28.05.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা বাবার কাছে এসেছো নিজের উচ্চ ভাগ্য নির্মাণ করতে, যত শ্রীমৎ অনুসারে চলবে ততই
উচ্চ ভাগ্য নির্মাণ হবে”
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা,
ভক্তির কোন্ অভ্যাসটি এখন আর তোমাদের মধ্যে থাকা উচিত নয়?
উত্তরঃ
ভক্তিতে একটু
দুঃখ হলেই, অসুখ হলেই বলবে হে রাম, হে ভগবান, হায়-হায় করার অভ্যাস থাকে। এখন তোমরা
কখনও এমন কথা আর মুখ থেকে বের করবে না। তোমাদের তো অন্তরে মিষ্টি বাবাকে ভালোবেসে
স্মরণ করতে হবে।
গীতঃ-
ভাগ্য জাগিয়ে
এসেছি...
ওম্ শান্তি ।
প্রতিটি মানুষ
পুরুষার্থ করে - সুখ ও শান্তির ভাগ্য নির্মাণ করতে। সাধু-সন্ত, সন্ন্যাসীরা বলে,
আমাদের শান্তি চাই। দুঃখ হরণ করো, সুখ প্রদান করো। তারা ভাবে - ভগবানই একমাত্র দুঃখ
হরণ কর্তা, সুখ প্রদান কর্তা। এখন ভগবানকে মানুষ তো জানেনা। তোমরা তো বলো শিববাবা।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করকে বাবা বলবে না। তারা হলেন দেবতা। ভগবানকেই বাবা বলবে, তিনি
হলেন নিরাকার, যার পূজা অর্চনা করা হয়। জানে শিববাবা হলেন সবার। কিন্তু এই কথাটি
চিন্তনে আসে না যে আমরা বাবা কেন বলি। বাবা তো একজন লৌকিকেও থাকে - ইনি তাহলে কোন্
পিতা! এই কথাটি আত্মা বলে তিনি হলেন নিরাকার পিতা। তিনিও নিরাকার, আমরা আত্মারাও
নিরাকার। সাকার বাবা থাকা সত্বেও আত্মা নিরাকার পিতাকে ভুলে যায় না। তিনি গড ফাদার,
আমরা তাঁরই সন্তান। এখানে বলা হয় পরমপিতা। ইংরেজিতে বলা হয় - গড ফাদার, সুপ্রিম সোল,
সবচেয়ে উঁচু। লৌকিক পিতা শরীরে রচয়িতা এবং তিনি হলেন পারলৌকিক পিতা। বাবা স্বয়ং বসে
বাচ্চাদের বোঝান। বাবাকে স্মরণ করে কারণ বাবার কাছে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত
হয়। তোমরা বাবার কাছে এসেছো উত্তরাধিকার নিতে। দুঃখ হরণ কর্তা, সুখ প্রদান কর্তা
বাবা স্বয়ং এসে সুখের পথ বলে দেন। সেখানে তো দুঃখের নাম পর্যন্ত থাকে না। এখানে তো
অনেক দুঃখ আছে তাইনা, সবাই প্রার্থনা করে। এখন তো দুনিয়ায় আরও অনেক দুঃখ আসবে। কেউ
মারা গেলে কতখানি দুঃখ হয়। 'হায় ভগবান' বলে কান্নাকাটি করে। তিনি হলেন কল্যাণকারী
পিতা। গান যখন কর অর্থাৎ দুঃখ হরণ করেছেন , সুখ দিয়েছেন তাইনা।বাবা এসে বোঝান -
বাচ্চারা তোমরা কল্প-কল্প যখন অনেক দুঃখী পতিত হয়ে যাও তখন আহবান করো, হে বাবা এসো।
আমি প্রতি কল্পের সঙ্গমে আসি । পবিত্র দুনিয়ার আদি এবং পতিত দুনিয়ার অন্ত সময়কে
সঙ্গম বলা হয়। এই হল একটিমাত্র সঙ্গমযুগ। বাবা আসেন সকলের জ্যোতি জাগ্রত করতে, দুঃখ
হরণ করে সুখ প্রদান করতে। তোমরা জানো আমরা পারলৌকিক পিতার কাছে এসেছি, শিববাবা
ব্রহ্মার দেহে প্রবেশ করে এসেছেন। নিজেই বলেন আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করে এনার নাম
ব্রহ্মা রাখি। তোমরা সবাই হলে ব্রহ্মাকুমার ও কুমারী। তোমাদের এই দৃঢ় বিশ্বাস আছে
যে আমরা ব্রহ্মার সন্তান হয়েছি - বাবার কাছে সুখের উত্তরাধিকার নিতে। বাচ্চারা,
তোমাদের সুখ ছিল, যখন এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। এখন হল কলিযুগ, দুঃখধাম। এর
পরে আবার সত্যযুগ আসবে। বিশ্বের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি রিপিট হয় তাইনা। সত্যযুগে
পুনরায় লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব চাই। এই চক্র তো আবর্তিত হতেই থাকে। বাবা বোঝান
তোমরা নরকবাসী হয়েছো এখন পুনরায় স্বর্গবাসী হতে হবে। তোমরা দেবী-দেবতাদের বৃক্ষটি
খুব ছোট ছিল। এখন তোমাদের স্মরণে এসেছে, আমরাই ৮৪ জন্ম নিয়েছি। আমরা সম্পূর্ণ
বিশ্বের মালিক ছিলাম, পরে পুনর্জন্ম নিয়েছি। এখন তোমাদের ৮৪তম অন্তিম জন্মেরও শেষ
সময়। দুনিয়া নতুন থেকে পুরানো অবশ্যই হবে। নতুন দুনিয়া পবিত্র ছিল, এখন দুনিয়া
পুরানো পতিত হয়েছে। অনেক দুঃখী কাঙাল আছে। ভারত অনেক ধনী ছিল। পবিত্র গৃহস্থ আশ্রম
ছিল। পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল, সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল, সর্ব গুণ সম্পন্ন, ১৬
কলা সম্পূর্ণ ছিল। এই সব কথা শাস্ত্রে নেই। শাস্ত্র হল ভক্তি মার্গের জন্য। ভক্তির
নিয়মাবলী ই আছে তাতে। বাবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পথ পাওয়া যায় না শাস্ত্রে। যদিও বুঝতে
পারে - ভগবানকে এখানে আসতে হবে তাহলে সেখানে পৌঁছানোর কোনো প্রশ্ন নেই। যজ্ঞ, তপ
ইত্যাদি করা - শেষ কোনো পথ নয়। ভগবানকে আহবান করে এসো, আমাদের পথ বলে দাও। আমাদের
আত্মা তমোপ্রধান হয়েছে, যার দরুন উড়তে পারে না অর্থাৎ বাবার কাছে যেতে পারে না।
যদিও আত্মা এক দেহ ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করে। কোথা থেকে কোথায় চলে যায়। আমেরিকায়ও
যেতে পারে। কারো সঙ্গে সম্বন্ধ থাকলে আত্মা তৎক্ষণাৎ উড়ে যাবে, এক সেকেন্ডে। কিন্তু
উড়ে নিজের ঘরে অর্থাৎ পরমধাম যাবে, তা সম্ভব নয়। পতিত সেখানে যেতে পারে না, তাই
আহবান করে, হে পতিত-পাবন এসো। বাবা যখন আসেন তখন এসে বোঝান - আমি আসি তখন, যখন
সম্পূর্ণ দুনিয়া হয় পতিত। পতিত দুনিয়ায় একজনও পবিত্র নেই। তারা ভাবে গঙ্গা নদী হল
পতিত-পাবনী তাই স্নান করতে যায়। কিন্তু নদীর জল দ্বারা কেউ পবিত্র হতে পারে না।
পুরানো দুনিয়া হল পতিত, নতুন দুনিয়া হল পবিত্র। এখন তোমরা অসীম জগতের পিতার কাছে
স্বর্গের উত্তরাধিকার নিতে এসেছো। তোমাদেরকে পুণ্য আত্মায় পরিণত হতে হবে। তোমাদের
আত্মা সতোপ্রধান ছিল, এখন তমোপ্রধান হয়েছে। পুনরায় সতোপ্রধান গঙ্গা স্নান দ্বারা হবে
না। পতিতদের পবিত্র করা - এই কর্তব্যটি হল বাবার। নদী তো সর্বত্র ই আছে। মেঘ থেকে
বৃষ্টি হয়, সবাই পেয়ে যায়। যদি নদী দ্বারা পবিত্র হওয়া যায়, তাহলে তো সবাইকে পবিত্র
করে দিতে পারে। পবিত্র হওয়ার যুক্তি কেবল বাবা এসে বলেন ব্রহ্মার দ্বারা। এনার
নিজস্ব আত্মা আছে। বাবা বলেন - আমার নিজের শরীর নেই। কল্প-কল্প ব্রহ্মা দেহে আসি
তোমাদেরকে বোঝাতে। তোমরা নিজের জন্মের কথা জানো না। কল্পের আয়ু লক্ষ বছর বলে দিয়েছো।
বাবা বলেন - এ হলো ৮৪
জন্মের চক্র। ৫ হাজার বছরে ৮৪ লক্ষ জন্ম কেউ নিতে পারে না। তাই বাবা বোঝান - স্বর্গে
তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিলে তারপরে ২-টি কলা কম হয়েছে তারপরে ধীরে-ধীরে কলা বা
কোয়ালিটি কম হয়েছে। নতুন দুনিয়াই পুরানো দুনিয়ায় পরিণত হয়। দ্বাপর কলিযুগকে পতিত
দুনিয়া বলা হয়। এইসব কথা কোনও শাস্ত্রে নেই। আমাকে জ্ঞানের সাগর বলা হয়। আমি কি কোনো
শাস্ত্র পড়ি? আমি এই সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের কথা জানি। ভক্তি মার্গের মানুষের এই
জ্ঞান থাকে না। সেসব হল ভক্তির জ্ঞান। গানও করে, আমি পাপী, আমি নীচ। আমাদের কোনো
গুণ নেই। আপনা থেকেই দয়া হয়... এনার উপরে দয়া করা হয় তবে মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত
হয়েছেন, একেই বলে উচ্চ থেকেও উচ্চ ভাগ্য। স্কুলে ভাগ্য নির্মাণ করতে যায়। কেউ জজ,
কেউ ইঞ্জিনিয়ার হয়। ওই হল বিকার যুক্ত ভাগ্য, এইখানে তোমাদের নির্মাণ হয় ঈশ্বরের
দ্বারা ভাগ্য, তাই আহবান করে দুঃখ হরণ-কর্তা সুখ প্রদান-কর্তা, দেবতা বানাতে
একমাত্র বাবা ব্যতীত কেউ পড়াতে পারে না। বাবা আত্মাদের সঙ্গে বসে কথা বলছেন। আত্মা
বলে - এই হল আমার শরীর। শরীর তো বলবেনা, আমার আত্মা। শরীরের ভিতরে আত্মা আছে, সে বলে
- এই হল আমার শরীর। মানুষ বলে আমার আত্মাকে দুঃখ দিও না। আত্মা শরীরে না থাকলে কথাও
বলতে পারে না। আত্মা বলে, আমি এক শরীর ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করি। আমরা নিশ্চয়ই ৮৪
জন্ম ভোগ করেছি, নরকবাসী হয়েছি। এখন তোমরা পুনরায় স্বর্গবাসী হওয়ার পুরুষার্থ করছো।
স্বর্গবাসী তো বাবা বানাবেন। স্বর্গ বলা হয় সত্যযুগকে। এই যে বলা হয় অমুক স্বর্গবাসী
হল, সে কথা হল মিথ্যা। এই দুনিয়া তো নরক। কেউ মারা গেলে বলে স্বর্গে গেছে তাহলে নরকে
ডেকে আবার খাওয়ানো হয় কেন। স্বর্গে তো তারা অনেক বৈভব প্রাপ্ত করে তাহলে তোমরা
তাদের নরকে ডাকো কেন ? মানুষের এতটুকু বোধ নেই। বাবা বসে বোঝান - এখন এই কলিযুগ শেষ
হবে, এখানেই আগুন লাগবে। এইসব শেষ হয়ে যাবে। তোমরা বাচ্চারা যারা বাবার কাছে
উত্তরাধিকার নিয়েছো, তারা সত্যযুগে এসে রাজত্ব করবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণকে এই
স্বর্গের উত্তরাধিকার কে দিয়েছে? বাবা প্রদান করেছেন। তোমরা এখন বাবার দ্বারা
উপযুক্ত হচ্ছো। তোমরা বলবে আমরা নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসীতে পরিণত হচ্ছি। বাবা বলেন
- আমি স্বর্গবাসী হই না। আমি তো পরমধামে থাকি। নরকবাসী - স্বর্গবাসী তোমরা হও।
আত্মার নিবাস স্থান হল শান্তিধাম পরে তোমরা সুখধামে আসো। এই হল দুঃখধাম, এখন এই
দুনিয়ার বিনাশ হবে। এই কথা কেউ জানেনা যে ভগবান ব্রহ্মা দেহে এসে রাজযোগের শিক্ষা
দেন। তারা ভাবে কৃষ্ণ এসেছিল, কৃষ্ণের দেহে এমনও বলে না। কৃষ্ণকে ভগবান বলা হবে না।
কৃষ্ণ তো বিশ্বের মালিক। লিব্রেটর সকলের একজনই, তিনি হলেন সুপ্রীম আত্মা, পরম-আত্মা।
দুনিয়ায় কোনও সৎসঙ্গ এমন নেই, যেখানে এমন বোঝানো হয় যে আমরা পিতার কাছে স্বর্গের
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। পতিত থেকে পবিত্র করেন একমাত্র বাবা। বাবা বলেন - আমি
তোমাদের সত্য গুরু, তোমাদেরকে পবিত্র করি। যদিও গঙ্গা জল পবিত্র করে না। এই হল
পাপাত্মাদের দুনিয়া। যা কিছু কর সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতেই হবে। সতোপ্রধান থেকে
তমোপ্রধান হতেই হবে। তোমরা ভক্তি করো না। হায়-রামও বলবে না। উনি হলেন তোমাদের পিতা,
তোমাদের পড়াচ্ছেন। হে ভগবান এসো, হে রামও কখনও বলা উচিত নয়। কিন্তু অনেকের এই
অভ্যাস আছে তাই মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তোমাদেরকে বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো তাহলে
বিকর্ম বিনাশ হবে এবং তোমরা আমার কাছে আসবে। এক কেই স্মরণ করতে হবে।
বাবা বলেন - এটা হলো
তোমাদের অন্তিম জন্ম। এখন স্বর্গের উত্তরাধিকার নিয়ে নিলে তো ভালো, তা নাহলে আর
কখনও পাবে না। বাবা বুঝিয়েছেন, এরা যারা নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়, তারা আসলে
দেবী-দেবতা ধর্মের । খ্রীস্টান ধর্মের মানুষ কখনও নাম পরিবর্তন করে না। যদিও তমো
প্রধান হয় তবু খ্রীষ্টান ধর্মেই আছে। তোমরা হলে দেবী-দেবতা কিন্তু পতিত হওয়ার জন্য
নিজেকে হিন্দু বলো, নিজেকে দেবতা বলতে পার না। হিন্দুরা এই কথা ভুলে গেছে যে আমরা
আসলে দেবী-দেবতা ছিলাম। নিজেকে দেবতা ধর্মের কেউ বলে না কারণ বিকারগ্রস্ত হয়েছে। এই
হল দেহ-অভিমান। বাচ্চাদের খুব ভালো ভাবে বোঝানো হয়েছে। এখানে কোনও সাধু-সন্ন্যাসী
ইত্যাদি নেই। আমরা ব্যবসায়ী, আমরা অমুক - এসব হলো দেহ-অভিমান। এখন তোমাদের
দেহী-অভিমানী হতে হবে। দেহী-অভিমানী হওয়াতেই আছে পরিশ্রম। তোমাদেরকে বাবার কাছে
স্বর্গের উত্তরাধিকার নিতে হবে তাই বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। হাত দিয়ে কর্ম করো, আর
মনে মনে বাবাকে স্মরণ করো... । তোমরা হলে প্রিয়তমা এক প্রিয়তমের। সর্বজনের সদগতি
দাতা হলেন একমাত্র প্রিয়তম। তিনি আসেন তখন, যখন সবারই সদগতি প্রাপ্ত হয়, স্বর্গের
স্থাপনা হয়, দুঃখের নাম চিহ্ন লুপ্ত হয়। এখন তোমরা বাচ্চারা এখানে এসেছো - অসীম
জগতের পিতার কাছে স্বর্গের, ২১ জন্মের জন্য সদা সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে।
অন্য কোনও মানুষ মাত্রই কাউকে স্বর্গের মালিক বানাতে পারে না। শিববাবা ভারতেই এসে
ভারতকে স্বর্গ বানান। শিব জয়ন্তীও পালন করে কিন্তু ভুলে গেছে যে বাবার কাছে আমরা
স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। আচ্ছা !
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
পড়াশোনার আধারে নিজের উচ্চ ভাগ্য নির্মাণ করতে হবে, মান থেকে দেবতা হতে হবে। পবিত্র
হয়ে ঘরে অর্থাৎ পরমধামে ফিরে যেতে হবে তারপরে নতুন দুনিয়ায় আসতে হবে।
২ ) হাত দিয়ে কাজ করো
আর মনে মনে এক বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। কোনও উল্টো কথা না শুনবে, না শোনাবে।
বরদান:-
সদা
নিজের পবিত্র স্বরূপে স্থির থেকে গুণ রূপী মোতি চয়ন করে হোলিহংস ভব
তোমরা হোলি হংসের
স্বরূপ পবিত্র, আর তোমাদের কর্তব্য হলো সর্বদা গুণ রূপী মোতি চয়ন করা । অবগুণ রূপী
কাকড় কখনোই বুদ্ধিতে স্বীকার করো না । এই কর্তব্য পালন করার জন্য সর্বদা এক আজ্ঞা
যেন স্মরণে থাকে যে, না মন্দ চিন্তা করবে, না মন্দ শুনবে, না মন্দ দেখবে, না মন্দ
বলবে... যে এই আজ্ঞাকে সদা স্মৃতিতে রাখে, সে সদা সাগরের কিনারাতে থাকে । হংসের
ঠিকানাই হলো সাগর ।
স্লোগান:-
চলতে -
ফিরতে ফরিস্তা স্বরূপে থাকা - এটাই হলো ব্রহ্মা বাবার মন-পছন্দ উপহার ।
অব্যক্ত ইশারা :- সদা
অবিচল - অটল, একরস স্থিতির অনুভব করো
সদা অবিচল - অটল
থাকার জন্য স্ব - উন্নতি আর সেবার উন্নতিতে সদা ব্যস্ত থাকো, সকলের প্রতি শুভ ভাবনা
রাখো । সম্বন্ধের আধারে পার্ট নয়, সেবার সম্বন্ধে পার্ট বানাও । দ্বিতীয়, বিনাশী
সাধনকে অবলম্বন বা আধার করো না । এ সবই নিমিত্ত মাত্র, সেবার প্রতি । সেবার কারণে
কাজে লাগালে আর পৃথক হয়ে গেলে । সাধনের আকর্ষণে মন আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয় ।