04-08-2026 প্রাতঃ
মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ
31-12-2011 মধুবন
"নতুন বছরে তীব্র পুরুষার্থী ভব-র বরদান দ্বারা
নিজের মুখমণ্ডলের মাধ্যমে ফরিস্তা রূপ দেখাও, লাইট মাইট স্বরূপ জ্বালামুখী যোগের
দ্বারা সমস্ত ব্যর্থকে জ্বালিয়ে দাও, দুঃখী ও অশান্ত আত্মাদের শক্তির দান দাও"
আজ ব্রাহ্মণ পরিবারের রচয়িতা চতুর্দিকে নিজের পরিবারকে দেখছেন। ছোট পরিবার, ছোট
সংসার কিন্তু অতি অনুপম, কেননা কোটি কোটির মধ্যে থেকে কিছু বিশেষ এখানে রয়েছে। কেন
তারা এত প্রিয়? কারণ তারা চির পরিচিত বাবাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাবার থেকে
উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়েছে। তাইতো বাবা যেমন অনুপম, তেমনই এই ব্রাহ্মণ পরিবারও অতি
অনুপম। জন্মমাত্রই সব বাচ্চার ললাটভাগে বাপদাদা ভাগ্যের নক্ষত্র উজ্জ্বল করে
দিয়েছেন, সেইজন্য এই ছোট সংসার অতি মধুর। তোমর সবাই নিজেদের এমন স্বমান জানো তো না!
বাপদাদাও প্রত্যেক বাচ্চাকে দেখে আনন্দিত হন এবং তিনি কী গীত গান? বাঃ বাচ্চারা
বাঃ!
আজ তো সবাই এই শ্রেষ্ঠ দিনে বাবার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছে। আজকের দিনটি হলো
সঙ্গমের দিন। বিদায়ও আছে, অভিনন্দনও আছে। বাস্তবিকপক্ষে সঙ্গমের একটা বিশেষ
গুরুত্ব থাকে। যেখানেই সাগর এবং নদীর সঙ্গম হয়, তার গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই আজকের
এই দিনটির গুরুত্বও অত্যধিক গায়ন যোগ্য। পুরানো বছর শেষ হতে চলেছে এবং নতুন বছর শুরু
হতে যাচ্ছে। আজকের দিনে আগামী বছরের জন্য সবার মনে কত উৎসাহ-উদ্দীপনা! প্রত্যেকেই
নিজের নিজের মনে প্ল্যান করেছে - কী ছাড়তে হবে আর কী হতে হবে, দুটো প্ল্যানই করেছো?
করেছো তো? আগামী বছরের জন্য যারা নিজের এগিয়ে যাওয়ার এবং তীব্র পুরুষার্থের
প্ল্যান করেছো, তারা হাত তোলো। করেছো! অভিনন্দন। কারণ সবাই জানে যে বাপদাদা
প্রত্যেক বাচ্চার জন্য কী চান। বাপদাদা সব বাচ্চার জন্য এই শুভ ভাবনা রাখেন - তাঁর
সব বাচ্চা যেন বাবার মতো সম্পন্ন এবং সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন তো সময়ও সাথ দিচ্ছে।
তাহলে প্রত্যেকেই নিজের মনে নিজের জন্য নতুন প্ল্যান বানিয়েছো তো না! কিছু ছাড়তে হবে
আর লক্ষ্যপথে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলে কী ছাড়তে হবে? বাপদাদা দেখেছেন যে, পুরানো
দুনিয়া এবং সম্বন্ধের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ার পুরুষার্থের দিকে সবার অ্যাটেনশন রয়েছে।
একটি বিষয় যা সবাই ছাড়তেও চায়, কিন্তু বাপদাদা দেখেছেন যে, এখনো পর্যন্ত পুরানো
সংস্কার ছাড়ার ব্যাপারে একটু পরিশ্রম লাগে। তো বাপদাদা এটাই চান যে এই নতুন বছরে
প্রত্যেক বাচ্চা যেন নিজের ব্যক্তিগত সংস্কারের সংস্করণ করে নেয়। তোমরাও সবাই এই
সংকল্প পূরণ করতে চাও তো না! কেননা, পুরানো সংস্কার যেটাকে তোমরা বলে থাকো আমার
নেচার, ভাব নয়, কিন্তু নেচার। তো এই নেচার বর্তমান জন্মের, ব্রাহ্মণের নয় বরং পুরানো।
তোমরা প্রত্যেকেই তো নিজেকে জানো, তো সেই পুরোনো সংস্কারকে আজকের দিনে, আজকে বছরের
বিদায়ের সাথে সাথে সেই পুরানো সংস্কার ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প করতে পারো? পারো করতে?
তোমরা চাও, এমন নয় যে চাও না, কিন্তু তবুও বারবার পুরুষার্থে তীব্রতা আনার ক্ষেত্রে
সেই সংস্কারই ভিন্ন ভিন্ন রূপে বিঘ্ন ঘটায়। তো বাপদাদা এটাই চান যে বছরকে বিদায়
দেওয়ার সাথে সাথে আজকের দিনে তাকেও বিদায় দিয়ে দাও। এর জন্য তোমরা প্রস্তুত? যারা
প্রস্তুত আছ, তারা হাত তোলো। এর জন্য কী করবে? নিজের জন্য কোনও প্ল্যান কি ভেবেছো?
এর জন্য সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো দৃঢ় সংকল্প। সংকল্প আছে, থাকা উচিত, কিন্তু সংকল্পে
তীব্রতা দরকার। যেমন ব্রাহ্মণ হওয়ার সাথে সাথেই তোমরা এই প্রতিজ্ঞা করেছিলে যে কোনো
রকম অশুদ্ধ ভোজন গ্রহণ করবে না। তো বাপদাদা দেখেছেন এতে দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা মেজরিটি
পাস করে গেছ। যেমন শরীরের জন্য অশুদ্ধ ভোজনের ব্যাপারে সংকল্প করেছো এবং
প্র্যাক্টিক্যালি করেছো, তেমনই মনের জন্যও এই দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে কখনো কারও
প্রতিও, সরকমস্ট্যান্স অনুযায়ী কোনও ব্যর্থ সংকল্প না ক'রে সদা সব আত্মার প্রতি শুভ
ভাবনা ও শুভ কামনা রাখতেই হবে। মনের ভোজন হলো সংকল্প, তো যেমন শরীরের জন্য মেজিরিটি
দৃঢ় সংকল্প করেছ, তেমনই কি মনের জন্য ব্যর্থ সংকল্প, অশুদ্ধ ভাবনা দূর করতে পারো
না? সব আত্মার প্রতি হৃদয়ের স্নেহ আর সহযোগ কি নিজের মনে বজায় রাখতে পারো না?
তো আজ বাপদাদা এই পুরানো বছরের সাথে সাথে সব বাচ্চার এই বৃত্তি ও দৃষ্টির বিদায়
চান। এই দৃঢ় সংকল্প করতে পারো তোমরা? করতে পারো? বলো, মাতারা, টিচার্স, সমস্ত
ভাইয়েরাও চাও? হ্যাঁ, হাত তোলো। কাল থেকে কোনো আত্মার প্রতি যদি কোনও ব্যর্থ থাকে,
ব্যর্থ ভাবনা বা ব্যর্থ ভাব থাকে, তবে আজ তার সমাপ্তি সমারোহ পালন করতে চান। বলো,
টিচার্স সবাই তৈরি আছ? টিচাররা দু' হাতই তোলো। তোলো। আচ্ছা। যারা তোলোনি তারা তোলো।
যারা উঠাওনি তারা একটু উঠে দাঁড়াও। ভালো! যারা পুরুষার্থ করবে কিন্তু দৃঢ় সংকল্প
করবে না, এমন কেউ আছ? যারা উঠে দাঁড়িয়েছো তারা লক্ষ্য রাখবে এবং পুরুষার্থ করবে তো
হাত তোলো। কারণ সময়ের প্রতি অ্যাটেনশন রাখতে হবে, এটা ভাবো যে সবাইকে ভবিষ্যতের
দীর্ঘ সময়ের সফলতা এই সঙ্গম সময়কালে প্রাপ্ত করতে হবে। ২১ জন্মের উত্তরাধিকার নিতে
হবে। তো কোথায় এই এক জন্ম আর কোথায় ২১ জন্ম! সুতরাং এই এক জন্মেও দীর্ঘ সময়
নিজের পুরুষার্থকে তীব্র করতে হবে, তবেই দীর্ঘ সময়ের প্রাপ্তি সম্ভব হবে। বাবার
প্রতি ভালোবাসা আছে তো না! তাহলে তো সাথে থাকতে হবে, তাই না! কাছাকাছি থাকতে হবে
তো! ব্রহ্মা বাবার সাথী হয়ে রাজ্য অধিকারী হতে হবে তো না! তো এখনই এতখানি দীর্ঘ সময়ে
বাবা সমান তো হতে হবে। ব্রহ্মা বাবার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি কতটা ভালোবাসা, তা' তো
তোমরা জানোই। তোমরা প্রত্যেকেই বলে থাকো 'আমার বাবা'। আমার প্রতি বাবার যতটা
ভালোবাসা আছে ততটা কারও প্রতি নেই, আমাকেই ভালোবাসেন। তো এই ভালোবাসা, বাপদাদা
উভয়েরই ভালোবাসা তোমরা এই জন্মেই অনুভব করছো। আর যাকে ভালোবাসা যায়, তার কথা কখনো
অমান্য করা যায় না। তো ব্রহ্মা বাবার প্রতি সবারই ভালোবাসা আছে, কতটা ভালোবাসা আছে?
অনেক ভালোবাসা আছে। হতে পারে বাইরে দেখাতে পারো না, কিন্তু বাবা জানেন যে সব
বাচ্চারই ভালোবাসা আছে, নম্বরক্রম আছে কিন্তু ভালোবাসা আছে, এ'বিষয়ে বাপদাদাও সব
বাচ্চাকে সার্টিফিকেট দেন যে ভালোবাসা আছে। ভালোবাসা তো আছে, কিন্তু বাবা দেখেছেন
যে কখনো কখনো তোমরা চঞ্চল হয়ে যাও তখন বাবা কী করেন? বাবা তা' দেখে বিশেষ শক্তি দিতে
থাকেন। কারণ বাবা এটাই চান যে সব বাচ্চা রাজা বাচ্চা হোক। দুনিয়াতে যে খুব আদরের
বাচ্চা হয়, তাকে রাজা বাচ্চা বলা হয়ে থাকে। সে রাজা নয়, কিন্তু বলা হয় রাজা বাচ্চা।
তোমরা কিন্তু সবাই বাপদাদার এখনো রাজা বাচ্চা এবং ভবিষ্যতেও রাজা বাচ্চা। এখন
স্বমান আছে, স্বরাজ্য আছে। এখন আত্মার রাজত্ব সমস্ত কর্মেন্দ্রিয়ের ওপর রয়েছে। তো
এখন তোমরা স্বরাজ্যধারী হয়েছ এবং ভবিষ্যতে বিশ্বরাজ্যধারী হবে। তাহলে তোমরা রাজা
বাচ্চা তো না! যদি হও, তবে কাঁধ নাড়াও।
তো আজ অমৃতবেলায় বাপদাদা চতুর্দিকে, তা' বিদেশ হোক বা দেশ, সর্বত্র পরিক্রমণে
গিয়েছিলেন। তো কী দেখলেন? মেজরিটি অমৃতবেলায় যোগে বসে, যদিও স্নেহের সাথে বসে,
বাপদাদার সাথে বার্তালাপও করে, আত্মিক স্মৃতিতেও বসে, বাপদাদার থেকে শক্তিও নেয়;
কিন্তু বাপদাদা এখন আসন্ন নতুন বছরে নবীনত্ব চান। কেননা এখন দিন দিন আরও সংকটপূর্ণ
সময় আসবেই। তাই এমন সময়ে এখন জ্বালামুখী যোগ প্রয়োজন। এই জ্বালামুখী যোগের
প্রয়োজনীয়তা এখন অত্যন্ত আবশ্যক। জ্বালামুখী যোগ অর্থাৎ লাইট-মাইট স্বরূপ শক্তিশালী
যোগ। কেননা সময় অনুসারে এখন দুঃখ, অশান্তি ও অস্থিরতা বাড়বেই। সেইজন্য দুঃখী,
বিপর্যস্ত আত্মাদের নিজের বিশেষ জ্বালামুখী যোগের দ্বারা শক্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।
দুঃখ-অশান্তির রিটার্নে নিজের মন্সা সেবার দ্বারা কিছু না কিছু শক্তি ও শান্তি
দিতেই হবে। তোমরা এই সময়ের যে টপিক রেখেছ - এক পরিবার, সেই অনুযায়ী যখন সবাই এক
পরিবার, তখন অশান্ত আত্মাদের তো কিঞ্চিৎমাত্র দেবে। সেই কারণেই বাপদাদা আগামী বছর -
যা প্রায় এসেই গেছে তার জন্য বিশেষ অ্যাটেনশন আকর্ষণ করছেন যে, এখন জ্বালামুখী
যোগের আবশ্যকতা রয়েছে। জ্বালামুখী যোগের দ্বারাই যা কিছু অবশিষ্ট সংস্কার রয়ে গেছে
তা' ভস্ম হয়ে যাবে।
এখন তোমাদের অ্যাডভান্স পার্টির সাথীরা তোমাদের সকলের কাছে এটাই চায় যে, এখন সময়কে,
সমাপ্তির সময়কে সামনে নিয়ে এসো। এখন রিটার্ন জার্নি স্মরণে রাখো। তোমাদের দিদি মনে
করিয়ে দিচ্ছে যে, আমার সদা এটা স্মরণে থাকত - এবার বাড়ি যেতে হবে, এবার বাড়ি যেতে
হবে। তোমাদের দাদী এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে - যেমন আমার মনে থাকতো এখন সম্পন্ন হতে হবে,
সম্পূর্ণ হতে হবে, এই একনিষ্ঠ বাঁধাগত লেগেই থাকতো। তো আজ বিশেষভাবে অমৃতবেলায় বতনে
বাপদাদার সঙ্গে মিলন উদযাপন করার সময় বলছিলেন যে, এখন আমাদের পক্ষ থেকে, যে সমস্ত
দাদীরা গেছে তারা সবাই মিলে বলছিল, এখন জ্বালামুখী যোগ-এর খুব প্রয়োজন, তা' সে অন্য
আত্মাদের শক্তি দেওয়ার জন্যই হোক, কিংবা নিজের ব্রাহ্মণ পরিবারকে সম্পন্ন করে তোলার
জন্যই হোক। এখন সময়কে সমীপে নিয়ে আসার নিমিত্ত হ'লে তোমরা, তো আগামী বছরে কী করবে?
বিশেষ কী করবে? একে অপরের স্নেহী সহযোগী হয়ে প্রতিটি সেন্টার ও সেবা স্থানে
জ্বালামুখী যোগের ভাইব্রেশন দাও এবং কর্মে একে অপরের স্নেহী ও সহযোগী হয়ে প্রত্যেকে
প্রত্যেকের প্রতি অ্যাটেনশন বজায় রেখে যা কিছু খামতি রয়েছে, তা'তে সহযোগ দাও। মন্সা
দ্বারা অন্য আত্মাদের সেবা করো এবং নিজের সহযোগিতার দ্বারা ব্রাহ্মণ সাথীদের বিশেষ
সেবা করো, তবেই আমাদের মনের আশা পূর্ণ হবে।
তো আজ বতনে অ্যাডভান্স পার্টি আগামী বছরের জন্য তোমাদের সকলকে স্মরণও করাচ্ছিল এবং
নিজেদের হৃদয়ের আশার ব্যাপারেও বলছিল। তো বলো, বাপদাদার সংকল্প তো শুনলেই তোমরা,
কিন্তু সেই সঙ্গে আগামী বছরের জন্য নিজেদের দাদীদের শুভ ভাবনাও শুনেছ তো না! বাপদাদা
তো সব বাচ্চাকে, কেউ দুর্বল হোক বা তীব্র পুরুষার্থী হোক, সবাইকে তিন রকম শুভেচ্ছা
জ্ঞাপন করছেন - এক) নব জীবনের অভিনন্দন, দুই) নব বর্ষের অভিনন্দন এবং তিন) নব
দুনিয়ায় সাথী হয়ে চলার অভিনন্দন।
বাপদাদা এটাও বলেছেন যে, সবাই নিজের ভিতরে নিজের জন্য সময় নিশ্চিত করো যে, কবে
নাগাদ নিজেকে বাবার সমান তৈরি করবে। নিজের ভেতরে নিজের জন্য নিশ্চিত করো। তো
নিশ্চিত করতে জানো তো না? বাপদাদা তো আজ সব বাচ্চাকে দেখে এই বরদান দিচ্ছেন - আগামী
বছরে সব বাচ্চা তীব্র পুরুষার্থী ভব। অমৃতবেলায় যখন স্মরণে বসো এবং যখন ওঠার সময় হয়,
সেই সময় বাপদাদার এই বরদান নিজের হৃদয়ে স্মরণে রাখবে - তীব্র পুরুষার্থী ভব। যেমন
বাপদাদা দুটি বিষয়ে আগেই অ্যাটেনশন আকর্ষণ করিয়েছেন, কারণ সঙ্গমের সময় হঠাৎ শেষ হয়ে
যাবে। তো এক হ'লো সময়, দ্বিতীয় হলো সংকল্প - উভয় বিষয়েই প্রতিক্ষণ অ্যাটেনশন দিতে
হবে। বাপদাদার সব বাচ্চার প্রতি এটিও কল্যাণকারী শুভকামনা যে, সব বাচ্চার এই বছরে
কী হওয়া উচিত? তোমরা কী হবে? যে কেউই তোমাদের মুখের দিকে তাকাবে, তোমাদের মুখ থেকে
যেন ফরিস্তা রূপ প্রতীয়মান হয়। আমি অমুক (মহিলা), আমি অমুক (পুরুষ) - এমন নয়।
ফরিস্তা রূপ যেন অনুভবে আসে। এর জন্য চাই জ্বালামুখী যোগ। কোনো ব্যর্থ চিন্তা নয়।
লাইট ও মাইট স্বরূপ যোগের মাধ্যমে সমস্ত ব্যর্থ জ্বালিয়ে দাও। যাকেই দেখুক শক্তিশালী
ফরিস্তা যেন নজরে আসে, কেননা, তোমরা বাবার হারানিধি বাচ্চা তো! বাবা বিশেষভাবে
তোমাদের কোথা থেকে কোথা থেকে বেছে নিয়ে নিজের করে নিয়েছেন। তো লক্ষ্য রাখো - আমি
ব্রাহ্মণ তথা ফরিস্তা। তো অমৃতবেলায় নিজের দিনচর্যায় এটি স্মরণে রাখো - আমি
ব্রাহ্মণ তথা ফরিস্তা। চলতে-ফিরতে ফরিস্তা রূপ, ফরিস্তা স্বরূপ তো ভালো লাগে, তাই
না! ব্রহ্মা বাবা ফরিস্তা হয়েছেন, ফলো ফাদার।
তো এই বছরের বরদান যা দিয়েছি - তীব্র পুরুষার্থী, সাধারণ পুরুষার্থী নয়, সাধারণ
পুরুষার্থী হলে রাজ্যের সাথী হতে পারবে না। আর বাবা এটাই চান যে, বাপদাদার মুরলী
অধ্যয়ণকারী যত গড্লী স্টুডেন্ট আছে, তারা সবাই কী হবে? ফরিস্তা। সব বোঝা নেমে যাবে।
যেকোনও সংস্কারের বোঝা সমাপ্ত হয়ে যাবে। তাহলে এই বছরের হোমওয়ার্ক কী থাকলো? ফরিস্তা
স্বরূপে থাকা, একেই বলা হবে তীব্র পুরুষার্থী। এখন প্রত্যেক সেন্টার, প্রত্যেক
সপ্তাহে, প্রত্যেক স্টুডেন্টের রেজাল্ট দেখবে যে তীব্র পুরুষার্থী ছিল? যদি কোনও
পরিস্থিতি আসে, তারজন্য সহযোগী হয়ে, স্নেহের সাথে তাদেরকে সাহস দাও আর নিজের
সেন্টারকে, স্টুডেন্টদেরকে তীব্র পুরুষার্থী বানিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহে রেজাল্ট দেখবে,
কেননা সময় দোলাচলের হবেই।
তো আজ সঙ্গমের দিন, বিদায় আর অভিনন্দনের দিন চারিদিকের, বাচ্চারা যেখানেই বসে আছে,
বাপদাদা দেখছেন কিভাবে সবাই সায়েন্সের সাধনের দ্বারা দেখছেও আর দেখে দেখে কত খুশীও
হচ্ছে। তো চারিদিকের বাচ্চাদেরকে বাপদাদা বিশেষ বরদান দিচ্ছেন “সদা সন্তুষ্টমণি ভব”।
সন্তুষ্ট থাকো, সন্তুষ্ট করো। আচ্ছা।
এখন দাদীরাও মিলেমিশে কোনও নতুন প্ল্যান বানাও। কী বলছো? (দাদী জানকী বলছেন - বাবা
জানুয়ারী মাসের অনেক মহত্ব আছে। জানুয়ারী মাসে যদি সবাই মিলেমিশে পুরুষার্থ করে, যদি
এইরকম সেবার কোনও প্ল্যান বানানো হয়, যেখানে সকলের হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসবে আমার বাবা,
এইরকম আমার ভাবনায় আছে।) বাপদাদা নতুন বছরে নবীনত্ব চাইছেন। সেই সংস্কার চাইছেন না।
প্রত্যেক বাচ্চা বাবার সমান দেখা যাবে। ফলো ব্রহ্মা বাবা। সরকামস্ট্যান্স, সব কথাই
বাবার সামনে এসেছিল, কিন্তু বাবা ফরিস্তা হয়ে যেতেন। তো ফরিস্তা হতেই হবে, এই দৃঢ়
সংকল্প প্রত্যেকে নিজের সাথে করো কেননা নিজেই নিজের সাথে করলে অ্যাটেন্শান থাকবে।
আমাকে হতে হবে, ব্যস। আর তোমরা এইরকম হয়ে গেলে ন্যাচারাল ভাইব্রেশন ছড়িয়ে পড়বে। তো
এখন লক্ষ্য কী রেখেছো? ফরিস্তা হতেই হবে, বলো। পাক্কা আছো তাই না!
সবাইকে বাপদাদার তরফ থেকে অনেক অনেক হৃদয়ের ভালোবাসা এবং অভিনন্দন।
বরদান:-
সকল খাতা (হিসেব-নিকেশ) আর সম্পর্ক এক বাবার সাথে
রেখে ডবল লাইট ফরিস্তা ভব
ডবল লাইট ফরিস্তা হওয়ার জন্য দেহের ভান থেকেও ঊর্ধ্বে
থাকো কেননা দেহভান হল মাটি, যদি এরও বোঝা থাকে তাহলে ভারী হয়ে যাবে। ফরিস্তা অর্থাৎ
নিজের দেহের সাথেও সম্পর্ক নেই। বাবার দেওয়া তনও বাবাকে দিয়ে দিয়েছো। নিজের জিনিস
অন্যকে দিয়ে দেওয়া অর্থাৎ নিজের সাথে সেই জিনিসটার সম্পর্ক সমাপ্ত হয়ে যাওয়া। সব
হিসেব-নিকেশ, সব দেনা-পাওনা বাবার সাথে, বাদবাকি সব পুরানো খাতা, পুরানো সম্পর্ক
সমাপ্ত - এইরকম সম্পূর্ণ বেগর-ই হল ডবল লাইট ফরিস্তা।
স্লোগান:-
নিজের বিশেষত্বগুলিকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করো তাহলে
প্রত্যেক কদমে প্রগতির অনুভব করবে।
অব্যক্ত ঈশারা :- পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন
হয়ে অপকারীরও উপকার করো কোনও আত্মার থেকে কিছু নিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে না থাকা, সংকল্পেও
যেন এটা না আসে যে এ করলে আমি করবো, এ পরিবর্তন হলে আমি পরিবর্তন হব, কিছুটা সে
পরিবর্তন হোক্, কিছুটা আমি পরিবর্তন হই... ভিখারীকেও রাজা বানানো - অপকারীর প্রতিও
উপকার করাই হলো পরোপকারের ভাবনা দ্বারা সম্পন্ন হওয়া।