14.07.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
স্মরণের যাত্রায় কখনো ক্লান্ত হয়ো না, দেহ-অভিমানের ঝড় ক্লান্ত করে দেয়,
দেহী-অভিমানী হও, তবেই ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে"
প্রশ্নঃ -
কোন্ সংস্কার
২১ জন্মের শ্রেষ্ঠ ভাগ্যকে নষ্ট করে দেয়?
উত্তরঃ
যদি কারোর
মধ্যে অভিমানের সংস্কার থাকে। বাবার প্রতি বা পড়ার প্রতি রুষ্ট হয় তখন ২১ জন্মের
ভাগ্য নষ্ট করে দেয়। সেইজন্য বাবা বলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, দেহ-অভিমানের বশে কখনো
এমন উল্টো-পাল্টা নেশা চড়ে যাওয়া উচিত নয় যে আমি এতজনকে বুঝিয়েছি, এত সাহায্য করেছি।
দেখো, বাবা কত বড় অথরিটি, তথাপি কত নিরহংকারী। সেইজন্য সী ফাদার।
গীতঃ-
রাতের পথিক হয়ো
না শ্রান্ত/ভোরের গন্তব্য দূরে তো নয়....
ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চারা গান শুনেছে আর যারা যোগযুক্ত সার্ভিসেবেল বাচ্চা, তারা এর অর্থ
তৎক্ষণাৎ বুঝে যায়। আমরা রাতের পথিক অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের রাত এখন সম্পূর্ণ হয়েছে।
ভক্তিমার্গকে রাত বলা হয়। রাতের অর্ধকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে। সসীমেরও (জাগতিক) দিন আর
রাত আছে। এ হলো আবার ব্রাহ্মণদের অর্ধকল্প দিন আর অর্ধকল্প রাত। এইসময় যখন বাবা
আসেন তখন অন্ধকার থাকে। প্রভাতের প্রথম প্রহর, ভোর হতে চলেছে। বাচ্চারা জানে যে এখন
বাবা বলেন - মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা, স্মরণের যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো না। যেমন
শারীরিক যাত্রায় হয়ে থাকে। পূর্বে পদব্রজে যেত। অত্যন্ত ধীরে-ধীরে, মাঝখানে মাঝখানে
গন্তব্যস্থল রাখা থাকে । জানা থাকে যে আমাদের অমুক-অমুক গন্তব্যে গিয়ে দাঁড়াতে (থাকতে)
হবে। পূর্বে অতি শ্রদ্ধাপূর্বক পদব্রজে যেত, তাতে অত্যন্ত পরিশ্রম হয়। এখন এ তো অতি
সহজ। একে বলা হয় সহজ স্মরণ বা যোগ। কেবল বাবাকে স্মরণ করতে হবে, ক্লান্ত হওয়ার
মানেই হলো দেহ-অভিমানী হয়ে পড়া। হ্যাঁ, এতে কোনো সংশয় নেই, মায়ার বিঘ্ন পড়বে। কিন্তু
এতে ক্লান্ত হয়ে যেওনা। ক্লান্ত হয়ে পড়লে দেহ-অভিমান চলে আসে। বাবা বলেন - শরীর
নির্বাহের জন্য কাজ তো করতেই হবে। তারজন্য ছুটি রয়েছে। ৮ ঘন্টা শরীর নির্বাহের, ৮
ঘন্টা আরাম, বাকি ৮ ঘন্টা এখানে দাও। এখনও তো কেউ ৮ ঘন্টাও দেয় না। শেষে ৮ ঘন্টা
পর্যন্ত থাকবে। চার্টকে বাড়াতে থাকো। যখন এখানে এসে বসো তখন স্মরণ করানো হয়, যাকে
তোমরা নেষ্ঠা বলো। বাবার স্মরণে এসে বসো। এর অর্থ এই নয় যে কেবল এখানে এসে স্মরণে
বসতে হবে। এমন অনেক আছে - মনে করে যে ৫-১০ মিনিট যোগ করে উঠে পড়ব। কিন্তু বাবা
বলেন - কাজ-কর্ম করতে করতে, কোথায় এলে-গেলেও তোমরা যোগে থেকো। কোথাও গঙ্গা-স্নানাদি
করতে গেলেও রাম-রাম জপ করে, তাই না! এখানে তোমাদের স্মরণ করার কিছু নেই, কেবল বাবাকে
স্মরণ করতে হবে। এই বাবা বাচ্চাদের সঙ্গেই কথা বলছেন। তোমাদের কল্যাণই হলো স্মরণের
যাত্রায়, এতে ক্লান্ত হয়োনা। এতে অনেক ঝড় আসবে। ঝড় কোনো মাটি ইত্যাদির নয়। মায়ার ঝড়
এলে বুদ্ধির যোগ ছিন্ন হয়ে যায়। আবার দেহ-অভিমান এলে কাজ-কর্ম, সন্তান স্মরণে এসে
যায়। বাবা বলেন - এখন তো এই কাজ-কর্মাদি সব সমাপ্ত হয়ে যাবে। তোমাদের বাচ্চারা
উত্তরাধিকারী হতেই পারবে না। সব সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখন তো অসীম জগতের বাবার
উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত রয়েছে। পার্থিব জগতের উত্তরাধিকার মুর্দাবাদ (বিনাশ) হয়ে
যাবে। বিত্তশালীরা মনে করে যে এখন সন্তান বড় হবে, বিয়ে করবে তারপর এরকম হবে। বাবা
বলেন -- এখন এতসময় নেই, সেইজন্য এই দুনিয়ার থেকে মোহ সম্পূর্ণ সরিয়ে নাও। এ হলো
কবরখানা। কাজ-কর্ম, বাচ্চার চিন্তা করতে-করতে যদি মারা যাও তবে শুধুই নিজেকে বরবাদ
করে দেবে। শিববাবাকে স্মরণ করলে অনেক উন্নতি হবে। দেহ-অভিমানে এলে বরবাদী হয়।
দেহী-অভিমানী হলে উন্নতিসাধন হয়। যত স্মরণ করবে ততই ভবিষ্যতে ২১ জন্মের জন্য
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। স্মরণ না করলে অত্যন্ত লোকসান হয়ে যাবে। সেটা আবার
কল্প-কল্পান্তরের জন্য হয়ে যাবে। এত বড় লোকসানের কথা। খেয়াল করা উচিত - আমরা
সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার কীভাবে পাবো। ধনের অত্যন্ত লালসা রাখা উচিত নয়। টু মাচ্ এ (অত্যধিকে)
যাওয়া উচিত নয়। কেউ দেউলিয়া হয়ে গেলে তখন অত্যন্ত দুশ্চিন্তা হয়ে যায়।শিববাবাকে
সম্পূর্ণ ভুলে যায়। পরে দোষারোপ করে যে জ্ঞানে এসেছে সেইজন্য দেউলিয়া হয়ে গেছে।
রোগগ্রস্ত হয়ে গেছে। এ'কথা কখনো মনে করা উচিত নয়। রোগাদি হয়, এ হলো কর্মভোগ। ভালোই
হয়েছে, বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। ধর্মরাজের ডান্ডা(মার) খাওয়ার থেকে তো অসুস্থতা ভালো,
তাই না! কর্মভোগ চুকিয়ে ফেলতে হবে। এ হলো মহা-রোগগ্রস্ত শরীর। কতো যত্ন করা হয়।
চলতে-চলতে দাঁড়িয়ে পড়ে। হার্টফেল করে। এরকম পুরোনো দুনিয়াকে তো বুদ্ধির থেকে
সম্পূর্ণ ভুলে যেতে হবে। বাচ্চারা দেখে যে, বাবা নতুন ঘর তৈরী করছেন সেইজন্য
পুরোনোর থেকে মন (হৃদয়) সম্পূর্ণ সরে যায়। তারা বলে - বাবা তাড়াতাড়ি বাড়ি তৈরী করো।
পুরোনো ঘরে অনেক কষ্ট। তোমরাও জানো - এই পুরোনো দুনিয়া তো অত্যন্ত নোংরা। এ হলো
তোমাদের অসীম জগতের সন্ন্যাস। ওরা সন্ন্যাস নেয় ঘর-পরিবারের। একে পার্থিব জগতের
সন্ন্যাস বলা হয়। তোমরা সন্ন্যাস নাও - বিকারের থেকে। বাবা বলেন - তোমাদের দেহ-সহ
দেহের যাকিছু সম্বন্ধ রয়েছে, সবকিছু পরিত্যাগ করে মামেকম্ স্মরণ করো। এই যে দুনিয়াকে
নয়ন দ্বারা দেখছো তাকে ভুলে যাও। এখন তোমাদের বুদ্ধি জানে যে, আমরা স্বর্গের
রাজধানীর জন্য পুরুষার্থ করছি। জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছো তোমরা। এ'সব কবরখানায়
পরিণত হবে, এর প্রতি প্রেম রাখা উচিত নয়। আজকাল মানুষের কাছে অনেক পয়সা আছে,
সেইজন্য বিকারও তীব্র হয়ে গেছে। কাম-বিকার কত তীব্র। কাম ব্যতীত থাকতে পারে না। ৪-৫
বছর পবিত্র থেকে তারপর লেখে, বাবা আজ একে ভুতে ধরেছে, মুখ কালো করে ফেলেছে। কত
ধাক্কা খেয়েছে। একদম ৫ তলা থেকে পড়ে গেছে। সর্বপ্রথমে হলো দেহ-অভিমান। উপর থেকে ঠক্
করে পড়ে আর চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যায়। শেষ, হাড়গোড় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায়। পুনরায়
পুরুষার্থ করতে সময় লাগে। এ হলো সবচেয়ে বড় আঘাত সেইজন্য বাবা বলেন - কাম মহাশত্রু।
বিকারকেই অপবিত্রতা বলা হয়। বলে যে, বাবা আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করো। ভারতেই
সম্পূর্ণ নির্বিকারীরা ছিল, তাই না! ভারতই নির্বিকারী ছিল। এখন ভারত বিকারী।
সম্পূর্ণ নির্বিকারী, সূর্যবংশীয়দের বলা হবে। যদিও রামচন্দ্রের রাজ্যতেও বিকার থাকে
না। কিন্তু কলা তো হ্রাস পায়, তাই না! ১২৫০ বছর কমে গেছে তখন সেই দুনিয়ার শক্তিও
হ্রাস পেয়ে যায়, তাই না! সেইজন্য তাদের সতোপ্রধান, তারপর সতঃ বলা হয়। তোমরা চাও যে
আমরা মাম্মা-বাবাকে ফলো করে সূর্যবংশীয় মহারাজা-মহারানী হব। এতে কষ্ট বা খরচাদির
কোনো কথাই নেই। এখানে মুখে কিছু বলাও উচিত নয়। কেবল স্মরণ করতে হবে, একেই সহজযোগ
বলা হয়, এতেই অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হয়। বাবার সামনে তো সকলেই মহারথী। এরজন্য
সম্পূর্ণ যোগ চাই তবেই তো তীর লক্ষ্যভেদ করবে। এ হলো যোগবল, তাই না! যোগ অত্যন্ত কম।
যোগে অনেক বিঘ্নও ঘটে। অসীম জগতের বাবা মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের বসে বোঝান। বাবার
প্রতি বা পড়াশোনার প্রতি কখনো রুষ্ট হয়ো না। যদি রুষ্ট হও তবে জানবে ২১ জন্মের
ভাগ্যের উপরেই রুষ্ট হয়েছো। অনেক বড়-বড় বাচ্চারাও রুষ্ট হয়ে যায়। দেহ-অভিমানের নেশা
চড়ে যায়। আমি এতজনকে বুঝিয়েছি। দেহ-অহংকার আসার কারণেই পতন হয়। এতে অহংকার আসা উচিত
নয়। শিববাবার কোনো অহংকার আছে কি ? কত নিরহংকারী, আর কত বড় অথরিটি। তিনি বলেনও -
আমি সাধারণ শরীরে আসি, সাধারণ ঘরে আসি। ধনবানের ঘরে আসে নাকি, না আসি না! তাহলে এখন
বাচ্চাদের জাগিয়ে তুলতে হবে। বাবা অনেক ভালো-ভালো যুক্তি বলে থাকেন। বাচ্চারা,
তোমরাই দেরী করো। ড্রামা অনুসারে সেই অবস্থায় আসার শক্তি এখনো আসে নি। ভবিষ্যতে
শক্তি হবে। আমরা গভর্নমেন্টকে জানাই যে এত-এত বছরে স্বর্গের স্থাপনা হয়ে যাবে।
সংবাদপত্রাদিতে মানুষ পড়বে তখন এসে তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে। অল্পকিছু বছরের মধ্যেই
স্থাপনা হবে তখন বিনাশও অবশ্যই হবে। অগণিত আসবে। এই প্রপার্টি (স্থূলসম্পদ) ইত্যাদি
অল্পসময়ের জন্য। এই প্রপার্টিকে কি তোমরা কোনো প্রপার্টি মনে করো নাকি! না করো না।
তোমরা জানো যে, এ হলো অল্পদিনের জন্য। এই বাড়ি-ঘর ইত্যাদি বসবাসের জন্য নির্মাণ করা
হয়েছে কারণ মধুবনে অনেক বাচ্চারা আসে রিফ্রেশ হওয়ার জন্য। হেড অফিস মধুবন। আজ তোমরা
কি করেছো, কাল কি করবে। এখানে তপস্যা করো পুনরায় দিল্লী, বৃন্দাবনাদিতে গিয়ে রাজ্য
করবে। আমাদের স্মারকচিহ্ন কিভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এ'সকল ভালভাবে দেখাতে হবে। যে কাজ
আমরা এখন করছি - ৫ হাজার বছর পূর্বেও করেছি। সর্বপ্রথমে শিবের মন্দির তৈরী হয়। এছাড়া
দিলওয়াড়া মন্দির তো পরে তৈরী হয়েছে। বুদ্ধির দ্বারা কার্য সম্পন্ন করতে হবে।
দিলওয়াড়া মন্দিরের হিসেবও যদি বের করা যায় তো বের করা যেতেই পারে। এ'সব পুরোপুরিই
আমাদের স্মারকচিহ্ন। তোমরা জানো যে, এ হলো স্থাপনার স্মারকচিহ্ন। মিষ্টি-মিষ্টি
বাচ্চারা, তোমাদের অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত। সেবা বৃদ্ধির জন্য এইসমস্ত যুক্তি বের
করতে হবে। রাম চলে গেছে, রাবণ চলে গেছে... যাদের বহু পরিবার রয়েছে। রাবণের দেখো কত
বড় পরিবার। রামের কত ছোট পরিবার, গায়নও সঠিক করা হয়েছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারে না।
বাবা বসে বোঝান তথাপি নিশ্চয় বসে না। শরীর নির্বাহের জন্য তোমাদের কর্মও অবশ্যই করতে
হবে। হ্যাঁ যারা সার্ভিসেবেল বাচ্চা - পান্ডব, তারা তো গভর্নমেন্টের থেকে পালনা নিতে
পারে। তাদের সমস্ত কিছুর দেখভাল আমাদের করতে হবে। বাচ্চাদের অবস্থা এমন হওয়া উচিত,
বাবার স্মরণে মাধ্যমে এই দুনিয়ার সবকিছু ভুলিয়ে দিতে হবে। স্মরণের যাত্রায় যে
পাকাপাকিভাবে নিমগ্ন থাকবে তার অবস্থাও অত্যন্ত পাকাপোক্ত হবে। যেন শিববাবার স্মরণে
থেকে তোমরা শরীর ত্যাগ করো। সন্ন্যাসীরা ব্রহ্মের স্মরণে শরীর পরিত্যাগ করে তখনও
বায়ুমন্ডলে সম্পূর্ণ শান্তি ছেয়ে যায়। বাবার অনুভব আছে। মানুষ মারা গেলে ঘরে
নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায়, তাই না! এখানেও এমনই হয়। পরে যেমন সবকিছু ভুলে যায়। এখন ঘরে
ফিরে যেতে হবে। দেহ-অভিমান দূর হতে থাকে। পরে শরীর খুশীতে পরিত্যাগ করা উচিত,
প্রফুল্লিত বদন। আমরা কোথায় যাচ্ছি, এরকম অবস্থা যখন হবে তখন বিজয়মালায় গাঁথার
যোগ্য হবে। তোমাদের মধ্যে শান্তি স্রোত(কারেন্ট) রয়েছে। কেউ এলে তখন বলে যে - এখানে
শান্তি অনেক। এ হলো প্রকৃত শান্তি। আত্মা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। তোমরা জানো -
আমরা অর্থাৎ আত্মারা হলাম শান্ত-স্বরূপ। আমরা আমাদের স্বধর্মে বসে পড়ি। কর্ম ব্যতীত
তো কোনো মানুষ থাকতে পারে না। ওইসমস্ত মানুষেরা হঠযোগের মাধ্যমে কি না করে থাকে !
এখন তোমরা বোঝ যে আমাদের স্বধর্মই হলো শান্তি। এখানে আমরা এসেছি নিজের পার্ট প্লে
পালন করতে। এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো আর ঘরকেও স্মরণ করো।
বাবাকে স্মরণ করলে উত্তরাধিকার লাভ হবে। বাবা বলেন - ঘরে আমাকেই স্মরণ করো। এখানে
তো আমি টেম্পরারিলি আসি। তোমাদের বুদ্ধি শান্তিধামে টিকে থাকা উচিত - বাবার স্মরণে।
ঘরের উত্তরাধিকারও তো নিতে হবে, তাই না! ও'টা হলো আত্মাদের ঘর। এ'টা হলো
জীবাত্মাদের ঘর। নিজের ঘরকে ভুলে যেও না। বাবাকেও ভুলে যেও না। বাবাকে স্মরণ করলেই
তোমরা পবিত্র হয়ে ঘরে চলে যাবে। জ্ঞানকে ধারণ করলেই পুনরায় রাজত্ব করতে আসবে নতুন
দুনিয়ায়। যতটা পারবে অন্যদের রাস্তা বলে দিতে থাকো। সর্বদা বাবাকে দেখো। তোমরা জানো
যে বাবা কি করেছেন! সবকিছু মাতাদের দান করে দিয়েছেন। উনিই ডায়রেক্শন দিয়েছেন যে
সবকিছু মাতাদের সেবায় ব্যবহার কর। একজনকে দেখে অন্যে ফলো করেছে। স্বাহা অর্থাৎ
সমর্পিত হয়ে গেছে। কিন্তু পরে টিকে থাকতেও তো হবে, তাই না! ড্রামানুসারে ভাট্টীও
হতো। পাকিস্তান -- হিন্দুস্থান হয়। তোমাদের ভাট্টী প্রথমে শুরুই হয় পাকিস্থানে।
তোমরা নদী ক্রশ করেছো - শাস্ত্রে তো কি-কি কথা লিখে রেখেছে। প্র্যাকটিক্যালি তো
তোমরা এখন শোনো, তাই না! পুনরায় পরবর্তী কল্পেও তোমরাই শুনবে। এখন বাবা বলেন -
হিয়ার নো ইভিল, কাজ-কর্ম অবশ্যই কর কিন্তু হিয়ার নো ইভিল। বাবা বলেন - প্রতিটি বিষয়ে
শ্রীমৎ গ্রহণ করো। বাবা এই অবস্থায় আমরা কি করবো তখন বাবা সব বলে দেবেন। কোনো কথা
জিজ্ঞাসা করতে হলে তখন বাবার কাছে চলে এসো। তোমরা ভয় পাও কেন! প্রতিটি পদক্ষেপে
জিজ্ঞাসা করতে হবে। শ্রীমতানুসারে চললে প্রতি পদক্ষেপে পদমগুণ প্রাপ্তি। সেকেন্ড
বাই সেকেন্ডে যাকিছু তোমাদের অতিবাহিত হয়ে যায় তারমধ্যেই পদমগুণ রয়েছে। তাহলে কত
উপার্জন হচ্ছে ! আচ্ছা!
মিষ্টি-মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত।
আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
বিজয়মালায় গাঁথা হওয়ার জন্য এই শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পুরোপুরি পুরুষার্থ করতে হবে।
দেহ-অভিমান পরিত্যাগ করে ফেলতে হবে। বুদ্ধি থেকে এই দুনিয়াকে ভুলে যেতে হবে।
২ ) অতিরিক্ত
ধন-সম্পদের লালসার দিকে যাওয়া উচিত নয়। বাবার স্মরণ ব্যতীত অন্য কোনো চিন্তা যেন
না থাকে। কখনো বাবার প্রতি বা পড়ার প্রতি রুষ্ট হবে না।
বরদান:-
মালিকভাবের স্মৃতির দ্বারা হাইয়েস্ট অথরিটির অনুভবকারী কম্বাইন্ড স্বরূপধারী ভব
প্রথমে নিজের শরীর আর
আত্মার কম্বাইন্ড রূপকে স্মৃতিতে রাখো। শরীর হল রচনা, আত্মা হল রচয়িতা। এর দ্বারা
মালিক ভাব স্বতঃই স্মৃতিতে থাকবে। মালিকভাবের স্মৃতির দ্বারা নিজেকে হাইয়েস্ট অথরিটি
অনুভব করবে। শরীরের পরিচালক হয়ে উঠবে। দ্বিতীয়তঃ বাবা আর বাচ্চার (শিবশক্তির)
কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতির দ্বারা মায়ার বিঘ্নগুলিকে অথোরিটির সাথে অতিক্রম করে
নিতে পারবে।
স্লোগান:-
বিস্তারকে সেকেন্ডে সমাহিত করে জ্ঞানের সারের অনুভব করো আর করাও।
অব্যক্ত ঈশারা :-
জ্বালাস্বরূপ স্থিতিতে থেকে শক্তিশালী স্মরণের অনুভব করো
পাপ কাটেশ্বর বা পাপ
হরণকারী তখন হতে পারবে যখন স্মরণ জ্বালা স্বরূপ হবে। এই স্মরণের দ্বারা অনেক
আত্মাদের নির্বলতা দূর হবে, এর জন্য প্রত্যেক সেকেন্ড, প্রত্যেক শ্বাস বাবা আর তোমরা
কম্বাইন্ড হয়ে থাকো। কোনও সময় যেন সাধারণ স্মরণ না হয়। স্নেহ আর শক্তি দুটি রূপ যেন
কম্বাইন্ড হয়।