27-09-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
15-12-2011 মধুবন
‘‘সদা স্বমানের নেশায় থেকে নিশ্চিন্ত বাদশা হও, তীব্র পুরুষার্থ দ্বারা সম্পন্ন ও
সমান হয়ে একসাথে চলার প্রস্তুতি নাও’’
আজ বাপদাদা বাদশাহদের সভা দেখছেন। এই সভা এই সময়েই বসে, কারণ সব বাচ্চা নিজেদের
চিন্তা বাবাকে দিয়ে বাবার থেকে স্বমানের গৌরব লাভ করেছে। এই সভা এখনই বসে। তোমরাও
প্রত্যেকে সকাল থেকে উঠে কর্ম করার সময়ও নিশ্চিন্ত এবং বাদশাহ হয়ে চলছ তো না! এই
নিশ্চিন্ত জীবন কত সুন্দর লাগে! চিন্তাহীন জীবনের কী লক্ষণ দেখা যায়? প্রত্যেকের
মস্তকে লাইট দেখা যায়, আত্মা দীপ্তভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এই চিন্তামুক্ত জীবন
কীভাবে তৈরি হলো? বাবা সব বাচ্চার জীবন থেকে চিন্তা নিয়ে গৌরব দান করেছেন। যাদের
জীবনে আধ্যাত্মিক গৌরব নেই বরং চিন্তা আছে, তাদের মস্তকে আলো জ্বলজ্বল করে না।
তাদের মস্তকে বোঝার (চিন্তার) রেখা দেখতে পাওয়া যায়। তাহলে বলো, তোমাদের কোনটা
পছন্দ? লাইট নাকি বোঝা? যদি কোনো বোঝা আসেও, তবে সেই বোঝা অর্থাৎ চিন্তা বাবাকে দিয়ে
গৌরব নিয়ে নিতে পারো। তোমাদের সবার নিশ্চিন্ত লাইফ পছন্দ তো! যারা তোমাদের দেখছে,
তারাও এই নিশ্চিন্ত লাইফ পছন্দ করে।
তো আজ চতুর্দিকের বাচ্চারা, তারা সমুখে থাকুক কিংবা যেখানেই বসে থাকুক না কেন,
বাচ্চাদের ললাটভাগে দীপ্যমান লাইটই দেখছেন। তো সদা তোমরা চিন্তামুক্ত থাকো, নাকি
কখনো কোনো চিন্তা আসেও? আছে কোনো চিন্তা? বাবা যখন প্রকৃতিজিত, বিকারজিত বানিয়ে
দিয়েছেন তখন চিন্তা কীভাবে আসতে পারে? তো হাত তোলো, তোমরা কি নিশ্চিন্ত হয়েছো?
সবসময় কি নিশ্চিন্ত আছো? সবসময়ের জন্য হয়েছো নাকি মাঝে মাঝে? এমন কেউ কি আছ যারা
শুধু মাঝে মাঝেই নিশ্চিন্ত থাকো? যারা কখনো কখনোর তারাও আছো? হাত তো তোলো না!
বাপাদাদাও তা' দেখতে চান না। বাপদাদা প্রতিটি বাচ্চাকে এক নিশ্চিন্ত বাদশাহ হিসেবে
দেখতে চান। যদি এমন কেউ থেকেও থাকো যারা কেবল মাঝে মাঝেই নিশ্চিন্ত থাকো, তবে তার
জন্য একটি অত্যন্ত সহজ বিধি রয়েছে - যেটুকুও বা সামান্য চিন্তা আসে, তাকে 'আমার'
থেকে 'তোমার'-এতে বদলে নাও। এটি সীমাবদ্ধতার আমিত্বকে 'আমার' থেকে 'তোমার'-এতে
পরিবর্তন করার খুব সহজ একটি বিধি। তোমরা তো বলেই থাকো যে 'আমার বাবা', তাহলে এখন আর
আমার বলতে কী থাকলো? সীমিত জগতের যা কিছু 'আমার' ছিল তা' সমাপ্ত হয়ে গেছে তো না!
তিনি এখন 'আমার বাবা' হয়ে গেছেন। তোমরা সবাই হৃদয় থেকে বলো তো না - আমার বাবা!
প্রিয় বাবা! মিষ্টি বাবা! তাহলে 'আমার'-কে 'তোমার' এতে সমাহিত করা কি খুব কঠিন?
তফাতটাই বা কী? 'তো' আর 'আ', এতটাই ছোট একটুখানি তারতম্য। যখন সংকল্প করে নিয়েছ সব
তোমার, তখন আমার আর কী থাকলো? আমার বাবা। তো বাপদাদা দেখেছেন যে, মেজরিটি বাচ্চা
তাদের সীমিত পরিসরের 'আমার'-কে 'তোমার' বানিয়েছে, সেইজন্য তারা কী হয়ে গেছে?
নিশ্চিন্ত বাদশাহ। তাই আজ বাপদাদা বাচ্চাদের এই চিন্তামুক্ত বাদশাহ স্বরূপে দেখছেন।
দেখ, ভক্তি মার্গেও তোমাদের চিত্র বানানো হয়, তখন ডবল মুকুট দেখানো হয়। এক তো
লাইটের মুকুট আছেই, কেননা চিন্তামুক্ত আত্মার নিদর্শন - ললাটভাগে লাইট জ্বলজ্বল করে;
আর দ্বিতীয় মুকুট হলো তোমরা বিকারর ওপর বিজয়ী হয়েছ, সেইজন্য মুকুট দেখানো হয়েছে।
সুতরাং এই অ্যাটেনশন রাখো যে, বাপদাদা যখন তোমাদের সমস্ত চিন্তা নিয়ে তোমাদের
শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব প্রদান করেছেন, তো তোমরা কী হয়ে গেছো? নিশ্চিন্ত বাদশাহ।
বাদশাহ হয়েছ তো সিংহাসনও চাই তো না! তাইতো বাপ দাদা তোমাদের তিন সিংহাসনের মালিক
বানিয়েছেন। তোমরা জানো সেই তিন সিংহাসন কোনগুলো? এক সিংহাসন ভ্রুকুটির, এটি তো
সকলের আছেই। দ্বিতীয় সিংহাসন হলো বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন আর তৃতীয় হলো বিশ্বের
সিংহাসন, রাজত্বের সিংহাসন। তো তোমাদের এই তিন সিংহাসন প্রাপ্ত হয়েছে তো না! সবচাইতে
শ্রেষ্ঠ হলো বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন। সুতরাং চেক করো সিংহাসনে থাকছ কিনা! কেননা,
বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনে কে বসে? যে সদা বাপদাদাকে নিজেও নিজের হৃদয় সিংহাসনে বসিয়েছে,
যে সদা শ্রেষ্ঠ স্থিতিতে মাস্টার সর্বশক্তিমান। তো চেক করো যে, সদা সিংহাসনাসীন আছ
কিনা! নাকি কখনো মাটিতেও এসে যাও? এই মাটি দেহবোধ। অনেক সময় তোমরা মাটিতে থেকেছো তো
কখনো কখনো মাটিতে চলে যাও না তো?
তাই বাপদাদা সব বাচ্চাকে সময়ের ইশারা দিচ্ছেন। আকস্মিকতার পাঠ পাকা করাচ্ছেন, এর
জন্য এই সঙ্গম যুগের সময়কে অনেক অনেক গুরুত্ব দিতে হবে কারণ এই এক জন্মে অনেক
জন্মের প্রালব্ধ তৈরি করতে হবে। এইজন্য বাপদাদা ইশারা দিয়েছিলেন যে সঙ্গম সময়ে
দুটি বিষয়ের ওপর সবসময় অ্যাটেনশন দিতে হবে। সেই দুটি বিষয় তো স্মরণে থাকবে - সময়
এবং সংকল্প। বাপদাদাকে সবাই সংকল্পের মাধ্যমে ব্যর্থ সঙ্কল্প উৎসর্গ করার সাহস
দেখিয়েছিল। তাহলে চেক ক'রে দেখো, সেই সাহস কি সদা কায়েম আছে? কারণ সাহসী বাচ্চা
একবার, তো বাবা হাজার বার সহায় হন। তাহলে এখন কী মনে করছো? ব্যর্থ সংকল্পের যে সাহস
রেখে বাবার সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, তা কি কায়েম আছে? কারণ এই ব্যর্থ সংকল্পে সময়
অনেক নষ্ট হয় এবং তোমাদের এই সময়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ হলো বিশ্বের আত্মাদের বার্তা
দেওয়ার। সুতরাং ব্যর্থ সংকল্পকে সমাপ্ত করতে হবে, তবেই দুঃখী ও অশান্ত আত্মাদের সুখ
ও শান্তির অনুভব করাতে পারবে। দুঃখী বাচ্চাদের দেখে বাপদাদার করুণা হয়। তোমাদেরও
নিজের ভাই-বোনদের দেখে করুণা হয় তো না!
বাপদাদা দেখেছেন যে, বর্তমান সময়ে সবারই আগ্রহ রয়েছে, সবাই প্ল্যান তৈরিও করেছে এবং
এই ৭৫ বছরের জুবিলি উদযাপন করার বিষয়টিকে প্র্যাক্টিক্যালও করেছে। বাপদাদা এটাই চান
যে - প্রোগ্রাম তো সব ভালোই হয়েছে, এর জন্য তিনি অভিনন্দনও জ্ঞাপন করছেন। কিন্তু
এখন সময় অনুসারে তাড়াতাড়ি তাড়াতাড়ি তাদের ওয়ারিশ বানাও, যাতে তারা কিছু না কিছু
অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়ে যেতে পারে। খুব ভালো, খুব ভালো অনেকেই বলে;
বাপদাদা বাচ্চাদের সেবার এই রেজাল্ট তো দেখেছেন এবং বাবা বাচ্চাদের প্রতি খুশিও
আছেন। তারা হৃদয় থেকে করছে এবং এখন সময় অনুযায়ী শুনছেও খুব আগ্রহ নিয়ে। এতটুকু
পার্থক্য তো এসেছে। ভালো লাগে, ভালো লাগে বলে, কিন্তু তাদের ভালো বানিয়ে কিছু না
কিছু উত্তরাধিকারের অধিকারী বানাও। এর জন্য বাপদাদা আগেও ইশারা দিয়েছেন যে এখন সময়
অনুসারে তীব্র পুরুষার্থী হওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।তীব্র পুরুষার্থী হওয়ার জন্য মুখ্য
পুরুষার্থ হলো সেকেন্ডে বিন্দু লাগানো। সেকেন্ড আর বিন্দু, দুইই সমান। তো এখন
বাপদাদা বাচ্চাদের নিশ্চিন্ত বাদশাহ রূপে দেখছেন। এখন এই রূপ তোমরা সদা অনুভব করো।
যে কোনো কিছু আসুক না কেন, ‘আমার’-কে ‘তোমার’ মধ্যে সমাহিত করে দাও।
আজ বাপদাদা দেখেছেন, বৃহস্পতিবার দিন অনেক বাচ্চা বাপদাদার কাছে পৌঁছেছে। তো বাপদাদা
বলেন, সপ্তাহের দুটি দিন অত্যন্ত বিশেষ - একটি বৃহস্পতিবার, অন্যটি রবিবার, সান্ডে।
তো বৃহস্পতিবার হলো গুরুর দিন; গুরুর থেকে কী পাওয়া যায়? বরদান। তাই বৃহস্পতিবারের
দিনটি বিশেষ করে বরদানের দিন, সেই রূপে বৃহস্পতিবার উদযাপন করো। অমৃতবেলা থেকেই কোনো
না কোনো বিশেষ বরদান নিজের বুদ্ধিতে ইমার্জ রাখো। বরদান তো অনেক আছে, কিন্তু নিজের
জন্য একটি বিশেষ বরদান বুদ্ধিতে রেখে চেক করো; এই বরদানী দিনে বরদান-স্বরূপ হয়ে
বরদানকে রিপিট করতে হবে না, বরং বরদান-স্বরূপ হতে হবে। আর চেক করতে থাকো যে, আজ কতটা
সময় বরদান-স্বরূপ হয়ে থেকেছ? রবিবারের দিনটি সাধারণত দুনিয়াতে বিশেষ ছুটির দিন হয়।
তাই রবিবারের দিনটি এভাবে উদযাপন করো - তোমার জীবনে সংকল্প মাত্রও যদি কোনো দুর্বলতা
থাকে, এমনকি স্বপ্ন মাত্রও যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, তাকে ছুটি (বর্জন) দিয়ে দিতে হবে।
তো সাধারণ মানুষ যেভাবে এই দুটি দিন ভালোভাবে কাটায়, তোমরাও এই দু'দিন বিশেষ করে
লক্ষ্য এবং লক্ষণের প্রতি - শুধু লক্ষ্য নয়, লক্ষ্যের সাথে সাথে লক্ষণের প্রতিও
অ্যাটেনশন রাখো।
বাপদাদা সব বাচ্চাকে সাথে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এর জন্য সাথে চলার কী
প্রস্তুতি নিতে হবে" তোমাদের? বাবা তো এক সেকেন্ডে অশরীরী হয়ে যাবেন, কিন্তু তোমরা
যে প্রতিজ্ঞা করেছ, বাবাও প্রতিজ্ঞা করেছেন যে একসাথে চলবেন, তো চেক ক'রে দেখ তার
প্রস্তুতি আছে তোমাদের? এক সেকেন্ডে বিন্দু লাগালেন, সম্পন্ন এবং সম্পূর্ণ হয়ে চলে
গেলেন। তো এ'রকম প্রস্তুতি আছে তোমাদের? সাথে তো চলতে হবে, তাই না! চলতে হবে? কাঁধ
নাড়াও। চলতে হবে, আচ্ছা। পাক্কা? হাতে হাত দেওয়া - এর অর্থ হলো সমান হওয়া। তো চেক
করো, সময় তো হঠাৎ আসবে, তো এতখানি প্রস্তুতি আছে যাতে সাথে যেতে পারবে?
বাচ্চাদের প্রতি বাবার ভালোবাসা আছেনা! তাই বাবা একজনকেও সাথে চলার পথে পেছনে ছেড়ে
যেতে চান না। সাথে আছি, সাথে থাকব, সাথে চলব এবং একসাথে রাজধানীতে রাজপরিবারে আসব।
মঞ্জুরি আছে তো না! মঞ্জুর? প্রস্তুতি আছে? মঞ্জুরিতে তো হাত তুলবে, এই হাত তুলো
না। প্রস্তুতি আছে, এই ব্যাপারে হাত তোলো। বড় করে হাত তোলো। আচ্ছা। কালও যদি বিনাশ
হয়ে যায়, তবেও প্রস্তুত আছো? কিন্তু নিজের সেবা কি শেষ করেছো? সেবা তো এখনো বাকি রয়ে
গেছে, নাকি সেবা সমাপ্ত করেছো? সেবা সমাপ্ত হয়ে গেছে? বার্তা সবার কাছে পৌঁছে গেছে?
শুধু নিজের এলাকাতেই দেখো, তোমরা প্রত্যেককে এই বার্তা দিয়েছ - বাবা এসে গেছেন,
উত্তরাধিকার নিতে চাইলে নিয়ে নাও? এই বার্তা দিয়েছো? এখন প্ল্যান বানাচ্ছো তোমরা।
বাপদাদা শুনেছেন যে ঘরে ঘরে বার্তা দেওয়ার প্ল্যান বানাচ্ছ। ভালো, বার্তা তো দিতেই
হবে, না হলে অভিযোগ শুনতে হবে। প্রোগ্রাম বানিয়েছো তো না! ওঠো, বাবাকে প্ল্যান
জানিয়েছো তো! ওঠো। (মিডিয়ার লোকেদের ওঠালেন) ভালো, অনুযোগ মিটিয়ে নাও কেননা, যা
হওয়ার তা' তো হঠাৎ করেই হবে। তাই নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে এই প্ল্যান প্র্যাকটিক্যালে
নিয়ে এসো। নিজেদের মধ্যে ভাবনা-চিন্তা ও যুক্তি-পরামর্শ তাড়াতাড়ি করো, সময় লাগালে
তো উৎসাহ-উদ্দীপনাও একটু কমে যায়। আর তো বাপদাদার এটাই পছন্দ যে ঘরে ঘরে যেন এই
অনুযোগ মিটে যায় - আমরা তো জানতেও পারলাম না, বাবা এলেন আর চলেও গেলেন, আমরা বঞ্চিত
রয়ে গেলাম। সবার উৎসাহ আছে তো না! সবার উৎসাহ আছে? সেবা করে অনুযোগ মেটাতে হবে।
উৎসাহ যদি আছে তবে বাপদাদার সহযোগিতাও রয়েছে। আচ্ছা।
তো বাপদাদার মনের আশা তো তোমরা সবাই জানোই। সমান এবং সম্পূর্ণ, এই দুটি শব্দ সদা
চেক করো। তো বাবার এই আশা কি পূরণ করেছ? কেননা, বাপদাদা সব বাচ্চাকে বাবার আশার
নক্ষত্র মনে করেন। প্রত্যেক বাচ্চার বাবার প্রতি ভালোবাসা আছে, এটা তো বাপদাদাও
জানেন। সবাইকে মধুবনে কী নিয়ে আসে? এরা ভালোবাসার ট্রেনে আসে। ভালোবাসার প্লেনে আসে।
তাইতো বাবাও বাচ্চাদের ভালোবাসার সাবজেক্টে বাচ্চাদের প্রতি খুশি। কিন্তু যে দুটি
শব্দ বাবা চান সমান এবং সম্পূর্ণ, এটাও সম্পন্ন করতেই হবে। তো আজ বাপদাদা চারিদিকের
বাচ্চাদেরকে হৃদয়ের স্নেহময় দৃষ্টিতে দেখে প্রত্যেক বাচ্চাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসার
অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আচ্ছা।
টিচার্স অনেক এসেছে :-
টিচারদের তো বাপদাদা সর্বদাই স্মরণ করতে থাকেন, ভালোবাসেন কেননা টিচার্স নিমিত্ত হয়
প্রত্যেক ভাই এবং বোনেদেরকে উন্নতি করানোর জন্য। টিচারদেরকে বাপদাদা গুরুভাই বলেন।
গুরুভাইএর অর্থ হল সমান কেননা যেরকম বাবার কর্তব্য, সদা সেবাতে বিজি থাকা, এইরকম
যোগ্য টিচার্স বাবার সমান সদা সেবাধারী আর সদা সফলতা স্বরূপ হয়ে অন্যদেরকেও সফলতা
স্বরূপ বানায়। তো টিচারদের প্রতি বাপদাদার হৃদয়ে সর্বদাই ভালোবাসা আছে। কেন? টিচার
অর্থাৎ সদা সেবাধারী, অন্যদেরকে সদা বাবার সমান বানানো আর নতুনদেরকে বাবার পরিচয়
দিয়ে, অনুভবী বানিয়ে বাবার উত্তরাধিকারের অধিকারী বানানো। তো বাপদাদা টিচারদের প্রতি
খুশী হচ্ছেন আর এটাই হৃদয়ের ভালোবাসা, বাবার ভালোবাসা, স্টুডেন্টদের মধ্যেও ভরে
তাদেরকেও বাবার পুরো উত্তরাধিকারের অধিকারী বানায়। প্রত্যেক টিচারের কাছে বাবা এই
আশা করেন যে, এই প্রত্যেক টিচার, বাবার যাকিছু আশা, বাবা যা চান সেগুলিকে প্রত্যক্ষ
করবে এবং অন্যদেরকেও করাবে। এইজন্য প্রত্যেক টিচারকে বাপদাদা পদমগুণ অভিনন্দন
দিচ্ছেন। অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আচ্ছা।
ডবল বিদেশী ভাই-বোনেদের সাথে :-
বাপদাদা দেখেছেন সেবাতে ডবল বিদেশীও ভারতের আত্মাদের থেকে কম
নয়। বাপদাদা খুশী হচ্ছেন যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে সেবার বৃদ্ধি করছে আর
নিজেদেরকেও ভালো উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পরিচালনা করছে। ডবল বিদেশীদের এই সংস্কার আছে
যে - যেটা করবে, উৎসাহ উদ্দীপনার সাথেই করে সম্পূর্ণ করবে আর পুরুষার্থের প্রতিও
অ্যাটেন্শান আছে। তো সবাই হাত তোলো, সবাই তীব্র পুরুষার্থী তোমরা? তীব্র পুরুষার্থী?
আচ্ছা। সকলের তরফ থেকেও অনেক অনেক অভিনন্দন, কেন? তীব্র পুরুষার্থী অর্থাৎ বাপদাদার
আশাগুলিকে প্র্যাক্টিক্যালে পূর্ণ করে দেখানো। তো বাপদাদা তীব্র পুরুষার্থের জন্য
অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তীব্র পুরুষার্থী আছে আর সদা তীব্র পুরুষার্থী হয়ে অন্যদেরকেও
তীব্র পুরুষার্থী বানাবে। তো সমগ্র বিদেশ তীব্র পুরুষার্থীর লিস্টে এসে যাবে। এইরকম
রেকর্ড কিছু আছে আর কিছু করে দেখাতে হবে। কিন্তু বাপদাদা পুরুষার্থের জন্য অভিনন্দন
জানাচ্ছেন। মুরলীর উপরেও অ্যাটেনশন আছে, বাপদাদার এই মুরলীর স্নেহ ভালো লাগে।
মধুবনের সাথেও প্রেম, মুরলীর সাথেও প্রেম, পরিবারের সাথেও প্রেম আর আমার বাবার
সাথেও প্রেম। এখন সূক্ষ্ম পুরুষার্থের প্রতিও অ্যাটেনশান ভালো আছে আর বাপদাদা
দেখেছেন যে জনক বাচ্চীরও খুব ধ্যান আছে। এখানে থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক ক্লাস প্রথমে
ফরেনে পৌঁছায়। তো পালনাও ভালো প্রাপ্ত হচ্ছে। এটাও তোমাদের লাক্ (সৌভাগ্য)।
লাকিয়েস্ট আর সুইটেস্ট দুটোই আছে। আচ্ছা।
যারা প্রথম বার এসেছে তাদের সাথে :-
অনেক এসেছে। হাত নাড়াও। তো সবাই নিজেদের মধুবন ঘরে পৌঁছে গেছো,
তারজন্য বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন কেননা অন্তিম সময়ের
পূর্বেই পৌঁছে গেছোলাস্ট সো ফাস্ট যাওয়ার চান্স আছে। বাপদাদা বাচ্চাদেরকে দেখে খুশী
হচ্ছেন। এখানে পৌঁছে গেছো, খুব ভালো, এবার তীব্র পুরুষার্থ করে আগের থেকে এগিয়ে
যেতে হবে, এই দৃঢ় সংকল্প করো। দৃঢ়তাই হল সফলতার চাবি। তো আজ যেসমস্ত বাচ্চারা এসেছে
তাদেরকে বাপদাদা বিশেষ দৃঢ়তার চাবি উপহার দিচ্ছেন। দৃঢ়তাকে কখনও হালকা করবে না।
দৃঢ়তা তোমাদেরকে সদা সহজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তো বাপদাদা খুশী হচ্ছেন, যদিও পৌঁছে গেছো,
নিজেদের উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য এসেছো, এরজন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। আচ্ছা।
চারিদিকের সকল ব্রাহ্মণদেরকে বাপদাদার হৃদয়ের ভালোবাসা আর সদা
এগিয়ে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সংকল্প দিচ্ছেন। প্রত্যেক বাচ্চাকে বাপদাদা দেখছেন আর হৃদয়ে
সমাহিত করে নিচ্ছেন। নিকটে যারা আছে তারা তো বাপদাদাকে সামনে থেকে দেখছে আর তোমরা
সকল সাধন দ্বারা সামনেই দেখছো। বাপদাদাও তোমাদের সবাইকে যেখানে বসে আছো, তো এইভাবেই
দেখছেন যেন সম্মুখেই বসে আছো আর প্রত্যেককে হৃদয়ের ভালোবাসা দিচ্ছেন। এগিয়ে যেতে
থাকো, তীব্র পুরুষার্থ করে আগের থেকেও আরও এগিয়ে যেতে থাকো।
সম্মুখে বসে থাকা বাচ্চাদেরকেও বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন
আর সদা এগিয়ে যাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন, অভিনন্দন, অভিনন্দন। আচ্ছা।
বরদান:-
প্রতিটি শিক্ষাকে প্র্যাক্টিক্যাল স্বরূপে ধারণ করে
প্রমাণ দেওয়া সুপুত্র বা সাক্ষাৎকার মূর্তি ভব
যে বাচ্চারা সমূহ শিক্ষাকে কেবল শিক্ষা হিসেবেই
বুদ্ধিতে রাখে না, বরং সেগুলিকে স্বরূপে নিয়ে আসে, তারাই জ্ঞান স্বরূপ, প্রেম
স্বরূপ, আনন্দ স্বরূপ স্থিতিতে স্থিত থাকে। যারা প্রত্যেক পয়েন্টকে স্বরূপে নিয়ে
আসবে তারাই পয়েন্ট রূপে স্থিত হতে পারবে। পয়েন্টের মনন অথবা বর্ণন করা হল সহজ কিন্তু
স্বরূপ হয়ে অন্য আত্মাদেরকেও স্বরূপের অণুভব করানো - এটাই হলো প্রমান দেওয়া অর্থাৎ
সুপুত্র বা সাক্ষাৎকার মূর্তি হওয়া।
স্লোগান:-
একাগ্রতার শক্তিকে বাড়াও তাহলে মন-বুদ্ধির
উদ্ভ্রান্ত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ
করো কোনও নির্বল আত্মা তোমাদের সামনে এলে তাকে বল্ (শক্তি) দাও। সর্ব শক্তির
উত্তরাধিকার যাকিছু প্রাপ্ত করেছো সেইসব সেই নির্বল আত্মাকে দাও। সর্ব আত্মাদেরকে
বাবার খাজানা প্রদানকারী দাতা হও, নিজের শক্তির দ্বারা পিপাসু বা কষ্টে ছটফট করতে
থাকা আত্মাদেরকে জীবন দান করো, বরদাতা হয়ে প্রাপ্ত হওয়া বরদানের দ্বারা তাদেরকেও
বাবার নিকট সম্বন্ধে নিয়ে এসো, এখানাকার দাতার সংস্কারের দ্বারা ভবিষ্যতের ২১ জন্ম
পর্যন্ত রাজ্যপদ প্রাপ্ত হবে।