন্য তোমাদের স্মারক চিত্রেরও ভাগ্য বর্ণন হ'তে থাকে। আর
প্রত্যেক বাচ্চার এই ভাগ্য স্বয়ং ভাগ্যবিধাতা বানিয়েছেন।
বাপদাদা সব বাচ্চার ভাগ্য দেখে সব বাচ্চাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন - বাঃ বাচ্চারা
বাঃ! আর এই ভাগ্য এই সঙ্গমেই প্রাপ্ত হয় এবং এই সময়েই কার্যকর। সঙ্গম যুগের সুখ সব
যুগের থেকে শ্রেষ্ঠ। সত্যযুগের ভাগ্যও সঙ্গমের পুরুষার্থের প্রালব্ধ। সেইজন্য
সঙ্গমযুগের প্রাপ্তি সত্যযুগের প্রালব্ধ থেকেও বেশি। নিজের ভাগ্যবোধে নিজের মধ্যে
হারিয়ে যাও। যেকোনো কিছু হতে থাক না কেন কি হচ্ছে সেটা কোনো ব্যাপার নয় কিন্তু
নিজের ভাগ্য যদি স্মৃতিতে আনো তবে তোমাদের থেকে কী বের হয়? বাঃ আমার ভাগ্য! কেননা,
স্বয়ং ভাগ্য দাতা তোমাদের বাবা। তো ভাগ্য দাতার থেকে তোমাদের প্রত্যেকের নিজের
ভাগ্য প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা জানো তো না যে তোমরা কত ভাগ্যবান, নাকি কখনো কখনো জানো?
সদা নেশা থাকে তোমাদের? দুনিয়ার লোকে তো তোমাদের দেখে জিজ্ঞাসা করে তোমরা কী পেয়েছো?
আর তোমরা কী উত্তর দাও? যা পাওয়ার ছিল তা' পেয়ে গেছি। পেয়ে গেছ্ও! হাত তোলো। পেয়ে
গেছ, আচ্ছা। প্রাপ্তি হয়েছে? নির্দ্বিধায় তোমরা বলো অপ্রাপ্ত কোনো বস্তুই নেই।
সাত্ত্বিক অভিমানবোধ হয় তো না? তাছাড়া প্রাপ্তি হয়েছে কীভাবে? শুধু বাবাকে জেনেছ,
স্বীকৃত হয়েছো নিজের বানিয়েছ তো ভাগ্যপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। এই ভাগ্যকে যত স্মৃতিতে আনতে
থাকবে ততো প্রসন্ন হতে থাকবে। ভাগ্যবান আত্মার মুখ সদা প্রসন্ন থাকবে। থাকবে নয়,
থাকে। তাদের দৃষ্টি, তাদের বৃত্তি আর তাদের প্রবৃত্তি সদা সন্তুষ্ট আত্মা হয়ে নিজেও
সন্তুষ্ট থাকবে আর অন্যদেরও সন্তুষ্ট বানাবে। তো তোমাদের সবার সন্তুষ্টতার নেশা থাকে?
কেননা, সন্তুষ্টতার আধার সর্বপ্রাপ্তি। অপ্রাপ্তি অসন্তুষ্টতার আধার। তো তোমরা কেমন
অনুভব করো? অপ্রাপ্ত কোনো বস্তু আছে, নাকি সর্বপ্রাপ্তি হয়েছে? প্রাপ্তির নেশা আছে?
সদা, নাকি কখনো কখনো? সাধারণতঃ তোমরা এটাই ব'লে থাকো পেয়ে গেছি যা পাওয়ার ছিল। তো
যেখানে সর্বপ্রাপ্তি আছে সেখানে অসন্তুষ্টির লেশমাত্র নেই।
তো আজ দেশ বিদেশ কত দেশ থেকে বাচ্চারা সবাই এসে একত্রিত হয়েছে কিন্তু সবচাইতে দূর
থেকে কে আসেন? আমেরিকা থেকে যারা এসেছে তারা দূর থেকে এসেছে? আমেরিকা থেকে আগতরা
দূর থেকে এসেছ তো না! আর বাবা কোথা থেকে এসেছেন? আমেরিকা তো এই দুনিয়াতেই আছে কিন্তু
বাপদাদা কোথা থেকে এসেছেন? পরমধাম থেকে, ব্রহ্মা বাবাও সূক্ষ্ম বতন থেকে এসেছেন। তো
দূর থেকে কে এসেছেন। সবথেকে দূরে কে? এটা বাবা আর বাচ্চাদের ভালোবাসার মনোরম দৃশ্য।
তোমরা বলেছ আমার বাবা আর বাবা বলেছেন আমার বাচ্চারা। কেবল এককে জানার ফলে কত অবিনাশী
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে তোমাদের! দুনিয়ার লোকে সুখের জন্য শান্তির জন্য খুঁজছে -
কোথায় শান্তি পাওয়া যাবে কোথায় সুখ পাওয়া যাবে আর তোমাদের জীবনই হয়ে গেছে সুখ শান্তি
সম্পন্ন। এখন বাপদাদা বলেন জিজ্ঞাসা করেন যে বাপদাদা কী চান? তো বাপদাদা সব বাচ্চার
কাছে এটাই চান যে প্রত্যেক বাচ্চা যেন সদা স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে থাকে। কখনো কখনো নয়
কেননা, এখনের পূর্ণ স্বরাজ্য অধিকারের বরদান বাবা এই সঙ্গমযুগের জন্য দিয়েছেন। অল্প
নয় কখনো কখনোর নয়, সদা। তো ভাবো সদা সময়ের জন্য স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে থাকো? কেননা,
বাপদাদা বলেছেন যে এই সব কর্মেন্দ্রিয়ের, মন-বুদ্ধি-সংস্কারেরও মালিক হতে হবে। এ'
সবের জন্য আমার শব্দ ব'লে থাকো তোমরা, আমি বলো না আমার বলো। তো মন বুদ্ধি সংস্কার
আমার, সুতরাং আমার ওপরে সদা অধিকার থাকে। এভাবে মন বুদ্ধি সংস্কারের ওপরে সম্পূর্ণতঃ
অধিকারী হ'লে তাকে বলা হয় স্বরাজ্যধারী। যা অর্ডার করবে সেই অনুযায়ী এরা কার্য করার
নিমিত্ত। কিন্তু এর জন্য চলতে ফিরতে কার্য করার সময় মালিকভাবের নেশা থাকা উচিত ।
নিশ্চয় আর নেশা।
এখন তো আত্মাদের মন্সা দ্বারা সেবা দেওয়ার সময়। কাতর স্বরে তারা চিৎকার করতে থাকে
হে পূর্বজ আমাদের একটু সুখ শান্তির কিরণ দাও। তো হে পূর্বজ! দুঃখীদের কাতর ধ্বনি
শুনতে পাও তো না! বাপদাদা ইশারা দিয়ে দিয়েছেন যে দুর্যোগ হঠাৎ ক'রেই আসবে, তার জন্য
সেকেন্ডে ফুলস্টপ। সেই প্র্যাকটিস তোমরা করছ কেননা, তখন পুরুষার্থের সময় থাকবে না।
তোমরা হয়তো অভ্যাস করবে ফুলস্টপ লাগানোর কিন্তু হয়ে যায় আশ্চর্যবোধক চিহ্ন। সেইজন্য
পুরুষার্থ করার জন্য এখনের সময় তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে। তখনের সেই সময়
প্র্যাকটিক্যাল করার সময়। তাইতো এখন থেকে তোমরা এই অভ্যাস করছ। বাপদাদা তোমাদের
রেজাল্ট দেখছেন, তোমরা অ্যাটেনশন বজায় রেখে করছ। কিন্তু আরও অ্যাটেনশন দরকার - এটা
আন্ডারলাইন করো। পুরুষার্থ কত সহজ - আমি বিন্দু, লাগাতেও হবে বিন্দু, শুধু
অ্যাটেনশন দিতে হবে।
বাপদাদা বাচ্চাদের বিশেষভাবে গিফ্ট দিচ্ছেন, বাচ্চারা আমি সদা তোমাদের সাথে আছি।
তোমরা বাবা বলার সাথে সাথে বাচ্চাদের জন্য বাবা সদা হাজির। যা বলা হয়ে থাকে হুজুর
হাজির, তিনি সর্বব্যাপী নন। কিন্তু বাচ্চাদের সামনে হুজুর হাজির থাকেন। সদা বিজয়ী
হও। যেখানে ভগবান সাথে আছেন সেখানে বিজয়ী হওয়া কি কঠিন! বিজয় তোমাদের জন্মসিদ্ধ
অধিকার। শুধু আমার বাবা বলেছ তো নিশ্চিতভাবে তোমরা বিজয়ী। সেইজন্য সদা বিজয়ী হও, যে
স্মরণে থাকে তার জন্য অতি সহজ। কঠিন নয়। যেখানে ভগবান আছেন সেখানে বিজয় আছেই। তো আজ
বাপদাদা সব বাচ্চাকে দেখে খুশি হচ্ছেন, কোন সাধনের দ্বারা এত স্নেহের সাথে এসেছে?
ট্রেনে কিংবা প্লেনে সেতো শরীর দ্বারা পৌঁছে গেছো। কিন্তু হৃদয়ের ভালোবাসা তো
তোমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। তোমাদের সাহসে বাবার সহায়তা আছেই। এখন বাপদাদা এটাই চান
যে সব বাচ্চা সব কর্মে যেন নিজের সিটে স্থিত থাকে। আচ্ছা।
আজ প্রথমবার কা'রা এসেছ হাত তোলো। উঠে দাঁড়াও। অনেক আছে। আচ্ছা যেমন প্রথমবার এসেছো
তেমনই প্রথম নম্বরে যেতে হবে তো না! যাবে তোমরা? বাবার বরদান রয়েছে যে সাহস রাখবে
সে বাবার সহায়তাও পাবে, তাছাড়া সাহসের সাথে যত এগোতে চাও ততো এগোনোর চান্স আছে।
কেননা, টু লেট-এর বোর্ড লাগানো হয়নি। স্মরণে থাকো আর যা কিছু প্রাপ্ত হয়েছে তার
দ্বারা অন্যদের সেবা করো। যত সেবা করবে ততই আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে এবং সেই আশীর্বাদ
তোমাদের লাগাতার অগ্রচালিত করবে। বার্তা দিতে থাকো, বাকি তো প্রত্যেকের ভাগ্য!
কিন্তু তোমরা বার্তা দিয়ে দাও। নিজের পুণ্য জমা করতে থাকো। তো পুণ্য তোমাকে নিরন্তর
অগ্রচালিত করবে। আচ্ছা।
বাপদাদা সবদিকে পরিক্রমণ করেন, তাঁর জন্য পরিক্রণ করা কি এমন বড় ব্যাপার! তাছাড়া,
বাপদাদা এটাও ব'লে দিয়েছেন যে চারটের সময় মিলনের বিশেষত্ব এটাই যে বাপদাদা সহজে
বাচ্চাদের বরদান দেন। বরদান দাতার বিশেষ পার্ট অমৃতবেলাতে। যে বরদান চাও বাপদাদা
সেই বরদান তোমাদের দেন। ট্রাই ক'রে দেখো। যতই হোক, তোমরা বরদান নেওয়ার জন্য
অ্যালার্ট থেকো। যদি অ্যালার্ট না থাকো তবে বাপদাদা পরিক্রমণ ক'রে চলে যাবেন আর
তোমরা ভাবতে থাকবে, সেইজন্যই তো অমৃতবেলার গুরুত্ব দাও তোমরা, কিন্তু এখন আরও
অ্যাটেনশন দিতে হবে। বাপদাদা দেখেছেন সময় অনুসারে সেবার বৃদ্ধি হচ্ছে। সেবার কারণে
বরদান নেওয়ার জন্য তোমরা বাবার থেকে দূরে থাকতে পারো না। ডবল ফরেনারদের মেজরিটি
পুরুষার্থ করলেও অ্যাটেনশনকে আন্ডারলাইন করো। মধুবনে তোমরা যেভাবেই হোক পৌঁছে যাও
তার জন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে বিশেষভাবে অভিনন্দিত করছেন। বাপদাদা শুনেছেন যে
সংস্কারের ব্যাপারে বাপদাদা যে ইশারা দিয়েছেন তার ভিত্তিতে বাচ্চারা মনে করে যে
তাদের অবশ্যই করতে হবে এবং করার জন্য রোজ অমৃতবেলায় তোমরা যেমন স্বমান রাখো তার সাথে
সাথে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের সংস্কার থেকে যেকোনো একটা সংস্কারে অ্যাটেনশন দাও। আজকের
দিনে সংস্কারের বিষয়ে বিশেষ অ্যাটেনশন দিতে হবে। পরে আবার রাতে যখন বাপদাদাকে
সারাদিনের নিজের চার্ট দাও সেই সময় যদি ওই সংস্কারের বিশেষ রেজাল্টও বলো তবে
বিশেষভাবে অ্যাটেনশন হয়ে যাবে। কোনো না কোনো সংস্কারের ব্যাপারে অ্যাটেনশন রাখতে হবে।
তো যেমন স্মরণের ব্যাপারে অ্যাটেনশন দাও তার সাথে সাথে সেই সময় এই রেজাল্টও
বাপদাদাকে দাও। মনে করো, তুমি চাও কিন্তু সেইদিন তোমার সামনে সংস্কার সমাপ্ত করার
মতো কোনো কার্য হয়নি তবে নিজেই নিজেকে বাবা কর্তৃক অভিনন্দিত করো। আর প্রতিদিন এভাবে
বাবার অভিনন্দন এই সংস্কারের জন্য বিশেষভাবে নিতে থাকো। তো সংস্কার কার্যে পরিণত হতে
ক্রমশঃ কমজোর হবে। তো যোগের বিষয়ে যেমন চেক ক'রে থাকো তেমনভাবে সংস্কারের জন্য রোজ
রোজ চেক করো না, কখনো কখনো করো। সংস্কার রোজ আসে না, কখনো কখনো আসে। যারা পুরুষার্থী
তাদের বাইচান্স পেপার আসে, রোজ আসে না। কিন্তু চেকিং হবে রোজ। তো এই অ্যাটেনশনও
নিরন্তর সমস্ত টেনশন সমাপ্ত করবে। কেননা, বাপদাদা দেখেছেন, যারা ফরেনার তাদের মধ্যে
থেকে কোনো কোনো বাচ্চা যখন কোনো কার্য শুরু করে তারা অ্যাটেনশন দেয়। যারা অ্যাটেনশন
দেয় তারাই শুধু মুক্তি প্রাপ্ত করতে পারে। বাবারও বরদান রয়েছে। বুঝেছ! যখন তোমরা
সবাই এতে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত হবে, চেকিং করবে তখন সেই সংস্কার নিজেই শিথিল হয়ে
যাবে। বাপদাদা চান সংস্কারের সাবজেক্টে তোমরা নম্বর ওয়ানে যাও যাতে যে কার্যে
সংস্কার ব্যবহার করতে চাও সেই সংস্কার যেন ব্যবহার করতে পারো। এটা হয়ে যাবে। একবার
তোমাদের অ্যাটেনশন এসে গেলে হয়ে যাবে। অ্যাটেনশন দিতে হবে, এটা এমনিই হয়ে যাবে না।
তোমাদের অ্যাটেনশন দিতে হবে। সংগঠনেই এই সংস্কার বের হয় কেন? যারা তোমাদের চিত্র
পূজা করে তারা তোমাদের সংস্কার কত চমৎকার গেয়ে থাকে। তোমরা বাস্তবে এরকম হয়েছ তবেই
তো বর্ণন করে। নিজেদের দৈবী চিত্র ইমার্জ করো, তারা কী গায়? তোমাদের এরকম দেবতা
হতেই হবে তো না! আচ্ছা।
তোমরা ডবল ফরেনার্স তোমাদের পুরুষার্থে নিরন্তর সফলতার অনুভব করো তাই না! করো তোমরা?
যারা সফলতা অনুভব করো তারা হাত তোলো। বাঃ! তোমরা তো খুব ভালো হাত তুলছো। তো লক্ষ্য
রাখবে যে তোমরা অবশ্যই এই দিকে অ্যাটেনশন দেবে। এক্ষেত্রেও নম্বর নিতেই হবে। তাহলে
তোমাদের দেখে অন্যদেরও উৎসাহ আসবে। কেননা, তোমরা নিমিত্ত তো না! যারা নিমিত্ত হয়
তাদের বাপদাদার বিশেষ সহায়তাও প্রাপ্ত হয়। বাবা খুশি যে, সেন্টার্স বৃদ্ধিপ্রাপ্ত
হতে থাকে। পুরুষার্থের দিকে তোমাদের অ্যাটেনশন থাকে কিন্তু এখন পরিবর্তনের ব্যাপারে
তোমরা নিমিত্ত হও। তাহলে তোমাদের দেখে অন্যরাও পরিবর্তন শক্তির উৎসাহী হবে।
বাপদাদা খুশি যে পুরুষার্থে নম্বরক্রম তো হয়ই সেটা তো আন্ডারস্টুড কিন্তু
পুরুষার্থের প্রতি অ্যাটেনশন আরও বাড়াতে হবে। আর তো বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন
রোজ তোমাদের প্রাপ্ত হতে থাকে। দেখ ঘরে বসেও বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ একদিনও মিস হবে
না যদি তোমরা বিধিপূর্বক রোজ মুরলি পড়ো তবেই। একদিনও তোমরা স্মরণ-স্নেহ মিস করো না,
পাও তো না! পাও তোমরা? স্মরণের স্নেহ-সুমন রোজ প্রাপ্ত হয়। সবার প্রাপ্ত হয় তাইনা?
এ' হলো বাপদাদার ভালোবাসার লক্ষণ। মুরলী মিস তো স্মরণের স্নেহ-সুমনও মিস। শুধু মুরলী
মিস করবে না বরং বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ, বরদান সব মিস করবে। মুরলি তো তবু পড়ে নেবে
কিন্তু যে সময় ফিক্সড আছে বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ নেওয়ার সেটা তো মিস হয়ে গেলনা! তো
এই ব্যাপারে তোমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে, বাপদাদাও খুশি। আচ্ছা মুরলি মিস করে এমন
কেউ আছে? ডবল ফরেনার্সের মধ্যে আছে কেউ যে মুরলি মিস করে? কারণে? কেউ নেই। কেউ মিস
করে না। একজন উঠিয়েছে। এখন মিস ক'রো না। মুরলি মিস করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ফোন দ্বারা
শোনো। যদি পড়তে না পারো তো যেভাবে হোক অবশ্যই শোনো। অবশ্যই উপস্থিত থাকো। আচ্ছা। আর
তো সভাতে যারাই এসেছে নতুনও আছে পুরানোও আছে তো এটা পাক্কা পাক্কা পাক্কা নোট করো
মুরলি মিস করা যাবে না। কেননা, বাবা রোজ পরমধাম থেকে আসেন, কত দূর থেকে আসেন
বাচ্চাদের জন্য, আসেন তো না! বাবা যেমন মুরলী মিস করেন না তেমন বাচ্চাদেরও মুরলী
মিস করা উচিত নয়। আচ্ছা।
এখন যারা মধুবনে আসে, তাদের যেভাবে ফর্ম পূরণ করতে বলা হয় সেখানে এটাও লেখো যে মুরলি
রোজ শুনেছে কিনা কিংবা কতদিন মিস করেছে। মঞ্জুর? যাদের মঞ্জুরি আছে তারা হাত উঠাও।
মধুবনের যারা তারাও হাত উঠাও। কোনও কারণে মুরলি মিস করা যাবে না। খাওয়া যেমন মিস করো
না তো এও ভোজন তো না! ওটা যেমন শরীরের ভোজন এটা আত্মার ভোজন। ভালো লেগেছে? নতুন যারা
এসেছো তাদেরও আসার অনুমতি মিলেছে তো না! তাদেরও এই নিয়ম পালন করতে হবে। যেরকম
অন্যান্য নিয়ম আছে তেমন এটাও নিয়ম। ব্রাহ্মণ মানে যারা মুরলি শোনে, সেবা করে। আচ্ছা।
এখন সবদিকের বাচ্চাদের বাপদাদা স্মরণ-স্নেহের সাথে অভিনন্দনও জ্ঞাপন করছেন। সদা
উৎসাহ- উদ্দীপনার সাথে তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ আর নিরন্তর এগিয়ে যাও। কখনো নিজের
উৎসাহ-উদ্দীপনা কোনও কারণে কোনও বিষয়ে কম ক'রো না। এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় শুরু হয়ে
যায় কিন্তু পুরুষার্থ আর বাবার ভালোবাসা নিজের, সেইজন্য কখনো নিজের বুদ্ধিকে বাবা
ব্যতীত আর কোনও বিষয়ে বিজি ক'রো না। বাবা আর বাবার মুরলি এবং বাবার দ্বারা যে
সার্ভিস তোমরা পেয়েছ সেই সার্ভিস করতে থাকো। আচ্ছা। বাবা এখন কী বলবেন, সাথে থাকতে
হবে তো না! তো ছুটি নেবেন সেটাও তো বাবা বলতে পারেন না। সাথে থাকবেন, সাথে ফিরে
যাবেন আর সাথে ফিরে আসবেন। আচ্ছা। এখন সমাপ্তি।
বরদান:-
শক্তি রূপের স্মৃতির দ্বারা পতিত সংস্কারের নাশ করে
কালী রূপ ভব
সদা নিজের এই রূপ যেন স্মৃতিতে থাকে যে আমি সর্ব
শস্ত্রধারী শক্তি, আমি পতিত পাবনীর ওপরে কোনও পতিত আত্মার নজরের ছায়াও পড়তে পারে
না। পতিত আত্মার পতিত সঙ্কল্পও চলতে পারে না - নিজের ব্রেক এমন পাওয়ারফুল প্রয়োজন।
যদি কোনো পতিত আত্মার প্রভাব পড়ে তাহলে এর অর্থ তুমি প্রভাবশালী নও। যে নিজে শত্রু
নিধনকারী সে কখনো কারও শিকার হতে পারে না। সুতরাং এমন কালীরূপ হও যাতে কেউ যদি
তোমাদের সামনে এমন সঙ্কল্পও করে তবে তার সঙ্কল্পও দুর্বল হয়ে যায়।
স্লোগান:-
রয়্যাল রূপের ইচ্ছার স্বরূপ হলো নাম, মান আর মর্যাদা
।
অব্যক্ত ইশারা :- জ্বালাস্বরূপ স্থিতিতে থেকে
শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো সারথি অর্থাৎ আত্ম অভিমানী কেননা, আত্মাই সারথি।
ব্রহ্মাবাবা এই বিধি দ্বারা নম্বর ওয়ান হওয়ার সিদ্ধি প্রাপ্ত করেছেন। ফলো ফাদার করো।
বাবা যেমন দেহকে অধীন করে প্রবেশ করেন অর্থাৎ সারথি হন, দেহের অধীন হন না সেইজন্য
তিনি অনুপম আর মনোরম। এরকমই তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মাও বাবা সমান সারথি হওয়ার
স্থিতিতে থাকো। সারথি আপনা থেকেই সাক্ষী হয়েও করবে, দেখবে, শুনবে আর সবকিছু করেও
মায়ার প্রভাব থেকে নির্লিপ্ত থাকবে।