30.01.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - সম্পূর্ণ কল্পে এই সময়ই হলো সর্বোত্তম কল্যাণকারী সঙ্গম যুগ, তোমরা বাচ্চারা স্যাকারিনকে ( মিষ্টি বাবা) স্মরণ করে সতোপ্রধান হয়ে ওঠো"

প্রশ্নঃ -
নানা রকম প্রশ্ন (মনে) ওঠার কারণ কী এবং সমাধানই বা কী?

উত্তরঃ  
যখন তোমরা দেহ-অভিমানে আসো তখন সংশয় তৈরি হয় আর সংশয় ওঠা মাত্রই অনেক প্রশ্নের উৎপত্তি হয়। বাবা বলেন আমি তোমাদের পতিত থেকে পবিত্র হওয়ার এবং অন্যদেরও পবিত্র করে তোলার যুক্তি বলে দিয়েছি, এতেই সব প্রশ্নের অবসান হয়ে যাবে।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে আমরা সারা জগৎ পেয়ে গেছি....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা এই গান শুনেছে । এই যে মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা - একথা কে বলেন? নিশ্চয়ই আত্মিক পিতাই একথা বলতে পারেন । মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা এখন সামনে বসে আছে আর বাবা অত্যন্ত স্নেহের সাথে বোঝাচ্ছেন। তোমরা জানো যে আত্মিক পিতা ছাড়া সবাইকে সুখ-শান্তি দেওয়া বা সবাইকে দুঃখ থেকে মুক্ত করা জগতে আর কোনও মানুষ করতে পারে না, সেইজন্যই দুঃখে বাবাকে স্মরণ করে থাকে। বাচ্চারা তোমরা সামনে বসে আছো, তোমরা জানো যে বাবা আমাদের সুখধামের যোগ্য করে তুলছেন। তোমরা সুখধামের মালিক বানানো বাবার সামনে বসে আছো। এখন বুঝেছো যে সামনে বসে শোনা আর দূর থেকে শোনার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। তোমরা মধুবনে মুখোমুখি হয়ে শুনতে আস। মধুবন খুব প্রসিদ্ধ। মধুবনে কৃষ্ণের চিত্রও আছে কিন্তু কৃষ্ণ তো সেখানে নেই। বাচ্চারা তোমরা জানো - এর জন্য প্রচেষ্টা দরকার। নিজেকে প্রতি মুহূর্তে আত্মা নিশ্চিত করতে হবে। আমি আত্মা বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে চলেছি। সম্পূর্ণ চক্রে একবারই বাবা আসেন। এই সঙ্গম পুরো কল্পের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর যুগ। এর নামই রাখা হয়েছে পুরুষোত্তম। এটাই সঙ্গম যুগ যখন মানুষ মাত্রই উত্তম হয়ে ওঠে। এখন তো সমস্ত মানুষের আত্মাই তমোপ্রধান যা সতোপ্রধান হয়ে ওঠে। সতোপ্রধানকে উত্তম বলা হয়। তমোপ্রধান হওয়ার কারণে মানুষ নীচের দিকে নেমে যায়, সুতরাং বাবা আত্মাদের সামনে এসে বোঝান। সম্পূর্ণ ভূমিকা আত্মাই পালন করে, নাকি শরীর! তোমাদের বুদ্ধিতে এসেছে যে প্রকৃতপক্ষে আমরা আত্মারা নিরাকার দুনিয়া বা শান্তিধামের নিবাসী। এটা কেউ জানেনা, না নিজে বুঝতে পারে। তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলে গেছে। তোমরা বুঝেছ আত্মারা আসলে পরমধাম নিবাসী। ওটা হলো নিরাকার দুনিয়া, এটা হলো করপরিয়াল (সাকার) ওয়ার্ল। এখানে তোমরা সব আত্মারা হলে অ্যাক্টর্স, তোমরা পার্ট প্লে করে চলেছো । তোমরা জানো সর্বপ্রথম আমরা পার্ট প্লে করতে আসি, তারপর নম্বরানুসারে সবাই আসে। সমস্ত অ্যাক্টররা একসাথে আসে না। ভিন্ন-ভিন্ন প্রকারের অ্যাক্টরদের অবিরত আসা-যাওয়া করতে থাকে। সবাই একসাথে তখনই হয় যখন নাটক সম্পূর্ণ হয়। এখন তোমরা পরিচয় পেয়েছ, আমরা আত্মারা প্রকৃতপক্ষে শান্তিধাম নিবাসী, এখানে আসি পার্ট প্লে করতে। বাবাও সম্পূর্ণ সময়ের জন্য পার্ট প্লে করতে আসেন না। আমরাই পার্ট প্লে করতে-করতে সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়ে যাই । এখন বাচ্চারা সামনে বসে তোমাদের শুনতে খুবই আনন্দ হয় । এতো মজা তো মুরলী পড়ার সময়ও হয়না । এখানে তোমরা সামনে বসে আছো তাই না!

বাচ্চারা তোমরা এখন বুঝতে পেরেছো যে, ভারত গড-গডেজদের স্থান ছিল, এখন আর নেই। চিত্রও দেখে থাক জানো যে আমরাই ওখানকার নিবাসী ছিলাম - আমরাই প্রথমে দেবতা ছিলাম, নিজের পার্ট তো স্মরণে থাকবে নাকি ভুলে যাবে। বাবা বলেন তোমরা এখানে পার্ট প্লে করেছো । এটাই ড্রামা। নতুন দুনিয়া যা আবার পুরানো হয়ে যায়। সর্বপ্রথম যে আত্মারা উপর থেকে আসে ,তারা গোল্ডেন এজে আসে । এইসব বিষয় এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। তোমরা বিশ্বের মালিক মহারাজা-মহারাণী ছিলে। তোমাদের রাজধানী ছিল। এখন তো রাজধানী নেই। এখন তোমরা শিখছ, কিভাবে আমরা রাজ্য শাসন করব। সত্যযুগে উজির (উপদেষ্টা, মন্ত্রী) থাকে না। পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ওরা তো শ্রীমৎ দ্বারা শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠে। সেইজন্য অন্যের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যদি কারো পরামর্শ নেয় বোঝা যায় যে তার বুদ্ধি দুর্বল । এখন যে শ্রীমৎ পাওয়া যায়, সেটা সত্যযুগেও বহাল থাকে। তোমরা বুঝেছ সর্বপ্রথম দেবী-দেবতাদের অর্ধকল্প ধরে রাজ্য ছিল। এখন তোমাদের আত্মা রিফ্রেশ হচ্ছে। এই নলেজ পরমাত্মা ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না।

এখন বাচ্চারা তোমাদের দেহী-অভিমানী হতে হবে। সাইলেন্স ওয়ার্ল্ড থেকে তোমরা শব্দের মধ্যে প্রবেশ করেছো । শব্দ ছাড়া কর্ম হতে পারে না। এ হলো বড়ই বোঝার বিষয়। বাবার মধ্যে যেমন সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে তেমনি তোমাদের আত্মার মধ্যেও জ্ঞান রয়েছে। আত্মাই বলে - এক শরীর ত্যাগ করে আমরা সংস্কার অনুসারে অন্য শরীর ধারণ করি। পুনর্জন্ম অবশ্যই হয়।আত্মা যেমন পার্ট পায়, সেই পার্টই করতে হয় । সংস্কার অনুসারে জন্ম নিতে থাকে। বারংবার জন্ম নিতে নিতে আত্মার পবিত্রতার ভাগ কম হতে থাকে। পতিত শব্দটি দ্বাপর থেকে কার্যে পরিণত হয়। কিছু পার্থক্য অবশ্যই হয়। নতুন বাড়ি তৈরি করার একমাসের মধ্যেই কিছু পার্থক্য অবশ্যই দেখা যায়। বাচ্চারা তোমরা বুঝেছ বাবা আমাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। বাবা বলেন আমি এসেছি বাচ্চারা তোমাদের উত্তরাধিকার দিতে। যে যতটা পুরুষার্থ করবে সে ততটাই উচ্চ পদ পাবে। বাবার কাছে কোনো পার্থক্য নেই (বাচ্চাদের প্রতি) । বাবা জানেন আমরা আত্মাদের উনি শিক্ষা প্রদান করছেন। আত্মাদের অধিকার আছে বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করার । এখানে মেল-ফিমেলের দৃষ্টি থাকে না। তোমরা সবাই আমার সন্তান, বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করছ । সব আত্মারা ভাই,যাদের বাবা পড়ান, উত্তরাধিকার দেন । বাবাই আত্মিক বাচ্চাদের সাথে কথা বলেন - আমার আদরের হারানিধি বাচ্চারা, দীর্ঘ সময় পার্ট প্লে করে-করে এখন এসে মিলিত হয়েছ, নিজেদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে । এটাও ড্রামায় নির্ধারিত। প্রথম থেকেই তোমাদের ভূমিকা নির্ধারিত হয়ে আছে। তোমরা অ্যাকট্রেসরা পার্ট প্লে করতে থাকো। আত্মা অবিনাশী, এর মধ্যে অবিনাশী পার্ট নিহিত রয়েছে। শরীর তো বদলাতেই থাকে। আত্মাই পবিত্র থেকে অপবিত্র হয়ে যায়, পতিত হয়ে যায়। সত্যযুগে পবিত্র থাকে। একে বলে পতিত দুনিয়া। যখন দেবতাদের রাজ্য ছিল নির্বিকারী ওয়ার্ল্ড ছিল, এখন আর নেই। এটাই খেলা। নতুন দুনিয়া থেকে পুরানো দুনিয়া, পুরানো দুনিয়া থেকে আবার নতুন দুনিয়া। এখন সুখধাম স্থাপনা হচ্ছে, অবশিষ্ট আত্মারা মুক্তিধামে থাকবে। এখন এই অনন্ত নাটক সম্পূর্ণ হতে চলেছে। সব আত্মারা মশার ঝাঁকের মতো যাবে। এই সময় কোনও আত্মা পতিত দুনিয়াতে আসলে তার কি মূল্য থাকবে। মূল্য তার হয় যে প্রথমে নতুন দুনিয়াতে আসে। তোমরা জান,যে দুনিয়া নতুন ছিল সেটা এখন পুরানো হয়ে গেছে। নতুন দুনিয়াতে আমরা দেবী-দেবতারা ছিলাম। ওখানে দুঃখের লেশ মাত্র ছিল না। এখানে তো অথাহ দুঃখ। বাবা এসে দুঃখের দুনিয়া থেকে মুক্ত করেন। এই পুরানো দুনিয়ার অবশ্যই পরিবর্তন হবে। তোমরা জানো আমরাই সত্যযুগের মালিক ছিলাম। ৮৪ জন্মের পর এমন (পতিত) হয়েছি। বাবা বলছেন আমাকে স্মরণ করলে তোমরা স্বর্গের মালিক হবে। সুতরাং আমরা নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ কেন করব না। কিছু তো পরিশ্রম (পুরুষার্থ) করতেই হবে। রাজত্ব পাওয়া তো সহজ ব্যাপার নয়। বাবাকে স্মরণ করতে হবে। কিন্তু মায়া অতি ওয়ান্ডার যা প্রতি পদে-পদে তোমাদের ভুল করিয়ে দেয়। এর জন্য উপায় বের করতে হবে। এমনটা নয় যে আমার হলেই (ঈশ্বরীয় সন্তান) স্মরণ স্থিত হবে। পুরুষার্থ তবে কি করবে ! তা কিন্তু নয়। যতক্ষণ জীবিত থাকবে পুরুষার্থ করতে হবে, জ্ঞান-অমৃত পান করতে হবে। এটাও তোমরা বুঝেছো এটাই আমাদের অন্তিম জন্ম। এই শরীরের বোধ ছেড়ে দেহী-অভিমানী হতে হবে। ঘর পরিবারেও থাকতে হবে। পুরুষার্থ অবশ্যই করতে হবে। শুধুমাত্র নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ কর। তমেব মাতাশ্চ পিতা....( তুমিই মাতা, পিতাও তুমি) এসবই হলো ভক্তি মার্গের মহিমা। তোমাদের শুধু এক ঈশ্বরকে স্মরণ করতে হবে। একজনই মিষ্টি স্যাকারিন । সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এক স্যাকারিনকে (মিষ্টি বাবা) স্মরণ কর । তোমাদের আত্মা এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। তাকে সতোপ্রধান করে তোলার জন্য স্মরণের যাত্রায় থাকো । সবাইকে বল বাবার কাছ থেকে সুখের উত্তরাধিকার গ্রহণ কর । সুখ হয় সত্যযুগে। সুখধাম স্থাপনাকারী হলেন বাবা। বাবাকে স্মরণ করা অতি সহজ। কিন্তু মায়ার প্রতিরোধ শক্তি প্রবল সেইজন্যই বাবাকে স্মরণ কর, তবেই খাদ বেরিয়ে যাবে। গাওয়াও হয়ে থাকে সেকেন্ডে জীবনমুক্তি। আমরা আত্মারা আত্মিক পিতার সন্তান। পরমধাম নিবাসী। তারপর আমাদের নিজের ভূমিকা রিপিট করতে হবে। এই ড্রামার ভিতরে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা আমাদের । সুখও আমরাই সবচেয়ে বেশি পাব। বাবা বলেন তোমাদের দেবী-দেবতা ধর্ম অনেক সুখ দেবে। অবশিষ্ট আত্মারা হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে অটোম্যাটিক্যালি শান্তিধামে চলে যাবে। বেশি বিস্তারের মধ্যে আমরা কেন যাব ! বাবা আসেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। মশার ঝাঁকের মতো সবাইকে নিয়ে যান। সত্যযুগে অল্প সংখ্যক মানুষ থাকে। শরীর শেষ হয়ে যাবে। আত্মা যা অবিনাশী সে হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে চলে যাবে। এমনটা নয় যে আত্মা আগুনে পুড়লে পবিত্র হবে। আত্মাকে স্মরণ রূপী যোগ অগ্নি দ্বারাই পবিত্র হতে হবে। এটাই হলো যোগ অগ্নি। ওরা (ভক্তি মার্গে) তারপর বসে নাটক সৃষ্টি করেছে, সীতা আগুনের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। আগুন দ্বারা কেউ পবিত্র হতে পারেনা। বাবা বোঝান তোমরা সব সীতারা এই সময় পতিত হয়ে গেছ। তোমরা রাবণ রাজ্যে আছ। এখন এক বাবাকে স্মরণ করেই তোমাদের পবিত্র হতে হবে। রাম একজনই। অগ্নি শব্দটি শুনে মনে করে - আগুনের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। কোথায় যোগ অগ্নি, কোথায় সেটা (সীতার অগ্নি পরীক্ষা) । আত্মা পরমপিতা পরমাত্মার সাথে যোগ যুক্ত হলেই পতিত থেকে পাবন হতে পারবে। রাত-দিনের পার্থক্য। নরকে সব সীতারা রাবণের জেলে শোক বাটিকায় আছে। এখানকার সুখ তো কাক বিষ্ঠার সমান । স্বর্গে অগাধ সুখ।

আত্মারা তোমাদের সাথে এখন শিববাবার বাগদান (বিবাহের সম্বন্ধ) হয়েছে, সুতরাং আত্মা তো ফিমেল হলো না! শিববাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। তোমরা শান্তিধামে গিয়ে তারপর সুখধামে আসবে। সুতরাং বাচ্চাদের জ্ঞান রত্ন দ্বারা ঝুলি পরিপূর্ণ করতে হবে। কোন রকম সংশয় আসা উচিত নয়, দেহ-অভিমানে এলেই অনেক প্রশ্ন ওঠে । বাবা যে যুক্তি বলে দেন সেটাও করেনা। প্রধান বিষয়ই হলো আমাকে পতিত থেকে পাবন হতে হবে। অন্য সব বিষয় ত্যাগ করতে হবে । রাজধানীতে যা কিছু রীতিনীতি এবং ব্যবস্থা ছিল সেগুলোই চলবে। যেমন মহল তৈরি করেছিল সেরকমই বানাবে। প্রধান বিষয়ই হলো পবিত্রতা। আহ্বান করে হে পতিত-পাবন....পবিত্র হলেই সুখী হতে পারবে। সবচেয়ে পবিত্র হলো দেবী-দেবতা। এখন তোমরা ২১ জন্মের জন্য সর্বোত্তম পবিত্র হয়ে ওঠো। একেই বলে সম্পূর্ণ নির্বিকারী পবিত্রতা। বাবা যে শ্রীমত দেন সেই অনুসারে চলা উচিত। কোনো সংকল্প ওঠানোর প্রয়োজন নেই । প্রথমে আমরা পতিত থেকে পাবন তো হই ! ডেকে বলে হে পতিত-পাবন...কিন্তু কিছুই বোঝে না। এটাও জানে না পতিত-পাবন কে? এটা হলো পতিত দুনিয়া, সত্যযুগ পবিত্র দুনিয়া। প্রধান বিষয়ই হলো পবিত্র হওয়া, কে পবিত্র করে তুলবে কিছুই জানে না। পতিত-পাবন বলে ডাকে কিন্তু তাদের বল তোমরা তো পতিত, তবে কিন্তু রেগে যাবে। নিজেকে বিকারগ্রস্ত কেউ-ই মনে করে না। বলে সবাই তো গৃহস্থ জীবনে ছিল। রাধা-কৃষ্ণ, লক্ষ্মী-নারায়ণের সন্তান ছিল না ! ওখানে যোগবলের দ্বারা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, এটা ভুলে গেছে। সত্য যুগকে নির্বিকারী ওয়ার্ল্ড স্বর্গ বলা হয়। ওটা হলো শিবালয়। বাবা বলেন পতিত দুনিয়াতে একজনও পবিত্র নেই। এই বাবা একজন টিচার এবং সদ্গুরু যিনি সবাইকে সদ্গতি দেন। এখানে তো একজন গুরু চলে গেলে তার সন্তানকে গদিতে বসিয়ে দেয়। সে কিভাবে সদ্গতি দিতে পারে। সবার সদ্গতি দাতা একজনই। সত্যযুগে শুধু দেবী-দেবতারা থাকে। বাকি আত্মারা সবাই শান্তিধামে চলে যাবে, রাবণ রাজ্য থেকে মুক্তি পেয়ে। বাবা সবাইকে পবিত্র করে নিয়ে যান। পাবন থেকে চট করে কেউ পতিত হয়না। নম্বরানুসারে নীচে নামতে থাকে। সতোপ্রধান থেকে সতঃ, রজঃ, তমঃ... তোমাদের বুদ্ধিতে ৮৪ জন্মের চক্র বসে গেছে । তোমরা এখন লাইট হাউস । জ্ঞান দ্বারা এই চক্রকে জেনেছ যে এটা কিভাবে ঘোরে। এখন তোমাদের আরও সবাইকে পথ বলে দিতে হবে। সবাই হলো নৌকা তোমরা পাইলট, পথ প্রদর্শক। সবাইকে বলো, তোমরা শান্তিধাম, সুখধামকে স্মরণ করো। কলিযুগ দুঃখধামকে ভুলে যাও । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ স্মরণ আর সুপ্রভাত। আত্মা রূপী পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) যতক্ষণ জীবিত থাকবে জ্ঞান-অমৃত পান করতে হবে। নিজের ঝুলি জ্ঞান রত্ন দ্বারা ভর্তি করতে হবে। সংশয়ে এসে কোনও প্রশ্ন যেন না ওঠে ।

২ ) যোগ অগ্নির দ্বারা আত্মা রূপী সীতাকে পবিত্র করে তুলতে হবে। কোনো ব্যপারে বিস্তারে না গিয়ে দেহী-অভিমানী হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে। শান্তিধাম আর সুখধামকে স্মরণ করতে হবে।

বরদান:-
সদা মনন দ্বারা মগন অবস্থার সাগরে সমাহিত হওয়ার অনুভবকারী অনুভবী মূর্তি ভব

অনুভবগুলিকে বাড়ানোর আধার হল মনন শক্তি। মনন করতে থাকা আত্মা স্বতঃ মগন থাকে। মগন অবস্থাতে যোগ লাগাতে হয় না, নিরন্তর লেগেই থাকে, পরিশ্রম করতে হয় না। মগন অর্থাৎ প্রেমের সাগরে সমাহিত হওয়া, এমন ভাবে সমাহিত থাকো যাতে কেউ আলাদা করতে না পারে। তো পরিশ্রম করা থেকে মুক্ত হও, সাগরের বাচ্চা হয়েছো তো অনুভবের পুকুরে স্নান করো না, সাগরে সমাহিত হয়ে যাও তখন বলা হবে অনুভবী মূর্তি।

স্লোগান:-
জ্ঞান স্বরূপ আত্মা হলো সে যার প্রত্যেক সংকল্প, প্রত্যেক সেকেন্ড সমর্থ হবে।

অব্যক্ত ঈশারা : - এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো

যদি কোনও স্বভাব, সংস্কার, ব্যক্তি অথবা বৈভবের বন্ধন নিজের প্রতি আকর্ষিত করে, তাহলে বাবার স্মরণের আকর্ষণ সর্বদা থাকতে পারবে না। কর্মাতীত হওয়া মানে সর্ব কর্ম বন্ধন থেকে মুক্ত, পৃথক হয়ে, প্রকৃতি দ্বারা নিমিত্ত মাত্র কর্ম করা। এই পৃথক হওয়ার পুরুষার্থ বারংবার করতে থাকো। সহজ আর স্বতঃ এই অনুভূতি হবে যে “ কর্ম যে করাচ্ছে আর কর্ম করতে থাকা এই কর্মেন্দ্রিয়গুলি হলই আলাদা।”