09.10.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা জানো যে, সব আত্মারা অসীম জগতের পিতার কাছে পড়বে না, কিন্তু সাথে অবশ্যই যাবে"

প্রশ্নঃ -
চক্রবর্তী রাজা যারা হবে সেই সব বাচ্চারা কোন্ বিষয়ের অত্যন্ত কদর করবে?

উত্তরঃ  
ঈশ্বরীয় পড়াশোনা প্রতি তাদের কদর থাকবে। তারা যেখানেই থাকবে পাঠ অবশ্যই পড়বে। তার সাথে সাথে আত্মীয় পরিজনদের প্রতিও কর্তব্য কর্ম বজায় রেখে চলবার অভ্যাসও করবে আবার সবাইকে ঈশ্বরীয় বার্তা (পয়গাম) দেবে যে, বাবাকে স্মরণ করো তাহলে শান্তিধাম, মুক্তিধামে চলে যাবে। এই শ্রীমৎ অনুসারে চলা বাচ্চারাই চক্রবর্তী হবে।

ওম্ শান্তি ।
বাবাকে, সকল রুহানী বাচ্চাদের সাথে সাথে সমগ্র সৃষ্টিতে যত জীব আত্মা রয়েছে, সমস্ত জীব আত্মাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কেননা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন অমানিশা শেষ হবে। পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে নতুন দুনিয়ার স্থাপনা হচ্ছে। দুনিয়া তো থাকবেই কিন্তু পুরানো থেকে নতুন হবে। সত্যযুগের আদি থেকে অবশ্যই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল। এখন সেই সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী নেই। বাবা বোঝাচ্ছেন যে, তারা পুনর্জন্ম নিতে নিতে ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করেছে। এই সময় সব পার্ট ধারণকারী তমোপ্রধান হয়ে গেছে । মানুষ চায়ও রাম-রাজ্য, নতুন দুনিয়া, নতুন দিল্লি চাই। যেমন বাচ্চারা বলে না - আমার ওই নতুন জিনিসটা চাই। এরাও বলে থাকে বাবা নতুন দুনিয়ার জন্য আমাদের নতুন বস্ত্র চাই। দীপাবলিতে মানুষ নতুন বস্ত্র পরিধান করে। কৃষ্ণ জয়ন্তীতে নতুন বস্ত্র পরিধানের কোনো ব্যাপার নেই। বিশেষ করে দীপাবলিতে নতুন বস্ত্র ইত্যাদি খুব কেনাকাটা করে। দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালায়। তোমাদের এখন জ্যোতি জাগ্ৰত হয়েছে, এমন অন্যদের জ্যোতিকেও জাগ্ৰত করতে হবে তোমাদেরকে। তাদের হলো ভক্তি মার্গের দীপাবলি, তোমাদের হলো জ্ঞানের দীপাবলি । তোমাদের কোনো বস্ত্র ইত্যাদি বদলাতে হয় না। তোমাদের যখন সম্পূর্ণ জ্যোতি জাগ্ৰত হয়ে যাবে তখন নতুন দুনিয়ার বস্ত্র প্রাপ্ত হবে । বাবা বলেন আমি সবাইকে নিয়ে যাব। তা সে চায় কিম্বা না চায়। আহ্বানও করে - হে পতিত-পাবন এসো। তারা তারপর বলে লিবারেটর এসো। কেউ এক ভাষাতে কেউ অন্য ভাষাতে বলে। আমি প্রতি কল্পে এসে সবাইকে নিয়ে যাই। সত্যযুগে তো খুব কম সংখ্যক মানুষ থাকে। এখন তো অনেক সংখ্যক পার্ট ধারণকারী। এরা হলো জীব আত্মা। শরীরকে জীব বলা হয়। এমন নয় যে, জীব বলে আমি এক আত্মা ছেড়ে অন্যটা নিই। না। আত্মা বলে আমি এক শরীর ছেড়ে অন্যটা নিয়ে থাকি। কিন্তু এটাও কারো জানা নেই যে আমরা ৮৪ জন্ম নিয়ে থাকি। এমন নয় যে সবার ৮৪ জন্ম হয়। সর্বনিম্ন ১জন্মও হয়ে থাকে। এ'সব বাবা বসে বোঝান, সবাইকে তো পড়াবেন না। কিন্তু সবাইকে সাথে করে অবশ্যই নিয়ে যাবেন। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে আমি বাঁধা হয়ে আছি নিয়ে যাওয়ার জন্য। দুনিয়া এটা জানে না যে পুরানো দুনিয়ার অবসান হতে চলেছে। বাবা এসে অবশ্যই নতুন দুনিয়ার স্থাপনা করবেন। মানুষের রচয়িতা এবং রচনার আদি - মধ্য - অন্তের সামান্যতমও নলেজ নেই। হ্যাঁ ভক্তি মার্গের জানা আছে। ভক্তি মার্গের রীতি নীতি একেবারেই আলাদা। এ তো হতে পারে না যে সত্যযুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত ভক্তিই থাকবে। বলাও হয়ে থাকে জ্ঞান হলো দিন, ভক্তি হলো রাত। অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে মানুষ এদিক ওদিক ধাক্কা খেতে থাকে। বাবা বলেন মানুষ নুড়ি কাঁকর পাথরের মধ্যেও গিয়ে আমাকে খোঁজে। কেউ হনুমানের সাক্ষাৎকার করে, কেউ কেউ গণেশের সাক্ষাৎকার করে। তারা তো আর ভগবান নয়। আমার তো নিজের শরীর বলে কিছু নেই। মায়া রাবণ সবাইকে বুদ্ধু বানিয়ে দিয়েছে । ভারতবাসীদের এটাও জানা নেই যে, রাম-রাজ্য কাকে বলা হয়। এটাও ভাবনাতে আসে যে, লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব এই দুনিয়াতে ছিল। কেবল বলে দেয় রাম-রাজ্য চাই। রাম সেই রঘুপতি রাম নয়। তাঁর বিষয়ে তো শাস্ত্রে অনেক উল্টো পাল্টা কথা লিখে দিয়েছে। মানুষ মৃত্যুকে কতো ভয় পায়। লাইফকে বাঁচানোর জন্য কাতর প্রার্থনা করতে থাকে। এখন তো অনেক অনেক সংখ্যায় মৃত্যু হবে। সে বিষয়ে কী বলবে ! বাবাকে আহ্বানই করে থাকে এইজন্য যে আমাদেরকে পবিত্র দুনিয়াতে নিয়ে চলো। শান্তিধামে তো শরীরকে নিয়ে যাবে না। সেখানে তো আত্মা যাবে। এ তো পুরানো ছিঃ ছিঃ শরীর। খড়ের গাদায় আগুন তো লাগবেই। সেইজন্যই আগুনের গোলা (বম্বস্) বানাচ্ছে। এখন তারা বলছে বম্বস্ বানিও না। এখন এইটুকু বুদ্ধি তাদের নেই, তাহলে যার কাছে বেশী সংখ্যায় বম্বস্ থাকবে সে অবশ্যই ততই শক্তিশালী হয়ে যাবে। তখন অন্যরা নিজেদেরকে কীভাবে বাঁচাতে পারবে যদি তারা বম্বস্ না বানায়? এখন তারা যদি সে সব সমুদ্রে ফেলে দেয় তবে এরাও বানানো বন্ধ করে দেবে। কিন্তু সমুদ্র থেকেও তো মেঘ জমতে জমতে তারপর এমন বৃষ্টি শুরু হবে তখন তো সব ক্ষতি হয়ে যাবে। খেত ইত্যাদি জ্বলে যাবে, সেইজন্য ড্রামাতে যুক্তি রচনা করা হয়েছে। আগে এই সব বম্বস্ ইত্যাদি ছিল না। এখন বেরিয়েছে। সেইজন্য এতো এতো উৎপাত শুরু হয়েছে। এখন তোমরা এটা জানো যে, এ সব অবশ্যম্ভাবী। তোমাদের মধ্যেও অনেকেরই বিনাশ যে অবশ্যম্ভাবী সে বিষয়ে নিশ্চয় নেই। যদি থাকত তবে যোগে খুব ভালো ভাবে থাকতে। যোগবলের দ্বারা বিশ্বের বাদশাহী নিতে হবে। তোমাদের সব কিছু হল গুপ্ত। যিনি শেখাচ্ছেন তিনিও গুপ্ত। এই (চর্মচক্ষু) চক্ষুর দ্বারা দেখতে পাওয়া যায় না। এখন তোমরা আত্মাকে রিয়্যালাইজ করেছো যে, আমি আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা রয়েছে । অহম্ আত্মা হলাম অবিনাশী । এ হলো অত্যন্ত গূহ্য কথা। সংবাদপত্রেও লেখা হয়েছে আত্মা কী যেটা কিনা শরীরে থাকে? এক'থা যদি কেউ বলতে পারে সে লক্ষাধিক টাকা পেতে পারে। আত্মা কী, কোথা থেকে আসে, কীভাবে সে তার ভূমিকা পালন করে? এসব কেউই জানে না। কেউ বলে আত্মা হল বুদবুদ, কেউ বলে ব্রহ্ম-তত্ত্ব হল বড় জ্যোতি, আত্মা তাতে লীন হয়ে যাবে। নানান রকমের কথাই বলতে থাকে। তোমরা জানো যে, আত্মা হলো বিন্দুর মতো। তার মধ্যেই তার সব পার্ট ভরা আছে। এই ড্রামা অনাদিকালের পূর্ব রচিত। কখনোই তার বিনাশ হয় না। আত্মাও হল অবিনাশী । তাকে সেই পার্টই প্লে করতে হয় । কোনো ফারাক হবে না। এ'সব কথা তাদেরই বুদ্ধিতে বসবে, কল্প পূর্বে যাদের বসে থাকবে।

বাবা বলেন - এতো এতো মানুষকে আমি কি করে পড়াবো? হ্যাঁ, বাচ্চারা এ'টুকু বুঝবে যে, বাবা বলছেন মামেকম্ স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । সকলের কাছে ঈশ্বরীয় বার্তা পৌঁছে যাবে, বাবা এই মন্ত্র দেন সকলের জন্য বাবা বোঝান যে, বাচ্চারা, তোমাদেরকে দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে। অবগুণ গুলিকে ত্যাগ করতে হবে। দেহ-অভিমানকে ত্যাগ করো। তাও ত্যাগ করে না। সেই বেচারারা তবে কী পাবে? পরস্পর আন্তরিকতার সাথে চলে না । অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে তোমাদের। বাবা হলেন ভালোবাসার সাগর । তোমরাও তো তাঁরই সন্তান, তোমাদেরও তাহলে খুব মিষ্টি হতে হবে। কেউ যদি কখনো ভীষণ ক্রোধও করে, নিন্দা-স্তুতি সব কিছু সহ্য করতে হবে। কেউ দেউলিয়া হয়ে গেলে মনে করে বাবা এখন সহায়তা করবেন। বাবা এসেছেন সব আত্মাদেরকে সাথে করে নিয়ে যেতে। এও তোমরা বাচ্চারা জানো। দুনিয়াতে সবাই ঘোর অন্ধকারে রয়েছে। ভক্তি মার্গে অবশ্যই ভক্তদের মান থাকবে। শঙ্করাচার্য প্রমুখরা হল ভক্ত ।তাদেরকে বলা হবে পবিত্র ভক্ত। ভক্তি কাল্ট তো আছে, তাই না? যারা পবিত্র থাকে, তাদের বড় বড় আশ্রম রয়েছে। সে'সবের কতোই না মান রয়েছে ! রিলিজিয়াস গ্রন্থ গুলির অনেক মান রয়েছে। সে সব নিয়ে তারা অনেক বড় বড় পরিক্রমা করে। ভক্তির অনেক মান রয়েছে। জ্ঞানের বিষয়ে কারোরই জানে নেই। তোমরা যখন দেবতা হয়ে যাও তখন তোমাদের কতো মহিমা হয়ে থাকে । এমন কেউই হয়ত নেই যার বাবা কিম্বা মা মন্দির ইত্যাদিতে যায় না। কিছু না কিছু ভক্তির চিত্র বাড়িতে অবশ্যই থাকবে। হে ভগবান বলা - এও ভক্তি মার্গে রয়েছে । এখন তোমরা বেহদের বাবার হয়েছো। ইনি হলেন বাবা, ইনি হলেন দাদা, সেইজন্য ত্রিমূর্তির চিত্রের উপরে বোঝানো খুব সুবিধা। হয়তো কেউ কেউ বলতে পারে যে, দাদাকে কেন রেখেছো? আরে প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো এখানেই থাকা উচিত তাই না? ইনি তো কল্পবৃক্ষের নীচে বসে তপস্যা করছেন। কিন্তু সেটা বদলে যেতে থাকে, যেটা মুখ্য সেটা সর্বদা বজায় থাকে। এতে বাচ্চাদের অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে। আচরণ অত্যন্ত রয়্যাল হওয়া উচিত। কথা কম বলতে হবে। সবার আগে বাবার পরিচয় দিতে হবে। বেশী বকবক করে লাভ নেই। খুব অল্প কথায় বলো। তোমরাও ভক্তি মার্গে অনেক বলেছো, অনেক মুখস্থ আউরেছো। কতো ধাক্কা খেয়েছো। এখন তোমাদেরকে সিম্পল বোঝানো হয় যে - কেবল বাবাকে স্মরণ করো, তাহলে যোগবলের দ্বারা বিশ্বের মালিক হতে পারবে । পরে গিয়ে সব বুঝতে পারবে, নম্বর ক্রমান্বয়ে কে কী হবে। প্রজার হিসাব কখনো বের হয় নাকি। সে তো লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি হয়ে যাবে। যারা ব্রাহ্মণ হবে তারাই সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী হবে। পরে যত এগিয়ে যেতে থাকবে ততই স্মরণও বেশী করতে থাকবে। মৃত্যু যখন সামনে উপস্থিত হবে তখন বৈরাগ্য আসবে। এ হল সেই মহাভারতের যুদ্ধ। সব আত্মারা হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দিয়ে যাবে। একেই কয়ামতের সময় বলা হয়। এত এত সব শরীর বিনষ্ট হয়ে যাবে । ন্যাচারাল ক্যালামিটিস (প্রাকৃতিক দুর্যোগ) হবে, এও ড্রামাত রয়েছে। নতুন কিছু নয়। ফেমিন (আকাল) এর কারণে মানুষ না খেয়ে মরে।

বাবা জানেন আমার বাচ্চারা খুব দুঃখী। সবাইকে দুঃখের থেকে মুক্ত করে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। বাবা বলেন - এরা সবাই নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে। মাখন তোমরাই পাবে, সমগ্র বিশ্বের মালিক তোমরা হয়ে যাও। তারা কৃষ্ণের মুখে চন্দ্রমা সাক্ষাৎকারের কথা বলেছে না? পুরো বিশ্ব গ্লোব তোমাদের মুখে এসে যায়। তোমরা তখন প্রিন্স প্রিন্সেস। সমগ্র সৃষ্টি যেন তোমাদের হাতের মুঠোয় তখন। মুখেও দেখায়, হাতের মুঠিতেও দেখায়। এখন স্বর্গের গোলা তোমাদের মুখে। তোমরা জানো যে যোগবলের দ্বারা আমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। যোগের দ্বারা হেল্থ আর ওয়েল্থ প্রাপ্ত হয়। তোমরা চক্রবর্তী রাজা হয়ে যাও। কিন্তু বাচ্চাদের এত কদর নেই - পড়াশোনার বিষয়ে। যদি কোথাও বদলিও হয়ে যাও, বাবা বলেন যেখানেই যাও পড়বে অবশ্যই । পবিত্র থাকো, খাদ্যাভ্যাস শুদ্ধ রাখো। সকলের সাথে সম্বন্ধও বজায় রাখবে। এই দুনিয়া দুঃখই দিয়ে থাকে। মুখ্য হলো কাম কাটারী চালানো। সেও অতি কষ্টে ছেড়ে যায়। কিছু বলো তো ট্রেটর হয়ে যায়। তখন অবলাদের ওপরে কতো বিঘ্ন আসতে থাকে। এই আর্য সমাজীরা তো এই সেদিন এসেছে। পরের দিকের শাখা প্রশাখা তারা। তারা দেবী-দেবতায় বিশ্বাসী নয। মহাবীর, হনুমানের নাম আছে, তাদের বীরত্বের পূজা হয়। জৈনরাও মহাবীর নাম রেখে দিয়েছে। এখন এর অর্থ তো তোমরা জানো। তোমরা বাচ্চারাও হলে মহাবীর, যারা রাবণের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করো। এ সবই হল যোগবলের কথা। তোমরা বাবাকে স্মরণ করো, এর দ্বারা তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। তারপর শান্তি-সুখে চলে যাবে। এই ঈশ্বরীয় বার্তা সবাইকে দিতে হবে। এই স্থাপনা হলো বড়ই ওয়ান্ডারফুল, একে কেউই জানে না। তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুক্রমে রয়েছে । ভিতরে যেন কোনো প্রকারেরই বিকার না থাকে। আত্মাকে বাবা জ্ঞান দিচ্ছেন । আত্মা বিকারী হয়ে যায় । সব কিছু আত্মাই করে থাকে । অতএব এখন বাবার শ্রীমৎ অনুসারে সম্পূর্ণ চলতে হবে। সদ্গুরুর সামনে থেকে যদি নিন্দা করাও তাহলে কোথাও ঠাঁই হবে না। কোনো প্রকারের পাপ করাও হল নিন্দা। টিচারের মত অনুসারে না চললে কোথাও স্থান হবে না, ফেল করে যাবে। টিচারের শিক্ষা মেনে চললে পাশ উইথ অনার হবে। ও'সব হল হদের বিষয়, এখানে হল বেহদের কথা। ভগবান কে, দুনিয়ায় কারোরই জানা নেই। মায়াও সতঃ, রজঃ, তমঃ হয়ে থাকে। এখন মায়াও হলো তমোপ্রধান । দেখো কীই না কি করতে থাকে। কারোর মধ্যেই এই বুদ্ধি নেই যে আমরা কাকে দহন করছি। এও ড্রামাতে রয়েছে। যা কিছুই হয় ড্রামানুসারেই হয়। যাদবদের প্ল্যান, কৌরবদের প্ল্যান আর পান্ডবদেরকে প্ল্যান! তারা কী কীই না করবে ! পান্ডবদেরকে প্ল্যান যিনি বানান তিনি হলেন উচ্চ থেকেও উচ্চ ভগবান । নতুন দুনিয়াতে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। এখন পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হতে হবে। তোমরা হলে মোস্ট বিলভ্ড বাবার মোস্ট বিলভ্ড বাচ্চা, তোমরা বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিচ্ছো। বাবা ছাড়া কেউই বলতে পারবে না যে, আমি তোমাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাবো। তারা তো বলে দেয় পরমাত্মাই পরমাত্মা রয়েছে। তাহলে তারা সে'কথা বলবে কীকরে। এই সব কথা তোমরা বাচ্চারাই জানো, আর কেউই জানে না। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বিনাশের ভবিতব্যকে জেনে সম্পূর্ণ ভাবে শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে। স্মরণের বলের দ্বারা বিশ্বের বাদশাহী নেওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে । নিজের প্রজ্জ্বলিত জ্যোতির সাহায্যে সকলের জ্যোতি জাগিয়ে সত্যিকারের দীপাবলি পালন করতে হবে।

২) স্তূতি-নিন্দা সব কিছুকে সহ্য করে বাবা-সম ভালবাসার সাগর হতে হবে। আচার-আচরণ অত্যন্ত রয়্যাল রাখতে হবে। কথা খুব কম বলতে হবে।

বরদান:-
সময় অনুসারে প্রতিটি গুণ এবং শক্তিগুলিকে ইউজ করে অনুভবীমূর্তি ভব

ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব হলো অনুভব। যদি একটি গুণ বা শক্তিরও অনুভূতি না হয় তাহলে কখনও না কখনও বিঘ্নের বশীভূত হয়ে যাবে। এখন অনুভূতির কোর্স শুরু করো। প্রত্যেক গুণ বা শক্তিরূপী খাজানা সমূহকে ইউজ করো। যে সময়ে যে গুণের প্রয়োজন হয়, সেই সময় তার স্বরূপ হয়ে যাও। নলেজের রীতির দ্বারা বুদ্ধির লকারে খাজানাগুলিকে রেখে দিও না। ইউজ করো, তাহলে বিজয়ী হতে পারবে, আর 'বাঃ রে আমি'- র গীত সদা গাইতে থাকবে।

স্লোগান:-
দুর্বল সংকল্প গুলিকে সমাপ্ত করে শক্তিশালী সংকল্প রচনাকারীই ডবল লাইট থাকে।

অব্যক্ত ঈশারা :- পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে অপকারীরও উপকার করো

যে নিজের প্রতি ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা থাকে, অখন্ড দানী হয়, সে-ই পরোপকারী হয়। যেরকম বাবা নিজের সময়ও সেবাতে লাগিয়েছেন। নিজে নির্মান হয়ে বাচ্চাদেরকে মান দিয়েছেন। প্রথমে বাচ্চারা - নাম বাচ্চাদের, কাজ নিজের। কাজের জন্য সুনামের প্রাপ্তিও ত্যাগ করেছেন। নামেও পরোপকারী হয়েছেন। এইরকম ফলো ফাদার করো।