11-08-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-01-2012 মধুবন


‘‘সেবার সাথে সাথে একে অপরের সহযোগী হয়ে বায়ুমণ্ডলে তীব্র পুরুষার্থের তরঙ্গ ছড়িয়ে দাও, মনজিত হয়ে আত্মাদের মন্সা সেবা করো"


আজ বিশেষ স্নেহের দিন। চারদিকের বাচ্চারা স্নেহের স্বরূপ হয়ে মিলন উদযাপন করছে। তোমরাও সকলে স্নেহের স্বরূপে মগ্ন। আজ অমৃতবেলায়, এমনকি অমৃতবেলারও আগে থেকে চতুর্দিকের বাচ্চারা স্নেহের রূপ ধারণ ক'রে হৃদয়ের স্নেহের মুক্তো-মালা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল। মনের অনেক রকমের ভিন্ন ভিন্ন ভাব বাবার সামনে বর্ণনা করছিল। তোমরা তো জানই যে বাচ্চাদের স্নেহ কতটা প্রিয়। ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও ভিন্ন ভিন্ন ভাবের সাথে তারা বাপদাদার সামনে নিজেদের হৃদয়ের ব্যাপারে বলছিল এবং চোখ ও মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে নিজেদের ভাবও স্পষ্ট করছিল। বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের এই স্নেহের ভাব দেখে সকলের স্নেহ-ভালবাসায় সমাহিত হয়ে গেলেন এবং তাঁর হৃদয় থেকে এই বোল বের হলো— "বাঃ বাচ্চারা বাঃ!" আর বাচ্চাদের মুখ থেকেও "বাঃ বাবা বাঃ!"-এর গীত শোনা যাচ্ছিল। বাপদাদা সব বাচ্চাকে দেখে বাচ্চাদের লাভ-এ লীন ছিলেন এবং বাচ্চারাও বাবার লাভ-এ লীন ছিল।

আজকের দিনে বাবা বাচ্চাদের বালক তথা মালিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃষ্টিতে দেখছিলেন। আজকের দিন বাচ্চাদের রাজতিলক দেওয়ার দিন। আজকের এই দিনে বাপদাদা নিজে ফরিস্তা রূপে থেকে বাচ্চাদের বিশ্বসেবার উদ্দেশ্যে নিমিত্ত বানিয়েছেন। তিনি নিজে ব্যাকবোন হয়েছেন, বাচ্চাদের বিশ্বের স্টেজে প্রত্যক্ষ করিয়েছেন এবং বাপদাদা এখন বাচ্চাদের এই সেবা দেখে, তিনি যে তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তার রেজাল্ট দেখে বাচ্চাদের প্রতি খুব খুব খুশি এবং হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অভিনন্দন, অভিনন্দন।

বাপদাদা দেখেছেন যে, এখনও বাবার দেওয়া বিশ্ব সেবাধারীর বরদান সব বাচ্চা অত্যন্ত স্নেহ এবং অন্তরের সাথে পালন করেছে এবং করে চলেছে। বাপদাদা এর রেজাল্টও দেখেছেন - সব বাচ্চার হৃদয়ে এই গভীর টান রয়েছে যে আমার বাবা, আর বাবার হৃদয়েও স্নেহ রয়েছে যে বাঃ আমার বাচ্চারা!" বর্তমান সময়ে ছোট-বড় বেশিরভাগ সেন্টার্স নিবাসী বাচ্চাদের মধ্যে এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনা রয়েছে যে, খুব দ্রুত চারদিকে বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতেই হবে। বাপদাদা চক্রভ্রমণ ক'রে দেখেছেন যে, ছোট-বড় সব সেবাকেন্দ্রের বাচ্চাদের মধ্যে সেবার এই উৎসাহ-উদ্দীপনা খুব খুব খুব ভালো এবং ভবিষ্যতেও ভালো থাকবে। তো আজ স্নেহের এই দিনে, বাপদাদা চতুর্দিকের তা' দেশ হোক বা বিদেশের সব বাচ্চাকে নিজের দৃষ্টি দ্বারা হৃদয় থেকে তাদের স্নেহ ও সেবার রিটার্ন হিসেবে গভীর অন্তরের পদমগুন স্নেহ- ভালোবাসা ও আন্তরিক স্মরণ প্রদান করছেন।

এখন সময় অনুসারে যে উচ্ছ্বাস বা উৎসাহ রয়েছে যে বাবাকে প্রত্যক্ষ করাতে হবে, তা' ধীরে ধীরে আত্মাদের হৃদয়েও আসতে শুরু করেছে। তারা বুঝতে পারছে যে ব্রহ্মাকুমারীরা কিছু পেয়েছে, পরিবর্তন হচ্ছে। আগে যারা ভাবত যে জানা নেই এরা কী করে, তারা এখন এই পর্যন্ত এসেছে যে এরা ভালো কাজ করছে। আমরা যা করতে পারি না, তা' এরা নিজেদের সংগঠনে সফল করে দেখিয়েছে। সেইজন্য আজ বাপদাদা সামনে বসে থাকা বাচ্চাদের এবং চারপাশের যে সকল বাচ্চারা শুনছে ও দেখছে, সেই সমস্ত বাচ্চাদের বিশেষভাবে হৃদয়ের স্নেহ ও ভালোবাসা দিচ্ছেন। পরবর্তীকালের জন্য এখন কী করতে হবে? সেবার অভিনন্দন তো বাপদাদা দিয়েই দিয়েছেন, এখন বাপদাদা এটাই চান যে এখন প্রত্যেক বাচ্চাদের মধ্যে এই উৎসাহ-উদ্দীপনা, দৃঢ় নিশ্চয়তা ও তীব্র পুরুষার্থ থাকতে হবে যে, এখন বাবার সমান ফরিস্তা হতেই হবে, কেননা এখন সবাইকে বাবার সাথে রিটার্ন জার্নি করতে হবে। সমান ফরিস্তা হতেই হবে কেননা তোমাদের সবার প্রতিজ্ঞা রয়েছে যে একসাথে চলব, একসাথে রাজত্ব করব। তো ব্রহ্মা বাবাও ফরিস্তা হয়েছেন, তাহলে একসাথে চলবে কীভাবে? ব্রহ্মা বাবা জীবনেই ফরিস্তা ভাবের স্বরূপ দেখিয়েছেন। কত দায়িত্ব ছিল! সবাইকে যোগী বানাতেই হবে, কিন্তু এত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তোমরা সবাই দেখেছ তিনি স্বতন্ত্র অথচ প্রিয় ছিলেন। সদা নিশ্চিন্ত বাদশাহ ছিলেন; চিন্তা নয়, চিন্তামুক্ত বাদশাহ। এভাবেই তোমরা সব বাচ্চাকে এখন বাবার সমান নিশ্চিন্ত বাদশা ও ফরিস্তা হতেই হবে। এই দৃঢ় সংকল্প - হতেই হবে! নাকি ভাবছো হয়েই যাব!

বর্তমানে বাপদাদা দেখেছেন যে, এখন সময় অনুসারে সেবার জন্য যতটা উৎসাহ-উদ্দীপনা প্র্যাকটিক্যালি রয়েছে, ঠিক ততটাই এখন তীব্র পুরুষার্থী হওয়া ও অন্যদের তৈরি করা, নিজেদের সম্পন্ন হওয়া ও অন্যদের তেমনই তৈরি করা - এই পয়েন্টে এখন নিজেও উৎসাহ -উদ্দীপনায় থাকো এবং বায়ুমণ্ডলেও উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলতে হবে। একে অপরের সহযোগী হয়ে এখন বায়ুমণ্ডলে তীব্র পুরুষার্থের তরঙ্গ ছড়িয়ে দাও। যেভাবে একে অপরের মধ্যে সেবার উৎসাহ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়েছ, ঠিক তেমনই এখন বাপদাদা বাচ্চাদের থেকে এই শুভ আশা রাখেন যে, এই তরঙ্গ যেন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। বাপদাদা খুশি, কিন্তু এখনও পুরুষার্থ বাকি আছে, তীব্র পুরুষার্থ করতে হবে। এখন সব বাচ্চার প্রতি বাপদাদার এই একটাই আশা। তোমরা প্রত্যেক বাচ্চাই তো বাবার আশার নক্ষত্র তো না? তাই তো? যারা মনে করো যে আমরা বাবার আশার নক্ষত্র হয়ে এই উৎসাহ-উদ্দীপনা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেব, তারা হাত তোলো। আচ্ছা। হাত তো খুব ভালোই তুলে থাকো তোমরা। বাপদাদা হাতগুলো দেখে খুশি হয়ে যান। মেজরিটি হাত তুলেছে, পেছনের দিকে যারা আছো তাদের দেখা যাচ্ছে না, তবে সামনের দিকে যারা আছো তাদের দেখা গেছে। এখন পেছনের ওরাও হাত তুলছে, অভিনন্দন, অভিনন্দন। আচ্ছা। বাপদাদা দেখেছেন যে, যখন কোনো বিষয়ের প্রতি কারও মনে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে, তখন সেই বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। আর এই কারণেই, এবারের স্নেহের দিবসে বাপদাদা তোমাদের এই হোমওয়ার্ক দিচ্ছেন - সব বাচ্চা বোঝে যে, তাদের মনের কারণেই সময় এবং সংকল্প ব্যর্থ চলে যায়। তোমার মনে যদি কখনো কোনো ব্যর্থ সংকল্প আসে, তবে তুমি নিশ্চয়ই অনুভব করবে যে তা'তে তোমার কতটা সময় নষ্ট হয়, কতটা এনার্জি নষ্ট হয়। সেইজন্য বাপদাদা এই হোমওয়ার্ক দিতে চান যে, এই দু'মাস সব বাচ্চা মনের ব্যর্থ সঙ্কল্প ও ব্যর্থ সময় রোধ করতে নিজের জন্য একটি বিধি তৈরি করুক। এই দু'মাসে প্রত্যেকে নিজের একটি চার্ট রাখো যে, ব্যর্থ সময় এবং ব্যর্থ সঙ্কল্পের ওপর কতটা কন্ট্রোল করছ। কেননা, এখন সময় অনুসারে তোমাদের সকলেরই মন্সা শক্তি দ্বারা অন্যান্য আত্মাদের মন্সা সেবা করার সময় আসবে। এইজন্য সদা মনের উপরে অ্যাটেনশন রাখা আবশ্যক। বলাও হয়ে থাকে মনজিত জগৎজিত। তো মনমনাভব-র বায়ুমণ্ডলে মনের সমস্ত ব্যর্থকে সমাপ্ত করতে হবে। তোমরা এটা করতে পারো? করবে? যারা করবে, তারা হাত উঠাও। বাপদাদা তোমাদের পুরস্কার দেবেন। নিজের রেজাল্ট নিজে দেখবে। মন যদি খুশি থাকে, তবেই তুমি মনের সেই খুশি বিলিয়ে দিতে পারবে। এই পুরুষার্থে প্রত্যেকেই যাতে সর্বাধিক সামনে নম্বর নিতে পারো, সেই দিকে অ্যাটেনশন রাখো। ব্যর্থ সমাপ্ত হবে, সঙ্কল্প সময় দুইই সমাপ্ত হবে এবং তোমাদের সমর্থ সংকল্প, সমর্থ সময় আসন্ন ভবিষ্যতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে।

বাচ্চাদের দেখে, একটা বিষয়ে বাপদাদা খুব খুশি। সেটি কোন বিষয়? তা হলো - প্রত্যেক বাচ্চাই সেবা তো করেছে, কিন্তু সেই সঙ্গে বাপদাদার ইশারা ছিল যে, ডাবল রাজা হও। এটা তো তোমরা জানো, তাইনা! একটি হলো স্বরাজ্যের অধিকারী এবং অন্যটি হলো ভবিষ্যৎ রাজ্যের অধিকারী। স্বরাজ্য অধিকারী হও। তাছাড়া, বাবার নেশা থাকে, এমন কোনো বাবা নেই যার সব বাচ্চাই স্বরাজ্য অধিকারী। তোমরা সবাই স্বরাজ্যের অধিকারী তো না? স্ব- এর ওপরে আত্মা রাজত্ব করবে। কর্মেন্দ্রিয়ের বশে নয়, বরং রাজ্য অধিকারী। বাবা এটাই চান যে প্রত্যেক বাচ্চা যেন সদা স্বরাজ্য অধিকারী থাকে, কখনো কখনো নয়। হতে পারো? এই যে দু'মাস দেওয়া হয়েছে, এতে নোট করবে যে স্বরাজ্য অধিকারী ছিলে কিনা! নাকি কর্মেন্দ্রিয়ের বশ হয়েছ! এখন কর্মাতীত হতে হবে, সময় কাছাকাছি চলে আসছে। তো কী করতে হবে? চলতে-ফিরতে স্বরাজ্য অধিকারী হতেই হবে। এই সংস্কার তো তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চাদেরই। ডবল রাজ্য - স্বরাজ্য এবং পরবর্তীতে ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজ্য। বাপদাদা পরিক্রমণ করতে করতে বাচ্চাদের রেজাল্ট নোট করেন, তো সদা স্বরাজ্য অধিকারী থাকার বিষয়ে এখন অ্যাটেনশন প্রয়োজন। তো বাপদাদা দুটি কাজ দিয়েছেন - একটি হলো, এই দু'মাস কত সময় পর্যন্ত স্বরাজ্য অধিকারী থাকো নিজের সেই রেজাল্ট দেখতে হবে; আর পাশাপাশি মনের কন্ট্রোলিং পাওয়ার ও রুলিং পাওয়ার দ্বারা ব্যর্থকে সমাপ্ত করতে হবে। এতে যারা নম্বর নেবে, তাদেরকে বাপদাদা পুরস্কার দেবেন। পছন্দ হয়েছে? করতে হবে তো, তাইনা! করবে? করবে তো না! কাঁধ নাড়াও। আচ্ছা।

আজ বাপদাদা সকলের যে স্নেহ রয়েছে, তা' স্বীকার করেছেন। অমৃতবেলায় তো বতনেও অনেক বাচ্চার স্নেহময় উপস্থিতি ছিল। অ্যাডভান্স পার্টিও আজ বতনে নিজেদের হৃদয়ের স্নেহ দেওয়ার জন্য এবং নেওয়ার জন্য এসেছিল। এখন তারা বাবার কাছে জিজ্ঞাসা করছে যে, শেষ পর্যন্ত আমাদের এই পার্ট আর কতদিন? কী জবাব দেব? প্রথম সারির যারা আছো, বলো কী জবাব দেবো? কী বললে? (দাদী জানকী বললেন - আমি রেডি আছি) তুমি একা যাবে? (সবাই যাবে) তোমার ভালোবাসা আছে তো না, এভাবে ছেড়ে দিয়ে কীভাবে রাজত্ব করবে? (অ্যাডভান্স পার্টির তারা আমাদের ছেড়ে কেন চলে গেল?) ওদের পার্ট ছিল তো না! ওদের তো যেতেই হতো। এখন তোমরা এই চেষ্টা করো যেন তাড়াতাড়ি সংগঠন তৈরি হয়। যে দু'মাসের কাজ দেওয়া হয়েছেনা, যদি সেই কাজ তোমরা সবাইকে করতে দাও এবং রেজাল্ট বের করো, তখন তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। (বাবার স্নেহে করে নেব) স্নেহ তো আছেই, স্নেহে সবাই পাস। বাপদাদাও দেখেন যে স্নেহ সবারই আছে, কিন্তু স্নেহের সাথে শক্তিও প্রয়োজন। এর জন্য অমৃতবেলাকে পাওয়ারফুল বানাও। যখন বসো, বাপদাদা তোমাদের বসার জন্য অভিনন্দন জানান; কিন্তু বসার জন্য যে শক্তিশালী বায়ুমণ্ডল প্রয়োজন, তা দেখা যায় না - কেউ একভাবে বসে, তো কেউ অন্যভাবে বসে। তোমরা যদি এর ফোটো তোলো, তবে তোমাদের নিজেদেরই মনে হবে যে এখানে আরও কিছু হওয়া উচিত ছিল। বাপদাদা যে জ্বালামুখী যোগ-এর বিষয়ে বলেছেন তার ওপর এখন আরও গভীর অ্যাটেনশন দিতে হবে। পুরুষার্থ সবাই করছে, কিন্তু এই পুরুষার্থ শব্দের আগে 'তীব্র' শব্দটি জুড়ে দাও। বাপদাদা সব বাচ্চাকে এখন এই দু'মাস সময় দিয়েছেন, এর মধ্যে তোমরা যতখানি অ্যাটেনশন দেবে, সেই অ্যাটেনশনের সাথে বাপদাদাও তোমাদের এক্সট্রা সহযোগ দেবেন। মনের মালিক, তোমরা মনকে ঠিক সেভাবেই চালাও যেভাবে তোমরা হাত ও পা-কে চালনা করো। তোমরা যা চাও, হাত-পা তা-ই করে তো? এখন তোমরা যদি চাও হাত বা পা এখানে না রেখে ওখানে রাখবে, তা' তো রাখতে পারো। ঠিক তেমনই মাইন্ড কন্ট্রোল হওয়া চাই, যাতে তোমরা যা চাইবে মন সেই সঙ্কল্প করবে। প্রতিদিন রাতে নিজের রেজাল্ট দেখো যে আজ মনের রুলিং পাওয়ার, কন্ট্রোলিং পাওয়ার কতখানি ছিল? এখন ব্যর্থকে খুব দ্রুত শেষ করা উচিত। এবার নিজে সমর্থ হয়ে বায়ুমণ্ডলে সমর্থভাবের শক্তি ছড়িয়ে দাও। বাপদাদা বাচ্চাদের দুঃখ-কষ্ট ও আকুল আর্তি শুনে এখন বাচ্চাদের দ্বারা এই দুঃখের দ্রুত সমাপ্তি ঘটাতে চান। বাবা বলেছেন তো না, পুরুষার্থ সবাই করছে, কিন্তু এখন তার সাথে 'তীব্র' শব্দটি যুক্ত করো। করতেই হবে - করবো, দেখবো... বো বো চলবে না।

বাবা আজ স্নেহের দৃশ্যও দেখলেন, প্রত্যেকের হৃদয়ে কত ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু যতটা ভালোবাসা রয়েছেনা, তার সাথে ততটা শক্তিরও প্রয়োজন। এখন শক্তি সঞ্চয় করো। কখনো কোনো বোনই নিজেকে কেবল শক্তি ভেবো না, শিবশক্তি মনে করো। শিবশক্তি - বাবা সাথে আছেন। পাণ্ডবদের সাথে পাণ্ডবপতি আছেন। তো এখন তোমরা কী করবে? বাপদাদা যা বলেছেন, পুরুষার্থের সামনে 'তীব্র' শব্দ যুক্ত করো। বায়ুমণ্ডল বানাও। একে অপরের সহযোগী হয়ে প্রত্যেকে নিজের নিজের স্থানে থাকো তোমরা, স্থানকে শক্তিশালী বানাও, নিজের সঙ্গীদের শক্তিশালী করো। তো এখন কী করবে? নতুনত্ব কিছু করবে তো না! আমার বাবা যখন বলছ, তখন 'আমার' মতো তো হতেই হবে। প্রত্যেকে নিজের হৃদয়ে দৃঢ় সংকল্প করো। সংকল্প তো তোমরা বেশ ভালো ভালোই করো, বাপদাদা দেখেন যে অমৃতবেলায় তোমরা সুন্দর সুন্দর সংকল্প করো এটা করবো, ওটা করবো, সেটা করবো। কিন্তু যখন তোমরা কর্মযোগী হও, সম্বন্ধ- সম্পর্কে আসো, তখন তাতে পার্থক্য হয়ে যায়। কর্মযোগীর স্থিতিতে অ্যাটেনশন বেশি প্রয়োজন। আচ্ছা।

সবাই খুশি তো হয়েছনা! খুশি হয়েছ? দেখ, নতুন নতুন কত এসেছে! যারা নতুন, প্রথমবার এসেছো, তারা হাত তোলো। দেখো কত আছে! অর্ধেক ক্লাসই নতুন এসেছে। বাপদাদা আগত নতুন বাচ্চাদের দেখে খুশি, কেননা তারা সমাপ্তির লাস্ট সময়ের আগেই চলে এসেছে। কিন্তু তোমরা যত দেরিতে এসেছ, তোমাদের ততটাই তীব্র পুরুষার্থ করতে হবে, কেননা এই অল্প সময়ের মধ্যেই তোমাদের পুরো ২১ জন্মের ভবিষ্যৎ বানাতে হবে। এতটা অ্যাটেনশন রাখতে হবে। সময়কে বাঁচাতে হবে, এক সেকেন্ডও বৃথা নষ্ট করা যাবে না। তীব্র পুরুষার্থী হয়ে থাকো, সাধারণ পুরুষার্থ দ্বারা লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে। তবুও বাপদাদা আগত বাচ্চাদেরকে হৃদয় থেকে কল্যাণকারী শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আচ্ছা।

টিচার্স বোনেরা অনেকে এসেছে:- টিচার্সদের দেখে তো বাপদাদা খুব খুশি হন, কেননা টিচার্স যারা নিমিত্ত হয়েছে, তারা বাপদাদাকে প্রত্যক্ষ করানোর নিমিত্ত হয়েছে। যে কেউই টিচারকে দেখলে খুশি হয়, কারণ টিচার্স মানেই যার ফিচার্স থেকে ফিউচার দেখা যায়। তোমাদের ফিউচার কী? ফিউচার হলো সদা প্রফুল্ল চিত্ত (দিলখুশ), সদা অধিকারী, অধীনস্থ নয়। তো টিচার্সদের ফিচার্স এই সাক্ষাৎকার করায়। প্রত্যেক টিচার সবসময় মনে রাখো - তুমি কোথাও কিছু বলো বা না বলো, কিন্তু তোমাদের ফিচার্স ও মুখ বর্তমান সময়ের প্রাপ্তি এবং ভবিষ্যতের প্রাপ্তি প্রকাশ করে। সদা এই অ্যাটেনশন রাখো যে, আমাদের মুখমণ্ডল এমন সাক্ষাৎকার করায়! যে কেউই টিচারের সামনে আসুক, টিচারকে দেখে এক তো সে যেন প্রসন্ন চিত্ত হয়ে যায়, তার জীবনে যেন খুশি দেখা দেয়। তোমরা এমন আনন্দময় এবং ভাগ্যবান। বাপদাদা দেখেছেন যে, প্রত্যেক টিচারের লক্ষ্য খুব ভালো। করতেই হবে। হতেই হবে। এমনই তো, তাই না? লক্ষ্য কী? এটাই লক্ষ্য তো! এই লক্ষ্য লক্ষণে (আচরণে) দেখাও যাচ্ছে, আরও বেশি করে দেখা যাওয়া উচিত। যে-ই আসুক না কেন, সে যেন অবশ্যই খুশি নিয়ে যায়, কেননা খুশি সব মানুষের জন্য আবশ্যক। তারা চায় কিন্তু হয়ে উঠতে পারে না, তাই টিচার্স মানে ফিচার্স দ্বারাও সেবা করতে হবে। তাদের অনুভব হতে দাও যে ইনি কী হয়ে গেছেন! আসন্ন ভবিষ্যতে তোমাদের মুখমণ্ডল এবং আচার-আচরণ এই সেবা বেশি করবে, কেননা যত জটিল বা সংকটপূর্ণ সময় আসবে, সময় তত কম পাওয়া যাবে কিন্তু মানুষের চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষা বাড়বে - কিছু পেলে, আরও কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়বে। এর জন্য টিচারদের সদা এমনভাবে এভাররেডি থাকা উচিত, যাতে যে কেউ আসুক না কেন, অন্ততপক্ষে সে যেন কিছু না কিছু অবশ্যই নিয়ে যায়। তোমাদের চেহারা এবং আচরণের দ্বারাও তারা যেন কিছু না কিছু নিয়ে যায়। তোমরা দাতার বাচ্চা তো না! বাপদাদা তো টিচারদের দেখে খুব খুশি হন। অন্তর্মনে গুণগান করেন - বাঃ টিচার্স বঃ! কেননা, প্রত্যেক টিচার সেবা তো করেই এবং নিজের রেজাল্ট রাতেও দেখেন যে আজ কী সেবা হয়েছে! নিজের চার্ট তো নিজেই দেখে; সেবার যে লক্ষ্য রেখেছে, তা' পূরণ হয়েছে কিনা! যদি কোনো কারণে-অকারণে না হয়ে থাকে, তবে পরের দিন ডবল করো। খালি যেতে দিও না, কারণ টিচার্স মানেই হলো নিমিত্ত দাতা, দাতার বাচ্চা। তো বাপদাদা তো খুশি হন, ছোট সেন্টারের হোক বা বড় সেন্টারের, কিন্তু সবকিছু ত্যাগ করে সেবাস্থানে আসা - এটাও সাহস তো না। তাইতো বাপদাদা তোমাদের সাহসের জন্য খুশি। এখন আরও সাথী বানাও। আরও টিচার্স বের করো, কেননা সেবা বাড়বেই। এখন একটু বিশৃঙ্খল অবস্থা হবে এবং সবাই উৎকণ্ঠার সাথে তোমাদের সামনে আসবে। সার্ভিস (সেবা) বাড়তেই থাকবে, কম হওয়ার নয়। আচ্ছা।

বরদান:-
স্বমানের সিটে স্থিত হয়ে মায়াকে স্যারেন্ডার করানো শ্রেষ্ঠ স্বমানধারী ভব

সঙ্গম যুগের সবথেকে শ্রেষ্ঠ স্বমান হল মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্মৃতিতে থাকা। যেরকম কোনও বড় অফিসার বা রাজা যখন স্বমানের সিটে স্থিত হয় তখন অন্যরাও তাকে সম্মান দেয়। যদি নিজে সিটের উপর না থাকে তাহলে তার অর্ডার কেউ মানবে না। এইরকম তোমরাও স্বমানধারী হয়ে নিজের শ্রেষ্ঠ স্বমানের সিটের উপর সেট থাকো তাহলে মায়া তোমাদের সামনে স্যারেন্ডার হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
সাক্ষীভাবের স্থিতিতে থেকে দিলারামের সাথ-এর অনুভবকারীই হলো লভলীন আত্মা।

অব্যক্ত ঈশারা :- পরোপকারের ভাবনা দ্বারা সম্পন্ন হয়ে অপকারীরও উপকার করো অপকারীরও উপকার করা - এটাই হল জ্ঞানী তু আত্মার কর্তব্য। যেরকম বাবা নিন্দাকেও কল্যাণকারীর দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। উপকারীর উপকার তো দুনিয়ার মানুষও করে, ভক্ত আত্মারাও করে, কিন্তু জ্ঞানী তু আত্মার অর্থ হল সকলের প্রতি কল্যাণের ভাবনা, অকল্যাণ সংকল্পমাত্রেও যেন না হয়। অপকারীরও উপকার করবে, তখন বলা হবে বিশ্ব কল্যানকারী।