26.08.2025 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - জ্ঞানের সাগর বাবা এসেছেন জ্ঞান বর্ষণ করে এই ধরনীকে সবুজ(সতেজ) করে দিতে, এখন স্বর্গ স্থাপিত হচ্ছে, সেখানে যেতে হলে দৈবী সম্প্রদায়ের হতে হবে"

প্রশ্নঃ -
সর্বোত্তম কুলের বাচ্চাদের মুখ্য কর্তব্য কি?

উত্তরঃ  
সদা উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক (রুহানী) সেবা করা। এখানে বসে অথবা চলতে-ফিরতে বিশেষতঃ ভারতকে এবং সাধারণ ভাবে সমগ্র বিশ্বকে পবিত্র করা, শ্রীমতানুসারে বাবার সাহায্যকারী হওয়া - এটাই হলো সর্বোত্তম ব্রাহ্মণের কর্তব্য।

গীতঃ-
যে পিয়ার সাথে আছে...

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে আত্মাদের পিতা বোঝাচ্ছেন, কারণ বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর। কোন্ বাবা? শিববাবা। ব্রহ্মাবাবাকে জ্ঞানের সাগর বলা হয় না। শিববাবা যাকে পরমপিতা পরমাত্মা বলা হয়। এক হলো লৌকিক শরীরের পিতা, দ্বিতীয় হলো পারলৌকিক আত্মিক পিতা। উনি শরীরের পিতা, ইনি আত্মাদের পিতা। এ অত্যন্ত ভালোভাবে বুঝবার মতন বিষয়। আর এই জ্ঞান শোনান জ্ঞান-সাগর। যেমন ঈশ্বর সকলের এক, তেমনই জ্ঞানও একজনই দিতে পারেন। বাকি যেসকল শাস্ত্র, গীতাদি পড়ে, ভক্তি করে তা কোনো জ্ঞান নয়, এতে কোনো জ্ঞান-বর্ষা হয় না, সেইজন্য ভারত সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে গেছে। কাঙ্গাল হয়ে গেছে। বর্ষণ না হলে যেমন মাটি ইত্যাদি সবই শুকিয়ে যায়। ওটা হলো ভক্তিমার্গ। তাকে জ্ঞানমার্গ বলা যাবে না। জ্ঞানের দ্বারা স্থাপিত হয়। ওখানে ধরনী সদা সবুজ থাকে, কখনো শুকিয়ে যায় না। এ হলো জ্ঞানের পঠন-পাঠন। ঈশ্বর-পিতা জ্ঞান প্রদান করে দৈবী-সম্প্রদায় গঠন করেন। বাবা বুঝিয়েছেন যে, আমি তোমাদের সকল আত্মাদের পিতা। কিন্তু আমায় এবং আমার কর্তব্যকে না জানার কারণেই মানুষ এত অপবিত্র, দুঃখী, অনাথ হয়ে গেছে। পরস্পর লড়াই করে। ঘরে যদি বাবা না থাকে তাহলে বাচ্চারা লড়াই করে তখন বলা হয়, তাই না! যে, তোমাদের বাবা আছে কি নেই? এ'সময়ও সমগ্র দুনিয়া বাবাকে জানে না। না জানার কারণেই এত দুর্গতি হয়েছে। জানলে সদ্গতি হয়ে যেতো। সকলের সদ্গতিদাতা একজনই। তাঁকে বাবা বলা হয়। শিব-ই তাঁর নাম। তাঁর নাম কখনও বদল হতে পারে না। কিন্তু যখন সন্ন্যাস গ্রহণ করে তখন নাম পরিবর্তন হয়ে যায়, তাই না। বিবাহের সময়ও কুমারীদের নাম পরিবর্তন হয়ে যায়। এমন রীতি-রেওয়াজ ভারতেই রয়েছে। বাইরে (বিদেশে) এমন হয় না। শিববাবা, ইনি সকলের মাতা-পিতা। গায়নও করে যে, তুমি মাতা-পিতা...... ভারতেই আহ্বান করা হয় --- তোমার কৃপায় গভীর সুখ প্রাপ্ত হয়। এমন নয় যে, ভক্তিমার্গেও ভগবান কৃপা করতে এসেছেন। না, ভক্তিতে গভীর সুখ প্রাপ্তি হয় না। বাচ্চারা জানে যে, স্বর্গে অতি সুখ রয়েছে। ওটা হলো নতুন দুনিয়া। পুরানো দুনিয়ায় দুঃখই থাকে। যারা সঠিকরীতিতে জীবন্মৃত (মরজীবা) স্থিতিতে রয়েছে, তাদের নাম পরিবর্তন করতে পারা যায়। কিন্তু মায়া বিজয়প্রাপ্ত করে নেয় তখন ব্রাহ্মণের পরিবর্তে শূদ্র হয়ে যায় তাই বাবা নাম রাখেন না। ব্রাহ্মণদের মালা তো হয় না। বাচ্চারা, তোমরা হলে সর্বোত্তম গুরুকুলের। উচ্চতম আত্মিক সেবা করো। এখানে বসে অথবা চলতে-ফিরতে তোমরা বিশেষতঃ ভারতকে এবং সাধারণত ভাবে সমগ্র বিশ্বের সেবা করো। বিশ্বকে তোমরাই পবিত্র করো। তোমরা হলে বাবার সাহায্যকারী। বাবার শ্রীমতানুসারে চলে তোমরা সহায়তা প্রদান করো। এই ভারতকেই পবিত্র হতে হবে। তোমরা বলবে যে, আমরা প্রতি কল্পে এই ভারতকে পবিত্র করে পবিত্র ভারতে রাজ্য করি। ব্রাহ্মণ থেকে পুনরায় ভবিষ্যতের দেবী-দেবতা হয়ে যাই। বিরাট-রূপের চিত্রও রয়েছে। যখন প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান তখন ব্রাহ্মণই হবে। ব্রাহ্মণ তখনই হবে যখন প্রজাপিতা সম্মুখে থাকবে। এখন তোমরা সম্মুখে রয়েছো। তোমরা প্রত্যেকেই মনে করো যে, আমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। এটাই হলো যুক্তি। সন্তান মনে করলে ভাই-বোন হয়ে যায়। ভাই-বোনের কখনো ক্রিমিনাল আই (কুদৃষ্টি) থাকা উচিত নয়। এখন বাবা অর্ডিন্যান্স জারি করেন যে, তোমরা ৬৩ জন্ম পতিত ছিলে, এখন পবিত্র দুনিয়া স্বর্গে যেতে চাইলে, পবিত্র হও। সেখানে পতিত আত্মা যেতে পারে না সেই কারণেই অসীম জগতের পিতা অর্থাৎ আমাকে তোমরা আহ্বান করো। এ'আত্মা শরীরের দ্বারা কথা বলে। শিববাবাও বলেন, আমি এই শরীর দ্বারা কথা বলি। তা নাহলে আমি কিভাবে আসবো? আমার হয় দিব্যজন্ম। সত্যযুগে থাকে দৈবীগুণসম্পন্ন দেবতারা। এ'সময় রয়েছে আসুরীগুণসম্পন্ন মানুষ। এখানকার মানুষদের দেবতা বলা যাবে না। তথাপি যে কেউই হোক না কেন, নাম তো অনেক বড়-বড় রেখে দেয়। সাধুরা নিজেদের শ্রী-শ্রী আর মানুষকে শ্রী বলে কারণ স্বয়ং পবিত্র তাই শ্রী-শ্রী বলে। কিন্তু তারাও তো মানুষ। যদিও বিকারে যায় না কিন্তু বিকারী দুনিয়ায় তো থাকে, তাই না ! তোমরা ভবিষ্যতে নির্বিকারী নতুন দুনিয়ায় রাজ্য করবে। থাকবে তো সেখানেও (স্বর্গে) মানুষই কিন্তু তারা দৈবী-গুণ সম্পন্ন হবে। এ'সময় মানুষ আসুরিক-গুণসম্পন্ন অপবিত্র। গুরু নানকও বলেছেন, পুতিগন্ধময় কাপড় ধোয়..... গুরুনানকও বাবারই মহিমা করেছেন। এখন বাবা এসেছেন স্থাপনা এবং বিনাশ করতে। আর যেসকল ধর্মস্থাপকেরা রয়েছে, তারা শুধুমাত্র ধর্ম স্থাপন করতে আসে, তারা অন্যান্য ধর্মের বিনাশ করে না, তাদের বৃদ্ধি হতে থাকে। এখন বাবা বৃদ্ধি বন্ধ করে দেন। এক ধর্মের প্রতিষ্ঠা আর অনেক ধর্মের বিনাশ করে দেন। ড্রামানুসারে এমন হতেই হবে। বাবা বলেন, আমি আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করাই, যারজন্য তোমাদের পড়াচ্ছি। সত্যযুগে অনেক ধর্ম থাকে না। ড্রামায় সকলের ফিরে যাওয়াই নির্ধারিত আছে। এই বিনাশকে কেউ টলাতে পারবে না। বিশ্বে শান্তি তখন হয় যখন বিনাশ হয়ে যায়‌। এই লড়াই-এর মাধ্যমেই স্বর্গের দ্বার খুলে যায়। একথাও তোমরা লিখতে পারো যে, এই মহাভারত লড়াই কল্প-পূর্বেও হয়েছিল। তোমরা যখন প্রদর্শনী উদ্ঘাটন করো তখন একথা লেখো। বাবা পরমধাম থেকে এসেছেন -- স্বর্গের উদ্ঘাটন করতে। বাবা বলেন -- আমি হেভেনলী গডফাদার, হেভেন (স্বর্গ) উদ্ঘাটন করতে এসেছি। স্বর্গবাসী করার জন্য আমি বাচ্চাদের থেকেই সাহায্য নিয়ে থাকি। তা নাহলে এতসব আত্মাদের পবিত্র করবে কে ? অসংখ্য আত্মা রয়েছে। ঘরে-ঘরে তোমরা একথা বোঝাতে পারো। তোমরা, ভারতবাসীরা সতোপ্রধান ছিলে পুনরায় ৮৪ জন্ম পরে তমোপ্রধান হয়ে গেছো। এখন পুনরায় সতোপ্রধান হও। মন্মনাভব। এভাবে বোলো না যে, আমরা শাস্ত্র মানি না। তোমরা বলো যে, শাস্ত্রকে আর ভক্তিমার্গকে আমরা মান্য করতাম কিন্তু এখন সেই ভক্তিমার্গের রাত পূর্ণ হয়ে গেছে। জ্ঞানের দ্বারা দিন শুরু হয়। বাবা এসেছেন সদ্গতি করতে। বোঝানোর জন্য সঠিক যুক্তি চাই। কেউ ভালভাবে ধারণ করে, কেউ কম (ধারণ) করে। প্রদর্শনীতেও যারা ভালো ভালো বাচ্চা - তারা ভালো বোঝায়। যেমন বাবা টিচার তেমন বাচ্চাদেরকেও টিচার হতে হবে। গাওয়াও হয়, সদ্গুরু-সঙ্গে স্বর্গবাস, বাবাকে বলা হয় সত্যখন্ডের প্রতিষ্ঠাতা সত্য-পিতা। অসত্য দুনিয়া (মিথ্যাখন্ড) স্থাপন করে রাবণ। যখন এ'সময় সদ্গতিদাতাকে পাওয়া গেছে তখন পুনরায় আমরা কীকরে ভক্তি করতে পারি? ভক্তি শেখানোর জন্য অনেক গুরু রয়েছে। সদ্গুরু তো একজনই। বলাও হয় যে, সদ্গুরু অকাল.... তথাপি অনেক গুরু করতে থাকে। সন্ন্যাসী, উদাসী অনেকপ্রকারের গুরু হয়। শিখ ধর্মাবলম্বীরা নিজেরাই বলে যে, সদ্গুরু অকাল... অর্থাৎ যাকে কাল গ্রাস করতে পারে না। মানুষকে কাল গ্রাস করে নেয়। বাবা বোঝান 'মন্মনাভব'। ওদের কথা হলো সাহেবের জপ করো তবেই সুখ প্রাপ্ত করতে পারবে... মুখ্য হলো দুটি শব্দ। বাবা বলেন, আমাকে স্মরণ করো - সাহেবের জপ করো। সাহেব তো অদ্বিতীয়। গুরু নানকও তাঁর উদ্দেশ্যেই ইশারা করেছেন যে, তাঁর জপ করো। বাস্তবে তোমাদের জপ করতে হবে না, স্মরণ করতে হবে। এ হলো অজপাজপ অর্থাৎ নিরন্তর স্মরণ। মুখে কিছু বোলো না। শিব-শিবও বলতে হবে না। তোমাদের যেতে হবে শান্তিধামে। এখন বাবাকে স্মরণ করো। অজপাজপও একপ্রকারেরই হয় যা বাবা শেখান। ওরা (অজ্ঞানী) কত ঘন্টা বাজায়, আওয়াজ করে মহিমা-কীর্তন করে। তারা বলে, অচ্যুতম্ কেশবম্.... কিন্তু একটি শব্দেরও অর্থ বোঝে না। সুখ প্রদান করেন একমাত্র বাবা-ই। ব্যাসদেবও তাঁকেই বলা হবে। তাঁর মধ্যেই নলেজ রয়েছে যা তিনি আমাদের দিয়ে থাকেন। সুখও তিনিই দেন। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - এখন আমাদের চড়তী কলা অর্থাৎ কলা ঊর্ধ্বমুখী। সিঁড়ির চিত্রে কলাগুলিকে দেখানো হয়েছে। এইসময় কোনো কলা নেই। আমি নির্গুণ, আমার মধ্যে....। একটি নির্গুণ সংস্থাও রয়েছে। বাবা এখন বলেন - বালকেরা মহাত্মা-তুল্য হয়। তাদের মধ্যে কোনও অবগুণ থাকে না। আবার তাদের নাম রাখা হয় নির্গুণ বালক। যদি বালকের মধ্যে গুণ না থাকে তবে তার বাবার মধ্যেও গুণ থাকবে না। সকলের মধ্যেই অবগুণ রয়েছে। গুণবান কেবল দেবতারাই। নম্বর ওয়ান অবগুণ হলো এই যে, বাবাকেই জানে না। দ্বিতীয় অবগুণ হলো, বিষয় সাগরে হাবুডুবু খায়। বাবা বলেন, আধাকল্প তোমরা হাবুডুবু খেয়েছো। আমি জ্ঞানের সাগর, এখন তোমাদের ক্ষীরসাগরে নিয়ে যাচ্ছি। আমি ক্ষীরসাগরে যাওয়ার জন্য তোমাদের শিক্ষাদান করি। আমি এঁনার পাশে এসে বসি, যেখানে আত্মা থাকে। আমি স্বতন্ত্র। যেখানে-সেখানে যাতায়াত করতে পারি। তোমরা প্রেতকে খাওয়াও অর্থাৎ আত্মাকেই খাইয়ে থাকো, তাই না! শরীর ভস্ম হয়ে যায়। তাকে(শরীর) দেখতেও পারো না। মনে করো, অমুকের আত্মার শ্রাদ্ধ। আত্মাকে আহ্বান করা হয় - ড্রামায় এমনই পার্ট রয়েছে। (আত্মা) কখনো আসে, আবার কখনো আসেও না। কেউ বলে, আবার কেউ বলেও না। এখানেও আত্মাকে আহ্বান করা হয়, আত্মা এসে বলে। কিন্তু এমনভাবে বলে না যে, অমুক জায়গায় জন্ম নিয়েছি। শুধু এতটুকুই বলবে যে, আমরা অত্যন্ত সুখী, ভাল ঘরে জন্ম নিয়েছি। ভাল জ্ঞানী বাচ্চা ভাল ঘরে জন্ম নেবে। স্বল্পজ্ঞানীরা স্বল্পপদ লাভ করবে। এছাড়া সুখ তো আছেই। রাজা হওয়া ভাল, না দাসী হওয়া ভাল ? রাজা হতে হলে এই পড়ায় মনোনিবেশ করো। দুনিয়া অতি খারাপ (নোংরা)। দুনিয়ার সঙ্গকে বলা হয় কুসঙ্গ। একমাত্র সত্যের সঙ্গ-ই পার করে দেয়, বাকি সব সঙ্গ ডুবিয়ে দেয়। বাবা তো সকলের জন্মপত্রিকা জানেন, তাই না! এ হলো পাপের দুনিয়া, তবেই তো আবাহন করে - অন্য কোথাও নিয়ে চলো। এখন বাবা বলেন - মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা, আমার হয়ে পুনরায় আমার মতানুসারে চলো। এ অতি নোংরা অর্থাৎ ছিঃ ছিঃ দুনিয়া। দুর্নীতি রয়েছে। লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি অর্থের প্রতারণা হয়। এখন বাবা এসেছেন বাচ্চাদের স্বর্গের মালিক করতে তাই অগাধ খুশী থাকা উচিত, তাই না! বাস্তবে এটাই হলো সত্যিকারের গীতা। পুনরায় এ'জ্ঞান প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এখন তোমাদের মধ্যে এই জ্ঞান রয়েছে পুনরায় যখন দ্বিতীয় জন্ম নেবে তখন এ'জ্ঞান সমাপ্ত হয়ে যাবে। পুনরায় হলো প্রালব্ধ। পুরুষোত্তম বানানোর জন্য বাবা তোমাদের পড়ান। এখন তোমরা বাবাকে জেনেছো। এখন অমরনাথে যাত্রা শুরু হয়। বলো, যাকে সূক্ষ্মলোকে দেখাও, সে স্থূললোকে পুনরায় কোথা থেকে এলো? পাহাড় ইত্যাদি তো এখানে আছে, তাই না ! ওখানে পতিত কিভাবে থাকতে পারে? যে পার্বতীকে জ্ঞান প্রদান করবে। বরফের লিঙ্গ বসে-বসে হাতের সাহায্যে তৈরী করা হয়। সে তো যেকোনো স্থানে তৈরী করা যায়। মানুষ কত ধাক্কা খায়। বোঝে না যে শঙ্করের কাছে পার্বতী কিভাবে আসবে যে তাঁকে পবিত্র করবে? শঙ্কর পরমাত্মা নন, তিনিও দেবতা। মানুষকে কত বোঝানো হয় তথাপি বোঝে না। পরশবুদ্ধিসম্পন্ন হতে পারে না। প্রদর্শনীতে কত আসে। তারা বলে, জ্ঞান তো অতি সুন্দর। সকলেরই গ্রহণ করা উচিত। আরে! তুমি তো নাও। বলবে, আমাদের সময় নেই। প্রদর্শনীতে এও লেখা উচিত যে, এই লড়াই-এর পূর্বে বাবা স্বর্গের উদ্ঘাটন করছেন। বিনাশের পর স্বর্গের দ্বার খুলে যাবে। বাবা বলেছিলেন, প্রত্যেকটি চিত্রতে লেখো - পারলৌকিক পরমপিতা পরমাত্মা ত্রিমূর্তি শিব ভগবানুবাচ। ত্রিমূর্তি না লিখলে তারা বলবে যে, শিব তো নিরাকার, তিনি কিভাবে জ্ঞান প্রদান করবেন? তখন বোঝানো হয় যে, ইনিই প্রথমে সুন্দর ছিলেন, কৃষ্ণ ছিলেন আর এখন শ্যাম অর্থাৎ অপবিত্র মানুষে পরিণত হয়েছেন। এখন তোমাদের মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করেন। পুনরায় হিস্ট্রি রিপীট হবে। গায়নও রয়েছে যে, মানুষ থেকে দেবতা হতে সময়... পুনরায় সিঁড়ি নামতে-নামতে মানুষ হয়ে যায়। পুনরায় বাবা এসে দেবতায় পরিণত করেন। বাবা বলেন, আমাকে আসতে হয়। প্রতি কল্পে, কল্পের সঙ্গমযুগে আসি। যুগে-যুগে বলা ভুল। আমি সঙ্গমযুগে এসে তোমাদের পূণ্যাত্মায় পরিণত করি। পুনরায় রাবণ তোমাদের পাপাত্মায় পরিণত করে। বাবা-ই পুরানো দুনিয়াকে নতুন দুনিয়ায় পরিণত করেন। এ হলো বুঝবার মতন বিষয়। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার মতো টিচার হতে হবে, অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে সকলকে এই অসৎ-দুনিয়া (মিথ্যাখন্ড) থেকে সরিয়ে নিয়ে সত্যখন্ডে যাওয়ার যোগ্য তৈরী করতে হবে।

২ ) দুনিয়ার সঙ্গ হলো কুসঙ্গ, সেইজন্য কুসঙ্গ থেকে দুরে সরে গিয়ে একমাত্র সত্যের সঙ্গ করতে হবে। উচ্চপদ প্রাপ্তির জন্য এই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে। একমাত্র বাবার মতানুসারেই চলতে হবে।

বরদান:-
নিজের সবকিছু সেবাতে অর্পিত করে গুপ্তদানী পুণ্য আত্মা ভব

যাকিছু সেবা করেছো, সেগুলিকে বিশ্ব কল্যাণের জন্য অর্পিত করতে থাকো। যেরকম ভক্তিতে যে গুপ্তদানী পূণ্য আত্মারা থাকে, তারা এই সংকল্প করে যে সকলের ভালো হোক। এইরকম তোমাদের প্রত্যেক সংকল্প সেবাতে অর্পিত হবে। কখনও নিজের প্রতি কামনা করবে না। সকলের প্রতি সেবা করো। যে সেবা বিঘ্ন রূপ হয় তাকে সত্যিকারের সেবা বলা হবে না, এইজন্য নিজের কথা ছেড়ে গুপ্ত আর সত্যিকারের সেবাধারী হয়ে সেবার দ্বারা বিশ্ব কল্যাণ করতে থাকো।

স্লোগান:-
প্রতিটি বিষয় প্রভুকে অর্পণ করে দাও তবে আসন্ন সমস্যাগুলিকে সহজ অনুভব হবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

আদিকাল, অমৃতবেলায় নিজের হৃদয়ে পরমাত্ম প্রেমকে সম্পূর্ণ রূপে ধারণ করে নাও। যদি হৃদয়ে পরমাত্ম প্রেম, পরমাত্ম শক্তি, পরমাত্ম জ্ঞান পরিপূর্ণ হয় তাহলে কখনও আর কারোর প্রতি আকর্ষণ বা স্নেহ যাবে না। বাবার সাথে সত্যিকারের ভালোবাসা আছে তো ভালোবাসার লক্ষণ হল - সমান, কর্মাতীত। “করাবনহার” হয়ে কর্ম করো, করাও। কখনও মন-বুদ্ধি বা সংস্কারের বশ হয়ে কোনও কর্ম করবে না।