15.01.2026
প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন
"মিষ্টি বাচ্চারা -
তোমাদের মুখ থেকে কখনোই 'হে ঈশ্বর, হে বাবা' এই শব্দ বের হওয়া উচিত নয়, এ হলো
ভক্তিমার্গের অভ্যাস"
প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা,
তোমরা সাদা ড্রেস কেন পছন্দ করো? এটা কিসের প্রতীক?
উত্তরঃ
এখন তোমরা এই
পুরানো দুনিয়ায় বেঁচে থেকেও মরে গেছো, তাই তোমাদের সাদা ড্রেস পছন্দ । এই সাদা
ড্রেস মৃত্যুকে সিদ্ধ (প্রমাণিত) করে । কেউ যখন মারা যায়, তখনও সাদা কাপড় দেওয়া
হয়, তোমরা বাচ্চারও এখন মরজীবা হয়েছো ।
ওম্ শান্তি ।
আত্মাদের পিতা
বসে তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের বোঝান, আত্মিক শব্দটি না বলে কেবল বাবা বললেও ঠিক আছে
। বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝান । সবাই তো নিজেদের ভাই - ভাই তো বলেই । তাই বাবা বসে
বাচ্চাদের বোঝান । সবাইকে তো তিনি আর বোঝাবেন না । সবাই তো নিজেদের ভাই - ভাই'ই বলে
থাকে । গীতাতে লেখা আছে - ভগবান উবাচঃ । এখন ভগবান উবাচঃ কার প্রতি? সব বাচ্চারাই
হলো ভগবানের । তিনি হলেন বাবা, তাই তাঁর বাচ্চারা সকলেই ভাই - ভাই । ভগবানই
বুঝিয়েছিলেন, রাজযোগ শিখিয়েছিলেন । এখন তোমাদের বুদ্ধির তালা খোলা আছে । দুনিয়াতে
আর কারোরই এই খেয়াল চলতে পারে না । যারা যারা এই খবর পাবে, তারা স্কুলে আসতে থাকবে,
পড়তে থাকবে । তারা মনে করবে - প্রদর্শনী তো দেখেছি, এবার গিয়ে কিছু শুনবো ।
সর্বপ্রথম মুখ্য কথা হলো - জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন, গীতা জ্ঞান দাতা শিব ভগবান
উবাচঃ, সর্ব প্রথমে ওরা এ যেন জানতে পারে যে, এদের যিনি শেখান অথবা বোঝান তিনি কে?
ওই সুপ্রীম সোল, জ্ঞানের সাগর হলেন নিরাকার । তিনি তো হলেনই সত্য । সত্য তিনি, তো
সত্যই বলবেন । এরপর এতে আর কোনো প্রশ্ন উঠতেই পারে না । সবার প্রথমে তো এর উপর
বোঝাতে হবে যে, আমাদের পরমপিতা পরমাত্মা, ব্রহ্মার দ্বারা রাজযোগ শেখান । এ হলো
রাজার পদ । যার এটা নিশ্চিত হয়ে যাবে যে, যিনি সকলের বাবা, সেই পারলৌকিক বাবা বসে
বোঝান, তিনিই সবথেকে বড় অথরিটি, তখন দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন উঠতেই পারে না । তিনিই
হলেন পতিত পাবন, তাই যখন তিনি এখানে আসেন, তখন নিশ্চয়ই নিজের সময় মতই আসবেন । তোমরা
দেখোও যে - এ হলো সেই মহাভারতের লড়াই । বিনাশের পরে আবার নির্বিকারী দুনিয়া হতে হবে
। এ হলো বিকারী দুনিয়া । একথা মানুষ জানে না যে, এই ভারতেই নির্বিকারী দুনিয়া ছিলো
। কিছুই বুদ্ধিতে নেই । গডরেজের তালা লেগে গেছে । তার চাবি এক বাবার কাছেই আছে, তাই
তাঁকেই জ্ঞান দাতা, দিব্য চক্ষু বিধাতা বলা হয় । তিনি জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন দান করেন
। এ'কথা কেউই জানে না যে, তোমাদের কে পড়ান । তারা মনে করে এই দাদা (ব্রহ্মা বাবা)
পড়ান, তখনই টিকা টিপ্পনী করা শুরু হয় । তাই সবার প্রথমে এই কথাই বুঝিয়ে বলো । এতে
লেখাও আছে - শিব ভগবান উবাচঃ । তিনি তো হলেনই সত্য।
বাবা বোঝান, আমি হলাম
পতিত - পাবন শিব । আমি পরমধাম থেকে এসেছি এই শালগ্রামদের পড়াতে । বাবা হলেনই
নলেজফুল । তিনি এই সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের রহস্য বুঝিয়ে বলেন । তোমরা অসীম
জগতের পিতার কাছ থেকে এখন এই শিক্ষা পাচ্ছো । তিনিই হলেন সৃষ্টির রচয়িতা। তিনিই এই
পতিত সৃষ্টিকে পবিত্র করেন । মানুষ ডাকতেও থাকে যে - হে পতিত - পাবন এসো, তাই সবার
প্রথমে তাঁর পরিচয়ই দিতে হবে । ওই পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে তোমাদের কি সম্বন্ধ ?
তিনি হলেনই সত্য । তিনি নর থেকে নারায়ণ হওয়ার সত্য জ্ঞান দান করেন । বাচ্চারা জানে
যে, বাবা হলেন সত্য, বাবাই সত্যখণ্ড তৈরী করেন । তোমরা নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য
এখানে আসো । ব্যরিস্টারের কাছে গেলে মনে করবে, আমরা এখানে ব্যারিস্টার হতে এসেছি ।
এখন তোমাদের এই নিশ্চয় আছে যে, আমাদের ভগবান পড়ান । কেউ কেউ এটা নিশ্চিত করে, আবার
সংশয় বুদ্ধির হয়ে যায়, তখন তাকে অন্য লোকেরা বলে - তুমি তো বলতে যে, ভগবান পড়ান,
তাহলে ভগবানকে ছেড়ে কেন চলে এসেছো? সংশয় এলেই ভাগন্তী হয়ে যায় । তখন কোনো না কোনো
বিকর্ম করে ফেলে । ভগবান উবাচঃ হলো - কাম মহাশত্রু, একে জয় করলেই তোমরা জগৎজিৎ হতে
পারবে । যারা পবিত্র হবে, তারাই পবিত্র দুনিয়াতে যেতে পারবে । এখানে হলো রাজযোগের
কথা । তোমরা ওখানে গিয়ে রাজত্ব করবে । বাকি যে আত্মারা আছে, তারা নিজের - নিজের
হিসেব - নিকেশ শোধ করে নিজের ঘরে ফিরে যাবে । এ হলো শেষ সময় । এখন বুদ্ধি বলে যে,
সত্যযুগের স্থাপনা অবশ্যই হবে । সত্যযুগকেই পবিত্র দুনিয়া বলা হয় । বাকি সবাই
মুক্তিধামে চলে যাবে । ওদের আবার নিজেদের পার্ট রিপিট করতে হবে । তোমরাও নিজের
পুরুষার্থ করতে থাকো পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হওয়ার জন্য । সবাই তো নিজেকে
মালিক মনে করবে, তাই না । ওখানে প্রজাও মালিক । এখন যেমন প্রজাও বলে - আমাদের ভারত
। অনেক বড় বড় মানুষ, এমনকি সন্ন্যাসীরাও বলে - আমাদের ভারত । তোমরা বুঝতে পারো যে,
এই সময় ভারতে সবাই নরকবাসী । এখন আমরা স্বর্গবাসী হওয়ার জন্য এই রাজযোগ শিখছি ।
সবাই তো আর স্বর্গবাসী হবে না । এই জ্ঞান তোমাদের এখন হয়েছে । ওরা যা শোনায়, তা হলো
শাস্ত্র । ওরা হলো শাস্ত্রের অথরিটি । বাবা বলেন যে, এই ভক্তিমার্গের বেদ শাস্ত্র
ইত্যাদি পড়ে সিঁড়ি নীচে নেমে আসে । এ সবই হলো ভক্তিমার্গ । বাবা বলেন, যখন
ভক্তিমার্গ সম্পূর্ণ হবে, তখনই আমি আসবো । আমাকে এসেই সকল ভক্তদের ভক্তির ফল প্রদান
করতে হয়। মেজরিটি তো হল ভক্তদেরই । সবাই তো ডাকতে থাকে - হে গড ফাদার । ভক্তদের
মুখ থেকে - ও গড ফাদার, হে ভগবান, অবশ্যই বের হবে । এখন ভক্তি আর জ্ঞানে তো তফাৎ আছে
। তোমাদের মুখ থেকে কখনোই হে ঈশ্বর, হে ভগবান, এই শব্দ গুলি বের হবে না । মানুষের
তো অর্ধেক কল্প ধরে এই অভ্যাস হয়ে গেছে । তোমরা জানো যে, তিনি তো আমাদের বাবা,
তোমাদের 'হে বাবা' বলতেই হবে না । বাবার থেকে তো তোমাদের উত্তরাধিকার নিতে হবে ।
প্রথমে তো একথা নিশ্চিত যে, আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । বাবা
বাচ্চাদের উত্তরাধিকারী করার অধিকারী করেন । তিনি তো প্রকৃত বাবা, তাই না । বাবা
জানেন - এরা আমার সন্তান, যাদের আমি জ্ঞান অমৃত পান করিয়ে, জ্ঞান চিতায় বসিয়ে ঘোর
নিদ্রা থেকে জাগিয়ে স্বর্গে নিয়ে যাই । বাবা বুঝিয়েছেন - আত্মারা ওখানে শান্তিধাম
আর সুখধামে থাকে । সুখধামকে নির্বিকারী দুনিয়া বলা হয় । দেবতারা তো সম্পূর্ণ
নির্বিকারী, তাই না । আর শান্তিধাম হলো সুইট হোম । তোমরা এখন জেনে গেছো যে, ওই
শান্তিধাম হলো আমাদের ঘর, আমরা অ্যক্টররা শান্তিধাম থেকে এখানে পার্ট প্লে করতে আসি
। আমরা আত্মারা এখানকার অধিবাসী নই । জাগতিক অ্যাক্টররা এখানকার অধিবাসী । তারা
কেবল ঘরে এসে পোশাক পরিবর্তন করে পার্ট প্লে করে । তোমরা তো বুঝতে পারো যে, আমাদের
ঘর হলো শান্তিধাম, ওখানে আমরা আবার ফিরে যাই । সমস্ত অ্যাক্টররা যখন স্টেজে এসে যাবে,
তখন বাবা এসে সবাইকে নিয়ে যাবেন, তাই তাঁকে উদ্ধারকর্তা বা গাইডও বলা হয় ।
দুঃখহর্তা - সুখকর্তা যখন আছেন, তখন এতো সব মানুষ কোথায় যাবে । তোমরা চিন্তা করে
দেখো - পতিত - পাবনকে ডাকা হয় । কি কারণে? নিজেদের মৃত্যুর জন্য, কারণ এই দুঃখের
দুনিয়ায় থাকতে চায় না, তাই বাবাকে বলে, ঘরে নিয়ে চলো । এরা সব মুক্তিকেই মানে ।
ভারতের প্রাচীন রাজযোগও কতো বিখ্যাত । মানুষ বিদেশেও যায় প্রাচীন রাজযোগ শেখাতে ।
বাস্তবে হঠযোগীরা তো রাজযোগ জানে না । তাদের যোগ হলো ভুল, তাই তোমাদের গিয়ে প্রকৃত
রাজযোগ শেখাতে হবে । মানুষ সন্ন্যাসীদের কৌপীন দেখে তাঁদের কতো সম্মান করে । বৌদ্ধ
ধর্মের সন্ন্যাসীদেরও তাঁদের কৌপীন দেখে সম্মান প্রদর্শন করে । সন্ন্যাসীরা তো পরে
আসেন । বৌদ্ধ ধর্মেও প্রথম দিকে কোনো সন্ন্যাসী ছিলেন না । বৌদ্ধ ধর্মেও যখন পাপ
বৃদ্ধি পায়, তখন সন্ন্যাস ধর্ম স্থাপন হয় । শুরুতে তো ওই আত্মা উপর থেকে আসে ।
তারপর তাঁর অনুসরণকারীরা আসে । শুরুতে সন্ন্যাস শিখিয়ে কি করবে ? সন্ন্যাস তো পরে
হয় । এও তারা এখান থেকেই কপি করে । খ্রীস্টানদের মধ্যেও অনেকেই আছে, যারা
সন্ন্যাসীদের সম্মান করে । গেরুয়া পোশাক হলো হঠযোগীদের । তোমাদের তো আর গৃহত্যাগ
করতে হবে না, না আছে তোমাদের সাদা কাপড়ের বন্ধন, কিন্তু সাদা খুবই ভালো । তোমরা
ভাট্টিতে থাকলে তোমাদের এই পোশাকই থাকবে । আজকাল সাদা পোশাক অনেকেই পছন্দ করে ।
মানুষ মারা গেলেও সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা দেওয়া হয় । তোমরাও এখন জীবন্মৃত হয়েছো, তাই
সাদা পোশাকই ভালো ।
তাই প্রথমে যে কোনো
কাউকে বাবার পরিচয় দান করতে হবে । বাবা দুইজন, একথা বুঝতে সময় নেয় । প্রদর্শনীতে
এতো বুঝতে পারবে না । সত্যযুগে থাকে একজন বাবা । এইসময় তোমাদের তিনজন বাবা, কেননা
ভগবান প্রজাপিতা ব্রহ্মার শরীরে আসেন, তিনিও তো সকলের বাবা । লৌকিক বাবাও আছে ।
আচ্ছা, এখন এই তিন বাবার থেকে বেশী উঁচু উত্তরাধিকার কার? নিরাকার বাবা কিভাবে
উত্তরাধিকার দেবেন । তিনি এই উত্তরাধিকার দেন ব্রহ্মার দ্বারা । এই চিত্রের উপর
তোমরা খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারো । শিববাবা হলেন নিরাকার, আর এই প্রজাপিতা ব্রহ্মা
হলেন আদিদেব, গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার । শিববাবা বলেন, আমাকে তোমরা গ্রেট গ্রেট
গ্র্যান্ড ফাদার বলবে না । আমি হলাম সকলের বাবা । ইনি হলেন প্রজাপিতা ব্রহ্মা ।
তোমরা হলে সবাই ভাই - বোন । যদিও স্ত্রী - পুরুষ, তবুও বুদ্ধির দ্বারা জানো আমরা
সবাই ভাই - বোন । আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । ভাই - বোন নিজেদের মধ্যে
দোষ - দৃষ্টি রাখতে পারে না । যদি দুইজনের মধ্যে বিকারী দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তখনই
নেমে যায় । বাবাকেও ভুলে যায় । বাবা বলেন - তোমরা আমার সন্তান হয়ে আবার মুখে
কালিমা লিপ্ত করে ফেলো। অসীম জগতের বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝান । তোমাদের এই নেশা চড়ে
আছে । তোমরা জানো যে, আমাদের গৃহস্থ জীবনেও থাকতে হবে । লৌকিক সম্বন্ধীদেরও কর্তব্য
পালন করতে হবে নির্লিপ্ত, নিমিত্ত হয়ে । লৌকিক বাবাকে তো তোমরা বাবাই বলবে, তাই না
। তাকে তো তোমরা ভাই বলতে পারো না । সাধারণ ভাবে তোমরা বাবাকে তো বাবাই বলবে ।
তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, ইনি আমাদের লৌকিক বাবা । জ্ঞান তো আছে, তাই না । এই জ্ঞান
বড় বিচিত্র । আজকাল তো বাবার নামও নিয়ে নেয়, কিন্তু ভিজিটর ইত্যাদি বাইরের লোকের
সামনে ভাই বলে দিলে তারা মনে করবে এর মাথা খারাপ হয়ে গেছে । এতে অনেক বড় বুদ্ধির
প্রয়োজন । তোমাদের জ্ঞান হলো গুপ্ত । তোমাদের সম্বন্ধও গুপ্ত । এতে অনেক বুদ্ধির
সাথে চলতে হবে, কিন্তু একে অপরকে রিগার্ড দেওয়া খুব প্রয়োজন । লৌকিক জীবনে
ডিট্যাচ হয়ে সম্বন্ধে কর্তব্য পালন করতে হবে বুদ্ধির দ্বারা । আমরা বাবার থেকে
উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি । বাকি কাকাকে কাকা আর বাবাকে বাবাই বলতে হবে । যারা বি.কে
হয় নি, তারা এই ভাই - বোন বুঝতে পারবে না । যারা ব্রহ্মাকুমার - কুমারী হয়েছে,
তারাই এই কথা বুঝতে পারবে । বাইরের লোকেরা তো প্রথমে শুনে চমকে যাবে । এতে বোঝার মতো
তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়োজন । বাবা তোমাদের মতো বাচ্চাদের বিশাল বুদ্ধির বানান । তোমরা
প্রথমে জাগতিক বুদ্ধির ছিলে । এখন এই বুদ্ধি হয়েছে অসীম জগতের । ওই বাবা হলেন
আমাদের অসীম জগতের বাবা । এই সব আত্মারা আমাদের ভাই - বোন । বাকি সম্বন্ধতে তো বউকে
বউ, শাশুড়িকে শাশুড়িই বলবে, বোন তো আর বলবে না, তা সে দু'জনে একসঙ্গে এলেও । ঘরে
থেকেও খুব বুদ্ধির সাথে চলতে হবে । মানুষের কথাকেও ভাবতে হবে । না হলে ওরা বলবে এরা
পতিকে ভাই, শাশুড়িকে বোন বলে দেয়, এখানে কি শেখানো হয় ! এই জ্ঞানের কথা তো তোমরাই
জানো, আর কেউই জানে না । বলা হয় - তোমার গতি - মতি তুমিই জানো । এখন তোমরা যখন
তাঁর সন্তান হয়েছো, তখন তোমাদের গতি - মতিও তোমরাই জানো । তোমাদের খুব সাবধানে চলতে
হয় । কোথাও যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়ে যায় । তাই বাচ্চারা, প্রদর্শনীতেও তোমাদের
সবার প্রথমে এটাই বোঝাতে হবে যে, আমাদের ভগবান পড়ান । এখন বলো তিনি কে ? নিরাকার
শিব, নাকি শ্রীকৃষ্ণ । শিবজয়ন্তীর পরে কৃষ্ণজয়ন্তী আসে, কেননা বাবা রাজযোগ শেখান ।
বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই কথা এসেছে । যতক্ষণ শিব পরমাত্মা আসবেন না, ততক্ষণ শিবজয়ন্তী
পালন করা যায় না । যতক্ষণ শিব এসে কৃষ্ণপুরী স্থাপন না করছে, ততক্ষণ কৃষ্ণজয়ন্তীও
কি করে পালন করা যাবে? কৃষ্ণের জন্ম তো পালন করে কিন্তু বুঝতেই পারে না । কৃষ্ণ
প্রিন্স ছিলেন, তাহলে অবশ্যই সত্যযুগে প্রিন্স ছিলেন, তাই না । দেবী - দেবতাদের
রাজধানী থাকবে । কেবলমাত্র একজন কৃষ্ণ তো আর বাদশাহী পাবে না । অবশ্যই তো কৃষ্ণপুরী
থাকবে, তাই না । বলাও হয় ও হলো কৃষ্ণপুরী, আর এ হলো কংসপুরী । কংসপুরী শেষ হলেই
কৃষ্ণপুরী স্থাপন হবে, তাই না । এ ভারতেই হয় । নতুন দুনিয়াতে তো এই কংস আদি থাকতেই
পারে না । কলিযুগকে কংসপুরী বলা হয় । এখানে তো দেখো কতো মানুষ । সত্যযুগে অল্পই
থাকে । দেবতারা কোনো লড়াই করেন নি । কৃষ্ণপুরী বলো অথবা বিষ্ণুপুরীই বলো, দৈবী
সম্প্রদায়ই বলো অথবা আসুরী সম্প্রদায়, সব এখানেই । বাকি না দেবতাদের আর অসুরদের
লড়াই হয়েছিলো, আর না কৌরব - পাণ্ডবদের লড়াই হয়েছিলো । তোমরা রাবণকে জয় করো । বাবা
বলেন যে, তোমরা এই পাঁচ বিকারকে জয় করো, তাহলেই তোমরা জগৎজিৎ হয়ে যাবে, এতে কোনো
লড়াই করতে হবে না । লড়াইয়ের নাম করলে তো হিংসা হয়ে যাবে । রাবণকে জয় করতে হবে
কিন্তু তা অহিংসার সঙ্গে । কেবলমাত্র বাবাকে স্মরণ করলে আমাদের বিকর্ম বিনাশ হয় ।
এখানে লড়াই ইত্যাদির কোনো কথা নেই । বাবা বলেন যে, তোমরা তমোপ্রধান হয়ে গেছো, এখন
আবার তোমাদের সতোপ্রধান হতে হবে । ভারতের প্রাচীন রাজযোগ বিখ্যাত । বাবা বলেন যে,
তোমরা আমার সঙ্গে বুদ্ধির যোগ লাগাও, তাহলেই তোমাদের পাপ ভস্ম হবে । বাবা হলেন পতিত
-পাবন, তাঁর সঙ্গে বুদ্ধির যোগ লাগাতে হবে, তখনই তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে যাবে
। এখন প্রত্যক্ষ ভাবে তোমরা তাঁর সঙ্গে যোগ লাগাচ্ছো, এখানে লড়াইয়ের কোনো কথা নেই ।
যারা খুব ভালোভাবে পড়বে আর বাবার সঙ্গে যোগ লাগাবে, তারাই বাবার কাছ থেকে
উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে । আচ্ছা।
মিষ্টি - মিষ্টি
হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর ভালোবাসা এবং
সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন ।
ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ )
ভাই - ভাইয়ের দৃষ্টির অভ্যাস করে লৌকিক বন্ধন থেকে ডিটাচ হয়ে কর্তব্য পালন করতে হবে
। অনেক বুদ্ধি করে চলতে হবে । একদমই বিকারী দৃষ্টি হওয়া উচিত নয় । এই শেষ সময়
সম্পূর্ণ পবিত্র হতে হবে ।
২ ) বাবার থেকে
সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য খুব ভালোভাবে পড়তে হবে, আর পতিত - পাবন বাবার
সঙ্গে যোগযুক্ত হয়ে পবিত্র হতে হবে ।
বরদান:-
নিজের
সম্পূর্ণতার আধারে সময়কে নিকটে নিয়ে আসা মাস্টার রচয়িতা ভব
সময় হলো তোমাদের রচনা,
তোমরা হলে মাস্টার রচয়িতা। রচয়িতা রচনার আধারে হয় না। রচয়িতা রচনাকে অধীনস্থ করে
এইজন্য এটা কখনও চিন্তা করো না যে সময় নিজে থেকেই সম্পূর্ণ বানিয়ে দেবে। তোমাদেরকে
সম্পূর্ণ হয়ে সময়কে সমীপে নিয়ে আসতে হবে। সেভাবে, কোনও বিঘ্ন এলে তো সময় অনুসারে
অবশ্যই চলে যাবে কিন্তু সময়ের আগে পরিবর্তন শক্তি দ্বারা তাকে পরিবর্তন করে দাও -
তাহলে তার প্রাপ্তি তোমাদের হয়ে যাবে। সময়ের আধারে পরিবর্তন করলে, তার প্রাপ্তি
তোমাদের হবে না।
স্লোগান:-
কর্ম
আর যোগের ব্যালেন্স রাখাই হলো সত্যিকারের কর্মযোগী।
অব্যক্ত ঈশারা :- এই
অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো
যতক্ষণ
কর্মেন্দ্রিয়ের আধার আছে, ততক্ষণ কর্ম তো করতেই হবে, কিন্তু কর্ম বন্ধন নয়,
কর্ম-সম্বন্ধ। জীবন্মুক্ত অবস্থা অর্থাৎ সফলতাও বেশী আর কর্মের বোঝাও নেই। যারা
মুক্ত থাকে তারা সর্বদাই সফলতামূর্তি হয়। জীবন্মুক্ত আত্মা সদা দৃঢ়তার সাথে বলে যে
বিজয় নিশ্চিত, সফলতা হলো জন্মসিদ্ধ অধিকার।