29.08.2025
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা --
নিজের সেফ্টির জন্য বিকার রূপী মায়ার কবল থেকে সদা সুরক্ষিত থাকতে হবে, দেহ-অভিমানে
কখনও আসবে না"
প্রশ্নঃ -
পুণ্য আত্মা
হওয়ার জন্য বাবা সব বাচ্চাদের কোন্ মুখ্য শিক্ষাটি প্রদান করেন?
উত্তরঃ
বাবা বলেন -
বাচ্চারা, পুণ্যাত্মা হতে হলে ১. শ্রীমৎ অনুযায়ী সদা চলতে থাকো। স্মরণের যাত্রায়
গাফিলতি ক'রো না। ২. আত্ম -অভিমানী হওয়ার পুরোপুরি পুরুষার্থ করে কাম বিকার রূপী
মহাশত্রুকে পরাজিত করো। এই হলো সময় - পুণ্যাত্মা হয়ে এই দুঃখধাম থেকে সুখধামে
যাওয়ার ।
ওম্ শান্তি ।
বাবা রোজ
বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। শিববাবার উদ্দেশ্যে বলা হবে না যে শিববাবার ছোট ছোট
বাচ্চা কাচ্চা আছে (বচড়েওয়ালে) । আত্মারা তো হলোই অনাদি। পিতাও তাই। এই সময় যখন
বাপ এবং দাদা একত্রে আছেন তখনই বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে হয়। বাচ্চারা হলো অনেক,
যাদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এক একজনের কর্মের চার্ট রাখতে হয়। যেমন লৌকিক পিতার
চিন্তা থাকে, তাইনা। তারা চিন্তা করে - আমার সন্তানও যদি এই ব্রাহ্মণ কুলে এসে যায়
তাহলে ভালো হয়। আমাদের বাচ্চারাও পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ায় যাবে। এই পুরানো
দুনিয়ায় নর্দমায় যেন ভেসে না যায়। অসীম জগতের পিতার আত্মা রূপী বাচ্চাদের চিন্তা
থাকে। অনেক সেন্টার আছে, কোন্ বাচ্চাকে কোথায় পাঠাতে হবে, যাতে সে সুরক্ষিত থাকে।
আজকাল সেফটি থাকা খুবই মুশকিল। দুনিয়ায় কোনো সেফটি নেই। স্বর্গে তো প্রত্যেকের সেফটি
আছে। এখানে কোনো সেফটি নেই। যেভাবেই হোক বিকার রূপী মায়ার কবলে পড়ে যায়। এখন তোমরা
আত্মারা এখানে পড়াশোনা করছো। সত্যের সঙ্গ এখানেই আছে। এখানেই দুঃখধাম থেকে বেরিয়ে
সুখধামে যেতে হবে। কারণ এখন আত্মা রূপী বাচ্চারা জানে দুঃখধাম কি, সুখধাম কি। যথাযথ
বর্তমান সময় হলো দুঃখধাম। আমরা অনেক পাপ কর্ম করেছি এবং সেখানে পুণ্য আত্মারা বসবাস
করে। আমাদের এখন পুণ্য আত্মায় পরিণত হতে হবে। এখন তোমরা প্রত্যেকে নিজের ৮৪ জন্মের
হিস্ট্রি জিওগ্রাফি জেনেছো। দুনিয়ায় কেউ ৮৪ জন্মের হিস্ট্রি জিওগ্রাফি জানে না। এখন
বাবা এসে সম্পূর্ণ জীবন কাহিনী বুঝিয়েছেন। এখন তোমরা জানো আমাদের সম্পূর্ণ পুণ্য
আত্মায় পরিণত হতে হবে - স্মরণের যাত্রা দ্বারা। এতেই অনেকে গাফিলতি করে ধোঁকা খায় ।
বাবা বলেন এই সময়ে গাফিলতি করা ভালো নয়। শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। তাতেও মুখ্য কথা
হলো এক তো স্মরণের যাত্রায় থাকো, দ্বিতীয় কাম বিকাররূপী মহা শত্রুকে পরাজিত করো।
বাবাকে সব আত্মারাই ডাকে কারণ তাঁর কাছেই শান্তি ও সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়
আত্মাদের। পূর্বে দেহ-অভিমানী ছিলে, তাই কিছু জানতে না। এখন বাচ্চাদের আত্ম-অভিমানী
বানানো হয়। নতুনদের সর্বপ্রথমে এক দৈহিক পিতা, দ্বিতীয় অসীমের আত্মিক পিতার পরিচয়
দিতে হবে। অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে স্বর্গ (বহিস্ত) প্রাপ্ত হয়। দৈহিক পিতার কাছে
নরকের প্রাপ্তি হয়। সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন সে সম্পত্তির অধিকারী হয়। যখন
বোধ আসে তখন ধীরে ধীরে মায়ার অধীন হয়ে যায়। সেসব হলো রাবণ রাজ্যের অর্থাৎ বিকারী
দুনিয়ার নিয়মাবলী। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো এই দুনিয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এই পুরানো
দুনিয়ার বিনাশ হচ্ছে। একমাত্র গীতায় বিনাশের বর্ণনা আছে অন্য কোনো শাস্ত্রে
মহাভারতের মহাভারী যুদ্ধের বর্ণনা নেই। এ হলো গীতার পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। গীতার যুগ
অর্থাৎ আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা। গীতা হলো দেবী-দেবতা ধর্মের শাস্ত্র।
অতএব এ হলো গীতার যুগ, যখন নতুন দুনিয়ার স্থাপনা হচ্ছে। মানুষকে পরিবর্তন করতে হবে।
মানুষকে দেবতায় পরিণত হতে হবে। নতুন দুনিয়ায় অবশ্য দিব্য গুণ-যুক্ত মানুষ চাই, তাইনা।
এই সব কথা দুনিয়ার মানুষ জানে না। তারা তো কল্পের আয়ু কাল অনেক বলে দিয়েছে। এখন
বাচ্চারা বাবা তোমাদের বোঝাচ্ছেন - তোমরা বুঝেছো যে, এখন বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন এই
কথাটি সঠিক। কৃষ্ণকে কখনও পিতা, টিচার বা গুরু বলা যাবেনা। কৃষ্ণ যদি টিচার হয় তবে
শিক্ষা কোথা থেকে পেয়েছে? কৃষ্ণকে জ্ঞান সাগর তো বলা যাবে না।
এখন বাচ্চারা তোমাদের
গিয়ে বড়দের বোঝাতে হবে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করতে হবে যাতে সার্ভিসের বৃদ্ধি
কীভাবে করা যায়। বিহঙ্গ মার্গের সার্ভিস কীভাবে করা হবে। ব্রহ্মাকুমারীদের নিয়ে যে
এতখানি হাঙ্গামা করে, তারা পরে বুঝবে যে এরা তো প্রকৃত সত্য। বাকি দুনিয়া তো মিথ্যা
বলে, তাই সত্যের নৌকোটি দোলাতে থাকবে। ঝড় তুফান তো আসে তাইনা। তোমরা হলে নৌকো তাই
পার হয়ে যাও। তোমরা জানো আমাদের এই মায়াবী দুনিয়া থেকে পার হয়ে যেতে হবে। সবচেয়ে
প্রথম নম্বর তুফান বা ঝড় হলো দেহ-অভিমানের। এটা হলো সবথেকে খারাপ। এই ঝড় সবাইকে
পতিত করেছে। তাই তো বাবা বলেন কাম বিকার হলো মহাশত্রু। এই ঝড় যেন খুবই তীব্র। কেউ
তো এই বিকার রূপী ঝড়কেও পরাজিত করেছে। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও চেষ্টা করে সুরক্ষিত
থাকার। কুমার-কুমারীদের জন্য তো খুবই সহজ তাই নাম গায়ন আছে কানহাইয়া বা কৃষ্ণ। এতজন
কন্যারা অবশ্যই শিববাবার । দেহধারী কৃষ্ণের এতজন কন্যা তো হওয়া সম্ভব নয়। এখন তোমরা
এই পড়াশোনা দ্বারা পাটরানী হচ্ছো, এতে পবিত্রতা ই হলো মুখ্য । নিজেকে দেখতে হবে যে
স্মরণের চার্ট ঠিক আছে তো? বাবার কাছে কারো ৫ ঘন্টার, কারো ২-৩ ঘন্টার চার্টও আসে।
কেউ তো লেখেই না। খুব কম স্মরণ করে। সবার যাত্রা একরস হওয়া সম্ভব নয়। এখনও
বাচ্চাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি হবে। প্রত্যেককে নিজের চার্ট দেখতে হবে - আমি কোন্
পদের অধিকারী হবো? কতখানি খুশী অনুভব হয়? আমাদের সর্বদা খুশীর অনুভব কেন হয় না? যখন
উচ্চ থেকেও উচ্চ পিতার সন্তান হয়েছি। ড্রামা অনুসারে তোমরা অনেক ভক্তি করেছো।
ভক্তদের ভক্তির ফল দিতে বাবা এসেছেন। রাবণ রাজ্যে তো বিকর্ম হয়েই থাকে। তোমরা
পুরুষার্থ করো - সতোপ্রধান দুনিয়ায় যাওয়ার। যারা পুরুষার্থ করবে না তারা সতো
স্থিতিতে আসবে। সবাই তো এতো জ্ঞান গ্রহণ করতে পারবে না। সংবাদ নিশ্চয়ই শুনবে। সে তো
সর্বত্র থাকতে পারে তাই দুনিয়ার কোণায় কোণায় যাওয়া উচিত। বিদেশেও সংবাদ পৌঁছানোর
মিশন যাওয়া উচিত। যেমন বৌদ্ধিদের, খ্রিস্টানদের মিশন আছে না। অন্য ধর্মের মানুষকে
নিজের ধর্মে নিয়ে আসার মিশন থাকে। তোমরা বোঝাও যে আমরা আসলে দেবী-দেবতা ধর্মের
ছিলাম। এখন হিন্দু ধর্মের হয়েছি। তোমাদের কাছে বিশেষ ভাবে হিন্দু ধর্মের মানুষ যই
আসবে। তাদের মধ্যেও যারা শিবের পূজারী, দেবতাদের পূজারী হবে তারা আসবে। যেমন বাবা
বলেন - রাজাদের সেবা করো। তারা প্রায়শঃ দেবতাদের পূজারীই হন। তাদের মহলে মন্দির থাকে।
তাদের কল্যাণও করতে হবে। তোমরাও এমন চিন্তন করো যে, আমরা বাবার সঙ্গে দূরদেশ থেকে
এসেছি। বাবা তো এসেছেন নতুন দুনিয়া স্থাপন করার জন্য। তোমরাও তাই করছো। যে স্থাপনা
করবে সে পালনা অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণও করবে। অন্তরে নেশা ভাব থাকা উচিত - আমরা
শিববাবার সঙ্গে এসেছি দৈবী রাজ্য স্থাপন করতে, সম্পূর্ণ বিশ্বকে স্বর্গ বানাতে।
আশ্চর্য কথা হলো এই দেশে ভক্তরা কত কি করতে থাকে। কেমন করে পুজো অর্চনা করে।
নবরাত্রিতে দেবীদের পূজা হয়, তাইনা। রাত্রি যখন আছে তো দিনও আছে। তোমাদের একটা গান
আছে না - কি কৌতুক দেখলাম... মাটির পুতুল বানিয়ে, শৃঙ্গার করে তারই পূজা করে, এই
করতে করতে এমনই মোহ হয়ে যায় যে, ভাসানের সময়ে চোখে জল এসে যায়। মানুষ যখন মারা যায়
তখন শব যাত্রা শুরু করে হরি বোল, হরি বোল করে জলে ডুবিয়ে দেয়। অনেকেই যায়, তাইনা।
নদী তো সর্বদা আছে। তোমরা জানো এই স্থানটি যমুনা নদীর তীর ছিলো, যেখানে রাস বিলাস
ইত্যাদি করতো। সেখানে তো বিশাল মহল থাকে। তোমাদেরই গিয়ে বানাতে হবে। যখন কোনো বড়
পরীক্ষা পাস করা হয় তখন বুদ্ধিতে এই কথা চলে - পাস করে এই কাজ করবো, বাড়ি ইত্যাদি
বানাবো। বাচ্চারা তোমাদের এই কথা স্মরণে রাখতে হবে যে আমরা দেবতা হই। এখন আমরা
নিজের ঘরে (পরমধাম) ফিরে যাবো। পরমধাম স্মরণ করে খুশীতে থাকা উচিত। মানুষ যাত্রা করে
ফিরে এসে খুশী অনুভব করে। এখন আমরা ঘরে ফিরছি। যেখানে জন্ম হয়েছিলো। আমরা আত্মা,
আমাদের ঘর হলো মূলবতন । কতখানি খুশী অনুভব হওয়া উচিত। মানুষ এত ভক্তি করে মুক্তির
জন্য। কিন্তু ড্রামাতে এমনই পার্ট আছে যে, কেউ ফিরে যেতে পারে না। তোমরা জানো
তাদেরকে অর্ধকল্প পার্ট প্লে করতেই হবে। আমাদের এখন ৮৪ জন্ম পূর্ণ হয়। এখন ফিরে যাবো
এবং তারপরে রাজধানী তে আসবো। ব্যস, ঘর আর রাজধানী অর্থাৎ পরমধাম ও স্বর্গের স্মরণে
থাকো। এখানে বসে কারো নিজের কারখানা ইত্যাদি স্মরণে থাকে। যেমন বিড়লাদের দেখো,
তাদের অনেক কারখানা ইত্যাদি আছে। সারা দিন সেসবের চিন্তা তো থাকবেই। তাদেরকে যদি বলা
হয় বাবাকে স্মরণ করো তো তাদের স্মরণে অনেক বাধা আসবে। ক্ষণে ক্ষণে ব্যবসা ইত্যাদির
কাজ স্মরণে আসতে থাকবে। সবচেয়ে সহজ হলো মাতাদের জন্য, কন্যাদের জন্য। জীবিত থেকে
মৃত সম থাকতে হবে, সম্পূর্ণ দুনিয়াকে ভুলে যেতে হবে। তোমরা নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে
শিববাবার সন্তান হও, একেই জীবিত থেকে মৃত হওয়া বলা হয়। দেহ সহ দেহের সর্ব সম্বন্ধ
ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে শিববাবার সন্তান হতে হবে। শিববাবাকেই স্মরণ করতে
থাকতে হবে কারণ মাথায় পাপের বোঝা আছে। ইচ্ছে তো সবারই হয়, আমরা জীবিত থেকে মৃত হই
শিববাবার আপন হই। শরীরের অনুভূতি যেন না থাকে। আমরা অশরীরী এসেছিলাম আবার অশরীরী হয়ে
ফিরে যেতে হবে। বাবার আপন হয়ে বাবা ব্যতীত অন্য কেউ যেন স্মরণে না আসে। এমন টা যদি
শীঘ্র হয়ে যায় তাহলে তো যুদ্ধও তাড়াতাড়ি হওয়া সম্ভব। বাবা অনেক বোঝান আমরা তো
শিববাবার আপন তাইনা। আমরা সেখানকার নিবাসী। এখানে তো অনেক দুঃখ আছে। এখন এই হলো শেষ
জন্ম। বাবা বলেছেন তোমরা সতোপ্রধান ছিলে তখন অন্য কেউ ছিলো না। তোমরা অনেক ধনী,
সমৃদ্ধ ছিলে। যদিও এই সময় টাকা পয়সা আছে কিন্তু এইসব তো কিছুই না। সবই কড়ি। এই সব
হলো অল্পকালের সুখের জন্য। বাবা বুঝিয়েছেন - অতীতে দান-পুণ্য করেছো তাই টাকাও অনেক
প্রাপ্ত হয়। আবার দান করো। কিন্তু এই হলো একটি জন্মের কথা। এখানে তো
জন্ম-জন্মান্তরের জন্য সমৃদ্ধ হয়ে যাও। যত বিরাট পার্ট, ততই বেশী দুঃখ প্রাপ্তি।
যাদের ধন অনেক তারা অনেক কিছুতে জটিল ভাবে জড়িয়ে থাকে। কোথাও স্থির হতে পারে না।
কোনো সাধারণ গরিব মানুষই সমর্পণ করবে। বিত্তবান ধনী মানুষ কখনোই হবে না। তারা
উপার্জন করে নাতি-নাতনীদের জন্য যাতে তাদের বংশ চলতে থাকে। তারা নিজেরা সেই ঘরে আসবে
না। নাতি নাতনী আসবে, যারা সুকর্ম করেছে। যেমন যারা অনেক দান করে তারা রাজা হয়।
কিন্তু এভারহেলদি তো হয় না। রাজা হলে কি হবে, অবিনাশী সুখ তো থাকে না। এখানে প্রতি
পদক্ষেপে অনেক রকমের দুঃখ আছে। সেখানে এইসব দুঃখ দূর হয়ে যায়। বাবাকে আহবান করে যে
আমাদের দুঃখ দূর করো। তোমরা জানো সব দুঃখ দূর হবে। শুধু বাবাকে স্মরণ করতে থাকো।
একমাত্র বাবা ব্যতীত অন্য কারো কাছে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হতে পারে না। বাবা
সম্পূর্ণ বিশ্বের দুঃখ দূর করেন। এইসময় পশু ইত্যাদিও খুব দুঃখে আছে। এ হলো দুঃখধাম।
দুঃখ বৃদ্ধি হতে থাকে, তমোপ্রধান হতে থাকে। এখন আমরা সঙ্গমযুগে বসে আছি। তারা সবাই
কলিযুগে আছে। এই হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। বাবা আমাদের পুরুষোত্তম বানাচ্ছেন। এই
কথাটি স্মরণে থাকলেও খুশী অনুভব হবে। ভগবান পড়ান, বিশ্বের মালিক করেন। এই কথা স্মরণ
করো। তাঁর সন্তান পড়াশোনা দ্বারা ভগবান-ভগবতী হওয়া উচিত তাইনা। ভগবান তো সুখ প্রদান
করেন তাহলে দুঃখ কীভাবে প্রাপ্ত হয়? সে কথাও বাবা বসে বোঝান। ভগবানের সন্তান দুঃখে
আছে কেন, ভগবান হলেন দুঃখহর্তা সুখকর্তা। অতএব নিশ্চয়ই দুঃখের সময়ে আসেন তবেই তো
গায়ন আছে। তোমরা জানো বাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন। আমরা পুরুষার্থ করছি। এতে কোনো
সংশয় থাকা উচিত নয়। আমরা বি.কে.রা রাজযোগ শিখছি। এই কথা মিথ্যা নয়। কারো সংশয় এলে
বোঝানো উচিত, এইটি তো হলো পড়াশোনা। বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে। আমরা হলাম সঙ্গমযুগী
ব্রাহ্মণ শিখা। প্রজাপিতা ব্রহ্মা আছেন তাহলে ব্রাহ্মণও অবশ্যই থাকা উচিত। তোমাদেরও
বোঝানো হয়েছে তাই তো দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে। যদিও মুখ্য কথা হলো স্মরণের যাত্রা, এতেই
বিঘ্ন আসে। নিজের চার্ট দেখতে থাকো - আমরা কতক্ষণ বাবাকে স্মরণ করি, কতক্ষণ আমাদের
খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকে? এই আন্তরিক খুশী থাকা উচিত যে আমাদের বাগানের
মালিক-পতিত-পাবনের সঙ্গ প্রাপ্ত হয়েছে, আমরা শিববাবার সঙ্গে ব্রহ্মার দ্বারা
হ্যান্ড-শেক করি। আচ্ছা !
মিষ্টি মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
নিজের ঘর (পরমধাম) এবং রাজধানীকে স্মরণ করে অপার খুশীতে থাকতে হবে। সদা যেন স্মরণে
থাকে - এখন আমাদের যাত্রা পূর্ণ হয়েছে, আমরা ফিরে যাই নিজের ঘর (পরমধাম), তারপরে
রাজধানীতে (স্বর্গে) আসবো।
২ ) আমরা শিববাবার
সঙ্গে ব্রহ্মার দ্বারা হ্যান্ড শেক করি, তিনি হলেন বাগানের মালিক আমাদের পতিত থেকে
পবিত্র করছেন। আমরা এই পড়াশোনা দ্বারা স্বর্গের পাটরানী হই - এই আন্তরিক খুশীতে থাকা
উচিত।
বরদান:-
তিন
প্রকারের বিজয়ের মেডেল প্রাপ্তকারী সদা বিজয়ী ভব
বিজয় মালাতে নম্বর
প্রাপ্ত করার জন্য প্রথমে নিজের উপর বিজয়ী, তারপর সকলের উপর বিজয়ী, তারপর প্রকৃতির
উপর বিজয়ী হও। যখন এই তিন প্রকারের বিজয়ের মেডেল প্রাপ্ত হবে তখন বিজয় মালার মণি হতে
পারবে। নিজের উপর বিজয়ী হওয়া অর্থাৎ নিজের ব্যর্থ ভাব, স্বভাবকে শ্রেষ্ঠ ভাব, শুভ
ভাবনার দ্বারা পরিবর্তন করা। যে এইরকম নিজের উপর বিজয়ী হয় তারা অন্যদের উপরেও বিজয়
প্রাপ্ত করে নেয়। প্রকৃতির উপর বিজয় প্রাপ্ত করা অর্থাৎ বায়ুমন্ডল, ভায়ব্রেশন আর
স্থুল প্রকৃতির সমস্যাগুলির উপর বিজয়ী হওয়া।
স্লোগান:-
নিজের
কর্মেন্দ্রিয়ের উপরে যে সম্পূর্ণ রাজত্ব করতে পারে, সে-ই হলো সত্যিকারের রাজযোগী।
অব্যক্ত ঈশারা :-
সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও
বাচ্চারা তোমাদের
জ্ঞানের সাথে সাথে সত্যিকারের আত্মিক ভালোবাসা প্রাপ্ত হয়েছে। এই আত্মিক ভালোবাসাই
প্রভুর বানিয়েছে। প্রত্যেক বাচ্চার ডবল ভালোবাসা প্রাপ্ত হয় - এক হলো বাবার,
দ্বিতীয় হল দৈবী পরিবারের। তো ভালোবাসার অনুভবই শ্রীমতে চলতে সাহায্য করে।
ভালোবাসাই চুম্বকের কাজ করে। তারপর শোনার জন্য বা মরার জন্যও তৈরী হয়ে যায়। সঙ্গমে
যারা সত্যিকারের ভালোবাসাতে জীবিত থেকেও মৃতবৎ হয়ে থাকে, তারাই স্বর্গে যায়।