28.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
মোস্ট বিলাভেট শিববাবা এসেছেন বাচ্চারা তোমাদের বিশ্বের মালিক বানাতে, তোমরা তাঁর
শ্রীমৎ অনুসারে চলো"
প্রশ্নঃ -
মানুষ
পরমাত্মার বিষয়ে কোন্ দুটি কথা একজন এক রকম অন্যজন আরেক রকম বলে?
উত্তরঃ
একদিকে বলে -
পরমাত্মা অখন্ড জ্যোতি আবার অপরদিকে বলে, তিনি নাম-রূপের উর্ধ্বে। এ'দুটি হলো
পরস্পর-বিরোধী কথা। যথার্থরূপে না জানার কারণেই পতিত হয়ে যায়। বাবা যখন আসেন তখন
তাঁর সঠিক পরিচয় দেন।
গীতঃ-
মরণ তোমার
পথে(গলিতে)...
ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা গান
শুনেছে। যখন কেউ মারা যায় তখন বাবার কাছে জন্ম নেবে। এটাই বলে থাকে, বাবার কাছে
জন্ম নিয়েছি, মায়ের নাম নেবো না। শুভেচ্ছা বাবাকেই জানানো হয়। বাচ্চারা, এখন তোমরা
জানো যে, আমরা হলাম আত্মা। ও'সব হলো শরীরের কথা। এক শরীর পরিত্যাগ করে অন্য বাবার
কাছে যায়। তোমরা ৮৪ জন্মে ৮৪ সাকার বাবা পেয়েছো। কিন্তু বাস্তবে তোমরা নিরাকার
বাবার সন্তান। তোমরা আত্মারা পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান। নিবাসও করো তোমরা সেখানেই
যাকে নির্বাণধাম বা শান্তিধাম বলা হয়। আসলে তোমরা ওখানকার নিবাসী। বাবাও ওখানেই
থাকেন। তোমরা এখানে এসে লৌকিক বাবার সন্তান হও তখন সেই বাবাকে ভুলে যাও। সত্যযুগেও
তোমরা সুখী হয়ে যাও তখন সেই পারলৌকিক পিতাকে ভুলে যাও। সুখ সেই বাবাকে কেউ স্মরণ করে
না। দুঃখেই স্মরণ করে। আর স্মরণও আত্মাই করে। যখন লৌকিক বাবাকে স্মরণ করে তখন বুদ্ধি
শরীরের দিকে থাকে। এই বাবাও যখন ওঁনাকে স্মরণ করে তখন বলবে -- ও বাবা। বাবা হলো
দুজনেই। সঠিক শব্দ হলো বাবা-ই। ইনিও ফাদার, উনিও ফাদার। আত্মা, সেই আধ্যাত্মিক
বাবাকে স্মরণ করে তখন বুদ্ধি সেইদিকে যায়। একথা বাবা বসে থেকে বাচ্চাদের বোঝান। এখন
তোমরা এ'কথা জানো যে, বাবা এসেছেন, আমাদের নিজের করে নিয়েছেন। বাবা বলেন, সর্বপ্রথমে
আমি তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়েছি। তোমরা অনেক-অনেক ধনবান ছিলে পুনরায় ৮৪ জন্ম নিয়ে
ড্রামা প্ল্যান অনুসারে এখন তোমরা দুঃখী হয়েছো। ড্রামা অনুসারে পুরানো দুনিয়া
সমাপ্ত হয়ে যাবে। তোমাদের আত্মা এবং শরীর-রূপী বস্ত্র সতোপ্রধান ছিল পরে আত্মা যখন
গোল্ডেন এজ থেকে সিলভার এজে আসে তখন শরীরও সিলভার এজ এসেছে তারপর কপার এজ এসেছে।
এখন তোমাদের আত্মা একদমই পতিত হয়ে গেছে তাই শরীরও পতিত। যেমন ১৪ ক্যারেটের সোনা কেউ
পছন্দ করে না। কালো হয়ে যায়। তোমরাও এখন কালো আয়রন এজে'ড হয়ে গেছো। এখন আত্মা আর
শরীর এমন কালো হয়ে গেছে যে তা পবিত্র হবে কিভাবে? আত্মা পবিত্র হলে শরীরও পবিত্র
পাওয়া যাবে। সেটা কিভাবে হবে? গঙ্গা-স্নান করলেই কি হয়ে যাবে? না। তারা ডাকেও - হে
পতিত-পাবন... এ'কথা আত্মা বলে। বুদ্ধি পারলৌকিক বাবার দিকে চলে যায় - হে বাবা। দেখো,
বাবা শব্দটিই অতি মধুর। বাবা-বাবা শব্দটি ভারতেই বলা হয়। এখন তোমরা আত্ম-অভিমানী হয়ে
বাবার হয়ে গেছো। বাবা বলেন - আমি তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়েছিলাম। নতুন শরীর ধারণ
করেছিলে। এখন তোমরা কিরকম হয়ে গেছো। এইকথা সর্বদা অন্তরে থাকা উচিত। বাবাকেই স্মরণ
করতে হবে। স্মরণও তো করো তাই না! - হে বাবা, আমরা আত্মারা পতিত হয়ে গেছি। এখন তুমি
এসে পবিত্র কর। ড্রামাতেও এরকম ভূমিকা রয়েছে তবেই তো ডাকে। ড্রামা প্ল্যান অনুসারে
আসবেও তখনই যখন পুরানো দুনিয়া নতুন হবে তাহলে অবশ্যই সঙ্গমেই আসবে। বাচ্চারা,
তোমাদের নিশ্চয় রয়েছে যে, উনি হলেন সর্বাপেক্ষা প্রিয় বাবা। বলাও হয় - সুইট, সুইটার,
সুইটেস্ট। এখন মিষ্টি কে? লৌকিক সম্বন্ধে প্রথমে হলো বাবা, যিনি জন্ম দেন। তারপর
টিচার। তিনিও খুব ভালো । তার কাছে পড়েই প্রতিষ্ঠিত হও। । নলেজ ইজ সোর্স অফ ইনকাম বলা
হয়ে থাকে। জ্ঞানকেই নলেজ বলা হয়। যোগ হলো স্মরণ। তাহলে অসীম জগতের পিতা যিনি
তোমাদের স্বর্গে মালিক করেছিলেন, তাঁকে তোমরা এখন ভুলে গেছো। শিববাবা কীভাবে আসেন
তা কারোর জানা নেই। চিত্রতে পরিস্কারভাবে দেখানো হয়েছে। শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা
স্থাপনা করান। কৃষ্ণ কিভাবে রাজযোগ শেখাবে? রাজযোগ শেখানো হয় সত্যযুগের জন্য। তাহলে
অবশ্যই সঙ্গমে বাবা-ই শিখিয়েছেন। সত্যযুগের রচনাকার হলেন বাবা। শিববাবা এনার দ্বারা
করান, তিনি তো সবকিছু করেন এবং করন-করাবনহার তাই না! ওরা ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলে
দেয়। সর্বোচ্চ হলেন শিববাবা, তাই না! ইনি সাকার, উনি নিরাকার। সৃষ্টিও এখানেই রয়েছে।
এই সৃষ্টিরই চক্র যা আবর্তিত হতেই থাকে, পুনরাবৃত হতে থাকে। সূক্ষ্মলোকের
সৃষ্টি-চক্রের গায়ন তো করা হয় না। জগতে মানুষের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফী রিপীট হয়।
সূক্ষ্মলোকে কোনো চক্রাদি থাকে না। গায়নও রয়েছে, ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী
রিপীট হয়। সেটা হলো এখানকার কথা। সত্যযুগ-ত্রেতা.... মাঝে অবশ্যই সঙ্গমযুগ চাই। তা
নাহলে কলিযুগকে সত্যযুগে কে পরিণত করবে। নরকবাসীদের স্বর্গবাসী করতে বাবা সঙ্গমেই
আসেন। এ হলো হাইয়েস্ট অথরিটি গডফাদারলী গভর্নমেন্ট । সাথে ধর্মরাজও রয়েছে। আত্মা বলে
- 'নির্গুণ আমি, আমার মধ্যে কোনো গুণ নেই'। কেউ যখন দেবতার মন্দিরে যাবে তখন ওনাদের
সম্মুখে এরকমই বলবে। কিন্তু বলা উচিত বাবাকে। তাঁকে ছেড়ে ভাইদের(দেবতা) সামনে গিয়ে
এ'সব বলবে। এই দেবতারা তো ব্রাদার্সই হলো, তাই না! ভাইদের কাছ থেকে তো কিছুই পাওয়া
যাবে না। ভাইদের পূজা করতে-করতে অধঃপতনে গেছো। বাচ্চারা, তোমরা এখন জানো যে, বাবা
এসেছেন, ওনার কাছ থেকে আমরা উত্তরাধিকার পাই। বাবাকেই জানে না, সর্বব্যাপী বলে দেয়।
কেউ আবার বলে, উনি হলেন অখন্ড জ্যোতি তত্ব। কেউ বলে, তিনি নাম-রূপের উর্ধ্বে। যখন
তিনি অখণ্ড জ্যোতি-স্বরূপ তখন আবার নাম-রূপের ঊর্ধ্বে কিভাবে বলতে পারো। বাবাকে না
জানার কারণেই পতিত হয়ে গেছে।তমোপ্রধানও হতেই হবে। পুনরায় যখন বাবা আসেন তখন এসে
সকলকে সতোপ্রধান বানান। সমস্ত আত্মারাই নিরাকারী দুনিয়ায় বাবার সঙ্গে থাকে পুনরায়
এখানে সতঃ-রজঃ-তমঃ-তে এসে নিজের নিজের পার্ট প্লে করে। আত্মাই বাবাকে স্মরণ করে।
বাবা আসেনও, বলেনও যে, আমি ব্রহ্মার শরীরকে মাধ্যম(আধার) হিসেবে গ্রহণ করি। ইনি
হলেন ভাগ্যশালী রথ। আত্মা ব্যতীত রথ হয় নাকি, না তা হয় না। বাচ্চারা, এখন তোমাদের
বোঝানো হয়েছে যে, এ হলো জ্ঞানের বর্ষা। নলেজ রয়েছে, এর দ্বারা কি হয়? পতিত দুনিয়া
থেকেই পবিত্র দুনিয়া রচিত হয়। গঙ্গা-যমুনা তো সত্যযুগেও থাকে। কথিত আছে যে, কৃষ্ণ
যমুনার উপকন্ঠে খেলাধূলো করে। এরকম কোনো ব্যাপার নেই। সে হলো সত্যযুগের রাজপুত্র।
অতি সযত্নে তাঁকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় কারণ তিনি হলেন ফুল, তাই না ! ফুল কত মনোরম,
সুন্দর হয়। সকলেই এসে ফুলের থেকে সুগন্ধ নেয়। কাঁটার সুগন্ধ নেয় নাকি! না তা নেয়
না। এখন এ হলো কাঁটার জঙ্গল। বাবা এসে কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগানে পরিনত করেন,
সে'জন্য তাঁর নামও বাবুলনাথ রেখে দেওয়া হয়েছে। বসে-বসে কাঁটাকে ফুলে পরিনত করেন তাই
মহিমা কীর্তন করা হয় - কাঁটাকে ফুলে পরিণত করা বাবা। বাচ্চারা, এখন তোমাদের বাবার
সঙ্গে কতখানি ভালবাসা থাকা উচিত। ওই লৌকিক পিতা তো তোমাদের নোংরা নালায়(বিকারে) ফেলে
দেয়। এই বাবা ২১ জন্মের জন্য তোমাদের নোংরা নালা থেকে তুলে এনে পবিত্র করেন। উনি
তোমাদের পতিত বানান তাই তো লৌকিক বাবা থাকতেও আত্মা পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করে। এখন
তোমরা জানো যে, অর্ধেক কল্প বাবাকে স্মরণ করেছি। বাবা আসেনও অবশ্যই। শিব-জয়ন্তী
পালন করা হয়, তাই না ! তোমরা জানো যে, আমরা অসীম জগতের পিতার হয়ে গেছি। এখন আমাদের
সম্বন্ধ তাঁর সঙ্গেও রয়েছে আর লৌকিকের সঙ্গেও রয়েছে। পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ করলে
তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। আত্মা জানে যে, উনি আমাদের লৌকিক আর ইনি পারলৌকিক পিতা।
ভক্তিমার্গেও আত্মা এ'কথা জানে। তবেই তো বলে - হে ভগবান, ও গডফাদার! অবিনাশী বাবাকে
স্মরণ করে। সেই বাবা এসে স্বর্গ স্থাপন করেন। এ'কথা কারোর জানা নেই। শাস্ত্রে তো
যুগের আয়ুও অনেক লম্বা-চওড়া করে দেওয়া হয়েছে। এটা কারোর খেয়ালে আসে না যে, বাবা
আসেনই অপবিত্রকে পবিত্র করতে। তাহলে অবশ্যই সঙ্গমেই আসবে। কল্পের আয়ু লক্ষ-লক্ষ বছর
লিখে মানুষকে একদম গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। বাবাকে পাওয়ার জন্য ধাক্কা খেতে থাকে।
বলা হয় যে, অনেক ভক্তি করে সে ভগবানকে পায়। সবচেয়ে বেশি ভক্তি করে যে, তার প্রথমে
পাওয়া উচিত। বাবা হিসেবও বলে দিয়েছেন যে - সবচেয়ে প্রথমে ভক্তি করো তোমরা। তাহলে
সর্বপ্রথমে তোমাদেরই ঈশ্বরের দ্বারা জ্ঞান পাওয়া উচিত যার দ্বারা পুনরায় তোমরাই
নতুন দুনিয়ায় রাজ্য করবে। বাচ্চারা, অসীম জগতের পিতা তোমাদের জ্ঞান প্রদান করছেন,
এতে কষ্টর কোনো কথা নেই। বাবা বলেন - তোমরা অর্ধেক কল্প স্মরণ করেছো। সুখে তো কেউ
স্মরণ করেই না। শেষে সকলেই যখন দুঃখী হয়ে পড়ে তখন আমি এসে সকলকে সুখী করি। এখন তোমরা
অনেক বড় মানুষ হয়ে যাও। দেখো, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদিদের বাংলো কত
ফার্স্টক্লাস হয়। ওখানে (স্বর্গে) আবার গরু ইত্যাদি, সমস্তরকমের আসবাবপত্র এরকমই
ফার্স্ট ক্লাস হবে। তোমরা তো কত বড় মানুষ (দেবতা) হয়ে যাও। দৈব-গুণসম্পন্ন দেবতা,
স্বর্গের মালিক হয়ে যাও। ওখানে তোমাদের জন্য অট্টালিকাও হীরে-জহরতের হয়। তোমাদের
আসবাবপত্রও ওখানে স্বর্ণখচিত সর্বোত্তম হবে। এখানে দোলনাদি সবকিছুতেই দরিদ্রতা।
ওখানে তো হীরে-জহরতের সব ফার্স্টক্লাস জিনিসপত্র থাকবে। এ হলো রুদ্র জ্ঞান-যজ্ঞ।
শিবকে রুদ্রও বলা হয়। যখন ভক্তি সম্পূর্ণ হয় তখন ভগবান পুনরায় রুদ্র-যজ্ঞ রচনা
করেন। সত্যযুগে যজ্ঞ অথবা ভক্তির কোনো কথাই নেই। এইসময়েই বাবা অবিনাশী রুদ্র
জ্ঞান-যজ্ঞ রচনা করেন, পরে যার গায়ন চলতে থাকে। ভক্তি তো সর্বদা থাকবে না। ভক্তি আর
জ্ঞান। ভক্তি হলো রাত, জ্ঞান হলো দিন। বাবা এসে দিন করে দেন তাই বাচ্চাদের সঙ্গে
বাবার কত ভালবাসা থাকা উচিত। বাবা আমাদের বিশ্বের মালিক করে দেন। সর্বপ্রিয় বাবা।
ওনার থেকে প্রিয় কোন বস্তু হতে পারে না। আধাকল্প ধরে স্মরণ করে এসেছো। বাবা এসো
আমাদের দুঃখ দূর করো। এখন বাবা এসেছেন। তিনি বোঝান - তোমাদের নিজেদের গৃহস্থী জীবনে
তো থাকতেই হবে। এখানে বাবার কাছে কতক্ষণ বসে থাকবে। বাবার সঙ্গে তো পরমধামেই থাকতে
পারবে। এতসব বাচ্চারা তো এখানে থাকতে পারে না। টিচার প্রশ্ন কিকরে জিজ্ঞাসা করবে !
লাউড স্পীকারে রেসপন্স কীভাবে করবে? সেইজন্য অল্প-অল্প করে স্টুডেন্টদের পড়াতে
থাকেন। কলেজ তো অনেকই আছে, পরে আবার সকলের পরীক্ষাও হয়। লিস্ট বেরোয়। এখানে তো
অদ্বিতীয় পিতাই পড়ান। এও বোঝানো উচিত যে, দুঃখে সকলেই সেই পারলৌকিক পিতাকে স্মরণ
করে। এখন সেই পিতা এসেছেন। ভীষণ ভয়াবহ মহাভারতের যুদ্ধ সম্মুখে উপস্থিত । ওরা মনে
করে মহাভারতের যুদ্ধে কৃষ্ণ এসেছিল। তা তো হতে পারে না। বেচারা-রা বিভ্রান্ত হয়ে
রয়েছে, তাই না! তবুও কৃষ্ণ-কৃষ্ণ বলে স্মরণ তো করে, তাই না! এখন মোস্ট বিলাভড তো
শিবও এবং কৃষ্ণও । কিন্তু একজন হলেন নিরাকার, আরেকজন হলেন সাকার। নিরাকার পিতা হলেন
সকল আত্মাদের পিতা। দুজনেই মোস্ট বিলাভড। কৃষ্ণও তো বিশ্বের মালিক, তাই না! এখন
তোমরা জাজ করতে পারো যে - সর্বাধিক প্রিয় কে? শিববাবাই তো এমন সুযোগ্য করে তোলেন,
তাই না! কৃষ্ণ কি করে? বাবা-ই তো তাকে এমনভাবে তৈরী করেছেন, তাই গায়নও অধিকমাত্রায়
সেই পিতারই হওয়া উচিত। শঙ্করের ডান্স দেখানো হয়েছে । বাস্তবে ডান্স ইত্যাদির তো
কোনো কথাই নেই। বাবা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা সকলে হলে পার্বতী। এই অমরনাথ শিব তোমাদের
কথা শোনাচ্ছেন। ওটা হলো নির্বিকারী দুনিয়া। বিকারের কথাই নেই। বাবা কি বিকারী দুনিয়া
রচনা করবেন, না তা করবেন না। বিকারেই দুঃখ। মানুষেরা অনেক হঠযোগাদি শেখে। গুহায় গিয়ে
বসে থাকে, আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যায়। তাদের রিদ্ধি-সিদ্ধিও অনেক। জাদুর মাধ্যমে
অনেককিছু বের করে আনে। ঈশ্বরকেও জাদুকর, রত্নাকর, সওদাগর বলা হয় তাহলে তিনিও তো
চৈতন্য, তাই না! তিনি বলেনও - আমি আসি, জাদুকর তো, তাই না! মানুষকে দেবতা, বেগার
থেকে প্রিন্সে পরিণত করেন। এমন জাদু কখনো দেখেছো? আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
ফুলের বাগানে যেতে হবে, তাই সুগন্ধী ফুল হতে হবে। কাউকে দুঃখ দিও না। একমাত্র
পারলৌকিক াবার সঙ্গেই সর্ব সম্বন্ধ জুড়তে হবে।
২ ) শিববাবা প্রিয়
অপেক্ষাও প্রিয়, সেইজন্য সেই একজনকেই ভালবাসতে হবে। সুখ প্রদানকারী বাবাকে স্মরণ
করতে হবে।
বরদান:-
কারো
মধ্যে কোন্ কোন্ গুণ কম আছে বা কার মধ্যে কি দুর্বলতা আছে, এসব না দেখে নিজের গুণ
বা শক্তিগুলির সহযোগ দিয়ে মাস্টার দাতা ভব
মাস্টার দাতা হল সে,
যে সদা এই আত্মিক ভাবনাতে থাকে যে সকল আত্মা আমার সমান উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়ে
যায়। কারোর মধ্যে কোনও গুণের কম থাকা বা দুর্বলতাকে না দেখে, সে নিজের ধারণ করা
গুণের, শক্তির সহযোগ দিতে থাকবে। ‘এ এরকমই’ - এই ভাবনার পরিবর্তে ‘আমি একেও বাবার
সমান বানাবো’, এই শুভ ভাবনা থাকবে। তার সাথে এই শ্রেষ্ঠ কামনা থাকবে যে এই সকল
আত্মারা কাঙ্গাল, দুঃখী, অশান্ত থেকে সদা শান্ত, সুখরূপ মালামাল হয়ে যাবে - তখন বলা
হবে মাস্টার দাতা।
স্লোগান:-
মন-বচন-কর্মের দ্বারা সেবা করতে থাকা বাচ্চাই হলো নিরন্তর সেবাধারী, তার প্রতিটি
শ্বাসে সেবা সমাহিত থাকে।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
প্রথমে নিজের দেহের
থেকে, দেহের সম্বন্ধের থেকে আর পুরানো দুনিয়ার স্মৃতি থেকে মুক্ত হও। যখন এই মুক্তি
অবস্থার অনুভব করবে তখন মুক্ত হওয়ার পর জীবন্মুক্তির অনুভব স্বতঃ হবে। তো চেক করো
জীবনে থেকে দেহ, দেহের সম্বন্ধ আর পুরানো দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে কতখানি মুক্ত হয়েছো?