13-09-2026 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-11-2011 মধুবন


“এখন নির্বিঘ্ন আর এভারেডি থেকে ১০৮ এর মালা তৈরী করো, ব্রহ্মা বাবার সমান সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ হও”


আজ সর্বশক্তিবান বাবা তাঁর নিজের মাস্টার সর্বশক্তিবান বাচ্চাদেরকে সর্ব শক্তির খাজানা দিতে এসেছেন। সর্ব শক্তির খাজানা কত সহজেই প্রাপ্ত হয়ে যায়। এক সেকেন্ডে জেনেছো আমার বাবা, বাবা বলছেন আমার বাচ্চা, এতেই খাজানার মালিক হয়ে গেছো। তো প্রত্যেক বাচ্চার কাছে সর্ব খাজানা সদা সাথে আছে তাই না! যা বাবার খাজানা, তাই আমাদের খাজানা - এই নেশা আছে? এখনই চেক করো, বাবা তো প্রত্যেক বাচ্চাকে সর্ব খাজানা দিয়েছেন। একটাও কম দেননি, কিন্তু সেই সকল খাজানা প্রত্যেকের কাছে সদা সাথে আছে নাকি কিছু খাজানা আছে, আর কিছু খাজানা কম আছে? বাপদাদা তো দিয়েছেন কিন্তু প্রত্যেকের কাছে সকল খাজানা সদাই থাকে আর সেই সকল খাজানা সময় অনুসারে কার্যে প্রয়োগ করছো? মালিক হয়ে অর্ডার করলে সময় অনুসারে সেই খাজানা অনুভবে আসে? বাপদাদা চারিদিকের বাচ্চাদের সেবার উৎসাহ দেখেওছেন, শুনেওছেন। চারিদিকে খুব ভালো উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে এই ৭৫ বছরের জয়ন্তী পালন করছে, চ্যালেঞ্জ করছে, এখন পরিবর্তন হলো কি হলো। চ্যালেঞ্জ খুব ভালো করছে। বাপদাদা বাচ্চাদের উৎসাহ উদ্দীপনাকে দেখে খুশী হচ্ছেন আর কি গীত গাইছেন? বাঃ বাচ্চারা বাঃ! সাথে সাথে বাপদাদা দেখছেন চ্যালেঞ্জ তো খুব ভালো করছে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে, কিন্তু সাথে বাচ্চাদের নিজেদের মধ্যে সকল ধারণার সফলতার স্বরূপও দেখেছেন। তোমরা সকলে নিজেদের সফলতার স্বরূপ জানো কেননা নিমিত্ত হওয়া সকল বাচ্চা সদা সম্পন্ন আর সফলতার মূর্তি হয়ে গেছো নাকি হতে হবে? কেননা সুখময় সংসারের আধার স্বরূপ হলে তোমরা বাচ্চারা। তো বাপদাদা সকল বাচ্চাদের রেজাল্ট দেখেছেন। তোমরা যারা আধারমূর্তি আছো, অল্প কয়েকজন বাচ্চা নয়, সকল বাচ্চাদের চ্যালেঞ্জ হল যে আমরা হলাম সুখময় সংসার নিয়ে আসার নিমিত্ত।

তো বাপদাদা সকল বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞেস করছেন যে সুখময় সংসার নিয়ে আসার নিমিত্ত হওয়া বাচ্চারা সম্পূর্ণ সম্পন্ন আধারমূর্তি হয়ে গেছো? বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার যে আশা আছে - প্রত্যেক বাচ্চা সফলতার মূর্তি হবে, কেননা তোমরা বাবার সাথী হয়ে সংকল্প করেছো আর বড়ই আনন্দের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছো যে পরিবর্তন হলো কি হলো। তো নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করো বিশ্ব পরিবর্তনের নিমিত্ত বাচ্চারা স্ব সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ কতটা তৈরী হতে পেরেছো? কেননা রাজ্য স্থাপন হচ্ছে তাই প্রথমে রাজ্যের নিমিত্ত হওয়া আত্মারা নিমিত্ত হবে তারপর অন্যরা নিমিত্ত হবে। তো বাপদাদা দেখেছেন যে এখন সম্পূর্ণ হওয়াতে কিছু মার্জিন থেকে গেছে। সেবা তো করেছো কিন্তু সেবার রেজাল্টে তোমাদের সাথী কতজন হয়েছে? হিসেব করে দেখো যে, যারা শুনছে তাদের মধ্যে কতজন নিকটে আসছে? বাপদাদা বাচ্চাদের সাহস দেকে খুশী হচ্ছেন কিন্তু এখন সার্ভিসের রেজাল্টে আরও তীব্রতা নিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেক সময় আত্মাদেরকে এতটাই নিকট সম্বন্ধে নিয়ে এসো। তারা খুবই খুশী হচ্ছে, এখন ব্রহ্মাকুমারীদের কর্তব্যকে জানার জন্য অনেক কাছে আসছে কিন্তু বাপদাদা পূর্বেও বলেছেন বাবার দ্বারাই আত্মারা উত্তরাধিকার পাবে, তাই বাবাকে জানুক, সময়কে জানুক, স্বমানকে জানুক তবেই উত্তরাধিকারের অধিকারী হতে পারবে। এখন বাবা এসেছেন, বাবা উত্তরাধিকার প্রদান করছেন, এটা বুদ্ধিতে এলে তবেই উত্তরাধিকার নিয়ে রাজ্য অধিকারী হতে পারবে।

চারিদিকে এই আওয়াজ যাতে ছড়িয়ে পড়ে - যে গীত তোমরা গেয়ে থাকো - “আমাদের বাবা এসে গেছেন।” এখন বাপদাদা এই রেজাল্ট দেখতে চাইছেন। পরিবর্তন হয়েছে, সার্ভিসের লাভ হয়েছে, পরিশ্রমের ফল পেয়েছে কিন্তু এখনও বাবার কাছে পৌঁছায়নি। এরজন্য কোনও প্ল্যান বানাও। বাবার প্রত্যক্ষতা কিভাবে হবে? রাজধানীতে যারা রাজত্ব করবে, তারা নির্বিঘ্ন হয়েছে? এখন পরিবর্তনের বাটন্ ড্রামা প্রেশ করবে। এভারেডি? এভারেডি আছো? বাটন্ প্রেশ করবে? এভারেডি আছো? কেননা সব তৈরী চাই, রাজ্য অধিকারীও, রয়্যাল ফ্যামিলিও, রয়্যাল প্রজাও আর সাধারণ প্রজা তো কোনও বড় কথা নয়। তো বাপদাদা আজ বাচ্চাদের থেকে রেজাল্টের বিষয়ে জানতে চাইছেন। কি বুঝছো? বাটন্ প্রেস করতে বাপদাদার দেরী লাগবে না। তো প্রথম লাইন কি বুঝতে পারছো? শক্তিরা কি মনে করছে? পান্ডবরা কি মনে করছে? জবাব দাও। হ্যাঁ, পান্ডব জবাব দাও। বাটন প্রেস করবো? এভারেডি তোমরা? (বাবা আপনি হলেন মালিক, আপনার সংকল্প হচ্ছে বাটন্ প্রেস করার, তো প্রেস করে দিন।) বাপদাদা বাচ্চাদেরকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? কেননা বাবাকে তো রাজত্বে আসতে হবে না, ব্রহ্মা বাবাকে আসতে হবে। (এখানে বাপদাদার সাথে মিলিত হই, এটা খুবই ভালো লাগে) এই কথাটি তো খুব ভালো কিন্তু বাবার সমান হয়ে বাবার সাথে জীবনের অনুভব করবে, এটাও তো চাই, তাই না। সেটা আছো? তৈরী আছো? শুধুমাত্র তোমরাই নও, রাজধানীও আছে। তোমরা কোথায় রাজত্ব করবে? রাজধানী তো চাই, তাই না! (সবাই হলো সাথী) সবাই তৈরী আছো? (একদম তৈরী আছি) সম্পন্ন হওয়াতে তৈরী আছো? আচ্ছা সবাই চিন্তা করছে, কোনও ব্যাপার নয়।

বাপদাদা জানেন যে এখন পর্যন্ত রেডি আছো কিন্তু এভারেডি হতে হবে। বাপদাদা যে দুটি কথা বলেছিলেন যে সেকেন্ডে ফুলস্টপ লাগানো বাচ্চা চাই। যার মধ্যে ব্যর্থ সংকল্পের নাম নিশান থাকবে না। যাকেই সন্দেশ দেবে, সে সন্দেশ শুনে পরিবর্তন করার উৎসাহ উদ্দীপনাতে এসে যাবে। এখন বাপদাদা এই রেজাল্ট চাইছেন। এরজন্য বাপদাদা বাচ্চাদেরকে রায় দিচ্ছেন, আজ্ঞাও করছেন যে, সেবা তো করছো কিন্তু যাদের সেবা করছো একই সময়ে তিন রূপ আর তিন রীতিতে সেবা করো। তিনরূপ - নলেজফুল, পাওয়ারফুল আর ল'ফুল, এই তিন রূপের দ্বারা সেবা করো আর তিন রীতির দ্বারা সেবা করো, সেই তিন রীতি হলো মন্সা-বাচা-কর্মণা একই সময়ে, কেবল বাণীর দ্বারা সেবা নয়, বাণীর সাথে সাথে মন্সা সেবাও হবে। পাওয়ারফুল মাইন্ড হবে। তো এখন আবশ্যকতা হলো একই সময়ে মন্সা পাওয়ারফুল হবে যার দ্বারা আত্মাদেরও মন্সা পরিবর্তন হয়ে যাবে। বাণীর দ্বারা সমগ্র নলেজ স্পষ্ট হয়ে যাবে আর কর্মণার দ্বারা, কর্ম দ্বারা সেবাতে সেই আত্মারা অনুভব করবে যে সত্যি-সত্যিই আমরা নিজের পরিবারে পৌঁছে গেছি। পরিবারের ফিলিং আসার ফলে নিকটের সাথী হয়ে যাবে। তো বাপদাদা এখন একই সময়ে তিন রূপের সেবা একত্রে চাইছেন। হতে পারে? হতে পারে? হাত তোলো, হতে পারে? এখন বাপদাদা রেজাল্টে দেখেছেন বাণীর দ্বারা নলেজফুল তৈরী হয়, কিন্তু পরিবারের সাথী হবে, এতে টাইম লাগে। তো বাপদাদা দেখছেন যে সময়ের চ্যালেঞ্জের সাথে এখন সেবাতে এমন সেবা করো যে একই সময়ে তিন সেবার দ্বারা প্রাপ্তির অনুভব করবে।

তো সবাই মিলিত হওয়ার জন্য উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পৌঁছে গেছে, তো বাপদাদা বাচ্চাদের উৎসাহ দেখে খুশী হচ্ছেন। এখন অ্যাটেন্শান দিতে হবে সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ হওয়াতে, কেননা অন্ততপক্ষে ১০৮ এর মালা তৈরী করতে পারবে, করতে পারবে? ১০৮ এর মালা তৈরী আছে? তৈরী আছে? কেননা রাজধানীতে রাজ্য অধিকারী তো সে-ই হবে, তাই না! তো ১০৮ রত্নের লিস্ট এখন বের করতে পারবে? হাঁ জি- বলবে না? ১০৮ রাজ্য অধিকারী, তারপর ১৬ হাজার ১০৮ রাজ্য অধিকারীর সাথী। তারপর হলো নম্বরের ক্রমানুসারে। তো বাপদাদা এখন সময় অনুসারে, সময়কে নিকটে নিয়ে আসা বাচ্চাদের কাছ থেকে এটাই চাইছেন যে ১০৮ এর মালা এভারেডি আছো, বাবার সমান হয়েছো। তো প্রথম লাইন ১০৮ টা নাম বের করতে পারবে? হ্যাঁ কি না বলো না! সাকারে যখন ব্রহ্মা বাবা ছিলেন তখন অনেক বার ট্রায়াল করেছিলাম কিন্তু ফাইনাল হয়নি, কিন্তু এখন তো ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তো এই ৭৫ বছরের জুবিলীতে কিছু তো নবীনত্ব করবে তাই না! তো নবীনত্ব এটাই করো যে প্রত্যেকে নিজেকে ১০৮ মালার দানা বানাও, যেটা গণনাতে আসবে, হ্যাঁ ১০৮ এর মালা তো হয়ে গেছে কেননা প্রথমে রাজ্য অধিকারী হবে, তারপর সম্পর্কে থাকা আত্মারা আসবে। তাদের জন্যও তো জায়গা চাই তাই না! তো বাপদাদার এটাই বক্তব্য হলো যে এখন প্রত্যেককে নিজেদের জন্য তীব্র পুরুষার্থ এবং এই দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে - আমাদেরকে বাবার সমান হতেই হবে কেননা বাপদাদা আগেই শুনিয়েছেন যে হঠাৎ পরিবর্তন হবে। তার আগে অন্ততপক্ষে যারা সেবার নিমিত্ত হয়েছে, জোন হেডস্, সেন্টার ইনচার্জ, সাথে তাদের নিকটতম সাথী পান্ডব, সে সেন্টারের হেড হয় না কিন্তু কোনও না কোনও বিশেষ কার্যের নিমিত্ত হয়েছে, যাকে সবাই বিশেষ আত্মার নজরে দেখে, সেই পান্ডবদেরকেও এখন তীব্র পুরুষার্থ করে স্ব পরিবর্তনের ঝলক বাইরের স্টেজে নিয়ে যেতে হবে, এরজন্য এভারেডি আছো? যারা মনে করছো যে এই কাজ তো করতেই হবে, নিজেকে বাবার সমান, ব্রহ্মা বাবার সমান ফলো ফাদার করতেই হবে, করতে পারবে তো হাত তোলো। হাত তো এত তুলে থাকো, খুশী করে দাও। ভালোই করো। কিন্তু হাতের সাথে সাথে দৃঢ় সংকল্পও করো। দৃঢ়তার শক্তি অনেক সহযোগ দেয়।

তো বাপদাদা খুশী হচ্ছেন, হাত তোলাতে সবাই চতুর কিন্তু এখন দৃঢ়তাকে প্র্যাক্টিক্যালে নিয়ে আসতে হবে। বাচ্চারা তোমরা বেশ চতুর ! তোমাদের দৃঢ়তাও আছে কিন্তু সেই দৃঢ়তা ভিন্ন-ভিন্ন রূপে পরিবর্তন হয়ে যায়, এটা হয়ে গেলো, ওটা হয়ে গেলো। এটা হয়নি তাই ওটা হয়নি। এই বাহানা দিতে খুব চতুর তোমরা। তো এখন বাপদাদা কি চাইছেন? এখন প্রত্যেককে বাবার সমান হতে হবে, মন্সা, বাচা, কর্মণা, সম্বন্ধ-সম্পর্কে তোমাদেরকে যারাই দেখবে, যারাই মিলিত হবে তারা এটাই বলবে - বাঃ পরিবর্তন বাঃ! বাপদাদারও ভালো লাগে যে বাচ্চারা নিমিত্ত হয়েছে, তাদেরকে দেখেও খুশী হয় আর মিলনেও খুব খুশী হয়।

তো আজ কী সংকল্প করেছো? হতেই হবে। ব্রহ্মা বাবার সমান হতেই হবে। হতে হবে নয়, হতেই হবে। যে বিষয়ই আসুক, অবস্থার পরিবর্তে বাবাকে সামনে রাখো। তো দূরে বসে থাকা সকল বাচ্চা, নিকটে সামনে বসে থাকা বাচ্চা - সবাইকে দেখে বাপদাদা প্রফুল্লিত হচ্ছেন। সকল বাচ্চাই প্ল্যান খুব ভালো বানায়, অমৃতবেলায় সবাই খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। মেজরিটি এত মিষ্টি কথা বলে যে বাবাও শুনে কুর্বান হয়ে যান। কিন্তু তারপর কি হয় জানা আছে? যখন কর্মক্ষেত্রে আসে, সম্বন্ধে আসে, সেবাতে আসে, তখন যে কথা আসে তাতে একটু একটু পরিবর্তন হয়ে যায়। অমৃতবেলার যে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে সেটা কর্ম করতে করতে, সম্বন্ধে এসে একটু একটু পরিবর্তন হয়ে যায়।

এখন বাপদাদা একটা কাজ দিচ্ছেন, করার জন্য তৈরী তোমরা তাই তো! কাঁধ নাড়াও। হাত তোলো। “বাপদাদার সংকল্প হলো - একমাসের জন্য নিজেকে দৃঢ় সংকল্পের আধারে বাবার সমান স্থিতিতে স্থিত করতে পারবে?” এক মাস বেশী হয়ে যাচ্ছে? যারা মনে করছো এক মাস দৃঢ়তার সাথে করবে, দৃঢ়তাকে সাথী বানিয়ে বাবাকে সদা সামনে রাখবে, ব্রহ্মা বাবাকে নয়নে সমাহিত রাখবে আর ব্রহ্মা বাবা যা যা করেছেন, মন্সা বাচা কর্মণা দিয়ে তাই তাই করে দেখাবে। যদি কেউ প্র্যাক্টিক্যালে ব্রহ্মা বাবাকে নাও দেখে থাকে তথাপি নলেজ তো আছে তাই না! কোনও কর্ম করার আগে প্রথমে এটা চেক করতে হবে যে ব্রহ্মা বাবা এই সংকল্প করতেন, এই কথা বলতেন, এইরকম কর্ম করতেন, এইরকম সম্বন্ধ ছিল, এইরকম সম্পর্ক ছিল? প্রথমে চিন্তা করো, তারপর করো। হতে পারে কি? হাত পারে। হতে পারে? লম্বা করে হাত তোলো। মাতারা এই এক্সারসাইজ করো তো না - হাত লম্বা তোলো। সামনের সারিতে যারা বসেছে তারাও হাত তোলো। সব মধুবন নিবাসী এতে নম্বরওয়ানে আসবে। সামনে মধুবনবাসীরাই বসে আছে তাই না। মধুবন বলতে কেবল শান্তিবন নয়, সবাই, এক মাস নির্বিঘ্ন, প্রতিটি সেন্টারও নির্বিঘ্ন, গুজরাতের টিচার্স হাত তোলো। গুজরাতে টিচার্স কি মনে করছো, হতে পারে? তাহলে লম্বা হাত তোলো। এইরকম নয়, লম্বা হাত তোলো। হতে পারে? আচ্ছা। শান্তিবনবাসী হাত তোলো, অল্প সংখ্যায় রয়েছে। যারাই বসে আছো, পিছনেও বসে আছো। তো মধুবনের ৪-৫ স্থান থেকে যারা এসেছে, তারা করবে? করবে? হাত তোলো? মধুবনবাসী দুই হাত তোলো। গুজরাতবাসী জিজ্ঞাসুও, নিমিত্ত টিচার্সও, নিমিত্ত ভাইও, সবাই হাত তোলো, করবে। বড় হাত তোলো। পিছনের বাচ্চাদের হাত দেখা যাচ্ছে না, আচ্ছা, গুজরাত থেকে যারা এসেছো দাঁড়িয়ে পড়ো। গুজরাত থেকে তো অনেক এসেছে। অর্ধেক হল্ তো গুজরাত রয়েছে । (গুজরাত থেকে ১৫ হাজার এসেছে, অন্যান্য ৩ হাজার এসেছে) গুজরাতবাসীদের বাপদাদা আর পরিবারের তরফ থেকে অনেক-অনেক অভিনন্দন, অভিনন্দন। এখন যেরকম তালি বাজালে, সেইরকমই এক মাস পর রেজাল্টে গুজরাত নম্বর ওয়ানে আসবে! ঠিক আছে। সংখ্যা তো খুব ভালো। বাপদাদা খুশী হচ্ছেন যে বাচ্চাদের বাবার সাথে আর মধুবনের সাথে হৃদয়ের ভালোবাসা আছে। খুব ভালো, এখন গুজরাত কামাল করে দেখাবে। এই এক মাসের রেজাল্টে নম্বর ওয়ানে এসে দেখাও। সেভাবে তো নম্বর ওয়ানে সবাইকেই আসতে হবে। মধুবনবাসী নম্বর ওয়ানে আসবে তো না, হাত তোলো। যা কিছুই হয়ে যাক, যেরকমই পরিস্থিতি হয়ে যাক, পরিস্থিতি আসবে, মায়া শুনছে, তো মায়া নিজের রূপ তো দেখাবেই কিন্তু মায়ার কাজ হলো আসা আর তোমাদের কাজ হলো বিজয় পাওয়া। এটা বলবে না যে - এটা হয়ে গেলো, ওটা হয়ে গেলো - এসব করবে না। আসবে, হবে, এটা তো বাপদাদা প্রথমেই শুনিয়ে দিয়েছেন কেননা মায়া শুনছে, সে খুবই চতুর কিন্তু তোমরা, মায়া যতই চতুর হোক, তোমরা তো হলে সর্ব শক্তিবানের সাথী, মায়া কি করবে। বাপদাদা দেখছেন, টি.ভি তে দেখছেন তো সবাই নম্বর ওয়ানে আসবে। কেউ নম্বর টু হবে না, ওয়ান নম্বর। আচ্ছা।

বাপদাদা এখন সকল বাচ্চাদেরকে একটাই শ্রেষ্ঠ সংকল্প শোনাতে চাইছেন যে এখন নিজেও নির্বিঘ্ন থাকো আর নিজের সাথীদেরকে, সম্বন্ধে আগতদেরকেও নির্বিঘ্ন বানাও। সময়কে নিকটে নিয়ে এসো। বাচ্চাদের দুঃখ অশান্তি বাপদাদা দেখতে চান না। এখন নিজেদের রাজ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধরণীতে নিয়ে এসো। বাপদাদার কাছে সকল বাচ্চাই প্রিয়, যে লাস্ট নম্বরের বাচ্চা সে-ও প্রিয় কেননা দুর্বল তাই না। তো দুর্বলের উপরে আরও বেশী করুণা হয়। তোমরা সবাই যেরকমই স্থিতি, স্বভাব যুক্ত হও কিন্তু তোমরা তো আমারই বাচ্চা। যেরকম বাবা আমার, সেরকমই পরিবারও আমার। তাই তাদের স্বভাব সংস্কারকে না দেখে তাদেরকে আরওই সহযোগ দাও, সদ্ভাবনা দাও, শুভ ভাবনা দাও। আচ্ছা, সামনে বসে থাকা বাচ্চাদেরকে বা দূরে বসে থাকা বাচ্চাদেরকে, বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাদেরকে নিজের সামনে দেখে দৃষ্টিও দিচ্ছেন আর অভিনন্দনও জানাচ্ছেন। আচ্ছা।

বরদান:-
বাণীর দ্বারা জ্ঞান রত্ন দানকারী মাস্টার নলেজফুল ভব

যারা বাণীর দ্বারা জ্ঞান রত্নের দান করে তাদের, ‘মাস্টার নলেজফুল’- এর বরদান প্রাপ্ত হয়। তাদের এক-এক শব্দের অনেক ভ্যালু হয়। তাদের এক-এক বচন শোনার জন্য অনেক আত্মারা পিপাসার্ত থাকে। তাদের প্রত্যেক শব্দে সেন্স (সার) ভরা থাকে। তাদের বিশেষ খুশী প্রাপ্ত হয়। তাদের কাছে ভরপুর খাজানা থাকে এইজন্য তারা সদা সন্তুষ্ট আর হাসিখুশী থাকে। তার বোল প্রভাবশালী হয়ে যায়। বাণীর দান করার ফলে বাণীতে অনেক গুণ এসে যায়।

স্লোগান:-
স্বরাজ্যের মালিক হও তাহলে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন দাতা স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো তোমাদের অর্থাৎ মাস্টার দাতা এবং প্রাপ্তিস্বরূপ বাচ্চাদের, বিশ্বের আত্মাদের প্রতি দয়া বা উৎসাহ আসা চাই যে আমাদের ভাইয়েরা অল্পকালের ইচ্ছাতে কতটা উদ্ভ্রান্ত হয়ে আছে, দাতার বাচ্চা নিজের ভাইদের উপর দয়া আর করুণার দৃষ্টি দাও। মহাদানী, বরদানী হও। ঝলমল করতে থাকা সন্তুষ্ট মণি হয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করো।