18.05.2026 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - আমরা হলাম ঈশ্বরীয় ফ্যামিলির, এই আত্মিক নেশাতে থাকো, আমরা নিজেদের গুপ্ত দৈবী রাজধানী স্থাপন করছি"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চাদের মধ্যে কোন্ পাক্কা অভ্যাস থাকলে সারাদিন খুশীতে থাকবে?

উত্তরঃ  
যদি সকাল-সকাল উঠে বিচার সাগর মন্থন করার অভ্যাস থাকে, তবে সারাদিন অপার খুশীতে থাকবে। বাবার শ্রীমৎ হল বাচ্চারা, অমৃতবেলায় উঠে বাবার সাথে মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলো। ভাবো - আমরা এখন কোন্ ফ্যামিলির। আমাদের কর্তব্য কি, যদি বুদ্ধিতে থাকে যে এইটা হলো আমাদের ঈশ্বরীয় ফ্যামিলি, আমরা নিজেদের নূতন রাজধানী স্থাপন করছি তবে সারাদিন খুশী হয়ে থাকবে।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা জানে যে এটা হলো রুহানী পরিবার, বাকি সব হলো শারীরিক রূপে থাকা পরিবার। এ হলো আত্মিক রূপে থাকা পরিবার। এই পরিবার হলো আত্মাদের পিতার, যেমন লৌকিক ঘরে মা-বাবা, বাচ্চারা থাকে, ওটা হলো পার্থিব জগতের পরিবার। তোমরা এখন অসীম জগতের ফ্যামিলির হয়েছো। বাচ্চারা গানও করে তুমি মাতা-পিতা... তাই ফ্যামিলি হয়ে গেলো, তাই না ! ক্রিয়েটারের ক্রিয়েশন হয়ে দাঁড়ালো। যদিও বাচ্চারা হলো তাঁর ক্রিয়েশন, কিন্তু জানে না তারা। বাচ্চারা, তোমরা এখন জানো, অবশ্যই এই ফ্যামিলি হলো অসীম জগতের পিতার। ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর জন্য গাওয়া হয়েছে বিনাশ কালে প্রীত বুদ্ধি বিজয়ন্তী। এইরকম ফ্যামিলির কথা কখনো গীতাতে বলা হয়নি। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী, গুপ্ত দৈবী রাজধানী স্থাপন করছো তোমরা। কেউই জানতে পারে না। তোমাদের নেশা আছে, যারা-যারা বাবাকে স্মরণ করবে, তাদের নেশা থাকবে। দেহ-অভিমানে থাকার জন্য সেই নেশা নেমে যাবে। এ হলো ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী। আমাদের বাড়ী ফিরে যেতে হবে, তারপর দৈবী রাজধানীতে আসবো। সেখানে হলো দৈবী ফ্যামিলি। সেটা হলো আসুরিক ফ্যামিলি, এ হলো তোমাদের ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী। আত্মা রূপী বাপদাদার বাচ্চারা হলো ভাই- বোন। ব্যস্ ! এ হলো আত্মিক (রুহানী) প্রবৃত্তি মার্গ। সত্যযুগে ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী বলা হবে না। সেখানে দৈবী ফ্যামিলী হয়ে যায়। এই ঈশ্বরীয় ফ্যামিলি হলো খুবই জবরদস্ত অর্থাৎ তীব্র। তোমরা জানো যে এখন আমরা ঈশ্বরীয় ফ্যামিলী, দৈবী রাজ্য স্থাপন করছি। এমন এমন ভাবে বিচার সাগর মন্থন করা উচিত। সকালে উঠে স্মরণ করতে বসলে তখন বিচার সাগর মন্থন করার অভ্যাস হয়ে যাবে। উৎসাহ পাবে। যখন আর সব মানুষ নিদ্রায় শায়িত থাকবে, তোমরা সেই সময় জেগে থাকো। তোমাদের সকাল-সকাল উঠে এই ধরনের চিন্তা করা উচিত- তারপর দেখো তোমাদের মধ্যে কতো খুশী থাকবে। যে শ্রীমৎ প্রাপ্ত হয় সেই অনুযায়ী চলতে হবে, তারপর তোমাদের মধ্যে অনেক খুশীর সঞ্চার হবে । ঈশ্বরীয় ফ্যামিলীর স্মরণ হবে। আসুরিক ফ্যামিলির থেকে মন সরে যাবে। নূতন বাড়ী যখন একদম তৈরী হয়ে যায় তখন আবার পুরানোর থেকে আসক্তি চলে যায়। যতক্ষণ না নূতন তৈরী হয় ততক্ষণ কিছু না কিছু মেরামত বা প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি করতে থাকে। তারপর মন সরে যায়। এই পুরানো দুনিয়াও হলো এইরকম।

এখন তোমরা জানো যে এটা হলো পুরানো বাড়ী, আমরা নতুন বাড়ীতে যাবো। আবার নতুন পোশাক পড়বো। এই দেহও হলো পুরানো। এখন তোমরা ভবিষ্যতের ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য গ্রহণ করছো। এখানে রাজত্ব করতে হবে না। এখানে হয় স্থাপনা। এই কথা শুধুমাত্র তোমরাই জানো। এ হল গীতা, রাজযোগ ! বলা হয়ে থাকে সহজ রাজযোগ। অনেক বার তোমরা এই রাজযোগের অভ্যাসের দ্বারা দৈবী রাজ্য স্থাপন করেছো। সেখানে এই কথা মনে থাকবে না। যদি সেইখানে এই কথা স্মরণে থাকে তবে আবার সুখই বিদ্যমান থাকবে না। চিন্তা হবে। এই সময় তোমাদের গুপ্ত নেশা আছে। উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ বাবার এই ফ্যামিলি। এইটাকে বলা হয় ঈশ্বরীয় গুপ্ত ফ্যামিলি টাইপ। ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়, ঈশ্বরীয় যজ্ঞও বলে। এটা হল ফ্যামিলি, তাই আমাদের খুবই লাভলী হতে হবে। ভবিষ্যতে তোমরা খুবই লাভলী হবে। তোমরা হলে রূপ-বসন্ত। আত্মা রূপও হয়, বসন্তও হয়। এতটুকু ছোট্ট আত্মা অবিনাশী পার্ট প্লে করে। এই সময় তোমরা হলে রূপ - বসন্ত। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর। জ্ঞান অবশ্যই প্রদান করবেন যখন এই শরীরে আসবেন। তোমরা জানো যে- জ্ঞানের বর্ষা হয় । এক-একটি রত্ন হলো লক্ষ টাকার। এখন তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের বাবার পরিচয় প্রাপ্ত হয়েছে। বাবা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে- এই ৮৪ জন্মের চক্র কি করে আবর্তিত হয়-এইজন্য তোমাদের নামই হলো- স্বদর্শন চক্রধারী। বিষ্ণু বা লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বদর্শন চক্রধারী ছিলেন না, ওঁনাদের মধ্যে এই জ্ঞান থাকে না। এখন আত্মার এই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। সৃষ্টির চক্র কীভাবে আবর্তিত হয়। যদিও ত্রিমূর্তি বলে, তবুও শিব দেখানো হয় না। ত্রিমূর্তির চিত্র অনেক দেখে থাকবে। সাকার প্রজাপিতা তো এখানে আছেন যে না! এইটা হয়ে গেলো অনেক পুরানো, গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার। তাই এটা হলো প্রজাপিতা ব্রহ্মার বংশলতিকা। বাবা সৃষ্টি রচনা করেন প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা। তো ব্রহ্মা বড় হলেন যে না! দেখানোও হয় বৃদ্ধ। ইনি ৮৪ জন্মের চক্রকে আবর্তন করেছেন। এখন তোমরা এই কথাটা বুঝে গিয়েছো। এও জানো যে সবাই তো হলো বাবার সন্তান । আত্মাদের বাবার পরিচয় জানাতে হবে। এখন ভারতের অনেক বড় কল্যাণ হচ্ছে। সমস্ত আত্মারা পবিত্র হয়ে মুক্তিধামে চলে যাবে। তোমরা তো হলেই ভারতের সেবার জন্য। প্রধানত ভারত তথা দুনিয়া। তোমরা এখন খুব কম সংখ্যক এই কথাটা বুঝতে পারো তবুও সংক্ষেপে বোঝানো হয়, বাচ্চারা মন্মনাভব। আলাদা করেও বোঝানো হয়, যা কিছু আছে দৈবী রাজধানী স্থাপন করতে নিয়োগ করো। বাপু গান্ধী কি করতেন ! তিনিও রামরাজ্য চাইতেন। কেমন ওয়ান্ডারফুল খেলা না! এখন তোমরা সাক্ষী হয়ে খেলা দেখো। তোমাদের হাসি পায় । কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে যায়।

বাবা বলেন, ড্রামা অনুসারে দুনিয়ার গতিবিধি খারাপ হয়ে গিয়েছে, আবার বাবা এসে সদ্গতি করেন। বাচ্চারা, তোমাদের নেশা চড়েছে। ইনি হলেন সমগ্র ওয়ার্ল্ডের নিরাকার বাপু জী। এই ব্রহ্মাও কার সন্তান? শিববাবার। তিনি কার সন্তান? এই মাতারা বলে - শিববাবা আমাদের বাচ্চা। এ হলো শিববাবার খেলা-ধূলা। এছাড়া ধ্যান - সাক্ষাৎকারে তো মায়ার খুবই অনুপ্রবেশ ঘটে। কেউ আবার এও বলে আমার মধ্যে শিববাবা আসে। শিববাবা এখানে বলেন। এই সব হলো ভূতের অনুপ্রবেশ। বাচ্চারা, তোমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই ভূতের রোগ এমন যে দুই জাহান থেকেই উড়িয়ে দেয়। এই ভাবনা কখনোই আসা উচিত নয় যে আমি সাক্ষাৎকার করবো। এই সব ভাবনা হলো ভক্তির। জ্ঞান মার্গকে ভালো ভাবে বুঝতে হবে। মায়া অনেক রকম ভাবে ধোঁকা দেয়। সাক্ষাৎকার ইত্যাদিতে কোনো লাভ নেই। বাবা বলেন, এনার দ্বারা বিবাহের পাকা কথা হয়। বাবার আদেশ হলো - তোমাদের কোনও দেহধারীকেই স্মরণ করতে নেই। তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। নিজেদের কল্যাণের জন্য বাবাকে স্মরণ করতে হবে। এটা খুবই বোঝার ব্যাপার। বাবাকে যে কোনো সংবাদই লিখতে পারো। কোনো বাচ্চার তো এতটাও বুদ্ধি নেই যে অসীম জগতের পিতাকে চিঠিতে নিজের ভালো মন্দের সংবাদ লিখবে। লৌকিক বাবাকে তো যতক্ষণ পর্যন্ত না চিঠি লেখে সন্তান ততক্ষণ পর্যন্ত অস্থির থাকে । ইনিও অসীম জগতের বাবা। মাস দেড়েক চিঠি না এলে তো বোঝা যায়, একে হয়তো মায়া গ্রাস করেছে, যারা এইরকম পারলৌকিক বাবাকে চিঠি লেখে না। এইটুকু তো লেখা উচিত - বাবা, আমি সবসময় নারায়ণী নেশাতে থাকি। আপনার দেওয়া যুক্তির সাথেই আমি তৎপর থাকি। তখন বাবা বুঝবেন খুশীতে - উদ্দীপনায় আছে। চিঠি না লিখলে ভাববে অসুখ করেছে। স্মরণের মধ্যেই থাকে না। না হলে বাবাকে সংবাদ দিতে হবে, বাবা আমি এই সার্ভিস করেছি, একে বুঝিয়েছি, এর বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ ভাবে বসেনি। তখন আবার এইটাও বোঝাবেন যে এই ভাবে বোঝাও।

ভক্তি মার্গে যা কিছু বলে, কিছুই বোঝা যায় না। মুখ্য ব্যাপার - বাবাকেই জানে না। বাবাকে জানলে ভারত সদ্গতি প্রাপ্ত করবে। বাবাকে না জানার জন্য ভারত একদমই দুর্গতির কবলে পড়ে। বাচ্চারা, এখন বাবা তোমাদের বোঝান- আমি তোমাদের সদ্গতিতে নিয়ে যাবো, এছাড়া সবাইকে মুক্তিতে নিয়ে যাবো। ভারত জীবন মুক্তিতে থাকলে তবে বাকি সব মুক্তিতে থাকে। এই চেঞ্জ বাবা ব্যাতীত আর কেউ করতে পারে না। সকলের সদ্গতি দাতা হলেন একমাত্র বাবা। সকলের সদ্গতি অবশ্যই কল্প-কল্প সঙ্গমেই হবে।

তোমারা জানো যে আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের আত্মা রূপী (রুহানী) পিতা একই। ওঁনাকে আত্মাই স্মরণ করে। ভক্তি মার্গে তোমাদের দুইজন বাবা থাকে। সত্যযুগে হলো এক বাবা। সঙ্গমে হলো ৩ বাবা। প্রজাপিতা ব্রহ্মাও তো বাবাই হলেন। শিবও বাবা। তিনি হলেন সকল আত্মাদের পিতা, ওঁনার থেকেই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। ওঁনাকে স্মরণ করলেই বিকর্ম বিনাশ হবে। ব্রহ্মাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে না, সেইজন্য শিববাবাকেই স্মরণ করতে হবে। আমরা ওনার হয়েছি, এ হলো সত্যি-সত্যি রয়্যাল জ্ঞান, রুহানী বা আত্মাদের পিতার আত্মা রূপী বাচ্চাদের প্রতি। এছাড়া সব হলো দেহ-অভিমানী। দেহ-অভিমানী পতিত মানুষ যে কর্তব্য করে সেইটা পতিতই করে। দান-পূণ্য ইত্যাদি যা কিছুই করে, সেই সব পতিতই করে তোলে। রাবণ রাজ্যে এইটা হয়েই থাকে। এখন বাবা এসে অর্ডিন্যান্স (আদেশনামা) বের করেন। বলে- বাচ্চারা খবরদার, বিকারে যেও না, কামনার উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে। ঝড়-ঝাপটা তো অনেকই আসবে। এতে হতভম্ব হতে নেই। মায়ার এতো বিকল্প আসবে যে অজ্ঞান কালেও হয়তো আসেনি, এইরকমও বিকল্প আসে। বলে- ভক্তি মার্গে তো খুবই খুশী থাকে, এখন তোমাকে স্মরণ করা উচিত কিন্তু করতে পারছি না, বিন্দু স্মরণে আসে না। বড় কিছু হলে তবে স্মরণ করা সহজ হয়। বাবা বলেন, তোমরা শিববাবা বলে স্মরণ করো, এই পুরানো দুনিয়াকে ভুলে যাও। তোমরা শান্তিধামে স্মরণ করো। শান্তিধামকে স্মরণ করলে হবে না, বাবার স্মরণেই বিকর্ম বিনাশ হবে। আত্মার সুইট বাবার সাথে লভ চাই। অর্ধকল্পের লভার। আত্মা বলে, আমরা অর্ধ-কল্প আপনাকে ভুলে গিয়েছিলাম। এখানে ব্রাহ্মণীরা যাদের নিয়ে আসে, খুবই সতর্কতার সাথে নিশ্চয় বুদ্ধি (দৃঢ় বিশ্বাসীদেরই) আছে যাদের, তাদেরকেই নিয়ে আসতে হবে। যদি এখানে এসে আবার চলে গিয়ে কেউ পতিত হয়, তখন দন্ড ব্রাহ্মণীর উপরে এসে যাবে। এইজন্য ব্রাহ্মণীদের উপর অনেক রেসপন্সিবিলিটি (দায়িত্ব) থাকে। বাবা এই রথ নিয়েছেন। সব কথার অনুভাবী ইনি। এখানে তো নোংরা কোনো কিছুর স্থান নেই। নিজেদের মধ্যে হাসি খেলা, বার্তালাপ করা এই সবের কোনো নিষেধ নেই। তাছাড়া এতটুকুও যদি কোনো আত্মার সাথে প্রীতি থাকে তবে তো আবার সেটাই বেশী বাড়তে থাকবে। তার কথা মনে আসতে থাকবে, সেইজন্য এর থেকেও ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। এখন তোমরা বাড়ীতে বসে আছো না কি সত্যযুগে বসে আছো? (বাড়ীতে) বাবা বাচ্চাদের বাড়ীতেই পড়ান। এই বাড়ী হলো তোমাদের সকলের। যখন বাইরে যাবে তখন এইরকম বলবে না। এখানে খুবই সুন্দর নেশা থাকবে। দেহের অভিমান ত্যাগ করতে হবে। দেহী-অভিমানী হলে জাত-পাতের ভেদাভেদ সব দূর হয়ে যাবে। পুরানো দুনিয়া হলো তমোপ্রধান, সেইখানে ভেদাভেদ আরোই বাড়তে থাকবে। পূর্বে ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের সময় ভাষার এত ঝামেলা ছিল না, এখন যত দিন যাচ্ছে বিভেদ বাড়ছে। সত্যযুগে আবার একটাই ভাষা হবে। কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) কোনো দেহধারীর স্মরণ যেন না আসে, তার জন্য কারোর প্রতিই গভীর ভালোবাসা রাখতে নেই। এরও ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। খুবই সতর্ক থাকতে হবে। মায়ার বিকল্পকে দেখে ঘাবরে যেও না, বিজয়ী হতে হবে।

২ ) ধ্যান সাক্ষাৎকারে মায়ার অনুপ্রবেশ বেশী ঘটে, এই ভূত প্রবেশের থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে। বাবাকে সত্য সংবাদ দিতে হবে।

বরদান:-
সকল কথার সার-কে গ্রহণ করে অলরাউন্ডার হওয়া সরল পুরুষার্থী ভব

যা কিছু দেখছো, শুনছো - সেই সবকিছুর সার-কে বুঝে নাও আর যে কথা বলবে, যে কর্ম করবে সেটা সার-সংক্ষেপে হবে, তাহলে পুরুষার্থ সরল হয়ে যাবে। এইরকম সরল পুরুষার্থী সকল বিষয়ে অলরাউন্ডার হয়। তার মধ্যে কোনও প্রকারের ঘাটতি থাকবে না। কোনও বিষয়ে সাহস কম হবে না। মুখ থেকে কখনও এই কথা বেরোবে না যে - আমি এটা করতে পারবো না। এইরকম সরল পুরুষার্থী নিজেও সরলচিত্ত থাকে আর অন্যদেরকেও সরলচিত্ত বানিয়ে দেয়।

স্লোগান:-
সাধন ইউজ করেও তার প্রভাব থেকে পৃথক আর বাবার প্রিয় হও।

অব্যক্ত ঈশারা :- সদা অবিচল, অনড় একরস স্থিতির অনুভব করো

একরস স্থিতি বানানোর জন্য এক-কে ছাড়া আর কিছুই দেখেও দেখবে না, এখানে যা কিছু দেখছো এই সব বস্তু কোনও কিছুই থাকবে না। তো একরস, স্থেরিয়াম তখন থাকতে পারবে যখন কোনও দৃশ্য দেখেও কী,কেন-র উৎপত্তি হবে না, এটাই হলো ব্যর্থ সংকল্পের দোলাচলের কারণ। এই কেন-র সমাপ্তির পরেই সম্পূর্ণতা আসবে।