30.09.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - এই দেহের বোধ থেকেও মরে যাও অর্থাৎ এই পুরানো পতিত শরীরের প্রতি ভালোবাসা না রেখে কেবল বাবার সাথেই সত্যিকারের ভালোবাসার প্রীতি রাখো”

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, এই সঙ্গমযুগে তোমাদের ন্যাচারাল বিউটি কোনটি?

উত্তরঃ  
জ্ঞানের অলংকারের দ্বারা সর্বদা সুসজ্জিত থাকা - এটাই হলো তোমাদের ন্যাচারাল বিউটি । যে জ্ঞানের অলংকারের দ্বারা সুসজ্জিত থাকে, তার চেহারা ফুলের মতো প্রস্ফুটিত থাকে। যদি খুশি না থাকে, তাহলে অবশ্যই কোনোভাবে দেহ অভিমানের বশীভূত হওয়ার অভ্যাস রয়েছে, যা থেকে সকল বিকারের উৎপত্তি হয়।

গীতঃ-
জলসাঘরে জ্বলে ওঠে ঝারবাতির শিখা…
(মহফিল মেঁ জল উঠি শমা…)

ওম্ শান্তি ।
এই গানের অর্থ কতই না বিচিত্র। প্রীতি তৈরী হয়েছে কিসের জন্য? (মৃত্যু বরণের জন্য) কার সাথে প্রীতি হয়েছে? ভগবানের সঙ্গে। কারণ এই দুনিয়া থেকে মরে গিয়ে তাঁর কাছে যেতে হবে। কখনো কি কারোর সাথে এইরকম প্রীতি হয়েছে যার জন্য মৃত্যু বরণের চিন্তা করেছ? এইরকম হলে কি কেউ ভালোবাসা রাখবে? গানের অর্থ সত্যিই ওয়ান্ডারফুল। বহ্নিশিখার সাথে ভালোবাসা থাকার কারণে পতঙ্গ তার চারিদিকে ঘোরাফেরা করে এবং শেষে তাতে জ্বলে মরে যায়। তোমাদেরকেও বাবার কাছে আসার পথে এই শরীর ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু কারোর সাথে ভালোবাসা রাখলে যদি মরতে হয়, তাহলে তো সে খুব বড় শত্রু হয়ে গেল। এইজন্যই মানুষ ভয় পায়। ভগবানের কাছে যাওয়ার জন্য কত দান-পূণ্য, তীর্থযাত্রা ইত্যাদি করে থাকে। শরীর ছাড়ার সময়ে মানুষ বলে - ভগবানকে স্মরণ করো। ভগবান কতো নামী। তিনি যখন আসেন, তখন সমগ্র দুনিয়াকে শেষ করে দেন। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা এই ইউনিভার্সিটিতে আসি পুরাতন দুনিয়া থেকে নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য। পুরাতন দুনিয়াকে পতিত দুনিয়া বা হেল বলা হয়। বাবা এখন নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার রাস্তা বলছেন - কেবল আমাকে স্মরণ করো, আমি হেভেনলী গড ফাদার। ওই বাবার কাছ থেকে তোমরা টাকা-পয়সা, সম্পত্তি, বাড়ি ইত্যাদি পাবে। কন্যারা সেটাও পাবে না। তাদেরকে অন্যের বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। অর্থাৎ তারা উত্তরাধিকার নয়। ইনি তো সকল আত্মার পিতা। এনার কাছে সকলকেই আসতে হবে এবং মরতে হবে। নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সময়ে বাবা আসেন এবং সবাইকে ঘরে নিয়ে যান। কারণ নতুন দুনিয়ায় তো খুব কম মানুষ থাকবে। পুরাতন দুনিয়ায় অনেক মানুষ আছে। নতুন দুনিয়ায় যেমন মানুষ খুব কম থাকবে, সেইরকম অনেক সুখও থাকবে। পুরাতন দুনিয়ায় অনেক মানুষ আছে বলে অনেক দুঃখ। তাই মানুষ এত আর্তনাদ করে। বাপু গান্ধী, যাদের ভারতের জাতির জনক বলা হয়, তিনিও বলতেন - হে পতিত-পাবন, তুমি এসো। কেবল তাকে চিনত না। মানুষ বোঝে যে পরমপিতা পরমাত্মা-ই পতিত-পাবন। তিনিই ওয়ার্ল্ডের লিবারেটর। রাম-সীতাকে তো সমগ্র দুনিয়া মানবে না। এটাই ভুল। পরমপিতা পরমাত্মাকেই সমগ্র দুনিয়া লিবারেটর, গাইড বলে মানে। দুঃখ থেকে লিবারেট করেন। আচ্ছা, দুঃখ কে দেয় ? বাবা কখনোই দুঃখ দিতে পারেন না। কারণ তিনি পতিত-পাবন। তিনি পবিত্র দুনিয়া সুখধামে নিয়ে যান। তোমরা হলে সেই আত্মিক পিতার আত্মা রূপী সন্তান। বাবা যেরকম, বাচ্চারাও সেইরকম। লৌকিক বাবার সন্তানরা শারীরিক সন্তান। বাচ্চারা, এখন তোমাদেরকে বুঝতে হবে যে আমরা আত্মা, পরমপিতা পরমাত্মা আমাদেরকে উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য এসেছেন। আমরা স্টুডেন্ট, এটা ভুলে গেলে চলবে না। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকে যে শিববাবা মধুবনে মুরলী বাজান। সেটা কাঠের তৈরী মুরলী নয়। কৃষ্ণের নৃত্য করা, মুরলী বাজানো - এগুলো সব ভক্তিমার্গের কথা। তোমরা কখনোই বলতে পারো না যে কৃষ্ণ মুরলী বাজায়। শিববাবা-ই মুরলী বাজান। তোমাদের কাছে ভালো ভালো গীতিকার আসবে। গান সাধারণত ছেলেরাই লেখে। তোমরা ঐরকম ভক্তিমার্গের গান গাইতে পারো না। তোমাদেরকে কেবল শিববাবা-কে স্মরণ করতে হবে। বাবা বলেন, আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। শিববাবাকে বিন্দু (শূন্য) বলা হয়। ব্যবসায়ীরা বিন্দুকে (শূন্যকে) শিব লেখে। একটা শূন্য লিখলে ১০ হয়ে যায়। আরেকটা শূন্য লিখলে ১০০ হয়। তোমাদেরকেও শিববাবা-কে স্মরণ করতে হবে। যত বেশি শিববাবা-কে স্মরণ করো, অর্ধেক কল্পের জন্য তত ধনী হয়ে যাও। ওখানে কেউ গরিব হবে না। সকলেই সুখী হবে। দুঃখের নামও থাকবে না। বাবার স্মরণেই বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। তোমরা অনেক ধনী হয়ে যাবে। এটাকেই বলা হয় সত্যিকারের বাবার কাছ থেকে সত্যিকারের উপার্জন। এই উপার্জনই তোমাদের সঙ্গে থাকবে। অন্য মানুষেরা তো খালি হাতে ফিরে যায়। তোমাদেরকে হাত ভর্তি করে ফিরতে হবে। বাবাকে স্মরণ করতে হবে আর পবিত্র হতে হবে। বাবা বুঝিয়েছেন, পবিত্র থাকলে শান্তি এবং সমৃদ্ধিও থাকবে। তোমরা আত্মারা আগে পবিত্র ছিলে। পরে অপবিত্র হয়ে গেছ। সন্ন্যাসীদেরকেও পুরো পবিত্র বলা যাবে না। তোমরা সম্পূর্ণ সন্ন্যাস করছ। তোমরা জানো যে ওরা কতটুকু সুখলাভ করে। হয়তো অল্প একটু সুখ পায় কিন্তু তারপরে অনেক দুঃখ। ওগুলো হলো ভক্তিমার্গ। ভক্তিমার্গে হনুমানের পূজা করলে তার দর্শন পাওয়া যায়। চন্ডীদেবীর পূজায় কত বড় মেলা হয়। তার ছবিও সামনে রাখা থাকে। যার ধ্যান করবে, তার ছবিই চোখের সামনে ভাসবে। কিন্তু এতে কি প্রাপ্তি হয়? অনেক রকম মেলার আয়োজন করা হয়। কারণ অনেক বেচাকেনা হয়। এগুলো সব ওদের ব্যবসা। বলা হয় নর থেকে নারায়ণ বানানোর ব্যবসা হলো সবথেকে শ্রেষ্ঠ ব্যবসা। খুব কমজনই এই ব্যবসা করে। বাবার বাচ্চা হয়ে এই শরীর সহ সবকিছু বাবাকে দিয়ে দিতে হবে। কারণ তোমরা জানো যে তোমরা নতুন শরীর পাবে। বাবা বলেন, তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হলেই কৃষ্ণপুরীতে যেতে পারবে। কৃষ্ণপুরীতে কেউ এভাবে বলবে না যে আমাকে পবিত্র করে দাও। এখানে তো প্রত্যেক মানুষই আর্তনাদ করে - হে মুক্তিদাতা, তুমি এসো, এই পাপাত্মাদের দুনিয়া থেকে মুক্ত করো। এখন তোমরা জেনেছো যে বাবা আমাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে এসেছেন। ওখানে যাওয়া তো ভালো। মানুষ শান্তি চায়। কিন্তু শান্তি কাকে বলে সেটা জানেনা। কর্ম না করে তো কেউ থাকতে পারবে না। শান্তিধামেই শান্তি আছে। তবে শরীর থাকলে কর্ম তো করতেই হবে। সত্যযুগে মানুষ কর্ম করেও শান্ত থাকে। অশান্তি মানুষকে দুঃখ দেয়। তাই মানুষ বলে - কিভাবে শান্তি পাওয়া যাবে। এখন তোমরা জানো যে শান্তিধাম আমাদের ঘর। সত্যযুগে সুখ, শান্তি সবই আছে। এই দুটোই চাও নাকি কেবল শান্তি চাও। এখানে অনেক দুঃখ আছে। তাই পতিত-পাবন বাবাকে এই দুনিয়ায় আহবান করে। ভগবানের সাথে মিলিত হওয়ার জন্যই ভক্তি করে। ভক্তিও আগে একজনের করা হত, পরে অনেকের ভক্তি করা শুরু হয়েছে। ব্যভিচারের ভক্তিতে কতকিছুই না করে। সিঁড়ির ছবিতে ভালো করে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আগে বোঝাতে হবে যে ভগবান কে? শ্রীকৃষ্ণকে এইরকম কে বানিয়েছেন। আগের জন্মে সে কে ছিল। বোঝানোর সময়ে ভালো যুক্তি দেখাতে হবে। যে ভালো সেবা করে, তার আন্তরিক খুশি হয়। ইউনিভার্সিটিতেও যে ভালো পড়াশোনা করে, সে অন্যদের থেকে এগিয়ে যায়। ক্রম তো থাকেই। কেউ কেউ নির্বোধ হয়। শিববাবাকে আত্মা বলে - আমার বুদ্ধির তালা খুলে দাও। বাবা বলেন - বুদ্ধির তালা খোলার জন্যই আমি এসেছি। কিন্তু তোমার কর্ম এমন যে তালা খুলছে না। তাহলে বাবা কি করবেন ! অনেক পাপ করেছ, তাই বাবার কি করার আছে? টিচারকে যদি বলো যে আমি কম পড়াশুনা করি, তাহলে টিচার কি করবে? টিচার তো কৃপা করতে পারে না। হয়তো এক্সট্রা টাইম দিয়ে পড়াবে। তারজন্য তো কোনো বাধা নেই। প্রদর্শনী খোলাই আছে। সেখানে গিয়ে প্র্যাক্টিস করো। ভক্তিমার্গে মানুষ বলে মালা জপ করো। কেউ বলবে মন্ত্র উচ্চারণ করো। এখানে তো স্বয়ং বাবা নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। বাবাকেই স্মরণ করতে হবে যার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। সত্যযুগে তো পারলৌকিক পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া হয়ে যায়। তাই আর স্মরণ করার দরকার হয় না। ২১ জন্মের উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। তাই ভালোভাবে উত্তরাধিকার নিতে হবে। এর জন্য বাবা বলছেন - কখনোই বিকারে লিপ্ত হবে না। যদি একটুও বিকারের স্বাদ পেয়ে যাও, তবে সেটা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সিগারেট ইত্যাদি একবার স্বাদ পেলে সঙ্গে সঙ্গে অসৎসঙ্গের রঙ লেগে যায় এবং সেই নেশা থেকে বেরিয়ে আসা মুশকিল হয়ে যায়। তখন কত অজুহাত দেয়। কোনো কিছুর অভ্যাস করে ফেলা উচিত নয়। সমস্ত খারাপ অভ্যাস ছাড়তে হবে। বাবা বলছেন, বেঁচে থেকেও দেহের ভাব ত্যাগ করে আমাকে স্মরণ করো। দেবতাদের সবসময় পবিত্র ভোগ নিবেদন করা হয়। তাই তোমরাও পবিত্র ভোজন খাও। বাচ্চারা, তোমাদেরকে এখন ফুলের মতো হাসিখুশী থাকতে হবে। কন্যার বিয়ে হওয়ার পর তার মুখ হাসিখুশী থাকে। ভালো গয়না, কাপড় পড়লে খুব সুন্দর দেখায়। এখন তোমরা জ্ঞানের অলংকার পড়ছো। ওখানে স্বর্গে তো স্বাভাবিক সৌন্দর্য থাকবে। কৃষ্ণের নামটাই কতো সুন্দর। রাজা-রানী, প্রিন্স-প্রিন্সেস সকলেই খুব সুন্দর হয়। ওখানে প্রকৃতিও সতোপ্রধান হয়ে যায়। লক্ষ্মী-নারায়ণের মতো ন্যাচারাল বিউটি এখানে কেউ তৈরী করতে পারবে না। ওদেরকে কেউ এই চোখ দিয়ে দেখতেই পাবে না। হ্যাঁ, তাদের সাক্ষাৎকার হলেও তা থেকে তো হুবহু একইরকম ছবি বানানো সম্ভব নয়। যদি কোনো আর্টিস্টের সাক্ষাৎকার হয়ে যায় আর সে সঙ্গে সঙ্গে বসে বানালো, তাহলে কিছুটা হয়তো সম্ভব। কিন্তু তাও খুব কঠিন কাজ। সুতরাং বাচ্চারা, তোমাদের অনেক নেশা হওয়া উচিত। এখন বাবা আমাদেরকে নিয়ে যেতে এসেছেন। বাবার কাছ থেকে আমরা স্বর্গের উত্তরাধিকার পাই। এখন আমাদের ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। বুদ্ধিতে এইরকম চিন্তা ভাবনা আসলে অনেক খুশি হবে। বিকারের সামান্যতম চিন্তাও যেন না আসে। বাবা বলেন - কাম বিকার সবথেকে বড় শত্রু। দ্রৌপদীও এইজন্যই আর্তনাদ করেছিল। বাবা বলেন - তোমরা কেবল আমার কাছ থেকেই শোনো আর আমার এই শ্রীমৎ অন্যদেরকেও শোনাও। সন্তানের দ্বারাই পিতার প্রদর্শন হয়। পিতা কে? শিববাবা। শিব এবং শালগ্রামের কথা প্রচলিত রয়েছে। শিববাবা যা বোঝাচ্ছেন, সেগুলোকে ফলো করো। ফলো ফাদার। এটা তাঁরই গায়ন। বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা অনুসরণ করে ঐরকম পবিত্র হও। ফলো করলেই তোমরা স্বর্গের মালিক হতে পারবে। লৌকিক পিতাকে ফলো করে তোমরা ৬৩ জন্ম সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমেছ। এখন পারলৌকিক পিতাকে ফলো করে ওপরে উঠতে হবে। বাবার সঙ্গে যেতে হবে। বাবা বলেন, এক-একটা জ্ঞানরত্ন লক্ষ টাকার সমান। বাবা প্রতিদিন বোঝাতে থাকেন - মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা সবার প্রথমে সবাইকে দুই বাবার পরিচয় দাও। লৌকিক বাবা অপবিত্র হওয়ার উত্তরাধিকার দেন। পারলৌকিক বাবা পবিত্র হওয়ার উত্তরাধিকার দেন। কত পার্থক্য রয়েছে! এখন পারলৌকিক বাবা বলছেন, পবিত্র হও। যারা বিকারে লিপ্ত হয় তাদের অপবিত্র বলা হয়। তোমাদের মিশন হল অপবিত্রদের পবিত্র হওয়ার রাস্তা দেখানো। পারলৌকিক বাবাও এখন বলছেন - পবিত্র হও, কারণ বিনাশ সামনে রয়েছে। তাই এখন কি করা উচিত? অবশ্যই পারলৌকিক বাবার নির্দেশ অনুসারে চলা উচিত, তাই না! প্রদর্শনীতে এই প্রতিজ্ঞা লেখানো উচিত - পারলৌকিক বাবাকে অনুসরণ করবে ? অপবিত্রতা ত্যাগ করবে? লেখো। বাবা এই গ্যারান্টি দেন, তোমরাও এর গ্যারান্টি নিতে পারো। তোমরা অপবিত্রই কেন হও আবার আহ্বান করো কেন, হে পতিত-পাবন এসো! সবকিছু পবিত্রতার উপর নির্ভর করে। বাচ্চারা, তোমাদের দিনে-দিনে খুশি হওয়া উচিত। বাবা আমাদেরকে স্বর্গের উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) কোনো প্রকারের ছিঃ ছিঃ স্বভাব থাকা উচিত নয়। জীবিত থেকেও এই শরীরের বোধকে ত্যাগ করতে হবে।

২ ) পারলৌকিক বাবাকে অনুসরণ করে পবিত্র হতে হবে। তাঁর শ্রীমৎ অনুসারে চলার প্রতিজ্ঞা করতে হবে এবং অন্যদেরও করাতে হবে।

বরদান:-
নির্বিকারী বা ফরিস্তা স্বরূপের স্থিতি অনুভবকারী আত্ম-অভিমানী ভব

যে বাচ্চারা আত্ম-অভিমানী হয় তারা সহজেই নির্বিকারী হয়ে যায়। আত্ম-অভিমানী স্থিতি দ্বারা মন্সাতেও নির্বিকারীভাবের স্টেজ অনুভব হয়। এমনই নির্বিকারী , যাকে কোনো প্রকারের ইমপিওরিটি বা ৫ তত্ত্বের আকর্ষণ আকর্ষিত করে না - তাদেরই ফরিস্তা বলা হয়। এরজন্য সাকারে থেকেও নিজের নিরাকার আত্ম-অভিমানী স্থিতিতে স্থিত থাকো।

স্লোগান:-
জীবনে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করার জন্য বিশেষ অমৃতবেলা একান্তপ্রিয় হও।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো

ব্রাহ্মণ আত্মাদের কাছে জ্ঞান তো প্রথম থেকেই আছে কিন্তু তাদের প্রতি দুই প্রকারের দাতা হও: -

১- যে আত্মার, যে শক্তির প্রয়োজন , সেই আত্মাকে মন্সা দ্বারা অর্থাৎ শুদ্ধ বৃত্তি, এবং ভাইব্রেশন দ্বারা শক্তির দান অর্থাৎ সহযোগ দাও।

২ - কর্ম দ্বারা সদা নিজের জীবনে গুণমূর্ত হয়ে, প্রত্যক্ষ স্যাম্পেল হয়ে অন্যদের সহজভাবে গুণ ধারণ করার সহযোগ দাও, একেই বলে গুণদান। দানের অর্থ হলো সহযোগ দেওয়া।