10.10.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
“মিষ্টি বাচ্চারা -
মন্সা, বাচা ও কর্মণার দ্বারা কাউকে দুঃখ দেবে না। কখনও কারও উপরে রাগ করবে না।
ভালোবাসা খুবই মিষ্টি একটি জিনিস; এর মাধ্যমে তোমরা যে কাউকে বশ করতে পারো”
প্রশ্নঃ -
বাবা
বাচ্চাদের ডবল মুকুটধারী, বিশ্বের মালিক এবং ‘দ্য বেস্ট’ হওয়ার কোন্ যুক্তি বা
উপায় বলে দেন?
উত্তরঃ
১) দৈবী গুণ
ধারণ করে খুব খুব মিষ্টি হও। একে অপরকে ভাই-ভাই বা ভাই-বোনের দৃষ্টিতে দেখো। নিজের
পুরুষার্থের দ্বারা নিজেকেই রাজতিলক দাও। ২) স্বয়ং ঈশ্বর পিতা যখন তোমাদের
পড়াচ্ছেন, তখন পড়াশোনায় রেগুলার হও। যত বেশি পড়বে, অন্যদের পড়াবে ততই নিজের
ম্যানার্স সংশোধন হবে আর ‘দ্য বেস্ট’ হয়ে উঠবে।
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চারা, তোমরা জানো যে এখন আমরা নরকের তীর ছেড়ে সামনে এগিয়ে চলেছি। এই
পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ মাঝের যুগ, অন্য সব যুগের থেকে একেবারেই আলাদা। মাঝ দরিয়ায়
তোমাদের বোট (নৌকা) রয়েছে। তোমরা না সত্যযুগী, না কলিযুগী। তোমরা হলে পুরুষোত্তম
সঙ্গমযুগী সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ। সঙ্গমযুগ হলোই ব্রাহ্মণদের যুগ। ব্রাহ্মণ হলো কেশশিখা
। এটি ব্রাহ্মণদের খুব ছোট একটি যুগ। এটা হলো মাত্র একটি জন্মের যুগ। এটা হলো
তোমাদের খুশির যুগ। খুশি কিসের জন্য? ভগবান আমাদের পড়াচ্ছেন। এমন স্টুডেন্টদের কতই
না আনন্দ হওয়া উচিত! এখন তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান রয়েছে। এখন আমরা
ব্রাহ্মণ, তারপর আমরাই দেবতা হবো। প্রথমে নিজেদের ঘরে সুই ট হোমে যাবো, তারপর নতুন
দুনিয়ায় আসবো। আমরাই ব্রাহ্মণরাই হলাম স্বদর্শন চক্রধারী। আমরাই এই ডিগবাজীর খেলা
খেলে থাকি। এই বিরাট রূপের রহস্যও তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারাই জানো। এই সমস্ত কথা -
সারাদিন বুদ্ধিতে স্মরণে থাকা উচিত।
তোমাদের এটা হলো খুবই
লভলি পরিবার, তোমাদের প্রত্যেকেরই অত্যন্ত লভলি হতে হবে। বাবা নিজেও মিষ্টি, তাই
বাচ্চাদেরকেও তেমনই মিষ্টি করে তোলেন। কখনও কারও উপরে রাগ করা উচিত নয়। মন্সা, বাচা,
কর্মণা কাউকে দুঃখ দেবে না। বাবা কখনও কাউকে দুঃখ দেন না। তোমরা যত বেশি বাবাকে
স্মরণ করবে, ততই মিষ্টি হতে থাকবে। ব্যস্, এই স্মরণেই তোমাদের তরী পার হয়ে যাবে -
এটাই হলো স্মরণের যাত্রা। স্মরণ করতে করতে ভায়া শান্তিধাম, সুখধামে যেতে হবে।
বাবা এসেছেনই
বাচ্চাদেরকে সদা সুখী বানানোর জন্য । ভূত তাড়ানোর কৌশল বাবা বলে দেন যে, আমাকে
স্মরণ করো, তাহলে এই ভূতগুলি বেরিয়ে চলে যাবে। কারও মধ্যে যদি কোনো ভূত থাকে, তাহলে
এখানেই আমার কাছে এসে তা ছেড়ে যাও। তোমরাও তো বলেও থাকো যে, বাবা এসে আমাদের মধ্যে
থাকা ভূতগুলিকে বের করে দিয়ে পতিত থেকে পবিত্র করে তোলো। তো বাবা কত সুন্দর ফুল
তোমাদের বানিয়ে দেন! বাবা ও দাদা দু’জন মিলেই বাচ্চারা তোমাদের শৃঙ্গার করেন। তিনি
হলেন সীমিত জগতের বাবা, আর ইনি হলেন অসীম জগতের বাবা। তাই বাচ্চাদের খুব ভালোবাসার
সঙ্গে চলতে হবে এবং চলাতেও হবে। সব বিকার দান করে দিতে হবে। দান করে দিলে আবার
গ্রহণ থেকে মুক্তি, এতে কোনো অজুহাতের ব্যাপার নেই। ভালোবাসা দিয়ে তোমরা যেকোনো
মানুষকে বশ করতে পারো। ভালোবাসা দিয়ে বোঝাও, ভালোবাসা অত্যন্ত মধুর জিনিস। সিংহ,
হাতি… পশুদেরও মানুষ ভালোবাসা দিয়ে বশ করে নেয়। আর এরা তো হলো আসুরী মানুষ; তোমরা
তো এখন দেবতা হতে চলেছো। তাই দৈবী গুণ ধারণ করে খুব, খুব মিষ্টি হতে হবে। একে অপরকে
ভাই-ভাই বা ভাই-বোনের দৃষ্টিতে দেখো। আত্মা কখনও আত্মাকে দুঃখ দিতে পারে না।
বাবা বলেন, মিষ্টি
বাচ্চারা, আমি তোমাদের স্বর্গের রাজ্যভাগ্য দিতে এসেছি। এখন তোমাদের যা কিছু
প্রয়োজন আমার কাছ থেকে নিয়ে নাও। আমি তোমাদের বিশ্বের মালিক, ডবল মুকুটধারী রাজা
বানাতে এসেছি। কিন্তু পরিশ্রম তোমাদেরই করতে হবে। আমি কারো মাথায় মুকুট রাখবো না;
নিজের পুরুষার্থের দ্বারাই তোমাকে নিজেকে নিজে রাজতিলক দিতে হবে। বাবা পুরুষার্থের
যুক্তি বলে দেন যে, তোমরা এইভাবে এইভাবে বিশ্বের মালিক, ডবল মুকুটধারী রাজা বানাতে
পারো। পড়াশোনায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দাও, কখনও পড়াশোনা ছেড়ে দিও না। কোনো কারণে যদি
রাগ বা অভিমান করে পড়াশোনা ছেড়ে দাও, তাহলে অনেক অনেক লোকসান হয়ে যাবে। তাই লাভ
লোকসান দুটো দিক বিবেচনা করে চলতে হবে। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট
। ঈশ্বর পিতার কাছে পড়াশোনা করছো। পড়ে পূজ্য দেবতা হতে চলেছো। তাই স্টুডেন্টকেও
এমন রেগুলার হতে হবে - স্টুডেন্ট লাইফ ইজ দ্য বেস্ট। যত বেশি পড়বে, পড়াবে এবং
নিজের ম্যানার্স সংশোধন করবে, ততই দ্য বেস্ট হয়ে উঠবে।
মিষ্টি বাচ্চারা, এখন
তোমাদের রিটার্ন জার্নি। যেমন সত্যযুগ থেকে ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগ পর্যন্ত ক্রমশঃ
নিচে নেমে এসেছো, তেমনই এখন তোমাদের আয়রন এজ থেকে উপরে উঠে গোল্ডেন এজ পর্যন্ত যেতে
হবে। যখন তোমরা সিলভার এজ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, তখন এই কর্মেন্দ্রিয়গুলির চঞ্চলতা
সমাপ্ত হয়ে যাবে। তাই যত বেশি বাবাকে স্মরণ করবে, ততই আত্মার মধ্য থেকে রজঃ-তমঃর
জং দূর হয়ে যাবে। আর যত বেশি এই জং দূর হবে, ততই বাবা চুম্বকের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি
পাবে। আকর্ষণ না হলে বুঝতে হবে, নিশ্চয়ই জং লেগে আছে। যখন সেই জং সম্পূর্ণভাবে কেটে
যাবে, তখন আত্মা একেবারে খাঁটি সোনা হয়ে যাবে। সেটাই হলো অন্তিম কর্মাতীত অবস্থা।
মূল কথা হলো মিষ্টি
বাচ্চাদেরকে বাবা সুবুদ্ধি দিয়ে বোঝান - দেহী-অভিমানী হও। দেহসহ দেহের সকল
সম্পর্ককে ভুলে একমাত্র বাবাকে স্মরণ করো। পবিত্রও অবশ্যই হতে হবে। কুমারী যখন
পবিত্র থাকে, তখন সবাই তার সামনে মাথা নত করে; কিন্তু বিয়ে করার পর সে তখন পূজারী
হয়ে যায় । সবার কাছে তখন তাকে মাথা নত করতে হয়। কন্যা যখন পিত্রালয়ে থাকে, তখন
এত বেশি সম্পর্কের কথা মনে থাকে না। কিন্তু বিয়ের পর দেহের সম্পর্কও বাড়তে থাকে,
তারপর স্বামী ও সন্তানদের প্রতি মোহ বৃদ্ধি পায়। শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদির কথাও মনে
পড়তে থাকে। আগে তো শুধু মা-বাবার প্রতিই মোহ ছিল। এখানে আবার সেই সমস্ত সম্পর্ক
ভুলে যেতে হয়, কারণ ইনিই হলেন তোমাদের একমাত্র সত্যিকারের মাতা পিতা তাই না! এ হলো
ঈশ্বরীয় সম্পর্ক। গীতাতেও আছে - “ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব…” এই মাতা-পিতাই
তোমাদের বিশ্বের মালিক বানান। তাই বাবা বলেন, আমাকে, তোমাদের অসীমের বাবাকে নিরন্তর
স্মরণ করো এবং কোনো দেহধারীর প্রতি আসক্তি রেখো না। এই অসীম জগতের বাবা তোমাদের
স্বর্গে নিয়ে যান। এমন মিষ্টি বাবাকে অত্যন্ত ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করো এবং
স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাকো। এই স্মরণের শক্তিতেই তোমাদের আত্মা কাঞ্চন হয়ে
স্বর্গের মালিক হয়ে যাবে। স্বর্গের নাম শুনলেই হৃদয় আনন্দে ভরে যায়। যারা
নিরন্তর স্মরণ করে এবং অন্যদেরও স্মরণ করিয়ে দিতে থাকে, তারাই উচ্চ পদ লাভ করবে।
এই পুরুষার্থ করতে করতে শেষ পর্যন্ত তোমাদের সেই অবস্থা স্থায়ী হয়ে যাবে।
এই দুনিয়াও পুরানো,
দেহও পুরানো, দেহের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সম্পর্কও পুরানো। এই সমস্ত সম্পর্ক থেকে
বুদ্ধিযোগ সরিয়ে এক বাবার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। অন্তিম সময়েও যেন সেই এক বাবারই
স্মরণ থাকে। যদি তখন অন্য কারও সম্পর্ক মনে পড়ে, তাহলে শেষ সময়েও সেই সম্পর্কের
স্মৃতি চলে আসবে এবং পদ ভ্রষ্ট হতে হবে। অন্তিম সময়ে যে অসীম বাবার স্মরণে থাকবে,
সেই নর থেকে নারায়ণ হবে। বাবার স্মরণে থাকলে তবে শিবালয় আর দূরে নয়।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চারা, তোমরা অসীম জগতের বাবার কাছে আসোই নিজেকে রিফ্রেশ করার জন্য।
কারণ তোমরা জানো, অসীম জগতের বাবার কাছ থেকেই অসীম বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত হয়। এই
কথা কখনও ভুলে যেও না। যদি তাঁকে সর্বদা স্মরণে রাখো, তাহলে বাচ্চাদেরও অপরিসীম
আনন্দ থাকবে। এই ব্যাজটি চলতে-ফিরতে বারেবারে দেখতে থাকো এবং একেবারে হৃদয়ের সঙ্গে
লাগিয়ে রাখো। বাবা, বাবা করতে থাকো, তবে সর্বদা স্মৃতি থাকবে। আমরা বাবার দ্বারাই
এইরকম হয়ে উঠছি।
মিষ্টি বাচ্চাদের
বুদ্ধি অত্যন্ত বিশাল হওয়া উচিত। সারাদিন যেন কেবল সার্ভিসের ভাবনাই চলতে থাকে।
বাবা তো সেই বাচ্চাদেরই চান, যারা সেবা ছাড়া থাকতে পারে না। তোমাদের সমগ্র বিশ্বের
উপরে ঘেরাও দিতে হবে অর্থাৎ পতিত দুনিয়াকে পবিত্র বানাতে হবে। সমগ্র বিশ্বকে
দুঃখধাম থেকে সুখধাম বানাতে হবে। টিচারদেরও তো পড়াতে খুব আনন্দ হয়, তাই না! তোমরা
তো এখন খুব উচ্চ মাপের টিচার হয়ে গেছো। যত ভালো টিচার হবে, ততো বেশি মানুষকে নিজের
সমান বানাবে। কখনও ক্লান্ত হবে না। ঈশ্বরীয় সার্ভিসে অনেক আনন্দ থাকে। বাবার
সহায়তাও পাওয়া যায়। এ হলো অসীম জাগতিক ব্যাপারও, ব্যাপারীরাই তো ধনী হয়। এই
জ্ঞানমার্গেও যারা বেশি পুরুষার্থ করে, তারাই এগিয়ে যায়। বাবাও অসীম জগতের
ব্যাপারী, তাই না! এই সওদা তো বড়ই ফার্স্ট ক্লাস, কিন্তু এর জন্য অনেক সাহস ধরে
রাখতে হয়। নতুন নতুন বাচ্চারা পুরানোদের থেকেও পুরুষার্থে এগিয়ে যেতে পারে।
প্রত্যেকের ইন্ডিভিজুয়াল ভাগ্য রয়েছে, তাই প্রত্যেককেই ইন্ডিভিজুয়ালি পুরুষার্থ
করতে হবে, নিজের সম্পূর্ণ চেকিং করতে হবে। যারা এভাবে চেকিং করবে, তারা রাত-দিন
পুরুষার্থে লেগে যাবে। তারা বলবে, আমরা আমাদের টাইম ওয়েস্ট করবো কেন? যত যত সম্ভব
টাইম সেভ করবো। নিজের কাছে পাক্কা প্রতিজ্ঞা করে থাকে - আমরা বাবাকে কখনও ভুলবো না,
স্কলারশিপ নিয়েই ছাড়বো। এমন বাচ্চারা আবার বাবার সহায়তাও পেয়ে থাকে । তোমরা এমন
নতুন নতুন পুরুষার্থী বাচ্চাদের দেখতে থাকবে, তাদের সাক্ষাৎকার হতে থাকবে। যেমন
শুরুতে হয়েছিল, সেই রকমই পরের দিকেও দেখতে পাবে। যত যত নিকটে যেতে থাকবে, ততই
আনন্দে নাচতে থাকবে। অন্যদিকে রক্তগঙ্গা বয়ে যাওয়ার খেলা চলতে থাকবে।
বাচ্চারা তোমাদের
ঈশ্বরীয় রেস চলছে। দৌড়ে যত যত এগিয়ে যেতে থাকবে, ততই নতুন দুনিয়ার দৃশ্য
তোমাদের কাছে আরও কাছাকাছি আসতে থাকবে। আনন্দ ক্রমশঃ বাড়তে থাকবে। যাদের দৃশ্য কাছ
থেকে দেখা যাচ্ছে না, তাদের আনন্দও হয় না। এখন কলিযুগী দুনিয়া থেকে বৈরাগ্য এবং
সত্যযুগের নতুন দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক ভালোবাসা থাকা উচিত। শিববাবাকে স্মরণ করলে
স্বর্গের উত্তরাধিকারও স্মরণে থাকবে। স্বর্গের উত্তরাধিকার স্মরণে থাকলে শিববাবাও
তখন স্মরণে থাকবে। বাচ্চারা তোমরা এখন জানো যে, এখন আমরা স্বর্গের দিকে যাচ্ছি, পা
নরকের দিকে রয়েছে অর্থাৎ মাথা স্বর্গের দিকে। এখন তো ছোট-বড় সকলেরই বাণপ্রস্থ
অবস্থা। বাবার সর্বদা এই নেশা থাকে - অহো! সেখানে গিয়ে আমি এইরকম বাল কৃষ্ণ হবো!
যার জন্য ইনঅ্যাডভান্স সওগাতও পাঠিয়ে থাকেন। যাদের সম্পূর্ণ নিশ্চয় রয়েছে, সেই
গোপিকারাই সওগাত পাঠাতে থাকে। তাদের অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভূতি হতে থাকে । আমরাই
অমরলোকে দেবতা হবো। কল্পের পূর্বেও আমরাই হয়েছিলাম, আবার আমরা ৮৪ পুনর্জন্ম নিয়েছি।
এই ডিগবাজীর খেলা স্মরণে থাকলেও - অহো সৌভাগ্য! সর্বদা অপরিসীম খুশিতে থাকো। বিরাট
বড় লটারি প্রাপ্ত হচ্ছে । ৫ হাজার বছর পূর্বেও আমরা রাজ্য ভাগ্য পেয়েছিলাম, পুনরায়
আগামীদিনে পাবো, ড্রামাতে সেটা রয়েছে। যেমন পূর্ব কল্পে জন্ম নিয়েছিলাম, সেই রকমই
আবার নেব। তারাই আবার আমাদের মাতা পিতা হবে। যিনি শ্রীকৃষ্ণের পিতা ছিলেন, তিনিই
আবার হবেন। এই রকম ভাবে সারাদিন যে ভাবতে থাকবে তবে বড়ই রমণীয়তার মধ্যে থাকবে।
বিচার সাগর মন্থন করছে না মানে হলো সে আসলে আনহেল্দি। আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
ঈশ্বরীয় সার্ভিসে কখনো ক্লান্ত হয়ো না। ভালো টিচার হয়ে নিজ সম বানানোর সেবা করতে
হবে।
২ ) স্মরণের বল এর
দ্বারা আত্মাকে কাঞ্চন বানাতে হবে। কোনো দেহধারীর প্রতি আসক্তি রাখবে না।
বরদান:-
সাইলেন্সের শক্তির দ্বারা সেকেন্ডে প্রত্যেক সমস্যার সমাধানকারী একান্তবাসী ভব
যখন নতুন এবং
শক্তিশালী কিছু আবিষ্কার করে তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে করে। এখানে একান্তবাসী হওয়াই
হল আন্ডারগ্রাউন্ড। যখনই সময় পাবে, কাজ-কারবার করতে-করতে, জ্ঞান শুনে এবং অন্যদেরকে
শোনাতে শোনাতে, ডাইরেক্শন দিতে দিতেও এই দেহের দুনিয়া আর দেহের ভান থেকে ঊর্ধ্বে
সাইলেন্সে চলে যাও। এই অভ্যাস বা অনুভব করা এবং অন্যদেরকে অনুভব করানোর স্টেজ
প্রত্যেক সমস্যার সমাধান করে দেবে। এর দ্বারা এক সেকেন্ডে যেকাউকে শান্তি বা শক্তির
অনুভূতি করাতে পারবে। যারাই সামনে আসবে তারাই এই স্টেজে সাক্ষাৎকারের অনুভব করবে।
স্লোগান:-
ব্যর্থ
সংকল্প বা বিকল্পের থেকে দূরে গিয়ে আত্মিক স্থিতিতে থাকাই হলো যোগযুক্ত হওয়া।
অব্যক্ত ঈশারা :-
পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে অপকারীরও উপকার করো
ব্রহ্মা বাবা
বাচ্চাদেরকে মালিক বানিয়েছেন আর নিজেকে সেবাধারী রূপে রেখেছেন। মালিকভাবের সম্মানও
দিয়েছেন, মালিকত্বের নেশাও দিয়েছেন আর নামও দিয়েছেন। কখনও নিজের নাম বলেন নি - আমার
বাচ্চা। তো যেরকম বাবা নাম, মান, শান সবকিছুর ত্যাগ করেছিলেন, পরোপকার করেছিলেন,
বাচ্চাদের সুখকেই নিজের সুখ মনে করতেন। বাচ্চাদের বিস্মৃতির কারণে দুঃখের অনুভব তথা
নিজের দুঃখ মনে করতেন। এইরকম ফলো ফাদার করে পরোপকারের ভাবনার দ্বারা সম্পন্ন হও,
তবেই বিশ্ব কল্যাণের কার্য সম্পন্ন হবে।