09-08-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 02-03-2011 মধুবন


‘‘এই বার্থ ডে-তে সবাই একে অপরকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে সহযোগী হয়ে আকন্দ ফুল অর্পণ করো, মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্বমানের সিটে থেকে এতে নম্বর ওয়ানের পুরস্কার নাও"


আজ তোমরা সবাই এবং সাথে চতুর্দিকের সব বাচ্চা অমৃতবেলা থেকে অতি স্নেহ ভরা আন্তরিক প্রেম আর খুশির অভিনন্দন জ্ঞাপন করছ। তো বাবাও তোমরা সব হারানিধি বাচ্চাকে এই জয়ন্তীর অভিনন্দন জ্ঞাপন করতে এসেছেন। প্রত্যেক বাচ্চা বাবার জন্য অতি প্রিয়, তাঁর হৃদয়ের পরম আদরের। তো বাপদাদা নিজের বাহুমালা দ্বারা তোমাদের সবাইকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। বাপদাদা দেখছেন তোমরা তো সামনে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছও, গ্রহণও করছ। কিন্তু সর্বত্র বাচ্চারা অনেক জায়গা থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে আর বাবাও দেশ- বিদেশের সব দিকের বাচ্চাদের অতি স্নেহ পূর্বক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন।

বাপদাদা দেখছেন সব বাচ্চা প্রফুল্ল চেহারায় ভালোবাসার সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে। বাবা খুশি যে বাবা একলা আসেন না, বাচ্চাদের সাথেই আসেন। কেননা, বাবা আসেনই যজ্ঞ রচনা করতে। তো যজ্ঞে কে থাকে? ব্রাহ্মণ। সেইজন্য বাবা একলা আসেন না বরং বাচ্চাদের সাথে এসেছেন। কেননা, এই জয়ন্তী সব জয়ন্তী থেকে সবচেয়ে ওয়াণ্ডারফুল। সমগ্র কল্পে এটাই এক জয়ন্তী যা বাবা আর বাচ্চাদের সাথে জন্ম হয়। সেইজন্য এই জয়ন্তীকে বলাই হয় হিরে তুল্য জয়ন্তী। বাবাও বিশেষ আদি রত্ন বাচ্চাদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। তো আজ তোমরা সবাই অভিনন্দন জানাতে এসেছ, নাকি নিতেও এসেছ! বাবার বলাই আছে সাথে থাকবো, সাথে উড়বো সাথে আসব আর ব্রহ্মা বাবার সাথে রাজত্ব করবো। সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা রয়েছে। তোমরাও কী বলো? যেখানে বাবা আমরাও সেখানে একসাথে থাকব। এটাই বাবার প্রতি বাচ্চাদের, বাচ্চাদের প্রতি বাবার প্রতিজ্ঞা। শরীর দ্বারা যেকোনো কোথাও থাকলেও হৃদয়ে সদা বাবা সাথে আছেন। সেইজন্য বাবাকে হৃদয়েশ্বর( দিলারাম) বলা হয়। এখানে স্মৃতিচিহ্ন রূপে দিলওয়াড়া মন্দির আছে, আছেনা! আর বাবা সদা বাচ্চাদের বলেন কখনও একাকী হয়ো না। তোমাদের সর্বদা একতাবদ্ধ (সংগঠনে) থাকতে হবে। তোমাদের সবসময় মিলিত হয়ে (একসাথে) থাকতে হবে। যদি একাকী হও তবে মায়া তার নিজের চান্স নেবে। যদি তোমরা সাথে থাকো তবে স্বয়ং লাইটহাউজ সাথে থাকেন। তাঁর সামনে মায়া দূর থেকেই পালিয়ে যাবে। এমনকি তোমাদের কাছে পর্যন্ত আসতে পারে না। সেইজন্য বাচ্চাদের বাবার প্রতি আর বাবার বাচ্চাদের প্রতি সদা সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা রয়েছে। তোমাদের সবারই প্রতিজ্ঞা রয়েছে তো না! আমরা একসাথে আছি একসাথে থাকবো। একতাবদ্ধ থাকতে ভালো লাগে তো না! হ্যাঁ তোমরা হাত তুলতে পারো।

বাপদাদা দেখেছেন সব বাচ্চা অমৃতবেলায় বাবার সাথে হৃদয়ের অনেক বিষয়ে বলে। তা' নয়তো তোমাদের সময় হয় না, কিন্তু অমৃতবেলায় প্রত্যেকে হৃদয়ের খুব মিষ্টি মিষ্টি বিষয়ে বলো আর বাবাও প্রত্যেক বাচ্চার হৃদয়ের বিষয়গুলো শুনে সব বিষয়ের উত্তরও দেন। সবাই একটা ব্যাপারে খুব খুশি যে আমরা হৃদয় থেকে বলি আমার বাবা তো বাবা হাজির হয়ে যান। হুজুর হাজির হন। এক্ষেত্রে শুধু হৃদয়ের ব্যাপার। আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। হৃদয় থেকে আমার বাবা বলার সাথে সাথে হুজুর হাজির।

তো আজ চতুর্দিক থেকে বাপদাদার কানে মিষ্টি গীত বাজছিল। কোন্ গীত? আমার বাবা প্রিয় বাবা মিষ্টি বাবা। আর বাপদাদাও বাচ্চাদের স্নেহে সমাহিত হয়েছেন, সমাহিত হয়ে আছেন। তোমাদের স্নেহের দিব্য কর্তব্য দেখে তোমাদের ভক্ত, তারাও কম বুদ্ধির নয়, তারা তোমাদের স্মৃতিচিহ্নের কপি খুব ভালো বানিয়েছে। তারা দ্বাপরে আসে, প্রথম জন্ম, সাধারণতঃ সতোপ্রধান হয়। কেননা, পরমধাম থেকে আত্মা আসে। তো আজ ভক্তদের দিকেও বাবার দৃষ্টি গেছে। তো তারা খুব যুক্তিযুক্তভাবে তোমাদের কপি করেছে। শুরুর সময়ে তোমাদের বিশেষ ভক্তরা তোমাদের কর্ম যেমন ছিল তারা স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সেসবের কপিও ভালো বানিয়েছে। যতই হোক, তোমাদের প্র্যাকটিক্যাল তাদের স্মরণিক। যেমন, তোমরা ব্রত নিয়েছ, কোন ব্রত নিয়েছো? পবিত্রতার। তো তারাও ব্রত নেয় ব্রতের কপি করে। কিন্তু তোমাদের ব্রত এক জন্ম নিলে অনেক জন্ম সেই ব্রত চলে। তারা একদিনের জন্য পবিত্রও থাকে এবং ভোজনপানও শুদ্ধ রাখে। তোমাদের ২১ জন্মের ব্রত তাদের অল্পকালের জন্য। জাগরণ এরকমই, তোমরা আলোকে এসেছ সমগ্র বিশ্বের ভিতরে অন্ধকার ঘুচিয়ে দিতে। অর্ধেক কল্প অন্ধকার আসতে পারে না। মনের অন্ধকার অপসারিত করেছো আর বাইরে প্রকৃতির দুঃখ অন্ধকার ঘুচিয়ে দিয়েছো। তারা তারও কপি করেছে - জাগরণ করে। আরেকটা ব্যাপার, তোমরা বাবার কাছে নিজের দেহ-অভিমান, মন এবং জীবনের সমস্ত কিছু উৎসর্গ করে সম্পূর্ণভাবে সমর্পিত হয়ে গেছো। সম্পূর্ণরূপে সারেন্ডার করেছ তো তারাও কপি করেছে কিন্তু নিজেকে উৎসর্গ করে না, কা'কে উৎসর্গ করে? তোমরা জানো তো না! ছাগল উৎসর্গ করে। কেন তারা ছাগল খোঁজে অন্য কিছু নয়? তোমরা সবাই হাসছো, কেন তোমরা জানো। তোমরা সব বাচ্চাকে বাবা বারবার ইশারা দিচ্ছেন, আমিত্ব বোধ ছেড়ে নিমিত্ত ভাব ধারণ করো। তারাও ছাগল খুঁজেছে, কেননা, তারাও ম্যাঁ ম্যাঁ করে। তো ভক্তদের বুদ্ধি চমৎকার করেছে, তাইনা! তোমাদেরই ভক্ত তো না! তারা বাবার ভক্ত, তোমাদের ভক্ত। সেইজন্য বাবা তোমাদের ভক্তদেরও যারা প্রকৃত হৃদয়ে ভক্তি করে তাদের কিছু না কিছু ফল দিয়ে থাকেন। তারাও সদা সৎ আর পবিত্র থাকে, খুশি থাকে। দুঃখে দুঃখী হয় না। কেননা, তারা স্বচ্ছ হৃদয় থেকে ভক্তি করে। তো বাবাও আজকাল তোমরা সব বাচ্চাকে এই ইশারা দেন যে আমিত্ববোধ এনো না। আমি যা বলবো সেটাই হবে, আমিই ঠিক বলি সেটাই হওয়া উচিত । এই আমি আমি হলো সাধারণ, আমি শরীরধারী, আমি দেহধারী কিন্তু এ' হলো এক সাধারণ আমি আরেক হ'লো সূক্ষ্ম আমি, এতে বাবার দানকেও আমি করেছি, আমি বলেছি, আমি করি - তোমাদেরকে বাবার দেওয়া বিশেষত্বতেও আমিত্ববোধ এসে যায়। জ্ঞানের উপলব্ধি বিশেষত্বের উপলব্ধি তার মধ্যেও সূক্ষ্ম 'আমি-ভাব' বা অহংকার চলে আসে। তো বাবা ইশারা দিতে থাকেন যে, আমি আর আমার, সদা আমার বাবা এই দিকেই হৃদয়ের আকর্ষণ হতে দাও। সীমাবদ্ধ দুনিয়ার 'আমার' - আমার নাম, আমার মান -

মর্যাদা এগুলো সমাপ্ত ক'রে আমি বাবার, বাবা আমার এতে কত খুশি হয়। ভগবান আমার হয়ে গেছেন আর কী চাই! তো এক হলো সাধারণ আমার, আরেক হলো সূক্ষ্ম আমার। এই সূক্ষ্ম আমার কলুষিত ক'রে দেয় আর আমার বাবা ঐশ্বরিক গুণের প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ক'রে দেয়।

তো আজ তোমরা বার্থডে উদযাপন করতে এসেছ। নিজেরও বার্থডে উদযাপন করতে এসেছ তো না! বাবা বাচ্চাদের ছাড়া কিছু করেন না। সেইজন্য আজ বাবা বাচ্চাদের জন্ম উৎসবের অভিনন্দন জ্ঞাপন করতে এসেছেন। বাঃ আমার বাচ্চারা বাঃ! এখন একটা কথা বলি, তোমরা প্রস্তুত? বাবা কি তোমাদের বলবেন? তখন করতে হবে তোমাদের। হাত তোলো, করবে তোমরা? ডবল ফরেনার্স করবে? টিচার্স করবে? আচ্ছা। আজ বাপদাদা যেমন স্মারক হিসেবে (বলছেন), তেমন শিব পরমাত্মার স্মারকচিহ্নে আকন্দ ফুল অর্পণ করা হয়, সুগন্ধি গোলাপ নয়; আর অন্য কোনো ফুল দেওয়া হয় না, কেবল আকন্দ ফুলই অর্পণ করা হয়। তো আজ বাপদাদা তোমাদের কোন বিষয় অর্পণ করার হোমওয়ার্ক দিতে চান? প্রস্তুত আছ তো না! আচ্ছা।

সবাই হাঁ জী করে - বাচ্চাদের এটা বাবার খুব ভালো লাগে। তো আজ বার্থডে উপলক্ষ্যে বাবার এই সঙ্কল্প রয়েছে, সবাই একে অপরের উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগিয়ে পরস্পরের সহযোগী হয়ে ব্যর্থ সঙ্কল্পের আকন্দ ফুল অর্পণ করো। ব্যর্থ সঙ্কল্প না করা উচিত, না শোনা উচিত আর না সঙ্গে মিলে ব্যর্থ সঙ্কল্পের সঙ্গের রঙ লাগানো উচিৎ। কেননা, ব্যর্থ সঙ্কল্প যেখানে থাকবে সেখানে স্মরণের সঙ্কল্প জ্ঞানের মধুর বোল যাকে তোমরা মুরলী বলো সেই শুদ্ধ সঙ্কল্প স্মৃতিতে থাকবে না। তা' তোমরা মুরলি শোনো বা পড়ো, এটা তো আবশ্যক; ব্রাহ্মণের নিয়ম, কিন্তু শোনা পর্যন্তই থাকবে মনন চলবে না। ভাববে, বলবে আজকের মুরলী খুব ভালো ছিল। ভাবছি কী ছিল...! বরদানও খুব ভালো ছিল, তাড়াতাড়িই স্মরণে এসে যাবে...। ব্যর্থ সঙ্কল্প মন-বুদ্ধিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। তোমরা জানো বাবার সামনে তোমরা কী বলো? বাবা, ইন্টারেস্টেড সমাচার তো শোনা উচিত তাইনা! নলেজফুল হওয়া দরকার কিন্তু ব্যর্থ বিষয় পদপ্রাপ্তিতে লোকসান ঘটায়। তো সবাই কি তোমরা ব্যর্থ সঙ্কল্পের প্রতিজ্ঞা করো বাবার কাছে? তোমরা বলবে, আমি চাই না কিন্তু সে এসে যায়। চাও না কিন্তু এসে যায়! তো দৃঢ় সঙ্কল্প দ্বারা বাবাকে দেওয়ার আগে কীভাবে দিতে হয় জানো তোমরা? বাবাকে দিয়ে দিয়েছ, অর্পিত জিনিস যদি তোমার কাছে ফিরেও আসে তাহলে সেই অর্পিত জিনিস তুমি রাখবে নাকি ফিরিয়ে দেবে? যদি অর্পিত জিনিস তুমি নিজের কাছে রাখো তবে তোমার টাইটেল কী হবে? তো একবার স্বেচ্ছায় দৃঢ়তার সাথে বাবাকে দিয়ে দাও। আর চেক করো, অর্পিত জিনিস আমার কাছে বারবার ফেরত চলে আসে না তো! অন্যের জিনিস নিজের বানানো এটাকে ভালো বলা হয় না। তো রোজ আরাম করো পরে, আরামের আগে চেক করো - আজ সারাদিনে কোনও ব্যর্থ সঙ্কল্প আসেনি তো? করিনি তো? অর্পিত জিনিস ফিরিয়ে তো নিইনি!

তো আজ বার্থডে -র উপহার দেওয়ার সাহস আছে তো না! আছে সাহস? সাহস আছে তো হাত তোলো। সুতরাং যেখানে সাহস আছে সেখানে বাপদাদাও তোমাদের উপহার দেবেন। আমার বাবা দয়ালু, কৃপালু, বাবা আপনি এটা নিন, তোমরা যদি হৃদয় থেকে বলো তবে বাবা এক্সট্রা গিফ্ট দেবেন। কেননা, সাহস তোমাদের, এক্সট্রা সহায়তা বাবা দেবেন। যেখানে সাহস আছে সেখানে বাবার সহায়তা অবশ্যই আছে। এটা তো অনুভব করেছনা! কেননা, বাপদাদা অনেক সময় ধরে নির্দেশ দিচ্ছেন যে এখন তীব্র পুরুষার্থের রাস্তা হলো তিন বিন্দু লাগানো। আমি বিন্দু বাবা বিন্দুকে স্মরণ করতে হবে এবং যা অতীত তা'তে বিন্দু লাগানো, ফুলস্টপ হলো বিন্দু। যেটা সম্পর্কে বাপদাদা বলেন মনন করো, বিন্দু হতে হবে, বিন্দু দেখতে হবে আর বিন্দু লাগাতে হবে। সেইজন্য বিন্দুর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আজকালকার দুনিয়াতেও বিন্দুর গুরুত্ব রয়েছে। দেখ পয়সা-কড়ি গুনতি করে তো না! আজকাল সবার ভালোবাসা সবচাইতে বেশি কিসের প্রতি? অর্থের প্রতি। তো অর্থ বৃদ্ধি হয় কীভাবে? বিন্দু লাগিয়ে যাও, ১০-এ যদি বিন্দু লাগাও ১০০ হয়ে যাবে। আরেকটা বিন্দু লাগালে ১০০০ হয়ে যাবে। তো বিন্দুর গুরুত্ব আছে।। কিন্তু প্রকৃত বিন্দু কি তা' ভুলে গেছে। তো আজ বাবার জন্মদিনের উপহার দিয়েছো? দিয়েছো? হৃদয় থেকে দিয়েছো? কেন, কী করবে না তো! কীভাবে করবো, কেন করবো? এই ক ক-এর ভাষা খারাপ। কেন করবো, কীভাবে করবো! কেন কেন কী কী ক'রো না। তো উপহার দেওয়ার জন্য খুশি খুশি হাত তুলেছো, নাকি সংগঠনের বাধ্যবাধকতায়? কেননা যারা বাধ্যবাধকতায় করে তাদের সদা হবে না, কখনো কখনো হবে। যারা হৃদয়ের সাথে করে তাদের সঙ্কল্প থাকে করতেই হবে, হতেই হবে। উপহার দিয়ে দিয়েছ, দিতেই হবে। এরকম প্রফুল্ল মনে যদি সঙ্কল্প করো তবে সর্বশক্তিমান বাবার তোমরা সব মাস্টার সর্বশক্তিমান বাচ্চার জন্য এটা কী এমন বড় ব্যাপার! সিটে থাকো, মাস্টার সর্বশক্তিমানের সিটে সদা সেট থাকো। ভুলো না। এটা স্বমান তো না! নিজের স্বমান ছেড়ে দেওয়া যায় না। স্বমানের জন্যই তো পরস্পর লড়াই করে! তো সেইজন্য আজ তোমাদের প্রতি বাবার ভালোবাসার সঞ্চার হচ্ছে, তুচ্ছ ব্যাপারে নিজের স্বমান হারিও না, পরমাত্মা দ্বারা তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে। লোকের থেকে পাওয়া স্বমানের ক্ষেত্রেও কত নেশা থাকে! মাস্টার সর্বশক্তিমান - এই স্বমান পরমাত্মা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছে। যে চাইবে সে করতে পারে। আছেনা সাহস? টিচার্স, তোমাদের করাতে হবে খেয়াল রাখতে হবে। তোমরা করবে আর অ্যাটেনশন দিইয়ে তাদেরকে করাবে। তোমরা নিমিত্ত তো না! তারপরে দেখবো কোন ক্লাস কা'র ক্লাস নম্বর নেয়? তখন ভালো পুরস্কার দেওয়া হবে। কোন পুরস্কার দেওয়া হবে বাবা সেটা বলবেন না। চমৎকার গিফ্ট দেবেন। পুরো ক্লাস চেষ্টা করো। এমন নয় একজন করেছে, না। যেন মেজরিটি করে।

তো আজ প্রত্যেক বাচ্চার প্রতি বাপদাদার ভালোবাসার সঞ্চার হচ্ছে, তোমাদের নম্বর হওয়ার চেষ্টা করা উচিত, টু-তেও নয়। প্রথম রাজগদিতে বসবে না, সিংহাসনে তো কেবল দু'টিতে বসবে। কিন্তু তোমরা প্রথম রাজধানীর প্রথম রাজ ঘরানার সম্বন্ধে আসবে। প্রথম দু'টি নম্বর (স্থান) তো নির্ধারিত হয়ে গেছে, কিন্তু তোমাদের রাজ্যত্ব করতে হবে এবং রাজ্য অধিকারী হতে হবে, অতএব, প্রথম রাজ্যে তোমাদের আসতে হবে। তো বাপদাদার এটাই বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসা - প্রত্যেক বাচ্চা কোনো না কোনো বিশেষত্বে নম্বর ওয়ানে আসুক। নম্বরক্রমে নয়, নম্বর ওয়ান। আছে উৎসাহ? নম্বর ওয়ানে আসতে চাও? নাকি তোমরা যা প্রাপ্ত করেছ তা'তে পরিতুষ্ট? ভালো ভালো ক'রো না। বাবার আশা যে প্রতিটি বাচ্চাই কোনো না কোনো অলৌকিকত্বে নম্বর ওয়ান আসুক। চারটে বিষয় (জ্ঞান, যোগ, ধারণা, সেবা) রয়েছে, যেকোনো একটি বিষয়ে নম্বর ওয়ান হতেই হবে। হতেই হবে এটা আন্ডারলাইন করো। ঠিক আছে, বাবা বেশি পরিশ্রম দেন না, কোনো না কোনো সাবজেক্টে নম্বর ওয়ান....। এটা সহজ তো না! আর তো আজকের দিনে অমৃতবেলায় প্রতিটি বাচ্চা যারা মিলন উদযাপন করছিল তাদের অত্যন্ত আনন্দময়, খুশিতে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল। তাছাড়া, বাবাও সব বাচ্চাকে সদা উড়তি কলার বরদান দিয়েছেন। চলতি কলা নয়, উড়তি কলা। তো বাপদাদার আজ এই বরদান স্মরণে রেখো। বাপদাদা তোমাদের এবং নিজের জয়ন্তীতে কী বরদান দিয়েছেন? উড়তি কলা ভব। তোমরাও সারাদিন উৎসব পালন করছ, শিবরাত্রি উৎসব হৃদয়ে উদযাপন করেছ তো না! তো সবাই ভালো, ভালো থাকবে, ভালো থেকে ভালো রাজ্য পদ প্রাপ্ত করবে। সবাই ভালো, তাইনা! বাবা তো ভালোই দেখেন। আচ্ছা।

চতুর্দিকে, বাচ্চারা হয় সমুখে বসে আছে নাহয় নিজের নিজের স্থানে বসে উদযাপন করছে। সবাইকে দেখে বাপদাদাও আনন্দিত হচ্ছেন আর বাচ্চারাও বাবা মিলন দেখে খুশি হচ্ছে। কিন্তু আজকের সঙ্কল্প রাখো সদা খুশি থাকার। কখনো কখনোর নয়, সদা প্রসন্ন। যে কেউই তোমাদের দেখবে তোমাদের মুখমণ্ডল দেখে যেন এটা ভাবে - এ' খুব ভাগ্যবান আত্মা প্রতীয়মান হচ্ছে। তোমাদের ভাগ্য আচরণ আর মুখমণ্ডল দ্বারা দৃশ্যমান হতে হবে। এমন নয়, মনে অনেক খুশি আছে, না। তোমার ভাগ্যবান মুখমণ্ডল, আনন্দময় মুখমণ্ডল অন্যদের কাছে তোমার পরিচয় দেবে। মুখই বলে দেবে যে কিছু একটা ব্যাপার আছে। তোমার মুখমণ্ডল যেন সেবা করে। বাবার (পরমাত্মার) কাছাকাছি নিয়ে আসে। সদাপ্রফুল্ল বা আনন্দময় থাকা - এটিও সেবার একটি সাধন। তো চতুর্দিকের বাচ্চাদের, তোমাদেরও বার্থ ডে-র পদম গুন অভিনন্দন অভিনন্দন অভিনন্দন। আচ্ছা।

বরদান:-
সংশয়ের সঙ্কল্প সমাপ্ত ক'রে মায়াজিত হয়ে বিজয়ী রত্ন ভব

কখনও আগে থেকে সংশয়ের এই সঙ্কল্প যেন উৎপন্ন না হয় যে, জানি না আমি ফেল হয়ে যাবো কিনা! সংশয়বুদ্ধি হলেই পরাজয় হয়, সেইজন্য সদা এই সঙ্কল্প হোক আমি বিজয় প্রাপ্ত করেই দেখাবো। বিজয় তো আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার। এরকম অধিকারী হয়ে কর্ম করলে বিজয় অর্থাৎ সফলতার অধিকার অবশ্যই প্রাপ্ত হয়, এর থেকেই তোমরা বিজয়ী রত্ন হয়ে যাবে। সেইজন্য মাস্টার নলেজফুলের মুখ থেকে জানিনা শব্দ কখনও বেরোনো উচিত নয়।

স্লোগান:-
করুণার ভাবনা সহজেই নিমিত্ত ভাব ইমার্জ করে দেয়।

অব্যক্ত ইশারা :- অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও যেমন স্পর্শকাতর গাছ সামান্য হাত লাগাতেই শক্তিহীন হয়ে যায় তেমনই তোমরা এক সেকেন্ডের শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি দ্বারা স্পর্শকাতর লতার মতো মূর্ছিত ক'রে দাও। নিজের স্বরূপ, বরদানী স্বরূপ যদি সদা স্মৃতিতে থাকে তবে অপবিত্রতা বা বিস্মৃতির লেশমাত্র থাকবে না।