08.06.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


'মিষ্টি বাচ্চারা - এই সম্পূর্ণ বিশ্ব হলো ঈশ্বরীয় ফ্যামিলি, তাই গাওয়া হয় - তুমি মাতা - পিতা, আমি তোমার বালক। তোমরা এখন প্র্যাক্টিক্যালি ঈশ্বরীয় ফ্যামিলির হয়েছো''

প্রশ্নঃ -
বাবার থেকে ২১ জন্মের সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেওয়ার সহজ বিধি কি?

উত্তরঃ  
সঙ্গমে শিববাবাকে নিজের উত্তরাধিকারী বানাও । তন - মন এবং ধন সমেত বলিহারি যাও, তাহলে ২১ জন্মের জন্য সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে । বাবা বলেন, যে বাচ্চারা সঙ্গমে নিজের সবকিছু ইনশিওর করে দেয়, তাদের আমি এর পরিবর্তে ২১ জন্ম পর্যন্ত দিতে থাকি ।

গীতঃ-
নয়ন হীনকে পথ দেখাও...

ওম্ শান্তি ।
এই ভক্তরা ভগবানকে ডাকে । ভগবানকে সম্পূর্ণ না জানার কারণে মানুষ কতো দুঃখী । ভক্তিমার্গে মানুষ কতো মাথা ঠুকতে থাকে । কেবলমাত্র এই জীবনের কথা নয় । যখন থেকে ভক্তি শুরু হয়েছে, তখন থেকেই মানুষ ধাক্কা খেতে থাকছে । ভারতেই দেবী - দেবতার রাজ্য ছিলো, যাকে স্বর্গ বা সত্যখণ্ড বলা হতো । ভারত হলো সত্যখণ্ড, ভারতের মহিমাই খুব বেশী, কেননা ভারত হলো পরমপিতা পরমাত্মার জন্মভূমি । তাঁর প্রকৃত নাম হলো শিব । শিব জয়ন্তী পালন করা হয় । রুদ্র বা সোমনাথ জয়ন্তী বলা হয় না । শিব জয়ন্তী বা শিবরাত্রি বলা হয় । একই হেভেনলি গড ফাদার স্বর্গের স্থাপনা করেন । এখন সমস্ত ভক্তের ভগবান তো অবশ্যই একজন হওয়া উচিত । এখন সকলেই নয়নহীন, অর্থাৎ জ্ঞান চক্ষু বা ডিভাইন ইনসাইট নেই । ভগবান উবাচঃ - আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাই । শ্রীমৎ ভাগবত গীতা হলো মুখ্য । শ্রী অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মত । তোমাদের এখন বুদ্ধিমান করা হয় । দিব্য চক্ষু অর্থাৎ জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র দেখানো হয় । বাস্তবে জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র তোমরা ব্রাহ্মণরা পাও, যাতে তোমরা বাবাকে আর বাবার রচনার আদি - মধ্য এবং অন্তকে জেনে যাও । এই সময় সকলের মধ্যেই দেহ অহংকার অর্থাৎ পাঁচ বিকার আছে, তাই মানুষ ঘোর অন্ধকারে আছে । বাচ্চারা, তোমাদের কাছে আলোর রোশনাই আছে । তোমাদের আত্মা সম্পূর্ণ পৃথিবীর হিস্ট্রি - জিওগ্রাফিকে জেনে গেছে । আগে তোমরা সবাই অজ্ঞান অবস্থায় ছিলে । সৎগুরু অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশ করে জ্ঞান অঞ্জন প্রদান করেছেন । যারা পূজ্য ছিলেন, তারাই এখন পূজারী হয়ে গেছে । পূজ্য হলো জ্ঞানের আলোক । পূজারী থাকে অন্ধকারে । পরমাত্মাকে, তিনিই পূজ্য আবার তিনিই পূজারী বলা যায় না । তিনি হলেনই পরম পূজ্য । তিনিই সকলকে পূজ্য বানান । তাঁকে বলা হয় পরম পূজ্য । পরমপিতা পরম আত্মা অর্থাৎ পরম আত্মা । কৃষ্ণকে এমন বলাই হবে না । তাঁকে সবাই গড ফাদার বলবে না । নিরাকার গডকেই সবাই গড ফাদার বলে । তিনিও আত্মা, কিন্তু পরম, তাই তাঁকে পরমাত্মা বলা হয় । সেই পরম আত্মা সর্বদা পরমধামে থাকেন । ইংরাজীতে তাঁকে সুপ্রীম সোল বলা হয় । বাবা বলেন - তোমরা গেয়েও থাকো, আত্মা পরমাত্মা পৃথক আছে অনেককাল । এমন নয় যে, পরমাত্মা পরমাত্মার সঙ্গে পৃথক আছে বহুকাল । তা নয়, এ হলো প্রথম নম্বরের অজ্ঞানতা যে - আত্মাই পরমাত্মা আর পরমাত্মাই আত্মা বলা । আত্মা তো জনম - মরণে আসে । পরমাত্মা তো পুনর্জন্মে আসে না । বাবা বসে বোঝান - তোমরা ভারতবাসীরা স্বর্গবাসী পূজ্য ছিলে । মানবিকতায় পূজ্য সব দেবী - দেবতারা ছিলেন । এ হলো সম্পূর্ণ ঈশ্বরীয় পরিবার । ঈশ্বর হলেন রচয়িতা । এমন গাওয়া হয় - তুমি মাতা - পিতা, আমি বালক তোমার...... অতএব ফ্যামিলি হয়ে গেলো, তাই না । আচ্ছা, এ তো বলো, তোমরা মাতা - পিতা কাকে বলো? এ কথা কে বলছে? আত্মা বলছে, তুমি মাতা - পিতা..... তোমার কৃপায় আমরা স্বর্গের অতি সুখ পেয়েছিলাম । তুমি মাতা - পিতা এসে স্বর্গের স্থাপনা করো । তাই আমরা তোমার সন্তান হই । বাবা বলেন - আমি সংসারে এসেই নতুন দুনিয়ার জন্য রাজযোগ শেখাই । মানুষের বুদ্ধি সম্পূর্ণ ভ্রষ্ট হয়ে গেছে । স্বর্গকে নরক মনে করে । ওরা বলে - ওখানেও কংস, জরাসন্ধ, হিরন্যকশিপু আদি ছিলো । বাবা এসে বোঝান - তোমরা কি ভুলে গেছো আমার শিব জয়ন্তী তো তোমরা এই ভারতেই পালন করো । গায়নও আছে - শিবরাত্রি । কোন রাত্রি? এই ব্রহ্মার অসীম জগতের রাত্রি । বাবা এই সঙ্গমে এসেই রাত্রি থেকে দিন অর্থাৎ নরক থেকে স্বর্গ তৈরী করেন । শিব রাত্রির অর্থও কেউ জানে না । ভগবান হলেন নিরাকার । মানুষের তো জন্মের পরে জন্ম শরীরের নাম পরিবর্তন হয় । পরমাত্মা বলেন, আমার কোনো শরীরের নাম নেই । আমার নাম শিবই । আমি কেবল বৃদ্ধ বাণপ্রস্থ শরীরের আধার নিই । ইনি পূজ্য ছিলেন, এখন পূজারী হয়েছেন । শিব বাবা এসে স্বর্গের রচনা করেন, আমরা যখন তাঁর সন্তান, তখন অবশ্যই আমাদের স্বর্গের মালিক হওয়া উচিত, তাই না । শিব বাবা হলেন উচ্চ থেকেও উচ্চ । ব্রহ্মা - বিষ্ণু এবং শঙ্করের নিজের নিজের পার্ট আছে । প্রত্যেক আত্মার মধ্যে নিজের সুখ দুঃখের পার্ট নিহিত আছে । তোমরা জানো যে, আমরা শিব বাবার উত্তরাধিকারী হয়েছিলাম । শিব বাবা আমাদের স্বর্গবাসী করেছিলেন, তাই সবাই তাঁকে স্মরণ করে । ও গড, দয়া করো ! সাধুরাও সাধনা করে, কেননা এখানে দুঃখ তাই তারা নির্বাণধামে যেতে চায় । আত্মা, পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় বা আমি আত্মাই পরমাত্মা - একথা বোঝানো ভুল । তোমরা এখন বলো - আমরা আত্মারা পরমধামে থাকি, এরপর আমরা দেবতা কুলে যাবো আর ৮৪ জন্মগ্রহণ করবো । আমরা আত্মারা বর্ণে আসি । শিব বাবা জন্ম - মরণে আসেন না । কেবলমাত্র নারায়ণের রাজত্বকাল ছিলো । খৃস্টান ঘরানাতে যেমন এডোয়ার্ড দ ফার্স্ট, সেকেণ্ড, থার্ড চলতে থাকে । তেমনই সেখানেও লক্ষ্মী - নারায়ণ দ্য ফার্স্ট, লক্ষ্মী - নারায়ণ দ্য সেকেণ্ড, থার্ড, এমন চার রাজত্বকাল চলে । তোমাদের ব্রাহ্মণদের এখন তৃতীয় নেত্র খুলে গেছে । বাবা বসে আত্মাদের সঙ্গে কথা বলেন । তোমরা এইভাবে ৮৪ র চক্র লাগিয়ে এতো - এতো জন্ম নিয়ে এসেছো । বর্ণেরও এক চিত্র বানানো হয় যেখানে দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, ব্রাহ্মণ বানানো হয় । এখন তোমরা জানো যে, আমরা সেই ব্রাহ্মণ শিখা । এই সময় আমরা প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরীয় সন্তান । এই সহজ রাজযোগ আর জ্ঞানের দ্বারা আমরা অতি সুখ প্রাপ্ত করি । কেউ তো সূর্যবংশী রাজধানীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে, কেউ আবার চন্দ্রবংশীর । সম্পূর্ণ রাজধানী এখন স্থাপন হচ্ছে । প্রত্যেকেই নিজের পুরুষার্থে সেই পদ প্রাপ্ত করবে । কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, পড়তে পড়তে আমাদের এই শরীরের যদি মৃত্যু হয় তাহলে কি পদ পাবো? তখন বাবা বলে দিতে পারেন । যোগের দ্বারাই আয়ু বৃদ্ধি পায়, বিকর্ম বিনাশ হয়, পতিত থেকে পবিত্র হওয়ার আর অন্য কোনো উপায় নেই । পতিত পাবন বললেই ভগবানের কথা স্মরণে আসে, কিন্তু ভগবান কে? একথা জানে না । বাবা বলেন - আমি ভারতেই আসি । এ হলো আমার জন্মভূমি । সোমনাথের মন্দির কতো বিশাল আভিজাত্যপূর্ণ (আলিশান) - একথা বাবা বাচ্চাদের বসে বোঝান । ভক্তিমার্গে স্মরণিক হতে শুরু করে । যখন পূজারী হয় তখন প্রথমে সোমনাথের মন্দির তৈরী করে । ভারত তো সত্যযুগ আর ত্রেতাযুগে খুবই বিত্তবান দেশ ছিলো । মন্দিরেও অজস্র ধনসম্পদ ছিলো । ভারত তখন হীরে তুল্য ছিলো । ভারত তো এখন কাঙ্গাল আর কড়ি তুল্য । বাবা এসে আবার ভারতকে হীরে তুল্য তৈরী করেন । যে কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করো - সৃষ্টিকর্তা কে? বলবে - পরমাত্মা । তিনি কোথায়? বলে দেবে - তিনি তো সর্বব্যাপী । বাবা বলেন - এই সম্পূর্ণ ঝাড় এখন জরাজীর্ণ অবস্থা প্রাপ্ত করেছে ।

নিজেকে চেক করো, আমি কি সেই উপযুক্ত হয়েছি যে, বাবা - মাম্মার কোলে আসীন হতে পারি? এ হলো পতিত দুনিয়া । পবিত্রতা হলো মুখ্য । এখন তো নো হেল্থ, নো ওয়েলথ আর নো হ্যাপীনেস । এ হলো মৃগতৃষ্ণা সমান রাজ্য । এর উপরই দুর্যোধনের কাহিনী শাস্ত্রে লেখা হয়েছে । দুর্যোধন বিকারীকে বলা হয় । দ্রৌপদীরা বলে - আমাদের লজ্জা রাখো । সকলেই তো দ্রৌপদী, তাই না । এই বাচ্চারাই হলো স্বর্গের দ্বার । বাবা কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । যার বুদ্ধিযোগ খুব ভালোভাবে জুড়ে থাকবে, তারই ধারণা হবে । ব্রহ্মচর্যতেই জ্ঞান ধারণ করতে হয় । বাবা বলেন - গৃহস্থ জীবনে থেকে কমল পুষ্পের সমান হয়ে থাকতে হবে । দুইদিকেই কর্তব্য পালন করতে হবে । অবশ্যই জীবন্মৃত হতে হবে । মৃত্যুর সময় মানুষকে মন্ত্র দেওয়া হয় । বাবা বলেন - তোমরা সবাই এখন মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছো । আমি কালেরও কাল, সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো । তাই তোমাদের তো খুশী হওয়া চাই । এরপর যারা খুব ভালোভাবে পড়বে তারা স্বর্গের মালিক হতে পারবে । না পড়লে প্রজার পদ পাবে । এখানে তোমরা এসেছো রাজ্যের অধিকারী হতে । এ হলো পড়া, এখানে অন্ধ শ্রদ্ধার কোনো কথাই নেই । এই পড়া হলো রাজ পদ অর্জনের জন্য । পড়ার যেমন এইম অবজেক্ট হলো - ব্যরিস্টার হতে হলে যোগ অবশ্যই যে পড়ায় সেই টিচারের সঙ্গেই রাখতে হবে । এখানে তোমাদের ভগবান পড়ান, তাই তাঁর সঙ্গে যোগযুক্ত হতে হবে । বাবা বলেন - আমি অনেকদূর অর্থাৎ পরমধাম থেকে আসি । পরমধাম কতো উচ্চ । সূক্ষ্মবতন থেকেও উঁচু, ওখান থেকে আসতে আমার এক সেকেণ্ড সময় লাগে । এর থেকে দ্রুত আর কিছুই হতে পারে না । আমি এক সেকেণ্ডে জীবনমুক্তি প্রদান করি । জনকের উদাহরণ আছে, তাই না । এখন তো হলো নরক, পুরানো দুনিয়া । স্বর্গকে নতুন দুনিয়া বলা হয় । বাবা নরকের বিনাশ করিয়ে আমাদের স্বর্গের মালিক বানান । বাকি সমস্ত আত্মারা শান্তিধামে চলে যায় । আত্মা হলো অমর । তার পার্টও অবিনাশী । তাহলে আত্মা ছোটো - বড় কিভাবে হতে পারে, অথবা কিভাবে জ্বলে মরতে পারে? আত্মা হলো স্টার । ছোটো - বড় হাতেই পারে না । তোমরা এখন হলে গড ফাদারলি স্টুডেন্ট । গড ফাদার হলেন নলেজফুল, ব্লিসফুল । তিনি তোমাদের পড়াচ্ছেন । তোমরা জানো যে, এই পড়াতেই আমরা সেই দেবী - দেবতা হবো । তোমরা এই ভারতের সেবা করছো । সর্বপ্রথমে তো বাবার হতে হবে, অন্য জায়গায় তো গুরুদের কাছে যায়, তাঁদের হয়ে যায়, অথবা তাদের গুরু করে । এখানে তো হলো বাবা । তাই প্রথমে বাবার বাচ্চা হতে হবে । বাবা তার বাচ্চাদের নিজের সম্পত্তির অধিকারী করেন । বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা এক্সচেঞ্জ করো । তোমাদের সমস্ত খারাপ জিনিস আমার, আর আমার সবকিছুই তোমাদের । দেহ সহ তোমাদের যা কিছুই আছে সব আমাকে দিয়ে দাও । আমি তোমাদের আত্মা আর শরীর উভয়কেই পবিত্র বানিয়ে দেবো, আবার রাজ পদেরও অধিকারী করবো । তোমাদের কাছে যা কিছুই আছে, তোমরা আমার কাছে বলি দিয়ে দাও, তাহলে তোমরা জীবনমুক্তি প্রাপ্ত করবে । বাবা, এই সবকিছুই তোমার । বাবা বলেন - তোমরা আমাকে উত্তরাধিকারী বানাও । আমি তোমাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকারী করে দেবো । তোমরা কেবল আমার মতে চলো । যে কাজ কারবারই করো কিম্বা বিদেশে যাও, যা খুশী করো । তোমরা কেবল আমার মতে চলো । সাবধান থেকো, মায়া কিন্তু প্রতি মুহূর্তে আঘাত করবে । কোনো বিকর্ম করো না । শ্রীমতে চললে তোমরা শ্রেষ্ঠ হতে পারবে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আত্মা এবং শরীর উভয়কেই পবিত্র করার জন্য দেহ সহ যা কিছুই আছে, তাকে বাবাকে সমর্পণ করে, বাবার শ্রীমতে চলতে হবে ।

২ ) মাতা - পিতার কোলে আসীন হওয়ার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করতে হবে । উপযুক্ত হওয়ার জন্য মুখ্য গুণ 'পবিত্রতা'কে ধারণ করতে হবে ।

বরদান:-
সঙ্গম যুগে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভবকারী ডবল প্রাপ্তির অধিকারী ভব

যে বাচ্চারা সঙ্গম যুগে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করে নেয়, তাদের মধ্যে সর্বদা শান্তি আর খুশীর ডবল প্রাপ্তির নেশা থাকে কেননা অতীন্দ্রিয় সুখে এই দুটি প্রাপ্তি সমাহিত হয়ে আছে। বাচ্চারা এখন তোমাদের - বাবার আর উত্তরাধিকারের যে প্রাপ্তি হয়েছে তা সমগ্র কল্পে হওয়া সম্ভব নয়। এই সময়ের প্রাপ্তি অতীন্দ্রিয় সুখ আর নলেজ-ও আর কখনও পাওয়া যাবে না। তো এই ডবল প্রাপ্তির অধিকারী হও।

স্লোগান:-
একে অপরের সংস্কারগুলিকে জেনে মিলেমিশে চলা - এটাই হলো উন্নতির সাধন।

মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য - "সত্য বাদশাহ পরমাত্মার কাছে স্বচ্ছ হয়ে থাকো"

এই সময় আমরা পরমাত্মা বাবার কাছে এই নির্দেশ পেয়েছি যে, নিরন্তর আমার স্মরণে থাকো। যোগের অর্থ হলো, ঈশ্বরীয় স্মরণে থাকা, যোগের অর্থ কোনো ধ্যান নয় । আমাদের এই যে সহজ যোগ, যেমন চলতে - ফিরতে, কাজকর্ম করতে করতে তাঁর স্মরণে থাকা, একেই অটুট অখণ্ড যোগ বলা হয়, কিন্তু এতে নিরন্তর থাকার জন্য অভ্যাসের প্রয়োজন । যদি তাঁর নির্দেশে নির্দেশ পালনকারী হয়ে না থাকো, কোনোকিছু অবজ্ঞা করো, তাহলে অবশ্যই দণ্ড ভোগ করতে হবে । তাঁর নির্দেশ হলো, আমি যেমন কর্ম করি, আমাকে দেখে তোমরাও পদার্পণ করো, না হলেই মায়ার আঘাত পাবে । সত্য বাদশাহের কাছে স্বচ্ছ হয়ে থাকো, মায়ার যাই বিঘ্ন বিচলিত করুক না কেন, তাও তাঁর সামনে রাখা উচিত, তাহলে তাঁর সাহায্যে মায়া দূর হয়ে যাবে, রাস্তা পরিস্কার হয়ে যাবে, তখন তো যেখানে বসাবে, যেমন চালাবে, যা খাওয়াবে, রাস্তা পরিস্কার হয়ে যাবে । এমন সাথ দেওয়ার জন্য খুবই সাহসের প্রয়োজন । এমন মহান সৌভাগ্যশালী খুবই কম বেরোবে, তারাই বিজয় মালাতে যাবে । বাকি ভাগ্যশালী কিছু হবে, যারা অল্পকিছু প্রাপ্ত করে প্রজা হবে, তাই অল্প কিছু প্রাপ্ত হলে খুশী হয়ে যেও না । তোমাদের ইচ্ছা তো সম্পূর্ণ প্রাপ্তির, তাই সাহস রাখো, এগিয়ে যেতে হবে । মায়া বিঘ্ন এনে উপস্থিত করবে কিন্তু তার উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে । এতে যদি ভুল হয়, তাহলে মনে করবে বিশ্বাসের কমতি আছে, নিজের ধারণাতেও কিছু ঘাটতি আছে, এ তো নিজের দোষ, এতে লোক লজ্জা, কুল মর্যাদাকে ভাঙ্গতেও হয়, যখন একে ছিন্ন করতে পারবে, তখনই প্রকৃত পারলৌকিক দৈবী মর্যাদাকে প্রাপ্ত করবে । এই বিকারী দুনিয়া তো শেষ হয়ে যাবে, দেখো, মীরাও লোকলজ্জা ত্যাগ করেছিলো, তখনই গিরিধরকে পেয়েছিলো । যদি সেই লোকলজ্জা রাখো তাহলে এই দৈবী লোকের মতো হতে পারবে না । এখন কল্যাণের কারণে ঈশ্বরের রায় তো দেওয়া হয়, এখন নিজের বুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে । কি করতে হবে, কোনটা উচিত?

অব্যক্ত ঈশারা :- সদা হাসিখুশী থাকার জন্য নিজের নেচারকে সরল বানাও, সহনশীল হও।

যারা সরলচিত্ত হয় তারা সর্বদা হাসিখুশী থাকে। হাসিখুশী থাকলে সদা সকলের আকর্ষণের পাত্র হয়। হাসিখুশী থাকার অর্থই হল অতীন্দ্রিয় সুখে দোলা। জ্ঞান চিন্তন করে, অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করে অতীন্দ্রিয় সুখে দোলা, একে বলা হয় হাসিখুশী মুখ। এরজন্য সাক্ষীভাবের সিটের উপর সেট থেকে মায়া আর প্রকৃতির পাপেট শো - কে মনোরঞ্জনের রূপে দেখো।