01.09.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম, নিজেদের পরিবার পরিজনকে জ্ঞান শোনাও, নিজেদের স্বগোত্রীয়দের (হমজিন্স) কল্যাণ করো"

প্রশ্নঃ -
কোন্ শ্রীমতের পালনকারী বাচ্চারা নিজেদের অবস্থাকে একরস বানাতে পারে?

উত্তরঃ  
অবস্থাকে একরস বানানোর জন্য বাবার শ্রীমৎ হলো বাচ্চারা রোজ সকাল সকাল উঠে অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে বাবাকে স্মরণ করো। নিজেকে আত্মা মনে করো আর বাবা যা শোনাচ্ছেন তা শোনো। আর যদি স্মরণ না করো তবে আজেবাজে চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকবে, ব্যর্থ সংকল্প আসবে। সেইজন্য বাবা রায় দিচ্ছেন যে, রোজ সকাল সকাল উঠে নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করো যে, চলতে - ফিরতে, খাওয়া দাওয়া করার সময়... রান্না করার সময় বাবাকেই স্মরণ করবো।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা জানে যে রুহানী বাবা, সব আত্মাদের বাবা, যিনি হলেন সব কিছুর থেকেও উচ্চ থেকেও উচ্চ, তাঁকেই শিবায় নমঃ বলা হয়। ফাদারও বলা হয়। সেই বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা, যাকে পতিত-পাবন, জ্ঞানের সাগর বলা হয়। এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, আমরা তাঁর সামনে বসে আছি। এটা বাচ্চারা তোমাদেরকে বোঝাতে হবে। যেমন কোনো একটি গীতা পাঠশালায় কৃষ্ণের একটা ৬ ফুট লম্বা চিত্র ছিল। কৃষ্ণকে তো বাস্তবে ছোটই দেখানো হয়, তারপর বলে দেয় ইনি হলেন গীতার ভগবান । তাহলে গীতা তিনি কখন শুনিয়েছিলেন? শৈশবকালে নাকি যখন ৬ ফুটের হয়েছিল তখন? রাধা আর কৃষ্ণের যুগল মূর্তি। রাধা, কৃষ্ণের কে ছিল? রাধাকে ভগবতী আর কৃষ্ণকে ভগবান বলা হয়। এদের দু'জনের কী সম্পর্ক? এ'কথা কারও জানা নেই। কৃষ্ণ গীতার উপদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু কখন? যখন তোমরা এই রকম এই রকম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে তখন তারা বুঝে যাবে যে, ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা ছাড়া আর কেউই এই ধরনের প্রশ্ন করতে পারে না। যত বড় বড় রাজাই হোক না কেন সন্ন্যাসীদেরকে দেখে পা ছুঁয়ে প্রণাম করবেই। কারো তো প্রশ্ন করবার সাহসই হবে না। তোমরা সেই সাহস রেখে থাকো। তারা বলে, ব্রহ্মাকুমারীদের মধ্যে এতো জ্ঞান আছে যে, তারা বসে রচনা আর রচয়িতার অনেক নলেজ শুনিয়ে থাকে। তাদের বায়োগ্রাফি বলতে পারে। তোমরা তাদেরকে বলতে পারো, তোমরা শিব জয়ন্তী পালন করে থাকো, পূজা ইত্যাদি করে থাকো, তাহলে নিশ্চয়ই তিনি কখনও এসেছিলেন, তবেই না শিব জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে? তিনি কখন এসেছিলেন? শিব বাবা তো হলেন নিরাকার, তাঁর নিজের শরীর নেই। শিব জয়ন্তী পালন করা হয় যখন, কখনও তিনি এসেছিলেন নিশ্চয়ই? নিরাকারের জয়ন্তী কীকরে পালন করা হবে ? আত্মা তো হল অমর। জয়ন্তী তখনই পালন করা হয়, যখন মরে আর জন্মায়। আত্মার জয়ন্তী তো হয় না। আত্মা তো হল অবিনাশী। এমন বলা হবে না যে আত্মার জয়ন্তী । শিব তো হলেন নিরাকার, তাঁর চিত্র হিসাবে শিব লিঙ্গকে রাখা হয়। বাচ্চারা তোমাদের এই সব চিন্তা ভাবনা চলা উচিত। এখান থেকে বাড়িতে যেতে যেতেই, কাজেকর্মে গিয়েই বুদ্ধি থেকে সব কথা বেরিয়ে যায়। চিন্তন চলা বন্ধ হয়ে যায়। গুরু ইত্যাদিদের শিকলেও অনেকে ফেঁসে রয়েছে, তা আর জিজ্ঞাসা ক'রো না। অবলারা খুব সরল হয় যে। তোমরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারো - শিব জয়ন্তী তো পালন করা হয়, কিন্তু তিনি কে ? তিনি এসে কী করেছিলেন আর কখন তিনি এসেছিলেন? জয়ন্তী মানেই তো বার্থ। নিরাকার শিবের বার্থ পালন করে, তিনি হলেন নিরাকার, তাহলে তাঁর বার্থ কীকরে পালন করা হয়? কিসে করে এসেছেন? আত্মা শরীরে প্রবেশ করে, তখন বলা হয় বার্থ হয়ে গেছে । আত্মা তো হল আত্মাই। শরীরে প্রবেশ করলে তখন বলা হয় আত্মা শরীর গ্রহণ করেছে ভূমিকা পালন করবার জন্য। তিনি তো হলেন নিরাকার। তিনি জন্ম কীভাবে নিলেন? কার মধ্যে এলেন? তাঁকে তো পরমাত্মা বলা হয়। এটা কারোরই জানা নেই। হয়ত অনেক শাস্ত্র ইত্যাদি পড়েছে। কিন্তু কিছুই জানা নেই। এখন তোমরা হলে জ্ঞানে ভরপুর । এখন তোমাদেরকে তাই জ্ঞানই শোনাতে হবে। কেউ কেউ ২ - ৩ বছর ধরে আসার পর আবার অজ্ঞানতায় প্রবেশ করে যায়। বাবা আবার অজ্ঞানতাকে দূর করে জ্ঞানের ধারণা করান। এখন বাচ্চারা তোমাদেরকে জ্ঞান প্রদান করা হয়। কিন্তু যদি পুরুষ জ্ঞানে আর স্ত্রী অজ্ঞানে থাকে, তবে তো হাঁস আর বক হয়ে যায়। সেইজন্য আগে তো নারীকে জ্ঞান প্রদান করা উচিত। স্ত্রী, স্বামীকে গুরু ঈশ্বর মনে করে, তাই স্ত্রীকে গুরুর আদেশ মানতেই হবে, তাই না? এ'সব হলো এখানকার কথা। ওখানে তো আদেশ মানা না মানার প্রশ্নই আসে না। সবাই একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার রেখে চলে। সেখানে ওই রকম কোনো কিছু হয়ই না। সুতরাং চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। স্ত্রী জ্ঞানে এল, স্বামী এল না, কী করা যাবে ! জ্ঞানের ভূঁ ভুঁ করতে হবে। বাচ্চাদেরও ভুঁ ভুঁ করতে হবে। নিজেদের সতীর্থদের কল্যাণ করতে হবে । তাদেরকেও বলো বাবাকে স্মরণ করো। এখন যুদ্ধ সামনে, বাবা এসে গেছেন। মানুষ আহ্বান করে হে পতিত-পাবন এসো। যদিও পতিত দুনিয়ার বিনাশ হয়, তাহলে তোমরা পতিত হও কেন? মাতা জ্ঞানে এলে মাতার কাজ হলো নিজের বয়সী মাতাদেরও কল্যাণ করা। এখন তোমরা বাবার কাছ থেকে ২১ জন্মের জন্য সমগ্র রাজ্য নিয়ে থাকো। তোমাদের ওপরে কেউ হাত দিতে পারে না। তোমরা সমগ্র বিশ্বের মালিক হয়ে যাও। দেখো কতখানি তফাৎ । এই রকম সম্পদের অধিকারী যিনি বানিয়ে দেন, তাহলে তাঁকে কতখানি স্মরণ করা দরকার ! এখানে তো এমন অনেকেই আছে যারা শিব বাবাকে সারাদিনে স্মরণও করে না। সারাদিন ঘরের, বাইরের কাজকর্মের ঝামেলার মধ্যেই জড়িয়ে থাকে। নাহলে তো সকালে বাবাকে কতখানি ভালোবাসার সাথে স্মরণ করা উচিত। বাবা তোমার কাছে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, তোমার কাছে থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার অবশ্যই প্রাপ্ত করবো। বাবা তুমি কতো মিষ্টি। তোমার স্মরণেই আমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। মনে মনে এইসব কথা বলা, একেই বিচার সাগর মন্থন করা বলা হয়। বাবা তোমার কাছ থেকে আমরা সম্পূর্ণ বর্সা নিয়েই ছাড়বো। এখন আমাদেরকে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান অবশ্যই হতে হবে, তাহলেই আমরা সত্যযুগী রাজত্ব পাবো। বাবা তোমাকে আমরা নিরন্তর স্মরণ করবো। ৬৩ জন্ম ধরে আমরা কতো পাপ করেছি। আমাদের মাথার ওপরে কতো বোঝা চেপেছে, সেইজন্য বাবা আমরা তোমাকে স্মরণ করি। বাবা আমরা রান্নাবান্না করবো, ঘুরতে বেড়াতে যাবো, তাও তোমারই স্মরণে থাকবো। এই ভাবে এই ভাবে প্রতিজ্ঞা করলে বিকর্ম বিনাশ হতে থাকবে। বাবা আমরা রান্না করব তোমারই স্মরণে থেকে। আমাদের সতোপ্রধান অবশ্যই হতে হবে। কাল যদি হঠাৎ করে শরীর ত্যাগ হয়ে যায়, তাহলে তো আমি সতোপ্রধান হতে পারব না। মৃত্যুর চিন্তা আছে না? বাবা আমরা বেঁচে থাকতেই তোমার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার অবশ্যই নেবো। তারপর দেখা উচিত সারাদিন বাবাকে আমি কতখানি স্মরণ করেছি? যেকোনো অবস্থাতেই স্মরণের যাত্রাতে অবশ্যই থাকতে হবে। গৃহস্থ ব্যবহারেও থাকতে হবে। যুক্তি সহকারে চলতে হবে। এইভাবে এইভাবে তীব্র বেগে পুরুষার্থে অগ্রসর হলে স্মরণও থাকবে আর আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে তোমাদের আয়ু বাড়বে। স্মরণ না করলে পদও কম হয়ে যাবে । পুরুষার্থ করে বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার তো নিতে হবে আর স্বদর্শন চক্রধারী হতে হবে। যেমন হিন্দুদেরকে খ্রীষ্টান বানানোর জন্য নানরা ঘুরে ঘুরে কাজ করে। বাড়িতে বাড়িতে, দোকানে দোকানে যায় তারা। সবাইকে বলে বাইবেল নাও, এটা নাও। আমাদের খ্রীষ্টান ধর্মে অনেক সুখ সুবিধা। তাদেরও মিশন আছে, বৌদ্ধদেরও মিশন আছে। হিন্দুরা বুঝতে পারে না যে, এরা কী করে ! আমাদের হিন্দু ধর্মের যারা তাদেরকে খ্রীষ্টান বানাতে থাকে। তোমরা প্রদর্শনীতে কতো বোঝাতে থাকো। তারা তাদের ওপিনিয়নও (মতামত) লিখে দেয়। কিন্তু বাড়িতে গেলেই শেষ। এর জন্যই গাওয়া হয়েছে - বানরদের সামনে রত্ন রাখো তো তারা পাথর মনে করে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। এ'সব কিছুই তারা বোঝে না। হ্যাঁ, যারা এই ধর্মের হবে, তাদেরই টাচ হবে। বিষয় তো খুবই সহজ। বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা । বাবা ভারতেই আসেন একবারই ।

বাবা বলেন - তোমরা আমাকে, পতিত-পাবন বাবাকে ডেকে এসেছো। এখন আমি এসেছি, তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক বানাতে তোমরা তো বলেও থাকো আমরা এই ভ্রষ্টাচারী সৃষ্টিকে শ্রেষ্ঠাচারী বানিয়েই ছাড়বো। এখন তো সবাই হল নরকবাসী। তোমরা এখন শিব বাবার শ্রীমতে রয়েছো। শিব ভগবানুবাচ - আমি তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক, রাজাদেরও রাজা বানিয়ে থাকি। গীতাতে খুব সুন্দর লেখা আছে, বলা হয়েছে আমি এই সাধুদেরও উদ্ধার করতে আসি। তো এ'সব তাদেরকেও শোনানো উচিত, তাই না? আহ্বানও করে পতিত-পাবন সীতাদের রাম। এখন এর অর্থও তারা বোঝে না। সবাই হল ভক্ত আর সীতা। তারা আহ্বান করে হে রাম, আমরা সীতাদেরকে এসে উদ্ধার করো। তারপর বলে রঘুপতি রাঘব রাজা রাম... বাস্তবে রাজা রামের ব্যাপারই নয়। মুখ্য ভুল হল এটাই যে, শিবের বদলে তারা শ্রীকৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে, রামকে কালো কেন দেখানো হয়েছে? সত্যযুগ ত্রেতাতে হলোই সুন্দর, তারপর শ্যাম হয়ে যায়। প্রথমে হলো গোল্ডেন এজ, সিলভার এজ, তারপর কপার, আয়রন এজ। এই সময় হলো আযরন এজ। গোল্ডেন এজ যখন ছিল তখন কতো মান ছিল ! সুতরাং যুক্তির সাথে বোঝানো উচিত। তারা এত তাড়াতাড়ি নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না। বৃক্ষের আয়ু অনেক হয়ে গেলে, তখন সেটা জরাজীর্ণ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছায়। বয়স তো এই দুনিয়ারও হয়েছে না ! নতুন দুনিয়া আর পুরানো দুনিয়া। ওল্ড মানে কলিযুগ, তমোপ্রধান দুনিয়া। এতে একজনও সতোপ্রধান হতে পারে না। এখন তমোপ্রধানতার নাশ হতে হবে। নতুন দুনিয়া কে স্থাপন করবেন? সেই বাবা'ই। এমন নয় যে প্রলয় হয়। বাবাকে আহ্বানই তখন করে যখন পতিত হয়ে যায় । তখন বলে এসে পবিত্র বানাও। আসবেন তো তিনি সেই পুরানো দুনিয়াতে। পতিত-পাবন যখন বলা হয়, তাহলে অবশ্যই আসবেনই অন্তিম সময়ে । স্বয়ং তিনিই বলেন - প্রতি কল্পের সঙ্গমে আমি আসি, পবিত্র বানাতে। এখন হল সঙ্গম। এখন বাবা সবাইকে সদ্গতিতে নিয়ে যান। তাহলে এইরকম বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলা উচিত নয়কি? নিজের অবস্থাকে মজবুত করতে হবে। ভোর বেলায় উঠে বাবাকে স্মরণ করা উচিত। নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে। এ সব হল শরীরের অরগ্যান্স। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদেরকে যা শোনাই সেটা শোনো। মুক্তি-জীবনমুক্তির জন্য আর কারো কথা শুনো না। পরমধাম থেকে বাবা এসেছেন পবিত্র বানাতে। এরপরও তোমরা পুরানো শাস্ত্রকে কেন স্মরণ করো? ভক্তি তো করোই ভগবানকে পাওয়ার জন্য। তিনি তো হলেন সকলের সদ্গতি দাতা বাবা। বাবা ছাড়া এই নলেজ আর কেউই দিতে পারবে না। এই লক্ষ্মী-নারায়ণও এই রাজত্ব কীভাবে পেয়েছিলেন? আত্মার জন্য বলা হয় আত্মা হল বিন্দু। ঝলমল করে এক আশ্চর্য নক্ষত্র । বাবা বলেন তোমরা আমাকে বলে থাকো যে, পরমাত্মা হলেন সুপ্রীম সোল। লৌকিক বাবাকে কি কখনো পরমাত্মা বলবে? পরমাত্মা যিনি পরমধামে থাকেন, তাঁকেই বলা হবে সুপ্রীম সোল। তিনি হলেন তোমাদের বাবা। তিনি এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করবেন। গুরু শিষ্যের পাশেই তো বসবেন, তাই না? এই সব কথা কোনো শাস্ত্রেই নেই। এখন তোমরা জানো যে, তিনি হলেন আমাদের বাবা। ৫ হাজার বছর পূর্বেও বাবা রাজযোগ শিখিয়েছিলেন যে, আমাকে স্মরণ করো আর বিষ্ণুপুরীকে স্মরণ করো, তাহলে অবশ্যই সঙ্গমেই বলবেন। সত্যযুগে ছিল এক ধর্ম। তাহলে অবশ্যই একটিই ধর্ম হবে, তাই না? এত সব ধর্ম, সব বিনাশ হয়ে যাবে । এই টাইম হল সেটাই। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো তাহলে আমি তোমাকে বিশ্বের মালিক বানাবো। বাবার স্মরণেই তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। বাবা বলেন - যে বাচ্চারা ভালো সার্ভিস করে, আমি তাদেরকে স্মরণ করি, কারণ তারা আমাকে সহায়তা করছে। অনেকের কল্যাণ করে থাকে, তাই তারা আমার বড় প্রিয়। তোমাদের কাছে তো একমাত্র বাবাই হল প্রিয়, যার থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। সেইজন্য বাচ্চারা তোমাদেরকে খুব ভালো ভাবে পুরুষার্থ করতে হবে । স্মরণের যাত্রাতে থাকতে হবে। অনেক আবোলতাবোল ভাবনা চিন্তাও আসতে থাকবে। ভক্তি মার্গে নিজেকেই নিজে প্রহার করে, আমার শিবের দর্শন লাভ হোক, দর্শনের জন্য অনেক পরিশ্রম করে। এখানে তোমরা বুঝতে পারো যে, বাবার স্মরণে পাপ কেটে যাবে আর ২১ জন্মের জন্য বর্সা প্রাপ্ত হবে। দর্শন লাভের ফলে পাপ কাটে না। বাবা, যিনি বিশ্বের মালিক বানান, তাঁকে অত্যন্ত ভালোবেসে স্মরণ করা উচিত। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা কী হয়ে উঠছি। পরের জন্মে গিয়েই আমরা হবো। এই কলেজই হলো সত্যযুগের প্রিন্স প্রিন্সেজ হওয়ার । বাবা এসে ধর্ম স্থাপনার সাথে ডিটি কিংডমও (দৈবী রাজ্য) স্থাপন করেন। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বাবা মুক্তি-জীবনমুক্তির জন্য যা কিছু জ্ঞানের কথা শুনিয়েছেন, সেগুলোই শুনতে আর ধারণ করতে হবে। বাকি সব কিছু ভুলে যেতে হবে। নিজের আর নিজের পরিবারের কল্যাণ করতে হবে।

২) ব্যর্থ চিন্তা ভাবনাকে সমাপ্ত করবার জন্য ভোর বেলায় উঠে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে । স্মরণের যাত্রাতে নিযুক্ত থাকতে হবে।

বরদান:-
জ্ঞান যোগের পাওয়ারফুল কিরণের দ্বারা পুরানো সংস্কাররূপী জীবানুগুলিকে ভষ্মকারী মাস্টার জ্ঞান সূর্য ভব

যে কোনো পতিত বাতাবরণকে পরিবর্তন করার জন্য অথবা পুরানো সংস্কাররূপী জীবানুগুলিকে ভষ্ম করার জন্য এই স্মৃতি যেন থাকে যে - আমি হলাম মাস্টার জ্ঞান সূর্য। সূর্যের কর্তব্য হল আলোর প্রকাশ দেওয়া আর জীবানু ভষ্ম করা। তো জ্ঞান যোগের শক্তি বা শ্রেষ্ঠ চলন দ্বারা এই কর্তব্য করতে থাকো। যদি পাওয়ার কম হয় তো জ্ঞান কেবল প্রকাশ দেবে কিন্তু পুরানো সংস্কাররূপী জীবানুগুলিকে ধ্বংস করতে পারবে না, সেইজন্য প্রথমে যোগ তপস্যা করে পাওয়ারফুল হও।

স্লোগান:-
শুভ ভাবনা, শুভ কামনার শ্রেষ্ঠ সংকল্পই জমার খাতা বৃদ্ধি করতে থাকে।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন নিজের দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো

বর্তমান সময়ে তোমরা বাচ্চারা নিজের দয়াবান আর দাতা স্বরূপ প্রত্যক্ষ করো। তোমাদের সকলের ভান্ডার নিরন্তর খুলে রাখতে হবে। অনাদি, আদি, দাতার সংস্কার নিজের জীবনে সদা ইমার্জ রেখে, পরমাত্ম সন্দেশবাহক হয়ে বিশ্বে বাবার প্রত্যক্ষতার সন্দেশ ছড়িয়ে দাও। অসীম জগতের দাতা হয়ে ওয়ার্ল্ডের গোলার উপর দাঁড়িয়ে, অসীম জগতের সেবাতে ভায়ব্রেশন ছড়িয়ে দাও। মহান দাতা হও।