11.08.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
বাপদাদার স্মরণ আর ভালোবাসা নিতে হলে সার্ভিসেবল হও, বুদ্ধিতে জ্ঞান ভরপুর থাকলে
তার বর্ষণ করো"
প্রশ্নঃ -
কোন্ নেশা
ভরপুর বাদলকেও উড়িয়ে নিয়ে যায়, বর্ষণ করতে দেয় না?
উত্তরঃ
যদি অনাবশ্যক
দেহ বোধের নেশা আসে, তাহলে পরিপূর্ণ বাদলও উড়ে যাবে । বর্ষণও যদি করে তাহলে
সার্ভিসের বিরুদ্ধে ডিস সার্ভিস করবে । বাবার প্রতি যদি ভালোবাসা না থাকে, তাঁর
সঙ্গে যদি যোগ না থাকে, তাহলে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও খালি থাকবে । এমন খালি বাদল
অন্যের কল্যাণ কিভাবে করবে ।
ওম্ শান্তি ।
আর অল্প কিছু
বাদলই রয়েছে । যেমন বর্ষা যখন কম হয়, তখন সাগরের উপরে বাদল বা মেঘ থাকে না, ঠান্ডা
হয়ে যায় । এখানেও তেমন ঠান্ডা হয়ে যায় । বাদল বা মেঘ তাদেরই বলা হবে, যারা
রিফ্রেশ হয়ে গিয়ে বর্ষণ করায় । যদি কেউ বর্ষণ না করায়, তাহলে তাকে তো বাদল বলাই
যাবে না । এ হলো জ্ঞান বাদল । সেটা হলো জলের বাদল । জ্ঞানের বাদল আসে, যখন সীজন আসে
। তারা রিফ্রেশ হয়ে গিয়ে অন্যকে রিফ্রেশ করে । এই বাদলও নম্বরের ক্রমানুসারে হয় ।
কেউ তো খুব জোরে বর্ষণ করে । বাদলের কাজই হলো বর্ষণ করা আর ঝিমিয়ে যাওয়া গাছপালাকে
তরতাজা করানো । যাদের মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, তারা লুকিয়ে বসে থাকে না । তাদের
বাবার ডায়রেক্শনেরও প্রয়োজন নেই । তারা তো বাদলই । তারা আসেই ভরপুর বর্ষণ করাতে ।
যেখানেই দেখবে অনুর্বর জমি, সেখানেই গিয়ে শ্যামল বানানো উচিত । মহারথী বাচ্চারা তো
সব সেন্টারকেই ভালোভাবে জানে । বাবাও সবসময় বলেন, সার্ভিসেবল বাচ্চাদের আমার স্মরণ
আর ভালোবাসা দিও । ভালো ভালো বাদল সার্ভিসে যাবে । প্রদর্শনীতেও সবাই একরস বোঝায় না
। মুখ্য বিষয়ই হলো এটা যে, গীতার ভগবান হলেন নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা, সাকারী
শ্রীকৃষ্ণ নয় । বোঝানোর জন্য খুব সুন্দর কায়দা চাই । সারাদিন এই খেয়াল থাকা উচিত
যে, সবাইকে গিয়ে জাগাবো । সবাই ঘোর অন্ধকারে পড়ে আছে । সবাইকে ভালোবাসার সাথে বোঝাতে
থাকো যে, তোমাদের দুইজন বাবা । এক হলো জাগতিক আর দ্বিতীয় হলের অসীম জগতের বাবা ।
এই অসীম জগতের বাবাকেই পতিত পাবন বলা হয় । বাচ্চারা, তোমাদের এখন বুদ্ধি প্রাপ্ত
হয়েছো । দুনিয়ার মানুষকে দেখে যদিও মনে হয় তাদের কতো দীপ্তি, কিন্তু আসলে তারা হলো
পাথর বুদ্ধির । বাবা নিজেই বলেন, এই সাধুদেরও আমাকেই উদ্ধার করতে হবে । তারাও রচনা
আর রচয়িতাকে জানে না । সত্যযুগ থেকে শুরু করে এই জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যায়, কিন্তু
একথা কেউই জানে না । শাস্ত্রে এই জ্ঞান নেই । শাস্ত্রের দ্বারা কারোর সদগতি হতে পারে
না, গীতার কতো মান, কিন্তু সে তো হলো ভক্তিমার্গ । বাবা তো পতিত পাবন, তিনি বসেই
রাজযোগ শেখান । তাই রাজত্বের জন্য অবশ্যই নতুন দুনিয়ার প্রয়োজন । বাবা এসেই রাজযোগ
শেখাবেন । এও তোমরা এখন জানতে পেরেছো যে, যাদের পূর্ব কল্পে বোঝানো হয়েছে, তাদেরই
এখন বোঝাবেন, তখন তারা বুঝবে । এই লড়াই কোনো ওই লড়াই নয়, যেমন সবসময় চলে এসেছে যে ৮
- ১০ বছর চলে তারপর বন্ধ হয়ে যাবে । ড্রামা অনুসারে যে বম্বস্ তৈরী হয়েছে, তা রেখে
দেওয়ার জন্য নয় । পতিত মানুষের মৃত্যু ব্যতীত সত্যযুগ আসবে না । শান্তি কিভাবে
স্থাপন হবে - এও বোঝাতে হবে । শান্তি স্থাপন করা বা শ্রেষ্ঠাচারী দুনিয়া বানানো, এ
তো একমাত্রই বাবারই কাজ । বাবা বলেন, অন্যদের সঙ্গে বুদ্ধির যোগ ছিন্ন করে সেই এক
এর সঙ্গেই জুড়তে হবে । দেহ সহ যা কিছুই দেখা যায়, এই সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন
করতে হবে । এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে, তাই ঘরকে স্মরণ করতে হবে । তোমরা এখন
বুঝতে পারো যে, এ হলো মৃত্যুলোক । আমরা অমরলোকে যাওয়ার জন্য অমর কথা শুনছি ।
দেবতাদের বলা হয় দৈবী গুণ সম্পন্ন মানুষ । এখানে তো একজনও এমন নেই । কৃষ্ণের নামেও
কতো গ্লানি সূচক কথা লিখে দিয়েছে । কিছুই বুদ্ধিতে আসে না ।
বাচ্চারা, এখন
তোমাদের খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করতে হবে, দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে । দৈবী গুণ কাকে
বলা হয় - তাও বোঝানো হয় । অবশ্যই সম্পূর্ণ নির্বিকারী হতে হবে । এটাই হলো সর্ব
প্রধান গুণ । তোমরা সব জায়গাতেই দেখতে পাবে যে, পবিত্রদের সামনে অপবিত্ররা মাথা নত
করে । সত্যযুগে সবাই পবিত্র, তাই সেখানে কোনো মন্দির থাকে না । তারপর যখন পূজারী হয়,
তখন মন্দির তৈরী করে, যারা পবিত্র ছিল, তারাই আবার পতিত হয়ে যায় । এ হলো তোমাদের
অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম । বাবা বলেন - তোমাদের এই পুরানো দুনিয়াকে, পুরানো শরীরকেও
ভুলে যেতে হবে । এই পুরানো দুনিয়া এখন শেষ হয়ে যাবে । এ শেষ হতে দেরী লাগবে না ।
এই পুরানো দুনিয়া, ধন - দৌলত, সম্পত্তি সব গেল বলে । খুব অল্প সময় বাকি আছে ।
দুনিয়াতে কেউ জানেই না যে, এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে । তোমরা তো শোনাও, কিন্তু
বিশ্বাস হবে, তবে তো না । ভগবান উবাচঃ যখন বুঝবে তখন বুদ্ধিতে বসবে ।
বাচ্চারা, বাবা
তোমাদের বলেন - নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো । বাচ্চারা জানে যে, অসীম
জগতের বাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । তিনি হলেন সমস্ত আত্মাদের পিতা । সব হলো ভাই
- ভাই । স্বর্গে সব ব্রাদার্স সুখী ছিল, কলিযুগে সব ব্রাদার্স হলো দুঃখী । সকল
আত্মারাই এখন নরকবাসী । কেবল আত্মা তো থাকবে না । শরীরও তো চাই, তাই না । বাচ্চারা,
তোমাদের এখন আত্ম - অভিমানী হতে হবে, এতেই পরিশ্রম । এ মাসির বাড়ী নয় । এই অবস্থা
তখন পরিপক্ক হবে, যখন প্রথমে এই নিশ্চয় হবে যে, পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের পড়ান । শিব
বাবা এই শরীরের দ্বারা পড়াতেই আসেন । আমরাও শরীরের দ্বারাই শুনি, ধারণও করি ।
সংস্কার অনুযায়ী মানুষ এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে । বাবা যেমন যোদ্ধাদের
(যারা লড়াই করে তাদের) উদাহরণ দেন । যুদ্ধের সংস্কার নিয়ে যায়, আবারও সেই সংস্কার
পরের জন্মে তাদের মধ্যে এসে যায় । এখন বাবার সংস্কারও তোমরা জানো যে, নিরাকার,
অসীম জগতের বাবার মধ্যে কি সংস্কার আছে ! তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ । তিনি
পতিত - পাবন এবং জ্ঞানের সাগর । তিনি এসেই আমাদের পবিত্র করবেন । বাবা বলেন - তোমরা
আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের জন্ম - জন্মান্তরের বিকর্ম বিনাশ হবে । না হলে অনেক
সাজা ভোগ করতে হবে । কিছুই পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না ।
বাচ্চারা এখন জানে
যে, বাবা আমাদের সহজ পথ বলে দেন । তিনি বলেন - মন্মনাভব । গীতাতেও এই শব্দ রয়েছে,
কিন্তু এর অর্থ কেউই বুঝতে পারে না । বাবা বলেন - মামেকম্ স্মরণ করো । দেহ সহ দেহের
সব ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে অর্থাৎ পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করো
। এই স্মরণকেই যোগ অগ্নি বলা হয়, যোগ হলো কমন শব্দ । গীতাতেও এই শব্দ আছে, কিন্তু
কেবলমাত্র কৃষ্ণের নাম দিয়ে দেওয়াতে ঘোরতর অন্ধকার করে দিয়েছে । তোমরা এখন যখন
বুঝতে পারো, তখন ওরা বলে দেয়, এ'সব হলো তোমাদের কল্পনা । কিছুই জানতে পারে না । ওরা
তো এই উত্তরাধিকার নেবেই না । প্রথমে তো এই কথা বুঝবে যে, ইনি হলেন অসীম জগতের পিতা;
ইনি বাবাও, টিচারও আবার সদ্গুরুও । তিনিই আমাদের পড়ান । একথা পাকাপাকি ভাবে নিশ্চিত
হওয়া দরকার । নতুনদের নিশ্চয় এসে যাবে, এ অসম্ভব । কোনো কোনো নতুন বাচ্চা এতটাই
সচেতন যে, তারা বুঝে যায় । কেউ তো আবার এখানে আসতেই চায় না, কিছুই বুঝতে পারে না
। তাদের বুদ্ধিতে এতটুকুও আসে না । এত এত বি.কে রয়েছে, নিশ্চই এরা বাবার থেকে
উত্তরাধিকার পেয়েছিল । তাহলে তো ফ্যামিলি হয়ে গেল তাই না । নামও লেখা আছে -
ব্রহ্মাকুমার - ব্রহ্মাকুমারী, তাহলে তো ফ্যামিলিই হলো, তাই না । প্রজাপিতা
ব্রহ্মার পরিবার কতো বড়, কিন্তু এই কথা কারোর বুদ্ধিতেই আসতে পারে না । কেউ যদি
জিজ্ঞেস করে, তোমাদের এইম অবজেক্ট কি? বলো, বাইরে বোর্ডে লেখা আছে - প্রজাপিতা
ব্রহ্মাকুমার - কুমারী, তাহলে তো পরিবার হয়ে গেলো । ঠাকুরদাদার থেকে উত্তরাধিকার
পাওয়া যায় । প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখ দ্বারা শিববাবা রচনা করেন । তাহলে তিনি হলেন
ক্রিয়েটর, তিনি স্বর্গের রচনা করেন, তাহলে অবশ্যই তিনি বাচ্চাদের স্বর্গের
উত্তরাধিকার প্রদান করবেন । তাহলে এ তো ফ্যামিলি হয়ে গেলো । বাবা, ছেলে, মেয়ে আর
দাদা আছেন । ব্রহ্মাও আছেন, আবার শিবও আছেন । তিনি হলেন রচয়িতা । তিনি নিরাকার,
তাহলে বাচ্চাদের উত্তরাধিকার কিভাবে দেবেন । তিনি ব্রহ্মার দ্বারা উত্তরাধিকার
প্রদান করেন । এ খুব ভালোভাবে বোঝানো উচিত । বলো, এ হলো তোমাদের বাবার ঘর । একে বলা
হয় রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ । আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, বাবা ছাড়া আর কেউই রাজযোগ শেখাতে পারে
না । গীতাতেও আছে - মন্মনাভব অর্থাৎ মামেকম্ স্মরণ করো । তাই আমরা ওই এক বাবারই
স্মরণ করি । ভক্তিমার্গে এমন গাওয়া হয় - বাবা তুমি এলে আমরা বলিহারি যাবো, আমরা
তোমার হয়ে যাবো । আমরা আত্মারা এই দেহ ত্যাগ করে তোমার সঙ্গে চলে যাবো । তোমার হলে,
অবশ্যই আপনার সঙ্গেই যাবো । বাকদান যখন হয়, তখন সাজন বা প্রেমিকই তো সাথে করে নিয়ে
যাবে, তাই না । এই শিব সাজনও বলেন - আমি তোমাদের এই দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখধামে
নিয়ে যাবো । তারপর তোমরা নিজেদের পুরুষার্থ অনুসারে গিয়ে রাজত্ব করবে, যে যতটা
জ্ঞান ধারণ করবে, তত উঁচু পদ পাবে । ছোটো - ছোটো কুমারীরাও সার্ভিস করছে । ওদেরই বড়
- বড় বিদ্বান, পণ্ডিত ইত্যাদিদের বোঝাতে হবে, এই শখ থাকা চাই । কুস্তি যখন হয় তখন
বড় - বড় চ্যালেঞ্জ দেয় যে, এর সাথে আমি লড়বো । সার্ভিসেবল বাচ্চাদের আরাম করে শুয়ে
বসে থাকা উচিত নয় । এই সেবাতে পরিক্রমা করা উচিত । আজকাল বাবা অনেক প্রদর্শনী করান
। বড় - বড় মানুষদের নিমন্ত্রণ পাঠিয়ে দাও । এখন না হলেও পরে তারা আসবে । সাধু -
সন্ত, মহাত্মা, যেই হোক না কেন, তোমরা জাগাতে থাকো, কিন্তু কথা বলার জন্য মহারথীদের
চাই । বাবার সঙ্গে যার যোগ নেই, ভালোবাসা নেই, সে তো যেন খালি বা অপূর্ণ বাদল । তারা
আর কি করবে । এ তো তোমরা জানো যে শিক্ষিতের সামনে অশিক্ষিতরা নতজানু হবে ।
প্রত্যেকেই নিজেকে বুঝতে পারে যে, আমরা কতখানি ঈশ্বরীয় পাঠ পড়েছি । সার্ভিস করে
দেখাবো । যদি ভরা বাদল থাকে আর বর্ষণ না করতে পারে তবে সেই মেঘের কি কাজ ।
প্রত্যেকেরই নিজের বোধবুদ্ধির দরকার । ফালতু দেহ অভিমানের নেশায় যদি থাকো তবে উঁচু
পদ চিরতরে হারিয়ে ফেলবে । বাবার তো সার্ভিসের কি ভীষণ রকমের শখ রয়েছে । গভর্নমেন্টকে
বোঝানো উচিত যে, আমাদের একটা হল দাও, যেখানে আমরা এই আধ্যাত্মিক সেবা করে মানুষকে
দেবতা বানাতে পারি । বাবা এসেছেনই এই রাজযোগ শেখাতে, যা খুব যুক্তি সহকারে বোঝানো
উচিত । যারা ভাষণই করতে পারে না, তারা তো বোঝাতেই পারবে না । উঁচু পদও তখন পেতে
পারবে না । তারাই পদ পেতে পারবে যারা সার্ভিস করবে । বড় বড় যারা আছে, তাদেরকে লিখে
জানাও যে, এই জ্ঞান ছাড়া ভারতের বা সম্পূর্ণ দুনিয়ার কল্যাণ হতে পারবে না । এডুকেশন
হলো মুখ্য । এই লক্ষ্মী - নারায়ণও তো এডুকেশনের দ্বারাই এই পদ পেয়েছেন তাই না ।
আগের জন্মে এরা রাজযোগ শিখেছে । আমরাও এখন এখানে পড়ছি । স্কুলে স্টুডেন্টস মনে করে,
আমরা এই পরীক্ষা দিয়ে তারপর গিয়ে এই হবো । তোমরা যে এই জ্ঞান পাও, তা এই দুনিয়ার
জন্য নয় । তোমরাও পড়ো ভবিষ্যৎ ২১ জন্মের প্রালব্ধ অর্জনের জন্য । ওরা পড়ে এই জন্মের
সুখের জন্য । তাই ওই পড়াও পড়তে হবে, আর সাথে সাথে এই শিক্ষাও শিখতে হবে, এতে ভয়
পাওয়ার কিছুই নেই । আধ্যাত্মিক জ্ঞান কেন নেবে না? তোমাদের চিত্র নিয়ে গিয়ে বোঝানো
উচিত । বলো - নলেজ সকলের জন্য খুব জরুরী, কিন্তু সব বাচ্চারা আগ্রহ নিয়ে উপস্থিত
হয় না । চাকরী - বাকরি করেই আটকে থাকে । বন্ধনমুক্ত হলে তো সার্ভিসে লেগে যাওয়া
উচিত । শ্রীমৎ অনুযায়ী তো সবাই চলবে না । মাঝে আবার মায়া অনেক সমস্যা তৈরী করে ।
কোনো - কোনো বাচ্চাদের শখ আছে অনেক কিন্তু নেশা চড়ে না যে, আমরা গিয়ে অনেকের কল্যাণ
করি । তাই বাবাও অবাক হয়ে যান যে, সাবালক হয়ে যাওয়ার পরে কেন এখনো দ্বিধান্বিত
তোমরা। তোমরা বলতে পারো, আমাদের তো ভারতের উদ্ধার করতে হবে । প্রকৃত সেবা করে
মানুষকে দেবতা বানাতে হবে । বাবার তো আশ্চর্য লাগে যে, তোমাদের নেশা চড়ে না, তাই
তিনি মনে করেন, তোমাদের রজঃ বুদ্ধি । তোমাদের সুযোগ খুব ভালো । এমনও অনেকে আছে
যাদের জ্ঞানের খুব অহংকার, তারা অনেক ডিসসার্ভিস করে। এ তো গুড় জানে আর গুড়ের পুঁটলি
জানে (শিব বাবা আর ব্রহ্মা বাবা) । তাদের রাহুর গ্রহণ লেগে যায় । বৃহস্পতির দশা
নেমে গিয়ে রাহুর দশা বসে যায় । এখনই দেখো ভালো চলছে, আবার এখনই দেখো আবার গ্রহণ
লেগে গেলো, তখন পড়ে যায় । বাচ্চাদের তো খুব বাহাদুর হওয়া উচিত । গুরু দায়িত্ব তুলে
নিতে হবে । আমরা এই ভারতকে স্বর্গবাসী বানিয়েই ছাড়বো । তোমাদের ধর্মই হলো নরকবাসীকে
স্বর্গবাসী বানানো, ভ্রষ্টাচারীকে শ্রেষ্ঠাচারী বানানো । বাবা তো খুব সুন্দর নেশা
তৈরী করে দেন, কিন্তু বাচ্চাদের তা নম্বরের ক্রমানুসারে চড়তে থাকে । আচ্ছা ।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত ।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বন্ধনমুক্ত হয়ে ভারতের প্রকৃত সেবা করতে হবে । আধ্যাত্মিক সেবা করে মানুষকে দেবতা
বানাতে হবে । জ্ঞানের অহংকার আসা উচিত নয় । আধ্যাত্মিক নেশায় থাকতে হবে ।
২ ) নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে
প্রথমে নিজের অবস্থা পরিপক্ক করতে হবে । দেহ সহ যা কিছুই দেখা যায়, তা ছিন্ন করতে
হবে আর এক বাবার সঙ্গে জুড়তে হবে ।
বরদান:-
করা আর
বলা - এই দুটিকে সমান বানিয়ে কোয়ালিটি পূর্ণ সেবা করে সত্যিকারের সেবাধারী ভব
সদা অ্যাটেন্শান যেন
থাকে যে প্রথমে করে দেখানো তারপর বলা। বলা খুব সহজ, করতে পরিশ্রম লাগে, পরিশ্রমের
ফল ভালো হয়। কিন্তু যদি অন্যদেরকে বলছো অথচ নিজে করছো না, তাহলে সার্ভিসের সাথে সাথে
ডিসসার্ভিসও প্রত্যক্ষ হবে। যেরকম অমৃতের মধ্যে এক ফোঁটা বিষ যদি পরে তাহলে সব
অমৃতটাই বিষ হয়ে যায়, এইরকম যতই সার্ভিস করো, কিন্তু একটা ছোটো ভুল সার্ভিসকে
সমাপ্ত করে দেয়, এইজন্য প্রথমে নিজের উপর অ্যাটেন্শান দাও তখন বলা হবে সত্যিকারের
সেবাধারী।
স্লোগান:-
অনেক-এর মধ্যে একতা নিয়ে আসা, বিগড়ে যাওয়াকে শোধরানো - এটাই হলো সবথেকে বড় বিশেষত্ব।
অব্যক্ত ঈশারা :-
অপবিত্রতার বীজকেও সমাপ্ত করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (পবিত্র) হও
যখন অপবিত্রতা অর্থাৎ
কাম মহা শত্রু স্বপ্ন বা সংকল্পেও যেন আক্রমণ না করে, তখন বলা হবে ডবল অহিংসক।
সদা ভাই-ভাই এর স্মৃতি
সহজ আর স্বতঃ স্মৃতি স্বরূপে থাকবে। কখনও নিজের সম্পূর্ণ সতোপ্রধান স্টেজ থেকে নিচে
পরে গিয়ে নিজের ঘাত করবে না। আত্মার আসল গুণ-স্বরূপ আর শক্তি-স্বরূপ স্থিতির থেকে
নিচে আসা অর্থাৎ বিস্মৃত হওয়া, এটাও পাপের খাতাতে জমা হয়।