07-06-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-03-2010 মধুবন


‘‘পূর্বজ এবং পূজ্য স্বরূপের স্বমানে থেকে মন্সা দ্বারা সকলের প্রতিপালন করো, সম্পূর্ণ বৃক্ষকে সকাশ দাও"


আজ বাপদাদা নিজের চতুর্দিকে পূর্বজ আর পূজ্য আত্মাদের দেখছেন। পূর্বজ আত্মা হিসেবে নিজেকে উপলব্ধি করো তো না! পূজ্য আত্মাদের নিবাস কোথায়? কল্পবৃক্ষকে (ঝাড়কে) নিজের সামনে নিয়ে এসো, তা'তে দেখো তোমার স্থান কোথায়! তোমরা জানো যে তোমরা সব পূর্বজের স্থান শিকড়ে। বৃক্ষের মূলেও আছ, কাণ্ডের মূলেও আছো। তো মূল দ্বারাই সম্পূর্ণ বৃক্ষের পালনা প্রাপ্ত হয়। তো তোমরা এই সম্পূর্ণ বৃক্ষের ডালপালা এবং পাতাসমূহের পরিপোষণকারী, সকাশ প্রদানকারী পূর্বজ। পূর্বজের সাথে পূজ্যও তোমরা। কাণ্ড দ্বারা লাস্ট পাতারও সকাশ লাভ হয়। তো নিজেকে সকাশ প্রদানকারী অনুভব করো? নেশা থাকে যে আমি পূর্বজ সর্ব আত্মারূপী ডালপালা ও সমূহ পত্রকে সকাশ দিচ্ছি! যেমন তোমরা ব্রহ্মা বাবাকে গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার বলে থাকো তো তাঁর বাচ্চারা তোমরা সব সাথিও মাস্টার গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার। সম্পূর্ণ বৃক্ষের আত্মারা আকৃষ্ট হয় তোমরা সব পূর্বজ আত্মার দিকে। তোমরা পূর্বজ আত্মারা শক্তি দ্বারা তাদের পরিপোষণ ক'রে থাকো। ঠিক যেমন তোমরা সব পূর্বজ আত্মাদের পালনা বাবা করেছেন, তো বাবা কীভাবে করেছেন? শক্তি দ্বারা। তেমনই পূর্বজ হওয়ার সুবাদে শক্তি দ্বারা তাদের পরিপোষণকারী তোমরা। আজকাল তোমরা দেখতেই পাচ্ছ সব আত্মা দুঃখী, নিজের নিজের দেবী দেবতাদের কাতর স্বরে ডাকছে, এসো আমাদের রক্ষা করো। আমাদের শান্তি দাও, আমাদের শক্তি দাও। ও ক্ষমার সাগর পূর্বজ আমাদের পরিপোষণ করো। তো এই আওয়াজ তোমরা সব পূর্বজ আত্মার কানে শোনা যাচ্ছে? অনুভব করো যে আমরাই পূর্বজ? সম্পূর্ণ বৃক্ষে দেখ অন্য ধর্মের আত্মারাও আছে, তো বৃক্ষে ডালপালা হওয়ার কারণে তারাও তোমাদের সেই নজরে দেখে। তাদেরও পূর্বজ তোমরাই। অন্য কোনও ধর্মের আত্মাদের সাথে যখন তোমরা সাক্ষাৎ করো তখন এটা উপলব্ধি করো এরাও আমাদেরই বৃক্ষের ডালপালা! তারা যখন তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন মনে করে এরা আপন! সেই আত্মাদেরও আপনবোধের অনুভব হচ্ছে আর হওয়ারই আছে। তো তোমাদের ভিতর থেকে এতটা নেশা, এত করুণার উদ্রেক হয়? তারা আর্তচিৎকার করছে করুণা করো। তো এখন সময় অনুসারে তোমরা সব পূর্বজ আত্মাদের মন্সা শক্তির দ্বারা পরিপোষণ করতে হবে। তাদের আবশ্যকতা আছে। তো যত তুমি নিজের পূর্বজ হওয়ার নেশায় থাকবে ততই তোমাদের দ্বারা তাদের পরিপোষণ হবে। সাধারণভাবে যদি দেখ, লৌকিকেও কারও লালনপালন বড়দের দ্বারা হয়। সেই বড়রাই তাদের সোর্স অফ ইনকাম' দিয়ে তার শরীরের ভোজনপান, পড়াশোনা সবকিছুর ব্যবস্থা করে। তো বাবা যেভাবে বিভিন্ন শক্তি দ্বারা তোমরা সব বাচ্চার পালনা করেছেন, সেভাবে এখন তোমাদের কার্য হলো সম্পূর্ণ বৃক্ষের ডালপালা আর সমূহ পাতার পরিপোষণ করা। তোমরা সব পূর্বজ আত্মার এমন উৎসাহ উদ্দীপনা আসে? নেশা আছে তোমরা পূজ্য! দেখো, সমগ্র ড্রামায় তোমরা সব আত্মার পূজা যতটা নিয়মানুসারে হয় কোনো মহাত্মা, ধর্ম পিতার পূজা ততটা হয় না। তোমাদের পূজা নিয়ম অনুসারে হয়, আরতি হওয়া, ভোগ দেওয়া, এরকম কারও হয় না। দেখ, নিয়মবদ্ধভাবে তোমাদের কীর্তন গাওয়া হয়। কারও এমনভাবে গায়ন হয় না। তো পূর্বজ হওয়ার সাথে সাথে তোমরা পূজ্যও। ড্রামাতে তোমাদের মতন পূজন আর গায়ন কারও হয় না।

তো তোমাদের মতো এমন পূজ্য আর পূর্বজ আত্মাদের দেখে বাপদাদা কত খুশি হন! বাবার হৃদয় থেকে বারবার এই গীত বেজে ওঠে বাঃ! বৃক্ষের আমার সব পূর্বজ আর পূজ্য আত্মা বাঃ! তো তোমাদের যে স্বমান আছে বাবা সমান সম্পন্ন ও সম্পূর্ণ হওয়ার, সেই রূপে তোমরা সব বাচ্চাকে বাপদাদা আজকাল দেখতে চান। তার জন্য একটা বিষয় বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে হবে, বাপদাদা দেখেছেন যে বাচ্চারা সবাই খুব ভালো পুরুষার্থ করে কিন্তু সদা শব্দ প্রত্যেককে নিজের পুরুষার্থে অ্যাড করতে হবে। অ্যাটেনশন দিতে হবে। বাপদাদা বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন যে বাপদাদা যেমন তোমরা সব বাচ্চাকে শ্রেষ্ঠ স্বমানধারী আত্মা রূপে দেখেন, বাস্তবে, তোমরা নিজেদেরও এমন স্বমানধারী মনে করো?

তো বাপদাদা দেখেছেন যে বাচ্চারাও চায় যে আমরাও এখন নিজেদের রাজ্যে যাই! এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে এই গীতও গাইতে থাকে, মনের মধ্যে। এখন ঘরে যেতে হবে, রিটার্ন জার্নি করতে হবে এখন। তার জন্য বাপদাদা আগেই বলেছেন যে পুরো সময় নিজেকে কোনো না কোনো সেবায় বিজি রাখো। বাপদাদা দেখেছেন সেবার ইচ্ছা, সেবার উৎসাহ- উদ্দীপনা এখনও বাচ্চাদের আছে। সেবার ভালো সমাচারও বাপদাদা শুনে থাকেন। কিন্তু বাপদাদা তীব্রগতিতে অগ্রচালিত হওয়ার জন্য বাচ্চাদের বিশেষ অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন - কেবল এক বাচা সেবা নয়, যদি সেবা বলো তো একই সময়ে তিন সেবা একত্রে করো - মন্সা দ্বারা সকাশ দাও, বাচা দ্বারা জ্ঞান দাও আর কর্মণা দ্বারা অর্থাৎ নিজের সম্পর্ক দ্বারা, সম্বন্ধ দ্বারা, মুখমণ্ডল দ্বারা এমন সেবা করো যাতে সাথে সাথে তার প্রভাবও সেবাতে হয়। এক সময়ে তিন সেবা একত্রে করো। কেননা, এখন আত্মারা চায় সেবার জন্য কিছু পার্থক্য হোক। কিছু বদলানো উচিত । তো এক সময়ে তিন সেবা করতে পারো? পারো করতে? তোমরা চেক করো যে, যে সময় বাণীর সার্ভিস করছ সেই সময় মন্সা দ্বারা এবং কর্মণা দ্বারা অর্থাৎ সম্পর্ক- সম্বন্ধ দ্বারাও সেবা হচ্ছে কিনা! হয় একসাথে? যে মনে করো আমি একই সময়ে তিন সেবা করি সে হাত তোলো। করো তিন সেবা? আচ্ছা, প্রথম লাইন কম তুলছে কেন? কেন? প্রথম লাইন ভাবছে? মধুবনের তোমরা এটা করো? মধুনের যারা, হাত তোলো, যদি করো তো হাত তোলো। একই সময়ে তিন সেবা। তো এখন অ্যাটেনশন প্লিজ। কখনো কখনো নয়। কী হয়? সেবা তো তোমরা করো, কিন্তু সেবাতে একসাথে নিজের মধ্যে এবং সাথীদের মধ্যে সন্তুষ্টি থাকতে হবে, কেননা, সেবার ফল সন্তুষ্টি অথবা খুশি। তো চেক করো সেবা তো করেছ, কিন্তু আগেও বাবা তোমাদের বলেছেন যে সেবার খুশি তখন হয় যখন স্বয়ং সাথি আর বায়ুমণ্ডল সব সন্তুষ্টতার ভাইব্রেশনে থাকবে। সেবার সফলতার তিন বিষয় বিশেষভাবে বলা হয়েছিল, তোমাদের স্মরণে থাকবে। এক নম্বর, সেবা অর্থাৎ নিমিত্ত ভাব। দুই, নিরহংকার ভাবনা। তিন, নির্মল বাণী। ভাব, ভাবনা আর স্বভাব। এই সবকিছু একসাথে যদি সেবাতে থাকে তবে স্বয়ংও সন্তুষ্ট আর সাথিও সন্তুষ্ট আর যাদের সেবা করেছো তারাও অগ্রচালিত হবে। যারা নিমিত্ত ভাবের তারা বাবার সাথে সম্বন্ধ জুড়বে। যদি নিমিত্ত ভাব না থাকে তবে বাবার কাছাকাছি আসবে না। তো যখনই সেবা করো তখন এটা চেক করো যে, ভাব ভাবনা আর স্বভাব ঠিক ছিল? আর আজকাল বাপদাদা দেখেছেন মূল বিষয় হ'লো - তোমরা যেখানেই সেবায় যাও, প্রত্যেকে নিজেরা এবং তোমাদের সাথীরা সন্তুষ্ট থেকেছ কিনা সেটা চেক করা। কেননা, সেবার সফলতা হলো সন্তুষ্টতা এবং খুশির ফল প্রাপ্ত হওয়া। সেইসঙ্গে বাপদাদা একটা বিষয়ে ইশারা দিচ্ছেন - সংগঠনে থাকতেও ঘুরতে ফিরতে কেউ না কেউ তোমাদের সঙ্গে সেবায় থাকেই। তো একে অপরকে আত্মারূপে দেখো। আত্মারূপে দেখও, অভ্যাসও করো, কিন্তু যখন আত্মা রূপে দেখ তখন আত্মার অরিজিনাল সংস্কার থেকে দেখো? নাকি যে মিক্স সংস্কার আছে সেটাও দৃশ্যমান হয়? আত্মা দেখ এই বিষয়ে তোমরা পাশ। কিন্তু কী সংস্কার থেকে দেখো? আত্মার অরিজিনাল সংস্কারের সাথে কানেকশনে আসো? নাকি বর্তমান সংস্কারও সামনে আসে? তো বাবা বলেন যে আজ থেকে যে কোনো কাউকে এক তো আত্মারূপে দেখ কিন্তু আত্মার যে অরিজিনাল সংস্কার, সেই রূপে দেখো। তাহলে কখনও নিজেদের মধ্যে যে মাঝে মধ্যে অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে যায়, সেটা হবে না। এখন আত্মারূপে দেখছ কিন্তু যে সাথে আছে, বর্তমান সংস্কার, সেও এসে যায়। তাই নিজেদের মধ্যে যে সম্পূর্ণ স্থিতি হওয়া উচিৎ তা'তে ভিন্নমুখিতা এসে যায়। সুতরাং অরিজিনাল সংস্কারের আত্মা রূপে দেখ। তো এখন সংগঠনে এই যে বাধা আসে সেই বাধাও শেষ হয়ে যাবে।

এই ব্রাহ্মণ পরিবার শ্রেষ্ঠ পরিবার। পরিবারের অনেক মহিমা আছে। এই ঈশ্বরীয় পরিবার বারবার প্রাপ্ত হয় না। কল্পে একবারই এই ঈশ্বরীয় পরিবার প্রাপ্ত হয়েছে। সমগ্র কল্পে এত বড় পরিবার আর কখনো প্রাপ্ত হয় না। পরিবারের বিশেষত্ব জানা আর পরিবারের সাথে চলা, এক মহান সাবজেক্ট। আগেও তোমাদের বলা হয়েছিল যে এই জ্ঞানের ফাউন্ডেশন হলো নিশ্চয় আর নিশ্চয়ে চার বিষয়। বাবা, দাদা সাথে আছেনই আর নলেজে, ড্রামাতে, পরিবারে সবেতেই নিশ্চয়। তো নিশ্চয়বুদ্ধি হ'লে সহজে পুরুষার্থী হয়ে যাবে। যেমন, বাপদাদার প্রতি নিশ্চয় আছে তেমনই পরিবারের প্রতিও নিশ্চয় আবশ্যক। যেমন দেখ, তোমরা যখন কোনও বিষয়ের প্যাকিং করো তখন কী করো? চারদিকে টাইট করো তো না! একদিকটাও যদি টাইট না করো তবে নড়নড়ে হবে। এভাবেই বাবা, নলেজ, নলেজেও বিশেষ হলো ড্রামা আর পরিবার - যদি চার বিষয়েই দৃঢ়তা না থাকে তবে বিঘ্ন আসে। বিঘ্ন পার করার জন্য অ্যাটেনশন দিতে হয়। সেইজন্য পরিবারের স্বীকৃতি, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, পরস্পরকে বোঝা, এটা অতি আবশ্যক।

তো তোমরা পূর্বজ, পূজ্য, তো এই বিষয়ও নিজেদের মধ্যে এবং সাথিদের মধ্যে আনতে হবে। যতই হোক, নম্বরক্রমে আছ তো না! কিন্তু ব্রাহ্মণ পরিবারের বিশেষ কার্য হ'লো আশীর্বাদ দেওয়া, আশীর্বাদ নেওয়া। বাচ্চারা অনেকে বলে যে অন্যেরা ক্রোধ করে, এখন আশীর্বাদ নেবে কীভাবে! আশীর্বাদ তো নেবে না, ক্রোধ করবে। বাপদাদা বলেন, ঠিক আছে, যদি তারা তাদের সংস্কার বশে অভিশম্পাত করছে আর তোমরা তাদের কল্যাণময় শুভেচ্ছা দিতে চাইছো, সুতরাং অভিশাপ তো তারা দেয়, তারা দিচ্ছে কিন্তু নেবে কে? তোমরা গ্রহীতা নাকি তারা? তারা দেয় আর তোমরা নাও। তো তাদের অভিশম্পাত তোমরা নাও কেন? যদি তোমরা আত্মাকে তার অরিজিনাল সংস্কার থেকে দেখ তো তোমাদের করুণার উদ্রেক হবে। নিজেও সেফ থাকো, অভিশাপ নিও না, গ্রহীতা তোমরা। না দাও, না নাও।

তো বাপদাদা আজ সব বাচ্চাকে হোমওয়ার্ক দিচ্ছেন, কখনো কাউকে যখন আত্মা রূপে দেখছ তখন বর্তমান সংস্কারের রূপে দেখো না। আত্মা বলেছি তো আত্মার নিজস্ব যে সংস্কার রয়েছে সেই নিজের সংস্কারের রূপে, এমনকি সম্বন্ধে এসেও যদি সেই দৃষ্টিতে দেখো তবে এই যে বিঘ্ন উৎপন্ন হয় তার কারণে পুরুষার্থে তীব্রতা আসে না। তো এখন যদি বৃত্তি বদলাবে, দৃষ্টি বদলাবে তবে অবাঞ্ছিত বিষয় সমাপ্ত হয়ে যাবে। যদি কারও কোনও ব্যাপার দেখছ, বাপদাদা আগেই বলেছেন যে তাহলে সদা ব্রাহ্মণ পরিবারের তোমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য হলো শুভ ভাবনা, শুভ কামনা দেওয়া আর শুভ ভাবনা, শুভ কামনা নেওয়া। সেই সংস্কার থেকে দেখ আর চলো। আরেকটা বিষয়ও বলেন - আগেও বলেছেন, সংগঠনে কোথাও কোথাও কখনো কখনো পরদর্শন, পর চিন্তন আর পরমতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে যাও। এখন এই তিন পর-কে কেটে দাও, একটা পর রাখো, সেই এক পর হলো পর-উপকার। পর উপকার করতে হবে, পরোপকারী তোমরা, ব্রাহ্মণের স্বভাব হলো পর উপকার করা। পরদর্শন নয়, এই পর কেটে দাও। এই তিন খুব লোকসান ঘটায়। সেইজন্য নিজের স্বমান সদা স্মরণে রাখো যে, আমি ব্রাহ্মণ আত্মার স্বমানই হলো পর উপকারী। তো পরবর্তী সিজনে বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যে এই পরিবর্তন দেখতে চান। হতে পারে? বাপদাদা অভিনন্দন জানাচ্ছেন, ক্রমাগত একে অপরের অ্যাটেনশন আকর্ষণ করতে থাকো। কী করতে হবে? রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় বাপদাদাকে গুড নাইট করার আগে নিজের সারাদিনের পোতামেল দাও। ভালো করেছ কি খারাপ করেছ, যা-ই করেছ তার পোতামেল দিয়ে এবং নিজের বুদ্ধিকে খালি ক'রে গুড নাইট করো। তোমার ঘুম খুব ভালো হবে। আগে খালি করবে নিজেকে, বুদ্ধিতে কোনও বিষয় রাখবে না, বাবার রূপে প্রকৃত হৃদয়ে সমস্ত পোতামেল যদি দিয়ে থাকো তবে ধর্মরাজপুরীতে যাওয়ার আবশ্যকতা হবে না। প্রকৃত হৃদয়ে সাহেব সন্তুষ্ট হন। তো হোমওয়ার্ক তোমরা পেয়ে গেছ - এক তো নিজের পূর্বজ আর পূজ্য স্বরূপের সেবা ঘুরতে ফিরতে করতে পারো। বাবা দেখেছেন এই জনক বচ্চি শরীর খারাপ হওয়া সত্ত্বেও করাচির সেবাতে বিশেষভাবে মন্সা সকাশ দিয়েছে, নিমিত্ত যে কেউই হতে পারে কিন্তু এই বচ্চি প্র্যাকটিক্যালি করেছে। ওখানের আত্মাদের সকাশ লাভ হয়েছে। আর উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তো এরকম প্র্যাকটিক্যাল এক্সাম্পল দেখেছেন বাপদাদা। সুতরাং তোমরাও করতে পারো। দুঃখীকে খুশির তরঙ্গ পৌঁছাতে পারো। যারা কাতর স্বরে চিৎকার করছে, তারা তোমাদেরই ভক্ত, আর্ত স্বরে তোমাদেরই ডাকছে - আমার দেবী আমার দেবতা কবে এসে করুণা করবে! তোমরা শুনতে পাও না কিন্তু বাবা খুব শুনতে পান! প্রত্যেকে ইষ্টকে কাতর স্বরে ডাকছে, তোমরা তো জানো না তোমাদের ভক্ত কে কিন্তু ভক্ত তো জানে, তাই না! তারা তো ডাকে, তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মার ভক্ত তারা। বেখেয়াল হোক বা হুঁশিয়ার হোক, ভক্ত তোমাদেরই। কেননা, তোমরা মূলে ব'সে আছ তো না! তো সকাশ দেওয়ার পার্ট তোমাদের। তো এখন মন্সা সেবা বাড়াও। তাছাড়া, যত বিজি থাকবে ততো নির্বিঘ্ন থাকবে। করতে পারো তো না! মন্সা সেবা কীভাবে করতে হয় জানো তো, তাই না! আচ্ছা, নিয়মপূর্বক করো, নাকি কখনো কখনো? যদি কখনো কখনো করো তবে সেটা রেগ্যুলার করো আর যদি অল্প করো তাহলে সেটাকে আরও বাড়াও। কেননা, সমগ্র কল্পের আধার এখনের সেবার ফল। হয় পূজারী হবে অথবা রাজ্য অধিকারী হবে, দুইয়ের আধার এখনের সেবা, এখনের অবস্থা, এখনের বোল, এখনের সম্বন্ধ-সম্পর্ক। সেইজন্য বাপদাদা এটাই চান যে যত পার্সেন্ট এখন আছে, তার থেকেও বৃদ্ধি হওয়া উচিত । সাধারণতঃ, বাপদাদা তো প্রথম থেকেই বলছেন করতে হ'লে এখনই করো। কোনো এক সময়ে নয়। বাপদাদাকে কোনো এক সময়-এর গীত খুব শোনাও তোমরা। খুব ভালো ক'রে অনেক গীত শোনাও। কিন্তু বাপদাদার কখনো-র গীত ভালো লাগে না। এখন এখনের গীত ভালো লাগে। তাৎক্ষণিক দান মহাপুণ্য। তো বুঝেছো কী করতে হবে? আচ্ছা।

বাপদাদা চতুর্দিকের সব বাচ্চাকে দেখে খুশি হন। কেননা, বাপদাদা বাচ্চাদের ছাড়া একলা কিছু করতে চান না। সেইজন্য প্রতিদিন বাচ্চাদের আহ্বান করতে থাকেন। তীব্র পুরুষার্থী বাচ্চারা! মিষ্টি বাচ্চারা! প্রিয় বাচ্চারা এবারে ফিরে চলো। আচ্ছা।

চতুর্দিকের বাচ্চাদের বাপদাদা দেখছেন, হয় তারা সমুখে বসে আছে, নয়তো অন্য কোনোখানে কিন্তু সবাই বাবাকে স্মরণ করছে। আর বাবারও স্মরণে কে আছে? চতুর্দিকের বাচ্চারা স্মরণে আছে। কেননা, বাবা সব বাচ্চার প্রতি এই আশা রাখেন যে সব বাচ্চাকে বাবা সমান হতেই হবে। বাবার প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি আশা আছে, তিনি জানেন তারা নম্বরক্রমে রয়েছে তবুও নিজের নম্বর অনুসারেও সম্পন্ন তো হয়, তাই না! প্রত্যেকের পুরুষার্থও দেখেন তোমরা কী কী করছ, বাবার মমত্ববোধ হয়। যখন তোমরা পরিশ্রম করো তখন প্রবল স্নেহ আসে, তোমরা যেন পরিশ্রম থেকে নিস্তার পাও! গভীর ভালোবাসায় হারিয়ে যাও। ভালোবাসায় যত হারিয়ে যাবে ততো পরিশ্রম কম, আর বাপদাদা যখন হাত ওঠাতে বলেন যে বাবার প্রতি ভালোবাসা আছে তখন সবাই লম্বা লম্বা ক'রে হাত ওঠাও। বাবাও মানেন যে বাবার প্রতি ভালোবাসা আছে, ভালোবাসায় মেজরিটি পাশ কিন্তু পরিস্থিতি এসে গেলে তখন বাবাকে ভুলে যাও।

তো চতুর্দিকের বাচ্চারা বাপদাদার পদম পদম গুন ভালোবাসা আর হৃদয়ের স্নেহাদর স্বীকার করো। সবাইকে, মালিক বাচ্চাদেরকে বাবা লক্ষ লক্ষ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন। উড়ে চলো, অন্যদের উড়াতে থাকো।

বরদান:-
স্ব স্থিতির দ্বারা সর্ব পরিস্থিতি পার ক'রে নিরাকারী, অলঙ্কারী ভব

যারা অলঙ্কারী তারা কখনো দেহ- অহংকারী হতে পারে না। নিরাকারী আর অলঙ্কারী থাকা - এটাই মন্মনাভব, মধ্যাজীভব। যখন এমন স্ব স্থিতিতে সদা স্থিত থাকো তখন সর্ব পরিস্থিতি তোমরা সহজেই পার ক'রে নাও। এর দ্বারা অনেক পুরানো স্বভাব সমাপ্ত হয়ে যায়। স্ব-এর মধ্যে আত্মার ভাব দেখলে ভাব-স্বভাবের বিষয় সমাপ্ত হয়ে যায় এবং মোকাবিলা করার সর্বশক্তি স্ব-এর মধ্যে এসে যায়।

স্লোগান:-
সঙ্কল্পের এক কদম তোমাদের তো সহযোগের হাজার কদম বাবার।

অব্যক্ত ইশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচার সরল বানাও, সহনশীল হও। যারা নিজের এবং অন্যের অতীত দেখে না, সেকেন্ডে ফুলস্টপ লাগায় তারা সরল চিত্ত হয়। আর যে সরলচিত্ত হয়, তার নয়ন দ্বারা, মুখ দ্বারা, আচরণ দ্বারা মধুরতা ও সহাস্যমুখিতা প্রত্যক্ষ রূপে দৃশ্যমান হয়। যারা এমন সরলচিত্ত স্থিতির তারা অন্যকেও সরলচিত্ত বানিয়ে দেয়। সরলচিত্ত মানে যে বিষয় শুনেছো, দেখেছো, করেছো তা' সারযুক্ত হবে আর সার অংশটুকুকেই তুলে নেবে।