26.09.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
নিজের সত্যিকারের চার্ট রাখো তাহলে অবস্থা (স্থিতি) ভালো থাকবে, চার্ট রাখলে কল্যাণ
হতে থাকবে"
প্রশ্নঃ -
কোন্ স্মৃতি
পুরানো দুনিয়া থেকে সহজেই পৃথক করিয়ে দেয় ?
উত্তরঃ
এই স্মৃতি যদি
থাকে যে, আমরা কল্প - কল্প বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । এখন আবার
শিববাবা আমাদের অ্যাডপ্ট করেছেন - উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য । বাবা আমাদেরকে
অ্যাডপ্ট করেছেন, আমরা সত্যিকারের ব্রাহ্মণ হয়েছি । শিববাবা আমাদের গীতা শোনাচ্ছেন
। এই স্মৃতি আমাদের পুরানো দুনিয়া থেকে পৃথক করে দেবে ।
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা তোমরা
এখানে শিব বাবার স্মরণে বসে আছো, তাই তোমরা জানো যে, তিনি আমাদের আবার সুখধামের
মালিক বানাচ্ছেন । বাচ্চাদের বুদ্ধিতে কতো খুশী থাকা চাই, এখানে বসে বাচ্চারা তো
সম্পদ পাচ্ছে, তাই না । অনেক প্রকারের কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে কারোর বুদ্ধিতে এই কথা
থাকে না । তোমরাই জানো যে, বাবা আমাদের স্বর্গের মালিক বানাচ্ছেন । এই খুশী তো থাকা
উচিত, তাই না । এই সময় সব চিন্তা দূর করে এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে । তোমরা এখানে
যখন বসো, তখন তোমাদের বুদ্ধিতে এই নেশা থাকা উচিত যে, আমরা এখন সুখধামের মালিক হচ্ছি
। সুখ আর শান্তির উত্তরাধিকার আমরা কল্প - কল্প গ্রহণ করি । মানুষ তো কিছুই জানে না
। কল্প পূর্বেও অনেক মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় ঘুমিয়ে শেষ হয়ে
গিয়েছিলো । আবারও এমন হবে । বাচ্চারা বুঝতে পারে যে, বাবা আমাদের অ্যাডপ্ট করছেন বা
আমরা শিববাবার ধর্ম আপন করেছি যিনি আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছেন ।
আমরা এখন ব্রাহ্মণ । আমরা প্রকৃত গীতার পাঠ শুনছি । আমরা আবার বাবার থেকে রাজযোগ আর
জ্ঞানের শক্তিতে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি । এমন - এমন খেয়াল অন্তরে আসা চাই, তাই না
। বাবা এসেও তো খুশীর কথা বলেন, তাই না । বাবা জানেন যে, বাচ্চারা কাম চিতাতে বসে
কালো ভস্মীভূত হয়ে গেছে, তাই আমি অমরলোক থেকে মৃত্যুলোকে আসি । তোমরা আবার বলো,
আমরা মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে যাই । বাবা বলেন - আমি মৃত্যুলোকে যাই, যেখানে সকলের
মৃত্যু হয়ে গেছে, তাদের আমি আবার অমরলোকে নিয়ে যাই । শাস্ত্রে তো কি - কি সব লিখে
দিয়েছে যে, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি যা চাইবেন তাই করতে পারেন । বাচ্চারা কিন্তু
জানে, তাঁকে ডাকাই হয়, হে পতিত পাবন বাবা এসো, এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করো ।
আমাদের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করো, এতে জাদুর কোনো কথা নেই । বাবা আসেন কাঁটা থেকে
ফুল তৈরী করতে ।
তোমরা জানো যে, আমরা
সুখধামের দেবতা ছিলাম, সতোপ্রধান ছিলাম । প্রত্যেককেই সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান
অবস্থায় আসতেই হবে । এখানে বসার সময় বাচ্চাদের তো আরো মজা আসা উচিত । সম্পূর্ণ
দুনিয়া বাবাকেই স্মরণ করে । হে, লিবরেটর, গাইড, হে পতিত পাবন, এসো । মানুষ তখনই ডাকে,
যখন রাবণ রাজ্যে থাকে । সত্যযুগে তো ডাকেই না, এই কথা বোঝার জন্য খুবই সহজ । একথা
কে শুনিয়েছেন? বাবারও মহিমা করবে, টিচার - সদ্গুরুরও মহিমা করবে.... এই তিন একই ।
একথা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে । ইনি বাবা - টিচার এবং সৎগুরুও । শিববাবার কাজই হলো
পতিতকে পবিত্র করা । পতিত ব্যক্তি অবশ্যই দুঃখী হবে । সতোপ্রধান সুখী আর তমোপ্রধান
দুঃখী হয় । এই দেবতাদের কতো সতোগুণী স্বভাব । এখানকার মানুষদের কলিযুগী তমোগুণী
স্বভাব । বাকি হ্যাঁ, মানুষ নম্বর অনুসারে ভালো বা মন্দ হয় । সত্যযুগে এমন কখনোই
বলা হবে না যে, এ খারাপ । এ এমন । ওখানে মন্দ লক্ষণের কেউই হয় না । ওরা হলোই দৈবী
সম্প্রদায় । হ্যাঁ, সাহুকার আর গরীব হতেই পারে । বাকি ভালো বা মন্দ গুণের তুলনা
ওখানে হয় না, সবাই ওখানে সুখী থাকে । ওখানে দুঃখের কোনো কথাই নেই, নামই হলো সুখধাম
। বাচ্চাদের তাই বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেওয়ার পুরুষার্থ করা উচিত ।
বাবার চিত্র আর লক্ষ্মী নারায়ণেরও রাখতে পারো । বলবে, কেউ তো এদের শেখানোর থাকবেন ।
এ তো ভগবান উবাচঃ, তাই না । ভগবানের নিজের কোনো শরীর নেই । তিনি এসে শরীর লোন নেন ।
মহিমাও আছে ভাগীরথের, তাহলে অবশ্যই রথের উপর তিনি বিরাজমান । ষাঁড়ের উপর বসে তো আর
আসবেন না । শিব আর শঙ্করকে একত্রিত করে দিয়েছে, তাই ষাঁড় দিয়ে দিয়েছে । বাবা তাই
বলেন - তোমাদের কতো খুশী হওয়া উচিত, আমরা বাবার হয়েছি । বাবাও বলেন - তোমরা আমার ।
বাবার পদপ্রাপ্তির কোনো খুশী নেই । টিচার তো টিচারই, তাঁকে পড়াতে হবে । বাবা বলেন -
বাচ্চারা, আমি হলাম সুখের সাগর । আমি যখন তোমাদের দত্তক নিয়েছি, তখন তোমরা
অতীন্দ্রিয় সুখে ভাসছো । এই দত্তক নেওয়া তো অনেক ধরনের হয় । পুরুষও কন্যাকে
অ্যাডপ্ট করে । তারা মনে করে, এ আমার পতি, তোমরা এখন বুঝতে পারো - শিব বাবা আমাদের
অ্যাডপ্ট করেছেন । দুনিয়াতে কেউই এই বিষয়কে বোঝে না । তাদের এই গ্রহণ করা হলো - একে
অপরের উপর কাম কাটারি চালানোর । মনে করো কোনো রাজা যদি বাচ্চাকে দত্তক নেয়, সুখের
জন্য গ্রহণ করে, কিন্তু সে সুখ হলো অল্পকালের সুখ । সন্ন্যাসীরাও তো এডপ্ট করে, তাই
না । ওরা বলবে, এ আমাদের গুরু, আর গুরু বলবে, এরা আমার শিষ্য বা অনুসরণকারী । এ কতো
ধরণের অ্যাডপ্ট করার পদ্ধতি । বাবা আবার বাচ্চাদের অ্যাডপ্ট করে । তাদের তো সুখ দেয়,
কিন্তু বিয়ে করিয়ে দিলে আবার উত্তরাধিকার দিয়ে দেয় । গুরুর দত্তক নেওয়া কতো সুন্দর,
এক নম্বর । এ তো হলো ঈশ্বরের অ্যাডপ্ট করা আত্মাদের নিজের করার জন্য । বাচ্চারা,
তোমরা এখন সব ধরনের অ্যাডপ্ট করাকে দেখে নিয়েছো । সন্ন্যাসীরা থাকা সত্বেও ডাকতে
থাকে - হে পতিত পাবন এসো, এসে আমাদের দত্তক নিয়ে পবিত্র বানাও । সবাই হলো ভাই -
ভাই , কিন্তু যতক্ষণ না এসে আপন বানাবে, তাই না । মানুষ বলতে থাকে, বাবা আমরা দুঃখী
হয়ে গেছি । রাবণ রাজ্যের অর্থও বুঝতে পারে না । কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জ্বালাতে থাকে
। যেমন কেউ যখন দুঃখ দেয় তখন মনে করে, এর নামে কেস করা উচিত, কিন্তু রাবণ কবে থেকে
শত্রু হয়েছে? অবশেষে এই শত্রু কি মরবে, নাকি না? এই শত্রুকে তোমরাই জানো, আর এই
শত্রুকে জয় করার জন্যই তোমাদের অ্যাডপ্ট করা হয় । বাচ্চারা, তোমরা এও জানো যে,
বিনাশ হতে হবে, বোম্ব্সও স্বাভাবিকভাবেই তৈরী হয়েছে । এই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারাই
বিনাশ জ্বালা প্রজ্জ্বলিত হয় । তোমরা এখন জানো যে, রাবণকে জয় করেই আমরা নতুন
সৃষ্টিতে রাজত্ব করবো । বাকি তো সব পুতুল খেলা । রাবণের এই পুতুল তো অনেক খরচ করায়
। মানুষ অনেক অর্থ ফালতু নষ্ট করে । এ কতো রাত - দিনের তফাৎ । তারা বিভ্রান্ত হতে
থাকে, দুঃখী হতে থাকে, আর ধাক্কা খেতে থাকে । আর আমরা এখন শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠাচারী
সত্যযুগী স্বরাজ্য পাচ্ছি । শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ সত্যযুগ স্থাপনকারী শিব বাবা
আমাদের শ্রেষ্ঠ দেবতা, বিশ্বের মালিক বানান । শ্রী শ্রী শিব বাবা আমাদের শ্রী বা
শ্রেষ্ঠ বানান । শ্রী শ্রী কেবল একজনকেই বলা হয় । দেবতাদেরও শ্রী বলা হয়, কিন্তু
তাঁরাও তো পুনর্জন্মে আসে, তাই না । বাস্তবে বিকারী রাজাদেরও শ্রী বলা উচিত নয় ।
এখন তোমাদের কতো
বিশাল বুদ্ধির প্রয়োজন । তোমরা জানো যে, আমরা এই পড়া পড়ে ডবল মুকুটধারী তৈরী হই ।
আমরাই ডবল মুকুটধারী ছিলাম, এখন তো একটি মুকুটও নেই । সকলেই পতিত, তাই না । এখানে
লাইটের মুকুট কাউকেই লাগানো যাবে না । এই চিত্রতে যেখানে তোমরা তপস্যাতে বসেছো,
সেখানে লাইটের মুকুট দেওয়া উচিত নয় ভবিষ্যতে তোমাদের ডবল মুকুটধারী হতে হবে ।
বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, আমরা বাবার কাছে ডবল মুকুটধারী মহারাজা - মহারাণী হওয়ার
জন্য এসেছি । তোমাদের এই খুশী থাকা উচিত । তোমাদের শিব বাবাকে স্মরণ করা উচিত, তাহলে
তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে স্বর্গের মালিক হয়ে যাবে, এখানে কোনো সমস্যার কথা নেই
। এখানে তোমরা ছাত্ররা বসে আছো । ওখানে বাইরে মিত্র - সম্বন্ধীদের কাছে গেলে এই
ছাত্রজীবন ভুলে যায় । তখন আবার মিত্র - সম্বন্ধী স্মরণে এসে যায় । এ তো মায়ার চাপ,
তাই না । হোস্টেলে থাকলে ভালো পড়াশোনা করে । বাইরে এলে সঙ্গদোষে খারাপ হয়ে যায় ।
এখান থেকে বাইরে গেলে তখন এই ছাত্র জীবনের নেশা হারিয়ে যায় । শিক্ষিকা
ব্রহ্মাণীদেরও বাইরে গেলে এতো নেশা থাকবে না, যতটা এখানে থাকলে থাকবে । এই মধুবন হলো
হেড অফিস । স্টুডেন্টস টিচারের সামনে থাকে এখানে । এখানে কোনো বৈষয়িক চিন্তা নেই ।
এখানে রাত - দিনের তফাৎ । কেউ কেউ তো সারাদিন শিব বাবাকে স্মরণ করেই না । শিব বাবার
সাহায্যকারীও হয় না । শিব বাবার বাচ্চা হলে, তাঁর সেবা করো । সেবা যদি না করো,
তাহলে তো কুপুত্র হয়ে গেলে । বাবা তো বুঝতেই পারেন, তাই না । তাঁর দায়িত্ব হলো বলে
দেওয়া - তোমরা আমাকে স্মরণ করো । আমাকে যদি অনুসরণ করো তাহলে তোমাদের অনেক কল্যাণ
। বিকারী সম্বন্ধ হলো ভ্রষ্টাচারী । তাদের ছাড়তে থাকো, তাদের সঙ্গ করো না । বাবা তো
বোঝাতেই থাকেন, কিন্তু কারোর ভাগ্যে থাকলে, তবেই না । বাবা বলেন - তোমাদের চার্ট
রাখতে হবে, এতেও অনেক কল্যাণ হবে । কেউ তো এক ঘণ্টাও খুব মুশকিলের সঙ্গে স্মরণ করে
। অন্তে তো আট ঘণ্টায় পৌঁছাতে হবে । তোমরা তো কর্মযোগী, তাই না । কারোর তো কখনো
কোনো উৎসাহ এলে তখন চার্ট রাখে । এও ভালো । বাবাকে যতো স্মরণ করবে ততই লাভ । এমন
মহিমা আছে যে - অন্তিম সময়ে যে হরিকে স্মরণ করে । বার - বারের অর্থ কি? যারা
ভালোভাবে স্মরণ করে না, তখন জন্ম - জন্মান্তরের যে বোঝা থাকে, তা বার - বার জন্ম
দিয়ে সাক্ষাৎকার করিয়ে তখন সাজা দেয় । যেমন কাশী কলবটে সাজা ভোগ করে, চট করে পাপের
সাক্ষাৎকার হয় । অনেকেই অনেক ধাক্কা খায় । বাবার এই সেবায় যে বিঘ্ন উৎপন্ন করে,
সে তো সাজার উপযুক্ত । বাবার এই সেবায় বাধা সৃষ্টি করে, যার রাইট হ্যান্ড ধর্মরাজ
। বাবা বলেন - নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করো কেননা বাবার স্মরণেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে
। না হলে নয় । বাবা তো প্রতিজ্ঞা করান, করা বা না করা তোমাদের মর্জি । যে করবে,
সেই পাবে । অনেকেই আছে, যারা প্রতিজ্ঞা করে, তবুও খারাপ কাজ করতেই থাকে ।
ভক্তিমার্গে গায়ন আছে - আমার তো এক, দ্বিতীয় আর কেউই নেই, কিন্তু সেই কথা এখন
বুদ্ধিতে আসে যে, আত্মা কেন এমন গান গেয়ে এসেছে । সারাদিন গাইতেই থাকে - আমার তো এক
গিরিধারী গোপাল - এ তো সঙ্গম যুগে বাবা আসবেন, তখনই নিজের ঘরে নিয়ে যাবেন, তোমরা
তো কৃষ্ণপুরী যাওয়ার জন্য পড়ছো, তাই না । প্রিন্সেস কলেজ হয়, যেখানে প্রিন্স -
প্রিন্সেস পড়ে । সে তো হলো জাগতিক কথা । কখনো অসুস্থ হয়, কখনো আবার মারাও যায় । এ
তো হলো প্রিন্স - প্রিন্সেস হওয়ার জন্য গড ফাদারলি ইউনিভার্সিটি । এ তো রাজযোগ,
তাই না । তোমরা নর থেকে নারায়ণ হও । তোমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে
সত্যযুগের প্রিন্স - প্রিন্সেস হও । বাবা বসে কতো মজার কথা শোনান । এসব কথা স্মরণে
তো থাকা উচিত, তাই না । কেউ তো এখান থেকে বাইরে গেলে ফেঁসে যায় । বাবার স্মরণও
নম্বরের ক্রমানুসারে করে থাকে । যারা বেশী স্মরণ করে, তারা অন্যদেরও স্মরণ করাতে
থাকবে । তোমাদের বুদ্ধিতে এই কথা থাকা উচিত যে, কিভাবে অনেকের কল্যাণ করা যায় ।
বাইরের যারা তারা প্রজাতে দাস - দাসী, আর এখনকার যারা তারা রাজার দাস - দাসী হবে ।
ভবিষ্যতে সব সাক্ষাৎকার হতে থাকবে । তোমরাও অনুভব করবে যে, বরাবর আমরা সম্পূর্ণ
পুরুষার্থ করি নি, তোমরা অনেক চমৎকার দেখবে । যে ভালোভাবে পড়বে সে নবাব হবে । বাবা
কতো বলতে থাকেন - সেন্টারে প্রদর্শনী দেওয়া হয়, তখন তো বাচ্চাদের শিখিয়ে সুচতুর
বানানো উচিত । বাবা তখন বুঝবেন, বি.কে সেবা করতে জানে । সেবা করলে তোমরা উঁচু পদ
পাবে, তাই বাবা প্রদর্শনী বানানোর জন্য জোর দেন । এই চিত্র বানানো তো খুব সাধারণ ।
খুব সাহস করে প্রদর্শনীর চিত্র বানানোতে সাহায্য করা উচিত, তাহলে বাচ্চাদের বোঝাতে
সহজ হবে । বাবা বোঝান - টিচার্স, ম্যানেজার শান্ত । কোনো কোনো ব্রাহ্মণী যখন
ম্যানেজার হয়ে যায়, তখন তাদের দেহ অভিমান এসে যায় । তারা নিজেদের অতি চালাক মনে করে
। আমরা খুব ভালোভাবে চলি । অন্যদের জিজ্ঞেস করলে দশ কথা শুনিয়ে দেবে । মায়া অনেক বড়
চক্করে ফেলে দেয় । বাচ্চাদের তো সেবাতে থাকা উচিত । বাবা হলেন দয়ালু, দুঃখহর্তা,
সুখকর্তা, তাই বাচ্চাদেরও এমন হতে হবে, তোমাদের কেবল বাবার পরিচয় দিতে হবে । বাবা
বলেন যে - মামেকম্ স্মরণ করো, তাহলে নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী হয়ে যাবে । এ কতো সহজ
। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে শান্তিধাম, সুখধামে এসে
যাবে । নিশ্চিত হলে সম্পূর্ণ লিখিয়ে নেওয়া উচিত । এমন লিখেও থাকে যে - বরাবর
ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার নেয়, তখন মনে করবে যে, অবশ্যই
এমন বাবার হওয়া উচিত । শরণে আসা উচিত । তোমরা তো বাবার শরণে এসেছো অর্থাৎ বাবার
হয়েছো ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বাবার সমান দয়ালু, দুঃখহর্তা, সুখকর্তা হতে হবে ।
২ ) সঙ্গদোষ থেকে
নিজেকে খুব রক্ষা করতে হবে । এক বাবাকেই অনুসরণ করতে হবে । অনেকের কল্যাণের সেবা
করতে হবে । কখনো অহংকারে এসে অতি চালাক হয়ো না ।
বরদান:-
অন্তর্মুখী হয়ে নিজের সময় আর সংকল্পগুলিকে ব্যর্থ যাওয়ার থেকে রক্ষাকারী বিঘ্নজীৎ
ভব
যখন নতুন কিছু
পাওয়ারফুল জিনিস ইনভেনশন করে তখন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে করে। তোমরাও যত অন্তর্মুখী
অর্থাৎ আন্ডারগ্রাউন্ড থাকবে ততই বায়ুমন্ডল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে, মনন শক্তি
বৃদ্ধি পাবে আর মায়ার বিঘ্ন থেকেও সেফ থাকবে। বাহিরমুখী হয়েও অন্তর্মুখ, হর্ষিতমুখ,
আকর্ষণমূর্তি থাকো, কর্ম করতে করতেও এই প্র্যাক্টিস করো তাহলে সময় ব্যর্থ নষ্ট হবে
না আর সফলতাও অধিক অনুভব করবে।
স্লোগান:-
অসুখকে
দেখে ঘাবড়ে যেও না, তাকে ওষুধ রূপী ফ্রুট খাইয়ে বিদায় দাও।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন
দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো
বাচ্চারা তোমরা কোনও
আত্মার থেকে কিছু নেবে না। কেবল এক বাবার থেকেই নেবে আর বাবার থেকে যা কিছু নিয়েছো
সেগুলি সবাইকে দান করতে হবে। যেখানে দান করবে সেখান থেকে নেওয়ার ইচ্ছে রাখবে না। যদি
আত্মা, অন্য আত্মার থেকে যেকোনও কিছু নেওয়ার ইচ্ছে রাখে তাহলে তাদের, অল্পজ্ঞ
আত্মাদের থেকে অল্পকালেরই প্রাপ্তি হবে। এক সর্বজ্ঞ বাবার থেকেই চিরকালের প্রাপ্তি
হবে। কোনও প্রকারের নেওয়ার ইচ্ছা নিজের স্বমান থেকে নিচে নামিয়ে দেয়।