03.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমরা হলে সত্যিকারের রাজঋষি এবং রাজযোগী, রাজত্ব পাওয়ার জন্য তোমাদেরকে অবশ্যই
পবিত্র হতে হবে"
প্রশ্নঃ -
কোন্ বিষয়ে
অ্যাটেনশন রাজত্বের যোগ্য বানিয়ে দেয়?
উত্তরঃ
যদি পড়ার ওপরে
সম্পূর্ণ অ্যাটেনশন থাকে তাহলে রাজত্ব পেয়ে যাবে। বাবা যা শোনাচ্ছেন, তা ভালোভাবে
শুনে ধারণ করো। বাবা যা শোনান সেটাই যদি বাচ্চারা শোনে, তাহলে রাজত্ব পেয়ে যাবে। যদি
শোনার সময়ে হাই তুলতে থাকো বা ঢুলতে থাকো, বুদ্ধি অন্যদিকে চলে যায়, তাহলে রাজত্ব
হারিয়ে ফেলবে, এইজন্য পড়ার ওপরে সম্পূর্ণ মনোযোগ দাও।
গীতঃ-
আমাদের সেই
পথেই চলতে হবে (হমে উন রাহো পর চলনা হ্যায়)…
ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা
তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন। আজ বাচ্চাদের হঠযোগ এবং রাজযোগ সম্বন্ধে
বোঝাচ্ছেন। বাচ্চারা জানো যে ওরা (দুনিয়ার মানুষ) যা কিছু শেখায় সেগুলো সব হঠযোগ,
কারণ ওরা কর্ম-সন্ন্যাসী। প্রকৃতপক্ষে, গৃহস্থদের হঠযোগ, কর্ম-সন্ন্যাস শেখা উচিত
নয়। ওটা নিবৃত্তিমার্গ, ওদের ধর্মটাই আলাদা। তোমাদের ধর্ম তো দেবী-দেবতা ধর্ম, এই
দেবী দেবতারা রাজযোগের দ্বারাই রাজত্ব পেয়েছে। এখন তোমরা হলে রাজঋষি। ঋষি তাদের বলা
হয়, যারা পবিত্র থাকে। তোমরা এখন পবিত্র আছো। যদি কেউ পবিত্র না থাকে, তাহলে তাকে
ঋষি বলা যাবে না। তোমরা রাজত্ব পাওয়ার জন্য পবিত্র হচ্ছ। ওরা (সন্ন্যাসী) কোনো
রাজত্ব পাওয়ার জন্য পবিত্র হয় না। তোমরা জানো যে, পবিত্র দুনিয়াতে আমাদের পবিত্র
রাজত্ব ছিল। ভারতেই পাঁচ হাজার বছর আগে দেবী-দেবতাদের পূজনীয় পবিত্র প্রবৃত্তিমার্গ
ছিল। এখন তাঁরা পূজারী, পতিত হয়ে গেছে। কীভাবে পতিত হলো? ৮৪ জন্মের হিসেব রয়েছে।
বাবা, যিনি সহজ রাজযোগ শেখাচ্ছেন, উনিই তোমাদেরকে ৮৪ জন্মের হিসেব বলেন। অন্য ধর্ম
সম্পর্কে সন্ন্যাস ধর্মের লোকেরা কী জানে? এটি হলো দেবী-দেবতাদের প্রাচীন ধর্ম।
ওদের ওই ধর্ম তো অনেক পরে আসে। অতীতে যা ঘটেছিল তা সন্ন্যাসীরা বুঝতে পারে না।
তোমরা জানো যে, অনেক
প্রকারের হঠযোগ রয়েছে। দ্বাপরযুগে ভক্তিমার্গের সঙ্গে সঙ্গে হঠযোগ শুরু হয়। এখন
তোমরা রাজযোগ শিখছো। ওরা অনেক জন্ম ধরে হঠযোগ শিখছে। রাজযোগ তোমরা এই একটা জন্মেই
শেখো। ওদেরকে জন্মের পর জন্ম, পুনর্জন্ম নিয়ে হঠযোগ শিখতে হয়। তোমাদেরকে রাজযোগ
শেখার জন্য পুনর্জন্ম নিতে হয় না। এই রাজযোগ তোমরা কেবল সঙ্গমযুগেই শিখে থাকো।
রাজত্ব পেয়ে যাও, স্বর্গ স্থাপন হয়ে যায়, তারপর অন্য সব ধর্ম বিনাশ হয়ে যায়। তোমরা
হলে রাজঋষি। রাধা-কৃষ্ণও তো পবিত্র, তাই না! কৃষ্ণকে মহাত্মাও বলা হয়। মহাত্মারা
পবিত্র হয়। তোমরাও হলে এখন মহাত্মা বা রাজঋষি। মহাত্মা অর্থাৎ মহান আত্মা, তারা
পবিত্র হয়। এই বিষয়গুলো কোনো শাস্ত্রে লেখা নেই। শাস্ত্র তো পরে তৈরি হয়। গল্পের
মতো বসে বসে লেখে। অতীতে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলি নিয়ে তারা বসে বসে নাটক তৈরি করে।
এগুলো তো সত্য নয়। এখন বাবা বাচ্চাদের প্রাক্টিক্যালে পড়াচ্ছেন। এটা নিয়ে তারা
হিস্ট্রি তৈরি করেছে। সেখানে যাদব, কৌরব, পাণ্ডবরা ছিল। নিশ্চয়ই সঙ্গমযুগেই ছিল।
সঙ্গমযুগের ইতিহাসকেই বসে বসে লিখেছে। উৎসবও সব সঙ্গমযুগেরই বিষয়। রাখীবন্ধনও হয়
পবিত্রতার উপর ভিত্তি করেই। পরে তার স্মৃতিতে উৎসব শুরু হয়। এখানে বাবাও সবাইকে
পবিত্র বানান এবং প্রতিজ্ঞা করান। শিখ্ ধর্মের লোকেরা হাতে কঙ্গন পরে, এটাও হলো
পবিত্রতার প্রতীক। হিন্দুরা নামাবলী পরে, এটাও আসলে পবিত্রতারই প্রতীক। কিন্তু তারা
পবিত্র থাকে না। রাখী বাঁধে, কিন্তু এর অর্থ বোঝে না। আগে ব্রাহ্মণরা রাখী বাঁধতো।
এখন বোন তার ভাইকে রাখী বাঁধে এবং ভাই তার বোনকে উপহার দেয়। এগুলো এখন ফ্যাশন হয়ে
গেছে। প্রকৃতপক্ষে, এটা পবিত্রতার বিষয়। বাবা বলেন - বাচ্চারা, কাম হলো মহাশত্রু।
ওই ব্রাহ্মণ লোকেরা কেউ এভাবে বোঝায় না। এখন অসীম জগতের বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা
পবিত্র থাকার প্রতিজ্ঞা করো। কখনোই বিকারগ্রস্ত হবে না। বাবাকে তো পতিতদের পবিত্র
বানানোর জন্যই আহ্বান করো। সত্য কিংবা ত্রেতাযুগে কেউ আহ্বান করে না। ওটা তো
রামরাজ্য, আর এটা রাবণরাজ্য। রামরাজ্যে পাঁচ বিকার থাকে না। যেমন রাজা-রানী তেমনই
তাদের প্রজারাও.... এখন তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা বাবার থেকে স্বর্গের রাজত্ব
পাচ্ছি। এই নরক থেকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। বাবা এসেছেন পবিত্র বানিয়ে স্বর্গে নিয়ে
যেতে। তাহলে আমরা পবিত্র হব না কেন ? ওদের তো অনেক প্রকারের হঠযোগ রয়েছে। জয়পুরের
মিউজিয়ামে গিয়ে দেখো কত রকমের হঠযোগী রয়েছে। এইসব করে কিছুই হয় না। সিঁড়ি দিয়ে
নীচের দিকেই নামতে থাকে।
বাবা বুঝিয়েছেন, ভারত
যখন পতিত হয়ে যায় এবং রাবণের রাজ্য শুরু হয় তখন ভূমিকম্প শুরু হয়। সোনার প্রাসাদ
ইত্যাদি সবকিছু নীচে চলে যায়। প্রাসাদগুলোকে কি কেউ লুট করেছে ! ওরা তো শুধু মন্দির
লুট করেছে। কিছু সোনা গয়না ইত্যাদি নিয়ে গেছে। গয়না পরার সবথেকে বেশি শখ তোমাদের আছে।
তোমরা স্বর্গে আসার সাথে সাথেই গয়না পরো, রাজত্ব শুরু কর। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা
আসার সাথে সাথেই রাজত্ব করে না। তোমরা অসীম জগতের বাবার থেকে স্বর্গের রাজত্বের
উত্তরাধিকার পেয়ে যাও। এগুলো বাবা বসে থেকে বোঝান, গীতা পড়ে শোনান না। বাবা বলেন,
গীতাতে যা কিছু লেখা আছে সেগুলো তো আমি বলিনি। আমার বলা মহাবাক্যগুলো থেকে পরবর্তী
কালে বসে বসে শাস্ত্র তৈরি করেছে। আমি তোমাদের যা শুনিয়েছি, তা কেবল তোমরাই শুনেছো
এবং ওখানে গিয়ে রাজত্ব করেছো। ওখানে এই জ্ঞান থাকে না। এখানে তো বাবা শিক্ষক হয়ে বসে
থেকে পড়ান। বাবা হিন্দিতেই বোঝান। এখানে সবাই হিন্দিতেই কথা বলে, কারণ তোমাদের ভাষা
হিন্দি। আসলে হিন্দিই প্রাচীন ভাষা, সংস্কৃত নয়। সংস্কৃত ভাষা তো শঙ্করাচার্যের পরে
এসেছে। যারা আসে, তারা তাদের নিজস্ব ভাষার প্রচলন করে। এমন নয় যে, বাবা সংস্কৃতে
গীতা শুনিয়েছেন! না। গুরু নানকের নিজস্ব গ্রন্থ রয়েছে। তিনি শিখ ধর্ম প্রতিষ্ঠা
করেছিলেন। মানুষ তাকেও অবতার মনে করে। এমনকি সেই ধর্মে রাজারাও আছে। সন্ন্যাসীদের
কোনো রাজত্ব হয় না। বাবা বুঝিয়েছেন - গৌতম বুদ্ধ, যীশুখ্রীষ্টরাও আগে গৃহী ছিল।
কিন্তু গৃহস্থ পতিত আত্মারা ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাদের মধ্যে পবিত্র আত্মা
প্রবেশ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে। আরো অনেক রকমের ধর্ম আছে, তারা এসে নিজেদের ছোটো
ছোটো মঠ, আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে। কল্পবৃক্ষের চিত্রে দেখানো হয়েছে। হঠযোগ এবং
রাজযোগের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই বিষয়ে বুঝতে হবে। যারা বুঝতে পারে না, তারা
ঢুলতে থাকবে, হাই তুলতে থাকবে। এখানে তোমরা অনেক সম্পত্তি পাও, অনেক উপার্জন হয়।
তোমরা রত্ন দিয়ে বুদ্ধিরূপী ঝুলি ভরপুর করো। তাই চোখ খোলা রেখে শুনতে হবে। যদি ঢুলতে
থাকো বা বুদ্ধি বাইরে ঘুরতে থাকে, তাহলে রাজধানী পাবে না।
তোমরা হলে রাজঋষি,
রাজত্ব প্রাপ্ত করো। বাবা রাজধানী স্থাপন করেন, শ্রীকৃষ্ণ নয়। কৃষ্ণ তো বাবার কাছ
থেকে উত্তরাধিকার পায়। তোমাদের বাবা তো নিরাকার, যার কাছ থেকে তোমরা বিশ্বের
রাজত্বের উত্তরাধিকার নিচ্ছ। তোমরা অনেক ধনী হয়ে যাও! এখানে কেবল বাবা এসেই রাজযোগ
শেখান। ঘোরা-ফেরা করো, খাওয়া দাওয়া করো, কেবল বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। ধনী ব্যক্তিরা
অবশ্যই ভালো খাওয়া দাওয়া করে। ওরা তো নিজেদের উপার্জনের ফল খায়। মালপোয়া খাও বা রুটি
খাও। যাই খাও, কেবল বাবাকে স্মরণ করো। নাহলে টাকা আছে কীসের জন্য? বাবা কিছুতেই মানা
করেন না। কেবল বাবার সঙ্গে যোগযুক্ত থাকতে হবে। এই রাজত্ব স্থাপন করতে কোনো খরচ হয়
না। ওইসব যুদ্ধে অনেক খরচ হয়! এরোপ্লেনের জন্য কত খরচ হয়! যখন ভেঙে পড়ে, তখন সবাই
মারা যায়। কত ক্ষয়ক্ষতি হয়! বাবা বলেন, চলতে-ফিরতে বাবাকে স্মরণ করো। সদর্শন চক্র
ঘোরাতে থাকো। আমরা ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করেছি। এখন নিজধামে ফিরে যাচ্ছি। ঘরে যাওয়ার পর,
আবার এসে রাজত্ব করবো। তোমরা তো অ্যাক্টরস্, তাই না ! ওই বায়োস্কোপ দু-আড়াই ঘণ্টা
চলে। এই অসীম জগতের নাটক পাঁচ হাজার বছর ধরে চলতে থাকে, এটা একমাত্র মানুষই জানতে
পারে। এই দুনিয়াটা এখন কাঁটার জঙ্গল। সবচেয়ে বড় কাঁটা হলো বিকারের কাঁটা, যা
আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয়। দ্বিতীয় নম্বর কাঁটা হলো, ক্রোধ। দেখো, মহাভারতের যুদ্ধই
হলো এর নিদর্শন ! কোনো বিষয়ে রাগ এসে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে বোমা ফেলতে শুরু করবে।
আজকাল এমন সব বোমা বানিয়েছে যে বলার নয়। সত্যযুগে কোনো যুদ্ধ হয় না। সঙ্গমমযুগেই এই
মহাভারতের যুদ্ধ দেখানো হয়েছে। অন্য কোনো শাস্ত্রে যুদ্ধের কোনো কথা নেই। ওখানে
তোমরা সমগ্র বিশ্বের মালিক থাকো। সেখানে যুদ্ধের কোনো ব্যাপারই থাকবে না। শাস্ত্রে
অসুর এবং দেবতাদের যুদ্ধ দেখানো হয়েছে। কিন্তু দেবতারা তো অহিংসক। তোমরা যোগবলের
দ্বারা বিশ্বের মালিক হও। এটা হলো সাইলেন্সের শক্তি, এতে তোমাদের কিছু বলতে হয় না।
স্মরণের শক্তির দ্বারা তোমরা বাবার থেকে বিশ্বের রাজত্ব পেয়ে যাও। কত পার্থক্য রয়েছে
দেখো! যে বিজ্ঞানের শক্তি দ্বারা বিনাশ হয়, সেই বিজ্ঞানের মাধ্যমেই সত্যযুগে সুখ
ভোগ করবে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার তো সুখের জন্যই। তারাও এসে কিছু জ্ঞান নেবে।
প্রদর্শনীতে তো সবাই আসে। ভবিষ্যতে সকলেই আসবে। তোমাদের এই শান্তির শক্তির প্রভাব
ছড়িয়ে পড়বে।
তোমরা যখন প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা করো - ‛গীতার ভগবান কে ?’ এমন প্রশ্ন আর কেউ করতে পারবে না। যেখানে এই
প্রশ্ন লেখো, তার সাথে ছবিও দাও। গীতার ভগবান পরমপিতা পরমাত্মা, না কি শ্রীকৃষ্ণ যে
সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নেয়? একমাত্র বাবা'ই পতিত থেকে পবিত্র করেন। কৃষ্ণের আত্মা তো ৮৪
জন্ম নেওয়ার পর কালো হয়েছে। বাবা তাকেই বোঝাচ্ছেন যে, তুমি ৮৪ বার জন্ম নিয়েছো, তুমি
নিজের জন্মকেই জানো না। অ্যাক্টরদের তো জানা দরকার যে আমরা কিভাবে ৮৪ বার জন্ম নিই।
সন্ন্যাসীদের ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতবাসীরা নিজেদের ধর্মকেই জানে না, তাই অন্য
অন্য ধর্মে চলে যায়। কেউ যদি কোনো গুরুর কৃপায় কিছু সম্পত্তি পেয়ে যায়, তখন সে ওই
গুরুর ভক্ত হয়ে যায়। আবার যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন বলে এইসব ভগবানের ইচ্ছায় হয়েছে।
সন্তান হওয়ার পর তারা অনেক খুশি হয়। কিন্তু যদি সেই বাচ্চা ১০-১২ দিন পরে মারা যায়,
তখন বলে এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা, একে জীবিত করা আমাদের হাতে নেই। বাবা এ'রকম অনেক উদাহরণ
দেখেছেন। এ'রকম অনেক ঘটনা ঘটে। এখানে তো বাবা বসে আছেন। বাবা বাচ্চাদের বোঝান যে,
মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা পবিত্র হও! তোমাদের কি মনে আছে যখন মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিল
তখন দ্রৌপদী চিৎকার করে আহ্বান করেছিল - বাবা, এই দুঃশাসন আমাকে নগ্ন করছে, আমাকে
এর হাত থেকে রক্ষা করো। এটা পাঁচ হাজার বছরের কথা। এই বিষের কারণেই অবলাদের উপর এত
অত্যাচার হয়। এমনকি কিছু মহিলা এমনও আছে যে তারা বিষ ছাড়া থাকতেই পারে না। তাদের
নামও রাখা রয়েছে সূর্পণখা, পুতনা ইত্যাদি। আর যারা বিষের জন্য বিরক্ত করে তারা হলো
কংস, জরাসন্ধ, শিশুপাল ইত্যাদি। এদের অবশ্যই বিনাশ হবে। এখন এটা আসুরিক রাবণ রাজ্য,
এরপর ঈশ্বরীয় রাজ্য স্থাপন হবে। এই পুরো চক্রকে তোমরা জেনে গেছো যে, কিভাবে ৮৪ জন্ম
নাও। এইসব ভুলে যাও, যখন তোমরা বিকারগ্রস্ত হয়ে যাও। যারা বিকারগ্রস্ত হয়, তাদের
মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। নিজেরাই বুঝতে পারে - এটা আমরা কি করেছি? বাবা বলেন -
বাচ্চারা, এই বিষের গর্তে যেও না। এটা তোমাদের আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেবে। এতে জড়িয়ে
পড়বে না। প্রতিজ্ঞা করো যে, আমরা কখনো বিকারগ্রস্ত হবো না। ভগবানুবাচ, কাম হলো
মহাশত্রু। প্রত্যেক চিত্রে প্রথমে এটা লেখো, জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন গীতা জ্ঞান
দাতা শিব ভগবানুবাচ। তাহলে কৃষ্ণের নাম সরে যাবে। আমাদেরকে গীতার ভগবান বসে এ'সকল
বলছেন। এই জ্ঞানই আমরা এখন গ্রহণ করছি। ভগবানই এসে নতুন দুনিয়া স্থাপনা করেন এবং
পুরানো দুনিয়া বিনাশ হয়ে যায়। এ হলো রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ, তাই না! আসল হলেন শিববাবা,
রুদ্র বাবা বলবে না! বম্বেতে বাবুরীনাথেরও মন্দির রয়েছে। বাবুল বলা হয় কাঁটাকে।
বাবুরীনাথ নাম কেন রাখা হয়েছে? এটা কেউ বোঝে না। চিত্র তো শিবেরই রয়েছে। তারা অনেক
নাম রেখে দিয়েছে। শিববাবাই এসে কাঁটার জঙ্গলকে ফুলের বাগান বানান, উনিই হলেন
তোমাদের বাবা। তাঁর নাম শিব। শিব পরমাত্মায় নমঃ, ব্রাহ্মণ দেবী-দেবতায় নমঃ,
অক্ষরগুলো খুবই স্পষ্ট। এখন পরমপিতা পরমাত্মা বসে এই রথ (ব্রহ্মাবাবা) দ্বারা
বোঝাচ্ছেন। লৌকিক বাবা যেরকমভাবে বোঝান, বাচ্চারা, আমাদের বংশের বদনাম করো না! কোনো
খারাপ কাজ করবে না। এই বাবাও বলেন, বাচ্চারা, কখনো বিকারে লিপ্ত হবে না। পবিত্র না
হলে স্বর্গে উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। অনেক বড়ো উপার্জন করছো তোমরা। অন্য
সবাই সবকিছু হারাচ্ছে। যদিও কারো কোটি কোটি থাকতে পারে, বড়ো-বড়ো প্রাসাদ বানাচ্ছে,
লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে। তোমরা বুঝতে পারো যে, এইসব হলো ওয়েস্ট অফ টাইম....। এগুলো
কিছুই কাজে আসবে না, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। ওরা মনে করে যে, ১০ - ১২ হাজার বছর চলতে
থাকবে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে, মৃত্যু তো সামনে রয়েছে, মাথার উপর ঝুলছে। অল্প
সময়ের মধ্যে ভূমিকম্প হবে এবং সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। ভূমিকম্পে অগুনতি মানুষ
মারা যায়। বিনাশ এখন অবশ্যই ঘটবে। বিনাশের সাক্ষাৎকার এবং স্থাপনার সাক্ষাৎকার তোমরা
করেছো। এখন নিজের চোখে দেখবে। ভক্তিমার্গে অনেক প্রচেষ্টা করে, কিন্তু কেউ বৈকুণ্ঠে
যেতে পারে না। জ্ঞান ছাড়া সদগতি হতে পারে না। ওসব হলো ভক্তিমার্গের খেলনা। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
এমন কোনো খারাপ কাজ করবে না যা বংশের নামকে কলঙ্কিত করবে। নিজের কাছে পবিত্র থাকার
প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
২ ) এখন নিজের সময়,
অর্থ... নষ্ট করবে না। ফুলের বাগানে যাওয়ার জন্য, কাঁটা পরিত্যাগ করতে হবে।
বরদান:-
অলৌকিক
খেলা আর খেলনা দিয়ে খেলা করে সদা শক্তিশালী থেকে অবিচল-অটল ভব
অলৌকিক জীবনে মায়ার
বিঘ্ন আসাও একটা খেলা, যেরকম শারীরিক শক্তির জন্য খেলা হয়, এইরকম অলৌকিক যুগে
পরিস্থিতিগুলিকে খেলা মনে করে এই অলৌকিক খেলা খেলো। এতে ভয় বা ঘাবড়ে যেও না। সর্ব
সংকল্পের সাথে নিজেকে বাপদাদার কাছে সমর্পণ করে দাও তাহলে মায়া কখনও আক্রমন করতে
পারবে না। প্রতিদিন অমৃতবেলায় সাক্ষী হয়ে নিজের সর্ব শক্তিগুলির দ্বারা শৃঙ্গার করো
তাহলে অবিচল-অটল থাকবে।
স্লোগান:-
সংসারের কোনও সমাচার শোনা বা শোনানো - এগুলিও নিজের মধ্যে আবর্জনা জমা করা।
অব্যক্ত ঈশারা :-
অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও
বাপদাদার মুখ্য
নির্দেশ হল নিরন্তর স্মরণে থাকো আর মন, বাণী, কর্মে পবিত্র থাকো। সংকল্পেও অপবিত্রতা
বা অশুদ্ধতা যেন না থাকে - একে বলা হবে সম্পূর্ণ পবিত্র। সংকল্পেও যদি পুরানো
অশুদ্ধ সংস্কার টাচ্ করে, ব্যর্থ সংকল্প চলতে থাকে বা স্বপ্নে আসে তাহলেও সম্পূর্ণ
পবিত্র বলা হবে না এইজন্য পবিত্র ভব ও যোগী ভব - র প্রথম পাঠকে স্বরূপে নিয়ে এসো
তবেই বাবার সমান আর বাবার নিকটে আসার অধিকারী হতে পারবে।